মানববন্ধন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মানববন্ধন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে আয়েশা হত্যার দ্রুত বিচার চেয়ে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন

 

নিজস্ব প্রতিবেদন: খেড়ের দাইড় এলাকায় আলোচিত আয়েশা বেগম হত্যার মূল আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার এবং মামলাকে অন্য খাতে নেওয়ার চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করে স্থানীয় নারী ও পুরুষরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

বুধবার বিকালে উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের খেড়ের দাইড় এলাকায় নিহত আয়েশা বেগমের বাড়িতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ছেলে পিন্টু প্রামাণিক।

পিন্টু প্রামাণিক বলেন, 'আমরা গভীর দুঃখ ও শোকের মধ্যে জানাচ্ছি, স্থানীয় সুমন, বারিক, চাঁদু, ইয়াকুব ও জাব্বারুল গংরা আমাদের বাড়িতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আচমকা হামলা চালায়। আমার ভাই সালাম বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তার উপর আক্রমণ চালানো হয়। এ সময় মা এগিয়ে আসলে তার উপরও হামলা চালানো হয়, যার ফলশ্রুতিতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। আমরা শোকে কাতর যখন, ঠিক তখনই আসামিরা মামলাকে অন্য খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিও দেখানো হচ্ছে, যেখানে একজন মহিলার অন্ধকার ঘরে পড়ার দৃশ্য দেখানো হয়েছে; কিন্তু লাইট জ্বালানোর পর সে একাই উঠে যান। এটি সম্পূর্ণভাবে সাজানো, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘটনা।' 

তিনি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দাবি করেন, 'অভিলম্বে সকল আসামিকে গ্রেফতার করে দ্রুত সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হোক।' 

সংবাদ সম্মেলনের পর আয়েশা হত্যার মূল আসামিদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে এলাকার শত শত নারী ও পুরুষ বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল শেষে মানববন্ধন আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নিহতের ছেলে পিন্টু প্রামাণিক, সালাম প্রামাণিক, হেলাল প্রামাণিক, পুত্রবধূ বেদেনা, মমতাজ বেগম ও নাসিমা বেগম।

ঈশ্বরদীতে শিশু বলাৎকারকারীর গ্রেপ্তারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে  ৮ বছর বয়সী স্কুলছাত্রকে বলাৎকারের প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত অটোরিকশা চালককে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

রোববার বিকেলে উপজেলার বড়ইচারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক তারানা আফরোজ, সানজিদা খাতুন, আব্দুর রকিব, নাহার আক্তার ও জসিম উদ্দিন। স্থানীয়দের মধ্যে ছিলেন মনজুর, আলম ফকির, মিনারুল বিশ্বাস, শাহিন হোসেন, খাইরুল ইসলাম, শহিদুল ফকির, রেজাউল সরদার, রেহানা খাতুন, নিঝুম বেগম, আব্দুল কুদ্দুস, আলম ফকির এবং ভুক্তভোগীর মা।

উল্লেখ্য গত ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের বড়ইচরা স্কুলপাড়া গ্রামে নির্জন একটি লিচু বাগানে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে একই গ্রামের অটোরিকশা চালক আব্দুর রহিম (৬০) বলাৎকার করেন। এ ঘটনায় ছাত্রের বাবা বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় লিখিত এজাহার জমা দেয়ার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন।

বড়ইচারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসরিন সুলতানা বলেন, সমাজে এ ধরনের হীনমনের মানুষ অনেক রয়েছে। এদের দ্বারা সমাজে ঘৃণিত কাজ হয়ে থাকে। এ ধরনের ঘটনার পর থেকে শিশুরা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে। কারও সঙ্গে খুব একটা কথা বলেনা, বাড়ির বাইরে খেলতেও যায় না। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়। অভিযুক্ত আব্দুর রহিমকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

ঈশ্বরদী থানার ওসি আ স ম আব্দুর নূর জানান, অভিযোগ পেয়ে তদন্তের জন্য একজন পুলিশ অফিসারকে নিযুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পরপরই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আব্দুর রহিম পলাতক আছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।

ঈশ্বরদীতে পদ্মার চরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা উচ্ছেদ ও ইউএনও'র অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়ন সংলগ্ন 'কুষ্টিয়া ও লালপুর অংশের পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে সন্ত্রাসীদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ, নদীপাড়ের মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অপসারণ' দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাঁড়া ঘাট ক্যানেলপাড়া ৫ নম্বর ঘাটে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্য রাখেন সাঁড়া ৫নং ঘাটের ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম রাজু, ফরহাদ হোসেন, স্থানীয় বাসিন্দা বিনোদ মণ্ডল, অপূর্ব কুমার, জামাল প্রমাণিক, সুকুমার হালদার, আসলাম হোসেন, সাগর মোল্লা, গুলিবিদ্ধ যুবকের স্বজন রিজিয়া খাতুন, ফাহিমা খাতুন, রিনা বেগম ও মুরসিদা বেগম।

গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, সাঁড়া ইউনিয়নসহ লালপুর ও কুষ্টিয়ার চরাঞ্চলে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। তারা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বিষয়টি জানলেও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে অস্ত্র মহড়া দিচ্ছেন এবং গুলি চালিয়ে নদীপাড়ের মানুষদের আতঙ্কিত করছেন। গত ৬ অক্টোবরও বালুমহলে টোল আদায়ের ঘটনায় তারা গুলি চালায়, এতে দুই যুবক গুলিবিদ্ধ হন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, তিনি সদ্য যোগদান করেছেন। পদ্মা নদীতে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী আছে শুনেছেন। ইতিপূর্বে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। দুটি গ্রামবাসী চিকিৎসাধীন। নৌপুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন।

ঈশ্বরদী নৌ-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়েছে এবং পদ্মা নদীতে টহল অব্যাহত রয়েছে।

ঈশ্বরদীতে অধ্যক্ষের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে অধ্যক্ষ আসলাম হোসেনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রতিষ্ঠান চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি উপজেলা শহরের রেলগেট ট্রাফিক মোড় পর্যন্ত গিয়ে মানববন্ধনে রূপ নেয়। এ সময় তারা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান,  যৌন হয়রানি, আর্থিক অনিয়ম, অতিরিক্ত টাকা আদায়, স্বেচ্ছাচারিতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোসহ বিভিন্ন অভিযোগে গত বছর অধ্যক্ষ আসলাম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি তিনি পুনরায় দায়িত্বে ফেরার চেষ্টা করছেন এবং তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—এমন খবরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এরই প্রতিবাদে তারা আবারও আন্দোলনে নামে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শামন্তা রহমান ঐশ্বর্য। তিনি বলেন, ‘অধ্যক্ষ আসলাম হোসেনের আচরণ অত্যন্ত অনৈতিক ও অশোভন। তাঁর মতো একজন ব্যক্তি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের যোগ্য নন। আমরা চাই, তাঁকে দ্রুত স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হোক।’ 

আফরোজা জাহান বলেন, ‘তিনি আমাদের সঙ্গে এমনভাবে কথা বলেন, যেন আমরা মানুষই নই। একজন শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করতে পারেন, তাহলে তাঁর কাছে আমাদের ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব নয়।’

মাওয়া বলেন, ‘ক্লাসে পাঠদানের চেয়ে টাকার হিসাবই বেশি শোনাতেন তিনি। আমরা কেন অযথা ফরম ফিলআপ বাবদ অতিরিক্ত টাকা দেব? এসব অনিয়মের কারণেই আমরা তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি।’ 

সাবাহ ইসলাম বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ক্লাস করতে চাই। কিন্তু অধ্যক্ষকে পুনর্বহালের উদ্যোগের পর থেকে আমরা মানসিকভাবে প্রচণ্ড চাপে আছি।’

জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। এরপরই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির জরুরি সভায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে সিদ্ধান্ত বোর্ডে পাঠানো হয়। তখন কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন ইউএনও সুবীর কুমার দাশ।

বর্তমানে বিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্বে থাকা অস্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান কায়েস শাওন বলেন, ‘আমি সদ্য দায়িত্ব নিয়েছি। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তীতে মন্তব্য করব।’

এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সাময়িক বরখাস্ত অধ্যক্ষ আসলাম হোসেন বলেন, ‘অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয়- এমন কিছু করিনি। তদন্তে সত্য স্পষ্ট হয়েছে, বাকিটা কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করবে।’

ঈশ্বরদীতে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের প্রতিবাদে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও

নিজস্ব প্রতিবেদক:  নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) কর্তৃপক্ষ ঈশ্বরদীতে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও, বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শহরে এই কর্মসূচি পালন করেন ঈশ্বরদী শিল্প ও বণিক সমিতির সদস্যরা। এর আগে বাজারের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

পথসভায় বক্তারা বলেন, প্রিপেইড মিটার বসানো হলে সাধারণ মানুষ উপকারের বদলে হয়রানির শিকার হবেন। ইতিমধ্যে রাজশাহী ও রংপুরে গ্রাহকরা নানা বিড়ম্বনার মুখে পড়েছেন। তাঁরা দাবি করেন, এই মিটার ব্যবস্থায় আগাম টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে, চার্জ ও কমিশনের নামে গ্রাহকদের পকেট কাটা হচ্ছে।

বক্তারা আরও বলেন, বিদ্যুৎ একটি সরকারি সেবাখাত। অথচ এই খাতে গ্রাহকের কাছ থেকে আগেই অর্থ আদায় করা হচ্ছে, যা অযৌক্তিক ও অমানবিক। এ সময় বক্তারা ঈশ্বরদীতে প্রিপেইড মিটার বসানোর কার্যক্রম বন্ধের জোর দাবি জানান এবং ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি মো. নান্নু রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান পাতা, সমিতির সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন জনি, নির্বাহী সদস্য রবিউল আওয়াল সজীব প্রামাণিক, প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম আহমেদ ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাইদ লিটন প্রমুখ।

পথসভা শেষে আন্দোলনকারীরা মিছিলসহকারে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করেন। প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি শেষে নেসকো কার্যালয়ে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

ঈশ্বরদীতে প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলার চররূপপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পারভেজ রেজার অপসারণ ও তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে।

শনিবার সকালে বিদ্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রূপপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আমিরুল ইসলাম, স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মাসুদ রানা, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য নাঈমুর রহমান লালচাঁদ, প্রাক্তন শিক্ষার্থী শিবলু আহম্মেদসহ অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, পারভেজ রেজা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় জড়িত। ২০০৬ সালে তিনি বাঘইল স্কুলে কর্মরত থাকাকালে এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হন। পরে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে চাকরিতে ফিরে আসেন। ২০১১ সালে চররূপপুর স্কুলে যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, অফিস কক্ষে ধূমপান, শিক্ষার্থীদের দিয়ে টয়লেট পরিষ্কার করানো, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়ম ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের মতো একাধিক নির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

বক্তারা জানান, এসব অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তদন্তের নির্দেশ দিলেও প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এতে সুষ্ঠু তদন্ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

রূপপুর প্রকল্প বন্ধের ‘ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বন্ধের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ  হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের স্টেশন সড়কের ফকিরের বটতলায় ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে বিএনপিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং পেশাজীবীরা অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা রূপপুর প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর দাবি জানান।

সমাবেশে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, নানা কারণেই প্রকল্পের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রম বারবার পিছিয়ে গেছে। তবে চলতি মাসেই সঞ্চালন লাইন নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে এবং ডিসেম্বরে ‘স্টার্টআপ’ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে একটি মহল ‘দাবি আদায়ের’ নামে প্রকল্প এলাকায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে, যা প্রকল্পের জন্য উদ্বেগজনক। এতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি পুরো প্রকল্পের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, রাশিয়ার মূল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট ও এর কয়েকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে তারা নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন। কারণ, প্রকল্প এলাকার ভেতরে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে। রূপপুর প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার সরাসরি নজরদারিতে রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এ সময় বক্তারা প্রকল্পের সুরক্ষা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টদের আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান এবং যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি আজিজুর রহমান শাহীন, সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমেদ কিরণ, সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর, বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান টুটুল, শামসুজোহা পিপ্পু, রফিকুল ইসলাম রকি, ইমরুল কায়েস সুমন, আনোয়ার হোসেন জনি, আবু সাঈদ লিটন ও শামীম আরা সাথী।

মানববন্ধনের আগে চাঁদ আলী মোড় থেকে ফকিরের বটতলা পর্যন্ত কয়েকটি মিছিল বের হয়। এসব মিছিল থেকে রূপপুর প্রকল্পবিরোধী ‘ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদ জানিয়ে স্লোগান দেওয়া হয়।

সাত দফা দাবিতে ঈশ্বরদীতে কৃত্রিম প্রজনন সহকারীদের কর্মসূচি


নিজস্ব প্রতিবেদক: বেতনসহ সাত দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কৃত্রিম প্রজনন সহকারীরা।  বুধবার দুপুরে ঈশ্বরদী পৌর এলাকার হাসপাতাল সড়কে জেলা কৃত্রিম প্রজনন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন পাবনা জেলা শাখার সভাপতি নুরুল ইসলাম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম। কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ জেলা সভাপতি আলী আশরাফ, সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, চাটমোহর উপজেলার সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, সাঁথিয়া উপজেলার সভাপতি আলমগীর হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য মনসুর হোসেন, প্রচার সম্পাদক আলাউদ্দিন আলী আজাদ এবং অর্থ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবু।

বক্তারা বলেন, 'আমরা টানা ২০ মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না। পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে আমরা মাঠে কাজ করি, অথচ আমাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না। আমাদের পরিশ্রমেই দেশের মানুষ দুধ-মাংসের চাহিদা পূরণ করতে পারছে। প্রতিবছর আমরা প্রায় ৭০ কোটি টাকা সরকারের রাজস্বে যোগ করি।' 

তাঁরা আরও বলেন, 'আমাদের এই ন্যায্য দাবি না মানা হলে আগামী ১৬ এপ্রিল ঢাকায় গিয়ে কাপড় মাথায় বেঁধে একদফা দাবিতে আন্দোলনে যাব এবং কৃত্রিম প্রজননের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেব। পৃথিবীর কোনো দেশেই কাজ করেও দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ার মতো ঘটনা নেই। অথচ আমাদের সঙ্গে এমন বৈষম্য করা হচ্ছে।' 

মিরকামারী মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর মিরকামারী আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দাশুড়িয়া-কুষ্টিয়া মহাসড়কের কোলেরকান্দি এলাকায় মাদ্রাসার সামনে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল স্বৈরাচার সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাদ্রাসায় আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য ও জমি বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এসব অভিযোগের বিচার এবং তার অপসারণের দাবি জানিয়ে তারা মানববন্ধন করেছেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি মজিবর রহমান, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নজরুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক তৈয়ব আলী, মাহফুজুর রহমানসহ অনেকে।


ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুবীর কুমার দাশ বলেন, "অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিষয়টি দেখছেন।”

ঈশ্বরদীতে সাংবাদিক নাদিম হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: জামালপুরের বকশীগঞ্জে সন্ত্রাসীদের হামলায় সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পাবনার ঈশ্বরদীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার সকাল ১০ টায় ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের আয়োজনে উপজেলা সদর স্টেশন রোডে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ কিরণের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাতেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন- মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গোলাম মোস্তফা চান্না মন্ডল, সহ-সভাপতি খন্দকার মাহবুবুল হক দুদু, সহ-সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম বিশ্বাস, কোষাধ্যক্ষ শেখ মহসিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান বাবলু, নির্বাহী সদস্য স্বপন কুমার কুন্ডু, আ ত ম শহীদুজ্জামান নাসিম, এম এম রাজা, হাশেম আলী, সরকারি সাঁড়া মাড়োয়ারী মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শহিদুল হক শাহীন ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক মাসুদ রানাসহ উপজেলায় সকল সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক নাদিম হত্যার মাস্টার মাইন্ড ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু সাংবাদিক নাদিমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তা খারিজ করে দেন। মামলা খারিজের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু নিজে উপস্থিত থেকে নাদিমকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

বক্তারা বলেন, আজ দেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নাই। সঠিক সংবাদ পরিবেশন করেও নাদিমকে প্রাণ দিতে হয়েছে। বক্তারা নাদিম হত্যাকান্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলত শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, শুধু নাদিম হত্যার বিচার নয়, সাংবাদিক হুমায়ূন করিব বালু, শাসসুর রহমান, সাগর রুনি দম্পতি, সাংবাদিক মানিক সাহার হত্যাকারীদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একযুগ পেরিয়ে গেলেও সাংবাদিক সাগর-রুনি দম্পতির হত্যার বিচার হয়নি।

বক্তারা সকল সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচার দাবি করেন ও অবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল এবং সারাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন