প্রসাধনী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রসাধনী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

নিয়ন্ত্রণহীন প্রসাধনী সামগ্রীর বাজার, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক: একটি বিউটি পার্লার থেকে ছয় বছর আগে বিয়ের সাজ সেজেছিলেন দীপা। বিউটি সেলুনে এটাই তার প্রথম মেকআপ নেয়া। বিয়ের সাজ বলে মেকওভারও ছিল ভারি। যাই হোক, বিয়ের অনুষ্ঠানে সুন্দর দেখালেও পর দিন থেকেই শুরু হলো বিপত্তি। জীবনে প্রথমবার ত্বকে সমস্যা দেখা দিল। ব্রণ, চামড়া খসখসে হয়ে যাওয়া শুরু হলো। মুখে একটার পর একটা কালো দাগ পড়তে শুরু করল। অনেক ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞ দেখিয়েও ঠিক হচ্ছিল না। সবাই বললেন, পার্লারে ভারী মেকআপ এবং স্থানীয় নিম্নমানের প্রসাধনী ব্যবহারে ত্বকে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। টানা পাঁচ বছর চিকিৎসার পর ইভার ত্বক এখন ব্রণমুক্ত।

রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ শারমিনা হক বলেন, ‘পার্লারে স্কিন কেয়ার নিতে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে, এরকম কেস আমরা প্রচুর পেয়ে থাকি। সমস্যাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রথম আসে মুখে র‌্যাশ, ব্রণ এবং মুখে কালো ছোপ ছোপ দাগ পড়ে যাচ্ছে।’

পার্লারগুলোতে ব্যবহার করা হয় রং ফর্সাকারী বিভিন্ন উপাদান। যেমন- পারদ এবং স্টেরয়েড। এগুলো তাৎক্ষণিক রং ফর্সা করলেও ভবিষ্যতে ত্বকের বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। এসব কেমিক্যালের প্রভাবে ত্বকের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ দুই ধরনের ক্ষতি হয়। বাহ্যিক ক্ষতি হলো, ত্বকের ওপরের আবরণ নষ্ট হয়ে যায়, ত্বক সংবেদনশীল হয়ে যায়। সূর্য বা তাপে গেলে মুখের ত্বক লাল হয়ে যায়। অভ্যন্তরীণ ক্ষতি হলো- ত্বকের সবচেয়ে ওপরের আবরণ বা এপিডার্মিস লেয়ার যখন ড্যামেজ হয় তখন সেটা সহজে ঠিক হয় না।

রূপবিশেষজ্ঞের মত

বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ কেয়ারের স্বত্বাধিকারী ও রূপ বিশেষজ্ঞ শারমিন কচি বলেন, ‘অনেকেই পার্লারে গিয়ে অল্প সময়ে মুখের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ফেয়ার পলিশ, স্কিন হোয়াইটেনিং করে থাকেন। ব্রণ বা র‍্যাশ আছে এমন ত্বক হলে ফেয়ার পলিশ করা উচিত নয়। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ। স্কিন টেস্ট না করে ফেয়ার পলিশ করা কোনোভাবেই উচিত নয়। ফেয়ার পলিশের কার্যকারিতা নির্ভর করে কত ভালোভাবে করা হচ্ছে এবং এর মধ্য়ে ব্লিচিং উপাদান আছে কি না, তার ওপর। সে ক্ষেত্রে ব্লিচিং উপাদান অবশ্যই কম থাকতে হবে। না হলে ত্বকের ক্ষতি হবে।

যা বলছে ঔষধ প্রশাসন

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও আইন কর্মকর্তা মো. নুরুল আলম  বলেন, বাজারে প্রচলিত কসমেটিকস রাসায়নিক দ্রব্যের সংমিশ্রণে তৈরি হয় বলে এর মান নিয়ন্ত্রণ করা খুব জরুরি। তা না হলে, জনস্বাস্থ্যের জন্য এটি মারাত্মক হুমকির কারণ হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘নকল, ভেজাল, মানহীন কসমেটিকস ব্যবহারের ফলে স্কিন ক্যানসার, কিডনি-ফুসফুস ও লিভার ডিজিজ, চোখের ইনফেকশন, ইরিটেশন এবং হৃদরোগসহ নানান ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। তাই কসমেটিকসের মান, নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা মূল্যায়নপূর্বক রেজিস্ট্রেশন, উৎপাদনে গুড ম্যানফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস (জিএমপি) নিশ্চিত করা, কসমেটিকস পণ্যের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে দেশের অসাধু কসমেটিকস ব্যবসায়ীরা নকল প্রসাধনী আসল বলে চালিয়ে দিতে পারবে না।’

তিনি জানান, এ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েই ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, জাপান, ফিলিপাইন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ বিশ্বের প্রায় সব ড্রাগ রেগুলেটরি অথিরিটি ওষুধ ও মেডিকেল ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কসমেটিকস নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

সংসদে বিল পাস

নুরুল আলম বলেন, ‘ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর দীর্ঘদিন ধরে কসমেটিকস ব্যবহারের ঝুঁকি প্রতিরোধে সচেতনতার কথা বলে আসছে। এর সূত্র ধরে ওষুধ ও কসমেটিকসের বিল নির্ধারণের জন্য সংসদে আবেদন করেন তারা। ৭ সেপ্টেম্বর সংসদে ওষুধ ও কসমেটিকস বিল- ২০২৩ পাস হয়। অসাধু প্রসাধনী ব্যবসায়ীদের রোধে এবং প্রসাধনীর সঠিক মানোন্নয়নে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ আইন।

ওষুধ ও কসমেটিকস বিল-২০২৩ কার্যকর হওয়ার ফলে ওষুধের মতো কসমেটিকসগুলো বিশ্ববাজারে সমাদৃত হবে। বর্তমানে আমদানিনির্ভর সম্ভাবনাময় কসমেটিকস সেক্টরটি রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত হবে এবং এর মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন