
কর্ণফুলীর ওপর ১১৫৬০ কোটি টাকার রেল-সড়ক সেতুর অনুমোদন একনেকে
খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি রেকর্ড সাড়ে ১২ শতাংশ
নিজস্ব প্রতিবেদক: আগস্টের শেষদিকে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ সরকারের বেশ কয়েকজন নীতিনির্ধারক। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা এখন অতিমাত্রায় মূল্যস্ফীতি, অর্থাৎ নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম। কিছুটা থেমে হাসি মুখে তিনি বলেন, ‘যদিও আমি মনে করি এ মাসে তা কমে আসবে, এটা বলা কিছুটা সাহসের ব্যাপারও বটে।’ মন্ত্রী সাহস করে হাসিমুখে যে কথাটি বলেছিলেন মাস শেষে হয়েছে ঠিক তার উল্টোটা। মূল্যস্ফীতি কমার পরিবর্তে বরং আরও বেড়েছে আগস্ট শেষে।
মূল্যস্ফীতি কী কিংবা কতটা প্রভাব ফেলে মানুষের জীবনে তা হয়তো অনেক সাধারণ মানুষই বোঝেন না কিংবা বোঝার চেষ্টাও করেন না। তবে নিত্যপণ্যের অসহনীয় দাম যে বড্ড ভোগাচ্ছে সাধারণ মানুষকে তা হয়তো সরকারের কর্তারাও টের পাচ্ছেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএসের প্রতিবেদন দেখে।
আগস্ট মাস শেষে বিবিএসের প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, মূল্যস্ফীতি আবারও বেড়েছে। আগের দুই মাসে খুব সামান্য কিছুটা কমার পর আবারও ১০ শতাংশ ছুঁই ছুঁই করছে মূল্যস্ফীতি। সরকারি প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে চলতি বছরের আগস্টে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। জুলাই মাসে যা ছিল ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ। খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য পণ্য নিয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি তৈরি করে বিবিএস। আর শুধু খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি এ মাসে ছাড়িয়েছে ১২ শতাংশের ঘর। রোববার প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, খাদ্যপণ্যে সার্বিক বা সারাদেশের মূল্যস্ফীতি ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ। তার আগের মাস জুলাইয়ে যেটি ছিল ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। যারা ভাবেন গ্রামে নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা কম তাদের অবাক করে গ্রামাঞ্চলের খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ। অর্থাৎ গ্রামাঞ্চলে ২০২২ সালের আগস্টে যে খাদ্যপণ্য কিনতে ১০০ টাকা গুনতে হতো, তা ২০২৩ সালের আগস্টে এসে দাঁড়িয়েছে ১১২ টাকা ৭১ পয়সা।
তবে কিছুটা কমেছে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি, জুলাই মাসে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ, আগস্টে যা কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। তবে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে খাদ্যপণ্যে প্রায় তিন শতাংশ মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায়। নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে এই মূল্যস্ফীতি।
মূল্যস্ফীতির বাড়তি হারকে অর্থনীতি বিশ্লেষকরা করের মতোই বোঝা বলে মনে করেন। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে যার কোনো আয় বাড়েনি তার জন্যও এখন বাড়তি প্রায় ১৩ শতাংশ খরচ করতে হচ্ছে শুধু খাদ্যপণ্য কিনতে।
সার্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ে টেলিফোনে অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ডলারের সংকট মূল্যস্ফীতি কে উসকে দিচ্ছে। তার সঙ্গে বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে তিনি এ জন্য দায়ী করেন। অবশ্য তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন সরকারি হিসেবের চেয়েও বাস্তবে মূল্যস্ফীতির পরিমাণ আরও বেশি। তবে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে এই সময়ে টিসিবির মাধ্যমে পণ্য বিক্রি বাড়িয়ে দেয়ার পরামর্শ দেন এই অর্থনীতিবিদ। ‘সরকারকে মাথায় রাখতে হবে একটা বিশাল জনগোষ্ঠী এখনও দরিদ্র, তাদের জন্য খাদ্য কেনা এখন বড় দায় হয়ে পড়েছে। তাই এসব মানুষের কথা ভেবে মূল্যস্ফীতি কমানোর কোনো বিকল্প নেই’- মন্তব্য করেন এই অর্থনীতিবিদ।

