নববর্ষ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নববর্ষ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীর চরনিকেতনে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী সাহিত্য উৎসব শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর চরগড়গড়ি গ্রামের চরনিকেতনে শেষ হলো তিন দিনব্যাপী চরনিকেতন বৈশাখী সাহিত্য উৎসব ১৪৩২। সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার—এই উৎসব চলে উৎসবপ্রেমী কবি, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের অংশগ্রহণে।

চরনিকেতন কাব্যমঞ্চের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হওয়া এই আয়োজন প্রতিবারের মতো এবারও কবিতা, গান, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় জমজমাট হয়ে ওঠে। বর্ষবরণের আনন্দ শোভাযাত্রা, বৈশাখী গান, বাউল সংগীত, দেশাত্মবোধক সঙ্গীত, আবৃত্তি ও কবিতা পাঠে মুখরিত হয়ে ওঠে চরনিকেতন।

উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ ছিল বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে সেমিনার, কবি মজিদ মাহমুদের ৬০তম জন্মদিন উদ্‌যাপন এবং দেশ-বিদেশের শতাধিক কবি-সাহিত্যিকের অংশগ্রহণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাহিত্য উৎসবের সভাপতিত্ব করেন কবি মজিদ মাহমুদ। অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলটির জেলা কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম, কবি শেখ রবিউল হক, সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল আওয়াল, ভারত থেকে আসা কবি অরূপ কুমার ভুঁইয়া ও শিক্ষাবিদ আলহাজ্ব মাহাতাব উদ্দিন বিশ্বাস।

ঢাকা থেকে আসা উল্লেখযোগ্য কবিদের মধ্যে ছিলেন শামসুদ্দিন হীরা, আজিজুল বাশার, ফিরোজ শাহ, রুবিনা আজাদ, মেহেদী হাসান আকাশ, অচিন্ত্য চয়ন, আফতাব আহমেদ মাহবুব, মাকসুদা ইয়াসমিনসহ অনেকে।

ঢাকার বাইরের সাহিত্যিকদের মধ্যে অংশ নিয়েছেন সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক আব্দুদ দাইন সরকার, ড. আব্দুর রউফ, শামীমা সীমা, যাযাবর জিয়া, বঙ্গ রাখাল, সোনিয়া আক্তার, রেহানা সুলতানা শিল্পী, আহমেদ মাসুম, ইউনুস আলী, গোধূলি সেলিম, নজরুল ইসলাম মুকুল প্রমুখ।

কবি মজিদ মাহমুদের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার। এতে অতিথি হিসেবে ছিলেন জেলা প্রশাসক কবি শেখ রবিউল হক, অরূপ কুমার ভুঁইয়া, মাহাতাব উদ্দিন বিশ্বাস এবং কবির পরিবারের সদস্যসহ দেশজুড়ে আগত কবিরা।

সাহিত্য উৎসবের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ওসাকার সহকারী নির্বাহী পরিচালক ডা. সানোয়ারা প্রপা, সিনিয়র পরিচালক মো. মাজহারুল ইসলাম, পরিচালক সাইফুল ইসলাম ও আব্দুল ওয়ারেস। সহযোগিতায় ছিলেন ওসাকার কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা।

ঈশ্বরদীর চর গড়গড়িতে তিনদিনের বৈশাখী উৎসব

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলা নববর্ষকে ঘিরে ঈশ্বরদীর চর গড়গড়ি গ্রামে শুরু হতে যাচ্ছে তিনদিনব্যাপী ‘চরনিকেতন বৈশাখী সাহিত্য উৎসব-১৪৩২’। আগামী ১৪, ১৫ ও ১৬ এপ্রিল (সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার) এই আয়োজন বসবে চরনিকেতন সাহিত্য-সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাপল্লীতে।

আয়োজকেরা জানিয়েছে, প্রতিবারের মতো এবারও দেশ-বিদেশ থেকে শতাধিক কবি, লেখক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন এই উৎসবে। থাকছে কবিতা পাঠ, আবৃত্তি, বই উন্মোচন, গীতিনাট্য, লাঠিখেলা, জারিগান, শোভাযাত্রা ও আরও নানা রকম দেশীয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এই উৎসবের পেছনে রয়েছেন বাংলা সাহিত্যের কবি ও গবেষক মজিদ মাহমুদ। 

প্রসঙ্গত: ২০১৬ সালে শুরু হওয়া এই বৈশাখী উৎসব এখন পরিণত হয়েছে এক প্রাণবন্ত বার্ষিক আয়োজন হিসেবে। তবে চর গড়গড়ির এই রূপান্তরের শুরু আরও আগে—১৯৯৪ সাল থেকে মজিদ মাহমুদের স্বপ্ন ও সাধনায়। তাঁর হাত ধরেই গড়ে উঠেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, স্থায়ী কাব্যমঞ্চ, মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি পাঠাগার, প্রবীণদের জন্য সামাজিক কেন্দ্র, মসজিদ এবং নির্মাণাধীন একটি আধুনিক হাসপাতাল। 

‘যে নামেই হোক, শোভাযাত্রায় দেশজ কৃষ্টি ও ঐতিহ্য থাকুক’

নিজস্ব প্রতিবেদক: চার দশক আগের কথা। ১৯৮৫ সালের ১৪ এপ্রিল বা বাংলা ১৩৯২ সনের প্রথম দিন। পয়লা বৈশাখের ভোরে সর্বপ্রথম যশোরে বের হয়েছিল নববর্ষের এক বর্ণিল শোভাযাত্রা। এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন পাঁচ শতাধিক মানুষ। তখনো তাঁরা জানতেন না, পরের বছরগুলোয় এটা জেলার সীমানা ডিঙিয়ে যাবে এবং বাংলা বর্ষবরণের প্রধান ঐতিহ্য হয়ে উঠবে।

ওই বৈশাখী শোভাযাত্রার অন্যতম উদ্যোক্তা চারুপীঠ আর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মাহবুব জামিল শামীম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বন্ধু শিল্পী হিরণ্ময় চন্দ্রসহ আরও কয়েকজন।

শুক্রবার দুপুরে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ সংবাদ সম্মেলন করে মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ ঘোষণা এল। তখন শোভাযাত্রার অন্যতম উদ্যোক্তা শামীম তাঁর প্রিয় প্রাঙ্গণ যশোর পৌর পার্কে অবস্থিত চারুপীঠ আর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটে শোভাযাত্রার প্রস্তুতির কাজ করছিলেন। বয়সে রুগ্‌ণ হয়ে যাওয়া মাহবুব জামিল শামীম গভীর মনোযোগে রং করছিলেন একটি কুমিরের প্রপসে।

মাহবুব জামিল শামীম জানান, বিধ্বংসী নানা কর্মকাণ্ড থেকে পরিবেশ, প্রতিবেশ আর প্রাণিকুলকে রক্ষায় সচেতনতার বার্তা তুলে ধরা হবে যশোরের এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায়। যেখানে থাকবে বন, বনের প্রাণী, যেমন—বাঘ, হরিণ, হাতি, ঘোড়া, পাখপাখালি, পাহাড়, নদী ইত্যাদি। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের মতো সেজে হইহুল্লোড় করে, নেচে, গেয়ে পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তুলবেন। শুরুর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে দলমত-নির্বিশেষে যশোরের সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেবেন।

তাঁর কাজের মধ্যে জানতে চাওয়া হলো বৈশাখের শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার গল্প। একটু মৃদু হেসে বললেন, ‘একুশের প্রভাতফেরি থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রার চিন্তা মাথায় আসে। বাংলা ভাষার রাষ্ট্রের আন্দোলনে তারুণ্যের রক্তে গড়া একুশের পথ ধরে এসেছে আমাদের ভাষা ও স্বাধীনতা। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবার মিলন। এ একুশের প্রভাতফেরিকেই যেন ফেলে আসা সব শিল্প ঐতিহ্যের সম্ভারে সাজিয়ে এ উৎসব রচনা করা হয়েছিল।’

মাহবুব জামিল বলেন, ‘নিগৃহীত ৯৫ ভাগ গ্রাম্য মানুষের মাঝে লালিত দেশজ কৃষ্টি। তাকেই আজ আমরা আদরে নয়ন মেলে দেখছি। শিল্প মর্যাদায় অনুভব করছি। তারই প্রাণবন্ত অথই জলের ধারা আজ স্বাধীন বাংলাদেশের নগরের মাঝ দিয়ে মৃত্তিকা ভেঙে যেন নদী হয়ে আশ্চর্য সুন্দর দেশজ কৃষ্টির রাজসিক উৎসব মঙ্গল শোভাযাত্রা। দলমত-নির্বিশেষে সব পর্যায়ের মানুষ এ আয়োজনে যুক্ত হয়েছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে “মঙ্গল শোভাযাত্রা” সত্যিকার অর্থেই মাঙ্গলিক এক বিনোদনের অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে। বাংলা ১৪০০ বর্ষবরণ উৎসবের ইতিহাস তো সবার জানা। যা যশোরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সৃষ্টি করেছিল এক নতুন মহাকাব্য।’

১৯৮৮ সালে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের জন্য মাহবুব জামিল শামীম ও হিরণ্ময় চন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় ভর্তি হন। তাঁদের প্রচেষ্টায় ১৯৮৯ সালে ঢাকা ইউনিভার্সিটির চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা বের করেন ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’।

এই শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের ইতিহাস বলতে গিয়ে মাহবুব জামিল জানান, ১৯৯০ সালের দিকে ঢাকাতে বিভিন্ন সংস্কৃতিমনা মানুষেরা দাবি ওঠাল, বছরের প্রথম দিন মানেই নতুন একটি বছর বা শিশুর জন্ম হলো। জন্মের প্রথম দিনে তাঁর শুভ বা মঙ্গল কামনা করা উচিত। সেই থেকেই আনন্দ শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন হয় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’য়। এ মঙ্গল শোভাযাত্রা ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকা থেকে দেশের নানা প্রান্তে। এখন যা বাংলা বর্ষবরণের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। শোভাযাত্রা বের হচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকেও। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে যে মঙ্গল শোভাযাত্রা এখন স্থান করে নিয়ে বিশ্ব সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলেও। বাংলাদেশের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ এখন জাতিসংঘের ইউনেসকো স্বীকৃত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। এর সূচনা হয়েছিল ১৯৮৫ সালে চারুপীঠ যশোর থেকে।

হঠাৎ নাম পরিবর্তন হওয়াতে কিছু করার নেই বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন প্রথম শুরু করি, তখনই বলেছিলাম বিভিন্ন অঞ্চল বিভিন্ন নাম রাখতে পারবে এই শোভাযাত্রার। শোভাযাত্রা উদ্দেশ্য ছিল, ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের শোভাযাত্রায় ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি উঠে আসবে। আর সেসব সংস্কৃতি জাতীয় কৃষ্টি-কালচার চর্চার অংশ হবে। আর্ট কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে এটার চর্চা হবে। এখন নাম পরিবর্তন হয়েছে; সেটা তো আমার কিছু করার নাই। আমি একজন সংস্কৃতিকর্মী। সংস্কৃতিকর্মীরা বিবাদে জড়ায় না। তাঁরা চায় বন্ধুত্ব। অনেক বাধা-বিপত্তি পার করেই আমরা শোভাযাত্রা অব্যাহত রেখেছি। যে শোভাযাত্রার শুরু হয়েছিল সেটা তো সবার উৎসব। রাষ্ট্রের উৎসব, আন্তর্জাতিক উৎসব।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রামীণ মানুষের মাঝে লালিত দেশজ কৃষ্টি তুলে ধরা হয় এই শোভাযাত্রাতে। এটা আমাদের শিল্প মর্যাদা। এখন যে নামেই হোক না কেন; এটার যে লক্ষ্য ছিল, সেটা থেকে লক্ষ্যচ্যুত না হই আমরা, আমাদের শিল্প, মর্যাদা ও ঐতিহ্য যাতে বন্ধ না হয় সেটাই আমার কাম্য।’

নববর্ষে আতশবাজি-ফানুস না পোড়ানোর আহ্বান ক্যাপসের


নিজস্ব প্রতিবেদক: ইংরেজি নববর্ষে দেশবাসীকে আতশবাজি ও ফানুস না পোড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)।

৩০ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় সংবাদ মাধ্যমে ক্যাপসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদারের পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে অনুরোধ জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, নববর্ষ মানেই উৎসবমুখর একটি দিন। প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টা এক মিনিট থেকেই শুরু হয় নতুন বছর উদযাপনের উন্মাদনা। মুহুর্মু শব্দ করে আকাশে ছড়িয়ে পড়ে আতশবাজির আলোকছটা। প্রতিবছরই ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাতের বেলা আতশবাজি ও ফানুস পোড়ানো হয়। ফলশ্রুতিতে বছরের প্রথম দিন শুরু হয় অস্বাস্থ্যকর বায়ু সেবন করে এবং সরব উপস্থিতিতে শব্দ দূষণের মত নীরব ঘাতকে সঙ্গে নিয়ে। এই আকস্মিক বায়ু ও শব্দ দূষণ মানুষ, পশুপাখি ও পরিবেশ প্রতিবেশ উপর উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। 

বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) এর গবেষণা দল গত ৬ বছরব্যাপী (৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ থেকে ১ জানুয়ারি ২০২৩) ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বায়ু ও শব্দ দূষণের তীব্রতা পর্যবেক্ষণ করে আসছে। 

গবেষণায় দেখা যায় যে, ডিসেম্বরের শেষ দিনের তুলনায় জানুয়ারি মাসের প্রথম দিনের বায়ুমান অনেক বেশি খারাপ থাকে। উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, ৩১ ডিসেম্বরের থেকে ১ জানুয়ারি বায়ুমান সূচক সর্বনিম্ন ৬% থেকে সর্বোচ্চ ৬৬% শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। গবেষণায় আরও দেখা যায় যে, পটকা-আতশবাজি ইত্যাদি ফুটানোর ফলে শব্দের তীব্রতা সহনীয় মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, বর্ষবরণের পটকা-আতশবাজি থেকে উৎপন্ন শব্দের মাত্রা পূর্বের দিনের তুলনায় সর্বনিম্ন ৪৬% থেকে সর্বোচ্চ ১১৩% পর্যন্ত বেশি হয়ে থাকে। 

আতশবাজির শব্দের জন্য প্রাণী ছাড়াও শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী মা এবং রোগীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে যায়। আমাদের দেশেই বর্ষবরণের বাজির শব্দে গত বছর শিশু প্রাণহানি ঘটেছে, এছাড়াও উচ্চ শব্দের কারণে অনেকেই হার্ট অ্যাটাক করেন এবং অসুস্থ হয়ে যাবার মত ঘটনা ঘটেছে। পাখিরা প্রচণ্ড আওয়াজের কারণে উড়া-উড়ি করে এবং গাছে বা বিল্ডিঙের দেয়ালে আঘাত পেয়ে নিচে পড়ে যায় ফলে আহত হয় এবং মারাও যায়। 

রাস্তার কুকুর-বিড়াল, গৃহস্থলী প্রাণী এমনকি বন্যপ্রাণীরাও শব্দের কারণে ভয়ে বিভ্রান্ত হয়ে দিক-বিদিক ছোটাছুটি করতে গিয়ে মারা যাচ্ছে। আতশবাজি ও ফানুস উড়িয়ে পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করতে গিয়ে ২০২৩ সালের শুরুতেই সারাদেশ থেকে ২০০ স্থান থেকে আগুনের সংবাদ পেয়েছিল জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ ও ফায়ার সার্ভিস।

সম্প্রতি ডিএমপি কমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সের ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে ১৮ ডিসেম্বর রাত ১২টা থেকে শুভ বড়দিন এবং ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের আতশবাজি, পটকা ফোটানো, ফানুস ওড়ানো, মশাল মিছিল ইত্যাদি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবত থাকবে, এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। 

এমতাবস্থায় বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) দেশবাসীর নিকট অনুরোধ করছে যে, প্রত্যেকে যেন সামাজিকভাবে নিজ নিজ স্থান হতে সচেতন হয় এবং পরিবেশ ও জান-মালের নিরাপত্তার জন্য আতশবাজি ও ফানুস বর্জন করেন। এক জনের ক্ষণিকের আনন্দ উল্লাস যেন অন্যের ক্ষতির কারণ না হয়। আমাদেরকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে এবং একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে জনগণের কথা মাথায় রেখে নববর্ষকে আমন্ত্রণ জানাতে হবে।

থার্টি ফার্স্ট নাইটে গান-বাজনা, ডিজে পার্টি ও আতশবাজি নিষিদ্ধ


নিজস্ব প্রতিবেদক: এবারের ইংরেজি নববর্ষের প্রথম প্রহরে থার্টি ফার্স্ট নাইটে কোনো উন্মুক্ত স্থান বা বাড়ির ছাদে গান-বাজনা ও আতশবাজি ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এছাড়াও যেকোনো ধরনের ডিজেপার্টি নিষিদ্ধ থাকবে।

১১ ডিসেম্বর সোমবার ডিএমপি সদরদপ্তরে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান।

১২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ডিএমপি জানায়, সভায় সিদ্ধান্ত হয় থার্টি ফার্স্ট নাইটে আইডি কার্ড ব্যতীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। গাড়ি প্রবেশের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকার থাকতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে শাহবাগ ও নীলক্ষেত এলাকা ব্যবহার করতে হবে।

সভায় ডিএমপি কমিশনার বলেন, আগামী ২৫ ডিসেম্বর খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উদ্‌যাপিত হতে যাচ্ছে। এছাড়াও ইংরেজি ক্যালেন্ডারের শেষদিন ৩১ ডিসেম্বর দেশব্যাপী থার্টিফার্স্ট নাইট উদ্‌যাপন করা হবে। এ দুটি বড় উৎসবকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টিম ডিএমপি রাজধানীতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। উৎসবগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আমরা সম্মানিত নগরবাসীর কাছে সর্বাত্মক সহযোগিতা চাই।

তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়া। সে লক্ষ্য নিয়ে একটি সংবিধান রচনা করেছিলেন তিনি। তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেভাবে অসাম্প্রদায়িকতার চর্চা ধারণ, লালন ও পালন করার ব্যবস্থা করেছেন। এখানে সাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান হবে না।

সভায় ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস্) বিপ্লব কুমার সরকার বিপিএম-বার, পিপিএম, পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইটে গৃহীত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে- প্রত্যেকটি চার্চে ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবে। প্রতিটি চার্চে আর্চওয়ে দিয়ে দর্শনার্থীকে ঢুকতে দেওয়া হবে। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে ও ম্যানুয়ালি তল্লাশি করা হবে। অনুষ্ঠানস্থল ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে। নিরাপত্তায় থাকবে ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা। চার্চ এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকবে। চার্চ এলাকায় কোনো ভাসমান দোকান বা হকার বসতে দেওয়া হবে না। কোনোপ্রকার ব্যাগ নিয়ে চার্চে আসা যাবে না।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন