বিক্ষোভ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিক্ষোভ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলায় সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক বিপুল হোসেন বুদুকে প্রধান আসামি করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের নতুনহাট গোলচত্বর এলাকায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নতুনহাট গোলচত্বর মোড়ে এসে প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়। এতে বক্তব্য দেন পাবনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক বরকত আলী, দাশুরিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লাকী, পাকশী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহীন উদ্দিন শেখ, ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক আলীমুল ইসলাম মৃধা, সাহাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আলিমুল ইসলাম বাধন ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক কনক মন্ডল।

সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, বিপুল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। কোনো একটি পক্ষের নির্দেশে কিংবা প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে ঘটনার আসল পথ ভিন্নখাতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে বিপুলকে মিথ্যা মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে। বক্তারা এই মামলাকে হয়রানিমূলক দাবি করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, ১৯ আগস্ট রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে ব্যক্তিগত গাড়ি চালিয়ে জয়নগরের নিজ বাসায় ফিরছিলেন শরিফুল ইসলাম শরীফ। পথে জয়নগর কিন্ডারগার্টেনের সামনে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাঁর গাড়ির পথরোধ করে গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে তাঁকে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ঘটনার ছয় দিন পর ২৫ আগস্ট শরিফুল বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিপুল হোসেনকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ থেকে সাতজনকে অভিযুক্ত করা হয়।

বিএনপির কমিটি বাতিল চেয়ে ঈশ্বরদীতে একাংশের ঝাড়ু মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির সদ্য ঘোষিত আংশিক আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিল করেছেন দলটির একাংশের নেতাকর্মীরা। এ সময় পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবি জানানো হয়।

রোববার রাত আটটার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির কার্যালয়ের সামনে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

এর আগে বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রেলওয়ে গেট এলাকার কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে সেখানে ঝাড়ু মিছিল বের করা হয়। এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়কের ছবি প্রদর্শন করে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন তারা। মিছিলটি স্টেশন রোড প্রদক্ষিণ করে ঈশ্বরদী বাজারের প্রধান ফটকে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক বিষ্টু কুমার সরকার এবং সঞ্চালনা করেন সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসলাম হোসেন জুয়েল। এতে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা সিন্টু সরদার, শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি আশিকুর রহমান নান্নু, সাবেক কমিশনার আনোয়ার হোসেন জনি, যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মাহমুদুর রহমান ফুল জুয়েলসহ অন্যরা।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে নির্যাতিত ও রাজপথের সক্রিয় কর্মীদের বাদ দিয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিগত সরকারের অনুসারীদের সঙ্গে সখ্য ছিল—এমন ব্যক্তিদেরও পদে রাখা হয়েছে। ঘোষিত কমিটিকে দলের নীতিপরিপন্থী আখ্যা দিয়ে তারা অবিলম্বে এটি বাতিলের দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন নেতাকর্মীরা।

অভিযোগের বিষয়ে সদ্য ঘোষিত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। যারা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছেন, তারা মূলত বহিষ্কৃত। তাই বহিষ্কৃতদের কমিটিতে রাখার কোনো সুযোগ নেই।

একই কথা জানান পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। তিনি বলেন, একাধিকবার বহিষ্কৃত ব্যক্তিরা এই কমিটিকে অবৈধ বলার অধিকার রাখেন না। শীর্ষ নেতৃত্বের পছন্দ ও নির্দেশনা অনুসারেই ত্যাগীদের নিয়ে কমিটি অনুমোদিত হয়েছে। তারা বারবার শান্ত পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ আগস্ট জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপিতে জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদারকে আহ্বায়ক ও শরিফুল ইসলাম তুহিনকে সদস্যসচিব এবং পৌর বিএনপিতে মাহাবুবুর রহমান পলাশকে আহ্বায়ক ও ইমরুল কায়েস সুমনকে সদস্যসচিব করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ধর্ষণের অভিযোগে ক্ষোভ, সাঁথিয়ায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানার বিলকুলা গ্রামে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

রোববার দুপুরে বিলকুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং শত শত এলাকাবাসী অংশ নেন। কর্মসূচি শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল এলাকার বিভিন্ন সড়ক ঘোরে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সমাজে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়বে। তাঁরা ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে বিলকুলা গ্রামের জুয়েল ও মামুন নামে দুই যুবক ওই শিক্ষার্থীকে তাঁর বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যান। পরে পাশের একটি বাঁশঝাড়ে নিয়ে তাঁকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে আতাইকুলা থানায় মামলা করেছেন।

আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, ‘মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলছে। ঘটনার পর থেকেই জুয়েল ও মামুন পলাতক রয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।’

ঈশ্বরদীতে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে বক্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই নেতাকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রূপপুর ফটু মার্কেট এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ২৪ জুন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং ঈশ্বরদী থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম তুহিনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন এবং তাঁদের সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা।

বক্তারা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে দায়িত্ব পালন করে আসা এই দুই নেতাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই এসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।

তাঁরা আরও বলেন, সম্প্রতি শাহানুজ্জামান সেনা, আলমসহ কয়েকজনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনাকে ঘিরে একাধিক মামলা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এ ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্তের বিকল্প নেই।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা অভিযোগ করেন, আলমকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা তাঁর অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান।

তেলকল চালুর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে বিক্ষোভ-মানববন্ধন


নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন মেসার্স আর.বি. রাইস ব্রান অয়েল মিল নামের একটি তেলকল চালুর অনুমতি দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এই কারখানার আবেদন মঞ্জুর করার পর এর প্রতিবাদে নামেন তাঁরা। শনিবার সকালে ভেলুপাড়া এলাকায় ঈশ্বরদী উপজেলা পরিবেশ রক্ষা কমিটির ব্যানারে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচি চলাকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সহসভাপতি শামীম আহমেদ লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার দাবিতে তাঁরা ২০১৮ সাল থেকে আন্দোলন করে আসছেন। ২০২২ সালে এই তেলকলের মালিক মধু বিশ্বাসের পরিবেশগত ছাড়পত্রের আবেদন পরিবেশ অধিদপ্তর নাকচ করে দেয়। পরে তিনি রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়, ঢাকার প্রধান কার্যালয় এবং মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলেও সব জায়গাতেই তা নাকচ হয়। তবে গত ১১ জুন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় তাঁর আপিল আবেদন মঞ্জুর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা এলাকাবাসীকে হতাশ করেছে।

মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তকে রহস্যজনক উল্লেখ করে শামীম আহমেদ বলেন, কারখানাটি চালু হলে সেখান থেকে বের হওয়া দুর্গন্ধযুক্ত নোংরা পানি, বিষাক্ত ধোঁয়া, ছাই, গরম পানি ও অন্যান্য শিল্পবর্জ্য এলাকায় মারাত্মক পরিবেশ দূষণ তৈরি করবে। এতে বাতাস, মাটি, পানি ও শব্দদূষণ বাড়ার পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ ও কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের মানুষ, গবাদিপশু এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। কারখানার ধোঁয়া বের হওয়ার নল বা চিমনি থেকে ওড়া ছাই বাতাসের মাধ্যমে ঈশ্বরদী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে। ব্যক্তিস্বার্থে একটি কারখানা গড়ে তুলে ঐতিহ্যবাহী ঈশ্বরদী পৌরসভা ও ছলিমপুর ইউনিয়নের একাংশের মানুষের জীবনযাত্রা, শান্তি ও ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হচ্ছে। এই অবস্থায় মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে আরও বড় আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন আব্দুস সাত্তার, শরিফা খাতুন, তরিকুল ইসলাম, আলহাজ তুহিন হোসেন, দুলাল মণ্ডল ও হাফিজুর রহমান। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আনছারুল হক। এই মানববন্ধন, সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেসার্স আর.বি. রাইস ব্রান অয়েল মিলের প্রধান বা চেয়ারম্যান মধু বিশ্বাস। তিনি বলেন, একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় শিল্পায়ন ও উন্নয়নমূলক কাজে বাধা দিয়ে আসছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে এই প্রকল্পের বিরোধিতা করে পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া আটকে দিয়েছিলেন।

মধু বিশ্বাস আরও বলেন, তিনি নতুন করে কোনো আবেদন করেননি। আগে নাকচ হওয়া আপিল আবেদনটিই পুনর্বিবেচনার আওতায় এসেছে। দেশের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে পুরোনো আপিল আবেদনগুলো পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় তাঁর আবেদনটি শর্তসাপেক্ষে মঞ্জুর করা হয়েছে।

ঈশ্বরদীতে জোড়া খুন: আসামির ফাঁসির দাবিতে সড়ক অবরোধ-বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আলোচিত দাদি-নাতনি হত্যা মামলার আসামির ফাঁসির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও কয়েকটি গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাবনা-দাশুড়িয়া মহাসড়কের কালিকাপুর বাজার এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

টানা তিন ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ থাকায় সড়কের উভয় পাশে অন্তত দুই কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিক্ষোভকারীরা জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামে দাদি ও নাতনিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার প্রায় চার মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাই দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানান তাঁরা।

পরে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের স্বজন, এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি মামলার অগ্রগতির বিষয়ে আশ্বস্ত করলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান।

পুলিশ জানায়, আগামী সাত দিনের মধ্যে মামলার প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য হাতে পেলেই অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। দ্রুতই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন বলে আশা করছে পুলিশ।

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা সোহাগ হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, জানাজা সম্পন্ন


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা ও উপজেলা জিয়া সাইবার ফোর্সের সদস্য সচিব ইমরান হোসেন সোহাগকে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করেন বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় সাঁড়াগোপালপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ইমরান হোসেন সোহাগের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেলে পৌর শহরের খায়রুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাজারের এক নম্বর গেটে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল, পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসলাম হোসেন জুয়েল ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি। এ সময় ছাত্রদল নেতা নাজমুল হাসান রিশাদ, মাহমুদুল ইসলাম শাওন ও মোস্তাফিজুর রহমান বিটুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ইমরান তাঁর বন্ধুদের নিয়ে সাঁড়া গোপালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের রেললাইনের পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় মুখে কালো কাপড় বেঁধে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান সোহাগ।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিচালকের অপসারণের দাবিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদন: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ও নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাছানের অপসারণের দাবিতে পাবনার ঈশ্বরদীতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মঙ্গলবার বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ সড়কের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।  এরপর  অভিজাত রেস্তোরাঁতে সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সেখানে বক্তারা অভিযোগ করেন, ড. জাহেদুল হাছান একসাথে প্রকল্প পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা, প্রধান প্রশাসনিক ও অর্থ কর্মকর্তা এবং স্টেশন ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করছেন, যা একদম অস্বাভাবিক এবং কারও একার পক্ষে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। 

বক্তারা আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ আছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কর্মসংস্থানের নির্দিষ্ট নিয়মাবলি, সংগঠন কাঠামো এবং বেতন কাঠামো না থাকায় কর্মীরা বছরের পর বছর ধরে পেশাগত নিরাপত্তা ও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কেউ চাকরি ছেড়ে দিলে সিপিএফ, অভিজ্ঞতা সনদ বা এনওসি দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া, রাশিয়া থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অদক্ষ দেখিয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মকর্তারা আরও জানান, কর্মক্ষেত্রে ন্যূনতম সুবিধা যেমন বসার স্থান, টয়লেট, ক্যান্টিন এবং চিকিৎসাসেবা পর্যন্ত নিশ্চিত করা হয়নি। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় অনেক কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছেন বা কর্মস্থলে প্রবেশের অনুমতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন জ্যেষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক ফাহিম শাহরিয়ার তুহিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী ব্যবস্থাপক শহীদুল ইসলাম, হালিম সরকার, রুবেল হোসেন এবং উপ-সহকারী ব্যবস্থাপক রমজান আলীসহ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জাহেদুল হাছান বলেন, ‘মাত্র চার মাস ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব নিয়েছি। এর মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রমোশন, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, গ্রেড বৃদ্ধি, সার্ভিস রুলসহ নানা দাবি তুলেছেন। এসব দাবির একটিও পূরণ করার সাধ্য আমার নেই। সবই সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কনস্ট্রাকশন প্ল্যান্টে কাজ করি। এখানে নতুন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসার ব্যবস্থা করা কঠিন। এরপরও সম্প্রতি ৪০০ জনের বসার ব্যবস্থা, নামাজের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরপরও অভিযোগ। আগামী ২০ দিন পর অবসরে যাচ্ছি। ধারণা করছি, এসব অভিযোগ আমরা বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

ঈশ্বরদীতে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর সন্ত্রাসী হামলা, চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকি প্রদানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে হিন্দু সম্প্রদায়।

বুধবার উপজেলার দাশুড়িয়া বাজারে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানান। 

এতে পথসভায় বক্তব্য দেন হামলায় আহত ব্যবসায়ী গৌরচন্দ্র সেনের ছেলে গৌতম সেন, পিয়াস সেন, দাশুড়িয়া কীর্তন গোষ্ঠীর সদস্য সুজন বৈরাগী, শ্মশান-মন্দির কমিটির সভাপতি রতন সাহাসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।

মানববন্ধন চলাকালে সম্প্রদায়ের শতাধিক নারীপুরুষসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও দুপুর সাড়ে বারোটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ঘন্টাব্যাপী দাশুড়িয়া বাজার ও প্রধান সড়কে বিক্ষোভ করতে থাকেন। 

পথসভায় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, বেশ কিছুদিন ধরে দাশুড়িয়াতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বাসাবাড়ি, দোকানপাঠ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কিছু চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীচক্র নিরবে চাঁদাবাজি করছেন। অনেক ব্যবসায়ী প্রাণভয়ে চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের অব্যাহত হুমকিতে দাশুড়িয়া বাজারে হিন্দুসম্প্রদায়ের লোকজনসহ অন্য ব্যবসায়ীরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

এদিকে চাঁদা না পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাতে দাশুড়িয়ায় কলেজপাড়া নিবাসী ব্যবসায়ী গৌড় চন্দ্র সেনের বাড়িতে সাত থেকে আটজনের একটি চক্র পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এসময় ব্যবসায়ী গৌড় চন্দ্র সেনকে সামনে পেয়ে হামলাকারীরা তাঁকে পিটিয়ে আহত করেন। পরে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা এলে তাদেরও আদর অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরের  হুমকি দিয়ে চলে যান চক্রটি। পরে আহত গৌড় সেনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে চিকিৎসা দেন।

তাঁর ছেলে গৌতম চন্দ্র সেন জানান, ঘটনার পর মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে ঈশ্বরদী থানায় 'চাঁদাবাজি, হত্যার হুমকি প্রদানসহ লিখিত একটি অভিযোগ দেন। এতে সাত-আটজনকে আসামী করা হয়েছে।

ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) ঈশ্বরদী থানা পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুর আলম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে হিন্দু ব্যবসায়ীকে মারধরের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত জানাতে পারছি না।

ঈশ্বরদীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে থানা চত্বরে উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ইব্রাহিম হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেছেন। তারা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার এবং ঈশ্বরদী থানার ওসি শহিদুল ইসলামকে অপসারণের দাবি জানাচ্ছেন।

বুধবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত ঈশ্বরদী থানার সামনের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ চালায় শিক্ষার্থীরা। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।

 বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিচ্ছিলেন, "থানার ওসির অপসারণ চাই", "হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করো", এবং "ছাত্রদের ওপর হামলার বিচার চাই"। তারা বলেছেন, থানার ওসি অপসারণের আদেশ না আসা পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ চলবে।

এই অবরোধের কারণে সড়কের দুই পাশে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট তৈরি হয়। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে যানজট নিরসন করে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা তানজিদুর রহমান দিহান, মাহিম মেহরাব, মেহের হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা বিক্ষোভে অংশ নেন।

ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম জানান, ‘ইব্রাহিম হোসেনের ওপর হামলাকারীদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’
 
তিনি আরও বলেন, সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও থানার সামনে শিক্ষার্থীরা এখনও অবস্থান করছেন।’।

উল্লেখ্য, গত ২৩ জানুয়ারি রাতে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সামনে ইব্রাহিম হোসেনের ওপর হামলা চালায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এই ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করলেও প্রধান আসামিসহ অন্যান্যরা এখনো পলাতক রয়েছেন।

পাকশী রেলওয়ে কার্যালয় ঘেরাও

নিজস্ব প্রতিবেদক: কর্মঘণ্টা ও অবসর ভাতা প্রদানের দাবিতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে রানিং স্টাফ-কর্মচারীরা। সোমবার দুপুরে রেলওয়ে রানিং স্টাফ ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

বিক্ষোভকারীরা পাকশী রেলওয়ে আমতলা থেকে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে ডিআরএম কার্যালয় চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সমাবেশ শেষে তারা বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা গৌতম কুমার কুণ্ডুর কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।

রানিং স্টাফরা ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের দাবি মেনে নেওয়ার সময়সীমা দিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে ২৮ জানুয়ারি সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু হবে বলে জানান তারা। কর্মবিরতি শুরু হলে পশ্চিমাঞ্চলের ১০৮টি ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। এতে বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
সমাবেশে রেলওয়ে রানিং স্টাফ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং ঈশ্বরদী শাখার দপ্তর সম্পাদক শাহিদ হোসেনের পরিচালনায় বিভিন্ন নেতা বক্তব্য দেন। তারা বলেন, রানিং স্টাফদের মাইলেজসহ পেনশন ও আনুতোষিক প্রদানে ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের আপত্তি প্রত্যাহার করতে হবে। এছাড়া নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্য বৈষম্যমূলক শর্তগুলো বাতিল করে রেলওয়ে কোড অনুযায়ী আদেশ জারি করতে হবে।

পাকশী বিভাগের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা গৌতম কুমার কুণ্ডু জানান, “রানিং স্টাফরা তাদের দাবি সংবলিত স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। আমরা তা মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। আশা করি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সমাধানের উদ্যোগ নেবেন।”

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অধীনে ৫৪টি আন্তঃনগর, ৩৫টি মেইল, ১৯টি মালবাহী এবং লোকাল ট্রেন চালু রয়েছে। কর্মবিরতি শুরু হলে এই ট্রেনগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হবে।

৩২ মামলা রাজনৈতিকভাবে নথিভুক্ত না হওয়ায় বিএনপির বিক্ষোভ


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ৩২টি রাজনৈতিক মামলা নথিভুক্ত না করার অভিযোগে পাবনা জেলা বিএনপির কিছু নেতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে সোমবার দুপুর ২টায় পাবনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন এবং শহরের আব্দুল হামিদ সড়কে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান লিখিত বক্তব্যে জানান, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ফলে ঈশ্বরদীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এসব মামলার তালিকা কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্দেশে জেলা বিএনপির কাছে পাঠানো হলেও ঈশ্বরদীর মামলা নথিভুক্ত হয়নি।


ফজলুর রহমান অভিযোগ করেন, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকারসহ কয়েকজন নেতা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ঈশ্বরদীর মামলাগুলো তালিকাভুক্ত করেননি। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা অভিযোগকারীদের শাস্তি এবং বিষয়টির সুরাহার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, পৌর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব বিষ্টু সরকার, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জোহা পিপ্পু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুর রহমান স্বপন, আতাউর রহমান পাত্তা, খন্দকার আমিনুল ইসলাম, মো. মনিরুজ্জামান টুটুল ও পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েলসহ আরও অনেকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাবনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার বলেন, 'নথি দিলে তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা। যদি ভুলবশত না হয়ে থাকে, তাহলে তা সংশোধন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে কোনো ষড়যন্ত্র নেই।' 

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন