ভূমিকম্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ভূমিকম্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ভূমিকম্পে কাঁপল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকাসহ দেশে বিভিন্ন জেলায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৫।

শনিবার সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটের দিকে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ইউরোপীয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) ও মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা- ইউএসজিএস জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কুমিল্লা থেকে ৪৬ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণপশ্চিমে এবং লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থেকে ৮ কিলোমিটার উত্তরপূর্বে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিমি.। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৫। 

টাঙ্গাইল, চুয়াডাঙ্গা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, ফেনী, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর, কুষ্টিয়া থেকে ভূমিকম্পের খবর পাওয়া গেছে।

ঢাকার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ। ঢাকার আগারগাঁও ভূমিকম্প গবেষণা কেন্দ্র থেকে উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব ৮৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৬। আবহাওয়া অফিস বলছে এটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প। 

সর্বশেষ ২ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিটে ভূ-কম্পন অনুভূত হয় বাংলাদেশে। রাজধানী ঢাকাসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জয়পুরহাট, নওগাঁ, বগুড়া, রংপুর, ময়মনসিংহ, গাইবান্ধা, রাজশাহী, জামালপুর, লালমনিরহাট, সিলেট, মৌলভীবাজার, সিরাজগঞ্জ, চট্টগ্রাম, শেরপুর, সাভার, গাজীপুর, পঞ্চগড়, কক্সবাজার, লালমনিরহাট, হবিগঞ্জ, নাটোর ও কুড়িগ্রামে মৃদু কম্পন অনুভূত হয়।

চলতি বছর যত ভূমিকম্প
চলতি বছর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ১০টি হালকা ও মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে। এতে জানমালের তেমন ক্ষতি না হলেও বড় ধরনের ভূমিকম্পের আভাস পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বছর প্রথম ভূকম্পন অনুভূত হয় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের পাশাপাশি কেঁপে ওঠে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট জেলাও। ৩ দশমিক ৯ মাত্রার এ ভূমিকম্পে জানমালের তেমন ক্ষতি হয়নি।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে মাঝারি মাত্রার জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে। দেশটির আয়াবতি ও রাখাইন রাজ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের কক্সবাজারেও ভূকম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার আগারগাঁও থেকে ৩৭৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১।  

চট্টগ্রামে গত ৩০ এপ্রিল ৪ দশমিক ৬ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল অক্ষাংশ ২২ দশমিক ৯৩ ডিগ্রি উত্তর, দ্রাঘিমা ৯৪ দশমিক ১৯ ডিগ্রি পূর্ব মিয়ানমারের মাউলাইকে। রাজধানীর ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এর দূরত্ব ছিল ৪০০ কিলোমিটার।

গত ৫ মে রাজধানীতে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩। উৎপত্তিস্থল ঢাকার সিটি সেন্টার থেকে ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে দোহারে।

গত ৫ জুন ৩ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে বঙ্গোপসাগরে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল মিয়ানমারের কাছে বঙ্গোপসাগরের তলদেশে।

গত ১৬ জুন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূকম্পন অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটের গোলাপগঞ্জ, মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫।

গত ১৪ আগস্ট সিলেটে ফের ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। একই সঙ্গে ঢাকাসহ কয়েকটি জেলায়ও এটি অনুভূত হয়। উৎপত্তিস্থল ছিল আসামের মেঘালয়, গভীরতা ছিল ৩৫ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব ২২৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে।

ঠিক ১৬ দিনের মাথায় অর্থাৎ ২৯ আগস্ট সিলেট মহানগরীর আশপাশে ফের মৃদু কম্পন অনুভূত হয়। এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৫। উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের মেঘালয় রাজ্যের জৈন্তাপুরে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসাম রাজ্যে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার মৃদু ভূমিকম্প আঘাত হানে। আসামে আঘাত হানা ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে বাংলাদেশের সিলেট জেলাও। ঢাকা থেকে উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব ২৬৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে ভারতের আসামের কাছাড়ে।

১৭ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলে ৪.২ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ৫৯ কিলোমিটার দূরে টাঙ্গাইল সদরে। ভূপৃষ্ঠ থেকে ৫ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর অবস্থান।

আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে নিহত ‘এক হাজারের বেশি’, হেরাতে আতঙ্ক

হেরাত প্রদেশের সারবুল্যান্ড গ্রামে ভূমিকম্পের পরে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির পাশে কম্বলের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছে আফগান শিশুরা।

আন্তর্জাতিক ডেক্স: আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলের হেরাত প্রদেশে আঘাত হানা শক্তিশালী ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ‘ছাড়িয়েছে এক হাজার’। এছাড়া ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন আরও শত শত মানুষ।

এই ঘটনায় দেশটির হেরাত প্রদেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আফগানিস্তানের সরকারি মুখপাত্রের বরাত দিয়ে ৮ অক্টোবর রোববার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ধারাবাহিক কয়েকটি ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা রোববার ব্যাপকভাবে বেড়ে ‘এক হাজারের বেশি’ হয়েছে বলে দেশটির একজন সরকারি মুখপাত্র জানিয়েছেন।

হেরাত প্রদেশে শনিবারের ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্পের বিষয়ে বিলাল করিমি নামের ওই মুখপাত্র এএফপিকে বলেছেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি... মৃতের সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি।

অন্যদিকে আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ৫০০ জনে পৌঁছেছে বলে রেড ক্রিসেন্টের বরাত দিয়ে রোববার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ৫০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে রেড ক্রিসেন্টের মুখপাত্র এরফানুল্লাহ শারাফজোই রোববার জানিয়েছেন।

শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে ওই ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পর পাঁচটি বড় ধরনের আফটারশক হয়েছে; যার কেন্দ্রস্থল ছিল ওই অঞ্চলের বৃহত্তম শহরের কাছে।

কর্মকর্তাদের মতে, জিন্দা জান ও ঘোরিয়ান জেলার ১২টি গ্রাম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্য অনুসারে, পশ্চিম আফগানিস্তানে ছয়টি ভূমিকম্প হয়েছে এবং যার মধ্যে সবচেয়ে বড়টি ছিল ৬.৩ মাত্রার। সংস্থাটি বলছে, শনিবার আঘাত হানা ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল হেরাত শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে। এই ভূমিকম্পের পর দেশটিতে ৫ দশমিক ৫, ৪ দশমিক ৭, ৬ দশমিক ৩, ৫ দশমিক ৯ ও ৪ দশমিক ৬ মাত্রার পাঁচটি শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ফারাহ ও বাদঘিস প্রদেশেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

নিজেকে ডা. দানিশ হিসাবে পরিচয় দেওয়া হেরাতের স্বাস্থ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, ভূমিকম্পে নিহত ২০০ জনেরও বেশি ব্যক্তির মরদেহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আর ৫১০ জন আহত হয়েছেন। এই সংখ্যা পরিবর্তন হতে পারে।’

অন্যদিকে রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ভূমিকম্পে নিহতদের অনেকের মৃতদেহ ‘সামরিক ঘাঁটি, হাসপাতালসহ অনেক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে’। তাই আমরা নিহতের এই সংখ্যাটি নিশ্চিত বা প্রত্যাখ্যান করতে পারছি না।

নাসিমা নামে হেরাতের এক বাসিন্দা বলেন, ভূমিকম্প হেরাতে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘লোকেরা তাদের বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে, আমরা সবাই রাস্তায় আছি।’

হেরাতের পূর্বাঞ্চলে ১২০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে ইরানের সাথে। এই শহরটিকে আফগানিস্তানের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে মনে করা হয়। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, হেরাত প্রদেশের রাজধানী হেরাত শহরে ১৯ লাখ মানুষের বসবাস রয়েছে।

গত বছরের জুনে আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার এক ভূমিকম্পে এক হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। গত কয়েক দশকের মধ্যে আফগানিস্তানে সেটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প ছিল বলে সেই সময় জানায় দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া চলতি বছরের মার্চে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকায় সাড়ে ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এই ভূমিকম্পে দুই দেশে অন্তত ১৩ জন নিহত হন।

মূলত হিন্দুকুশ পর্বতমালা ও ইউরেশীয়-ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থান হওয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে আফগানিস্তান।

ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রোববার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের এ কম্পন অনুভূত হয়।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৯। ১০ কিলোমিটার (কিমি) গভীরতার এ ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল টাঙ্গাইল থেকে ২৮ কিমি দূরে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন