রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে ২০ নভেম্বরের পর: রোসাটম

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আগামী ২০ নভেম্বর থেকে মাসের শেষ নাগাদ বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটম। একই সঙ্গে বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিধি বাড়ানো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।

আজ রোববার রোসাটমের গণমাধ্যম বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সম্প্রতি রাশিয়া সফরকালে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

লিখাচেভ জানান, রূপপুরে উৎপাদন শুরুর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে এ ধরনের বিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণের আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং এ নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ। রূপপুরের প্রথম ইউনিটে উৎপাদন শুরুর সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, ২০ নভেম্বর থেকে নভেম্বরের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং শুরু করেছিল রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ, যা কেন্দ্রটি চালুর ক্ষেত্রে একটি প্রধান মাইলফলক ছিল। এ ছাড়া আগামী বছর দ্বিতীয় ইউনিট চালুর কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, রোসাটমের অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির প্রতিও বাংলাদেশের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিজ্ঞানমন্ত্রী ছোট আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো সম্ভাব্য অন্যান্য প্রস্তাব সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে স্বাক্ষরিত আন্তঃসরকার চুক্তির আওতায় রোসাটম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। কেন্দ্রটিতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট করে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে।

রূপপুর: পারমাণবিক বিক্রিয়ার অনুমতি পাওয়া গেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরেক ধাপ অগ্রগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক বিক্রিয়ার অনুমতি পাওয়া গেছে। ফলে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় গ্রিডে এই কেন্দ্র থেকে যুক্ত হতে পারে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, পারমাণবিক বিকিরণের মাধ্যমে শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া সেপ্টেম্বরে শুরুর পরিকল্পনা ছিল। নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়লে এটি পিছিয়ে যায়। গত সপ্তাহে উচ্চ চাপে দুই দফায় পরীক্ষা করা হয়েছে। এরপর পরীক্ষার ফলাফল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার বায়েরা তা অনুমোদন দিয়েছে। অর্থাৎ এখন পরের ধাপের কার্যক্রম শুরু করা যাবে।

বায়েরা চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান বলেন, যথাযথ যাচাইয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিটি ধাপের অনুমতি দেওয়া হয়। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যাচাইয়ের পর আজ পরের ধাপের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এ ধাপের কাজ কাল শুক্রবার থেকে শুরু হবে। শেষ করতে বেশি সময় লাগার কথা নয়। দু-তিন দিনের মধ্যে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র জানায়, এর আগে গত সপ্তাহে নিরাপত্তা ভালভের দুটি পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হয়েছে। পরীক্ষার সময় নিয়ন্ত্রণ ভালভগুলো ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা যাচাই করা হয়েছে। নির্ধারিত নিয়ম মেনেই পরীক্ষাটি পরিচালনা করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর আগে অগ্নিনিরাপত্তা ও তেজস্ক্রিয়তা-সংক্রান্ত নিরাপত্তাব্যবস্থাও যাচাই করা হয়েছে। এ মাসের শেষে চুল্লিপাত্রের ভেতরে তাপশক্তি উৎপাদনপ্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোক বলেন, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালু করতে এ ধরনের পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। চুল্লির ভেতরের মূল ব্যবস্থায় চাপ নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ভালভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে তা কমিয়ে নিরাপদ অবস্থায় রাখতে এটি কাজ করে। প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করেই পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, এখন রূপপুরের সামনে বড় মাইলফলক হলো ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর কিছুদিন পর এ পর্যায়ে পৌঁছাবে রূপপুর। এ সময় আরও কিছু পরীক্ষা–নিরীক্ষা করা হবে। এ পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে চুল্লিপাত্রের ভেতর শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা বাড়ানো হবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলছেন, পারমাণবিক জ্বালানির বিভাজন বিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে তাপশক্তি উৎপাদন। এ তাপ দিয়েই বাষ্প তৈরি করে ঘোরানো হবে টারবাইন, উৎপাদিত হবে বিদ্যুৎ।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ জোর দিয়েই প্রতিটি ধাপ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চুল্লিপাত্রে শক্তি উৎপাদন শুরুর পর উৎপাদনক্ষমতা ৩ থেকে ধাপে ধাপে বেড়ে ৩০ শতাংশে উন্নীত হলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এরপর ৩০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এটি ডিসেম্বরে হতে পারে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, শুরুর পর টানা সাত-আট মাস চলতে পারে পরীক্ষামূলক উৎপাদন। তবে গ্রিডে বিদ্যুৎ গেলেই পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হবে বাংলাদেশ। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকল্প এলাকায় পারমাণবিক জ্বালানি আসার পরই পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি পায় রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র। জ্বালানি বুঝে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পারমাণবিক শক্তির অধিকারী দেশের তালিকায় নাম ওঠায় বাংলাদেশের।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৪ ঘণ্টা সমান হারে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। প্রতি দেড় বছর পর নতুন জ্বালানি দিতে হবে। জ্বালানি বর্জ্য বের করা, নতুন জ্বালানি ঢোকানো ও রক্ষণাবেক্ষণ মিলে একটি ইউনিট সর্বোচ্চ দুই মাস বন্ধ থাকতে পারে। রূপপুরের একটি ইউনিট চালু হলে বছরে ১০০ কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি সাশ্রয় হতো। কিন্তু প্রক্রিয়াটি সাড়ে তিন বছর পিছিয়ে গেছে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল রূপপুর প্রকল্পের মেয়াদ। দুই দফায় বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে মেয়াদ বাড়লেও প্রকল্পের খরচ বাড়ানোর সুযোগ নেই। কিন্তু ডলারের দাম বাড়ায় ২৬ হাজার কোটি টাকা খরচ বেড়েছে প্রকল্পের। ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা খরচ হবে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে। এই কেন্দ্রে দুটি ইউনিট। প্রতিটি থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

আকাশসীমার বাধা পেরিয়ে রূপপুর প্রকল্পের ইউরেনিয়াম আসছে আজ

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের জটিলতা কাটিয়ে রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউরেনিয়াম আজ শুক্রবার দেশে আসছে। বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে করে ইউরেনিয়াম দুপুরের মধ্যে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। শনিবার কঠোর নিরাপত্তায় তা রূপপুরে নেওয়া হবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার ইউরেনিয়াম আসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে উড়োজাহাজের ফ্লাইট বাতিল করা হয়। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি এবং প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পুনঃভরণের জন্য দুটি—মোট নয়টি চালানে ইউরেনিয়াম দেশে আনা হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো সরবরাহ শেষ করার কথা রয়েছে। সব ঠিক থাকলে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের একমাত্র পারমাণবিক কেন্দ্রটি থেকে প্রাথমিকভাবে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহিদুল হাসান বুধবার রাতে জানান, আগের রাত থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষাটি প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ—উভয় স্থান থেকেই পরিচালনা করা হয়। পরীক্ষার সময় নিয়ন্ত্রণ ভালভগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। এগুলোর কার্যক্রম সন্তোষজনক পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রধান নিরাপত্তা ভালভের কার্যক্রম ও প্রতিক্রিয়াও পরীক্ষা করা হয়।

এ সময় ভালভের প্রতিক্রিয়া, খোলা ও বন্ধ হওয়ার কার্যক্রম, সতর্কসংকেত এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরীক্ষা শুরুর আগে ও চলাকালে যোগাযোগব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা ও বিকিরণ নিরাপত্তাসহ সংশ্লিষ্ট সব নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করা হয়। পরবর্তী ধাপে প্রায় ১৮ মেগাপাসকেল চাপে আরও একটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কমিশনিং দল ধাপে ধাপে এগিয়ে প্রতিটি পর্যায় সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা ভালভের ত্রুটির কারণে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময় পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে ত্রুটি মেরামত বা বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর নির্দিষ্ট সময়সীমা তখন জানানো হয়নি।

রূপপুরের প্রথম ইউনিটের ত্রুটি সারিয়ে নিরাপত্তা ভাল্বের পরীক্ষা সফল



নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমে বড় অগ্রগতি হয়েছে। দীর্ঘদিনের আলোচিত সেফটি ভালভের সমস্যা সমাধানের পর ১৬ মেগাপাসকেল উচ্চচাপে প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভের (পিআরওভি) পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই পরীক্ষার সফলতা প্রথম ইউনিটের কমিশনিং প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। গতকাল বুধবার সকালে এই কাজ সম্পন্ন হয় বলে জানিয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহিদুল হাসান পিআরওভি ভালভের সমস্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই পরীক্ষা গতকাল বুধবার রাত পর্যন্ত চলে। প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ—উভয় স্থান থেকেই পরীক্ষাটি পরিচালনা করা হয়। পরীক্ষায় কন্ট্রোল ভালভগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মেইন সেফটি ভালভের কার্যক্রম ও প্রতিক্রিয়াও যাচাই করা হয়। এ সময় ভালভের প্রতিক্রিয়া, খোলা ও বন্ধ হওয়ার কার্যক্রম, অ্যালার্ম এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত পরামিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।

অনুমোদিত পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা শর্ত কঠোরভাবে অনুসরণ করে পরীক্ষাটি পরিচালনা করা হয়। পরীক্ষা শুরুর আগে ও চলাকালে যোগাযোগব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং বিকিরণ নিরাপত্তাসহ সংশ্লিষ্ট সব নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করা হয়।

ড. জাহিদুল হাসান বলেন, পিআরওভি পরীক্ষার সফল সমাপ্তিকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ, রিঅ্যাক্টরের প্রাইমারি সিস্টেমে নিরাপদ চাপ বজায় রাখার সঙ্গে এই ব্যবস্থাটি সরাসরি সম্পৃক্ত।

তিনি আরও বলেন, কমিশনিং কার্যক্রমের পুরো প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পরীক্ষা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, অনুমোদন, ব্রিফিং এবং নিরাপত্তা শর্ত নিশ্চিত হওয়ার পরই পরিচালনা করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়সূচি ঠিক রাখতে গিয়ে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না।

পরবর্তী ধাপে প্রায় ১৮ মেগাপাসকেল চাপে আরেকটি পরীক্ষা খুব শিগগিরই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কমিশনিং দল ধাপে ধাপে এগোচ্ছে এবং প্রতিটি পর্যায় সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করার পর পরবর্তী ধাপে যাওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। এর আগে সেফটি ভালভের ত্রুটির কারণে রূপপুরের বিদ্যুৎ উৎপাদন অনিশ্চয়তায় পড়েছিল।

রাশিয়ার পরমাণু প্রকৌশল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেএসসি এএসই বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালুর লক্ষ্যে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে একটি পাইলট-অপারেটেড রিলিফ ভালভ প্রথম ইউনিটে স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, সেফটি ভালভে ত্রুটির কারণে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময় পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে কবে ত্রুটি মেরামত হবে বা বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে পারেননি তিনি।

দেশে চলমান বৈদ্যুতিক পরিস্থিতিতে রূপপুরের ভালভের বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে জনসাধারণের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য রাশিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে গত ২২ সেপ্টেম্বর রাশিয়া থেকে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল রূপপুরে আসে। তাঁদের এবং দেশীয় বিশেষজ্ঞদের নিরলস প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত ভালভের সমস্যার সমাধান হয়েছে বলে জানান জাহিদুল হাসান।

এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান আজ বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকারী রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান ‘রোসাটম’ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ চলতি বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। চুক্তি ও প্রকল্পের সময়সূচি অনুযায়ী, একাধিক ফ্লাইটের মাধ্যমে এই জ্বালানি পরিবহন করা হবে।

এনপিসিবিএলের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, সাধারণত জ্বালানিবাহী ফ্লাইট বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশে আসে এবং পরদিন শুক্রবার সকালে বিশেষ নিরাপত্তায় তা প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। সে হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার প্রথম চালান ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে আগামীকাল শুক্রবার সড়কপথে ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য তা পৌঁছানোর কথা রয়েছে। 

রূপপুরের বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহে আইএইএর সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আইএইএর সদর দপ্তরে সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসির সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ সহযোগিতা চাওয়া হয়। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। বৈঠকে পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্প্রসারণ, পারমাণবিক নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখায় আইএইএ মহাপরিচালককে ধন্যবাদ জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ ও আইএইএর পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক উল্লেখ করে বিজ্ঞানমন্ত্রী বলেন, ইউনিট-১-এ ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। এতে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

মাহবুব আনাম বলেন, পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পারমাণবিক বর্জ্য ও স্পেন্ট ফুয়েল ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত যৌথ কনভেনশনে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল পারমাণবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

বৈঠকে ‘রেজ অব হোপ: ক্যানসার কেয়ার ফর অল’ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আইএইএ মহাপরিচালক ও আইএইএ সচিবালয়ের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০২৫ সালে ‘রেজ অব হোপ’ উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে এবং এই অংশীদারিত্বকে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর কর্মসূচিতে রূপ দিতে আইএইএর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। এর অন্যতম অগ্রাধিকার হলো একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ ক্যানসার কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে সহজলভ্য, সমন্বিত ও রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্ঞান বিনিময় এবং টেকসই ক্যানসার চিকিৎসাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে আইএইএর কারিগরি সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে লিফটে দুর্ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজের সময় লিফট থেকে নিচে পড়ে উজ্জ্বল খন্দকার (৪০) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে প্রকল্প এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত উজ্জ্বল খন্দকার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ট্রাফিক মোড় এলাকার আব্দুস সবুর খন্দকারের ছেলে। তিনি রূপপুর প্রকল্পে নিকিমথ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে এমটিইউ-২ অংশে কাজ করতেন।

পুলিশ ও প্রকল্প কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে উক্ত প্রতিষ্ঠানের ওওইউকেএস ভবনে একটি ম্যান লিফটে কাজ করছিলেন উজ্জ্বল। একপর্যায়ে প্রায় ২০ ফুট ওপর থেকে তিনি নিচে পড়ে যান। এতে তাঁর হাত-পা ভেঙে যায় এবং ঘাড়ে গুরুতর আঘাত পান।

সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে দুর্ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রূপপুরে রাশিয়ার জাতীয় পতাকা দিবস পালন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসিক এলাকা ‘গ্রিন সিটি’তে রাশিয়ার জাতীয় পতাকা দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার সকালে গ্রিন সিটিতে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এতে বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে কর্মরত রুশ নাগরিক, প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা অংশ নেন। এ সময় দেশটির জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের পাশাপাশি দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়া ও বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে কাজ করছেন। গ্রিন সিটিতে বিপুলসংখ্যক রুশ নাগরিক বসবাস করায় নিয়মিতই সেখানে দেশটির নানা জাতীয় ও সাংস্কৃতিক দিবস পালন করা হয়।

প্রতিবছর ২২ আগস্ট রাশিয়ার জাতীয় পতাকা দিবস পালিত হয়। সাদা, নীল ও লাল রঙের ত্রিবর্ণের পতাকাটি দেশটির অন্যতম প্রধান রাষ্ট্রীয় প্রতীক। ১৯৯৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে দিনটিকে জাতীয় পতাকা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প: প্রথম ইউনিটের রিয়্যাক্টর কনটেইনমেন্টের পরীক্ষা সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টর কম্পার্টমেন্টাল কন্টেইনমেন্টের অভেদ্যতা ও দৃঢ়তা পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষায় প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী কন্টেইনমেন্টের সর্বোচ্চ নিরাপত্তামান নিশ্চিত হয়েছে। পরবর্তী পরীক্ষায় অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ হলে জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে রাশিয়ার পরমাণু সংস্থা রোসাটম একটি বেসরকারি বার্তা সংস্থার মাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছে রোসাটম।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কন্টেইনমেন্ট মূলত একটি অতি সুদৃঢ় কাঠামো, যা নির্মাণে ব্যবহৃত হয় প্রিস্ট্রেসড রিইনফোর্সড কংক্রিট। ভেতরের দেয়ালে একটি শক্ত ইস্পাতের আবরণ থাকে। এটির নকশা এমনভাবে করা হয়, যাতে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে তেজস্ক্রিয় পদার্থ রিঅ্যাক্টর কম্পার্টমেন্টের বাইরে বের হতে না পারে। সব তেজস্ক্রিয় পদার্থ কন্টেইনমেন্টের ভেতরে আবদ্ধ ও সুরক্ষিত অবস্থায় থাকতে পারে। এই কন্টেইনমেন্ট বাহ্যিক বড় কোনো আঘাত ও বিপর্যয় রোধ করতে সক্ষম।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরীক্ষার সময় নকশা অনুযায়ী কন্টেইনমেন্টের অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ানো হয়। এ জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্প্রেসর ব্যবহৃত হয়। এ সময় অবকাঠামোটির দৃঢ়তা ও অভেদ্যতার পরীক্ষা করা হয়। অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কন্টেইনমেন্টের ভেতরে চাপ বাড়লে তা কতটুকু সহ্য করতে সক্ষম, সে জন্য পরীক্ষাটি করা হয়। পরমাণু জ্বালানি লোডিংয়ের আগে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। কারণ, কোনো বিপর্যয় ঘটলে কন্টেইনমেন্টই শেষ সুরক্ষা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে শিগগির কিছু ‘হট মিডিয়া টেস্ট’ চালানো হবে। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী কুল্যান্ট সার্কিটকে নির্ধারিত তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করা ও বাষ্প উৎপাদন করা হবে। এ ছাড়া অন্য নিরাপত্তা প্যারামিটারগুলো চূড়ান্তভাবে পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষার সময় বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ তৈরি হবে, যা সম্পূর্ণ পূর্বনির্ধারিত। এ নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। রোসাটম নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে দুটি ইউনিট নির্মাণাধীন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। দুটি ইউনিটের প্রতিটি ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহে সক্ষম। বর্তমানে প্রথম ইউনিটের কাজ প্রায় শেষের দিকে।

রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান

ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক: কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল বা ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান এসে পৌঁছেছে পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্পে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আজ শুক্রবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটের দিকে সড়কপথে ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে। 

রূপপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই কান্তি কুমার মোদক মোবাইল ফোনে  বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

তিনি জানান, কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আজ সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটের দিকে ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান রূপপুর প্রকল্পের ভেতরে প্রবেশ করে। এর আগে জেলার প্রবেশ সীমানা ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলিতে এসে পৌঁছায় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে। বৃহস্পতিবার বিশেষ বিমানে ঢাকায় এসে পৌঁছায় রূপপুরের জন্য আনা ইউরেনিয়ামগুলো। 

গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাশিয়া থেকে ঢাকায় আসার পরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান রূপপুরে আনা হয়েছিল। গত শুক্রবার আনা হয় ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান। 

ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালানের গাড়িবহর ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে নাটোরের বনপাড়া ও ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া মোড় হয়ে রূপপুর প্রকল্প এলাকার ভেতরে পৌঁছালে প্রকল্পের কর্মীরা স্বাগত জানান।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর জানান, প্রথম চালানের মতোই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়ে আনা হয়েছে। এসব জ্বালানি আমদানি, পরিবহন ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।

ইউরেনিয়াম হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হাসিনা-পুতিন

 ‍নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউরেনিয়াম হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। পাবনার রূপপুরে এ অনুষ্ঠানের অয়োজন করা হয়েছে।

এর আগে অনুষ্ঠানে প্রকল্পের পরিচিতি তুলে ধরেন পরমাণু বিজ্ঞানী ও প্রকল্প পরিচালক ড. মো. শৌকত আকবর। এরপর পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদন ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রথম ব্যাচের হস্তান্তর সম্পর্কিত ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

আনুষ্ঠানিক বক্তৃতা পর্বে শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আলী হোসেন। এরপর ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থেকে বক্তৃতা রাখবেন আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি কমিশনের মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রসি।

এছাড়া রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভও বক্তৃতা দেবেন।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউরেনিয়াম দেশে পৌঁছানোর পর ২৯ সেপ্টেম্বর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তা রূপপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট (১২০০ মেগাওয়াট) চালু করার জন্য ৭৫ টন ইউরেনিয়ামের প্রয়োজন হবে। একবার জ্বালানি দেওয়ার পর ১৮ মাস নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এরপর এক-তৃতীয়াংশ ইউরেনিয়াম অর্থাৎ ২৫ টন নিউক্লিয়ার বর্জ্য তুলে নিয়ে সেখানে নতুন ইউরেনিয়াম দিতে হবে। এরপর চলবে আরও ১৮ মাস। এভাবে ১৮ মাস পরপর আংশিক জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে।

রূপপুর কেন্দ্রের ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান ঢাকায়

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি তাজা ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ইউরেনিয়ামের এই চালান বৃহস্পতিবার  বিকেলে রাশিয়া থেকে একটি বিশেষ এয়ার কার্গোর মাধ্যমে ঢাকায় এসে পৌঁছায়।

পারমাণবিক জ্বালানি আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. এম শওকত আকবর। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে পারমাণবিক জ্বালানির বিমান চালানের বিস্তারিত জানাননি।

সূত্র জানায়, আগামী ৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে রূপপুর প্রকল্পে কর্তৃপক্ষের কাছে জ্বালানি হস্তান্তর করবেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কর্পোরেশনের মহাপরিচালক রোসাটম আলেক্সি লিখাচেভ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রাশিয়ার একটি কারখানা থেকে একটি বিশেষ বিমানে করে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পারমাণবিক জ্বালানি আনা হয়। এরপর সড়কপথে ঈশ্বরদীর রূপপুরে প্রকল্প স্থলে নিয়ে যাওয়া হবে। এই ইউরেনিয়াম পরিবহনে বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

রাশিয়ার নভোসিবির্স্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে (এনসিসিপি) এই জ্বালানি উৎপাদিত হয়, যা রোসাটমের জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তেভেলের সহায়ক প্রতিষ্ঠান।

রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোসাটম ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (আরএনপিপি) নির্মাণে নিয়োজিত রয়েছে।

শওকত আকবর বলেন, “সরকার আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে আরএনপিপির প্রথম ইউনিট এবং ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে দ্বিতীয় ইউনিট চালু করার আশা করছে।”

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন