বিদ্যুৎ ও জ্বালানি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি ভর্তি প্রস্তুতি শেষের পথে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে জ্বালানি ভর্তির প্রস্তুতি ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করতে বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা), রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা ভিও সেফটি এবং দেশটির অন্যান্য নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান টানা ১৪ দিন ধরে প্রকল্পটি পরিদর্শন করেছে। বুধবার বায়েরা চেয়ারম্যান মো. মাহমুদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রকল্প–সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দলটি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) জনবল, ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তিগত কাঠামো, বিভিন্ন ইউনিটের কাজের ধরন ও পরিচালনার নথি পরীক্ষা করে। একই সঙ্গে কমিশনিং কার্যক্রম, স্থাপনা, সমন্বয় প্রটোকল, সনদপত্র এবং অগ্রগতির ধাপগুলোও পর্যালোচনা করা হয়। পুরো তদারকি করেন এনপিসিবিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান এবং সমন্বয় করেন প্রধান পরিদর্শক মো. ইয়ামিন আলী।

ফিজিক্যাল স্টার্টআপ ও জ্বালানি লোডিং পারমাণবিক কেন্দ্র চালুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি। এতে প্রথমবার রিয়্যাক্টরে জ্বালানি ভরার পর সীমিত মাত্রায় নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া চালিয়ে প্রতিটি সিস্টেমের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। এর পরেই মূল পাওয়ার স্টার্টআপের দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হয়।

এনপিসিবিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক  ড. জাহেদুল হাসান জানান, প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন শেষ করেছে—আইএইএ’র দুই সপ্তাহের পরীক্ষামূলক প্রি-ওসার্ট, পরের তিন সপ্তাহের প্রি-ওসার্ট পর্যায় এবং সর্বশেষ বায়েরা–ভিও সেফটি–রস্টেকনাদজর যৌথ দুই সপ্তাহের পরিদর্শন। পাশাপাশি এনপিসিবিএল ও রসএনার্গোএটম স্ব-মূল্যায়নও নিয়মিত করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তার ভাষায়, ‘নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বায়েরা প্রকল্পের স্টার্টআপ প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছে। দলটির সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’ মূল্যায়ন শেষে বিশেষজ্ঞরা প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি ও ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বলেও তিনি জানান।

এনপিসিবিএল এখন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ বাস্তবায়নে কাজ করছে। এসব ধাপ শেষ হলে প্রতিবেদন বায়েরা–তে পাঠানো হবে। যাচাই–বাছাইয়ের ফল সন্তোষজনক হলে প্রথমবারের মতো জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমোদন ও লাইসেন্স দেওয়া হবে।

বায়েরা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফগার্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্টার্টআপ রেডিনেস ইন্সপেকশন সম্পন্ন হয়েছে। রাশিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে ফুয়েল লোডিংয়ের অনুমতি দেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, জ্বালানি লোডিং শুরু করতে রসাটম ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন (জেনারেল ডিজাইনার), ঘিদ্রোপ্রেস (রিয়্যাক্টর ডিজাইনার), রাশিয়ার জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘কুরচাতভ ইনস্টিটিউট’ ও বায়েরা অনুমোদনের পাশাপাশি ভিও সেফটি’র মূল্যায়ন প্রতিবেদনও বাধ্যতামূলক।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র: নিরাপদ, চেরোনোবিলের মতো বিপদ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, চেরোনোবিলের মতো দুর্ঘটনার কোনো সম্ভাবনা নেই এবং উৎপাদন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা শর্ত পূরণের মাধ্যমে শুরু হবে। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই প্রকল্পটি রাশিয়ার কারিগরি সহযোগিতায় নির্মিত হচ্ছে। দীর্ঘ নির্মাণ পর এখন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কমিশনিং কাজ চলছে।

সম্প্রতি মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে কেন্দ্রের নিয়োগ ও পরিচালনায় অনিয়ম এবং অদক্ষতার অভিযোগ তুলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষত চিফ সুপারইন্টেন্ডেন্টসহ কিছু পদে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ঘাটতির অভিযোগ করা হয়েছে। তবে প্রকল্প কর্মকর্তারা বলছেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। রোসাটমের চিঠিতে প্রকল্পের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপত্তি নেই।

প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা তদারকিতে লাইসেন্স প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্ণ হয়েছে। কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার শর্ত না পূরণ হলে পরবর্তী ধাপের লাইসেন্স পাওয়া সম্ভব নয়।

চিফ সুপারইন্টেন্ডেন্ট পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত মুশফিকা আহমেদ বলেন, তার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি। পদার্থবিজ্ঞানে বিএসসি ও এমএসসি ডিগ্রি সম্পন্ন তিনি নিরাপত্তা ও রেডিওঅ্যাক্টিভ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। রাশিয়া ও বাংলাদেশের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তার দক্ষতা উন্নত করা হয়েছে।

অভিযুক্ত অন্যান্য কর্মকর্তারা যেমন রবিউল আলম, আল মামুন, এ.কে.এম নাজমুল হাসান এবং আবু কায়সার দাবী করেছেন, তারা বৈধ প্রকৌশল ডিগ্রি ও প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। রাশিয়ায় রোসাটম টেকনিক্যাল একাডেমিতে প্রশিক্ষণসহ যথাযথ যোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা অনুমোদনের ভিত্তিতে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তথ্য কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ বলেন, “৫০ বছর আগের চেরনোবিলের সঙ্গে এই প্রকল্প তুলনা করার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সর্বাধুনিক ভিভিইআর থ্রি প্লাস প্রযুক্তিতে নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতের অপারেটরদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার পর দায়িত্ব দেয়া হবে।”

প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ কবীর হোসেন বলেন, “উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে কর্মীদের দক্ষতা নিশ্চিত করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালনায় কোনো সমস্যা নেই।”

বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া পরিশোধে ৫ হাজার কোটি টাকার বন্ড দেবে সরকার

 বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া পরিশোধে ৫ হাজার কোটি টাকার বন্ড দেবে সরকার

 সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বকেয়া পাওনা পরিশোধের জন্য সরকার পাঁচ হাজার কোটি টাকার নতুন বন্ড ইস্যু করতে যাচ্ছে। এমনটাই জানিয়েছে সরকারি কিছু সূত্র।

বর্তমানে এই পদক্ষেপটি বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইউএনবিকে বলেন, 'আমরা পাঁচ হাজার কোটি টাকার নতুন বন্ড ইস্যু করার জন্য আমাদের দিক থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এটি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ে আছে।’

চলতি সপ্তাহের মধ্যেই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিপিডিবির এই কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন, আগের মতো এবারও সরকারি-বেসরকারি খাতের ২৫-২৭টি ব্যাংক বন্ড ইস্যু প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবে।

স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের (আইপিপি) ওপর থেকে আর্থিক চাপ কমানো এবং দেশের বিদ্যুৎ খাতকে স্থিতিশীল করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

তাদের মতে, বিপিডিবি এই পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বিদ্যুৎ বিভাগকে বিষয়টি নিয়ে অর্থ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করতে পরামর্শ দিয়েছে।

বিপিডিবির আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, 'স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী (আইপিপি) হিসেবে পরিচিত বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা বিপিডিবির কাছ থেকে কত টাকা পাবে আমরা হিসাব করছি।’

আরও পড়ুন: ঝুলে আছে ১০টি গ্রিড সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে বিপিডিবির দরপত্র আহ্বান

তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিপিডিবির মোট অপরিশোধিত বিলের পরিমাণ প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে বেসরকারি উৎপাদনকারীদের পাওনা প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা।

বাকি অর্থের মধ্যে গ্যাস বিল ১৭ হাজার কোটি টাকা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা ১০ হাজার কোটি টাকা।

আদানি গ্রুপসহ ভারতের সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা পাবে।

এর আগে বিদ্যুৎ খাতকে স্থিতিশীল করতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বিশেষ বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ২০ হাজার ৬২০ কোটি টাকা পেয়েছিল। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া দায় পরিশোধের লক্ষ্যে এই উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত ছিল সিটি ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক।

বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ২৫ জানুয়ারি একটি চুক্তি সই হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, চুক্তি অনুযায়ী সরকার সিটি ব্যাংককে ১৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা এবং পূবালী ব্যাংককে ৭৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার বন্ড ইস্যু করে।

ভর্তুকি তহবিল বিতরণে সরকারের অক্ষমতার কারণে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো তাদের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে যার ফলে কেউ কেউ দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।

এ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত রেপো রেট অনুযায়ী ৮ শতাংশ কুপন হারে বিশেষ বন্ড ইস্যু চালু করা হয়। ভবিষ্যতে রেপো রেটে যে কোনো পরিবর্তন হলে সে অনুযায়ী বন্ডের সুদের হার সমন্বয় করবে।

বন্ডের মেয়াদ শেষে সরকার সুদসহ ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করে বন্ডগুলো পুনরুদ্ধার করবে। সাধারণত বন্ডগুলো ১৫-২০ বছর মেয়াদি হলেও বিদ্যুৎ খাতের জরুরি চাহিদা মেটাতে এই বিশেষ বন্ডগুলোর সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছর।

সামিট পাওয়ার, ইউনাইটেড পাওয়ার, কনফিডেন্স পাওয়ার, বারাকা, কুশিয়ারা, ডরিন ও অ্যাক্রন পাওয়ারসহ বিদ্যুৎ খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো এই উদ্যোগের সুবিধাভোগীদের মধ্যে অন্যতম।

অর্থ বিভাগ ব্র্যাক ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়াসহ অন্যান্য ব্যাংকের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে চুক্তির পরিকল্পনার কথাও প্রকাশ করেছে।

চুক্তির গুরুত্ব নিয়ে বেশ কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা আশাবাদী।

ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে এসব বন্ড পেতে পারে, একই সঙ্গে সরকারও আর্থিক দিক দিয়ে কঠিন সময় মোকাবিলা করতে পারে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে লেবার সেমিস্টার শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক:  রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে গঠিত একটি নির্মাণ টিম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে (আরএনপিপি) লেবার সেমিস্টারে যোগ দিয়েছে। গত ১০ জুলাই রাশিয়ার শিক্ষার্থীদের এই টিম রূপপুর এনপিপিতে যোগ দেয়।

রসাটম কোর ইউনিভার্সিটি হিসেবে পরিচিত এসকল বিশ্ববিদ্যালয় গুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে থাকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রসাটম।

রোসাটম থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়।



বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুই মাসব্যাপী এই লেবার সেমিস্টারে শিক্ষার্থীরা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় স্বক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন। এ সময় নির্মাণ ও স্থাপন কাজে দক্ষতা অর্জন ছাড়াও ক্যাটালগ তৈরি, ডিজাইন ও ওয়ার্কিং ডকুমেন্টেশন রক্ষণ, সাইটে আগত বিভিন্ন ইকুইপমেন্ট ও সামগ্রীর পরিদর্শন প্রক্রিয়া এবং আরপিএস (রসাটম প্রোডাকশন সিস্টেম) ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।

খুব শীঘ্রই রসাটম প্রকৌশল শাখার তত্ত্বাবধানে নির্মীয়মাণ মিশরের এল দাবা এনপিপি এবং ভারতের কুদানকুলাম এনপিপি’তে অনুরুপ লেবার সেমিস্টার শুরু হবে। একটি স্টুডেন্ট কন্সট্রাকশন টিম ইতোমধ্যে রাশিয়ার কুরস্ক এনপিপি-২ এ তাদের লেবার সেমিস্টার শুরু করেছে। চলতি বছর রসাটম প্রকৌশল শাখার চারটি প্রকল্পে ১৫০ জন রুশ শিক্ষার্থী লেবার সেমিস্টারে কাজ করবেন।

২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার রোস্তভ এনপিপি’র ২ নম্বর ইউনিটে, স্টুডেন্ট কন্সট্রাকশন টিমের জন্য লেবার সেমিস্টারের ব্যবস্থা শুরু করা হয়। ওই বছর ২৫ জন শিক্ষার্থী সেমিস্টারে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে প্রথমবার রাশিয়ার বাইরে বেলারুশ এনপিপিতে লেবার সেমিস্টার প্রবর্তন করা হয়।

২০১৪ সালে রসাটম এবং রুশ স্টুডেন্ট টিমগুলোর মধ্যে একটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। গত ১৫ বছরের অধিক সময়ে ১৭ সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ২৯টি পারমাণবিক নির্মাণ প্রকল্পে লেবার সেমিস্টারে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ২২টি রাশিয়ায় অবস্থিত এবং বাকীগুলো তুরস্ক, বেলারুশ, চীন, ভারত ও মিশরসহ অন্যান্য দেশে।

উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দুটি ইউনিটে স্থাপিত হচ্ছে ৩+ প্রজন্মের রুশ ভিভিইআর ১২০০ রিয়্যাক্টর। প্রকল্পটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগা-ওয়াট। এই রিয়্যাক্টরগুলো সকল আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চাহিদা সম্পূর্ণভাবে পূরণ করতে সক্ষম। ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত জেনারেল কন্ট্রাকটের অধীনে রসাটমের প্রকৌশল শাখা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছে।

‘দেশে পর্যাপ্ত গ্যাস আছে, উৎপাদনে নজর দেওয়া জরুরি’


নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে এখনো পর্যাপ্ত গ্যাস আছে, সংকট কাটাতে সরকারের উৎপাদনে নজর দেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমাম।

তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সংকটের যে বিকল্প, তাতে আমরা নজর দিই না। নিজের দেশের সম্পদের দিকে তাকানো। বাংলাদেশের মাটির নিচে প্রচুর ভূসম্পদ রয়েছে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোও নিশ্চিত করেছে যে, দেশে কী পরিমাণ গ্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘জ্বালানি রূপান্তরে সুবিচার চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ।

বদরুল ইমাম বলেন, বিশ্বের অন্যান্য যেসব দেশে গ্যাসের সম্ভাবনা আমাদের মতো, তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। কারণ, তারা আমাদের মতো মাটির নিচে সম্পদ রেখে আমদানিতে ঝুঁকে যায়নি। সাগরের তলদেশে জ্বালানির সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমরা তার যথাযথ ব্যবহার করতে পারছি না। কিন্তু অতীত থেকে বর্তমান কোনো সরকারই বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে নেয়নি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে গ্যাসকূপ অনুসন্ধানের হার প্রতি বছরে ১টা। এটা খুবই নিম্নমানের। এটা কোনো জোরালো অনুসন্ধানের ধারেকাছেও নেই। প্রতি বছর যদি ৫-৬টা করে গ্যাসের অনুসন্ধান চালানো হয়, তাহলে আমার মতে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে গ্যাস সম্পদের অভাব থাকবে না।

জ্বালানি খাতের সুবিচার নিশ্চিতে প্রয়োজন বাণিজ্যিকীকরণ পরিহার এমন মন্তব্য করে ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, জ্বালানি বণ্টনের ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখা হচ্ছে না। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে বাণিজ্যিক খাতে পরিণত করা একটি ভয়াবহ ইঙ্গিত। ১৯৯০ সাল থেকেই সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। জ্বালানি খাতে সুবিচার নিশ্চিত করতে হলে বাণিজ্যিক খাত থেকে তাকে সরিয়ে নিয়ে সেবাখাতে পরিণত করতে হবে।

শামসুল আলম আরও বলেন, ২০২৪ সালে জ্বালানি খাতের কী অবস্থা হবে, তা নিয়ে আমরা শঙ্কায় আছি। যদি আমরা ন্যূনতম ব্যয়ে এবং সমতার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারতাম, তাহলে আজ এ সংকট তৈরি হতো না। আমাদের যদি রপ্তানি চলমান থাকতো, তাহলে আরও গ্যাস-কয়লা উত্তোলন হতো। কিন্তু তখন তা চেয়ে দেখা ছাড়া উপায় ছিল না। তবে জ্বালানি থাকার সুবিধাটাও আমরা পেলাম না, আমদানির পরিবেশ তৈরি করে একটা উন্নয়নের কাহিনী তৈরি করলাম, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না।

সভায় মূল বক্তব্য দেন জ্বালানি বিষয়ক সাংবাদিক আরিফুজ্জামান তুহিন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উন্নয়ন অর্থনীতি বিষয়ক গবেষক মাহা মির্জা, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমাম, অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ, ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভুইয়া প্রমুখ।

জ্বালানি রূপান্তর সুবিচার নিশ্চিতে ক্যাবের পক্ষ থেকে ১২ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। সেগুলো হলো—

সৌর তথা নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন আইপিপি মডেলে বাণিজ্যিকভিত্তিতে নয়। না লাভ না ক্ষতির নীতিতে উন্নয়ন হতে হবে। সরকারকে এ খাত থেকে রাজস্ব আহরণ পরিহার করতে হবে। প্রয়োজনে নিদৃষ্ট মেয়াদে ভর্তুকি দিতে হবে। কৃষি ও গ্রামীণ পরিবহনে মাছ চাষ ও সেচ, পশু-পক্ষী পালন ও হালকা পরিবহনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার নিশ্চিত হতে হবে।  নিরপেক্ষ/স্বাধীন পক্ষকে দিয়ে পরিবেশগত প্রভাব নিরীক্ষণ (ইআইএ) করাতে হবে। এখানে বিইআরসি, ক্যাবসহ সংশ্লিষ্ট অংশিজনদের প্রতিনিধি থাকতে হবে। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ হতে হবে। প্রশাসনের বাইরে অংশীজন প্রতিনিধি সমন্বয়ে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত কমিটি/কমিশন দ্বারা জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিরোধ/অসন্তোষ নিষ্পত্তি হতে হবে। জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিবেশ সুরক্ষা আইন, ১৯৯৫ যথাযথভাবে প্রতিপালিত হতে হবে এবং অন্যথায় বাধ্যতামূলক আইনি ব্যবস্থা গৃহীত হতে হবে। শুধু আবাদ-অযোগ্য জমি ব্যতীত অন্য কোনো জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হবে না, তা বিধি দ্বারা নিশ্চিত হতে হবে।জ্বালানি রূপান্তরে ন্যায্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিযোগিতাহীন কোনো বিনিয়োগে বিদ্যুৎ বা জ্বালানি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে না। তাই দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ (বিশেষ বিধান) আইন ২০১০ অবিলম্বে বাতিল হতে হবে। স্রেডা আইন ২০১২ এর ৬(১৭) উপধারা অনুযায়ী সৌর তথা নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের মূল্যহার বিইআরসি কর্তৃক নির্ধারিত হতে হবে। জ্বালানি রূপান্তরে সুবিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিইআরসি আইনের সংশোধনী বাতিল করে গণশুনানির ভিত্তিতে সকল পর্যায়ের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যহার নির্ধারণের একক এখতিয়ার বিইআরসিকে ফিরিয়ে দিতে হবে। ৫ শতাংশের চেয়ে কম পরিমাণ জমিতে বসবাসকারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বাস্তুচ্যুত করা হলে সরকারের দায়িত্বে অন্যত্র সমপরিমাণ জমিতে তাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন