বজ্রপাত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বজ্রপাত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

কুষ্টিয়ায় বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু, আহত ৫


৪ জনের মৃত্যু
কুষ্টিয়ায় বজ্রপাত। ছবিঃ সংবাদ সাতদিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পৃথক দুটি স্থানে বজ্রপাতের ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।

বুধবার (৯ অক্টোবর) বিকাল ৪টার দিকে মথুরাপুর ইউনিয়নের হোসেনাবাদ গড়ের পাড়া ও ফারকপুর গ্রামে বজ্রপাতের ঘটনাটি ঘটে।

নিহতরা হলেন- গড়েরপাড়ার আওলাদ হোসেন (৬০), নিজাম হোসেন (৪২), তরিকুল ইসলাম (২০) ও ফারাকপুরের জহুরা খাতুন (৪০)।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাত থেকে আটজন কৃষক মাঠে কাজ করার বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে ফারাকপুর গ্রামে বাড়ির পাশে কাজ করার সময় বজ্রপাতে আহত হন জহুরা খাতুন। তাকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, তিনজন পুরুষ ও এক নারীকে মৃত অবস্থা হাসপাতালে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত কয়েকজন চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পাবনায় বজ্রপাতে ২ শ্রমিক নিহত

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার ভাঙ্গুরায় মাঠে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ২ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার বেতুয়ান গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত শ্রমিকেরা হলেন—জেলার চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা গ্রামের বাসিন্দা শাকিল হোসেন (১৯) ও রমিজ উদ্দিন (৩০)। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিলপাশা ইউনিয়নের বেতুয়ান গ্রামের বাওনজান এলাকায় বোরো ধান কাটছিলেন ১৫ শ্রমিক। ওই এলাকায় মঙ্গলবার বিকেলে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এতে শ্রমিকেরা পাশের একটি উন্মুক্ত খোলা ঘরে আশ্রয় নেন। কিছুক্ষণ পরে বজ্রপাতে ওই ঘরে অবস্থান করা ৫ জন শ্রমিক মারাত্মক আহত হন। এ সময় অন্যান্য শ্রমিকেরা তাঁদের উদ্ধার করে ভাঙ্গুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক দুই শ্রমিককে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার ছোট বিষাকোল ও পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর উপজেলার আল্লাহবাদ গ্রামের আরও আটজনকে ভাঙ্গুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বেতুয়ান গ্রামের ইউপি সদস্য আরজু খান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিকেল থেকেই বৃষ্টির সঙ্গে প্রচণ্ড বজ্রপাত শুরু হয়। এতে দুই শ্রমিক মারা যায়। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ভাঙ্গুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। সেই সঙ্গে আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসায় সহযোগিতা করা হচ্ছে।

ঈশ্বরদীতে বজ্রপাতে ১৪ গরুসহ প্রাণ গেল যুবকের

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে বজ্রপাতে ১৪টি গরুসহ সজিব হোসেন (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের কামালপুরের চরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সজিব লক্ষ্মীকুন্ডার কামালপুর গ্রামের আলহাজ প্রামাণিকের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, সজিব প্রতিদিন বাবার খামারের গরু নিয়ে কামালপুরের প্রত্যন্ত চরে পতিত জমির ঘাস খাওয়াতে যান। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালে খামারের ৪১টি গরু নিয়ে কামালপুরের চরের উদ্দেশে বের হয়ে যান। সন্ধ্যার দিকে বাড়িতে ফিরে আসার সময় হঠাৎ বৃষ্টির সঙ্গে ব্যাপক বজ্রপাত শুরু হলে ১৪টি গরুসহ ঘটনাস্থলেই সজিব মারা যান। বৃষ্টি শেষ হওয়ার পর স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ১৪টি গরু মারা যাওয়ায় ১০ লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

নিহতের বাবা আলহাজ প্রামানিক বলেন, বিকেলে যখন বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হয় তখন আমি ফোনে ছেলেকে দ্রুত বাড়িতে চলে আসতে বলি। বাড়ি ফেরার পথে আমার ছেলের জীবন চলে গেল। কোনোভাবেই বিষয়টি মেনে নিতে পারছি না। ছেলেই আমার সংসারের হাল ধরেছিল।

ঈশ্বরদী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বজ্রপাতে ১৪টি গরুসহ একজন কৃষক নিহত হয়েছেন। নিহতের মরদেহ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বজ্রপাত থেকে বাঁচতে হলে সবাইকে প্রথমে সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে খোলা আকাশের নিচে থাকা যাবে না।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন