পাট লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পাট লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

পানি সংকটে ঈশ্বরদীর পাটচাষিদের দুর্ভোগ, জাগ দিতে পারছেন না কাটা পাট

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্ষার মৌসুমেও প্রয়োজনীয় পানি ও উপযুক্ত জলাশয়ের অভাবে কাটা পাট জাগ  দিতে পারছেন না ঈশ্বরদীর পাটচাষিরা। এ কারণে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদীতে প্রধানত তোষা ও দেশি জাতের পাট চাষ হয়। চলতি মৌসুমে উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৫৯ হেক্টর। তবে গত বছর পাটের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বেড়ে যায়। ফলে এবার ৩৬৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। কৃষকদের উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগ বিনামূল্যে উন্নত জাতের পাটবীজ ও সার বিতরণ করেছে।

উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের চরমিরকামারী গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘এবার ১০ বিঘা জমিতে তোষা পাট চাষ করেছি। চার বিঘার পাট ইতোমধ্যে কেটেছি। কিন্তু জাগ দেওয়ার মতো কোনো জায়গা পাচ্ছি না। পানি না থাকায় পাট নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি।’

অরণকোলা এলাকার কৃষক মো. মিজানুর বলেন, ‘আগে গ্রামের বিভিন্ন ডোবা-খালে সহজেই পাট জাগ দেওয়া যেত। এখন অধিকাংশ জায়গা মাছ চাষের পুকুরে রূপ নিয়েছে। ফলে পাট পচানোর মতো জলাশয় খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে।’

দিনমজুর কাদের আলী জানান, পাট কাটার পর কয়েক দিন জমিতে স্তূপ করে রেখে পাতা ঝরানো হয়। এরপর পানিতে ডুবিয়ে জাগ দিতে হয়। কিন্তু পানি না থাকায় কাটা পাট জমিতেই পড়ে আছে। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও জাগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন বলেন, ‘এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করছি। বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে কৃষকরা লাভবান হবেন। কৃষকদের উৎসাহ দিতে ১০০ জন কৃষকের মধ্যে উন্নত জাতের পাটবীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাছ চাষের পুকুরে পাট জাগ দেওয়া উপযুক্ত নয়। তাই কৃষকদের বাড়ির আশপাশের পরিত্যক্ত বা বুজে যাওয়া পুকুর এবং সরকারের খনন করা খালগুলো ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এসব জলাশয় পাট পচানোর জন্য তুলনামূলকভাবে উপযোগী।’ 

ঈশ্বরদীতে পাটের মৌসুম, চাষি ও নারীরাও মাঠে ব্যস্ত


নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বর্ষায় নদ-নদী ও খাল-বিলে যথাসময়ে পানি আসায় ঈশ্বরদীতে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, পাটের আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজ এখন তুঙ্গে। উপজেলার পাটচাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন, আর বাড়তি আয়ের আশায় স্থানীয় নারীরাও পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে যুক্ত হয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, মুলাডুলি, দাশুড়িয়াসহ বিভিন্ন গ্রামে নারীরা নিজেদের জমির পাশাপাশি অন্যের পাটের আঁশ ছাড়িয়ে পাটখড়ি সংগ্রহ করছেন। খাল-বিল ও রাস্তার পাশে নারীদের পাট ছাড়ার দৃশ্যও চোখে পড়ে। তারা পাটখড়ি আঁটি হিসেবে বিক্রি করছেন বা রান্নার জ্বালানি ও গৃহস্থালিতে ব্যবহার করছেন। অনেক নিম্নবিত্ত পরিবারের গৃহিণী দলবেঁধে খোলা জায়গায় বসে পাট ছাড়ার কাজ করছেন।

কৃষকরা অনেক জায়গায় পাটের আঁশ ছাড়াতে আলাদা মজুরি দিচ্ছেন না। নারীরা পাট গাছ থেকে পাট আলাদা করে পাটখড়ি নিয়ে বাড়িতে শুকিয়ে আশপাশের হাট বা পাইকারের কাছে বিক্রি করছেন। উপজেলা জুড়ে মুলাডুলি, দাশুড়িয়া, সাহাপুর, লক্ষীকুন্ডা, সাঁড়া ও ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন এলাকায় সবচেয়ে বেশি পাট চাষ হয়।

গত বছর পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে এবার পাট খেত ও সংলগ্ন খাল-বিলে জাগ দেওয়া সম্ভব হওয়ায় পরিবহন খরচ কমেছে। এবছর বিভিন্ন হাটে পাটের দাম মণপ্রতি ২৮০০–৩০০০ টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ২০০–৩০০ টাকা কম। তবে ভালো ফলনের কারণে চাষীরা ভালো মুনাফা আশা করছেন। অনেকে অধিক লাভের আশায় পাট মজুত করে রাখছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩৬৫ হেক্টর জমিতে মেস্তা পাটসহ বিভিন্ন জাতের পাট চাষ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫ হেক্টর কম। তবে আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে চাষিরা পাট কেটে খেতের আশেপাশেই জাগ দিতে পারছেন, ফলে পরিবহন খরচও কমেছে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন