আগুন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আগুন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রূপপুর বিদ্যুকেন্দ্রের আগুন নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানার বাইরে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ড নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন জানায়, ওই দিন দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প এলাকার বাইরে পদ্মা ও ইছামতী নদীর প্রবাহ সচল রাখতে তৈরি করা কৃত্রিম চ্যানেলের পাশে কাঠের বর্জ্য সরানোর সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সময় ইমামুল এন্টারপ্রাইজের কয়েকজন শ্রমিক তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণকক্ষে (কন্ট্রোল রুম) জানান। পরে কন্ট্রোল রুম থেকে দ্রুত প্রকল্পের নিজস্ব ফায়ার ইউনিটসহ রূপপুর মডার্ন ফায়ার স্টেশন ও গ্রিনসিটি ফায়ার স্টেশনকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। মাত্র ৪০ মিনিটের মধ্যেই—দুপুর ১টার দিকে—আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই ঘটনায় প্রকল্পের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রমেও কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

রূপপুর প্রকল্প কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট সব ফায়ার সার্ভিস ইউনিট, কর্মী ও দায়িত্বশীলদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে পরমাণু শক্তি কমিশন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে ময়লার স্তূপে আগুন


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাইরে পদ্মা নদীর তীরে পরিত্যক্ত কার্টন ও কাঠের ময়লার স্তূপে আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিটের টানা ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং কেউ হতাহতও হননি।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের এক পাশে কার্টন ও কাঠসহ নানা ধরনের ময়লার স্তুপ ফেলে রাখা ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটের দিকে সেখানকার শ্রমিকেরা হঠাৎ আগুন দেখতে পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাত্র ৩০০ গজ দূরে অবস্থিত স্টেশন থেকে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে।

পরে রূপপুর মডার্ন, গ্রিন সিটি, রূপপুর অস্থায়ী ও ঈশ্বরদী ফায়ার স্টেশনের মোট আটটি ইউনিট একসঙ্গে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। শেষে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র মডার্ন ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফাইটার রাকিবুল ইসলাম বলেন, আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

ঈশ্বরদীতে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া কৃষকের বাড়ি পরিদর্শন করলেন হাবিব

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে  বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে আগুনে শফের প্রামাণিক নামে এক কৃষকের বসতবাড়ি পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।

সোমবার উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের গোকুলনগর মাদ্রাসাপাড়া এলাকায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি পরিদর্শন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও দলটির জেলা কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব।

এসময় তার সঙ্গে ছিলেন পৌর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল জব্বার, ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি আজিজুর রহমান শাহীন, বিএনপি নেতা সেলিম আহমেদ, হাসিবুর রহমান হাক্কে মণ্ডল, নুরুল ইসলাম আক্কেল মালিথা, নজরুল ইসলাম মালিথা, ফেলা মণ্ডল, ছাত্রদল নেতা ইমরুল কায়েস সুমন, তৌহিদুল ইসলাম তুহিন মেম্বারসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে হাবিব বলেন,  'আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাদের সহায়তা করব এবং সরকারি অনুদান আনতেও চেষ্টা করব। এছাড়া, এই বাড়ির এক ছেলে অনার্স পাস করেছে। আমি তার চাকরির জন্য চেষ্টা করব। বিএনপি ক্ষমতায় এলে তার চাকরির বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখব।'

ঈশ্বরদীতে আগুনে পুড়লো কৃষকের ঘর

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে আগুন লেগে এক কৃষকের বসতবাড়ি পুড়ে গেছে। শনিবার সকালে উপজেলার গোকুলনগর মাদ্রাসাপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আশরাফুল ইসলাম জানান, 'হঠাৎ তাদের বাড়ির বৈদ্যুতিক মিটার থেকে আগুনের ফুলকি বের হতে দেখে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হয়। কিন্তু এর মধ্যেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।'

তিনি আরও জানান, এতে তার প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মীর আমিরুল ইসলাম জানান, 'বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। আগুনে পাঁচটি ঘর ও একটি মোটরসাইকেল পুড়ে গেছে।' 

শেরপুরে ভোটকেন্দ্রে দুর্বৃত্তের আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউনিয়নের মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের স্টোররুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ৬ জানুয়ারি শনিবার সকালে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, আজ শনিবার সকালে বাজিতখিলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্টোররুমে স্থানীয়রা আগুন জ্বলতে দেখেন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে একটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে বিদ্যালয়ের স্টোররুমে থাকা কয়েকটি বেঞ্চ পুড়ে যায়। ঘটনার পর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শাহ কামাল বলেন, আমি বিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদে নামাজ পড়ছিলাম। হঠাৎ আগুন আগুন বলে চিৎকার শুনি। পরে বের হয়ে দেখি বিদ্যালয়ের স্টোররুমে আগুন জ্বলছে। তারপর ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

শেরপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক জাবেদ হোসেন মুহাম্মদ তারেক বলেন, সকালে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। এর ফলে একটি কক্ষের বাইরে আগুন ছড়াতে পারেনি। বিদ্যালয়ের স্টোররুমে থাকা কিছু বেঞ্চ পুড়ে গেছে।

শেরপুর সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি নাশকতা কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফানুস থেকে আগুন


নিজস্ব প্রতিবেদক: চলে যাওয়া ২০২৩ সালের শেষ প্রহরে থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি ও ফানুস না ওড়াতে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার বলা হলেও থামানো যায়নি আনন্দপ্রিয় অনেক নাগরিককে। নতুন বছর শুরুর মাহেন্দ্রক্ষণে বাজির আলোকচ্ছ্বটায় আকাশ উজ্জ্বল হতে শুরু করে। সেইসঙ্গে রাতের আকাশে ওড়ে শত শত ফানুস। এসব ফানুস ওড়ানোর কারণে রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্থানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স-এর গণমাধ্যম শাখার কর্মকর্তা শাহজাহান মিয়া এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, গতকাল রোববার রাতে মাতুয়াইলের স্কুল রোডের একটি বাড়িতে বড় আকারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। বাড়িটির ছাদে একটি ফানুস থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে সূত্রাপুরের ধোলাইপাড়ে ফানুস থেকে অপর একটি আগুন লাগার খবর পান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়। তবে এ দুই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি এবং তাড়াতাড়ি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় বলে জানিয়েছেন এই ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা।

এ ছাড়া ঢাকার আশপাশে যেসব জায়গায় আগুন লেগেছিল সেগুলোও নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়নি বলে জানান তিনি।

অপরদিকে, ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার এরশাদ হোসেন বলেন, ‘ফানুস ওড়ানোর কারণে রাজধানীর লালবাগ, পলাশী, মোহাম্মদপুর, সূত্রাপুর, ডেমরা, পোস্তগোলা, খিলগাঁওসহ বেশকিছু জায়গায় অগ্নিকাণ্ডের খবর আমরা পেয়েছি। এসব জায়গায় ফায়ার সার্ভিসের দুই থেকে তিনটি ইউনিট পাঠানো হয়েছে। তবে বড় পরিসরে কোনো অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পাওয়া যায়নি।’

কামরাঙ্গীচরের নুরবাগ এলাকায় একটি মাজার ফানুসের আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাজারের ছাদ পুড়ে গেছে। পরে সেখানে থেকে আগুন ছড়াতে থাকে। স্থানীয়রা সঙ্গে সঙ্গে পানি ঢেলে সেটা নেভালেও এ সময় আশপাশের বাসাবাড়িতে ভীতি ছড়ায়।

চট্টগ্রাম মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে গেছে শতাধিক স্থাপনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামির একটি মার্কেটে আগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ৪ অক্টোবর বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামি থানার আমিন কলোনি এলাকায় মসজিদের পার্শ্ববর্তী মার্কেটে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বায়েজিদ বোস্তামি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

তিনি বলেন, আমরা ৬টা ৩৫ মিনিটের দিকে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। শুরুতে আমাদের বায়েজিদ স্টেশন থেকে দুটো ইউনিট এসে কাজ শুরু করে। পরে চন্দনপুরা স্টেশন ও কালুরঘাট স্টেশন থেকে দুটি করে চারটি ইউনিট যোগ দেয়। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে পুরোপুরি নির্বাপিত হতে সময় লাগবে।’

এদিকে অগ্নিকাণ্ডস্থল থেকে দুই শিশু নিখোঁজ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এই বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক আব্দুল হালিম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা হতাহত কাউকে পাইনি। তবে বাচ্চার বিষয়টা শুনেছি, আমরা খুঁজচ্ছি।’

আমিন কলোনি মসজিদ এলাকার একটি কাঁচা ঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা ফায়ার সার্ভিসের। উপপরিচালক মো. আব্দুল হালিম বলেন, ‘এখানে একটা পাটের গুদাম আছে ছোট, ওটার পাশের একটি কাঁচা ঘরে একটি পরিবার থাকে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই পরিবারের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত। আগুনে এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক স্থাপনা পুড়ে গেছে।

চোখের পানি ছাড়া আর কিছুই নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: দোকানে ৮০-৯০ লাখ টাকার কাপড় ছিল। এগুলোর কিছুই সরাতে পারিনি। এখন রাস্তায় ভিখারির মতো হাতও পাততে পারি না। কে আমাকে সাহায্য সহযোগিতা করবে? এখন আমাদের চোখের পানি ছাড়া আর কিছুই নেই। 

কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব হয়ে পড়া থান কাপড়ের ব্যবসায়ী তারেক ক্লথ স্টোরের মালিক মো. আব্দুস সালাম ভূইয়া।

তিনি বলেন, ‘কেউ হয়ত সাহায্য করবে সেই আশায় এখনো মার্কেটের সামনে সবসময় চেয়ে থাকি। অপেক্ষায় আছি কখন আবার এখানে বসে বেঁচে থাকার জন্য কোনো ব্যবস্থা করতে পারব। কিন্তু এখন পর্যন্ত ১০টি টাকাও মালিকপক্ষ কিংবা কারো কাছ থেকে অনুদান পাইনি। এই দুরাবস্থার মধ্যে আমরা দিন পার করছি। এখন যে যেভাবে বলছে, সেভাবেই তাদের ডাকে সাড়া দিচ্ছি। আমরা ঢাকায় পরিবার নিয়ে বাসায় ভাড়া থাকি। এখন সেই বাসাভাড়া দেওয়া সম্ভব হবে না। আমাদের বাসা ছেড়ে দিতে হবে। কারণ, আমরা বাসা ভাড়া কোথায় থেকে দেব? এই দোকান থেকে আমি ১০টি টাকাও নিয়েও বের হতে পারিনি।’

মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে আব্দুস সালাম ভূইয়া বলেন, ‘আমার কাছে একটি টাকাও নেই যে, ১০ টাকার জিনিস আমি কিনে সংসার চালাব। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় পানি খেয়ে বের হয়ে এসেছি। আল্লাহ যে কখন আমার রিজিক রেখেছেন, সেটি একমাত্র তিনিই জানেন।’

খোকন স্টোরের মালিকের ভাই মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, ‘পুড়ে যাওয়া অংশ দেখিয়ে জনগণ বলছে এগুলো ময়লা। কিন্তু আমি বলছি এগুলো ময়লা নয়, এগুলো সবই হচ্ছে টাকা। এই ব্যবসা নিয়ে জীবন বাঁচানোর যে আশা-ভরসা ছিল... সে আশা তো এখন শেষ। এখন যে একটা মানুষ উঠে দাঁড়াবে সেই ক্ষমতাও কারো নেই। সিটি কর্পোরেশন যদি এই ময়লাগুলো নিয়ে আমাদের ব্যবসা করার একটু সুযোগ-সুবিধা দিতো, তাহলে হয়ত আমরা ধার বা ব্যাংক লোন করে আবার ব্যবসা-বাণিজ্য করার চেষ্টা করতে পারব। তাছাড়া আর কিছু করার নেই।’

তিনি বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন প্রথম দুইদিন সামনের ময়লাগুলো নিয়ে গেছে। কিন্তু ভেতরের ময়লাগুলো তারা এখন আর নিচ্ছে না। তাদের তেমন কোনো কার্যক্রমও দেখছি না। এখনই মার্কেট আমাদেরকে দেবে না কি দেবে না, সেটিরও ভরসা পাচ্ছি না। এখন প্রধানমন্ত্রী যদি আমাদের দিকে তাকায়, তাহলে হয়ত আমরা কিছু করতে পারব। না হলে আর কিছু করার থাকবে না। বর্তমানে আমাদের এখানে এসে চোখের পানি ফেলা ছাড়া আর কিছু করার নেই।’


মার্কেটের খ-৪০ ও খ-৮৫ দোকানের মালিক ইয়াসিন বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন যদি টিনগুলো সরিয়ে দেয় তাহলে আমরা ব্যবসা শুরু করতে পারব। আমরা তো অলরেডি মরেই গেছি, আর কী মরব! কিন্তু ক্রেতাদের যেন কোনো ধরনের সমস্যা না হয় সেজন্য অন্তত জায়গাটা পরিষ্কার করে ময়লাগুলো নিয়ে যাক।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আসলে কিছুই বুঝতে পারছি না। এত বড় একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে, সিটি কর্পোরেশনের উচিত ছিল তারপরের দিনই ময়লাগুলো পরিষ্কার করে দেওয়া। আজকে ৩-৪ দিন হয়ে গেল ময়লা পরিষ্কারের কোনো ‘নাম-গন্ধও’ নেই। সিটি কর্পোরেশন থেকে বলা হয়েছিল, যার যার দোকানের ময়লা তারা যেন বের করে সামনে রাখে। আমরা তাদের কথামতো ময়লাগুলো বের করে সামনে রেখেছি। কিন্তু এখন তারা তাদের কথা রাখছে না।’


মুদি দোকানের মালিক আব্দুল লফিত বলেন, ‘বর্তমানে যদি এই মার্কেটের ময়লা পরিষ্কার করে পুড়ে যাওয়া টিনগুলো সরিয়ে দিয়ে এবং এঙ্গেলগুলো যদি সোজা করে দেয়, তাহলে হয়ত আমরা আবার ব্যবসা শুরু করতে পারব। আমাদের আর তেমন কোনো সহযোগিতার দরকার নেই। আমরা নিজেরা দোকানদারি করতে পারব। এখন আমাদের একটাই দাবি এগুলো সরিয়ে দেওয়া হোক।’

তিনি বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশনকে জানানো হয়েছে। তারা বলেছে যে, আপনার কিছু ধরবেন না আমরা সব পরিষ্কার করে দেব। কিন্তু এই যে তিনদিন হয়ে গেল এখন পর্যন্ত তারা কোনো পরিষ্কারই করেনি। আমরা নিজেরা ময়লা পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু টাকা দিয়েও আমরা গাড়ির ব্যবস্থা করতে পারছি না। আমরা এই মুশকিলের মধ্যে আছি এখন।’



কৃষিমার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণে

নিয়ন্ত্রণে এসেছে রাজধানীর মোহাম্মাদপুরের কৃষিমার্কেটে লাগা আগুন। ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে পোড়ার পর অবশেষে নিয়ন্ত্রণে এসেছে রাজধানীর মোহাম্মাদপুরের কৃষিমার্কেটে লাগা আগুন।

সর্বশেষ তথ্যমতে বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মার্কেটটির চার ভাগের তিন ভাগ অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুন এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। এখন চলছে নির্বাপণের কাজ।

এ ঘটনায় বড় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ফায়ার সার্ভিসের এক ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ভোর ৩টা ৪৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পান তারা। ৩টা ৫২ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস এবং সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পুরোপুরি নির্বাপণে আরও কিছুক্ষণ সময় লাগবে বলেও জানানো হয়।

এ সময় বলা হয়, মার্কেটটির মুদি দোকানের অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে আগুন লাগে, তা তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।

বৃহস্পতিবার ভোরে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এখনো মার্কেটের বিভিন্ন দোকান থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। আগুনের খবর পেয়ে প্রথমে মোহাম্মদপুর, হাজারীবাগ, কল্যাণপুর ও হেডঅফিস থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। একে একে যোগ দেয় সংস্থাটির ১৭টি ইউনিট। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যোগ দেয় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থাও।

এদিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যেই মার্কেটের বিভিন্ন অংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

আগুনে নিভে গেল ঈশ্বরদীর ৫ পরিবারের স্বপ্ন !

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে আগুনে পুড়ে বসতঘরসহ ৫টি হতদরিদ্র পরিবারের আসবাবপত্র পুড়ে ভস্মিভূত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের দাবী, আগুনে কয়েক লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা সদরের অরণকোলা বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে ওই এলাকায় দিনমজুর রনি, জনি, সুজনসহ কয়েকটি পরিবার বসবাস করে। পেশায় তারা দিনমজুর। বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুনের সূত্রপাত হয়। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনে ৫টি বসতবাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে।

এসময় স্থানীয় লোকজনের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল গিয়ে প্রায় এক ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রিকশাচালক জনি হোসেন জানান, আমরা কয়েকজন হতদরিদ্র। এখানে কেউ রিকশা চালায়, কেউ ধানের খোলায় কাজ করে, অনেক কষ্ট করে পরিশ্রম করে জীবনযাপন করি। আগুনে ঘরের সব জিনিষপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মাথাগোঁজার ঠাঁইটুকু এখন আর আমাদের নেই! আমাদের খোলা আকাশের নিয়ে পরিবার নিয়ে থাকতে হবে।

ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের  হাবিলদার (লিডার) মকলেছুর রহমান জানান, বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সুত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থল পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক লাখ টাকার আসবাবপত্র ও মালামাল পুড়ে গেছে।

পৌরসভার ৬ নাম্বার ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাশেম বলেন, আমি শুনেছি, হতদরিদ্র ৫ পরিবারের বসতবাড়িসহ ঘরের আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমি ঈশ্বরদী পৌরসভার মাধ্যমে তাদের পরিবারে সহযোগীতার চেষ্টা করব। 

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন