চট্টগ্রাম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
চট্টগ্রাম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

তারল্য সংকটে ব্যাংকগুলো: সীমিত নগদ উত্তোলনের বিষয়ে হতাশ গ্রাহকরা

 তারল্য সংকটে ব্যাংকগুলো: সীমিত নগদ উত্তোলনের বিষয়ে হতাশ গ্রাহকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত বৃহস্পতিবার ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের (এফএসআইবি) বাসাবো শাখা থেকে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে বিস্মিত হয়েছেন অভিবাসী শ্রমিক আলাউদ্দিন। সম্প্রতি তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে এসেছেন।

 লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালে তার বাবার চিকিৎসাধীন। তার জন্য টাকা তুলতে আলাউদ্দিনকে ব্যাংক থেকে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা অফার করা হয়।

পরিস্থিতির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে তিনি টাকার অংক বাড়ানোর জন্য ব্যাংক কর্মকর্তাদের রাজি করানোর চেষ্টা করেন। তবে তারা তীব্র তারল্য সংকটের কথা উল্লেখ করে মাত্র ১০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন।

এরপর আলাউদ্দিনকে খুবই হতাশ দেখাচ্ছিল। তিনি  বলেন, ‘আমি তাদের বলেছিলাম, এ টাকা আমার বাবার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন, কিন্তু তারা বলেছেন, ব্যাংক নগদ প্রবাহের সংকট রয়েছে। এর বেশি দিতে পারবেন না।এই খরচ আমি কীভাবে মেটাব?’

এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। দেশজুড়ে একই ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে ইউএনবি জানতে পারে, টাঙ্গাইলে এফএসআইবি ও ন্যাশনাল ব্যাংকের শাখাই গত বুধ ও বৃহস্পতিবার গ্রাহকরা জড়ো হন। প্রত্যেকবার লেনদেনে মাত্র ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা অফার করার পরে অনেক গ্রাহক হতাশ হয়ে চলে গেছেন।

এফএসআইবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইউএনবির সঙ্গে কথা বলার সময় এই সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, ব্যাংকগুলো নজিরবিহীন তারল্য সংকটে পড়েছে, কারণ গ্রাহকরা তাদের হঠাৎ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নিয়েছেন।

একজন কর্মকর্তা বলেন, গ্রাহকদের ধীরে ধীরে কম পরিমাণে অর্থ উত্তোলন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এফএসআইবির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুল মান্নান চ্যালেঞ্জের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘জরুরি চাহিদা মেটাতে চলতি সপ্তাহে ৩০০ কোটি টাকা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এছাড়া ঘাটতি মেটাতে এফএসআইবি তাদের বিনিয়োগ থেকে ৪৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে।’

মান্নান বলেন, স্বল্প মেয়াদে তারল্য নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আন্তঃব্যাংক ঋণের নিশ্চয়তা দিয়েছিল।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সহসভাপতি মান্নান বলেন, 'ব্যাংকিং খাতের এটি একটি নিয়মিত ব্যবস্থা, যা দেশে বিগত সরকারের আমলে নানা অপব্যবহারের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।’

ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের (এনবিএল) চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে আর্থিক দুরবস্থার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণহীনতাকে দায়ী করেছেন। সবসময় ন্যাশনাল ব্যাংকের সুনাম ছিল, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুর্বল তদারকির কারণে এটি গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে।

এখন পদক্ষেপ নেওয়া এবং তারল্য ঘাটতি ঠিক করা তাদের দায়িত্ব বলে জানান তিনি।

এস আলম ও সিকদার গ্রুপের মতো কোম্পানিগুলো ঋণের অর্থ ফেরত দিতে না পারায় ব্যাংকগুলো পঙ্গু হয়ে পড়ে। এখন আমানতকারীরা ভুগছেন।

দেশে ক্ষমতার পালাবদলের ফলে এসব ব্যক্তির অনেকেই আত্মগোপনে চলে গেছেন অথবা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। ফলে ব্যাংকগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।

সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ১১টি ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে এবং এস আলম ও সিকদার গ্রুপের সম্পদ বিক্রির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, খেলাপি ঋণ আদায়ে এসব সম্পদ বিক্রি করা হতে পারে। আমানতকারীদের টাকা যাতে সুরক্ষিত থাকে, তা নিশ্চিত করবে সরকার।

দেশের ৬১টি ব্যাংকের ১১ হাজারের বেশি শাখার অনেকগুলোই নগদ অর্থের তীব্র সংকটে ভুগছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে বাজারে অর্থপ্রবাহ কিছুটা কমেছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ছাত্র বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক উত্থান-পতনের মাধ্যমে সৃষ্ট অস্থিরতার কারণে বিষয়টিকে আরও ঘনীভূত হয়েছে। সে সময় ব্যাংকিং কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, এর ফলে নগদ স্থানান্তরে ব্যাপক বিলম্ব এবং লেনদেনে জট তৈরি হয়।

৭ জানুয়ারি ভোট নয়, আ.লীগের কাউন্সিল হবে : ডা. শাহাদাত

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন আরেকটি জালিয়াতির নির্বাচন করতে যাচ্ছে। এটি আওয়ামী লীগের অধীনে একতরফা নির্বাচন। ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা করার নির্বাচন। ওইদিন নির্বাচনের নামে আওয়ামী লীগের দলীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। 

৩১ ডিসেম্বর রোববার চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী মাজার ও শেরশাহ এলাকায় সরকার পতনের একদফা দাবি ও ৭ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনে বায়েজিদ থানা কৃষক দলের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণকালে তিনি এ কথা বলেন। 

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তিন-চারজন দলীয় লোকের মধ্য থেকে যেকোনো একজনকে এমপি হিসেবে ঘোষণা করা হবে। ঠিক যেমনটা করে দলের কাউন্সিল করে জেলা ও উপজেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। এটা কোনো ভোট নয়। ভোট দিয়ে এই অবৈধ সরকারের ক্ষমতা নবায়নে সহযোগিতা করবেন না। এই নির্বাচন বন্ধ করতে হবে। তাই ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের নামে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল বর্জন করুন।

তিনি বলেন, বিএনপি সন্ত্রাসী দল নয়। সন্ত্রাসী দল আওয়ামী লীগ। বিএনপির আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নিতে মানুষ পুড়িয়ে মারে আওয়ামী লীগের লোকেরা। কয়েকদিন আগে ভোলায় বোমা বানাতে গিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসী মারা গেছে। বরিশালে শেখ হাসিনার জনসভায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মারামারিতে একজন মারা গেছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল বোমাসহ হাতেনাতে ধরা পড়েছে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। আর দায় চাপাচ্ছে বিএনপির ওপর। আসলে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে নির্মূল করে চিরদিন ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে চান। কিন্তু জনগণ তা হতে দেবে না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, বায়েজিদ থানা কৃষক দলের সভাপতি আমির হোসেন ও সিনিয়র সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন। 

এদিন, নগরের বিআরটিসি এবং স্টেশন রোড এলাকায় মহানগর বিএন‌পির সদস‌্য স‌চিব আবুল হা‌শেম বক্ক‌রের নেতৃ‌ত্বে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করা হয়।

এ সময় আবুল হাশেম বক্কর বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারি আরেকটি আসন ভাগাভাগির নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আওয়ামী লীগের লোকজন ছাড়া মানুষ এখন গ্রেপ্তারের ভয়ে পলাতক। শেখ হাসিনার নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিদিন বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে। নির্বাচন কমিশন শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে দেওয়া তালিকানুযায়ী বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করবে। এভাবে মাফিয়া সরকার নির্বাচন করতে যাচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনের নামে এই খেলা কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে বানচাল করা হবে।

স্ট্রাইকিং ফোর্স নামলে প্রার্থীদের অস্থিরতা কমে যাবে ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ ভালো আছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

তিনি বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ভোটগ্রহণের বিষয়ে নিজেদের সন্দেহের কথা বলেছেন। আমরা বলেছি প্রত্যেকটি কেন্দ্রে ভোট শুরুর আগে পোলিং এজেন্টরা দাঁড়িয়ে দেখে নিবেন ব্যালট বাক্সগুলো খালি আছে কি না। ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোট গণনা এবং ঘোষণা পর্যন্ত তারা ওখানে উপস্থিত থেকে দেখবেন গণনা সঠিক হয়েছে কি না। যদি সব কেন্দ্রে গণনা সঠিকভাবে হয়ে গেছে দেখা যায়, তাহলে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হয়ে যাবে।’

২৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (পিটিআই) অডিটোরিয়ামে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় করে ইসি। পরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

এর আগে সকাল ১০টায় নগরীর ষোলশহর এলজিইডি মিলনায়তনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সিইসি। পরে দুপুর ১২টায় পিটিআই অডিটোরিয়ামে বিভাগের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এসব মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। সভা দুটিতে বিশেষ অতিথি ছিলেন নির্বাচন কমিশনের সচিব জাহাংগীর আলম। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নুরে আলম মিনা, জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান, জেলা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘ভোটের মাঝে যদি কোনো পেশিশক্তির উদ্ভব ঘটে তাহলে আমাদের অবহিত করা হলে সেসব ভোটকেন্দ্রের ভোট আমরা বন্ধ করে দেবো। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছি, অনেকে আশ্বস্ত হয়েছেন, কেউ কেউ আশ্বস্ত নাও হতে পারেন। নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে আমরা বলতে চাই, এই ধরনের ঘটনা আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবে না।

সিইসি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে যদি পেশিশক্তির কোনো উদ্ভব ঘটে, সেজন্য প্রশাসনকে বলে দিয়েছি, রিটার্নিং অফিসাররা যদি অবগত হন এবং প্রিজাইডিং অফিসারকে যদি বলা হয়, তিনি তাৎক্ষণিক ভোট বন্ধ করে দেবেন। উনি যদি বন্ধ না করেন, রিটার্নিং অফিসার যদি অবগত হন, তিনি বন্ধ করে দেবেন। তিনিও যদি না করেন, তাহলে আমরা যদি অবগত হই, ঢাকা থেকে আমরাও নির্বাচন বন্ধ করে দিতে পারবো। এজন্য বলেছি, আমাদের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে যে অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে, সে অনাস্থা অবিশ্বাসটুকু যাতে দূর হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মাঠপর্যায়ে ওসি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ডেপুটি কমিশনার, পুলিশ সুপার সবার বক্তব্য শুনেছি। তাদের বক্তব্য থেকে উঠে এসেছে, এখনো পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ ভালো। তবে আমরা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি- শেষ দিন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশটা ধরে রাখতে হবে। আরেকটি বার্তা দিয়েছি- ভোট গ্রহণের দিন, সেদিনের বিষয়টি কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে থাকবে। ভোট অবাধ হলো, সেখানে কারচুরি হয়েছে কি না, সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য যারা ভোটগ্রহণ করবেন, প্রিজাইডিং অফিসারসহ তার নিচের লোকজন। ভোটকেন্দ্রে কোনো অননুমোদিত ব্যক্তি কোনোভাবেই যাতে প্রবেশ করতে না পারে, সেটা শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।’

কাজী হাবিবুল আউয়াল আরও বলুন, ‘কোনো অননুমোদিত ব্যক্তি যদি কোনো ভোটকেন্দ্রে যদি কোনোভাবেই প্রবেশ করে, তাহলে বুঝতে হবে তার কুমতলব রয়েছে। ফলে কোনো কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে। আমরা কঠোর বার্তা দিয়েছি, কোনোভাবে তা বরদাশত করা যাবে না। আমাদের নির্বাচনী সংস্কৃতির মধ্যে কালোটাকার বিনিময়ে পেশাদার গুন্ডাদের ভাড়া করেন। তাদেরকে বলা হয় পেশিশক্তি, মাসলপাওয়ার। মাসলপাওয়ার যাতে ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পরে, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।’

ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে গণমাধ্যমকে প্রিজাইডিং অফিসারের অনুমতি লাগবে না জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেকোনো মূল্যে আস্থাভাজনভাবে অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে আনতে হবে। ভোটের স্বচ্ছতা উঠে আসবে মিডিয়ার মাধ্যমে। মিডিয়ার কর্মীরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে গিয়েও ছবি তুলতে পারবেন। প্রিজাইডিং অফিসারের অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে হবে না। সরাসরি প্রবেশ করবেন। মিডিয়াকর্মী এবং পর্যবেক্ষকরা অবাধে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। সত্য-মিথ্যা তাৎক্ষণিকভাবে তারা মিডিয়ার মাধ্যমে জনগণকে জানিয়ে দিতে পারবেন।’

বিশেষায়িত অ্যাপের মাধ্যমে ভোটের দিনের পরিস্থিতি জনগণ অবগত হতে পারবেন জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘আমরা একটি অ্যাপ তৈরি করেছি। এ অ্যাপে দুই ঘণ্টা অন্তর অন্তর ভোটের তথ্য ইনপুট দেওয়া হবে। কতটুকু ভোট সংগ্রহ হয়েছে, তার তথ্য। সাধারণ মানুষ ওই অ্যাপ মোবাইল ফোনে ডাউনলোড এবং ইনস্টল করে নির্বাচনের তথ্য জানতে পারবেন।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সহিংসতা এড়িয়ে যেতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত প্রার্থিতা বাতিলের মতো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা হুট করে প্রার্থিতা বাতিল করতে পারি না। আমরা এরই মধ্যে কয়েকজনকে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দিয়েছি। আমরা নিশ্চিত হয়ে প্রয়োজন হলে প্রার্থিতা বাতিল করবো।’

লিফলেট বিতরণকালে ডা. শাহাদাত ‘ভোট না দেওয়াও অধিকার’


নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধানে ভোট দেওয়া যেমন অধিকার, তেমনি ভোট না দেওয়াও মানুষের মৌলিক অধিকার। ভোট দেওয়ার জন্য কাউকে বাধ্য করা যাবে না।

তিনি বলেন, নৌকা ও ডামি প্রার্থীরা ভোট দিতে না গেলে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। যারা ভোটকেন্দ্রে যাবে না, তাদের বাড়িছাড়া করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। সরকারি উপকারভোগীদের কার্ড জমা নেওয়া হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে না গেলে কার্ড বাতিলের হুমকি দিচ্ছে। গায়েবি নাশকতা মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে। 

২৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার নগরের চকবাজার কাঁচা বাজার এলাকায় সরকার পতনের একদফা দাবি ও ৭ জানুয়ারির ডামি নির্বাচন বর্জনে অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে জনমত তৈরির লক্ষ্যে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শাহাদাত বলেন, নির্বাচন কমিশনাররা জেল-জরিমানার হুমকি দিচ্ছেন। তারা প্রতিদিন গণভবন থেকে আসা ফরমান ঘোষণা করছেন, আর বিএনপিকে শায়েস্তার হুমকি দিচ্ছেন। একতরফা নির্বাচন করে তারা এখন জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। নির্বাচন কমিশন এখন আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনে পরিণত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ‘৭ জানুয়ারি ফাইনাল খেলা হবে’ বক্তব্যের জবাবে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আবাহনী ও মোহামেডান ক্লাবের মধ্যে খেলা হলে দর্শক দেখতে আসে। শেখ কামাল আর শেখ জামাল স্মৃতি সংসদের খেলা দেখতে জনগণ আসবে না। আওয়ামী লীগের আসন ভাগাভাগির একতরফা ডামি নির্বাচন জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। যতই কেরামতি করেন, ভোট কেন্দ্রে ভোটার পাবেন না।

মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বলেন, গণতান্ত্রিক বিশ্বের চোখে ধুলো দিতে ভোট কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি দেখানোর জন্য নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে সরকার। আওয়ামী লীগের একগুঁয়েমি দেশকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। জনগণের মৌলিক অধিকারের দাবিতে লিফলেট বিতরণকালে বিএনপির নেতাকর্মীকে আটক করে নির্যাতন করছে পুলিশ। আওয়ামী লীগ দেশে একদলীয় নির্বাচন করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। তারা নীলনকশার নির্বাচনের মাধ্যমে দেশকে বাকশালী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। কিন্তু জনগণ তাদের সে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে দেবে না।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চকবাজার ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মঞ্জুর আলম মঞ্জু, পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান উদ্দিন ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়াসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।

রাজধানীতে পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা, চট্টগ্রামে যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীতে পুলিশ কনস্টেবল আমিরুল ইসলাম পারভেজকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মুরাদ চৌধুরীকে (৩৮) চট্টগ্রাম মহানগরের চান্দগাঁও থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। ২৭ নভেম্বর সোমবার থানার চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মুরাদ চৌধুরী রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পূর্ব সরফভাটা এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। 

র‍্যাব জানায়, ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকার মুরাদ চৌধুরী তার অনুসারীদের নিয়ে অবস্থান নেয়। তিনি অনুসারীদের নিয়ে নয়াপল্টন বিএনপি অফিস সংলগ্ন ভিক্টরি হোটেলের পাশের গলি দিয়ে পুলিশের ওপরে হামলার উদ্দেশ্যে অগ্রসর হন। এই দলের একটি অংশ বক্স কালভার্ট রোডের পশ্চিম প্রান্তে বিজয় নগর পানির ট্যাংকির দিকে যায় এবং অপর অংশটি ছাত্রদল নেতা আমান এবং জাকির হোসেন জসিমের নেতৃত্বে বক্স কালভার্ট রোডের অপর প্রান্তের দিকে অগ্রসর হয়। রোডের পশ্চিম প্রান্তে পৌঁছানোর পর ছাত্রদলের কর্মীরা সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপরে অতর্কিত হামলা করে। হামলার পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিম প্রান্তে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদেরকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে অপর প্রান্তের পুলিশ সদস্যরা পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়।

পশ্চিম দিকে অগ্রসরমান পুলিশ সদস্যদের ওপর ছাত্রদল নেতা আমান, যুবদল নেতা জাকির হোসেন জসিম এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। আত্মরক্ষার জন্য পুলিশ সদস্যরা টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এসময় হামলায় পুলিশ কনস্টেবল আমিরুল ইসলাম পারভেজ মারা যান।এ ঘটনায় রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৬৭ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়।

চট্টগ্রাম র‍্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. নুরুল আবছার বলেন, ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন চট্টগ্রামের যুবদল নেতা মুরাদ চৌধুরী। তাকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত ছিল।  নগরের চান্দগাঁও থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন