ঢাকা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ঢাকা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ডিএনসিসির সাবেক মেয়র আতিক গ্রেপ্তার

মেয়র আতিক
ডিএনসিসি'র সাবেক মেয়র মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম। ছবিঃ সংগৃহীত

স্টাফ রির্পোটার: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক মেয়র মোহাম্মদ আতিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে মেয়র নির্বাচিত হন মো. আতিকুল ইসলাম।

এছাড়া ইসলাম গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক তিনি। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমিএ) সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

ডেমরায় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, ঘটনার নেপথ্যে রহস্য ঘনীভূত

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: রাজধানীর ডেমরার শান্তিবাগ এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে রিফাত খান (১৫) নামে এক শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যু হয়েছে। তিনি ডেমরা ডগাইর এলাকায় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

প্রতিবেশী কবির হোসেন শান্ত বলেন, পারিবারিক কলহের জোরে অভিমান করে গলায় রশি পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে থাকে। পরে দেখতে পেয়ে আমরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসলে চিকিৎসক জানায় সে আর বেঁচে নেই।

তিনি আরো জানায়, বর্তমানে তারা ডেমরা থানার শান্তিবাগ এলাকায় থাকতো। সে রিয়াজউদ্দিন খানের ছেলে। ডগাইল এলাকার একটি স্কুলের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল সে।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, মরদেহটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। আমরা বিষয়টি ডেমরা থানা পুলিশকে জানিয়েছি।

ঘেরাও কর্মসূচিতে হাইকোর্টের সামনে শিক্ষার্থীরা

হাইকোর্ট ঘেরাও করলেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট বিচারকদের পদত্যাগের দাবিতে হাইকোর্ট ঘেরাও করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বুধবার হাইকোর্টের সামনে মিছিল নিয়ে উপস্থিত হন শিক্ষার্থীরা।


তবে আগে থেকেই হাইকোর্ট গেটসহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাইকোর্ট মাজার গেট এসে পৌঁছান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা।

এদিন বেলা পৌনে ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আরেকটি বিক্ষোভ মিছিল হাইকোর্টের উদ্দেশ্যে বের হয়।

এর আগে বেলা সাড়ে ১০টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

এসময় শিক্ষার্থীরা, ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনী হাসিনার ফাঁসি চাই’; আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’; স্বৈরাচারের দালালেরা, হুশিয়ার সাবধান’; ঘেরাও ঘেরাও ঘেরাও হবে, হাইকোর্ট ঘেরাও হবে’; দালালী না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’; ‘দিল্লী না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’; আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’; ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

আগে থেকেই হাইকোর্ট ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়ে রেখেছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মো. সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ।

মঙ্গলবার রাতে তাদের ফেসবুকে ওয়ালে দুই সমন্বয়ক লিখেছেন, আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট বিচারকদের পদত্যাগের দাবিতে আগামীকাল বেলা ১১টায় হাইকোর্ট ঘেরাও কর্মসূচি। বেলা ১১টায় রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হয়ে সেখান থেকে একসঙ্গে হাইকোর্ট অভিমুখে যাত্রা৷ আবারো কালো শকুনদের উৎখাত করতে রাজপথ প্রকম্পিত হবে।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আওয়ামী লীগের আমলে নিয়োগ পাওয়া দলবাজ বিচারপতি হিসেবে চিহ্নিতদের পদত্যাগ দাবি করে আসছেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা। এ ছাড়া সাধারণ আইনজীবীরাও দলবাজ বিচারপতিদের পদত্যাগ দাবি করে আসছেন।

বায়ুমান সূচক: বিশ্বের চতুর্থ দূষিত শহর ঢাকা

দূষণে অতিষ্ঠ জনজীবন। ছবিঃ সংগৃহীত 
 

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকার বাতাসের মানের অবনতি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৯টায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে দেখা যায়, ঢাকার বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’।

বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় ১৮৬ একিউআই স্কোর নিয়ে ৪র্থ অবস্থানে রয়েছে জনবহুল শহর ঢাকা।

অন্যদিকে, ইরাকের বাগদাদ, ভারতের দিল্লি ও পাকিস্তানের লাহোর যথাক্রমে ৩৩২, ২০৩ ও ১৮৮ একিউআই স্কোর নিয়ে তালিকার প্রথম তিনটি স্থানে অবস্থান করছে।

১০১ থেকে ১৫০ এর মধ্যে হলে বাতাসের মান 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর', ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে একিউআই স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করা হয়।

২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে 'খুব অস্বাস্থ্যকর' বলা হয় এবং ৩০১+ একিউআই স্কোরকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের ৫টি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে। সেগুলো হলো- বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।

দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণে ভুগছে ঢাকা। এর বাতাসের গুণমান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায় এবং বর্ষাকালে কিছুটা উন্নত হয়।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার বায়ু দূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো- ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলো।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএইচও) অনুসারে, বায়ু দূষণের ফলে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার বেড়ে গিয়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়।

শমী কায়সারের নামে ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা

শমী কায়সার
ফাইল ছবি

স্টাফ রির্পোটার: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কটূক্তি করায় শমী কায়সারের নামে ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ অক্টোবর) মাগুরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শমী কায়সারের নামে মামলাটি করেন শহরের দরিমাগুরা সরদার পাড়ার গাজী ইমামের ছেলে রেজোয়ান কবির।

মামলায় বলা হয়েছে, জিয়াউর রহমানের খ্যাতি-সুনাম নষ্টের উদ্দেশ্যে শমী কায়সার বিভিন্ন ধরনের কটূক্তি করায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলার আইনজীবী কাজী মিনহাজ বলেন, আসামি যেসব বক্তব্য দিয়েছেন তাতে ১০০ কোটি টাকার মানহানির ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করেন।

তিনি বলেন, বাদী আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন। ওই আদালতের বিচারক হুমায়ুন কবির মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

ঢাকার পুননির্মাণে জনস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ গবেষকদের

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শহর ঢাকা নগর উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে জরুরি চ্যালেঞ্জের মুখে। ঢাকাকে আবারও বাসযোগ্য করে তুলতে অবশ্যই ঝুঁকিগুলোর সমাধান করতে হবে। এমন পরামর্শই উঠে এসেছে ঢাকাকে নিয়ে পরিচালিত বেশ কয়েকটি গবেষণায়।

একটি গবেষণা নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালের ওই গবেষণায় দেখা দেখে যানজটপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবার মতো সমস্যাগুলোর সঙ্গে লড়াই করছে ঢাকার বাসিন্দারা। যেখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ৩০ হাজার ৯৩ জন।

এই সমস্যাগুলো নগরীর বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে। এটি পুননগরায়ন এবং জনস্বাস্থ্য উভয়কেই শহরের ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য অগ্রাধিকারে একটি। এরসঙ্গে যুক্ত রয়েছে ঢাকার দূষিত বাতাস, যা  শ্বাসকষ্টের রোগী বা এমন সমস্যাগ্রস্ত নাগরিকদের মারাত্মক পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়।

এ বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সায়েন্স অ্যাডভান্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ঢাকায় বায়ুদূষণের কারণে ২৪ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু হয়েছে, যা বিশ্বের ৪৬টি শহরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এই ফলাফলগুলো নগর উন্নয়নের জন্য একটি বিস্তৃত পদ্ধতির জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়। যা অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি স্বাস্থ্য উদ্বেগ এবং পরিবেশগত ঝুঁকিগুলোকে রোধ করে।

 

ঢাকার দ্রুত নগরায়ন এসব সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে। অপরিকল্পিত অবকাঠামো, দুর্বল স্যানিটেশন, অপরিকল্পিত বসতি এবং পরিবেশগত অবক্ষয় শহরটিকে ক্রমেই বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে।

গবেষণা নিবন্ধে নগর পুননির্মাণের উদ্যোগের সঙ্গে জনস্বাস্থ্য একীভূত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালের দুটি মূল গবেষণায় উদ্ভাবনী সমাধানের প্রস্তাব দেওয়ার সময় ঢাকার চলমান চ্যালেঞ্জগুলোর গভীরে দৃষ্টিপাত করা হয়েছে।

২০২৪ সালের মার্চ মাসে নওরোজ ফাতেমী, জারিন হাবিবা ইসলাম এবং তাহমিনা রহমানের নেতৃত্বে এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল পুরান ঢাকার পরিস্থিতি পরীক্ষা করে দেখেছেন। পুরান ঢাকা এলাকাটি একটি ঐতিহাসিক অঞ্চল, যেখানে সাংস্কৃতিক তাৎপর্য গভীরভাবে জড়িত কিন্তু অবকাঠামোগত ব্যর্থতায় জর্জরিত।

গবেষকরা বাসযোগ্যতা উন্নয়ন এবং সম্প্রদায়ের সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণের জন্য বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ডিএপি) সংস্কারের গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন।

গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ আলোচনা, মূল তথ্যদাতার সাক্ষাৎকার এবং নগর নকশা কর্মশালার সঙ্গে জড়িত তাদের অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি প্রমাণ করেছে যে, বাসিন্দারা কেবল অবকাঠামোগত উন্নতিই চায় না, বরং সম্প্রদায়ের শক্তিশালী সংহতিও চান।

গবেষণায় তৃণমূল পর্যায়ের প্রচেষ্টার সঙ্গে আগা-গোড়া উদ্যোগগুলোকে একীভূত করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছিল। উন্নত ড্রেনেজ, বর্ধিত সড়ক নেটওয়ার্ক এবং জনসাধারণের  উন্নত সুযোগ-সুবিধার মতো শারীরিক উন্নতিগুলো অবশ্যই সম্প্রদায়ের অনন্য সাংস্কৃতিক কাঠামোকে সংরক্ষণের প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

এই শহুরে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার জন্য সম্প্রদায়-চালিত সমাধানগুলোর সঙ্গে সম্পূর্ণ পরিকল্পনার ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তির গুরুত্বকে আরও জোরদার করে।

একইভাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ফ্রন্টিয়ার্স ইন পাবলিক হেলথে মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, আবুল কালাম এবং মো. আল-মামুনের প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় ঢাকায় অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে উদ্ভূত জনস্বাস্থ্য সংকটের উপর আলোকপাত করা হয়েছিল।

অননুমোদিত বসতিগুলোতে, বিশেষত বস্তিগুলোতে দুর্বল অবকাঠামোর কারণে কলেরা এবং ডায়রিয়ার মতো পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবের পাশাপাশি বায়ু দূষণের সঙ্গে সম্পৃক্ত শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যাসহ গুরুতর জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির দিকে পরিচালিত করেছে।

শারীরিক স্বাস্থ্যের বাইরেও, গবেষণায় বাসিন্দাদের উপর মনস্তাত্ত্বিক বোঝাও তুলে ধরা হয়েছে, উপচে পড়া ভিড় এবং পরিবেশগত চাপগুলো মানসিক সুস্থতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে।

গবেষকরা জনস্বাস্থ্যের বোঝা কমানোর জন্য স্যানিটেশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতি এবং স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা বাড়ানোর মতো সামগ্রিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা যুক্তি দেখিয়েছেন যে, এই পদক্ষেপগুলো ঢাকার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়ের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের অকল্পনীয় উন্নতি করতে পারে।

উভয় গবেষণা প্রচেষ্টা শহুরে পুননির্মাণেল জন্য একটি বহুমুখী পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তার দিকে ইঙ্গিত করে - যা স্বাস্থ্যের শারীরিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত নির্ধারকদের বিবেচনা করে। নীতিনির্ধারক এবং নগর পরিকল্পনাবিদদের একটি সহযোগিতামূলক কৌশল গ্রহণ করতে উৎসাহিত করা হয়, যা সরকারি সংস্থা, সম্প্রদায়ের নেতা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের শহরের ভবিষ্যতের জন্য একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে জড়িত করে।

২০২০ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ কান্ট্রি এনভায়রনমেন্টাল অ্যানালাইসিস (সিইএ) জরুরি ভিত্তিতে প্রকাশ করেছে যে বায়ুদূষণ, অনিরাপদ পানি এবং দুর্বল স্যানিটেশনের মতো পরিবেশগত কারণগুলোতে দেশে বছরে ২ লাখ ৭২ হাজারের বেশি মানুষের অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী।

এই পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলো ২০১৯ সালে বাংলাদেশকে তার জিডিপির ১৭ দশমিক ৬ শতাংশের সমতুল্য ক্ষতি করেছে, যার অর্ধেকেরও বেশি মৃত্যুর জন্য এককভাবে বায়ুদূষণ  দায়ী।

ঢাকা নগরীকে পুননির্মাণে অবশ্যই ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ মোকাবিলা, পরিবেশগত ঝুঁকি রোধ এবং জনগোষ্ঠীর শক্তিশালী সম্পৃক্ততা জোরদারের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে।

যেহেতু ঢাকার সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে, তাই এর চ্যালেঞ্জটি এমন একটি শহর হয়ে ওঠা, যা কেবল আধুনিক এবং কার্যকরী নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য এবং স্বাস্থ্যকরও হবে।

আওয়ার ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনের মতে, ছোট শহর ও জেলা শহরগুলোতে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ চীনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শিক্ষা নিতে পারে, যার ফলে ঢাকায় অতিরিক্ত অবকাঠামোগত চাপ কমবে।

২০-২৫ বছরের বেশি পুরোনো যানবাহন প্রত্যাহারের উদ্যোগ পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের

২০-২৫ বছরের বেশি পুরোনো যানবাহন প্রত্যাহারের উদ্যোগ পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের
ঢাকা মেট্রো শহরের রাস্তায় পুরনো গাড়ি। ছবি: সংবাদ সাতদিন

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: বায়ুদূষণ কমাতে ২০ বছরের পুরোনো বাস ও মিনিবাস এবং ২৫ বছরের পুরোনো ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান রাস্তা থেকে প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।

রোববার (৬ অক্টোবর) সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো চিঠিতে এই অনুরোধ জানানো হয়।

এছাড়া, পুরোনো ডিজেল চালিত বাস ও ট্রাকের ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় বাধ্যতামূলকভাবে নিঃসরণ পরীক্ষা চালুর অনুরোধও জানানো হয়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের নেতৃত্বে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর অংশ হিসেবে বায়ুদূষণ রোধে, ইকোনমিক লাইফ অতিক্রান্ত যানবাহন প্রত্যাহার এবং ডিজেল চালিত পুরোনো যানবাহনের নিঃসরণ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার জন্য বিআরটিএকে অনুরোধ জানানো হয়।

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে জাতীয় কমিটির প্রথম ও দ্বিতীয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ফিটনেসবিহীন এবং ইকোনমিক লাইফ অতিক্রান্ত হয়েছে এমন যানবাহনকে রাস্তা থেকে প্রত্যাহারের জন্য বিআরটিএ কর্তৃক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঢাকায় পুরোনো ডিজেল চালিত বাস ও ট্রাকের ফিটনেস পরীক্ষার সময় নিঃসরণ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। 

যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রধান সড়ক থেকে ছোট যানবাহন অপসারণের দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির

যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রধান সড়ক থেকে ছোট যানবাহন অপসারণের দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির

 সংবাদ সাতদিন ডেস্ক:  ঢাকা মহানগরীর প্রধান সড়ক থেকে রিকশা, ইজিবাইকসহ ছোট ছোট যানবাহন তুলে দিয়ে বৈজ্ঞানিক পন্থায় ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের দাবি করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

এ ব্যবস্থা চালু করা গেলে ঢাকার যানজট সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি মিলবে বলে দাবি তাদের।

রবিবার (৬ অক্টোবর) সকালে নগরীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ দাবি করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, যত্রতত্র যাত্রী উঠানামা, পরিবহন সংশ্লিষ্টরা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করায় ভয়াবহ যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী। নগরীর এক প্রান্ত থেকে যেকোনো গন্তব্যে যেতে ৪/৫ ঘন্টার বেশি সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। ঢাকার যানজটে প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে কর্মক্ষম মানুষের ৮২ লাখ কর্মঘণ্টা।

বুয়েটের তথ্য বলছে, প্রতি বছর এই যানজটে আর্থিক ক্ষতি পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকা।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে সংগঠনের মহাসচিব আরও বলেন, নগরীতে মেয়াদ উত্তীর্ণ বাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ৪ লাখ প্যাডেলচালিত রিকশা, ৬ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ১ লাখ ৩৪ হাজার রাইডশেয়ারিং এর ছোট ছোট যানবাহন, ৩০ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা অবাধ যাতায়াতের কারণে নগরীর যানজট ও জনজট চরমভাবে বেড়ে চলেছে। অন্যদিকে এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক ব্যবস্থা এখনো সেকেলে পদ্ধতিতে রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পরে নগরীর ৪ হাজার ট্রাফিক পুলিশ এখনো নিষ্ক্রিয়। যানজট কমাতে জরুরি ভিত্তিতে অত্যাধুনিক প্রকৌশলগত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা দরকার।

তিনি আরও বলেন, প্রকৌশলগত গবেষণা করে ২ বা ৩ লেইনের ছোট ইন্টারসেকশনে ট্রাফিক সিগনাল ১ থেকে ২ মিনিট আর বড় ইন্টারসেকশনে ট্রাফিক সিগনাল ২ থেকে ৩ মিনিট চালু রাখা।

বিআরটিএর তথ্যমতে, রাজধানীতে প্রতিদিন গড়ে ছোট ছোট ৮০০ গাড়ি নামছে। জাইকার সমীক্ষা অনুযায়ী ঢাকা মহানগরীতে প্রতিদিন গড়ে ৪ কোটি টিপ যাত্রী যাতায়াত হয় এর ৬০ শতাংশ গণপরিবহন ব্যবহার করেন। এসব যাত্রীদের ৬৭ শতাংশ কেবল বাস ব্যবহার করেন।

মোজাম্মেল চৌধুরি বলেন, নগরীর প্রধান সড়ক করিডর থেকে প্যাডেলচালিত রিকশা, মোটরচালিত রিকশা, ইজিবাইক, ভ্যানগাড়ি, ডেলিভারিভ্যানসহ অযান্ত্রিকযান, ত্রি-চক্রযান চলাচল বন্ধ করা গেলে যানজট সমস্যা বাকি ২০ শতাংশ সমাধান সম্ভব।

রাজধানী ঢাকার যানজট সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। সেগুলো হলো-

১. রাজধানী ঢাকায় উন্নত সিটিবাসের ব্যবস্থা করা, বাস রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে বাসের জন্য প্রাধিকার লেইনের ব্যবস্থা করা।

২. এই মুহূর্তে ঢাকায় মোটরসাইকেলসহ ছোট ছোট যানবাহন নিবন্ধন জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ করা।

৩. রাজধানীর ঢাকার প্রধান প্রধান সড়ক করিডর থেকে প্যাডেল চালিত রিক্সা, ইজিবাইকসহ ধীরগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করা।

৪. ফুটপাত দখল মুক্ত করা, ফুটপাতে সাচ্ছন্দ্যে পদচারী যাতায়াতের ব্যবস্থা করা, প্রয়োজনে সড়কের মিডিয়ানে উড়াল ফুটপাত তৈরি করা।

৫. ট্রাফিক সিগন্যাল ডিজিটাল করা, আইন লঙ্ঘনের জন্য ট্রাফিক প্রসিকিউশন সিস্টেম উন্নত বিশ্বের মত ক্যামেরা পদ্ধতি চালু করা। জরিমানার অর্থ পরিবহন মালিক- চালকের ব্যাংক হিসাব থেকে আদায়ের ব্যবস্থা করা।

৬. প্রধান সড়কে, সড়কের বাঁকে পার্কিং, লোডিং, আনলোডিং বন্ধ করা, যত্রতত্র যাত্রী উঠানামা বন্ধ করা।

৭. যত্রতত্র হাত তুলে রাস্তা পারাপার বন্ধ করে জেব্রাক্রসিং, ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা।

৮. যানজট সমস্যা চিহ্নিত করা ও তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য ডিটিসিএ, ডিএনসিসি, ট্রাফিক বিভাগের সমন্ময়ে ৪ থেকে ৬ সদস্যের একটি ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিশেষজ্ঞ টিম সার্বক্ষণিক নগরজুড়ে যানজট পরিস্থিতি মনিটরিং করে তাৎক্ষণিক সমাধান দেবে এমন একটি অভিজ্ঞ-বিশেষজ্ঞ টিম তৈরি করা।

৯. ঢাকার প্রবেশদ্বারগুলো যানজটমুক্ত রাখার উপায় বের করা। বিকল্প সড়কসমূহ ব্যবহারে ট্রাফিক নির্দেশনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।

১০. মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার যানজটমুক্ত করতে গুলিস্থান পার্ককে অস্থায়ী টার্মিনাল বানানো, কারগারি দিক বিবেচনা করে রাজধানীতে প্রবেশমুখী র‌্যাম্প বাড়ানো।

১১. বৈজ্ঞানিক পন্থায় গবেষণা করে ২ বা ৩ লেইনের ছোট ইন্টারসেকশনে ট্রাফিক সিগনাল ১ থেকে ২ মিনিট আর ৩ বা ৪ লেইনের বড় ইন্টারসেকশনে ট্রাফিক সিগনাল ২ থেকে ৩ মিনিট চালু রাখা।

১২. বাস দাড়ালে যানজট হয় না, সমীক্ষা চালিয়ে এমন স্পটগুলো খুজে খুজে নগরজুড়ে ৩০০ বাসস্টপেজের ব্যবস্থা করা। এ সব বাসস্টপেজে যাত্রী উঠা-নামা বাধ্যতামূলক করা। নির্মিত যাত্রীছাউনিগুলো জরুরি ভিত্তিতে যাত্রী উঠা-নামায় ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা।

ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রোববার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের এ কম্পন অনুভূত হয়।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৯। ১০ কিলোমিটার (কিমি) গভীরতার এ ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল টাঙ্গাইল থেকে ২৮ কিমি দূরে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন