নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরও এক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। প্রয়োজনীয় ফিজিক্যাল স্টার্টআপ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে ‘স্টেজ-সি’ বা পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েয়া)।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান।
এনপিসিবিএল সূত্রে জানা যায়, বায়েয়া চেয়ারম্যান এম মাহমুদুল হাসান অনুমোদনপত্রে সই করেছেন। এর ফলে রিঅ্যাক্টরের কার্যক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক সরবরাহের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। পাওয়ার স্টার্টআপের এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপে রিঅ্যাক্টর, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, রিঅ্যাক্টরের তাপীয় ক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হলেই জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন শুরু হতে পারে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, চলমান পরীক্ষা ও কমিশনিং কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। তবে পুরো বিষয়টি পরীক্ষার ফলাফল ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার নির্ধারিত কারিগরি শর্ত যথাযথভাবে পূরণের ওপর নির্ভর করছে। কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, পাওয়ার স্টার্টআপের অনুমতি পাওয়ার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু নয়; বরং পরীক্ষামূলক সরবরাহের পর প্রয়োজনীয় সব কারিগরি যাচাই শেষেই পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাওয়া হবে।
দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এই উন্নয়ন প্রকল্পে দুটি ইউনিট রয়েছে, যার প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়নে বর্তমান প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।












1.jpg)


