বিদ্যুৎ ও জ্বালানি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রূপপুরে আবার আঁধার

বিশেষ প্রতিবেদক: চলমান তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে সবার নজর ছিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে। প্রত্যাশা ছিল, আসন্ন সেপ্টেম্বরেই মিলবে বহুল কাঙ্ক্ষিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ। তবে সেই আশায় এখন অনিশ্চয়তার মেঘ। ‘সেফটি ভালভ’ নামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যন্ত্র টানা দেড় মাস ধরে মানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারছে না। নতুন ভালভ সংস্থাপন ছাড়া মূল কাজে এগোনোর উপায় নেই, আর সেটি বিদেশ থেকে আনিয়ে প্রতিস্থাপন করতে লেগে যেতে পারে কয়েক মাস। একই সঙ্গে আটকে আছে কেন্দ্রটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত কয়েকটি জরুরি চুক্তি। ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ পাওয়ার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে এমনিতেই অতিরিক্ত সময় পার হয়ে গেছে। বর্তমান সংকটে দেশের স্বার্থেই দ্রুত এখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা জরুরি।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম এ বিষয়ে বলেন, “বিদ্যুতের ঘাটতি ও উৎপাদন খরচ কমাতে রূপপুর কেন্দ্রটি দ্রুত চালু করা এখন অত্যন্ত জরুরি। এটি চালু হলে বিদ্যুতের দর কমবে এবং জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতাও হ্রাস পাবে। কিন্তু নানা অজুহাতে বারবার এ প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নীরব। কেন্দ্রটি সময়মতো চালু না হওয়ায় রাষ্ট্র আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে এবং তার মাশুল দিচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা।”

দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা রোসাটমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট’ এটি নির্মাণ করছে।

প্রকল্পের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. এম মঈনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দেন। তবে প্রকল্প পরিচালক মো. কবির হোসেনের বক্তব্য জানতে কয়েকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

পরমাণু শক্তি কমিশনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, রূপপুর সাধারণ কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়। এখানে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে জটিল সব পরীক্ষা চালাতে হয়। এসব পরীক্ষা সফলভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদনে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট তারিখ বলা সম্ভব নয়।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সেফটি ভালভ রিঅ্যাক্টরের ভেতরের চাপ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রধান ভূমিকা পালন করে। কুলিং সিস্টেমে অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে গিয়ে বাড়তি চাপ নিরাপদে নিষ্কাশন করে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা পাইপ ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি দূর করে। পারমাণবিক প্রকল্পে নিরাপত্তার একাধিক স্তর থাকলেও এই যন্ত্রটির গুরুত্ব অপরিসীম।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং পরমাণু শক্তি কমিশন সূত্রের খবর, রূপপুরে এখন মূলত এই সেফটি ভালভ নিয়েই জটিলতা তৈরি হয়েছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বারবার চেষ্টা করেও যন্ত্রটি গুণগত মানের মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি। বর্তমানে বিকল্প উপায়ে আরও কয়েকবার পরীক্ষার পাশাপাশি নতুন ভালভ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, এই উচ্চপ্রযুক্তির সেফটি ভালভ মূলত ইউক্রেন, তুরস্ক ও জার্মানি তৈরি করে। শুরুতে রাশিয়া ইউক্রেনকে এর কার্যাদেশ দিলেও যুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীকালে তুরস্ক থেকে যন্ত্রটি সংগৃহীত হয়।

এখন নতুন করে আরেকটি ভালভ আনার তোড়জোর চলছে। তবে এমন বিশেষ যন্ত্র তৈরি ও সরবরাহে সাধারণত ছয় থেকে আট মাস সময়ের প্রয়োজন হয়। ফলে বিদ্যমান ভালভটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর করা না গেলে নতুনটির জন্য ওই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতেই হবে। অন্যদিকে, বর্তমান ভালভটি কোনোভাবে সফল হলেও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে অন্তত আড়াই মাস সময় লাগবে। কারণ সব পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরও গ্রিড সংযোগের প্রক্রিয়াটি শেষ হতে ৮ থেকে ১০ সপ্তাহ সময় নেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিশনের দুই কর্মকর্তা জানান, কাজের যে বর্তমান অগ্রগতি, তাতে চলতি বছরের মধ্যে প্রকল্পটির প্রথম ইউনিট চালু হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।

বর্তমানে দেশে ২৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি সংকটে দিনে গড়ে ১৬ থেকে সাড়ে ১৬ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে আড়াই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সম্প্রতি এলএনজি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় গত ১০ আগস্ট লোডশেডিং প্রায় পৌনে চার হাজার মেগাওয়াটে গিয়ে ঠেকেছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া গেলেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে জনজীবন ও শিল্পোৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ বাড়াতে গিয়ে শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগ সীমিত করা হয়েছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নামিয়েছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত ফার্নেস অয়েল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে সরকারের লোকসান ও ভর্তুকির চাপ বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রূপপুর কেন্দ্রটি উৎপাদনে এলে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেন্দ্রটি পূর্ণ চালুর পর প্রতি মাসে জ্বালানি আমদানি বাবদ সরকারের প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। এই বিদ্যুতের দাম এখনো চূড়ান্ত না হলেও তা এলএনজি, কয়লা বা তেলভিত্তিক বিদ্যুতের চেয়ে অনেকটাই সাশ্রয়ী হবে।

এই কেন্দ্রের অন্যতম সুবিধা হলো, একবার জ্বালানি লোড করলে একটানা দেড় বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম দুই চালানে মোট তিন বছরের জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘টিভিইএল’।

রূপপুরে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। মূল সময়সূচি অনুযায়ী প্রথম ইউনিট ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এবং দ্বিতীয়টি ২০২৩ সালের অক্টোবরে চালু হওয়ার কথা ছিল। তবে কোভিড মহামারী এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা অযুহাতে এ পর্যন্ত অন্তত সাতবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

সবশেষ চলতি বছরের ১২ মে পারমাণবিক জ্বালানি লোড করার পর জানানো হয়, চলতি মাসেই প্রথম ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। পরে সেই সময় পিছিয়ে আগামী সেপ্টেম্বরে ধরা হলেও এখন তা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ফলে প্রথম ইউনিটের সঙ্গে দ্বিতীয় ইউনিটের চালু হওয়ার তারিখও পিছিয়ে যাচ্ছে।

সব পরীক্ষা শেষে প্রাথমিক চালুর পর টানা সাত থেকে আট মাস পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন চালানো হবে। এরপরই শুরু হবে পূর্ণমাত্রায় বাণিজ্যিক উৎপাদন। দুটি ইউনিটই চালুর পর কেন্দ্রটি থেকে মোট ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পরিচ্ছন্ন ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা রয়েছে।

পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, জ্বালানি লোড করার ৪৫ দিনের মধ্যে রিঅ্যাক্টরে ফিশন প্রক্রিয়া শুরু হওয়া উচিত এবং ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ হওয়াই নিয়ম। সেই হিসাবে গত আগস্টেই উৎপাদন শুরুর কথা। একই প্রযুক্তিতে নির্মিত বেলারুশের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে তিন মাসেরও কম সময়ে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হয়েছিল। রূপপুরের প্রযুক্তি পরীক্ষা-নিরীক্ষিত হলেও বাংলাদেশে কেন এমন জটিলতা তৈরি হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

প্রকল্পে অতিরিক্ত যন্ত্রাংশের অভাব, ব্যবস্থাপনা ত্রুটি ও কর্মকর্তাদের সমন্বয়হীনতার বিষয়টিও এখন আলোচনায়। বর্তমান প্রকল্প পরিচালক মো. কবির হোসেনের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে এই পদে বসানো নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। অভিজ্ঞ তিনজন কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে তাঁকে এই পদে আনায় প্রকল্প পরিচালনায় অদক্ষতা স্পষ্ট হচ্ছে বলে অনেকের মত।

মেগা এই প্রকল্পটির মোট চুক্তিভিত্তিক ব্যয় ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার। মেয়াদ চার বছর বাড়লেও চুক্তি অনুযায়ী রাশীয় কনট্রাক্টরকে বাড়তি অর্থ দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে ডলারের দরবৃদ্ধির কারণে দেশীয় মুদ্রায় প্রকল্পের খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। তাছাড়া উৎপাদনে বিলম্বের কারণে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতির স্বাভাবিক মেয়াদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নির্ধারিত সময়ে সেবা না মেলায় রাষ্ট্র চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

জাতীয় জ্বালানি সংকট নিরসনে রূপপুর প্রকল্পকে ঘিরে যে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বারবার সময় পিছিয়ে যাওয়া এবং প্রযুক্তিগত অচলাবস্থায় সেই আশার আলো এখন অনিশ্চয়তার ঘন আঁধারে ঢাকা পড়েছে।

রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মহড়া

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছেই পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আপৎকালীন প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পূর্ণাঙ্গ জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও অগ্নিনির্বাপণ মহড়া হয়েছে। আকস্মিক কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রস্তুতি, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় এবং জরুরি সাড়াদানের সক্ষমতা যাচাই করতে এ মহড়ার আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) উপ-প্রধান তত্ত্বাবধায়ক এস এম মাহমুদ আরাফাত এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মহড়ায় সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতির বিভিন্ন ধাপ বাস্তবায়ন করা হয়। এর মধ্যে জরুরি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র চালু করা, কারিগরি সক্ষমতা যাচাই, সম্ভাব্য তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব মূল্যায়ন, যোগাযোগব্যবস্থা পরীক্ষা এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতিও যাচাই করা হয়েছে।

মহড়া পর্যবেক্ষণ করেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ও তাদের কারিগরি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভিও-সেফটি’র প্রতিনিধিরা। এ ছাড়া বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, জাতীয় সংকট কেন্দ্র, ‘সিআরইএ’, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। রাশিয়ার মস্কো থেকে আসা পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের একটি প্রতিনিধিদলও মহড়াটি পর্যবেক্ষণ করে।

অনুশীলনের অংশ হিসেবে একটি কৃত্রিম জরুরি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। এরপর আপৎকালীন পরিকল্পনা অনুযায়ী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলে নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র কার্যক্রম শুরু করে। সংশ্লিষ্ট দলগুলো নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করে পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুশীলন চালায়।

এ সময় কারিগরি দল কেন্দ্রের বিভিন্ন পরিচালনাগত সূচক বিশ্লেষণ, তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপ, বিকিরণের উৎস শনাক্ত, আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহ এবং বায়ুমণ্ডলে তেজস্ক্রিয়তার সম্ভাব্য বিস্তৃতি মূল্যায়নের কাজ করে। পাশাপাশি কর্মরত ব্যক্তি ও আশপাশের এলাকার মানুষের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুশীলন করা হয়।

এ ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সাড়াদানকারী দলগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের কার্যকারিতাও পরীক্ষা করা হয়। জরুরি বার্তা পাঠানো, পরিস্থিতি প্রতিবেদন তৈরি, সমন্বয় সভা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি ধাপ অনুশীলনের আওতায় ছিল।

মহড়া শেষে এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান বলেন, ‘আজকের এই সফল জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও অগ্নিনির্বাপণ মহড়াটি দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও আপৎকালীন প্রস্তুতিকে আরও মজবুত করার ক্ষেত্রে একটি বড় অর্জন। এটি আমাদের উচ্চমানের কারিগরি দক্ষতা, সঠিক নেতৃত্ব এবং জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের জরুরি সাড়াদানকারী সংস্থাগুলোর যৌথ সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘মহড়ার একটি বড় লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন সংস্থার সম্মিলিত কমান্ড ব্যবস্থার অধীনে একসঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা যাচাই করা। অংশগ্রহণকারী সব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন ও কারিগরি দলের অংশগ্রহণ মহড়াটিকে আরও বাস্তবসম্মত করেছে।’

রূপপুর প্রকল্পে ‘স্মৃতি উদ্যান’ কর্মসূচি, রোপণ করা হলো ২০০ গাছের চারা

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীর নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কর্মীরা আন্তর্জাতিক ‘স্মৃতি উদ্যান’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী আবাসন এলাকা গ্রিন সিটির ভেতরে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

এ উপলক্ষে গ্রিন সিটি এলাকায় আম, লিচু ও ডালিমসহ বিভিন্ন জাতের ফল ও ফুলের প্রায় ২০০টি চারা রোপণ করা হয়। এই আয়োজনে অংশ নেন প্রায় ৬০০ জন কর্মী।

বাংলাদেশে রাশিয়ার পারমাণবিক প্রকল্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেক্সি দেরি বলেন, ‘সাত বছর ধরে চলমান স্মৃতি উদ্যান কর্মসূচি এখন আন্তর্জাতিক গুরুত্ব পেয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ এতে অংশ নিয়ে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। এ ধরনের যৌথ আয়োজন মানুষের মধ্যে ঐক্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কর্মীদের জন্য এটি পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ইতিবাচক একটি উদ্যোগে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।’

জ্বালানি লোডিংয়ে প্রস্তুত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কার মধ্যেই দেশের জ্বালানি খাতে বড় অর্জনের পথে পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কেন্দ্রটি ‘কমিশনিং লাইসেন্স’ বা পরীক্ষামূলক পরিচালনার অনুমতি পাওয়ায় এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের একেবারে শেষ ধাপে রয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম ভরার কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়েই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রথম ইউনিটে মোট ১৬৩টি জ্বালানি কাঠামো স্থাপন করা হবে। এই প্রক্রিয়া শেষ করতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগতে পারে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে আগামী জুলাই বা আগস্টের মধ্যে জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে পরীক্ষামূলকভাবে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক জ্বালানির ক্ষমতা অনেক বেশি। মাত্র ১ কেজি ইউরেনিয়াম থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, তা উৎপাদন করতে প্রায় ২৪ লাখ কেজি কয়লার প্রয়োজন হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিং কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে।

প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই মেগা প্রকল্পটি ২০১৭ সালে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সহযোগিতায় শুরু হয়। পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত এই কেন্দ্রে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি চুল্লি রয়েছে। এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পেও টিকে থাকতে পারবে।

সম্প্রতি নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করার মাধ্যমে চুল্লিটি সক্রিয় হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পার করেছে। দুটি ইউনিট পুরোপুরি চালু হলে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, যা দেশের মোট চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করবে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ওঠানামা করলেও পারমাণবিক বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ সাধারণত স্থিতিশীল থাকে। তাই দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুতের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এটি সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা খুবই জরুরি। তিনি কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম মনে করেন, মানুষের আস্থা বাড়াতে নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে আরও সচেতনতা দরকার। পাশাপাশি বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এদিকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। স্বাগত বক্তব্য দেবেন মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রসি এবং রোসাটমের প্রধান নির্বাহী আলেক্সি লিখাচভসহ দেশি-বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন।

সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের পুরো কারিগরি নিয়ন্ত্রণ দেশীয় প্রকৌশলীদের হাতে চলে আসবে। নির্মাণ ব্যয় ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও রূপপুর প্রকল্পকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

রূপপুরে জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর রূপপুরে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিএইআরএ) প্রয়োজনীয় লাইসেন্স দিয়েছে, ফলে এ মাসের শেষ দিকে জ্বালানি সংযোজনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর পথ খুলে গেল।

বিএইআরএর চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, নানা কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক মান যাচাই শেষে বৃহস্পতিবার  এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে ৭ এপ্রিল নির্ধারিত সময়সূচি নিরাপত্তাজনিত কারণে স্থগিত করা হয়েছিল। তবে এখন সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমাধান হওয়া এবং অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ায় লাইসেন্স দিতে আর বাধা থাকেনি।

প্রায় ১২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের এই মেগা প্রকল্পে রাশিয়ার কারিগরি সহায়তায় প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এই ইউনিট থেকে ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান বলেন, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ‘ফিজিক্যাল স্টার্টআপ’-এর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রূপপুর প্রকল্পকে একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প উৎস হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

দুই ইউনিটে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার এই বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৮ সালের মধ্যে পুরোপুরি চালু হওয়ার কথা। যদিও ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে বাণিজ্যিক উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তবু চলতি বছরের শেষ দিকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়াকে বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

রূপপুরে জ্বালানি লোডিং পেছাচ্ছে, জুলাইয়ে বিদ্যুৎ পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক:  নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটে জ্বালানি ভরার কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এর আগে ৭ এপ্রিল জ্বালানি ভরার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করেছিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ৭ এপ্রিল জ্বালানি ভরা শুরুর প্রস্তুতি থাকলেও সময়মতো কাজ শুরুর অনুমতিপত্র পাওয়া যায়নি। ফলে আগের সূচি অনুযায়ী কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।

নতুন তারিখের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করছে। ছাড়পত্র পাওয়ার পরই নতুন সময়সূচি ঠিক করা হবে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রুশ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দেওয়া সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী মন্ত্রণালয় ৭ এপ্রিলের তারিখটি চূড়ান্ত করেছিল। লক্ষ্য ছিল, জুলাইয়ের মধ্যে কেন্দ্রটি থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট এবং ডিসেম্বরের মধ্যে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হবে। তবে জ্বালানি ভরায় দেরি হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই সময়সীমাও পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি ভরার প্রক্রিয়াটি শেষ করতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। এর দুই মাস পর শুরু হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ধাপ। সব মিলিয়ে জ্বালানি ভরা থেকে পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে ১০ থেকে ১১ মাস সময় প্রয়োজন। অবশ্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তাদের দাবি, ৭ এপ্রিল সম্ভব না হলেও এই মাসের শেষ নাগাদ জ্বালানি ভরা শুরু করা যাবে। ইতিমধ্যে নির্মাণকাজ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষ হয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের তথ্য প্রচার কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ জানান, গত মাসেই ১ নম্বর ইউনিটের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দেশে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়ায় অনেক চ্যালেঞ্জ সামনে আসছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিরাপত্তার বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত হলেই কেবল কাজ শুরুর অনুমতি দেবে। তবে এই অনুমতি দেওয়ার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রকল্প পরিচালক ড. মাহবুবুর রহমান বর্তমানে রূপপুর এলাকায় পর্যালোচনার কাজে ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বর্তমানে ১ নম্বর ইউনিটের কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও ২ নম্বর ইউনিটের ৭০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পের প্রায় ৮১ শতাংশ অর্থ ইতিমধ্যে ব্যয় হয়েছে। শুরুতে ২০২২ সালে কেন্দ্রটি চালুর কথা থাকলেও তা তিন বছর পিছিয়ে যায়। পরে দুই দেশের সম্মতিতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। তবে ১ নম্বর ইউনিটের মূল কাজ এখনো শুরু না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো প্রকল্প শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করলেন দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। রোববার সকালে তিনি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছালে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় তাঁকে অভ্যর্থনা জানান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান এবং ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমান।

মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আজাদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনের শুরুতে মন্ত্রী প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ও কারিগরি বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে তিনি নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। এ সময় ফকির মাহবুব আনাম প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কাজের মান বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক এই প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে তিনি ও তাঁর সফরসঙ্গীরা প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন।

রূপপুর পারমাণবিকে রেডিয়েশন এরিয়ায় অগ্নিনির্বাপণ প্রশিক্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় বিকিরণ (রেডিয়েশন) এলাকায় বিশেষায়িত অগ্নিনির্বাপণ কৌশল আয়ত্তে আনতে ফায়ার ফাইটারদের জন্য ১৪ দিনব্যাপী একটি উন্নত ও আন্তর্জাতিকমানের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। 

শনিবার এ তথ্য জানান ট্রেনিং ডিভিশনের উপ-প্রধান মো. মনিরুজ্জামান।

গত ১০ থেকে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত “রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অন-সাইট ফায়ার ফাইটারদের জন্য রেডিও–রাসায়নিক, বৈদ্যুতিক, বিস্ফোরক ও অগ্নি-বিপজ্জনক এলাকায় অগ্নিনির্বাপন” শীর্ষক এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হয়। 

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ১৪ দিনব্যাপী মোট ৮০ ঘণ্টার গভীরতাপূর্ণ কোর্সে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কোর্স শেষে অংশগ্রহণকারীরা তেজস্ক্রিয় বিকিরণ এলাকায় অগ্নিনির্বাপণের বিশেষ কৌশল, নিরাপত্তা নীতি, বিকিরণমাত্রা পর্যবেক্ষণ, ডোজিমিটার ব্যবহার, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (PPE) ব্যবহারে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেন।

প্রশিক্ষণের সামগ্রিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ট্রেনিং ডিভিশনের প্রধান গোলাম শাহীনুর ইসলাম এবং উপ-প্রধান মো. মনিরুজ্জামান। কোর্স সমন্বয়ে সহায়তা করেন ফায়ার সেফটি বিভাগের প্রশিক্ষক সৈয়দ নাজমুল হোসেন।

ট্রেনিং ডিভিশনের প্রধান মনিরুজ্জামান জানান, কর্মসূচির প্রথম ধাপে মোট ২৩ জন ফায়ার ফাইটার অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ১ জন সিনিয়র স্টেশন অফিসার, ৩ জন লিডার, ১৫ জন ফায়ার ফাইটার এবং ৪ জন ড্রাইভার (ফায়ার ফাইটার)। সবাই তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। দ্বিতীয় ধাপে আরও ১২ জন ফায়ার ফাইটারের প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াধীন।

তিনি আরও জানান, প্রশিক্ষণার্থীরা এনপিপিতে স্থাপিত আধুনিক স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থার ওপর হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জন করেছেন। ডেলুজ সিস্টেম, ওয়াটার মিস্ট সিস্টেম, নিষ্ক্রিয় গ্যাস সিস্টেম, ফোম সিস্টেম এবং ড্রাই কেমিক্যাল পাউডার সিস্টেমসহ বিভিন্ন অগ্নিনির্বাপণ প্রযুক্তি প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রশিক্ষক সৈয়দ নাজমুল হোসেন বলেন, দ্বিতীয় সপ্তাহে জেনারেল কন্ট্রাকটর এতমস্ট্রয়এক্সপোর্ট (ASE) এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (NPCBL)-এর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিশেষায়িত ফায়ার ফাইটিং যানবাহন ব্যবহারের ব্যবহারিক অনুশীলন সম্পন্ন হয়। এতে জলবাহী গাড়ি চারটি, ফোমবাহী গাড়ি একটি, গ্যাস ও ধোয়াপূর্ণ স্থানে অগ্নিনির্বাপনের বিশেষ গাড়ি একটি, ফায়ার পাম্প গাড়ি একটি, ফায়ার রেসকিউ গাড়ি একটি, রেডিওকেমিক্যাল মনিটরিং গাড়ি একটি, কমিউনিকেশন অ্যান্ড লাইটিং ফায়ার ট্রাক একটি, পাম্প-হোজ ফায়ার ট্রাক একটি এবং এরিয়াল ফায়ার ভেহিকল একটি ব্যবহার করা হয়।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান  জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিকিরণ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে এই প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

তিনি আরও জানান, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা সংস্কৃতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। যা বাংলাদেশের পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। আন্তর্জাতিক মানের এই বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ রূপপুর প্রকল্পের নিরাপত্তা সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি ভর্তি প্রস্তুতি শেষের পথে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে জ্বালানি ভর্তির প্রস্তুতি ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করতে বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা), রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা ভিও সেফটি এবং দেশটির অন্যান্য নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান টানা ১৪ দিন ধরে প্রকল্পটি পরিদর্শন করেছে। বুধবার বায়েরা চেয়ারম্যান মো. মাহমুদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রকল্প–সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দলটি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) জনবল, ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তিগত কাঠামো, বিভিন্ন ইউনিটের কাজের ধরন ও পরিচালনার নথি পরীক্ষা করে। একই সঙ্গে কমিশনিং কার্যক্রম, স্থাপনা, সমন্বয় প্রটোকল, সনদপত্র এবং অগ্রগতির ধাপগুলোও পর্যালোচনা করা হয়। পুরো তদারকি করেন এনপিসিবিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান এবং সমন্বয় করেন প্রধান পরিদর্শক মো. ইয়ামিন আলী।

ফিজিক্যাল স্টার্টআপ ও জ্বালানি লোডিং পারমাণবিক কেন্দ্র চালুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি। এতে প্রথমবার রিয়্যাক্টরে জ্বালানি ভরার পর সীমিত মাত্রায় নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া চালিয়ে প্রতিটি সিস্টেমের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। এর পরেই মূল পাওয়ার স্টার্টআপের দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হয়।

এনপিসিবিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক  ড. জাহেদুল হাসান জানান, প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন শেষ করেছে—আইএইএ’র দুই সপ্তাহের পরীক্ষামূলক প্রি-ওসার্ট, পরের তিন সপ্তাহের প্রি-ওসার্ট পর্যায় এবং সর্বশেষ বায়েরা–ভিও সেফটি–রস্টেকনাদজর যৌথ দুই সপ্তাহের পরিদর্শন। পাশাপাশি এনপিসিবিএল ও রসএনার্গোএটম স্ব-মূল্যায়নও নিয়মিত করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তার ভাষায়, ‘নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বায়েরা প্রকল্পের স্টার্টআপ প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছে। দলটির সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’ মূল্যায়ন শেষে বিশেষজ্ঞরা প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি ও ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বলেও তিনি জানান।

এনপিসিবিএল এখন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ বাস্তবায়নে কাজ করছে। এসব ধাপ শেষ হলে প্রতিবেদন বায়েরা–তে পাঠানো হবে। যাচাই–বাছাইয়ের ফল সন্তোষজনক হলে প্রথমবারের মতো জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমোদন ও লাইসেন্স দেওয়া হবে।

বায়েরা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফগার্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্টার্টআপ রেডিনেস ইন্সপেকশন সম্পন্ন হয়েছে। রাশিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে ফুয়েল লোডিংয়ের অনুমতি দেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, জ্বালানি লোডিং শুরু করতে রসাটম ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন (জেনারেল ডিজাইনার), ঘিদ্রোপ্রেস (রিয়্যাক্টর ডিজাইনার), রাশিয়ার জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘কুরচাতভ ইনস্টিটিউট’ ও বায়েরা অনুমোদনের পাশাপাশি ভিও সেফটি’র মূল্যায়ন প্রতিবেদনও বাধ্যতামূলক।

উচ্চচাপের বাষ্প নির্গমন নিয়ে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জরুরি বিজ্ঞপ্তি

বিশেষ প্রতিনিধি: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে বাষ্প নির্গমন পরীক্ষা পরিচালিত হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়েছে, পরীক্ষার সময় শব্দ এবং বাষ্প নির্গমন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, পূর্বনির্ধারিত ও নিরাপদ। জনসাধারণের জন্য এতে কোনো ঝুঁকি বা বিপদের আশঙ্কা নেই।

বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে নিয়োজিত রাশিয়ান সাধারণ ঠিকাদার কর্তৃক জানানো হয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে প্রকল্প এলাকার মেইন স্টিম পাইপলাইন ও স্টিম জেনারেটরের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্য একটি পরিকল্পিত বাষ্প নির্গমন পরীক্ষা শুরু হবে। এই পরীক্ষার অংশ হিসেবে উচ্চচাপের বাষ্প, সুনির্দিষ্ট ভালভের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে নির্গত হবে। পরীক্ষাকালীন সময়ে বাষ্প নির্গমনের ফলে বিকট শব্দ (জেট ইঞ্জিনের আওয়াজের মতো) সৃষ্টি হতে পারে, যা কিছুক্ষণ স্থায়ী হবে। এই পরীক্ষা সম্পন্ন হতে কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ দিন প্রয়োজন।

আরও বলা হয়, এই উচ্চচাপের বাষ্প নির্গমন এবং তার প্রেক্ষিতে সৃষ্ট শব্দ পূর্বনির্ধারিত, স্বাভাবিক ও সম্পূর্ণ নিরাপদ। জনসাধারণের জন্য এতে কোনও ঝুঁকি বা বিপদের সম্ভাবনা নেই। এটি একটি নিয়মিত কারিগরি প্রক্রিয়া, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পরিচালিত হয়।

রূপপুর বিদ্যুকেন্দ্রের আগুন নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানার বাইরে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ড নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন জানায়, ওই দিন দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প এলাকার বাইরে পদ্মা ও ইছামতী নদীর প্রবাহ সচল রাখতে তৈরি করা কৃত্রিম চ্যানেলের পাশে কাঠের বর্জ্য সরানোর সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সময় ইমামুল এন্টারপ্রাইজের কয়েকজন শ্রমিক তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণকক্ষে (কন্ট্রোল রুম) জানান। পরে কন্ট্রোল রুম থেকে দ্রুত প্রকল্পের নিজস্ব ফায়ার ইউনিটসহ রূপপুর মডার্ন ফায়ার স্টেশন ও গ্রিনসিটি ফায়ার স্টেশনকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। মাত্র ৪০ মিনিটের মধ্যেই—দুপুর ১টার দিকে—আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই ঘটনায় প্রকল্পের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রমেও কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

রূপপুর প্রকল্প কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট সব ফায়ার সার্ভিস ইউনিট, কর্মী ও দায়িত্বশীলদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে পরমাণু শক্তি কমিশন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র: নিরাপদ, চেরোনোবিলের মতো বিপদ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, চেরোনোবিলের মতো দুর্ঘটনার কোনো সম্ভাবনা নেই এবং উৎপাদন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা শর্ত পূরণের মাধ্যমে শুরু হবে। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই প্রকল্পটি রাশিয়ার কারিগরি সহযোগিতায় নির্মিত হচ্ছে। দীর্ঘ নির্মাণ পর এখন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কমিশনিং কাজ চলছে।

সম্প্রতি মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে কেন্দ্রের নিয়োগ ও পরিচালনায় অনিয়ম এবং অদক্ষতার অভিযোগ তুলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষত চিফ সুপারইন্টেন্ডেন্টসহ কিছু পদে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ঘাটতির অভিযোগ করা হয়েছে। তবে প্রকল্প কর্মকর্তারা বলছেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। রোসাটমের চিঠিতে প্রকল্পের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপত্তি নেই।

প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা তদারকিতে লাইসেন্স প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্ণ হয়েছে। কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার শর্ত না পূরণ হলে পরবর্তী ধাপের লাইসেন্স পাওয়া সম্ভব নয়।

চিফ সুপারইন্টেন্ডেন্ট পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত মুশফিকা আহমেদ বলেন, তার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি। পদার্থবিজ্ঞানে বিএসসি ও এমএসসি ডিগ্রি সম্পন্ন তিনি নিরাপত্তা ও রেডিওঅ্যাক্টিভ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। রাশিয়া ও বাংলাদেশের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তার দক্ষতা উন্নত করা হয়েছে।

অভিযুক্ত অন্যান্য কর্মকর্তারা যেমন রবিউল আলম, আল মামুন, এ.কে.এম নাজমুল হাসান এবং আবু কায়সার দাবী করেছেন, তারা বৈধ প্রকৌশল ডিগ্রি ও প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। রাশিয়ায় রোসাটম টেকনিক্যাল একাডেমিতে প্রশিক্ষণসহ যথাযথ যোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা অনুমোদনের ভিত্তিতে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তথ্য কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ বলেন, “৫০ বছর আগের চেরনোবিলের সঙ্গে এই প্রকল্প তুলনা করার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সর্বাধুনিক ভিভিইআর থ্রি প্লাস প্রযুক্তিতে নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতের অপারেটরদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার পর দায়িত্ব দেয়া হবে।”

প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ কবীর হোসেন বলেন, “উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে কর্মীদের দক্ষতা নিশ্চিত করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালনায় কোনো সমস্যা নেই।”

বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া পরিশোধে ৫ হাজার কোটি টাকার বন্ড দেবে সরকার

 বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া পরিশোধে ৫ হাজার কোটি টাকার বন্ড দেবে সরকার

 সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বকেয়া পাওনা পরিশোধের জন্য সরকার পাঁচ হাজার কোটি টাকার নতুন বন্ড ইস্যু করতে যাচ্ছে। এমনটাই জানিয়েছে সরকারি কিছু সূত্র।

বর্তমানে এই পদক্ষেপটি বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইউএনবিকে বলেন, 'আমরা পাঁচ হাজার কোটি টাকার নতুন বন্ড ইস্যু করার জন্য আমাদের দিক থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এটি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ে আছে।’

চলতি সপ্তাহের মধ্যেই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিপিডিবির এই কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন, আগের মতো এবারও সরকারি-বেসরকারি খাতের ২৫-২৭টি ব্যাংক বন্ড ইস্যু প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবে।

স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের (আইপিপি) ওপর থেকে আর্থিক চাপ কমানো এবং দেশের বিদ্যুৎ খাতকে স্থিতিশীল করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

তাদের মতে, বিপিডিবি এই পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বিদ্যুৎ বিভাগকে বিষয়টি নিয়ে অর্থ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করতে পরামর্শ দিয়েছে।

বিপিডিবির আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, 'স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী (আইপিপি) হিসেবে পরিচিত বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা বিপিডিবির কাছ থেকে কত টাকা পাবে আমরা হিসাব করছি।’

আরও পড়ুন: ঝুলে আছে ১০টি গ্রিড সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে বিপিডিবির দরপত্র আহ্বান

তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিপিডিবির মোট অপরিশোধিত বিলের পরিমাণ প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে বেসরকারি উৎপাদনকারীদের পাওনা প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা।

বাকি অর্থের মধ্যে গ্যাস বিল ১৭ হাজার কোটি টাকা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা ১০ হাজার কোটি টাকা।

আদানি গ্রুপসহ ভারতের সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা পাবে।

এর আগে বিদ্যুৎ খাতকে স্থিতিশীল করতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বিশেষ বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ২০ হাজার ৬২০ কোটি টাকা পেয়েছিল। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া দায় পরিশোধের লক্ষ্যে এই উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত ছিল সিটি ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক।

বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ২৫ জানুয়ারি একটি চুক্তি সই হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, চুক্তি অনুযায়ী সরকার সিটি ব্যাংককে ১৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা এবং পূবালী ব্যাংককে ৭৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার বন্ড ইস্যু করে।

ভর্তুকি তহবিল বিতরণে সরকারের অক্ষমতার কারণে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো তাদের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে যার ফলে কেউ কেউ দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।

এ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত রেপো রেট অনুযায়ী ৮ শতাংশ কুপন হারে বিশেষ বন্ড ইস্যু চালু করা হয়। ভবিষ্যতে রেপো রেটে যে কোনো পরিবর্তন হলে সে অনুযায়ী বন্ডের সুদের হার সমন্বয় করবে।

বন্ডের মেয়াদ শেষে সরকার সুদসহ ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করে বন্ডগুলো পুনরুদ্ধার করবে। সাধারণত বন্ডগুলো ১৫-২০ বছর মেয়াদি হলেও বিদ্যুৎ খাতের জরুরি চাহিদা মেটাতে এই বিশেষ বন্ডগুলোর সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছর।

সামিট পাওয়ার, ইউনাইটেড পাওয়ার, কনফিডেন্স পাওয়ার, বারাকা, কুশিয়ারা, ডরিন ও অ্যাক্রন পাওয়ারসহ বিদ্যুৎ খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো এই উদ্যোগের সুবিধাভোগীদের মধ্যে অন্যতম।

অর্থ বিভাগ ব্র্যাক ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়াসহ অন্যান্য ব্যাংকের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে চুক্তির পরিকল্পনার কথাও প্রকাশ করেছে।

চুক্তির গুরুত্ব নিয়ে বেশ কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা আশাবাদী।

ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে এসব বন্ড পেতে পারে, একই সঙ্গে সরকারও আর্থিক দিক দিয়ে কঠিন সময় মোকাবিলা করতে পারে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে লেবার সেমিস্টার শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক:  রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে গঠিত একটি নির্মাণ টিম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে (আরএনপিপি) লেবার সেমিস্টারে যোগ দিয়েছে। গত ১০ জুলাই রাশিয়ার শিক্ষার্থীদের এই টিম রূপপুর এনপিপিতে যোগ দেয়।

রসাটম কোর ইউনিভার্সিটি হিসেবে পরিচিত এসকল বিশ্ববিদ্যালয় গুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে থাকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রসাটম।

রোসাটম থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়।



বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুই মাসব্যাপী এই লেবার সেমিস্টারে শিক্ষার্থীরা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় স্বক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন। এ সময় নির্মাণ ও স্থাপন কাজে দক্ষতা অর্জন ছাড়াও ক্যাটালগ তৈরি, ডিজাইন ও ওয়ার্কিং ডকুমেন্টেশন রক্ষণ, সাইটে আগত বিভিন্ন ইকুইপমেন্ট ও সামগ্রীর পরিদর্শন প্রক্রিয়া এবং আরপিএস (রসাটম প্রোডাকশন সিস্টেম) ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।

খুব শীঘ্রই রসাটম প্রকৌশল শাখার তত্ত্বাবধানে নির্মীয়মাণ মিশরের এল দাবা এনপিপি এবং ভারতের কুদানকুলাম এনপিপি’তে অনুরুপ লেবার সেমিস্টার শুরু হবে। একটি স্টুডেন্ট কন্সট্রাকশন টিম ইতোমধ্যে রাশিয়ার কুরস্ক এনপিপি-২ এ তাদের লেবার সেমিস্টার শুরু করেছে। চলতি বছর রসাটম প্রকৌশল শাখার চারটি প্রকল্পে ১৫০ জন রুশ শিক্ষার্থী লেবার সেমিস্টারে কাজ করবেন।

২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার রোস্তভ এনপিপি’র ২ নম্বর ইউনিটে, স্টুডেন্ট কন্সট্রাকশন টিমের জন্য লেবার সেমিস্টারের ব্যবস্থা শুরু করা হয়। ওই বছর ২৫ জন শিক্ষার্থী সেমিস্টারে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে প্রথমবার রাশিয়ার বাইরে বেলারুশ এনপিপিতে লেবার সেমিস্টার প্রবর্তন করা হয়।

২০১৪ সালে রসাটম এবং রুশ স্টুডেন্ট টিমগুলোর মধ্যে একটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। গত ১৫ বছরের অধিক সময়ে ১৭ সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ২৯টি পারমাণবিক নির্মাণ প্রকল্পে লেবার সেমিস্টারে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ২২টি রাশিয়ায় অবস্থিত এবং বাকীগুলো তুরস্ক, বেলারুশ, চীন, ভারত ও মিশরসহ অন্যান্য দেশে।

উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দুটি ইউনিটে স্থাপিত হচ্ছে ৩+ প্রজন্মের রুশ ভিভিইআর ১২০০ রিয়্যাক্টর। প্রকল্পটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগা-ওয়াট। এই রিয়্যাক্টরগুলো সকল আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চাহিদা সম্পূর্ণভাবে পূরণ করতে সক্ষম। ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত জেনারেল কন্ট্রাকটের অধীনে রসাটমের প্রকৌশল শাখা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছে।

‘দেশে পর্যাপ্ত গ্যাস আছে, উৎপাদনে নজর দেওয়া জরুরি’


নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে এখনো পর্যাপ্ত গ্যাস আছে, সংকট কাটাতে সরকারের উৎপাদনে নজর দেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমাম।

তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সংকটের যে বিকল্প, তাতে আমরা নজর দিই না। নিজের দেশের সম্পদের দিকে তাকানো। বাংলাদেশের মাটির নিচে প্রচুর ভূসম্পদ রয়েছে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোও নিশ্চিত করেছে যে, দেশে কী পরিমাণ গ্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘জ্বালানি রূপান্তরে সুবিচার চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ।

বদরুল ইমাম বলেন, বিশ্বের অন্যান্য যেসব দেশে গ্যাসের সম্ভাবনা আমাদের মতো, তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। কারণ, তারা আমাদের মতো মাটির নিচে সম্পদ রেখে আমদানিতে ঝুঁকে যায়নি। সাগরের তলদেশে জ্বালানির সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমরা তার যথাযথ ব্যবহার করতে পারছি না। কিন্তু অতীত থেকে বর্তমান কোনো সরকারই বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে নেয়নি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে গ্যাসকূপ অনুসন্ধানের হার প্রতি বছরে ১টা। এটা খুবই নিম্নমানের। এটা কোনো জোরালো অনুসন্ধানের ধারেকাছেও নেই। প্রতি বছর যদি ৫-৬টা করে গ্যাসের অনুসন্ধান চালানো হয়, তাহলে আমার মতে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে গ্যাস সম্পদের অভাব থাকবে না।

জ্বালানি খাতের সুবিচার নিশ্চিতে প্রয়োজন বাণিজ্যিকীকরণ পরিহার এমন মন্তব্য করে ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, জ্বালানি বণ্টনের ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখা হচ্ছে না। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে বাণিজ্যিক খাতে পরিণত করা একটি ভয়াবহ ইঙ্গিত। ১৯৯০ সাল থেকেই সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। জ্বালানি খাতে সুবিচার নিশ্চিত করতে হলে বাণিজ্যিক খাত থেকে তাকে সরিয়ে নিয়ে সেবাখাতে পরিণত করতে হবে।

শামসুল আলম আরও বলেন, ২০২৪ সালে জ্বালানি খাতের কী অবস্থা হবে, তা নিয়ে আমরা শঙ্কায় আছি। যদি আমরা ন্যূনতম ব্যয়ে এবং সমতার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারতাম, তাহলে আজ এ সংকট তৈরি হতো না। আমাদের যদি রপ্তানি চলমান থাকতো, তাহলে আরও গ্যাস-কয়লা উত্তোলন হতো। কিন্তু তখন তা চেয়ে দেখা ছাড়া উপায় ছিল না। তবে জ্বালানি থাকার সুবিধাটাও আমরা পেলাম না, আমদানির পরিবেশ তৈরি করে একটা উন্নয়নের কাহিনী তৈরি করলাম, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না।

সভায় মূল বক্তব্য দেন জ্বালানি বিষয়ক সাংবাদিক আরিফুজ্জামান তুহিন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উন্নয়ন অর্থনীতি বিষয়ক গবেষক মাহা মির্জা, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমাম, অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ, ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভুইয়া প্রমুখ।

জ্বালানি রূপান্তর সুবিচার নিশ্চিতে ক্যাবের পক্ষ থেকে ১২ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। সেগুলো হলো—

সৌর তথা নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন আইপিপি মডেলে বাণিজ্যিকভিত্তিতে নয়। না লাভ না ক্ষতির নীতিতে উন্নয়ন হতে হবে। সরকারকে এ খাত থেকে রাজস্ব আহরণ পরিহার করতে হবে। প্রয়োজনে নিদৃষ্ট মেয়াদে ভর্তুকি দিতে হবে। কৃষি ও গ্রামীণ পরিবহনে মাছ চাষ ও সেচ, পশু-পক্ষী পালন ও হালকা পরিবহনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার নিশ্চিত হতে হবে।  নিরপেক্ষ/স্বাধীন পক্ষকে দিয়ে পরিবেশগত প্রভাব নিরীক্ষণ (ইআইএ) করাতে হবে। এখানে বিইআরসি, ক্যাবসহ সংশ্লিষ্ট অংশিজনদের প্রতিনিধি থাকতে হবে। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ হতে হবে। প্রশাসনের বাইরে অংশীজন প্রতিনিধি সমন্বয়ে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত কমিটি/কমিশন দ্বারা জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিরোধ/অসন্তোষ নিষ্পত্তি হতে হবে। জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিবেশ সুরক্ষা আইন, ১৯৯৫ যথাযথভাবে প্রতিপালিত হতে হবে এবং অন্যথায় বাধ্যতামূলক আইনি ব্যবস্থা গৃহীত হতে হবে। শুধু আবাদ-অযোগ্য জমি ব্যতীত অন্য কোনো জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হবে না, তা বিধি দ্বারা নিশ্চিত হতে হবে।জ্বালানি রূপান্তরে ন্যায্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিযোগিতাহীন কোনো বিনিয়োগে বিদ্যুৎ বা জ্বালানি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে না। তাই দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ (বিশেষ বিধান) আইন ২০১০ অবিলম্বে বাতিল হতে হবে। স্রেডা আইন ২০১২ এর ৬(১৭) উপধারা অনুযায়ী সৌর তথা নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের মূল্যহার বিইআরসি কর্তৃক নির্ধারিত হতে হবে। জ্বালানি রূপান্তরে সুবিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিইআরসি আইনের সংশোধনী বাতিল করে গণশুনানির ভিত্তিতে সকল পর্যায়ের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যহার নির্ধারণের একক এখতিয়ার বিইআরসিকে ফিরিয়ে দিতে হবে। ৫ শতাংশের চেয়ে কম পরিমাণ জমিতে বসবাসকারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বাস্তুচ্যুত করা হলে সরকারের দায়িত্বে অন্যত্র সমপরিমাণ জমিতে তাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন