বিদ্যুৎ-জ্বালানি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিদ্যুৎ-জ্বালানি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের অস্থায়ী ভবনে আগুন: ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পাইওনিয়ার বেইজে একটি অস্থায়ী ভবনে গত সোমবার মধ্যরাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের স্থানটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনার বাইরে হওয়ায় এর প্রভাব পড়েনি প্রকল্পের মূল নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে।

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বায়েক) ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্পের ফোকাল পয়েন্ট সৈকত আহমেদ। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অগ্নিকাণ্ডে অস্থায়ী ভবনের দুটি কক্ষের অফিস আসবাবপত্র, নথিপত্র, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও যোগাযোগসংক্রান্ত কিছু সরঞ্জাম আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত নথিপত্রের প্রয়োজনীয় ব্যাকআপ কপি প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত থাকায় তথ্য সংরক্ষণ বা কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে প্রকল্পের নির্ধারিত অগ্নিনিরাপত্তা পদ্ধতি অনুসরণ করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতিমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তদন্ত শেষে কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। নির্ধারিত অগ্নিনিরাপত্তা পদ্ধতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় হিসেবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে ইতিমধ্যে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনাসমূহের বাইরে থাকা একটি অস্থায়ী ভবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত রয়েছে।

রূপপুর প্রকল্পে বায়েকের অফিসে গভীর রাতে আগুন, পুড়ে গেছে সার্ভার রুম ও সরঞ্জাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বায়েক) অফিসে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বায়েকের সার্ভার রুমসহ আশপাশের কয়েকটি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে পুড়ে গেছে কম্পিউটার, এসি, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ।

রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অগ্নিকাণ্ডের পর বায়েকের দুটি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ঘটনার প্রায় ৪০ ঘণ্টা পরও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনায় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

সূত্রমতে, বায়েকের সার্ভার রুমে আগুন লাগার পর মুহূর্তেই তা আশপাশের কয়েকটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রূপপুর গ্রিনসিটি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের ভেতরে আগুন লাগার খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। আগুনে বায়েকের বিভিন্ন কম্পিউটার, এসি, কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ইন্টারনেট সার্ভারের যন্ত্রাংশ পুড়ে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাদেকুল বারী বলেন, গভীর রাতে আগুনের খবর পেয়ে তিনি ও প্রকল্প পরিচালক তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে ছুটে যান। ঈশ্বরদীর চারটি ইউনিট আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে; তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ও অর্থনৈতিক সূচক গণনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মক্ষমতা, উৎপাদন কার্যকারিতা ও কারিগরি তথ্য বিশ্লেষণ আরও কার্যকর করতে কারিগরি ও অর্থনৈতিক সূচক গণনা ব্যবস্থা বিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সোমবার বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাশিয়ার রোসেনেরগোঅ্যাটমের বাংলাদেশ শাখার পরিচালক সিনিয়াকভ ভাদিম ভ্লাদিমিরোভিচ। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাছানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চিফ সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো. ইয়ামিন আলী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উৎপাদন ও কারিগরি বিভাগের (পিটিডি) প্রধান রাজু আহম্মেদ।

সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. জাহেদুল হাছান বলেন, আধুনিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মক্ষমতা ও উৎপাদন কার্যকারিতা বিভিন্ন কারিগরি ও অর্থনৈতিক সূচকের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। সিস্টেম ও অপারেশনাল প্যারামিটারের পরিবর্তন বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব ফেলে। সূচকগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে এসব প্রভাব তথ্যভিত্তিকভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটের কর্মক্ষমতা বিশ্লেষণে বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা অর্জন করবেন, যা ভবিষ্যতে প্রতিবেদন প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিনিয়াকভ ভাদিম ভ্লাদিমিরোভিচ প্রশিক্ষণার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি চিফ সুপারিন্টেন্ডেন্ট দিমিত্রি কজলভ, মো. গোলাম শাহিনুর ইসলাম, মো. ওয়াজিহুর রহমান, মো. মিজানুর রহমান, ডেপুটি ডিরেক্টর মুশফিকা আহমেদ, চিফ ইঞ্জিনিয়ার ইরতিয়াজ মাহমুদ এবং ব্যবস্থাপক মো. সোলায়মানসহ বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বক্তারা বলেন, এ প্রশিক্ষণ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মক্ষমতা পর্যবেক্ষণ ও তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি প্রকৌশলীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরে প্রধান অতিথি ও সভাপতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। 

সেফটি ভালভের ত্রুটি: রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময় পেছাচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সেফটি ভালভের ত্রুটির কারণে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময় পিছিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তবে এটি কবে মেরামত করা সম্ভব হবে এবং কবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেননি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা বলেন। সরকারের ১৮০ দিনের অর্জন জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, গত ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের আগে প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা শুরু হয়। এ পর্যায়ে চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য ছিল। বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা চালিয়ে বর্তমানে 'বি' স্টেজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে দুটি সেফটি ভালভের সমস্যার কারণে পরবর্তী 'সি' স্টেজে যাওয়া যাচ্ছে না।

সেফটি ভালভ মেরামত ও কমিশনিংয়ের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ দিতে না পেরে মন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছি না। ভালভ কেন কাজ করছে না, তা নির্ধারণ করতে রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ দল আসবে। তাদের পরীক্ষার পর সমস্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

তিনি জানান, ডিজাইনারের মূল্যায়ন অনুযায়ী ভালভ দুটি পুরোপুরি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দুটি বিকল্প ভাবা হচ্ছে—একটি হলো দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য বরাদ্দ থাকা ভালভ প্রথম ইউনিটে বসানো, অন্যটি রুশ ভেন্ডরকে দ্রুত নতুন ভালভ সরবরাহের অনুরোধ করা। এর মধ্যে দ্রুততম ও সময়োপযোগী বিকল্পটিই বেছে নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মোবাইল ডেটা প্যাকেজ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অব্যবহৃত ডেটা যাতে গ্রাহক ব্যবহার করতে পারেন, সে বিষয়ে অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। মেয়াদ শেষের পর আরও এক-দুই দিন তা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে কথা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং আইসিটি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা।

জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে রূপপুর: জিই ভার্নোভার সঙ্গে চুক্তি সই

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়েছে। কেন্দ্রটিকে জাতীয় লোড ডেসপাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের আওতায় আনতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জিই ভার্নোভার মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে।

গত বুধবার ঢাকায় পরমাণু শক্তি কমিশন কার্যালয়ে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। রূপপুর প্রকল্পের পক্ষে প্রকল্প পরিচালক ড. কবির হোসেন এবং জিই ভার্নোভার প্রতিনিধি দেবেশ ঝা চুক্তিতে সই করেন।

দেশের বিদ্যুৎ গ্রিডের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র হলো এনএলডিসি। এখান থেকেই উৎপাদন, সঞ্চালন এবং চাহিদার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এই চুক্তির ফলে রূপপুরের দুই ইউনিটের মোট আটটি সঞ্চালন লাইন এবং দুটি উপকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে এনএলডিসির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় যুক্ত হবে।

প্রকল্প পরিচালক ড. কবির হোসেন জানান, বিশ্বস্ততার সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের তথ্য প্রেরণে এই চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি মাইলফলক। এটি কেন্দ্রটির কমিশনিং ও ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখবে। উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মো. খালেকউজ্জামান বলেন, এনএলডিসির স্কাডা ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হওয়ায় তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হবে, যা গ্রিডের সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ সমন্বয় সহজ করবে।

এদিকে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি লোডিং গত ২৮ এপ্রিল শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। নিয়ম অনুযায়ী, শুরুর দিকে এই ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে এবং ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে।

উল্লেখ্য, রূপপুর প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। দুটি ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। জ্বালানি ঘাটতির এই সময়ে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে এই কেন্দ্র বড় ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র: ওয়াশিংটনে রোসাটমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দ্রুত জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জ্বালানি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতাসহ নানা বিষয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা রোসাটমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে  ২৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে রোসাটম এনার্জি প্রজেক্টস জয়েন্ট-স্টক কোম্পানির মহাপরিচালক আন্দ্রেই রোজদেস্তভিন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় রূপপুর প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, বাকি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও সমন্বয়মূলক পদক্ষেপের ওপর জোর দেওয়া হয়।

বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পের অবশিষ্ট কার্যক্রম দ্রুত ও সঠিকভাবে শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় রোসাটম প্রতিনিধি আন্দ্রেই রোজদেস্তভিন প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি মন্ত্রীকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার, প্রযুক্তিগত সহায়তা, দক্ষ জনবল তৈরি এবং জ্বালানি খাতের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রূপপুরে রাশিয়ার জাতীয় পতাকা দিবস পালন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসিক এলাকা ‘গ্রিন সিটি’তে রাশিয়ার জাতীয় পতাকা দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার সকালে গ্রিন সিটিতে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এতে বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে কর্মরত রুশ নাগরিক, প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা অংশ নেন। এ সময় দেশটির জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের পাশাপাশি দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়া ও বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে কাজ করছেন। গ্রিন সিটিতে বিপুলসংখ্যক রুশ নাগরিক বসবাস করায় নিয়মিতই সেখানে দেশটির নানা জাতীয় ও সাংস্কৃতিক দিবস পালন করা হয়।

প্রতিবছর ২২ আগস্ট রাশিয়ার জাতীয় পতাকা দিবস পালিত হয়। সাদা, নীল ও লাল রঙের ত্রিবর্ণের পতাকাটি দেশটির অন্যতম প্রধান রাষ্ট্রীয় প্রতীক। ১৯৯৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে দিনটিকে জাতীয় পতাকা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

ঈশ্বরদীতে বাড়ছে লোডশেডিং, ব্যাহত শিল্প-কারখানার উৎপাদন

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীতে দিন দিন বেড়েই চলেছে লোডশেডিং। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিল্প-কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের সংকট আরও তীব্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

গ্রামাঞ্চলে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রাতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। বিদ্যুৎ আসার ৪০ থেকে ৫০ মিনিটের মধ্যেই আবার চলে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ, কৃষক, শিক্ষার্থী ও রোগীরা। পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে অনেকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

এই সংকটের প্রভাব পড়েছে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন মিল-কারখানাতেও। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বিশেষ করে মাড়াই কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় শ্রমিকদের কাজেও এর প্রভাব পড়ছে। এতে খেটে খাওয়া মানুষের আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাস্থ্যসেবাতেও ভোগান্তি বাড়ছে। ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের জন্য জেনারেটরের ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। এতে অসুস্থ রোগীদের শারীরিক কষ্ট বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তাঁদের স্বজনেরা।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর দাশুড়িয়া জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী রথিন্দ্র নাথ বর্মণ জানান, লোডশেডিংয়ের প্রধান কারণ জ্বালানি সংকট। সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাঁদের এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২২ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ১২ মেগাওয়াট।

রসাটমের আন্তর্জাতিক যুব বোর্ডে বাংলাদেশের প্রমোদ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রসাটমের আন্তর্জাতিক যুব উপদেষ্টা পর্ষদ ‘ইমপ্যাক্ট টিম ২০৫০’-এর দ্বিতীয় বোর্ডে স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রমোদ চন্দ্র বৈদ্য। তিনি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) একজন প্রযুক্তি কর্মকর্তা।

রসাটমের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি সংস্থাটির মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রথম বোর্ডের সদস্যরা তাঁদের উত্তরসূরিদের পরিচয় করিয়ে দেন।

নতুন এই পর্ষদে বাংলাদেশসহ ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইথিওপিয়া, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, কিরগিজস্তান, রুয়ান্ডা, সার্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, তানজানিয়া ও উজবেকিস্তানের মোট ১৩ জন তরুণ পেশাজীবী সুযোগ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তরুণ গবেষক, পারমাণবিক খাতের পেশাদার ও যুব সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্বিতীয় বোর্ডটি গঠন করা হয়েছে। ৫৮টি দেশের ২০৭ জন প্রতিযোগীর মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে ১৩ জনকে বেছে নেওয়া হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রমোদ।

রসাটমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে বোর্ডের সদস্যরা আগামী কয়েক মাসের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তাঁরা বিভিন্ন দেশে যুব সংলাপের আয়োজন করবেন। পরিচ্ছন্ন, উদ্ভাবনী ও উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর খাত হিসেবে পারমাণবিক শিল্পের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তরুণরা কেন অন্য পেশা বেছে নিচ্ছেন, তা নিয়ে মতামতের পাশাপাশি গবেষণালব্ধ তথ্য সংগ্রহ করা হবে এসব সংলাপে।

এসব আলোচনার ফলাফল তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে (কপ-৩১) উপস্থাপন করা হবে। সেখানে সদস্যরা রসাটমের মহাপরিচালকের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে অংশ নেবেন। এ ছাড়া জলবায়ু সম্মেলনে আয়োজিত ‘পারমাণবিক দিবস’ উপলক্ষে যুব কর্মসূচি প্রণয়নে সহায়তা এবং তুরস্কের আকুয়ু পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ পরিদর্শন করবেন তাঁরা।

রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক যুব সংলাপের রূপরেখা তৈরিতে এই পর্ষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা তরুণদের কাছ থেকে সাহসী ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রত্যাশা করি। বিশ্বব্যাপী আমাদের বিশেষজ্ঞ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এসব উদ্যোগে সর্বাত্মক সহায়তা দিতে আমরা প্রস্তুত।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর অপেক্ষা, বদলাবে বিদ্যুতের চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরোপুরি চালু হলে তা দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ১৫ শতাংশ সরবরাহ করবে। ২০২৮ সালের মধ্যে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটই বা চুল্লি পুরোপুরি উৎপাদনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর দেশের নির্ভরতা অনেকটাই কমবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ চলছে। তবে করোনাভাইরাস মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে কাজের গতি ব্যাহত হওয়ায় প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে গেছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাসান জানান, প্রথম ইউনিটটি ২০২৭ সালের শুরুতে এবং দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২৮ সালের শুরুতে পুরোপুরি বিদ্যুৎ উৎপাদনে আসবে।

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এই প্রকল্পের মূল ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২৬৫ কোটি মার্কিন ডলার। তবে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় স্থানীয় মুদ্রায় প্রকল্পের খরচ প্রায় ২৫ শতাংশ বা এক-চতুর্থাংশ বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হলে এই বাড়তি ব্যয় এড়ানো যেত এবং জ্বালানি আমদানির খরচও দ্রুত কমিয়ে আনা সম্ভব হতো।

অবশ্য প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি, দীর্ঘ মেয়াদে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও উৎপাদন ব্যয়ের দিক থেকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের জন্য শেষ পর্যন্ত লাভজনকই হবে।

সরকার এখন ভবিষ্যতের জন্য বড় কেন্দ্রের চেয়ে ছোট আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, ৩০০ থেকে ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার ছোট কেন্দ্র (স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর) নির্মাণের বিষয়ে বিভিন্ন দেশের নির্মাতাদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা চলছে। এ ধরনের কেন্দ্র নদীর তীরে দ্রুত নির্মাণ করা সম্ভব। তবে বড় আকারের নতুন কোনো পারমাণবিক কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই বলেও তিনি জানান।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হলে আগামী পাঁচ থেকে সাত বছর দেশে বড় কোনো নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রয়োজন হবে না। এই সময়ে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থা আধুনিক করার একটি বড় সুযোগ তৈরি হবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সফল ও নিরাপদভাবে পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল তৈরি, শক্তিশালী ও স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা (নিউক্লিয়ার রেগুলেটরি অথরিটি), জনসমর্থন এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক বর্জ্য নিরাপদে ব্যবস্থাপনার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত করতে হবে।

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী নির্মাণাধীন অধিকাংশ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রই রাশিয়া ও চীনের প্রযুক্তিতে তৈরি হচ্ছে। একই সময়ে প্রতিবেশী ভারত পারমাণবিক বিদ্যুতের উৎপাদন বড় পরিসরে বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে এবং পাকিস্তানও চীনের সহায়তায় একাধিক কেন্দ্র চালু করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রূপপুর প্রকল্প শুধু দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতিই মেটাবে না, বরং শিল্পায়ন ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে গোলটেবিল আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ঘিরে ‘উচ্চপর্যায়ের পারমাণবিক শক্তি কৌশল, বাস্তবতা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা’ শিরোনামে একটি গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দুই দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার  দুপুরে ঈশ্বরদীর স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্টের সভাকক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

গোলটেবিল আলোচনায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজের অগ্রগতি, পারমাণবিক প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার, দক্ষ জনবল তৈরি, নিয়ন্ত্রণকারী কাঠামো শক্তিশালী করা, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং জাতীয় উন্নয়নে পারমাণবিক প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, দেশের বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ এবং টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, খাদ্য নিরাপত্তা, পানি ব্যবস্থাপনা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব মণ্ডল, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং অ্যাম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ রাসেল।

এ ছাড়া বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম. মঈনুল ইসলাম এবং প্রধান সমন্বয়ক (এনএসপিসি) ব্রিগেডিয়ার রোবায়েত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন বা উপস্থাপনা করেন।

এই গোলটেবিল আলোচনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রতিনিধি, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা, শিক্ষাবিদ, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে আজ শনিবার সকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। এ সময় তাঁরা প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ ও অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

ঈশ্বরদীতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো রাশিয়া দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাশিয়ার মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরদীতে পালিত হয়েছে রাশিয়া দিবস। শুক্রবার বিকেলে গ্রীন সিটিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন  রোসাটমের প্রকৌশল শাখা।

আয়োজকেরা জানান, ১৯৯২ সাল থেকে প্রতি বছর ১২ জুন রাশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাশিয়া দিবস উদযাপিত হয়ে আসছে। আধুনিক রুশ ফেডারেশন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের স্মরণে দিনটি পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের রুশ প্রকল্প পরিচালক আলেক্সি দেইরি। তিনি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশি জনগণের সঙ্গে আমাদের গৌরবময় জাতীয় দিবস উদযাপন করতে পেরে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত।’

অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল রাশিয়ার ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক দল ‘সং অ্যান্ড ডান্স অ্যানসাম্বেল’-এর পরিবেশনা। ঘণ্টাব্যাপী গান ও নৃত্যের মাধ্যমে দলটি রুশ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং মানুষের আবেগ-অনুভূতির নানা দিক তুলে ধরে। তাদের এই পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

সাংস্কৃতিক আয়োজনে ‘কালিনকা’, ‘নাদ ভোদোই’, ‘কাতিউশা’, ‘গোরি, গোরি ইয়াসনো’, ‘কাদরিল’ এবং ‘রাশিয়া উইল রিমেইন রাশিয়া’সহ জনপ্রিয় রুশ গান ও নৃত্য পরিবেশিত হয়। এসব পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে রোসাটমের প্রকৌশল শাখার বিভিন্ন অংশীজন ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন। এতে এতমস্ত্রয়এক্সপোর্টের হেড অব কমিউনিকেশনস নিনা দেমেন্তসোভাসহ রুশ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা অতিথিদের স্বাগত জানান এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এ ছাড়া রাশিয়া দিবস উপলক্ষে ম্যাজিক শো, বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনে বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কের বিভিন্ন স্মরণীয় মুহূর্তও তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে বিশেষ অবদানের জন্য কয়েকজন কর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

আগস্টেই রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: বিজ্ঞানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের আগস্টের শেষদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে এক হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করার আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

এ ছাড়া, দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি (ফুয়েল) লোডিং ২০২৭ সালের এপ্রিলে সম্পন্ন হবে বলে জানান মন্ত্রী। শুক্রবার বিকেলে ঈশ্বরদীতে এক উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি যতই সমৃদ্ধ হচ্ছে, শিল্পকারখানা সচল রাখতে ও জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও টেকসই জ্বালানির চাহিদাও তত দ্রুত বাড়ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে জাতীয় গ্রিডে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট কম-কার্বন বা পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে।’

এর আগে, কারিগরি অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিউক্লিয়ার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট সেকশনের টেকনিক্যাল লিড মেহমেত চেইহানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আজ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন শুরু করেন। এই প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন সংস্থাটির সিনিয়র নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ার এরিক জঁ বার্নার্ড ম্যাথেট। আইএইএ পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করা।

ফকির মাহবুব আনাম আরও বলেন, ‘সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিট থেকেও আরও এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করতে পারব আমরা। এর ফলে ২০২৭ সালের শেষ বা ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে রূপপুরের দুটি ইউনিট থেকে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করা সম্ভব হবে।’

২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে ফুয়েল বা পারমাণবিক জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে তার কার্যক্রম বা অপারেশনাল ধাপে প্রবেশ করে। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে চুল্লির কোরে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি সফলভাবে লোডিং করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব প্রসেসিং সিস্টেমের নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ অপারেশন নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

টেস্টিং ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রথম ইউনিটটি এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চেইন রিয়্যাকশন (শৃঙ্খল বিক্রিয়া) শুরু করার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক:  দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে নতুন একটি মাইলফলক যুক্ত হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ ‘স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা’ সরবরাহ ও স্থাপনের কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে।

শুক্রবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি ভরার (লোডিং) মাধ্যমে প্রকল্পটি চালুর প্রাথমিক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। আধুনিক এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনের ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নিরাপদ ও দক্ষ পরিচালনার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হলো।

রোসাটমের অটোমেশন ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ‘রোসাটম অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস’ এই প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে। প্রথম ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ও বিকিরণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাসহ মোট ২২টি উপ-ব্যবস্থা (সাব-সিস্টেম) স্থাপন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

রোসাটম জানায়, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কেন্দ্রটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু ও নিয়মিত পরিচালনার সময় যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা, বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া, বিকিরণ পর্যবেক্ষণ এবং অন্যান্য কারিগরি কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে তদারকি করা হবে।

অটোমেটেড প্রসেস কন্ট্রোল সিস্টেম বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গ্লেব মুরাশভ বলেন, রূপপুর প্রকল্পের বিশেষ চাহিদা বিবেচনা করে এই ব্যবস্থায় কয়েকটি উন্নয়ন ও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো এখানে ছোট ও সুবিধাজনক নকশার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বয়ংক্রিয় বিকিরণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও রয়েছে। বর্তমানে প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম সরবরাহ ও চালুর কাজ শেষ হয়েছে।’

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত রূপপুর প্রকল্পে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। কেন্দ্রটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

‘থ্রি-প্লাস’ প্রজন্মের এই রিঅ্যাক্টর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান মেনে নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে একই প্রযুক্তির ছয়টি ইউনিট রাশিয়া ও বেলারুশে চালু রয়েছে। এ ছাড়া মিসর, হাঙ্গেরি, তুরস্ক ও চীনেও একই প্রযুক্তির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে।

রূপপুরে জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর রূপপুরে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিএইআরএ) প্রয়োজনীয় লাইসেন্স দিয়েছে, ফলে এ মাসের শেষ দিকে জ্বালানি সংযোজনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর পথ খুলে গেল।

বিএইআরএর চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, নানা কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক মান যাচাই শেষে বৃহস্পতিবার  এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে ৭ এপ্রিল নির্ধারিত সময়সূচি নিরাপত্তাজনিত কারণে স্থগিত করা হয়েছিল। তবে এখন সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমাধান হওয়া এবং অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ায় লাইসেন্স দিতে আর বাধা থাকেনি।

প্রায় ১২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের এই মেগা প্রকল্পে রাশিয়ার কারিগরি সহায়তায় প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এই ইউনিট থেকে ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান বলেন, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ‘ফিজিক্যাল স্টার্টআপ’-এর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রূপপুর প্রকল্পকে একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প উৎস হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

দুই ইউনিটে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার এই বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৮ সালের মধ্যে পুরোপুরি চালু হওয়ার কথা। যদিও ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে বাণিজ্যিক উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তবু চলতি বছরের শেষ দিকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়াকে বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

রূপপুরে জ্বালানি লোডিং পেছাচ্ছে, জুলাইয়ে বিদ্যুৎ পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক:  নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটে জ্বালানি ভরার কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এর আগে ৭ এপ্রিল জ্বালানি ভরার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করেছিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ৭ এপ্রিল জ্বালানি ভরা শুরুর প্রস্তুতি থাকলেও সময়মতো কাজ শুরুর অনুমতিপত্র পাওয়া যায়নি। ফলে আগের সূচি অনুযায়ী কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।

নতুন তারিখের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করছে। ছাড়পত্র পাওয়ার পরই নতুন সময়সূচি ঠিক করা হবে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রুশ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দেওয়া সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী মন্ত্রণালয় ৭ এপ্রিলের তারিখটি চূড়ান্ত করেছিল। লক্ষ্য ছিল, জুলাইয়ের মধ্যে কেন্দ্রটি থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট এবং ডিসেম্বরের মধ্যে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হবে। তবে জ্বালানি ভরায় দেরি হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই সময়সীমাও পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি ভরার প্রক্রিয়াটি শেষ করতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। এর দুই মাস পর শুরু হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ধাপ। সব মিলিয়ে জ্বালানি ভরা থেকে পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে ১০ থেকে ১১ মাস সময় প্রয়োজন। অবশ্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তাদের দাবি, ৭ এপ্রিল সম্ভব না হলেও এই মাসের শেষ নাগাদ জ্বালানি ভরা শুরু করা যাবে। ইতিমধ্যে নির্মাণকাজ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষ হয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের তথ্য প্রচার কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ জানান, গত মাসেই ১ নম্বর ইউনিটের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দেশে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়ায় অনেক চ্যালেঞ্জ সামনে আসছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিরাপত্তার বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত হলেই কেবল কাজ শুরুর অনুমতি দেবে। তবে এই অনুমতি দেওয়ার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রকল্প পরিচালক ড. মাহবুবুর রহমান বর্তমানে রূপপুর এলাকায় পর্যালোচনার কাজে ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বর্তমানে ১ নম্বর ইউনিটের কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও ২ নম্বর ইউনিটের ৭০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পের প্রায় ৮১ শতাংশ অর্থ ইতিমধ্যে ব্যয় হয়েছে। শুরুতে ২০২২ সালে কেন্দ্রটি চালুর কথা থাকলেও তা তিন বছর পিছিয়ে যায়। পরে দুই দেশের সম্মতিতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। তবে ১ নম্বর ইউনিটের মূল কাজ এখনো শুরু না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো প্রকল্প শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি ভর্তি প্রস্তুতি শেষের পথে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে জ্বালানি ভর্তির প্রস্তুতি ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করতে বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা), রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা ভিও সেফটি এবং দেশটির অন্যান্য নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান টানা ১৪ দিন ধরে প্রকল্পটি পরিদর্শন করেছে। বুধবার বায়েরা চেয়ারম্যান মো. মাহমুদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রকল্প–সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দলটি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) জনবল, ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তিগত কাঠামো, বিভিন্ন ইউনিটের কাজের ধরন ও পরিচালনার নথি পরীক্ষা করে। একই সঙ্গে কমিশনিং কার্যক্রম, স্থাপনা, সমন্বয় প্রটোকল, সনদপত্র এবং অগ্রগতির ধাপগুলোও পর্যালোচনা করা হয়। পুরো তদারকি করেন এনপিসিবিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান এবং সমন্বয় করেন প্রধান পরিদর্শক মো. ইয়ামিন আলী।

ফিজিক্যাল স্টার্টআপ ও জ্বালানি লোডিং পারমাণবিক কেন্দ্র চালুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি। এতে প্রথমবার রিয়্যাক্টরে জ্বালানি ভরার পর সীমিত মাত্রায় নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া চালিয়ে প্রতিটি সিস্টেমের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। এর পরেই মূল পাওয়ার স্টার্টআপের দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হয়।

এনপিসিবিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক  ড. জাহেদুল হাসান জানান, প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন শেষ করেছে—আইএইএ’র দুই সপ্তাহের পরীক্ষামূলক প্রি-ওসার্ট, পরের তিন সপ্তাহের প্রি-ওসার্ট পর্যায় এবং সর্বশেষ বায়েরা–ভিও সেফটি–রস্টেকনাদজর যৌথ দুই সপ্তাহের পরিদর্শন। পাশাপাশি এনপিসিবিএল ও রসএনার্গোএটম স্ব-মূল্যায়নও নিয়মিত করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তার ভাষায়, ‘নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বায়েরা প্রকল্পের স্টার্টআপ প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছে। দলটির সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’ মূল্যায়ন শেষে বিশেষজ্ঞরা প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি ও ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বলেও তিনি জানান।

এনপিসিবিএল এখন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ বাস্তবায়নে কাজ করছে। এসব ধাপ শেষ হলে প্রতিবেদন বায়েরা–তে পাঠানো হবে। যাচাই–বাছাইয়ের ফল সন্তোষজনক হলে প্রথমবারের মতো জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমোদন ও লাইসেন্স দেওয়া হবে।

বায়েরা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফগার্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্টার্টআপ রেডিনেস ইন্সপেকশন সম্পন্ন হয়েছে। রাশিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে ফুয়েল লোডিংয়ের অনুমতি দেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, জ্বালানি লোডিং শুরু করতে রসাটম ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন (জেনারেল ডিজাইনার), ঘিদ্রোপ্রেস (রিয়্যাক্টর ডিজাইনার), রাশিয়ার জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘কুরচাতভ ইনস্টিটিউট’ ও বায়েরা অনুমোদনের পাশাপাশি ভিও সেফটি’র মূল্যায়ন প্রতিবেদনও বাধ্যতামূলক।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র: চুক্তি হচ্ছে অপারেটর সংস্থার সঙ্গে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে চুক্তি করতে যাচ্ছে। এজন্য 'বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি' নামে একটি চুক্তি সই করা হবে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের পর শুক্রবার রূপপুর প্রকল্প এলাকায় একটি ধন্যবাদ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান বলেন, 'পিপিএ নিয়ে আগে কিছু বিভ্রান্তি ছিল, কিন্তু এখন মন্ত্রণালয় সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এনপিসিবিএলের সঙ্গেই চুক্তি হবে, যা যৌক্তিক।'

তিনি আরও বলেন, '২০১৫ সালের পারমাণবিক শক্তি আইন অনুযায়ী, রূপপুর প্রকল্পের সব দায়িত্ব ধীরে ধীরে এনপিসিবিএলের হাতে যাবে। তারা এই বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করবে, তাই তাদের সঙ্গেই বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি হওয়া উচিত।'

অনুষ্ঠানে প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী হাসমত আলী, পিপিএস প্রধান এস. এম. মাহমুদ আরাফাত এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শেষে কেক কেটে ও ফুল দিয়ে ড. জাহেদুল হাসানকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

২০৪১ সালে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ আসবে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে


নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ২০৪১ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। 

৪ ডিসেম্বর সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ইরেনা আয়োজিত ‘জীবন ও জীবিকার ক্ষমতায়ন- জলবায়ুর জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি’ উদ্যোগটির উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইরেনার দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সংগতি রেখে টেকসই উন্নয়নের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে কাজ করছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টেকসই এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বৃহৎ আকারের প্রকল্পের বাইরেও ছাদে সোলার, ভাসমান সোলার ও সৌর সেচের মতো ছোট ছোট উদ্যোগের দিকেও বাংলাদেশ মনোনিবেশ করেছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ২০৩১ সালের মধ্যে ৪৫ হাজার সোলার ইরিগেশন পাম্প প্রতিস্থাপন করার বিষয়টি রোডম্যাপে বলা হয়েছে। ফলে ডিজেলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং পরিবেশগত ব্যাপক উন্নতি ঘটবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরব আমিরাতের জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশমন্ত্রী মরিয়ম বিনতে মোহাম্মেদ আলমেহইরি; আইসল্যান্ডের পরিবেশ, জ্বালানি ও জলবায়ু মন্ত্রী গাডলাওগার থর থরডারসন; বেলজিয়ামের উপপ্রধান কেবিনেট ডমিনিকিউ পারিন; নেপালের জ্বালানি, পানি সম্পদ ও সেচ মন্ত্রী শক্তি বাহাদুর বাসনেট এবং ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী আরিফিন তাসরিফ বক্তব্য রাখেন। 

রূপপুর প্রকল্প জিডিপিতে ২ শতাংশ অবদান রাখবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৫ সালের শুরুতে জনগণ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ পাবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে দেশের জিডিপিতে (মোট দেশজ উৎপাদন) ২ শতাংশ অবদান রাখবে। 

বুধবার রূপপুরের প্রকল্প এলাকায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কথা বলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান।  

মন্ত্রী বলেন, সঞ্চালন লাইনসহ অন্যান্য অবকাঠামো তৈরি হওয়ার পরই রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। ২০২৫ সালের শুরুতে জনগণ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ পাবে। দীর্ঘ সাত বছর ধরে নিরলসভাবে এই প্রকল্পের কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত একদিনও এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়নি। বিশ্বের কোথাও এই মানের কোনো প্রকল্পের এতটা অগ্রগতি হয়নি এত কম সময়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক চেষ্টার ফলে এটা সম্ভব হচ্ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে জিডিপিতে দুই শতাংশ অবদান রাখবে।

বৃহস্পতিবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি ইউরেনিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল এটোমিক এনার্জি কমিশনের (আইএইএ) গভর্নিং বডির সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। ২০২৫ সালের শুরুতে জনগণ রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ পাবে। উত্তরবঙ্গের পিছিয়ে পড়া জনগণ এই প্রকল্প থেকে উপকৃত হবে। এই এলাকার মানুষ মূল স্রোতে চলে আসবে। রাশিয়াকে কিভাবে ঋণ পরিশোধ করা হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। পাওয়ার প্ল্যান্টের প্রতিটি ধাপেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন মাইলফলক। 

মন্ত্রী বলেন, সঞ্চালন লাইনসহ অন্যান্য অবকাঠামো তৈরি হওয়ার পরই পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হবে।

প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর জানান, নিউক্লিয়ার জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় আসার পরই এটি পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে৷বাংলাদেশ নিউক্লিয়ার ক্লাবের ৩৩তম সদস্য হতে যাচ্ছে। মাত্র ছয় বছর সাত মাসে আমরা প্রকল্পের এই রূপ দিতে সক্ষম হয়েছি।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন