বিদ্যুৎ-জ্বালানি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিদ্যুৎ-জ্বালানি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরও এক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। প্রয়োজনীয় ফিজিক্যাল স্টার্টআপ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে ‘স্টেজ-সি’ বা পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েয়া)। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান।

এনপিসিবিএল সূত্রে জানা যায়, বায়েয়া চেয়ারম্যান এম মাহমুদুল হাসান অনুমোদনপত্রে সই করেছেন। এর ফলে রিঅ্যাক্টরের কার্যক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক সরবরাহের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। পাওয়ার স্টার্টআপের এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপে রিঅ্যাক্টর, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, রিঅ্যাক্টরের তাপীয় ক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হলেই জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন শুরু হতে পারে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, চলমান পরীক্ষা ও কমিশনিং কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। তবে পুরো বিষয়টি পরীক্ষার ফলাফল ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার নির্ধারিত কারিগরি শর্ত যথাযথভাবে পূরণের ওপর নির্ভর করছে। কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, পাওয়ার স্টার্টআপের অনুমতি পাওয়ার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু নয়; বরং পরীক্ষামূলক সরবরাহের পর প্রয়োজনীয় সব কারিগরি যাচাই শেষেই পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাওয়া হবে।

দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এই উন্নয়ন প্রকল্পে দুটি ইউনিট রয়েছে, যার প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়নে বর্তমান প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।

প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে রূপপুর

নিজস্ব প্রতিবেদন: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হয়েছে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সংস্থার অনুমোদন পেলে ইউনিটটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরের ধাপে বা পাওয়ার স্টার্টআপে প্রবেশ করবে। এ ধাপে রিঅ্যাক্টরসহ বিদ্যুৎকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও সুরক্ষাব্যবস্থা যাচাই করা হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এ ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে বিভিন্ন কারিগরি দিক পরীক্ষা করা হবে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রটি নিরাপদ ও সঠিকভাবে পরিচালনার সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতিও মূল্যায়ন করা হবে।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান বলেন, এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টর, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা অংশের কার্যক্রম পরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি যন্ত্রের পারস্পরিক সমন্বয় ঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তাও দেখা হবে।

তিনি জানান, রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হবে। বিশেষ করে টারবাইনের নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাব্যবস্থা, জেনারেটর এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।

ড. জাহেদুল হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো জেনারেটরকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা। এ সময় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্থিতিশীলভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রের সব গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থার নিরাপদ কার্যক্রম নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষ করা, শর্ত পূরণ এবং নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর ইউনিটটি পরীক্ষামূলকভাবে চালুর সুযোগ তৈরি হবে। তবে এই ধাপে প্রবেশ, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু এবং বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করা এক কথা নয়। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাওয়ার আগে আরও কারিগরি পরীক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সব শর্ত পূরণ করতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা শেষ, অনুমোদন পেলেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে রূপপুর


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ সব পরীক্ষা শেষ হয়েছে। পরীক্ষার বিস্তারিত প্রতিবেদন ইতিমধ্যে তদারকি সংস্থা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

সংস্থার অনুমোদন পেলেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর মূল ধাপে প্রবেশ করবে দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদন মিললে চলতি মাসের শেষ দিকে, অর্থাৎ আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যেই প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।

এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান জানান, শুরুতে কম পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। পরে প্রতিটি ধাপের সফলতা অনুযায়ী উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো হবে।

প্রকৌশলীরা আশা করছেন, কেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হবে। সব ঠিক থাকলে চলতি ২০২৬ সালের শেষ দিকে প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে। তবে পুরো বিষয়টি পরীক্ষার সফলতা ও প্রশাসনিক অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।

এদিকে প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে বৃহস্পতিবার রাতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকীর মাহবুব আনামের সঙ্গে বৈঠক করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’-এর প্রতিনিধিদল। রোসাটমের উপমহাপরিচালক আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সফর করে।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের সাফল্য ও কাজের অগ্রগতি মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয় এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

রূপপুর প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনায় ঢাকা-মস্কো আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক কাজ এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।

গত ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর রাশিয়া থেকে আসা একটি প্রতিনিধিদল রূপপুর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে এসব বৈঠকে অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’-এর উপমহাপরিচালক আন্দ্রেই পেত্রোভ। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনও উপস্থিত ছিলেন।

সফরকালে প্রকল্প এলাকায় কয়েক দফায় এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনসহ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের চলমান কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ নিয়ে কথা বলেন কর্মকর্তারা। রোসাটমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনা অনেক সন্তোষজনক হয়েছে।

পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু, বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে রূপপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই বিক্রিয়ার মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন করা হয়। এটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার অংশ। এর মধ্য দিয়ে দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদন শুরুর আরও কাছাকাছি এগিয়ে গেল। আগামী ডিসেম্বরে এই কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, পারমাণবিক বিকিরণের মাধ্যমে শক্তি উৎপাদনপ্রক্রিয়া সেপ্টেম্বরে শুরুর পরিকল্পনা ছিল। নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়লে এটি পিছিয়ে যায়। গত সপ্তাহে উচ্চ চাপে দুই দফায় ভালভের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এই পরীক্ষার ফলাফল যাচাই করে ৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার বিক্রিয়ার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা)। ১১ অক্টোবর, রোববার বেলা ৩টা ৩৪ মিনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি টাকার অঙ্কে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প। বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন। কমিশনের অধীনে পরিচালনার কাজটি করছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) নামের সরকারি কোম্পানি। রূপপুরে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট।

এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাছান বলেন, তিন দিনের প্রস্তুতির পর গতকাল শনিবার পারমাণবিক বিক্রিয়ার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়। আজ সফলভাবে নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ১৯৬১ সালে শুরু করা পারমাণবিক ব্যবহারের যে যাত্রা, সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। দেশের বিজ্ঞান খাতে এটি বড় রকমের মাইলফলক।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, প্রথমবারের মতো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্র সফলভাবে ‘ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জন করেছে। এটি বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবময় অর্জন। ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পর চুল্লিপাত্রের গুরুত্বপূর্ণ সব মাপকাঠি নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে

বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার পথে পারমাণবিক বিক্রিয়া একটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সেটি আজ অতিক্রম করেছে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র। পরবর্তী পর্যায়ে অনুমোদিত কমিশনিং কর্মসূচি অনুযায়ী রিঅ্যাক্টর ফিজিকস পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার যাচাই, ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টর পাওয়ার বৃদ্ধি এবং গ্রিড সংযুক্তের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও প্রস্তুতি শেষ করা হবে। প্রতিটি ধাপ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা মান, অনুমোদিত পদ্ধতি এবং নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, চুল্লিপাত্র (রিঅ্যাক্টর) ক্রিটিক্যালিটি অর্জন বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়; এটি দেশের বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও পারমাণবিক প্রযুক্তি সক্ষমতার এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর বাংলাদেশ এখন তার প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর পর পর্যায়ক্রমে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে। এ পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে চুল্লিপাত্রের ভেতর শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা বাড়ানো হবে। পারমাণবিক জ্বালানির বিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে তাপশক্তি উৎপাদন। এ তাপ দিয়েই বাষ্প তৈরি করে ঘোরানো হবে টারবাইন, উৎপাদন হবে বিদ্যুৎ।

চুল্লিপাত্রে শক্তি উৎপাদন শুরুর পর উৎপাদন ক্ষমতা ধাপে ধাপে বেড়ে ৩০ শতাংশে উন্নীত হলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এরপর ৩০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এটি ডিসেম্বরে হতে পারে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, শুরুর পর টানা ৭-৮ মাস চলতে পারে পরীক্ষামূলক উৎপাদন। তবে গ্রিডে বিদ্যুৎ গেলেই পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশে স্থান করে নেবে বাংলাদেশ। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকল্প এলাকায় পারমাণবিক জ্বালানি আসার পরই পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি পায় রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র। জ্বালানি বুঝে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পারমাণবিক শক্তির অধিকারী দেশের তালিকায় নাম ওঠায় বাংলাদেশ।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, চালুর পর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৪ ঘণ্টা সমান হারে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। প্রতি দেড় বছর পর নতুন জ্বালানি ভরতে হবে চুল্লিতে। ব্যবহৃত জ্বালানির বর্জ্য বের করা, নতুন জ্বালানি ঢোকানো ও রক্ষণাবেক্ষণ মিলে একটি ইউনিট সর্বোচ্চ দুই মাস বন্ধ থাকতে পারে। রূপপুরের একটি ইউনিট চালু হলে বছরে ১০০ কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি সাশ্রয় করা যেত। অথচ সাড়ে তিন বছর পিছিয়ে গেছে এটি।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল রূপপুর প্রকল্পের মেয়াদ। দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে মেয়াদ বাড়লেও প্রকল্পের খরচ বাড়ানোর সুযোগ নেই। কিন্তু ডলারের দাম বাড়ায় ২৬ হাজার কোটি টাকা খরচ বেড়েছে প্রকল্পের। ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা খরচ হবে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে।

রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে ২০ নভেম্বরের পর: রোসাটম

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আগামী ২০ নভেম্বর থেকে মাসের শেষ নাগাদ বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটম। একই সঙ্গে বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিধি বাড়ানো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।

আজ রোববার রোসাটমের গণমাধ্যম বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সম্প্রতি রাশিয়া সফরকালে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

লিখাচেভ জানান, রূপপুরে উৎপাদন শুরুর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে এ ধরনের বিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণের আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং এ নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ। রূপপুরের প্রথম ইউনিটে উৎপাদন শুরুর সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, ২০ নভেম্বর থেকে নভেম্বরের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং শুরু করেছিল রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ, যা কেন্দ্রটি চালুর ক্ষেত্রে একটি প্রধান মাইলফলক ছিল। এ ছাড়া আগামী বছর দ্বিতীয় ইউনিট চালুর কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, রোসাটমের অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির প্রতিও বাংলাদেশের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিজ্ঞানমন্ত্রী ছোট আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো সম্ভাব্য অন্যান্য প্রস্তাব সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে স্বাক্ষরিত আন্তঃসরকার চুক্তির আওতায় রোসাটম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। কেন্দ্রটিতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট করে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে।

রূপপুরের বিদ্যুৎ গ্রিডে আনতে দ্রুত কাজ চলছে: রোসাটম

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটম। মস্কোয় স্থানীয় সময় শুক্রবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে এক বৈঠকে এ আশ্বাস দেন রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ।

বৈঠকে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কাজের অগ্রগতি এবং প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সীমা নিয়ে আলোচনা হয়।

রোসাটমের মহাপরিচালক জানান, রূপপুরের প্রথম ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর থেকে খুব দ্রুত জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। দেশের বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১১ শতাংশ পূরণ করবে।

বৈঠকে রোসাটমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী বছর থেকে প্রকল্পটির দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিং ও প্রাথমিক স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরু হবে। এ ছাড়া রূপপুর প্রকল্পের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে দেশের পারমাণবিক খাতের সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

রূপপুর: পারমাণবিক বিক্রিয়ার অনুমতি পাওয়া গেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরেক ধাপ অগ্রগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক বিক্রিয়ার অনুমতি পাওয়া গেছে। ফলে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় গ্রিডে এই কেন্দ্র থেকে যুক্ত হতে পারে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, পারমাণবিক বিকিরণের মাধ্যমে শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া সেপ্টেম্বরে শুরুর পরিকল্পনা ছিল। নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়লে এটি পিছিয়ে যায়। গত সপ্তাহে উচ্চ চাপে দুই দফায় পরীক্ষা করা হয়েছে। এরপর পরীক্ষার ফলাফল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার বায়েরা তা অনুমোদন দিয়েছে। অর্থাৎ এখন পরের ধাপের কার্যক্রম শুরু করা যাবে।

বায়েরা চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান বলেন, যথাযথ যাচাইয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিটি ধাপের অনুমতি দেওয়া হয়। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যাচাইয়ের পর আজ পরের ধাপের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এ ধাপের কাজ কাল শুক্রবার থেকে শুরু হবে। শেষ করতে বেশি সময় লাগার কথা নয়। দু-তিন দিনের মধ্যে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র জানায়, এর আগে গত সপ্তাহে নিরাপত্তা ভালভের দুটি পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হয়েছে। পরীক্ষার সময় নিয়ন্ত্রণ ভালভগুলো ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা যাচাই করা হয়েছে। নির্ধারিত নিয়ম মেনেই পরীক্ষাটি পরিচালনা করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর আগে অগ্নিনিরাপত্তা ও তেজস্ক্রিয়তা-সংক্রান্ত নিরাপত্তাব্যবস্থাও যাচাই করা হয়েছে। এ মাসের শেষে চুল্লিপাত্রের ভেতরে তাপশক্তি উৎপাদনপ্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোক বলেন, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালু করতে এ ধরনের পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। চুল্লির ভেতরের মূল ব্যবস্থায় চাপ নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ভালভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে তা কমিয়ে নিরাপদ অবস্থায় রাখতে এটি কাজ করে। প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করেই পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, এখন রূপপুরের সামনে বড় মাইলফলক হলো ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর কিছুদিন পর এ পর্যায়ে পৌঁছাবে রূপপুর। এ সময় আরও কিছু পরীক্ষা–নিরীক্ষা করা হবে। এ পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে চুল্লিপাত্রের ভেতর শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা বাড়ানো হবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলছেন, পারমাণবিক জ্বালানির বিভাজন বিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে তাপশক্তি উৎপাদন। এ তাপ দিয়েই বাষ্প তৈরি করে ঘোরানো হবে টারবাইন, উৎপাদিত হবে বিদ্যুৎ।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ জোর দিয়েই প্রতিটি ধাপ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চুল্লিপাত্রে শক্তি উৎপাদন শুরুর পর উৎপাদনক্ষমতা ৩ থেকে ধাপে ধাপে বেড়ে ৩০ শতাংশে উন্নীত হলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এরপর ৩০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এটি ডিসেম্বরে হতে পারে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, শুরুর পর টানা সাত-আট মাস চলতে পারে পরীক্ষামূলক উৎপাদন। তবে গ্রিডে বিদ্যুৎ গেলেই পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হবে বাংলাদেশ। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকল্প এলাকায় পারমাণবিক জ্বালানি আসার পরই পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি পায় রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র। জ্বালানি বুঝে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পারমাণবিক শক্তির অধিকারী দেশের তালিকায় নাম ওঠায় বাংলাদেশের।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৪ ঘণ্টা সমান হারে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। প্রতি দেড় বছর পর নতুন জ্বালানি দিতে হবে। জ্বালানি বর্জ্য বের করা, নতুন জ্বালানি ঢোকানো ও রক্ষণাবেক্ষণ মিলে একটি ইউনিট সর্বোচ্চ দুই মাস বন্ধ থাকতে পারে। রূপপুরের একটি ইউনিট চালু হলে বছরে ১০০ কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি সাশ্রয় হতো। কিন্তু প্রক্রিয়াটি সাড়ে তিন বছর পিছিয়ে গেছে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল রূপপুর প্রকল্পের মেয়াদ। দুই দফায় বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে মেয়াদ বাড়লেও প্রকল্পের খরচ বাড়ানোর সুযোগ নেই। কিন্তু ডলারের দাম বাড়ায় ২৬ হাজার কোটি টাকা খরচ বেড়েছে প্রকল্পের। ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা খরচ হবে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে। এই কেন্দ্রে দুটি ইউনিট। প্রতিটি থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের দোরগোড়ায় রূপপুর, বি টু অনুমতির অপেক্ষায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট। এখন শুধু বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়রা) অনুমতির অপেক্ষা। অনুমতি মিললে ডিসেম্বরের শেষে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

বুধবার রাতে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপে ১৬ দশমিক ১ মেগাপ্যাসকেল পরিচালন চাপ এবং ২৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বজায় রেখে ১২টি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়। পরবর্তী ধাপে ১৮ দশমিক ৬৫ মেগাপ্যাসকেল চাপের পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হয়। প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে এ পরীক্ষাগুলো পরিচালনা করা হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এখন বড় মাইলফলক হলো ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। বায়রার অনুমতি পাওয়ার পর রিঅ্যাক্টরে একটি স্থিতিশীল ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হবে। এর মাধ্যমে রিঅ্যাক্টর সক্রিয় অপারেশনাল পারমাণবিক স্থাপনায় রূপান্তরের পর্যায়ে প্রবেশ করবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ১ শতাংশের কম রেখে প্রাথমিক ক্রিটিক্যালিটি অর্জন করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। ফলাফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে ক্ষমতা বাড়িয়ে টারবাইন সিনক্রোনাইজেশন এবং গ্রিড সংযোগের কাজ করা হবে। এজন্য বায়রার কাছ থেকে ট্রায়াল অপারেশনাল লাইসেন্স নিতে হবে।

উৎপাদন শুরুর পর টানা ৭ থেকে ৮ মাস পরীক্ষামূলক উৎপাদন চলতে পারে। গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন বলেন, আমরা বায়রাকে দিয়েছি। বায়রার কাছ থেকে আমরা রিকোয়ার্ড পারমিট পাওয়ার পরে আমরা ফারদার প্রসিড করব। আর কি ভিউ কমপ্লিট না? এখন সব কমপ্লিট। এখন আর কিছুই নাই। সব আমরা বায়রাকে সাবমিট করছি। এখন বায়রার পারমিশন পেলে ইনশাআল্লাহ আমরা পরবর্তী স্টেজে যাব, যেটাকে বি টু বলে।

উল্লেখ্য, রূপপুর প্রকল্পের মেয়াদ দুই দফায় বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদ বাড়লেও খরচ বাড়ার সুযোগ নেই। তবে ডলারের বিনিময় হার বাড়ায় প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়ে মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিলেন জাহেদুল হাসান

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমে ১৬ মেগাপাসকেল চাপের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া গত শনিবার দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালানও দেশে এসে পৌঁছেছে। এমন সময় প্রকল্পের ব্যয়, নিরাপত্তা ও কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু নেতিবাচক প্রচারণা সামনে এসেছে। এ বিষয়ে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জ্যেষ্ঠ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ ড. জাহেদুল হাসান প্রাতিষ্ঠানিক নথি, পরিসংখ্যান ও সরকারি আদেশের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

প্রকল্পের শুরু থেকেই পারমাণবিক ভীতি, ব্যয় ও কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলা হলেও সম্প্রতি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসানকে লক্ষ্য করে কিছু অভিযোগ প্রচার করা হয়। কর্মরত প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা বলছেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের তথ্য প্রচার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও পুরো কর্মীবাহিনীর মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আজ সোমবার ড. জাহেদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে গঠনমূলক সমালোচনা ও জবাবদিহি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অসম্পূর্ণ তথ্য বা প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করলে প্রকল্পের প্রশাসনিক কাঠামো ও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের মনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত থাকা এবং একাধিক পদের জন্য পৃথক বেতন নেওয়ার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে ড. জাহেদুল বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁকে উচ্চতর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তিনি ২০২৫ সালের জুন থেকে এনপিসিবিলের পূর্ণকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে শুধু নির্ধারিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন।

একইভাবে জনবল ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের বিষয়ে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানে মোট ১ হাজার ৯২২ জন নিয়োগ পেলেও ৯৯৭ জন বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এর মধ্যে মাত্র ২৭ জন (প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ) প্রতিষ্ঠান ছেড়েছেন। ১৬ থেকে ১৯ গ্রেডের প্রায় ১০০ কর্মীর প্রস্থানকে বিশেষায়িত পারমাণবিক জনবলের পদত্যাগ হিসেবে দেখানোর সুযোগ নেই, কারণ তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন সহায়ক পদের কর্মীরাও ছিলেন। এ ছাড়া শপ ম্যানেজারসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব অর্পণের বিষয়টি কোনো একক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ক্ষমতাপ্রাপ্ত বোর্ড কমিটির মাধ্যমে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়ে থাকে।

রাশিয়ায় কর্মকর্তাদের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ার বিষয়ে ড. জাহেদুল হাসান স্পষ্ট করেন, এই ব্যবস্থা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে হয়নি। তৎকালীন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে রাশিয়ায় অবস্থানরত পরিদর্শকদের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যার আর্থিক বিষয়াদি প্রকল্পের জেনারেল কন্ট্রাক্টর জেএসসি এটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট (এএসই) পরিচালনা করে। বিভিন্ন সময়ে ৪১ জন কর্মকর্তা সরকারি আদেশ (জিও) নিয়ে এসব অ্যাপার্টমেন্টে অবস্থান করেছেন এবং তাঁরা কোনো হোটেল ভাতাও গ্রহণ করেননি। প্রায় ৭৭ লাখ টাকা বাসা ভাড়া আত্মসাতের অভিযোগকে ‘মূলহীন ও ভিত্তিহীন’ উল্লেখ করে তিনি জানান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে গঠিত ছয় সদস্যের অভ্যন্তরীণ অডিট দল (যাতে রাশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের দুই কর্মকর্তাও যুক্ত ছিলেন) বিষয়টি তদন্ত করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

ড. জাহেদুল হাসান আরও উল্লেখ করেন, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের মালিক বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি), আর এনপিসিবিএল হলো বিদ্যুৎকেন্দ্রের অপারেটিং অর্গানাইজেশন। তাই কমিশনিংয়ের মতো প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া ও বিলম্বের বিষয়গুলোকে এককভাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ওপর চাপানো যৌক্তিক নয়। রূপপুর দেশের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বৃহৎ জাতীয় প্রকল্প উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ বা প্রচারের ক্ষেত্রে অফিস আদেশ, পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত, সরকারি প্রজ্ঞাপন এবং অডিট প্রতিবেদন যাচাই করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

রূপপুর পৌঁছেছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউরেনিয়াম

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আসা ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান আজ শনিবার দুপুরে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।

এর আগে গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাশিয়া থেকে ভারত হয়ে বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে ইউরেনিয়ামের চালানটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে সড়কপথে চালানটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা এই বহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তেজস্ক্রিয় জ্বালানিবাহী গাড়ি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করলে সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি ও রাশিয়ান কর্মকর্তারা চালানটিকে স্বাগত জানান।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বাডেরা) চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানান, শুক্রবার রাতে ইউরেনিয়াম বহনকারী বিশেষ কার্গো ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করে। রাশিয়ায় তৈরি চার ইঞ্জিনের ‘ইলিউশিন আইএল-৭৬’ মডেলের একটি বিমানে এই চালান দেশে আনা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে মোট নয়টি চালানে রূপপুরের জন্য আরও ইউরেনিয়াম দেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটের জন্য ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে এসব চালান দেশে পৌঁছাবে।

রাশিয়ার ঋণ ও কারিগরি সহায়তায় রূপপুরে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে বাংলাদেশ। প্রকল্পটিতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে।

দেশে পৌঁছেছে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউরেনিয়ামের নতুন চালান শেষমেশ দেশে পৌঁছেছে। দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে রিফুয়েলিংয়ের জন্য গত ২৪ সেপ্টেম্বর এ চালান আসার কথা থাকলেও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় সেদিন তা আসতে পারেনি।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়রা) চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানান, শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে ইউরেনিয়াম বহনকারী বিশেষ কার্গো ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করেছে। রাশিয়ায় তৈরি চার ইঞ্জিনের ‘ইলিউশিন আইএল-৭৬’ মডেলের একটি বিমানে এ চালান দেশে আনা হয়।

এর আগে পাকিস্তান থেকে অনুমতি না পাওয়ার বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘পাকিস্তান ক্লিয়ারেন্স দেয়নি। এখানে তো কয়েকটি দেশ রয়েছে—আজারবাইজান, কাজাখস্তান, পাকিস্তান এবং এরপর ভারত হয়ে বিমানে জ্বালানি আসে। পাকিস্তান থেকে যেহেতু আগে ক্লিয়ারেন্স এসেছে, এবারও পাওয়া যাবে। হয়তো কোনো তথ্যের ঘাটতি ছিল। আশা করি এটি সমাধান হয়ে যাবে।‘ 

মন্ত্রী শুক্রবার বিকেলে জানান, ইউরেনিয়াম বহনকারী বিমান ঢাকায় পৌঁছানোর পর তা নিরাপদে রূপপুরে স্থানান্তরের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে মোট নয়টি চালানে (ফ্লাইটে) রূপপুরের জন্য আরও ইউরেনিয়াম দেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটের জন্য ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে এসব চালান দেশে পৌঁছাবে।

রাশিয়ার ঋণ ও কারিগরি সহায়তায় রূপপুরে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে বাংলাদেশ। প্রকল্পটিতে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি ২০২৩ সালেই দেশে পৌঁছায়।

তবে করোনাভাইরাস মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ও আর্থিক লেনদেনে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন পিছিয়ে যায়। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি ছিল বলেও আলোচনা রয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিলে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি (ফুয়েল) লোডিং শুরু হলেও এখনো বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা যায়নি। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি। চলতি বছরেও উৎপাদনে যাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

আকাশসীমার বাধা পেরিয়ে রূপপুর প্রকল্পের ইউরেনিয়াম আসছে আজ

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের জটিলতা কাটিয়ে রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউরেনিয়াম আজ শুক্রবার দেশে আসছে। বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে করে ইউরেনিয়াম দুপুরের মধ্যে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। শনিবার কঠোর নিরাপত্তায় তা রূপপুরে নেওয়া হবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার ইউরেনিয়াম আসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে উড়োজাহাজের ফ্লাইট বাতিল করা হয়। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি এবং প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পুনঃভরণের জন্য দুটি—মোট নয়টি চালানে ইউরেনিয়াম দেশে আনা হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো সরবরাহ শেষ করার কথা রয়েছে। সব ঠিক থাকলে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের একমাত্র পারমাণবিক কেন্দ্রটি থেকে প্রাথমিকভাবে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহিদুল হাসান বুধবার রাতে জানান, আগের রাত থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষাটি প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ—উভয় স্থান থেকেই পরিচালনা করা হয়। পরীক্ষার সময় নিয়ন্ত্রণ ভালভগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। এগুলোর কার্যক্রম সন্তোষজনক পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রধান নিরাপত্তা ভালভের কার্যক্রম ও প্রতিক্রিয়াও পরীক্ষা করা হয়।

এ সময় ভালভের প্রতিক্রিয়া, খোলা ও বন্ধ হওয়ার কার্যক্রম, সতর্কসংকেত এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরীক্ষা শুরুর আগে ও চলাকালে যোগাযোগব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা ও বিকিরণ নিরাপত্তাসহ সংশ্লিষ্ট সব নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করা হয়। পরবর্তী ধাপে প্রায় ১৮ মেগাপাসকেল চাপে আরও একটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কমিশনিং দল ধাপে ধাপে এগিয়ে প্রতিটি পর্যায় সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা ভালভের ত্রুটির কারণে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময় পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে ত্রুটি মেরামত বা বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর নির্দিষ্ট সময়সীমা তখন জানানো হয়নি।

ঈশ্বরদীতে জ্বালানি-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির কর্মসূচিতে বাধা!

নিজস্ব প্রতিবেদক: জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ার প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত পথসভা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে বাধা এবং নেতাকর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ঈশ্বরদী বাজারের ১ নম্বর গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এনসিপির ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার নেতাকর্মীরা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার প্রতিবাদে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি হিসেবে তারা শান্তিপূর্ণ পথসভা ও লিফলেট বিতরণ করছিলেন। এ সময় ওমর শেখ শান্ত নামের ছাত্রদলের এক নেতা এসে কর্মসূচিতে বাধা দেন এবং উপস্থিত নেতাকর্মীদের হুমকি দেন। এতে কিছু সময়ের জন্য সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এনসিপির ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সদস্যসচিব সুলতান মাহমুদ বিদ্যুৎ বলেন, ‘জনস্বার্থ ও দেশবাসীর ন্যায্য অধিকারের পক্ষে আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলাম। গণতান্ত্রিক পরিবেশে এই ধরনের বাধা ও হুমকি মেনে নেওয়া যায় না।’ তিনি অবিলম্বে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানান।

অভিযুক্ত ওমর শেখ শান্ত ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি এবং পৌরসভার বকুলের মোড় এলাকার সাইদুল ইসলামের ছেলে। এ বিষয়ে জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহারকারী ওমর শেখ শান্ত বিগত সরকারের সময় ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তৎকালীন সময়ে তাঁর ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার ছবি আমাদের কাছে আছে। বর্তমানে তিনি ঈশ্বরদীতে বিএনপির একটি বলয়ের হয়ে ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে রাজনীতি করছেন।’

অন্যদিকে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু জানান, তিনি ওই কর্মীকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। তবে ধারণা করছেন, তিনি হয়তো সাবেক সভাপতি নয়নের বলয়ের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন।

রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ শেষ: রোসাটম কর্মকর্তা আন্দ্রে তিমোনভ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের পথে গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ অতিক্রম করল বাংলাদেশ।

রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবার্গে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক যুব উৎসবের ‘মিডিয়া স্ট্রিম’ কর্মসূচির একটি অধিবেশনে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক আন্দ্রে তিমোনভ এই তথ্য জানান।

১৬ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে রাশিয়ার ভাবমূর্তি’ শীর্ষক ওই অধিবেশনে তিনি বলেন, বাংলাদেশি অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে চলতি বছর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে রোসাটম। একই সঙ্গে ইউনিটটির কমিশনিং কার্যক্রমও এ গ্রীষ্মে শুরু হয়েছে।

তিমোনভের ভাষ্য, রূপপুর প্রকল্পকে ঘিরে বাংলাদেশে পারমাণবিক শক্তির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এই প্রকল্প দেশের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে দীর্ঘ কয়েক দশকে যে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হতো, বাংলাদেশ তা তুলনামূলক কম সময়ে এগিয়ে নিতে পারবে।

বাংলাদেশে একাধিকবার সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিমোনভ বলেন, দেশটির মানুষ ও প্রকৃতি তাঁকে আকৃষ্ট করেছে। তাঁর দাবি, এক দশক আগেও বাংলাদেশে পারমাণবিক শক্তি নিয়ে আলোচনা খুব একটা বাস্তবসম্মত ছিল না। এখন রূপপুর প্রকল্পের মাধ্যমে দেশটি পারমাণবিক শক্তির ক্ষেত্রে নতুন অবস্থানে পৌঁছেছে।

রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা অবশ্য নতুন নয় বলে উল্লেখ করেন তিমোনভ। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের সূত্রপাত কয়েক দশক আগে, সোভিয়েত ইউনিয়নের সময়ে। দীর্ঘদিনের সেই পরিকল্পনাই এখন বাস্তব রূপ পেয়েছে।

তাঁর মতে, রূপপুর প্রকল্পের লক্ষ্য শুধু দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ নয়। এর মাধ্যমে এমন কিছু আধুনিক প্রযুক্তি ও সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যেসব ক্ষেত্রে বিশ্বের অনেক দেশের কয়েক দশক সময় লেগেছে।

রূপপুর প্রকল্পকে বাংলাদেশের জাতীয় গর্বের অংশ হিসেবেও উল্লেখ করেন রোসাটমের এই কর্মকর্তা। তাঁর ভাষায়, এখানে শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হয়নি; এর সঙ্গে এমন একটি বৃহৎ স্থাপনা গড়ে উঠেছে, যা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ গর্ব করতে পারে।

রোসাটমের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘ফলো ইওর ড্রিম’ স্লোগান নিয়ে গত ১১ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবার্গে আন্তর্জাতিক যুব উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১ লাখ ১৩ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। শেষ পর্যন্ত ১৯১টি দেশের প্রায় ১০ হাজার প্রতিনিধি উৎসবে অংশ নেন। বাংলাদেশ থেকেও প্রায় ৯০ জন প্রতিনিধি এতে যোগ দেন।

রূপপুরের বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহে আইএইএর সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আইএইএর সদর দপ্তরে সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসির সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ সহযোগিতা চাওয়া হয়। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। বৈঠকে পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্প্রসারণ, পারমাণবিক নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখায় আইএইএ মহাপরিচালককে ধন্যবাদ জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ ও আইএইএর পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক উল্লেখ করে বিজ্ঞানমন্ত্রী বলেন, ইউনিট-১-এ ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। এতে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

মাহবুব আনাম বলেন, পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পারমাণবিক বর্জ্য ও স্পেন্ট ফুয়েল ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত যৌথ কনভেনশনে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল পারমাণবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

বৈঠকে ‘রেজ অব হোপ: ক্যানসার কেয়ার ফর অল’ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আইএইএ মহাপরিচালক ও আইএইএ সচিবালয়ের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০২৫ সালে ‘রেজ অব হোপ’ উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে এবং এই অংশীদারিত্বকে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর কর্মসূচিতে রূপ দিতে আইএইএর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। এর অন্যতম অগ্রাধিকার হলো একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ ক্যানসার কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে সহজলভ্য, সমন্বিত ও রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্ঞান বিনিময় এবং টেকসই ক্যানসার চিকিৎসাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে আইএইএর কারিগরি সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশ-রাশিয়া বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে বিজনেস কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী মাসের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দার খোজিন। আজ বুধবার গুলশানে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ কথা জানান। এফবিসিসিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্পর্ক আরও নিবিড় করতে যৌথ ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে মস্কো চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। একই সঙ্গে মস্কোতে ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম’ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত জানান, দুই দেশের উদ্যোক্তাদের সরাসরি যোগাযোগের জন্য মস্কোতে এই ফোরাম আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উক্ত ফোরামে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের প্রোফাইলের ওপর ভিত্তি করে সরাসরি বিটুবি বৈঠকসহ বিভিন্ন সেশনের আয়োজন করা হবে।

এ ছাড়া দুই দেশের বাণিজ্য বাড়াতে তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি নতুন ও সম্ভাবনাময় খাতে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক। এ সময় তিনি ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, সিরামিকপণ্য এবং রাশিয়ায় মানবসম্পদ রপ্তানির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ থেকে জেনেরিক ওষুধ আমদানির বিষয়ে রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে প্রক্রিয়াগত ও আইনি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে। এ ছাড়া রাশিয়ার তীব্র শীতের উপযোগী ভারী জুতো ও চামড়াজাত পণ্যেরও ভালো চাহিদা রয়েছে। কৃষি, মৎস্য ও জাহাজ নির্মাণ শিল্প এবং সেবা খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ভিসা প্রদান করেছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রকল্পের কারিগরি ইস্যুগুলো দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে প্রায় চার হাজার রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী নিরলসভাবে কাজ করছেন জানিয়ে রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দার খোজিন বলেন, আগামী মাসের মধ্যে প্রথম ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলেছে।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করে যে, সরকার ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত উদ্যোগে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে।

রূপপুর প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের তাগিদ বাংলাদেশ ও রাশিয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ ও রাশিয়া। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৭০তম সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ বিষয়ে একমত পোষণ করে দুই পক্ষ।

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। অন্যদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রূপপুর প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড বজায় রেখে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী। জবাবে রোসাটমের মহাপরিচালক প্রকল্পের নিরবচ্ছিন্ন প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বৈঠক শেষে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে উভয় নেতা শুভেচ্ছা স্মারক বিনিময় করেন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের অস্থায়ী ভবনে আগুন: ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পাইওনিয়ার বেইজে একটি অস্থায়ী ভবনে গত সোমবার মধ্যরাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের স্থানটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনার বাইরে হওয়ায় এর প্রভাব পড়েনি প্রকল্পের মূল নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে।

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বায়েক) ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্পের ফোকাল পয়েন্ট সৈকত আহমেদ। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অগ্নিকাণ্ডে অস্থায়ী ভবনের দুটি কক্ষের অফিস আসবাবপত্র, নথিপত্র, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও যোগাযোগসংক্রান্ত কিছু সরঞ্জাম আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত নথিপত্রের প্রয়োজনীয় ব্যাকআপ কপি প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত থাকায় তথ্য সংরক্ষণ বা কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে প্রকল্পের নির্ধারিত অগ্নিনিরাপত্তা পদ্ধতি অনুসরণ করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতিমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তদন্ত শেষে কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। নির্ধারিত অগ্নিনিরাপত্তা পদ্ধতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় হিসেবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে ইতিমধ্যে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনাসমূহের বাইরে থাকা একটি অস্থায়ী ভবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত রয়েছে।

রূপপুর প্রকল্পে বায়েকের অফিসে গভীর রাতে আগুন, পুড়ে গেছে সার্ভার রুম ও সরঞ্জাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বায়েক) অফিসে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বায়েকের সার্ভার রুমসহ আশপাশের কয়েকটি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে পুড়ে গেছে কম্পিউটার, এসি, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ।

রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অগ্নিকাণ্ডের পর বায়েকের দুটি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ঘটনার প্রায় ৪০ ঘণ্টা পরও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনায় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

সূত্রমতে, বায়েকের সার্ভার রুমে আগুন লাগার পর মুহূর্তেই তা আশপাশের কয়েকটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রূপপুর গ্রিনসিটি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের ভেতরে আগুন লাগার খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। আগুনে বায়েকের বিভিন্ন কম্পিউটার, এসি, কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ইন্টারনেট সার্ভারের যন্ত্রাংশ পুড়ে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাদেকুল বারী বলেন, গভীর রাতে আগুনের খবর পেয়ে তিনি ও প্রকল্প পরিচালক তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে ছুটে যান। ঈশ্বরদীর চারটি ইউনিট আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে; তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন