একনেক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
একনেক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

কর্ণফুলীর ওপর ১১৫৬০ কোটি টাকার রেল-সড়ক সেতুর অনুমোদন একনেকে

 একনেক

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কর্ণফুলী নদীর ওপর ১১ হাজার ৫৬০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে রেল-সড়ক সেতু নির্মাণের উল্লেখযোগ্য অবকাঠামো প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

কালুরঘাট এলাকায় অবস্থিত সেতুটি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন পরিবহন সহজতর করবে এবং এই অঞ্চলের যানবাহন ও রেল যোগাযোগ উভয়ই উন্নত করবে।

সম্প্রতি সংস্থাটির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে চলতি অর্থবছরের তৃতীয় একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় অনুমোদিত চারটি প্রকল্পের মধ্যে এটি একটি। এটির  সম্মিলিতভাবে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ হাজার ৪১২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

পুরনো কালুরঘাট সেতুর অতি প্রয়োজনীয় প্রতিস্থাপন

সভা শেষে পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ পুরাতন কালুরঘাট সেতুটি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

বর্তমান সেতুটি খারাপ অবস্থায় রয়েছে, ট্রেনের গতি প্রতি ঘণ্টায় মাত্র ১০ কিলোমিটারে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন এই সেতু কেবল স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাই উন্নত করবে না, বরং কক্সবাজারকে একটি প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ড. ওয়াহিদউদ্দিন আরও জোর দিয়েছিলেন যে নতুন সেতুটি মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পারিপার্শ্বিক অর্থনৈতিক অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও সহায়তা করবে। ২০৩০ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ১১ হাজার ৫৬০ কোটি ৭৭ লাখ টাকার মধ্যে ৪ হাজার ৪৩৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা বাংলাদেশ সরকার এবং বাকি ৭ হাজার ১২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) ও ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট প্রমোশন ফ্যাসিলিটি (ইডিপিএফ) থেকে জোগান দেওয়া হবে।

আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধিকে সমর্থনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, নতুন সেতুটি দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনের সঙ্গে একটি দক্ষ সংযোগ তৈরি করে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি করবে, যা চীন, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশকে ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।

প্রকল্পের আওতায় ৭০০ মিটার সেতু, ৬ দশমিক ২০ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট, ২ দশমিক ৪০ কিলোমিটার সড়ক ভায়াডাক্ট, ৪ দশমিক ৫৪ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ এবং ১১ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার রেললাইন স্থাপন করা হবে।

নতুন সেতুটি চট্টগ্রামের শিল্পগুলোকেও উপকৃত করবে। যা দেশের ৭০ শতাংশ আমদানি ও রপ্তানি পরিচালনা করে। উন্নত পরিবহন সংযোগ চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পরিবহন সহজতর করার পাশাপাশি এই অঞ্চলের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সমর্থন করবে।

অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্প

রেল-সড়ক সেতু ছাড়াও ৬ হাজার ৫৭৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদন দিয়েছে একনেক।

অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ৩৭৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২ (এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেন আপগ্রেডেশন) এর দ্বিতীয় সংশোধনী প্রকল্প এবং ৫ হাজার ৯০১ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে রেজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (আরইইউটিডিপি)।

খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি রেকর্ড সাড়ে ১২ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগস্টের শেষদিকে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ সরকারের বেশ কয়েকজন নীতিনির্ধারক। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা এখন অতিমাত্রায় ‍মূল্যস্ফীতি, অর্থাৎ নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম। কিছুটা থেমে হাসি মুখে তিনি বলেন, ‘যদিও আমি মনে করি এ মাসে তা কমে আসবে, এটা বলা কিছুটা সাহসের ব্যাপারও বটে।’ মন্ত্রী সাহস করে হাসিমুখে যে কথাটি বলেছিলেন মাস শেষে হয়েছে ঠিক তার উল্টোটা। মূল্যস্ফীতি কমার পরিবর্তে বরং আরও বেড়েছে আগস্ট শেষে।

মূল্যস্ফীতি কী কিংবা কতটা প্রভাব ফেলে মানুষের জীবনে তা হয়তো অনেক সাধারণ মানুষই বোঝেন না কিংবা বোঝার চেষ্টাও করেন না। তবে নিত্যপণ্যের অসহনীয় দাম যে বড্ড ভোগাচ্ছে সাধারণ মানুষকে তা হয়তো সরকারের কর্তারাও টের পাচ্ছেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএসের প্রতিবেদন দেখে।

আগস্ট মাস শেষে বিবিএসের প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, মূল্যস্ফীতি আবারও বেড়েছে। আগের দুই মাসে খুব সামান্য কিছুটা কমার পর আবারও ১০ শতাংশ ছুঁই ছুঁই করছে মূল্যস্ফীতি। সরকারি প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে চলতি বছরের আগস্টে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। জুলাই মাসে যা ছিল ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ। খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য পণ্য নিয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি তৈরি করে বিবিএস। আর শুধু খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি এ মাসে ছাড়িয়েছে ১২ শতাংশের ঘর। রোববার প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, খাদ্যপণ্যে সার্বিক বা সারাদেশের মূল্যস্ফীতি ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ। তার আগের মাস জুলাইয়ে যেটি ছিল ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। যারা ভাবেন গ্রামে নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা কম তাদের অবাক করে গ্রামাঞ্চলের খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ। অর্থাৎ গ্রামাঞ্চলে ২০২২ সালের আগস্টে যে খাদ্যপণ্য কিনতে ১০০ টাকা গুনতে হতো, তা ২০২৩ সালের আগস্টে এসে দাঁড়িয়েছে ১১২ টাকা ৭১ পয়সা।

তবে কিছুটা কমেছে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি, জুলাই মাসে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ, আগস্টে যা কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। তবে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে খাদ্যপণ্যে প্রায় তিন শতাংশ মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায়। নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে এই মূল্যস্ফীতি।

মূল্যস্ফীতির বাড়তি হারকে অর্থনীতি বিশ্লেষকরা করের মতোই বোঝা বলে মনে করেন। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে যার কোনো আয় বাড়েনি তার জন্যও এখন বাড়তি প্রায় ১৩ শতাংশ খরচ করতে হচ্ছে শুধু খাদ্যপণ্য কিনতে।

সার্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ে টেলিফোনে অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ডলারের সংকট মূল্যস্ফীতি কে উসকে দিচ্ছে। তার সঙ্গে বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে তিনি এ জন্য দায়ী করেন। অবশ্য তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন সরকারি হিসেবের চেয়েও বাস্তবে মূল্যস্ফীতির পরিমাণ আরও বেশি। তবে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে এই সময়ে টিসিবির মাধ্যমে পণ্য বিক্রি বাড়িয়ে দেয়ার পরামর্শ দেন এই অর্থনীতিবিদ। ‘সরকারকে মাথায় রাখতে হবে একটা বিশাল জনগোষ্ঠী এখনও দরিদ্র, তাদের জন্য খাদ্য কেনা এখন বড় দায় হয়ে পড়েছে। তাই এসব মানুষের কথা ভেবে মূল্যস্ফীতি কমানোর কোনো বিকল্প নেই’- মন্তব্য করেন এই অর্থনীতিবিদ।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন