শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বড়াইচারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সেরা শিক্ষার্থীদের পুরস্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর ৪৪ নম্বর বড়াইচারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতির স্বীকৃতিস্বরূপ সেরা শিক্ষার্থীদের পুরস্কার ও 'সার্টিফিকেট অব অ্যাপ্রিসিয়েশন' প্রদান করা হয়েছে। রোববার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে এসব পুরস্কার তুলে দেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আলহাজ রওশন আলী মাস্টার।

পুরস্কার বিতরণ শেষে রওশন আলী মাস্টার ঘোষণা দেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে তিনি প্রতিবছর বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের ব্যক্তিগতভাবে পুরস্কৃত করবেন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. নাসরিন সুলতানা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিটির সহসভাপতি ওয়াহিদ মুরাদ সুজন, সলিমপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মিনারুল বিশ্বাস, স্থানীয় চিকিৎসক আশরাফ প্রামাণিক, আনোয়ার হোসেন ও খাইরুল ইসলামসহ শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।

ঈশ্বরদীতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুর তিনটায় সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে এই আয়োজন করা হয়।

৫ নম্বর সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব। সভাপতিত্ব করেন সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মহির মন্ডল। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনা আক্তার।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বৃত্তিপ্রাপ্ত মোট ১৭ জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়।

ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফ, সলিমপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা সুমন মালিথা, স্থানীয় ব্যক্তিত্ব হাসান আলী বিশ্বাস এবং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মুকুল। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আসাদুল হক আশা, বাবু বিশ্বাস, আক্তারুল ইসলাম, ওয়াহিদুজ্জামান, স্বপন সরদার, ছবিহা খাতুন, সুবর্ণা আক্তার, ফুরকান আলী বিশ্বাস ও মিনারুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধনা পর্ব শেষে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা দিতে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে একটা করে ফলদ, বনজ ও ওষুধি গাছের চারা উপহার দেওয়া হয়। পরে অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে প্রধান অতিথি পরিষদ চত্বরে চারা রোপণ করেন। 

পাবনায় সরকারি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা সদর উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি, শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পাবনা সদর উপজেলা মিলনায়তনে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বিশেষ বরাদ্দের আওতায় উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা খাত থেকে এসব সামগ্রী দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম।

পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামারা তাসবিহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সুধীজন ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপকারভোগী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাঝে ১০৪ ফ্যান, ১৬২ স্প্রে মেশিন, ৪৮ টিউবওয়েল এবং ১০০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে পরীক্ষার কক্ষে টিকটক ভিডিও ভাইরাল, তদন্তের আশ্বাস অধ্যক্ষের

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে চলমান একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালে ধারণ করা একটি টিকটক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দেখা যায়, পরীক্ষার কক্ষে দায়িত্ব পালনরত একজন শিক্ষক দরজা দিয়ে বাইরে চলে যাচ্ছেন। ঠিক ওই সময়ে কক্ষের সামনের সারিতে বসা এক শিক্ষার্থী ভিডিওটি ধারণ করছেন। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছেন, কেউ অন্যের খাতা দেখে লিখছেন, আবার কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন।

এই ঘটনায় সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের বক্তব্য, একটি ঐতিহ্যবাহী ও সুনামধন্য সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষায় কীভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার ও ভিডিও ধারণ করার সুযোগ তৈরি হলো?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বিষয়টিকে দায়িত্বে অবহেলার ফল বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁদের দাবি, পরীক্ষার হলে যদি যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করা হতো, তবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ‘কলেজ কক্ষে ধারণ করা ওই ভিডিওটি আমিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। বর্তমানে আমি একটি কাজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি। আমাদের কলেজে শিক্ষকসংকট থাকার কারণে প্রতিটি কক্ষে দুজন করে শিক্ষক দেওয়া সম্ভব হয়নি। এই কারণে কয়েকটি কক্ষে একজন করে শিক্ষক দায়িত্ব পালন করেছেন। যে শিক্ষার্থী ভিডিওটি ধারণ করেছে, তাকে আমি ডেকেছি। তার সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানা যাবে, আসলে কেন এমনটা হয়েছে।’

ঈশ্বরদীতে অধ্যক্ষের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে অধ্যক্ষ আসলাম হোসেনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রতিষ্ঠান চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি উপজেলা শহরের রেলগেট ট্রাফিক মোড় পর্যন্ত গিয়ে মানববন্ধনে রূপ নেয়। এ সময় তারা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান,  যৌন হয়রানি, আর্থিক অনিয়ম, অতিরিক্ত টাকা আদায়, স্বেচ্ছাচারিতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোসহ বিভিন্ন অভিযোগে গত বছর অধ্যক্ষ আসলাম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি তিনি পুনরায় দায়িত্বে ফেরার চেষ্টা করছেন এবং তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—এমন খবরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এরই প্রতিবাদে তারা আবারও আন্দোলনে নামে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শামন্তা রহমান ঐশ্বর্য। তিনি বলেন, ‘অধ্যক্ষ আসলাম হোসেনের আচরণ অত্যন্ত অনৈতিক ও অশোভন। তাঁর মতো একজন ব্যক্তি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের যোগ্য নন। আমরা চাই, তাঁকে দ্রুত স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হোক।’ 

আফরোজা জাহান বলেন, ‘তিনি আমাদের সঙ্গে এমনভাবে কথা বলেন, যেন আমরা মানুষই নই। একজন শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করতে পারেন, তাহলে তাঁর কাছে আমাদের ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব নয়।’

মাওয়া বলেন, ‘ক্লাসে পাঠদানের চেয়ে টাকার হিসাবই বেশি শোনাতেন তিনি। আমরা কেন অযথা ফরম ফিলআপ বাবদ অতিরিক্ত টাকা দেব? এসব অনিয়মের কারণেই আমরা তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি।’ 

সাবাহ ইসলাম বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ক্লাস করতে চাই। কিন্তু অধ্যক্ষকে পুনর্বহালের উদ্যোগের পর থেকে আমরা মানসিকভাবে প্রচণ্ড চাপে আছি।’

জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। এরপরই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির জরুরি সভায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে সিদ্ধান্ত বোর্ডে পাঠানো হয়। তখন কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন ইউএনও সুবীর কুমার দাশ।

বর্তমানে বিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্বে থাকা অস্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান কায়েস শাওন বলেন, ‘আমি সদ্য দায়িত্ব নিয়েছি। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তীতে মন্তব্য করব।’

এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সাময়িক বরখাস্ত অধ্যক্ষ আসলাম হোসেন বলেন, ‘অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয়- এমন কিছু করিনি। তদন্তে সত্য স্পষ্ট হয়েছে, বাকিটা কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করবে।’

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন