বিদ্যুৎ-জ্বালানি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিদ্যুৎ-জ্বালানি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র: চুক্তি হচ্ছে অপারেটর সংস্থার সঙ্গে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে চুক্তি করতে যাচ্ছে। এজন্য 'বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি' নামে একটি চুক্তি সই করা হবে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের পর শুক্রবার রূপপুর প্রকল্প এলাকায় একটি ধন্যবাদ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান বলেন, 'পিপিএ নিয়ে আগে কিছু বিভ্রান্তি ছিল, কিন্তু এখন মন্ত্রণালয় সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এনপিসিবিএলের সঙ্গেই চুক্তি হবে, যা যৌক্তিক।'

তিনি আরও বলেন, '২০১৫ সালের পারমাণবিক শক্তি আইন অনুযায়ী, রূপপুর প্রকল্পের সব দায়িত্ব ধীরে ধীরে এনপিসিবিএলের হাতে যাবে। তারা এই বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করবে, তাই তাদের সঙ্গেই বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি হওয়া উচিত।'

অনুষ্ঠানে প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী হাসমত আলী, পিপিএস প্রধান এস. এম. মাহমুদ আরাফাত এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শেষে কেক কেটে ও ফুল দিয়ে ড. জাহেদুল হাসানকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

২০৪১ সালে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ আসবে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে


নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ২০৪১ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। 

৪ ডিসেম্বর সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ইরেনা আয়োজিত ‘জীবন ও জীবিকার ক্ষমতায়ন- জলবায়ুর জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি’ উদ্যোগটির উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইরেনার দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সংগতি রেখে টেকসই উন্নয়নের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে কাজ করছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টেকসই এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বৃহৎ আকারের প্রকল্পের বাইরেও ছাদে সোলার, ভাসমান সোলার ও সৌর সেচের মতো ছোট ছোট উদ্যোগের দিকেও বাংলাদেশ মনোনিবেশ করেছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ২০৩১ সালের মধ্যে ৪৫ হাজার সোলার ইরিগেশন পাম্প প্রতিস্থাপন করার বিষয়টি রোডম্যাপে বলা হয়েছে। ফলে ডিজেলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং পরিবেশগত ব্যাপক উন্নতি ঘটবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরব আমিরাতের জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশমন্ত্রী মরিয়ম বিনতে মোহাম্মেদ আলমেহইরি; আইসল্যান্ডের পরিবেশ, জ্বালানি ও জলবায়ু মন্ত্রী গাডলাওগার থর থরডারসন; বেলজিয়ামের উপপ্রধান কেবিনেট ডমিনিকিউ পারিন; নেপালের জ্বালানি, পানি সম্পদ ও সেচ মন্ত্রী শক্তি বাহাদুর বাসনেট এবং ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী আরিফিন তাসরিফ বক্তব্য রাখেন। 

রূপপুর প্রকল্প জিডিপিতে ২ শতাংশ অবদান রাখবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৫ সালের শুরুতে জনগণ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ পাবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে দেশের জিডিপিতে (মোট দেশজ উৎপাদন) ২ শতাংশ অবদান রাখবে। 

বুধবার রূপপুরের প্রকল্প এলাকায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কথা বলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান।  

মন্ত্রী বলেন, সঞ্চালন লাইনসহ অন্যান্য অবকাঠামো তৈরি হওয়ার পরই রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। ২০২৫ সালের শুরুতে জনগণ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ পাবে। দীর্ঘ সাত বছর ধরে নিরলসভাবে এই প্রকল্পের কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত একদিনও এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়নি। বিশ্বের কোথাও এই মানের কোনো প্রকল্পের এতটা অগ্রগতি হয়নি এত কম সময়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক চেষ্টার ফলে এটা সম্ভব হচ্ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে জিডিপিতে দুই শতাংশ অবদান রাখবে।

বৃহস্পতিবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি ইউরেনিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল এটোমিক এনার্জি কমিশনের (আইএইএ) গভর্নিং বডির সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। ২০২৫ সালের শুরুতে জনগণ রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ পাবে। উত্তরবঙ্গের পিছিয়ে পড়া জনগণ এই প্রকল্প থেকে উপকৃত হবে। এই এলাকার মানুষ মূল স্রোতে চলে আসবে। রাশিয়াকে কিভাবে ঋণ পরিশোধ করা হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। পাওয়ার প্ল্যান্টের প্রতিটি ধাপেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন মাইলফলক। 

মন্ত্রী বলেন, সঞ্চালন লাইনসহ অন্যান্য অবকাঠামো তৈরি হওয়ার পরই পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হবে।

প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর জানান, নিউক্লিয়ার জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় আসার পরই এটি পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে৷বাংলাদেশ নিউক্লিয়ার ক্লাবের ৩৩তম সদস্য হতে যাচ্ছে। মাত্র ছয় বছর সাত মাসে আমরা প্রকল্পের এই রূপ দিতে সক্ষম হয়েছি।

রূপপুর কেন্দ্রের ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান ঢাকায়

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি তাজা ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ইউরেনিয়ামের এই চালান বৃহস্পতিবার  বিকেলে রাশিয়া থেকে একটি বিশেষ এয়ার কার্গোর মাধ্যমে ঢাকায় এসে পৌঁছায়।

পারমাণবিক জ্বালানি আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. এম শওকত আকবর। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে পারমাণবিক জ্বালানির বিমান চালানের বিস্তারিত জানাননি।

সূত্র জানায়, আগামী ৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে রূপপুর প্রকল্পে কর্তৃপক্ষের কাছে জ্বালানি হস্তান্তর করবেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কর্পোরেশনের মহাপরিচালক রোসাটম আলেক্সি লিখাচেভ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রাশিয়ার একটি কারখানা থেকে একটি বিশেষ বিমানে করে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পারমাণবিক জ্বালানি আনা হয়। এরপর সড়কপথে ঈশ্বরদীর রূপপুরে প্রকল্প স্থলে নিয়ে যাওয়া হবে। এই ইউরেনিয়াম পরিবহনে বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

রাশিয়ার নভোসিবির্স্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে (এনসিসিপি) এই জ্বালানি উৎপাদিত হয়, যা রোসাটমের জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তেভেলের সহায়ক প্রতিষ্ঠান।

রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোসাটম ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (আরএনপিপি) নির্মাণে নিয়োজিত রয়েছে।

শওকত আকবর বলেন, “সরকার আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে আরএনপিপির প্রথম ইউনিট এবং ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে দ্বিতীয় ইউনিট চালু করার আশা করছে।”

রূপপুরের মালামাল নিয়ে মোংলায় বিদেশি জাহাজ

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালামাল নিয়ে মোংলা বন্দরে ভিড়েছে বিদেশি জাহাজ এমভি স্যাপোডিল। রাশিয়া থেকে ছেড়ে আসা এ জাহাজটি ভারতের কলকাতা বন্দর হয়ে মোংলায় ভিড়ছে।

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ বন্দর থেকে ছেড়ে আসা পানামা পতাকাবাহী জাহাজটি শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে মোংলা বন্দরে নোঙর করে।

এমভি স্যাপোডিলের শিপিং এজেন্টে ইন্টারপোর্ট'র খুলনার ম্যানেজার অসিম কুমার সাহা জানান, গত ১৬ জুলাই রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ বন্দর থেকে এ মালামাল নিয়ে ছেড়ে আসে লাইব্রেরিয়ান পতাকাবাহী জাহাজ এমভি স্যাপোডিল। এরপর শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে মোংলা বন্দরের ৮নম্বর জেটিতে ভিড়ে এই জাহাজটি। জাহাজে ৩ হাজার ২৪৩ দশমিক ৩৫মেট্টিক টন মেশিনারি পণ্য রয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে জাহাজের পণ্য খালাস শুরু হয়। পণ্য খালাস শেষে আগামী মঙ্গলবার মোংলা বন্দর ত্যাগ করবে এ জাহাজটি। এরপর খালাসকরা বিভিন্ন ধরনের মেশিনারি পণ্য রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ডিপোতে নেয়া হবে।

অসিম কুমার সাহা আরও জানান, রাশিয়া থেকে ছেড়ে আসা এ জাহাজটি প্রথমে ভারতের কলকাতা বন্দরে পণ্য খালাস করে। এরপর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালামাল নিয়ে মোংলা বন্দরে আসে।

রূপপুরের জ্বালানি আনার চূড়ান্ত অনুমোদন পেল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (অরএনপিপি) ফ্রেশ পারমাণবিক জ্বালানি রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে আনার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে এ ফ্রেশ জ্বালানির প্রথম ব্যাচের উৎপাদনও সম্পন্ন হয়েছে৷

বুধবার দুই পক্ষের প্রতিনিধির প্রটোকল স্বাক্ষরের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়৷ রোসাটমের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়৷

এতে বলা হয়, নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের জন্য ফ্রেশ জ্বালানির প্রথম ব্যাচের উৎপাদন সম্পন্ন হয়েছে।
 
বুধবার রোসাটমের জ্বালানি কোম্পানি টেভেলের একটি প্রতিষ্ঠান নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কন্সেন্ট্রেটস প্ল্যান্টে (এনসিসিপি) এ জ্বালানি এক্সসেপটেন্স ইন্সপেকশন সম্পন্ন হয়েছে।

ইন্সপেকশনে অংশ নেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, এনসিসিপি, টেভেল এবং এটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট (এএসই) প্রতিনিধিরা। সফলভাবে ইন্সপেকশন সম্পন্ন হওয়ার পর এক্সসেপটেন্স প্রটোকলে স্বাক্ষর করেন রূপপুর এনপিপি নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর এবং এএসই ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও নির্মাণ প্রকল্পের অপর প্রকল্প পরিচালক আলেক্সি দেইরী।

প্রটোকল স্বাক্ষরের পর এ ফ্রেশ পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনকারী কারখানা থেকে বাংলাদেশে শিপমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেল। আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেই এ জ্বালানি বাংলাদেশ আসবে।

টেভেলের কোয়ালিটি ডিরেক্টর আলেক্সান্দার বুখালভ বলেন, সফলভাবে পরিচালিত আমাদের সব ভিভিইআর-১২০০ পাওয়ার ইউনিটগুলো থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে টেভেল ফুয়েল কোম্পানি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য উন্নত এবং কার্যকর পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদন করেছি। প্রাক-উৎপাদন এবং উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে এমনকি বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহের ক্ষেত্রে আমরা গ্রাহকের সব অগ্রাধিকারগুলো বিবেচনায় নিয়েছি। আমি অত্যন্ত আশাবাদী যে আমাদের এ জ্বালানি আবার রুশ পারমাণবিক প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্ব ও সর্বোচ্চ নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করবে।

রূপপুর প্রকল্পের জেনারেল কন্ট্রাক্টর এএসই ভাইস-প্রেসিডেন্ট আলেক্সি দেইরী জানান, রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ সম্পূর্ণভাবে পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে। রোসাটমের প্রকৌশল শাখা সব ক্ষেত্রেই তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পুরোপুরিভাবে পূরণ করছে। প্রকল্প সাইটে জ্বালানি পৌঁছানোর পূর্বেই প্রথম ইউনিটটি জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে। এছাড়া রিয়্যাক্টরে জ্বালানি লোডিংয়ের আগ পর্যন্ত সব নিরাপত্তা চাহিদা পূরণ করেই এ জ্বালানি সংরক্ষণের সব ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। বাংলাদেশকে যে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে, তা বর্তমানে সক্রিয় ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর ভিত্তিক তিনটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিটে ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলো হলো- লেনিনগ্রাদ এনপিপি, নভোভারোনেঝ এনপিপি এবং বেলারুশ এনপিপি।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জেনারেল ডিজাইনার ও কন্ট্রাক্টর রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় কর্পোরেশন রোসাটম কর্পোরেশনের প্রকৌশল শাখা। প্রকল্পটিতে দু’টি ইউনিট স্থাপিত হবে, প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট। প্রতিটি ইউনিটে থাকছে ৩+ প্রজন্মের রুশ ভিভিইআর রিয়্যাক্টর, যেগুলো সব আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে সক্ষম। 


সেপ্টেম্বরে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের। 

মন্ত্রী বলেন, অবশেষে দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হতে যাচ্ছে। সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের।
 
উল্লেখ্য, পাবনার এই প্রকল্পটি থেকে পরমাণু বিদ্যুতের দুটি ইউনিটের মাধ্যমে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে নির্মাণকাজ প্রায় শেষদিকে। সময়মতোই বৃহৎ এই প্রকল্পটি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিজ্ঞানমন্ত্রী। 

এদিকে পরমাণু থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে পাবনার রূপপুরের মাটিতে প্রায় এক দশক থেকে চলছে নির্মাণের মহাযজ্ঞ। এই মেগা স্থাপনার নির্মাণকাজ এখন প্রায় শেষদিকে। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই প্রকল্পটি বহুমাত্রিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে একদিকে দেশ যেমন বিজ্ঞানের উৎকর্ষে নতুন স্তরে উন্নীত হবে, তেমনি নির্ভরযোগ্য বিদ্যুতের অনন্য উৎস পাবে।

এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে পরমাণুসমৃদ্ধ দেশগুলোর এলিট প্ল্যাটফর্ম বা নিউক্লিয়ার ক্লাবের সদস্য হিসেবে নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ। কেন্দ্রটির ভি-ভি-ই-আর টুয়েলভ হান্ড্রেড টাইপের দুটি রিয়্যাক্টর থেকে উৎপাদিত হবে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট করে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট পরমাণু বিদ্যুৎ। চালু হলে অন্তত ৮০ বছর ধরে টানা বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব এই প্ল্যান্ট থেকে।
 
অতি-বৈজ্ঞানিক স্পর্শকাতর এই স্থাপনাটি নির্মাণে কারিগরি সহায়তা ও আর্থিক ব্যয়ের বেশিরভাগই আসছে রাশিয়া থেকে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ব পরমাণু সংস্থা রোসাটমের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট এটির নির্মাণ প্রায় শেষদিকে নিয়ে এসেছে।
 
এছাড়া চলতি বছরের অক্টোবরে নিউক্লিয়ার জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম আসার কথা রয়েছে রূপপুরে। মহামূল্যবান এই জ্বালানি পণ্য সংরক্ষণে এরই মধ্যে সাপোর্ট স্ট্রাকচার ও ফ্রেশ ফুয়েল স্টোরেজ ও রয়ুয়েল স্টোরেজ এর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে, জানা গেলো প্রকল্পসূত্রে।

শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরির দাবি

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিপুল বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকাশে সমন্বিত নীতিরও কোনো বিকল্প নেই।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘরে ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সমৃদ্ধি-২০৫০’ শীর্ষক সম্মেলনে নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে নীতিগত সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে এসব কথা বলেন।

তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে আয়োজক কমিটির সহ-আহ্বায়ক এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন আলোচনা দলের সমন্বয়ক ড. কাজী খলীকুজ্জামান।

বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘরে বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এক্সটার্নাল ডিবেট (বিডব্লিউজিইডি), ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ আর্থ সোসাইটির সঙ্গে যৌথভাবে আরও ৯টি সংগঠন এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই। সরকার এজন্য একটি পরিকল্পনা করেছে। সেই পরিকল্পনায় ২০৫০ সালের মধ্যে ১০০ ভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারের কথা বলছে। প্রযুক্তির বিকাশের কারণে এখন আর বিষয়টিকে উচ্চাভিলাসী মনে করা হচ্ছে না।’

সম্মেলনে বলা হয়, ‘এখন প্রতি ওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্যানেলের দাম নেমে এসেছে ২৩ সেন্টে। এর আগে ২০০৮ সালের দিকেও এটি ছিল ১২ থেকে ১৩ ডলার। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদেন সহজ এবং ব্যয় সাশ্রয়ী হওয়ায় সারাবিশ্বই নবায়নযোগ্য জ্বালনিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে গুরুত্ব দিচ্ছে। সারা বিশ্বে গত এক বছরে যত বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে তার ৮০ ভাগই নবায়যোগ্য জ্বালানির।’

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা কেন নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করব তা সবার আগে বিবেচনা করতে হবে। পরিবেশ দূষণ রোধ, কর্মসংস্থান, জ্বালানি সাশ্রয় কতটা হচ্ছে বিষয়গুলো আমাদের চিন্তা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি যদি ৭ দশমিক ২ শতাংশ হয় আর আমরা যদি পরিবেশ দূষণ করি ৮ শতাংশ, তাহলে আমাদের জিডিপির ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হবে। আমাদের এমন উন্নয়নের কথা চিন্তা করতে হবে যা টেকসই হবে।’

বিদ্যুৎ জ্বালানির সমন্বিত মাষ্টার প্লান প্রণয়নের সমালোচনা করে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এই কাজ করতে গিয়ে জাইকা বা বিদ্যুৎ বিভাগ পরিবেশ, বন এবং জলবায়ু পরির্তন মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসেনি।’

এককভাবে এ ধরনের পরিকল্পনা করাটা কঠিন বলে মনে করেন তিনি। এই পরিকল্পনাকে অবশ্যই মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে বলে মন্তব্য করেন সাবের হোসেন।

তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘এখন শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি কার্যকর করা সম্ভব, যা এক সময় অসম্ভব এবং ব্যয়বহুল বলে মনে করা হত। তাই এখন জ্বালানি মিশ্রণ নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন এবং কতটুকু জ্বালানি নবায়নযোগ্য বা পরিচ্ছন্ন উৎস থেকে আসা উচিত তাও আলোচনায় আসতে হবে। এটি রাতারাতি সম্ভব নয় এবং ধীরে ধীরে সেদিকে এগিয়ে যেতে একটি রোডম্যাপ ঠিক করা জরুরি।’

হাসানুল হক ইনু আরও বলেন, ‘এর বাইরে জাতীয় নিরাপত্তা, নাগরিকদের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বের সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত। প্রযুক্তিগত সীমিত সামর্থ্য, সমন্বয়ের অভাব এবং গ্যাস মজুদের ঘাটতির মত চ্যালেঞ্জগুলি কাটিয়ে ওঠা জরুরি।’

জলবায়ু পরিবর্তন-সম্পর্কিত প্রকল্পে ৫-৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করা হচ্ছে মনে করিয়ে দিয়ে ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ বাংলাদেশের জনগণের জীবন বাঁচাতে জলবায়ু অভিযোজনে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুতের চাহিদার বেশিরভাগই জীবাশ্ম জ্বালানি দিয়ে মেটানো হয়। এরমধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিমাণ ৩ শতাংশের মতো। এটিকে ২০৫০ সালের মধ্যে ১০০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া কতটা সম্ভব তা সবার আগে চিন্তা করতে হবে। পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে তিনি আরও বাস্তববাদী হওয়ার আহ্বান জানান।’

সম্মেলনে ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান তানভীর শাকিল জয় বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর সারা বিশ্বের মতো আমরাও জ্বালানি স্বয়ংসম্পূর্ণতা নিয়ে চিন্তিত। সরকার ইতেমধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তারে কাজ শুরু করেছে।’

এটিকে আরও গতিশীল করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ব্রাইট গ্রিন ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন দীপল চন্দ্র বড়ুয়া, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়কারী শরীফ জামিল এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রূপপুরের কাজে প্রভাব ফেলবে না: রোসাটম

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী রাশিয়ান সংস্থা রোসাটম বলেছে, তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজে কোনো প্রভাব ফেলবে না। এক বিবৃতিতে তারা এ দাবি করেছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে মস্কোর ওপর চাপ তৈরির ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার আরও ৮০ প্রতিষ্ঠান ও একক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা দেয়। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে রোসাটমও।

নিষেধাজ্ঞার ফলে রূপপুর প্রকল্প অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়লো কি না, এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে দেয়া বিবৃতিতে রোসাটম বলেছে, তাদের সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর প্রভাব ফেলবে না। প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি সরবরাহে রোসাটম বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

নির্ধারিত সময়ের ৪৫ দিন আগে রূপপুরের ডোম অংশের ঢালাই সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের রিয়্যাক্টর ভবনের বহিঃসুরক্ষা দেয়ালের (আউটার কন্টেইনমেন্ট) ডোম অংশের কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের ৪৫ দিন আগে এ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রকল্পের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এতমস্ত্রয় এক্সপোর্ট।

রোববার দুপুরে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের রিয়্যাক্টর ভবনের বহিঃসুরক্ষা দেয়ালের কংক্রিট ঢালাই শেষ করার জন্য ১৫৫ দিন সময় নির্ধারিত ছিল। তবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এটি ১১০ দিনেই শেষ করেছে। এটি শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল আগামী ১৫ এপ্রিল।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ডোম অংশের ঢালাইয়ে ব্যবহৃত হয়েছে ১ হাজার ৩৮৩ ঘনফুট কংক্রিট। এ কাজে ৪৪ জন বাংলাদেশিসহ ৬৫ জন বিশেষজ্ঞ অংশ নেন। বহিঃসুরক্ষা দেয়ালটির ঢালাই নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হওয়ার ফলে ডিজাইন অবস্থানে স্বয়ংক্রিয় তাপ অপসারণ ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত ডিফ্লেকটরের অভ্যন্তরীণ ও বহির্ভাগের স্টিল কাঠামো স্থাপনের কাজও সময়ের আগেই শেষ করা সম্ভব হয়েছে। এই জটিল প্রক্রিয়াটি দুই ধাপে সম্পন্ন হয়।

এতমস্ত্রয় এক্সপোর্টের (এএসই) ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক আলেক্সী দেইরী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ডিফ্লেকটর স্থাপনের মধ্য দিয়ে হিট এক্সচেঞ্জার, হিট এক্সচেঞ্জিং মডিউল কেসিং এবং স্বয়ংক্রিয় তাপ অপসারণ ব্যবস্থার এয়ারডাক্টের স্থাপন কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জেনারেল ডিজাইনার ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এতমস্ত্রয় এক্সপোর্ট রাশিয়ার রোসাটমের করপোরেশনের প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটিতে ১২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট স্থাপিত হবে। এখান থেকে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে।

রাশিয়ার দাবি, কেন্দ্রটি থ্রিপ্লাস প্রজন্মের রুশ ভিভিইআর রিয়্যাক্টর, যেগুলো সব আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে সক্ষম।

রূপপুরের সহায়ক রিয়্যাক্টর ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন

 নিউক্লিয়ার আইল্যান্ড-ভবন বা পরমাণু দ্বীপের অংশ। ছবিটি সম্প্রতি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে তোলা।

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আরএনপিপি) প্রথম ইউনিটে সহায়ক রিয়্যাক্টর ভবনের কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আট মাস আগেই এ কাজ শেষ হয়।

এই ভবনটি ‘নিউক্লিয়ার আইল্যান্ড’ বা পরমাণু দ্বীপের অংশ। সেখানে নিয়ন্ত্রণ ডিভাইসসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি স্থাপিত হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লজিস্টিক্সের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সময়ানুযায়ী প্রয়োজনীয় নির্মাণ সামগ্রী ও যন্ত্রপাতির সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার ফলে নির্ধারিত সময়ের ২৪১ দিন আগেই ভবনটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

রুশ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিকিমিত-এতমস্ত্রয় এর কর্মীরা প্রতি মাসে এক হাজার ৬০০ ঘনমিটার কংক্রিট ঢালাই করেন, যদিও শিডিউলে এর পরিমাণ ধরা হয়েছিল এক হাজার ঘনমিটার।

প্রকল্পের জেনারেল কন্ট্রাকটর এএসই’র ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং একই সঙ্গে রূপপুর এনপিপি নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক আলেক্সী দেইরী এ প্রসঙ্গে বলেন, সব চাহিদা পূরণ করে নিকিমিত-এতমস্ত্রয় এর কর্মীরা যে গতিতে কাজ সম্পন্ন করেছেন তাতে রূপপুর প্রকল্পের নির্মাণ কর্মীদের সর্বোচ্চ দক্ষতা ও পেশাদারত্বের পরিচয় পাওয়া যায়। আমাদের কর্মীদের এ জাতীয় পেশাদারত্বের ওপর ভরসা করে আমরা বলতেই পারি যে, কোভিড-১৯ অতিমারি এবং জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং অন্যান্য চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও রূপপুর এনপিপির কাজ নির্ধারিত সময়েই শেষ হবে।

নির্মাণ কাজের সময় হ্রাস পাওয়ায় ওভারহেড খরচসহ সার্বিক খরচ হ্রাস পেয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দক্ষ কর্মীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই অন্যান্য কাজের জন্য পাওয়া গেছে। এসব কর্মীরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছেন।

রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের যন্ত্রাংশ সরবরাহ স্বাভাবিক রেখেছে রাশিয়া

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে। ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নিরবচ্ছিন্ন যন্ত্রপাতি সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে রোসাটম জানিয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নতুন ব্যাচের সরঞ্জামসহ একটি কার্গো জাহাজ সম্প্রতি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে ছেড়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের রাশিয়ান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করা প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের এক এবং দুই ইউনিটের সরঞ্জামগুলোতে ১ হাজার ৫৭৩ টন ওজনের ১ হাজার ৩০০ পণ্য অন্তর্ভুক্ত।

বিবৃতি অনুসারে, জুন মাসে বিদ্যুৎকেন্দ্রে পণ্য সরবরাহ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

“চলমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য আমরা নির্মাণ ও সরঞ্জাম সরবরাহ উভয়ক্ষেত্রেই সমস্ত বাধ্যবাধকতা পূরণ করবো,” রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক আলেক্সি ডেরি বলেন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটি রাশিয়ান ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি দিয়ে সজ্জিত করা হবে যার মোট ক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

এটি একটি বিবর্তনীয় “জেনারেশন III+” নকশা যা প্রতিটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রয়োজনীয়তা সম্পূর্ণরূপে মেনে চলবে।

রোসাটম স্টেট কর্পোরেশনের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রকল্পের সাধারণ ডিজাইনার ও ঠিকাদার।

প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের মতে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটটি ২০২২ সালে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৪ সালে কাজ শুরু করার কথা থাকলেও সম্প্রতি প্রথম ইউনিটের অপারেশনের সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ করে ২০২৪ এবং দ্বিতীয় ইউনিটটি আরও এক বছর পরে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে রূপপুরে প্রভাব পড়তে পারে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

 এ কে আবদুল মোমেন | ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

বুধবার  জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ রাশিয়ার সঙ্গে ১ হাজার ১৩৮ কোটি ডলারের ঋণচুক্তিতে আবদ্ধ হয়। এই ঋণের টাকা আসছে প্রধানত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক হয়ে। এতে বাংলাদেশ রুবলের বদলে ডলারে ঋণের অর্থ নিতে চেয়েছে। বাংলাদেশের একক প্রকল্প হিসেবে সবচেয়ে বড় অবকাঠামা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা।

মন্ত্রী আরও বলেন, রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা এই লেনদেনে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। চলমান প্রকল্পে অর্থায়ন এবং ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে বিকল্প পদ্ধতি কী হতে পারে- তা নিয়ে রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।

এদিকে এই প্রকল্পে ঋণ সহায়তা হিসেবে ৯০ শতাংশ অর্থেরই জোগান দিচ্ছে রাশিয়া। এখন ইউক্রেন যুদ্ধের পটভূমিতে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত ভিবি ব্যাংকসহ দেশটির কিছু ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে।

রাশিয়া ইউক্রেন সংঘাত: রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ পেছাবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের কারণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে অচলাবস্থার শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রোসাটম।

তারা জানিয়েছে, ইউক্রেন ইস্যুতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজে কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না। নির্ধারিত সময়েই শেষ হবে প্রকল্পের কাজ।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে রোসাটম। সংস্থাটি এক বার্তায় বলেছে, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ও কাজের সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন হবে না।’

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরই এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালুর কথা রয়েছে। এটি দেশের প্রথম পারমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র, যা রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মাণ হচ্ছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে। মন্ত্রণালয় বলছে, দ্রুতগতিতে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। গত বছরের অক্টোবরে স্থাপন করা হয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল অংশ রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল বা পরমাণু চুল্লি।

সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। আর দ্বিতীয় ইউনিট চালু হবে ২০২৪ সালে।

সামরিক অভিযানের কারণে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে রাশিয়া আর্থিকভাবে বেশ চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে বিনিয়োগ রাশিয়ার। ফলে ইউক্রেনে অভিযান দীর্ঘমেয়াদি হলে তার প্রভাব বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের ওপরও পড়তে পারে- এমন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে খরচ হচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। এর ৯০ শতাংশই ঋণ দিচ্ছে রাশিয়া। ঋণের বড় অংশ আসছে দেশটির ভিবি ব্যাংক থেকে। রাশিয়ার যে প্রতিষ্ঠানগুলো পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েছে, তার মধ্যে ভিবি ব্যাংকও রয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বলছে, তারাও সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বলেন, ‘পুরো বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখছে। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না। এখানে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডের ব্যাপার আছে।’

তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বই তো এখন ওলটপালট। আমরাও এর বাইরে নই। তবে স্থানীয় পর্যায় থেকে আমার কথা বলা ঠিক হবে না।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমান বলেন, ‘রাশিয়া এখন একটা যুদ্ধে লিপ্ত আছে, তারা ইউক্রেনকে আক্রমণ করেছে। কাজেই সাধারণ ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলো অবরোধ আরোপ করেছে। ব্যাসিক্যালি কয়েকটি দেশ ছাড়া সারা পৃথিবী স্যাংশন দিয়েছে। ইউরোপ এবং আমেরিকা ন্যাটো অ্যালাইস ইনক্লুডিং জাপান, অস্ট্রেলিয়া, সাউথ কোরিয়াও এর মধ্যে আছে।

‘কাজেই এ ক্ষেত্রে আমার ধারণা, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যে গতিতে চলছিল, অ্যাজ অ্যা অ্যানালিস্ট, এ ব্যাপারে আমি স্বাভাবিকভাবে উদ্বিগ্ন। আমি মনে করি যে কিছুটা (কাজ) বাধাগ্রস্ত হবে।’

দুবাই এক্সপোতে নিজস্ব এসএমআর প্রযুক্তি প্রদর্শন করলো রসাটম

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রসাটম ২০ জানুয়ারী দুবাইয়ে চলমান এক্সপো-২০২০ তে ক্ষুদ্র মডিউলার রিয়্যাক্টর (এসএমআর) দিবস উদযাপন করে। ক্ষুদ্র মডিউলার রিয়্যাক্টরের সুবিধা এবং সারা বিশ্বে এর ব্যাবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে রসাটম এই আন্তর্জাতিক ফোরামটির আয়োজন করে।

ফোরামে অংশগ্রহণ করেন রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচোভ, ওয়ার্ল্ড নিউক্লিয়ার এসোসিয়েশনের মহাপরিচালক শামা বিলবাও ওয়াই লিওনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও পার্টনার কোম্পানীর প্রতিনিধিবৃন্দ, ইউএই এটমিক এনার্জী কর্পোরেশনের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আল-হাম্মাদী এবং সংযুক্ত আরব আমীরাতের রুশ রাষ্ট্রদূত তীমুর জাবিরভ।

শনিবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটম থেকে পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্বের বিভিন্ন জলবায়ু অঞ্চলে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং কার্বনমূক্ত লক্ষ্যমাত্রাসমূহ অর্জনে এসএমআর ভিত্তিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রর সুবিধাগুলো নিয়ে একটি মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন প্রদান করা হয়।

বক্তব্যে রসাটম মহাপরিচালক বলেন, “শুধুমাত্র কপ-২৬ ই নয়, বরং ২০২১ সালের যতগুলো এনার্জী ও জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে তা থেকে অনুভূত হয় যে মানুষ এখন অনুধাবন করতে পারছে পরমাণু প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যাবহার ছাড়া কার্বনমুক্ত ভবিষ্যৎ পৃথিবী সম্ভব নয়”।

প্যানেল আলোচনাকালে এক প্রশ্নের জবাবে আলেক্সি লিখাচোভ উল্লেখ করেন যে, “বৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সুবিধা সুস্পষ্ট- উন্নত অবকাঠামো এবং বিপুল এনার্জী চাহিদা রয়েছে এমন দেশগুলোতে নির্ভরযোগ্য, নিরবিচ্ছিন্ন এবং কম কার্বন নিঃসরণকারী বিদ্যুৎ উৎপাদনে এগুলো অত্যন্ত উপযোগী। এসএমআর গুলোর ক্ষেত্র কিছুটা ভিন্ন। দূরবর্তী অঞ্চলে, দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো, স্বল্প বিদ্যুৎ চাহিদা রয়েছে এমন দেশগুলোতে এবং নির্দিষ্ট শিল্প প্রকল্পে (যেমন মাইনিং প্রকল্প) বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এসএমআর প্রযুক্তি সর্বাধীক উপযোগী”।

তিনি আরও জানান, “এসএমআর প্রযুক্তি সুস্পষ্ট আরও কিছু সুবিধা রয়েছে যেমন চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত এর উৎপাদন কমানো বা বাড়ানো, নির্মাণে কম সময় এবং স্বল্প স্টার্টআপ ব্যয়। ভৌগলিক কারনে যেসকল এলাকায় বৃহদাকার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ আর্থিকভাবে লাভজনক নয় বা নির্মাণ করা কঠিন, সে সকল এলাকায় এসএমআর প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ করা যেতে পারে। আমার মনে হয় সারা বিশ্বের মানুষের কাছে, বিশেষকরে বর্তমানে প্রায় একশ কোটির অধিক মানষের কাছে লো-কার্বন এনার্জী পৌছে দেয়ার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা চালানো উচিৎ”।

রসাটমের ফার্স্ট উপ-মহাপরিচালক কিরিল কামারভ জানান যে, “রাশিয়া শুধুমাত্র তাত্ত্বিকভাবে এই এসএমআর প্রযুক্তি অফার করছে না বরং ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তির সাহায্যে দেশটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ করছে। উদাহরণস্বরুপ তিনি ভাসমান বিদ্যুৎকেন্দ্র একাডেমিক লামানোসভের উল্লেখ করে বলেন যে এটি ইতোমধ্যে দুই বছরের অধিক সময় যাবত রাশিয়ার চূকোতকা অঞ্চলের পেভেক শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। স্থলভাগে ইয়াকুতিয়ায় একটি এসএমআর এনপিপি নির্মানের কাজ চলছে যা ২০২৮ সালেই গ্রীডে যুক্ত হবে। কেন্দ্রটিতে আরআইটিএম-২০০এন রিয়্যাক্টর ব্যবহৃত হবে।
 
ফোরামে আর্মেনিয়া, করগিস্থান, ফিলিপাইনের সরকারি এবং এনার্জী কোম্পানী প্রতিনিধিবৃন্দ যেমন কীভাবে এসএমআর তাদের বিভিন্ন জাতীয় উন্নয়ন সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে সহায়তা করেছে। সেলিগডার কোম্পানীর প্রতিনিধি বলেন যে, রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলে প্রতিষ্ঠানটির এসএমআর ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্ভরযোগ্যতার সঙ্গে এবং পূর্ব অনুমেয় মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হয়েছে।

এসএমআর দিবসকে কেন্দ্র করে কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও সম্পাদিত হয় যার মধ্যে রয়েছে কিরগিজ প্রজাতন্ত্রে এসআমআর ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনে সহযোগিতা সংক্রান্ত রুশ-কিরগিজ সমঝোতা স্মারক। রুসাটম ওভারসীজ এর সঙ্গে আর্মেনীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সহযোগিতা চুক্তি এবং সেলিগডার মাইনিং কোম্পানির সঙ্গে অপর একটি সমঝোতা স্মারক।

ঈশ্বরদীতে নিউক্লিয়ার বাস ট্যুরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

 শুক্রবার নিউক্লিয়ার বাস ট্যুরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান।

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে জনমনে আগ্রহ সৃষ্টি এবং বিশেষ করে পরমাণু প্রযুক্তির নিরাপত্তা ও এর নানাবিধ ব্যবহার সম্পর্কে জনগণের সম্পৃক্তির উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে সজ্জিত একটি যাত্রীবাহী বাস সারা দেশ পরিভ্রমণে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করেছে। পরিভ্রমণ শেষে নিউক্লিয়ার বাসটি ২৭ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় ফিরে আসবে।

রাজধানীর পারমাণবিক শক্তি তথ্যকেন্দ্রের আয়োজনে নিউক্লিয়ার বাস ট্যুর কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং রুশ রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন (রসাটম)। বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান রাজধানীর রূপপুর এনপিপি ভবনের সামনে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে এবং বেলুন উড়িয়ে নিউক্লিয়ার বাস ট্যুরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মান প্রকল্পের পরিচালক এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. শৌকত আকবর, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা অলোক চক্রবর্তীসহ অন্যান্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ এই বাস আগামী পাঁচ দিনব্যাপী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ২০টি জেলা পরিভ্রমণ করবে। পথিমধ্যে বিভিন্ন জনসংযোগ কর্মসূচিরও আয়োজন করা হবে। জনগণকে আকৃষ্ট করতে এবং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন আকর্ষণীয় কার্যক্রম গ্রহণের পরিকল্পনা আছে। যেমন পথসভা, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় ভিজিট, লিফলেট ও অন্যান্য পাঠ্যসামগ্রী বিতরণ, বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন কুইজ ও গেমসসহ আরও অনেক কার্যক্রম। সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী ও প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য থাকবে আকর্ষণীয় স্যুভেনির। নিউক্লিয়ার এনার্জি বিষয়ে রুশ-বাংলাদেশ যৌথ কমুনিকেশন্স কর্মসূচীর আওতায় এই বাস ট্যুরটি আয়োজন করা হয়েছে।

‘রূপপুরে নিউক্লিয়ার চুল্লি স্থাপন চলতি মাসে’

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র। ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদন: করোনা মহামারি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকাজে কোনো বাধা হয়নি উল্লেখ করে প্রকল্প পরিচালক শৌকত আকবর বলেছেন, চলতি মাসেই ইউনিট-১-এ চুল্লি স্থাপনের কাজ শুরু হবে।

তিনি জানান, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রাশিয়ান নকশা, কারিগর ও আর্থিক সহায়তায় ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির দুটি রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি ও সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নিতে প্রকল্প কর্মকর্তা ও সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সঙ্গে বৈঠক করেছে একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় কমিটি।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির উপকমিটির আহ্বায়ক সাবের হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে রোববার দিনব্যাপী দলটি প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন এবং দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা ও বিদ্যমান সংকট নিয়েও আলোচনা করেছে। তবে বৈঠক শেষে সংসদীয় কমিটি গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে রাজি হয়নি।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, রূপপুর প্রকল্পের রাশিয়ান বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে সংসদীয় কমিটির কাছে শিডিউল অনুযায়ী প্রকল্পের নির্মাণকাজের বিভিন্ন পর্যায়ের সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরেন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ে শিডিউল অনুযায়ী এগোচ্ছে বলে প্রতিনিধিদল এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগকে জানিয়েছেন রাশিয়ান কর্মকর্তারা। প্রকল্পের নির্মাণ কাজে কাঁচামালের প্রাপ্যতার কিছু সংকটের কারণে ভোগান্তি হচ্ছে। তবে নির্মাণকাজে বড় কোনো বাধা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন তারা।

বৈঠকে সংসদীয় কমিটির সদস্য মঞ্জুর হোসেন, সংসদ সদস্য আদিবা আনজুম মিতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আলী হোসেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প পরিচালক শৌকত আকবর এবং আইএমইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে আলোচনায়, আইএমইডি কর্মকর্তারা প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের নির্মাণকাজের ধীরগতির বিষয়টি নজরে এনেছেন।

সংসদীয় কমিটির সদস্য মঞ্জুর হোসেন ও আদিবা আনজুম মিতা সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প পরিচালক শৌকত আকবর বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রাশিয়ান নকশা, কারিগর ও আর্থিক সহায়তায় ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির দুটি রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হবে। চলতি মাসেই ইউনিট-১-এ চুল্লি স্থাপনের কাজ শুরু করতে আমরা কাজ করছি। করোনা মহামারি এ প্রকল্পের নির্মাণকাজে কোনো বাধা হয়নি।’

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিশেষজ্ঞদের সভা

রোসাটমের টেকনিক্যাল একাডেমী পরিদর্শন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়েরমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান।

নিজস্ব প্রতিবেদন: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিশেষজ্ঞদের রাশিয়ায় প্রশিক্ষণের বিষয়ে মস্কোয় রোসাটমের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ৷

রাশিয়ান ফেডারেশনে সফরত বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, আণবিক শক্তি কমিশন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সম্প্রতি রোসাটমের টেকনিক্যাল একাডেমি পরিদর্শন করেন ও এ বিষয়ে আলোচনা সভা করেন।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান ওই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এবং রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন রোসাটম রাষ্ট্রীয় আণবিক শক্তি কর্পোরেশন ও রোসাটম সার্ভিস জেএসসি এবং টেকনিক্যাল একাডেমির ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা।

রোসাটম থেকে পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, রাশিয়াতে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য টিকা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ১শ ৫শ’র বেশি পিসিআর টেস্ট করা হয়েছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রশিক্ষণের সময় তাদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। বর্তমানে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের বিষয়টি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণের সূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক এবং এএসই জেএসসির ভাইস প্রেসিডেন্ট এলেক্সি ডেইরী বলেন, বর্তমানে প্রশিক্ষণার্থীদের রাশিয়ায় পাঠানোর প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করা হয়েছে। এতে এখন তাদের প্রশিক্ষণের সম্পূর্ণ সময়ে রাশিয়াতে অবস্থানের জন্য ভিসা দেওয়া হবে। এছাড়াও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কার্যতালিকা অনুযায়ী আমাদের ট্রেনিংয়ের গ্রুপ পাঠাতে হচ্ছে। আমরা এখন সব ধরনের কাজ সমন্বয়ের জন্য এগিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া এ মুহূর্তে ইপিসি চুক্তি অনুসারে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি উন্নত সময়সূচি করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রশিক্ষণ এবং পদ্ধতিকরণ উপকরণ, ডকুমেন্টেশন, কম্পিউটারভিত্তিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, পোস্টার ও জটিল তথ্য ব্যবস্থায় বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত নতুন প্রযুক্তি, ভিভিইআর ১২০০ পাওয়ার ইউনিট এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রদর্শনের জন্য একটি ভিজুয়াল প্রোটোটাইপিং থ্রিডি প্রদর্শনী কমপ্লেক্সের সঙ্গে পরিচিত হন ।

বৈঠক শেষে ইয়াফেস ওসমান বলেন,‘রাশিয়ার পরিকল্পনায় বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ আমাদের জন্যে বিশেষ গর্বের বিষয়। পারমাণবিক প্রযুক্তি নতুন প্রজন্মের কাছে হস্তান্তর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টেকনিক্যাল একাডেমির অনেক প্রশিক্ষক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে তাদের কর্মজীবন শুরু করেছে এবং তারা প্রযুক্তিটি সম্পর্কে সম্মক ধারণা রাখে। তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতার সমন্বয় এই ধরনের জটিল প্রযুক্তি আয়ত্তে নিয়ে আসার জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

রোসাটম সার্ভিস জেএসসির ট্রেনিং প্রজেক্ট ডিপার্টমেন্টের পরিচালক ভিভোলোদ ভিটিয়াজেভ বলেন, গ্রাহকের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের মান বাড়ানোর জন্য ২০১৮ সালে একটি বড় বিনিয়োগ কর্মসূচি চালু করা হয়, ক্লাসরুম মেরামত করা হয়, আইটি ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করা হয়।  

তিনি আরো জানান, বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য ১৭০ জন নতুন প্রজন্মের প্রশিক্ষককে প্রস্তুত করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে অনেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন। বছরের শেষে সব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে জেএসসি রোসাটম সার্ভিসের হাইটেক কোম্পানি জেইটি নির্মিত (জেএসসি রোসাটম সার্ভিসের সহোযোগী প্রতিষ্ঠান) এনালিটিকাল এবং ফুল স্কেল সিমুলেটর থাকবে।

রোসাটম টেকনিকাল একাডেমির প্রশিক্ষকদের মতে, বাংলাদেশের ছাত্ররা শিক্ষিত, তাদের দেশে এবং দেশের বাইরে থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করা মার্জিত মানসিকতা সম্পন্ন।  

মিড টার্ম পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিশেষজ্ঞদের গড় সাফল্য ৯৫ দশমকি ৫ শতাংশ।

টেকনিক্যাল একাডেমির প্রথম ভাইস রেক্টর ভ্লাদিমির আস্পিসভ বৈঠক শেষে বলেন, বাংলাদেশের প্রথম গ্রুপের রোসাটমের এই টেকনিক্যাল একাডেমিতে আসার ঠিক তিন বছর অতিবাহিত হয়েছে। এই পুরো সময়ে বাংলাদেশের ব্যবস্থাপকরা একাডেমিকে মনোযোগসহ পর্যবেক্ষণ করছে। এটি প্রশিক্ষণের সময়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  আমরা সব সময় গ্রাহকের সমস্ত মন্তব্য এবং পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে থাকি এবং নেতাদের কাছ থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণা প্রশিক্ষণার্থীদের পড়াশোনা ও জ্ঞান অর্জনে উৎসাহ যোগায়।

পারমানবিক স্থাপনার ভৌত সুরক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষন গ্রহন করলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

 রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ম্যাপ ।

নিজস্ব প্রতিবেদন: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দলের জন্যে দুই সপ্তাহ ব্যাপী “পারমানবিক স্থাপনার ভৌত সুরক্ষা” বিষয়ক প্রশিক্ষন কোর্স পরিচালনা করেছেন রোসাটমের টেকনিক্যাল একাডেমী গ্লোবাল নিউক্লিয়ার সেফটি এন্ড সিকিউরিটি ইন্সটিউট (জিএনএসএসআই) এর বিশেষজ্ঞরা ।

প্রশিক্ষনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব দেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল ইউসুফ । প্রশিক্ষনার্থীগণ পারমানবিক স্থাপনার ভৌত অবকাঠামোর সুরক্ষা ব্যাবস্থা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন এবং এ বিষয়ক আন্তর্জাতিক দলিল সংক্রান্ত তথ্য গ্রহন করেন।

আজ শুক্রবার দুপুরে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২০ সাল থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভৌত অবকাঠামোর সুরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত, রাশিয়ান কোম্পানী জেএসসি এফসিএস এন্ড এইচটি “এসএনপিও এলেরনের সাথে কাজ করছে।

প্রশিক্ষন কোর্সের শুরুতেই রাশিয়ার বাহিরে রোসাটম স্টেট কর্পোরেশনের পারমানবিক স্থাপনার নিরাপত্তা বিভাগের বিদেশী প্রকল্প শাখার প্রধান মিস রুসলানা কুর্দিওমোভা।তিনি উল্লেখ করেন যে বর্তমানে রাশিয়া ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগীতা নতুন মাত্রা পেয়েছে, এবং রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের ধারাবাহিকতায় অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সংগত কারনেই কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষন দে্যা হচ্ছে।

তাত্ত্বিক প্রশিক্ষনের পাশাপাশি প্রশিক্ষনার্থীগন রোসাটমের টেকনিক্যাল একাডেমীর স্পেশাল ট্রেনিং গ্রাউন্ড ও গবষনাগারে বিভিন্ন ব্যাবস্থা ও ভৌত সুরক্ষার জন্যে ব্যাবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সাহয্যে বেশ কয়েকটি ব্যাবহারিক কাজেও অংশ নেয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাগণ পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভৌত সুরক্ষা ব্যা্বস্থা তৈরীর প্র্ত্যেকটি ধাপ সম্পর্কে সামগ্রিক জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা লাভ করে , যা এই প্রশিক্ষনের মুল উদ্দ্যেশ্য।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল ইউসুফ বলেন “বর্তমানে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানাধীন অবস্থায় আছে, আমাদের প্রশিক্ষন ম্যাটেরিয়াল টি সম্পুর্নরুপে আয়ত্ব করতে হবে, এর নকশা প্রনয়ন থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির কমিশনিং পর্যন্ত। আগামী দিন গুলোতে যে কাজ আমাদের করতে তাই রোসাটমের টেকনিক্যাল একডেমী কর্তৃক পরিচালিত এই প্রশিক্ষনের মূল লক্ষ্য। এই কোর্সের অন্যাতম একটি বৈশিষ্ট্য হোলো ব্যাবহারিক দক্ষতা লাভ। আমাদের পুরো দল অত্যন্ত একে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে গ্রহন করছে এবং তারা যতটুকু সম্ভব শেখার চেষ্টা করছে যাতে এই জ্ঞান ভবিষ্যতে ভৌত অবকাঠামো সুরক্ষায় তা ব্যাবহার করা যায়।

রোসাটমের টেকনিক্যাল একাডেমি পরিদর্শনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভৌত অবকাঠামোর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত একটি প্রতিনিধি দল রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের টেকনিক্যাল একাডেমি পরিদর্শন করেছেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু নোমান মো. শিবলীর নেতৃত্বে সম্প্রতি এ প্রতিনিধি দলটি রাশিয়ান ফেডারেশন পরিদর্শন সংক্রান্ত ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির অংশ হিসেবে এ পরিদর্শন করেন।

এ সময় তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মিটিংয়ের শুরুতে টেকনিক্যাল একাডেমির ভাইস রেক্টর ভ্লাদিমির আস্পিদভ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

ভ্লাদিমির আস্পিদভ বলেন, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ প্রকল্পের ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী ২০২৩ সাল পর্যন্ত টেকনিক্যাল একাডেমি এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কাজ করার জন্যে প্রায় ১৪০০ বাঙ্গালি পারমানবিক বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণ দেন। এর পাশাপাশি টেকনিক্যাল একাডেমির আরেকটি অংশ গ্লোবাল নিউক্লিয়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি ইন্সটিউট (জিএনএসএসআই) বিদেশি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভৌত অবকাঠামো সুরক্ষায় বিদেশি কর্মকর্তাদের জন্যে একটি নতুন প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করেছে।

জিএনএসএসআই’র ডাইরেক্টর ইগোর বলোগোভ ভাষ্য অনুযায়ী বেশিরভাগ প্রশিক্ষণ কোর্সগুলোতে বিভিন্ন পদ্ধতিতে এবং ভৌত সুরক্ষায় ব্যাবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সাহায্যে ব্যবহারিক কাজের মাধ্যমে খোলা জায়গায় এবং ভৌত সুরক্ষার টেকনিক্যাল ফাসিলিটি সমৃদ্ধ ল্যাবরেটরিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

এই টেকনিক্যাল ট্যুরে বিদেশি অতিথিরা প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত বিশেষায়িত শ্রেণিকক্ষ, আউটডোর এরিয়া এবং ভৌত সুরক্ষার টেকনিক্যাল কাজে ব্যবহৃত গবেষণাগার পরিদর্শন করেন। আধুনিক সরঞ্জাম এবং পরিমাপকারী যন্ত্রাংশ দিয়ে সজ্জিত টেস্টিং ল্যাবরেটরির প্রতি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় যেখানে নির্ভুলভাবে বাংলাদেশের ন্যায় জলবায়ু পরিস্থিতিতে কিছু বিশেষ সরঞ্জামের পরীক্ষা করা যাবে।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা জিএনএসএসআই কর্মকাণ্ডে আগ্রহ প্রকাশ করেন। উভয়পক্ষ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভৌত অবকাঠামো সুরক্ষায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে একমত পোষণ করেন।
স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন