নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, চেরোনোবিলের মতো দুর্ঘটনার কোনো সম্ভাবনা নেই এবং উৎপাদন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা শর্ত পূরণের মাধ্যমে শুরু হবে। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই প্রকল্পটি রাশিয়ার কারিগরি সহযোগিতায় নির্মিত হচ্ছে। দীর্ঘ নির্মাণ পর এখন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কমিশনিং কাজ চলছে।
সম্প্রতি মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে কেন্দ্রের নিয়োগ ও পরিচালনায় অনিয়ম এবং অদক্ষতার অভিযোগ তুলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষত চিফ সুপারইন্টেন্ডেন্টসহ কিছু পদে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ঘাটতির অভিযোগ করা হয়েছে। তবে প্রকল্প কর্মকর্তারা বলছেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। রোসাটমের চিঠিতে প্রকল্পের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপত্তি নেই।
প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা তদারকিতে লাইসেন্স প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্ণ হয়েছে। কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার শর্ত না পূরণ হলে পরবর্তী ধাপের লাইসেন্স পাওয়া সম্ভব নয়।
চিফ সুপারইন্টেন্ডেন্ট পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত মুশফিকা আহমেদ বলেন, তার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি। পদার্থবিজ্ঞানে বিএসসি ও এমএসসি ডিগ্রি সম্পন্ন তিনি নিরাপত্তা ও রেডিওঅ্যাক্টিভ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। রাশিয়া ও বাংলাদেশের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তার দক্ষতা উন্নত করা হয়েছে।
অভিযুক্ত অন্যান্য কর্মকর্তারা যেমন রবিউল আলম, আল মামুন, এ.কে.এম নাজমুল হাসান এবং আবু কায়সার দাবী করেছেন, তারা বৈধ প্রকৌশল ডিগ্রি ও প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। রাশিয়ায় রোসাটম টেকনিক্যাল একাডেমিতে প্রশিক্ষণসহ যথাযথ যোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা অনুমোদনের ভিত্তিতে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তথ্য কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ বলেন, “৫০ বছর আগের চেরনোবিলের সঙ্গে এই প্রকল্প তুলনা করার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সর্বাধুনিক ভিভিইআর থ্রি প্লাস প্রযুক্তিতে নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতের অপারেটরদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার পর দায়িত্ব দেয়া হবে।”
প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ কবীর হোসেন বলেন, “উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে কর্মীদের দক্ষতা নিশ্চিত করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালনায় কোনো সমস্যা নেই।”

