ঈশ্বরদীতে পাটের মৌসুম, চাষি ও নারীরাও মাঠে ব্যস্ত


নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বর্ষায় নদ-নদী ও খাল-বিলে যথাসময়ে পানি আসায় ঈশ্বরদীতে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, পাটের আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজ এখন তুঙ্গে। উপজেলার পাটচাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন, আর বাড়তি আয়ের আশায় স্থানীয় নারীরাও পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে যুক্ত হয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, মুলাডুলি, দাশুড়িয়াসহ বিভিন্ন গ্রামে নারীরা নিজেদের জমির পাশাপাশি অন্যের পাটের আঁশ ছাড়িয়ে পাটখড়ি সংগ্রহ করছেন। খাল-বিল ও রাস্তার পাশে নারীদের পাট ছাড়ার দৃশ্যও চোখে পড়ে। তারা পাটখড়ি আঁটি হিসেবে বিক্রি করছেন বা রান্নার জ্বালানি ও গৃহস্থালিতে ব্যবহার করছেন। অনেক নিম্নবিত্ত পরিবারের গৃহিণী দলবেঁধে খোলা জায়গায় বসে পাট ছাড়ার কাজ করছেন।

কৃষকরা অনেক জায়গায় পাটের আঁশ ছাড়াতে আলাদা মজুরি দিচ্ছেন না। নারীরা পাট গাছ থেকে পাট আলাদা করে পাটখড়ি নিয়ে বাড়িতে শুকিয়ে আশপাশের হাট বা পাইকারের কাছে বিক্রি করছেন। উপজেলা জুড়ে মুলাডুলি, দাশুড়িয়া, সাহাপুর, লক্ষীকুন্ডা, সাঁড়া ও ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন এলাকায় সবচেয়ে বেশি পাট চাষ হয়।

গত বছর পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে এবার পাট খেত ও সংলগ্ন খাল-বিলে জাগ দেওয়া সম্ভব হওয়ায় পরিবহন খরচ কমেছে। এবছর বিভিন্ন হাটে পাটের দাম মণপ্রতি ২৮০০–৩০০০ টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ২০০–৩০০ টাকা কম। তবে ভালো ফলনের কারণে চাষীরা ভালো মুনাফা আশা করছেন। অনেকে অধিক লাভের আশায় পাট মজুত করে রাখছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩৬৫ হেক্টর জমিতে মেস্তা পাটসহ বিভিন্ন জাতের পাট চাষ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫ হেক্টর কম। তবে আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে চাষিরা পাট কেটে খেতের আশেপাশেই জাগ দিতে পারছেন, ফলে পরিবহন খরচও কমেছে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন