বাংলাদেশ রেলওয়ে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বাংলাদেশ রেলওয়ে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সারদা-ঈশ্বরদী রেললাইন: মৃত্যুর করিডর নাকি অপরাধ লুকানোর নিরাপদ স্থান?

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর সারদা স্টেশন থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত প্রায় ৪৩ কিলোমিটার রেললাইন এখন স্থানীয়দের কাছে ‘মৃত্যুর করিডরে’ পরিণত হয়েছে। ব্যস্ত এ রুটে প্রতিদিন বনলতা, সিল্কসিটি ও ধূমকেতুসহ অন্তত ১৫টি ট্রেন ৩০ বার চলাচল করে। এর বাইরেও রয়েছে লোকাল ও মালবাহী ট্রেন। তবে সম্প্রতি যাতায়াতের এ মাধ্যমটিই যেন নীরব মৃত্যুকূপে রূপ নিয়েছে; একের পর এক রেললাইন থেকে লাশ উদ্ধার হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হচ্ছে না ময়নাতদন্ত। ফলে দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—সেই রহস্য চাপা পড়ছে অপমৃত্যুর ফাইলে।

ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার তথ্য অনুযায়ী, এই রেলপথে ২০২৪ সালে ২৬টি, ২০২৫ সালে ২৯টি এবং চলতি বছরের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত ৩৩টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বেশিরভাগ ঘটনায় থানায় শুধু অপমৃত্যু মামলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়। এতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অন্ধকারেই থেকে যায়।

গত ২১ এপ্রিল গভীর রাতে চারঘাটের কালাবিপাড়ায় দুই পা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় সোহাগ আলী (২৬) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার হয়। তাঁর বাবা জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলে কিছু মাদকসেবীর সঙ্গে চলাফেরা করত। আমাদের সন্দেহ, তাকে হত্যা করে রেললাইনে ফেলে রাখা হয়েছে। তবে ঝামেলা বাড়বে ভেবে মামলা করিনি, ময়নাতদন্তও হয়নি।’

অনুরূপ ঘটনা ঘটেছিল গত বছর আড়ানী রেলস্টেশনের পশ্চিম পাশে। সেখান থেকে মাহফুজুর রহমান মিশনের (২৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁর মা মুল্লিকা বেওয়া জানান, মৃত্যুর আগে রাতে ফোন করে মিশন বলেছিল, কে বা কারা তার চোখ-মুখ বেঁধে রেখেছে এবং তাকে বাঁচাতে বলে ফোন কেটে দেয়। পরবর্তীতে রেললাইন থেকে তার লাশ উদ্ধার হলেও সে ঘটনায় কোনো হত্যা মামলা হয়নি।

স্থানীয়দের মতে, সারদা থেকে আড়ানী পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার অংশ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। হলিদাগাছী এলাকার বাসিন্দা মখলেসুর রহমান বলেন, ‘অনেক স্থানে অবৈধ রাস্তা তৈরি হলেও রেলগেট নেই। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।’

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, ‘পরিবারের আবেদনের কারণে অনেক সময় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে রেললাইনে অপরাধ দমনে আমরা কাজ করছি।’

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ জানান, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী পাকশী রেলওয়ে হাসপাতাল আজ যেন ভূতুড়ে বাড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রাক-স্বাধীনতা যুগের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের নীরব সাক্ষী ঈশ্বরদীর পাকশী রেলওয়ে হাসপাতাল। পদ্মা নদীর তীরে ৩ একর জমির ওপর নির্মিত শতবর্ষী এই সেবা প্রতিষ্ঠানটি আজ তীব্র জনবলসংকট, আধুনিক সরঞ্জামের অভাব ও চরম অব্যবস্থাপনায় অতীত জৌলুস হারিয়ে প্রায় পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে। একসময় যেখানে রোগী সামলাতে চিকিৎসক ও সেবিকারা ব্যস্ত সময় পার করতেন, সেখানে এখন কেবলই সুনসান নীরবতা। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় দুই বছর ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে হাসপাতালের আন্তঃবিভাগ সেবা।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ১৯০৯ সালে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণকালে ‘পাকশী রেলওয়ে ডিসপেনসারি’ নামে এর যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৯৬৩ সালে বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত করে এর নতুন নামকরণ করা হয় 'রেলওয়ে হাসপাতাল পাকশী'। খুলনা থেকে হিলি এবং জয়দেবপুর থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের রেলকর্মীদের চিকিৎসায় এটি ছিল প্রধান ভরসাস্থল।

বর্তমানে ৪৪ শয্যার এই হাসপাতালে ৮৬টি মঞ্জুরিকৃত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৮ জন। চিকিৎসকের পাঁচটি পদের বিপরীতে দুজন থাকলেও তাঁরা রাজবাড়ী ও রাজশাহীর বিভিন্ন হাসপাতালে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ৬ জন সিনিয়র সেবিকার জায়গায় রয়েছেন মাত্র একজন। নেই কোনো গুদাম রক্ষক বা প্যাথলজিস্ট। গত ২৮ বছর ধরে হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষ বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে পথ্য বরাদ্দ না থাকায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে রোগী ভর্তি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৯টা পেরিয়ে গেলেও হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক বা কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিদের সেবিকার পরামর্শে ওষুধ বুঝিয়ে দিচ্ছেন ফার্মাসিস্টরা। ঐতিহ্যবাহী মাতৃমঙ্গল ইউনিট ১৯৯০ সালে এবং ডায়রিয়া, যক্ষ্মা ও ময়নাতদন্তের কক্ষটি (মর্গ) ১৯৯৬ সালে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কোনো গুরুতর রোগী এলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে রাজশাহী রেলওয়ে হাসপাতাল কিংবা ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো ছাড়া কর্তৃপক্ষের উপায় থাকে না।

চিকিৎসা নিতে আসা রেলওয়ে কর্মচারীদের স্বজনেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো রোগনির্ণয় পরীক্ষা ছাড়াই অনুমাননির্ভর ওষুধ খেয়ে তাঁদের চিকিৎসা চালাতে হচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, তীব্র জনবলসংকটই এই বেহাল দশার মূল কারণ। পাকশী বিভাগীয় চিকিৎসা কর্মকর্তা (ডিএমও) ডা. মো. শাকিল আহমেদ ও বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও লোকবলের অভাবে সার্বিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. আনিছুল হক বলেন, পশ্চিমাঞ্চল রেলে ৩৭ জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে মাত্র ৭ জন দায়িত্ব পালন করছেন। শূন্য পদগুলোতে নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। লোকবল নিয়োগ পেলে দ্রুতই হাসপাতালটির সার্বিক চিকিৎসাসেবা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

আসন ফাঁকা নেই, তবুও ট্রেনের টিকিট খুঁজছেন ১০ হাজার প্রত্যাশী

নিজস্ব প্রতিবেদক: হঠাৎ অফিসের সিদ্ধান্ত একটি কাজে আগামী ১৪ নভেম্বর কক্সবাজার যেতে হবে ইমন হাসান রাব্বিকে। সেজন্য তিনি রেলওয়ের টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ট্রেন ও আসনের খোঁজ করেন। কিন্তু কোনো আসন ফাঁকা নেই। তবে সাইটে একটি পরিবর্তন দেখলেন তিনি।

দেখতে পেলেন, ওয়েবসাইটের ডান পাশে কোনায় এই পেজে কতজন ব্যবহারকারী আছেন, সেটি দেখাচ্ছে। এ ছাড়া কোন ট্রেনে কতজন ব্যবহারকারী আসন খুঁজছেন সেটিও দেখাচ্ছে। বিষয়টি তাকে অবাক করেছে। ভরদুপুরে কোনো আসন ফাঁকা নেই, তারপরও এত মানুষ!

ইমন হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, সকাল ৮টায় ট্রেনের আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। ওই সময়ই ঢাকা-কক্সবাজার রুটের ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায় না, দুপুর বেলায় তো আরও পাওয়া যায় না। তারপরও বিকেল ৩টায় সার্চ করে দেখলাম। দেখে তো অবাক। দেখলাম, শুধু ওই পেজেই ১০ হাজার ৬২৫ জন মানুষ আছেন। এর মধ্যে শুধু পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের আসন সার্চ করছেন এক হাজার ৭১ জনের বেশি মানুষ। এই প্রক্রিয়াটি যদি সঠিক হয়, তবে এটি টিকিট বিক্রিতে অনেকটা স্বচ্ছতা নিয়ে আসবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান অবশ্য গত ২৯ অক্টোবরই অনলাইনে ট্রেনের টিকিটিং সিস্টেমে কিছু পরিবর্তন আনার এবং বাড়তি সুবিধা যুক্ত করার আভাস দিয়ে রেখেছিলেন। তারপরই এই পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে টিকিটের সবচেয়ে চাহিদা ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটের ট্রেনের। এই রুটে দুটি ননস্টপ আন্তঃনগর ট্রেন নিয়মিত যাতায়াত করে। এর মধ্যে পর্যটক এক্সপ্রেস (৮১৬) ট্রেনে মোট কোচ রয়েছে ১৬টি। এসব কোচে ঢাকা থেকে মোট আসন রয়েছে ৭১৪টি। এর মধ্যে এসি সিট (বসে যাওয়ার কেবিন) রয়েছে ৯৯টি, এসি চেয়ার রয়েছে ১৬৫টি এবং নন-এসি শোভন চেয়ার রয়েছে ৪৫০টি।

অন্যদিকে, ঢাকা স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ৪০টি আন্তঃনগর ট্রেনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ট্রেন কক্সবাজার এক্সপ্রেস (৮১৪)। এতে কোচ রয়েছে ১৯টি। এসব কোচে ঢাকা থেকে মোট আসন রয়েছে ৭৮৪টি। এর মধ্যে এসি বার্থ (শুয়ে যাওয়ার কেবিন) রয়েছে ৫৪টি, এসি চেয়ার রয়েছে ২২০টি এবং নন-এসি শোভন চেয়ার রয়েছে ৫১০টি।

ট্রেনের টিকিটিংয়ের নতুন সংযোজন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনা হচ্ছে। রয়েছে পক্ষে-বিপক্ষে মতও। ফেসবুকের বাংলাদেশ রেলওয়ে ফ্যানস ফোরামে একটি ছবি পোস্ট করে শিহাব আবদুর রাকিব নামের একজন লিখেছেন, ‘সিস্টেমটা দারুণ লাগল। আসলেই কাজ করে কি না সেটা দেখার জন্য আমার অ্যাকাউন্ট এবং আপুর অ্যাকাউন্ট থেকে একসঙ্গে সার্চ দিয়েছিলাম।’ তার পোস্টের মন্তব্যের ঘরে এস এম শামীম নামের একজন লিখেছেন, ‘যেখানে সিট থাকে না সেখানেও দেখায় লোক ট্রাই করছে, এটা হাস্যকর।’ সেখানে এটি নিয়ে চলেছে নানা তর্ক-বিতর্ক। তবে সার্বিকভাবে বিষয়টির প্রশংসা করেছেন যাত্রীরা।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিট বিক্রির সহযোগী প্রতিষ্ঠান সহজ-সিনেসিস-ভিনসেন জেভির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সন্দীপ দেবনাথ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আপাতত দুটি পরিবর্তন এসেছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে কোন রুটে কতজন একসঙ্গে সার্চ করছেন এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে সার্চ করার পর ওই ট্রেনে এই মুহূর্তে কতজন একসঙ্গে আসন বুকিং করার চেষ্টা করছেন। এগুলো গত ৩১ অক্টোবর রাতে সংযোজন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কতগুলো আসন আছে এবং নেই সেটি তো আগে থেকেই ছিল। আমাদের আরও কিছু পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কতগুলো আসনের টিকিট এই মুহূর্তে ‘বুকিং ইন প্রগ্রেস’ আছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী বলেন, আমরা টিকিটিংয়ে আরও স্বচ্ছতা আনতে কাজ করছি। ইতোমধ্যে দুটি পরিবর্তন এসেছে ওয়েবসাইটে। আরও পরিবর্তন আসবে।

তবে গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ রেলওয়ের রুট রেশনালাইজেশন এবং ই-টিকিটিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, অনলাইনে ট্রেনের টিকিটিং সিস্টেমে কিছু পরিবর্তন এবং বাড়তি সুবিধা যুক্ত হতে যাচ্ছে। একটা প্রেজেন্টেশন হয়েছে। সেখানে আমরা অনেক কিছু পেয়েছি। রেলের টিকিট পদ্ধতি নিয়ে একটা ডায়াগনস্টিক হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রেজেন্টেশনে দেখেছি কমলাপুর থেকে টিকিট চাইলেন, সেখানে নেই। কিন্তু তেজগাঁও থেকে আছে। আবার ৭টার ট্রেনে টিকিট নেই কিন্তু ১০টার ট্রেনে আছে। তবে সেটির কী অবস্থা তা জানা যাচ্ছে না। সহজ-সিনেসিস-ভিনসেন জেভিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাত্রী যেন এখন থেকে এটা দেখতে পান কখন, কোথায় কোন স্টেশন থেকে টিকিট আছে। সহজ বলেছে, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে এটা ঠিক হবে। না হলে আপনারা অভিযোগ করবেন।

কিন্তু নতুন পদ্ধতি চালুর কয়েকদিন পার হলেও কোন স্টেশন থেকে টিকিট আছে, সেটি এখনও দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে ট্রেনের টিকিট সংরক্ষণ না রাখার জন্য গত ৩ নভেম্বর টিকিট বিক্রির সহযোগী প্রতিষ্ঠান সহজ-সিনেসিস-ভিনসেন জেভিকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৩২টি ট্রেন চলাচল স্থগিত : মহাপরিচালক


নিজস্ব প্রতিবেদক: রেলপথ ও ট্রেনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই অঞ্চল (পূর্বাঞ্চল-পশ্চিমাঞ্চল) থেকে মোট ৩২টি ট্রেনের দুই দিন (৬ ও ৭ জানুয়ারি) চলাচল স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

শনিবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরের ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পুড়ে যাওয়া বেনাপোল এক্সপ্রেসের কোচ দেখতে এসে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. কামরুল আহসান সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

কামরুল আহসান বলেন, আমরা কিছু লোকাল ট্রেন যেগুলোর দিনের বেলাতে মুভমেন্ট কম থাকে এমন পূর্বাঞ্চলের ২০টি এবং পশ্চিমাঞ্চলের ১২টি ট্রেন এই দুই দিন চালাচ্ছি না। আপাতত আমরা যে কয়েকটি ট্রেন স্থগিত রেখেছি। এগুলো ছাড়া বাকি সবগুলো ট্রেন চলাচল করবে।

কেন স্থগিত করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যাত্রীর মুভমেন্ট কম থাকার কারণে এই ট্রেনগুলো সাসপেন্ড করা হয়েছে। এ ট্রেনে আমাদের যেসব কর্মচারী আছে তারা অন্য ট্রেনগুলোতে কাজ করবে। নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে আমাদের লোকোমোটিভগুলো দিয়ে রেল লাইনের নিরাপত্তা দেখব। পুরো কাজটাই করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সুসংগঠিত করার জন্য।

বেনাপোল এক্সপ্রেসে আগুন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আমাদের পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যরাও দেখছে। আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে এটা নাশকতামূলক কার্যক্রম। এটা এখন ফাইনাল বলা যাবে না। যারা নিহত হয়েছেন, তারা তো পুড়ে গেছে। এটা ডিএনএ ছাড়া শনাক্ত করা সম্ভব না। কমলাপুর জিআরপি থানায় এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

ক্ষতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ট্রেনের দুটি বগি একেবারে পুড়ে গেছে এবং পাওয়ার কার আংশিক পুড়ে গেছে। এটি পরিষ্কার করার পর বুঝতে পারব কতটুকু ক্ষতি হয়েছে। 

তিনি বলেন, রেলওয়ে এখনো সবচেয়ে নিরাপদ বাহন। তবে নাশকতা ঠেকাতে আমরা চেষ্টা করছি। আমরা বিভিন্ন স্টেশন থেকে সিসিটিভি ফুটেজ এবং ট্রেনের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজ নেওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে সিসি ক্যামেরা চালু করেছি, পর্যায়ক্রমে সব কয়টি ট্রেনে সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে।

প্রথম মাসে কক্সবাজার এক্সপ্রেসের আয় ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার: বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরুর প্রথম মাসে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেন পরিচালনা করে ১ কোটি ৩৮ লাখ ২০ হাজার টাকা আয় করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

বুধবার রাত ১২টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন কক্সবাজার আইকনিক রেল স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার গোলাম রাব্বানী।

তিনি জানান, প্রথম মাসে (২৭ দিন) কক্সবাজার এক্সপ্রেসে অনলাইনে ও অপলাইনে এসি ও ননএসির ২৮ হাজার ৬২০টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। এ থেকে আয় হয়েছে ১ কোটি ৩৮ লাখ ২০ হাজার টাকা।

তিনি আরও জানান, প্রতিদিন ২ লাখ মানুষ অনলাইনে টিকিটের জন্য চার্জ করেন। তবে চাহিদার তুলনায় আসন কম। তাই আগামী ১ জানুয়ারি থেকে নতুন আরও দুইটি ট্রেন সংযুক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যাত্রীবাহী ট্রেনের গতিসীমা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। কয়েক দফা পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচলের সফল কার্যক্রম শেষে গত ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার রেল সংযোগ উদ্বোধনের সময় ডিসেম্বর থেকে দুইটি ট্রেন চালুর নির্দেশ দেন।

কক্সবাজার এক্সপ্রেসের নতুন এই ট্রেনে মোট ২০টি কোচ রয়েছে বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে। আসন আছে ১ হাজার ৬০টি। ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত শোভন চেয়ারের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৯৫ টাকা। এসি চেয়ারের ভাড়া ১ হাজার ৩২৫ টাকা ও এসি বার্থের ভাড়া (ঘুমিয়ে যাওয়ার আসন) ২ হাজার ৩৮০ টাকা। 

অন্যদিকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত শোভন চেয়ারের ভাড়া ২০৫ টাকা, স্নিগ্ধা শ্রেণির ভাড়া ৩৮৬ টাকা, এসি সিটের ভাড়া ৪৬৬ ও এসি বার্থের ভাড়া ৬৯৬ টাকা।

সময়ের আগেই স্টেশনে যাত্রীরা, অপেক্ষা প্রথম যাত্রার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বহুল প্রতীক্ষিত কক্সবাজার-ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে আজ। শুক্রবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ছেড়ে আসে। রাত ৯টা ১০ মিনিট নাগাদ কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে এই ট্রেনের।

ট্রেনটি এখান থেকে রাত সাড়ে ১০টায় আবার কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। ননস্টপ ট্রেনটিতে চড়ে প্রথমবারের মতো ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার যাবেন যাত্রীরা। তাই তো ট্রেন ছাড়ার অনেক আগেই প্ল্যাটফর্মে চলে এসেছেন ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেনের যাত্রীরা। স্টেশনে ঘুরে, গল্প করে, ছবি-সেলফি তুলে সময় পার করতে দেখা যায় তাদের।

সরেজমিনে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা এসব যাত্রীর অধিকাংশই পর্যটক। ঢাকা থেকে সরাসরি ট্রেনযোগে কক্সবাজার যাওয়ার মোক্ষম সুযোগ পেয়ে সবার চোখে মুখেই আনন্দের ঝিলিক। ট্রেনের জন্য অপেক্ষমাণ উচ্ছ্বসিত মানুষের ভিড় দ্রুতই বাড়তে দেখা গেছে।

যাত্রীরা বলছেন, প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে কক্সবাজার-ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচলের সাক্ষী হওয়ার বিষয়টি দারুণভাবে পুলকিত করছে তাদের। যাত্রীরা প্রত্যাশা করছেন, ননস্টপ এই ট্রেনে যেমন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন ঘটেছে, তেমনই পর্যটন শিল্পেও ঘটবে বিকাশ। কেননা, এতদিন সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ ছিল না। আগে চট্টগ্রামে ট্রেন থেকে নেমে তারপর বাসে চড়ে কক্সবাজার পৌঁছাতে হতো। এটিকে অনেকেই ঝামেলা মনে করে কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও তা চেপে রেখেছেন। তবে এখন ঢাকা থেকে সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার পৌঁছানো যাবে। এটি সাধারণ যাত্রী এবং পর্যটক সবার জন্যই সুফল বয়ে আনবে।

ওবায়দুল করিম নামের এক যাত্রী বলেন, কক্সবাজার-ঢাকা-কক্সবাজার রেল লাইন যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য নতুন এক মাইলফলক। এটি সাধারণ মানুষের জন্য অনেক সুফল বয়ে আনবে। স্বল্প সময়ে কক্সবাজার পৌঁছে যাওয়া যাবে। তবে ধীরে ধীরে ট্রেন সার্ভিস যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি যাত্রী সেবার মানও ধরে রাখতে হবে। কেননা, মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার ফসল এই রেল লাইন। তাই সাধারণ মানুষকেও যত্নের সঙ্গে এর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

রাসেল আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমার বাড়ি কক্সবাজার। ট্রেন যাত্রার প্রথম দিনেই টিকিট পেয়ে যাব, এমনটি ভাবিনি। খুব খুশি লাগছে। বাড়িতে যাওয়া এবং আসার ব্যাপারটি অনেক সহজ হয়েছে। শুরুতে কম ট্রেন ছাড়লেও পরে যখন আরও ট্রেন বাড়ানো হবে তখন সবাই এর সুফল পাবে।

‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেনের সময়সূচির ব্যাপারে জানা গেছে, শুরুতে কক্সবাজার থেকে ৮১৩ নম্বর ট্রেনটি দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে। চট্টগ্রামে ২০ মিনিট বিরতি দিয়ে বিকেল ৪টায় ছেড়ে বিরতিহীনভাবে ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে পৌঁছাবে রাত সাড়ে ৮টায়। ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে ৩ মিনিট বিরতি দিয়ে রাত ৮টা ৩৩ মিনিটে ছেড়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে রাত ৯টা ১০ মিনিটে।

অন্যদিকে, ৮১৪ নম্বর ট্রেনটি ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ২ অথবা ৩নং প্ল্যাটফর্ম থেকে রাত সাড়ে ১০টায় ছেড়ে বিমানবন্দর স্টেশনে পৌঁছাবে রাত ১০টা ৫৩ মিনিটে। সেখানে ৫ মিনিট বিরতি দিয়ে রাত ১০টা ৫৮ মিনিটে ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে রাত ৩টা ৪০ মিনিটে। সেখানে ২০ মিনিট বিরতি দিয়ে রাত ৪টায় ছেড়ে কক্সবাজার স্টেশনে পৌঁছাবে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে।

আর ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত শোভন চেয়ারের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৯৫ টাকা। এসি চেয়ারের ভাড়া ১ হাজার ৩২৫ টাকা, এসি সিটের ভাড়া ১ হাজার ৫৯০ টাকা এবং এসি বার্থের ভাড়া (ঘুমিয়ে যাওয়ার আসন) ২ হাজার ৩৮০ টাকা। অপরদিকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত শোভন চেয়ারের ভাড়া ২০৫ টাকা, স্নিগ্ধা শ্রেণির ৩৮৬ টাকা, এসি সিটের ৪৬৬ এবং এসি বার্থের ভাড়া ৬৯৬ টাকা।

সমুদ্রের শহরে ট্রেন ছাড়ল প্রধানমন্ত্রীর হুইসেলে


নিজস্ব প্রতিবেদক: পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের নগরী কক্সবাজারে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সড়ক ও বিমান পথের মাধ্যমে কক্সবাজারে এতোদিন আসা গেলেও আজ থেকে যুক্ত হলো নতুন এক যোগাযোগ ব্যবস্থা। বাংলাদেশ রেলওয়ে নেটওয়ার্কের ৪৮তম জেলা হিসেবে যুক্ত হয়েছে কক্সবাজার। সমুদ্রের এই শহরে রেলস্টেশনের ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দুপুর ১টায় উদ্বোধনের পর আইকনিক রেলস্টেশনের টিকিট কাউন্টার থেকে ১টা ২১ মিনিটে টিকিট কাটেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সবুজ পতাকা উড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর হুইসেল বাজানোর মাধ্যমে ১টা ২৭ মিনিটে স্টেশন থেকে রামুর উদ্দেশে ছেড়ে যায় একটি ট্রেন। রামুতে পৌঁছে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেবেন শেখ হাসিনা।

এর আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আজ রেলের সাথে কক্সবাজার সংযুক্ত হলো। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০২ কিলোমিটার রেললাইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকতে পেরে সত্যি আমি খুব আনন্দিত। একটা কথা দিয়েছিলাম, কথাটা রাখলাম। আজকের দিনটি বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটা গর্বের দিন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মানের জন্য ২০১০ সালে ৬ জুলাই দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। মেগা প্রকল্প হিসেবে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে টেন্ডার হলে দোহাজারী-চকরিয়া এবং চকরিয়া-কক্সবাজার (লট-১ ও লট-২) এই দুই লটে চীনা প্রতিষ্ঠান সিআরসি (চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন) ও দেশীয় প্রতিষ্ঠান তমা কনসট্রাকশন প্রকল্পের নির্মাণ কাজ পায়। কার্যাদেশ দেওয়ার পর ২০১৮ সালে এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। অনুমোদনের ১৩ বছর পর প্রকল্পটির উদ্বোধন হলো।

এই ১০২ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এর অর্থায়ন করেছে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকার। 

যেসব আন্তঃনগর ট্রেনে যুক্ত হচ্ছে নতুন লাগেজ ভ্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের আন্তঃনগর ট্রেনে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন লাগেজ ভ্যান। রেলের আয় বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নিয়ে চীন থেকে ১২৫টি রেফ্রিজারেটর ও নন-রেফ্রিজারেটর লাগেজ ভ্যান কিনেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের ১৬টি ট্রেনে ১৬টি লাগেজ ভ্যান যুক্ত করা হবে।

২৪ সেপ্টেম্বর রোববার সকাল ১০টায় দেশের প্রধান ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও অন্যান্য মালামাল পরিবহনের সুবিধার্থে আন্তঃনগর ট্রেনে আধুনিক লাগেজ ভ্যান সংযোজনের উদ্বোধন করেন রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন।

কোন কোন ট্রেনে এই লাগেজ ভ্যান যুক্ত হবে এবং প্রারম্ভিক ও গন্ত্যবের স্টেশন ছাড়া কোন কোন স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং ও আনলোডিং করা যাবে তা জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ের তথ্যমতে লাগেজ ভ্যান সুবিধা পাওয়া যেসব ট্রেন ও যেসব স্টেশন থেকে—
১. ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটের পারাবত এক্সপ্রেসে (৭০৯/৭১০) শুধুমাত্র চট্টগ্রাম ও সিলেট স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে।

২. সিলেট-চট্টগ্রাম-সিলেট রুটের পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেসে (৭২০/৭২৩) শুধুমাত্র চট্টগ্রাম ও সিলেট স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে। 

৩. চট্টগ্রাম-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেসে (৭১৯/৭২৪) শুধুমাত্র চট্টগ্রাম, শ্রীমঙ্গল ও সিলেট স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে।

৪. চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম রুটের বিজয় এক্সপ্রেসে (৭৮৫/৭৮৬) শুধুমাত্র চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, গৌ. ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও ভৈরব বাজার স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে

৫. ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ বাজার-ঢাকা রুটের ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসে (৭৪৩/৭৪৪) শুধুমাত্র ঢাকা, মেলান্দহ বাজার, ইসলামপুর বাজার, দেওয়ানগঞ্জ বাজার স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে।

৬. ঢাকা-ভূয়াপুর-ঢাকা রুটের জামালপুর এক্সপ্রেসে (৭৯৯/৮০০) শুধুমাত্র ঢাকা, তারাকান্দি, সরিষাবাড়ী, জামালপুর স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে।

৭. ঢাকা-কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রুটের কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসে (৭৮১/৭৮২) শুধুমাত্র ঢাকা, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, কিশোরগঞ্জ স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে।
 

৮. ঢাকা-মোহনগঞ্জ-ঢাকা রুটের হাওর এক্সপ্রেসে (৭৭৭/৭৭৮) শুধুমাত্র ঢাকা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, মোহনগঞ্জ স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে। 

৯. চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের মহানগর এক্সপ্রেসে (৭২১/৭২২) শুধুমাত্র চট্টগ্রাম, লাকসাম, কুমিল্লা ও ঢাকা স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে।

১০. চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের চট্টলা এক্সপ্রেসে (৮০১/৮০২) শুধুমাত্র চট্টগ্রাম, ফেনী, লাকসাম, ভৈরব বাজার, নরসিংদী ও ঢাকা স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে।

১১. ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটের জয়ন্তিকা ও উপবন এক্সপ্রেসে (৭১৭/৭৪০) শুধুমাত্র ঢাকা, শায়েস্তাগঞ্জ ও সিলেট স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে।

১২. সিলেট-ঢাকা-সিলেট রুটের জয়ন্তীকা ও উপবন এক্সপ্রেসে (৭১৮/৭৩৯) শুধুমাত্র সিলেট, শ্রীমঙ্গল ও ঢাকা স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে।

১৩. ঢাকা-লালমনিরহাট-ঢাকা রুটের লালমনি এক্সপ্রেসে (৭৫১/৭৫২) শুধুমাত্র ঢাকা, সান্তাহার, বগুড়া, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে।

১৪. ঢাকা-রংপুর-ঢাকা রুটের রংপুর এক্সপ্রেসে (৭৭১/৭৭২) শুধুমাত্র ঢাকা, সান্তাহার, বগুড়া, গাইবান্ধা ও রংপুর স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবেভ

১৫. ঢাকা-কুড়িগ্রাম-ঢাকা রুটের কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে (৭৯৭/৭৯৮) শুধুমাত্র ঢাকা, সান্তাহার, পার্বতীপুর, রংপুর ও কুড়িগ্রাম স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রেলের আয়ের অন্যতম খাত পণ্য পরিবহন। আর এটি করা হয় লাগেজ ভ্যানের মাধ্যমে। বর্তমানে রেলওয়েতে ৪১টি মিটারগেজ ও ১০টি ব্রডগেজ লাগেজ ভ্যান আছে। সেগুলোর বেশির ভাগের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে অনেক আগেই। ফলে পণ্য পরিবহন থেকে যথেষ্ট আয় করতে পারছে না রেলওয়ে। এখন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে রেলওয়ের রোলিং স্টক অপারেশন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নতুন করে অত্যাধুনিক ৭৫টি মিটারগেজ ও ৫০টি ব্রডগেজ লাগেজ ভ্যান সংযোজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এর আগে সরকার ২০১৮ সালের ২৬ জুন পণ্য পরিবহন ও যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে আধুনিক, নিরাপদ ও গুণগত মানসম্মত রোলিং বহরে স্টক যুক্ত করার লক্ষ্যে ৩ হাজার ৬০২ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের রোলিং স্টক অপারেশন উন্নয়ন প্রকল্পের (রোলিং স্টক সংগ্রহ) অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ২ হাজার ৮৩৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ঋণ দেবে। প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত হলেও পরে তা বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন