
পতিত স্বৈরশাসকের পুনর্বাসন দেশকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলবে: রিজভী

ভোট বর্জনের আহ্বান বিএনপির
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট বর্জন করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ৬ জানুয়ারি শনিবার বিকেলে ভার্চ্যুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি।
রিজভী বলেন, গণতন্ত্রকামী প্রতিটি ভোটারের প্রতি আমাদের আহ্বান, রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসেবে যারা আপনাকে গত ১৫ বছর অধিকার বঞ্চিত রেখেছে, তাদেরকে আপনি অন্তত একদিন (রোববার) বয়কট করুন। বিশ্বাস রাখুন, আপনার এই একদিনের সিদ্ধান্তেই বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী সরকারের কবর রচিত হবে, ইনশাআল্লাহ। স্বাধীনতার সম্মান-গৌরব-মর্যাদা ফিরে পাবে, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত, লাল-সবুজের পতাকা। তাই আসুন, আমরা সবাই মিলে আজ ভোট বর্জন করি। আসুন আমরা আওয়াজ তুলি, ৭ জানুয়ারী ভোট বর্জন করুন। ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। ৭ জানুয়ারি সারাদিন-পরিবারকে সময় দিন। আপনি-আপনার পরিবার-স্বজন-বন্ধুবান্ধব-পরিচিতজন এবং প্রতিবেশীদেরও, ভোটের নামে বানর খেলার আসর বর্জন এবং ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করুন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ জানুয়ারি আরেকটি একতরফা পাতানো নির্বাচনের সবচেয়ে অন্ধকারময়-তিমিরাচ্ছন্ন অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে।
আজ এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। এক গভীর ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। অভিনব মডেলের ডামি নির্বাচনী নাটকের মাধ্যমে অবৈধভাবে ১৫ বছরের মতো আবারও ক্ষমতায় থাকতে এক বিপজ্জনক খেলার আয়োজন করা হয়েছে। আবারও প্রতারণার জাল বিছানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও তাদের দলদাস রাষ্ট্রযন্ত্র শুধু দেশের মানুষকেই অগ্রাহ্য করেনি, তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিতই করেনি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে, বিশেষ করে গণতান্ত্রিক বিশ্বকে উপেক্ষা করে প্রকাশ্য তথাকথিত ভোট রঙ্গ বাংলাদেশকে নিয়ে যাচ্ছে ভয়ঙ্কর বিপদের অতলে। ইতোমধ্যে এ তামাশার নির্বাচন বিশ্বব্যাপী প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শনিবার রাতে রাজধানীর গোপীবাগে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের নৃশংসতম বর্বরোচিত ন্যক্কারজনক ঘটনার পরই আমি বিএনপির পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিকভাবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছি। প্রকৃত দোষীদের আটক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে সাত সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। মহানগর ডিবি পুলিশ প্রধান এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় নাকি বিএনপি নেতাদের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে ডিবি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা এ ঘটনায় বিএনপিকে দুষছেন। কি হাস্যকর বয়ান। ক্রসফায়ারের নিত্যদিন একই কাল্পনিক গল্পের মতো তাদের প্রতিটি ঘটনায় গল্প তৈরি থাকে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, সম্পূর্ণ বিনা অপরাধে বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ নবী উল্লাহ নবীসহ ছয়জনকে তুলে নিয়ে গেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এখন তাদের নৃশংস নির্যাতন করে দোষ চাপাচ্ছে বিএনপির ওপর। প্রতিটি নাশকতার ঘটনার পর বিএনপির ওপর দোষ চাপানো আওয়ামী লীগ ও তাদের দলীয় পুলিশ প্রশাসনের মজ্জাগত হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাতে বিএনপিসহ বিরোধীদের ওপর দায় চাপিয়ে বিরোধীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সহিংস হিসেবে দেখাতে পারে। যেমনটা তারা ১৯৯৬,২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে করেছে, বিভিন্ন সময় যেমন করেছে। প্রায় প্রতিটি আগুন সন্ত্রাসের ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও রাষ্ট্রশক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে। কোনোটা প্রকাশ হচ্ছে কোনোটা ঢাকা দিচ্ছে পুলিশ।
রিজভী আরও বলেন, বেনাপোল এক্সপ্রেসে আগুন দিয়ে নারী শিশুসহ চারজন সাধারণ নিরীহ মানুষকে নৃশংসতমভাবে হত্যার তীব্র নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। এই বর্বরতার ঘটনায় জাতিসংঘের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করছি। এ ক্ষমতা লিপ্সু সরকারের কোনো তদন্তের ওপর দেশের জনগণের ন্যূনতম আস্থা-বিশ্বাস নেই। কারণ তাদের তদন্তের টার্গেট থাকে বিএনপিকে দোষী বানানো। অনেক মিথ্যা ঘটনা তারা সৃষ্টি করে তার দায়-দায়িত্ব বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু কোনোটাই আখেরে ধোপে টেকেনি।
গত ৪৮ ঘণ্টায় সারা দেশে বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের গ্রেপ্তার, মামলা, আসামি এবং আহতদের তালিকা তুলে ধরেন তিনি।
রিজভী জানান, এ সময়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৫৫ নেতাকর্মীকে, আহত হয়েছে ৬০ জন এবং মামলা দায়ের করা হয়েছে ১৬টি। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ১৩৫৫ নেতাকর্মীকে।
ঢাকায় লাঠি হাতে বিএনপির মিছিল
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের পদত্যাগ ও দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন বাতিলের দাবিতে শুক্রবার সকালে ঢাকায় লাঠি মিছিল করেছে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তারা নির্বাচন বর্জন এবং ৭ জানুয়ারি ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় মিছিল বের করেন দলটির নেতা-কর্মীরা। ওই সময় তারা ‘অগ্রহণযোগ্য, প্রহসনমূলক ও ডামি’ নির্বাচনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রিজভী বলেন, ‘সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে অবৈধভাবে একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের চেষ্টা করছে। এই নির্বাচন দেশের মানুষ মেনে নেবে না। আমরা বিএনপি ও সমমনা বিরোধী দলের নেতা-কর্মীসহ জনগণকে ডামি নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানাচ্ছি।’
বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা আরও বলেন, ‘আমাদের দল সত্য, ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের ভোটাধিকারের পক্ষে আর ক্ষমতাসীন দল লুণ্ঠন, বিদেশে অর্থপাচার এবং জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়ার পক্ষে। আমরা যারা ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়াই, তাদের জন্য বিজয় অনিবার্য।’
৬ জানুয়ারি সকাল থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টা হরতাল
নিজস্ব প্রতিবেদক: ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন বর্জন ও অসহযোগ আন্দোলনের পক্ষে ৬ জানুয়ারি সকাল ৬টা থেকে ৮ জানুয়ারি সকাল ৬টা পর্যন্ত (৪৮ ঘণ্টা) দেশব্যাপী সর্বাত্মক হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।
৪ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে এক জরুরি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
যদিও সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী ভুল করে একাধিকবার বলেছেন, ‘৬ ডিসেম্বর সকাল ৬টা থেকে ৮ ডিসেম্বর সকাল ৬টা' হরতাল পালন করা হবে!
এদিকে বিএনপির কর্মসূচির সমর্থনে ৬ ও ৭ জানুয়ারি হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী ৭ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচন বর্জন করতে দেশবাসী ও ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।
একতরফা নির্বাচনে সরকার নিজেরা পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা ঘটিয়ে বিএনপি ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র মঞ্চ ও গণঅধিকার পরিষদের কর্মসূচিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা হামলা করেছে। এছাড়া সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনী প্রতিনিয়ত হামলা করছে। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে এসব হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
গণতন্ত্র পুণরুদ্ধারের প্রত্যয়ে নির্বাচন বয়কটের আহ্বান রিজভীর
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আগামী ৭ জানুয়ারি আমাদের কিশোরী ফেলানী হত্যা দিবস। ৭ জানুয়ারির ঐতিহাসিক রক্তাক্ত শোক দিবসে কোনো নির্বাচন দেশপ্রেমিক জনগণ হতে দেবে না। মুক্তিকামি দেশপ্রেমিক প্রতিটি মানুষের কাছে আমাদের আহ্বান- আগামী ৭ জানুয়ারি আপনার-আমার প্রিয়তম বোন ফেলানী হত্যা দিবসে তাকে স্মরণ করে স্বাধীনতা রক্ষার অঙ্গীকারে এবং গণতন্ত্র পুণরুদ্ধারের প্রত্যয়ে নির্বাচন বর্জন করুন ।
৩ জানুয়ারী বুধবার বিকেলে ভার্চুয়ালি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, দেশ-বিদেশের গণতন্ত্রকামী শক্তিকে ধোঁকা দেয়ার জন্য সরকার প্রধান স্বঘোষিত ডামি নির্বাচনে স্বতঃউচ্ছ্বসিত আনন্দ নেই। শুধুই মিথ্যার বঞ্চনা আর আত্মার লাঞ্ছনা, জনগণকে অপমান এবং মিথ্যার অবদান। এই অভিনব মডেলের নির্বাচন নিয়ে এতো দিন এতো জয়ঢাক-দুন্দুভি-ডঙ্কা বাজানোর পর ভোটের তরী ডুবতে চলেছে। তাদের খুদ উচ্ছিষ্টভোগী-কুঁড়ো পার্টির প্রার্থীরা দলে দলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। এক কোম্পানির চার প্রোডাক্ট-নৌকা-লাঙ্গল-ঈগল-ট্রাকের এই নির্বাচনী তামাশা ইতোমধ্যেই গণপ্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসর অপশক্তি একদিকে আবোলতাবোল বকতে শুরু করেছে। অপরদিকে দেশজুড়ে নির্বাচনে কে ‘আসল’ আর কে ‘ডামি’ এসব নিয়ে প্রার্থী-সমর্থকদের মধ্যে সারাদেশে কামড়া-কামড়ি, সন্ত্রাস-সংঘর্ষ-হানাহানি-খুনোখুনি চলছে সমানে। আওয়ামী অপশক্তি এখন নিজেরাই নিজেদের পাতা ফাঁদে আটকে পড়ে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে বিএনপিকে নিষিদ্ধ করার হুংকার দিচ্ছে। আওয়ামী মাফিয়া চক্র বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল বিএনপিকে তাদের মিথ্যাচার-অপপ্রচার আর প্রতিহিংসার টার্গেটে পরিণত করেছে।
বিএনপির রাজনীতি নিষিদ্ধ করার যে হুমকি দিচ্ছে সেটি ভয় পেয়ে আওয়ামী লীগেরই আর্তচিৎকার। এই ধরনের চিন্তা ও অপতৎপরতা সংবিধান-বিরোধী, আইনের শাসনের পরিপন্থী। সরকার দীর্ঘদিন ধরেই একদলীয় ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। তবে তারা জনগণের প্রতিরোধের কারণে সফল হবে না। জনগণের রক্তে সংগ্রামের বীজ রয়েছে, সেই বীজই অঙ্কুরিত হয়ে জনগণকে প্রবল শক্তিতে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটাতে সক্ষম হবে। বিএনপি কারো করুনার ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করে না। বিএনপি নিখাঁদ দেশপ্রেমিক দল। মাদার অফ ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়ার দল। বিএনপি দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের দল। বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস্য বাংলাদেশের জনগণ। বিএনপির শেকড় দেশের ভেতরে। বিএনপির শেকড় গণতন্ত্রকামী জনগণের হৃদয়ে।
খুলনা মহানগর শাখা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও যুবদল নেতা মো: কামাল হোসেন মিজান বিনা কারণে দীর্ঘদিন কারাভোগের পর আজ সকালে বাগেরহাট জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই মাধ্যমে এ ধরনের ঘৃণ্য ও অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে রিজভী বলেন, নিহতের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
৫ মাসে বিএনপির ২৬ হাজারের বেশি নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি ডিসেম্বরসহ গত ৫ মাসে সারা দেশে বিএনপির ২৬ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
আর ৫ মাসে ৮১ মামলায় দলটির ৯ জন নেতাকর্মীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং ১২ জনের বেশি নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন হামলা ও কারাগারে দলটির ২৬ জন নেতাকর্মী মারা গেছেন।
২৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রিজভীর দাবি, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের ১৭৫ জনের বেশি নেতাকর্মীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই সময়ে সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মামলা হয়েছে ৪টি। এসব মামলায় নামীয়সহ অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ৩৬৫ জন নেতাকর্মীকে।
রিজভী আরও বলেন, ১৫ নভেম্বর আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনী ‘একতরফা’ তফসিল ঘোষণার পর বিএনপির ১১ হাজার ৪৪৫ জনের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সময়ে মামলা হয়েছে ৪১৩টি। এসব মামলার এজহারে নামসহ অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ৪৪ হাজার ৬৬৮ জন নেতাকর্মীকে। এই সময়ে বিভিন্ন হামলা ও কারাগারে মারা গেছেন দলটির ১৩ জন নেতাকর্মী।
রিজভীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ও ২৯ জুলাই থেকে বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সারা দেশে দলের ২৬ হাজার ৪৪১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সময়ে মামলা হয়েছে ১০৮৪টির বেশি। এই সব মামলায় আসামি করা হয়েছে ৯৭ হাজার ৩৪৬ জন নেতাকর্মীকে। আর এই ৫ মাসে একজন সাংবাদিকসহ দলের ২৬ জন নেতাকর্মীকে বিভিন্ন হামলা ও কারাগারে মারা গেছে। ৮১টি মামলায় ৯ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও প্রায় ১ হাজার ২৬৫ জনের বেশি নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত বর্তমানে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আলতাফ হোসেন, মোহাম্মদ শাহজাহানসহ শতাধিক কেন্দ্রীয় নেতা কারাগারে রয়েছেন।
আবারও ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আগামী ১২ নভেম্বর রোববার সকাল ৬টা থেকে ১৪ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আবারও ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।
৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রিজভী বলেন, আগামী ১২ নভেম্বর সকাল ৬টা থেকে ১৪ নভেম্বর সকাল ৬টা পর্যন্ত সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হবে। অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে অ্যাম্বুলেন্স, অক্সিজেন সিলিন্ডার বহনকারী গাড়ি ও গণমাধ্যমের গাড়ি।
এসময় রিজভী দাবি করেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে বিএনপির ৩৬৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত হয়েছে ৫০ জন। আর গত ২৮ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে নয় হাজার ৮৩১ জন। এক সাংবাদিকসহ নিহত হয়েছেন মোট ১২ জন নেতাকর্মী।
এর আগে, সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও খালেদা জিয়াসহ কারাবন্দিদের মুক্তির দাবিতে ৮ নভেম্বর বুধবার সকাল ৬টা থেকে ১০ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত অবরোধের ঘোষণা দেয় বিএনপিসহ সমমনা বিরোধী দলগুলো। তাদের ডাকা তৃতীয় দফার ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ শেষ হচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার সকাল ৬টায়।
এবারের অবরোধ কর্মসূচিতে খুব একটা সক্রিয় হতে পারেনি বিরোধী দলগুলো। তাই কর্মসূচির ধরনে এবার পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপিসহ সমমনা বিরোধী দল ও জোটগুলো।
নাম না প্রকাশে বিএনপির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, টানা অবরোধ কর্মসূচি চলতে থাকলে মানুষের মধ্যে বিরক্তি চলে আসবে। নেতাকর্মীরাও হতাশ হয়ে যাবে। এমনিতে নেতাকর্মীরা ঘর-বাড়িতে থাকতে পারছে না।
এদিকে, গত ১৩ দিনের মতো আজ বৃহস্পতিবারও বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় তালাবদ্ধ রয়েছে। কার্যালয়ের গেটে পড়ে আছে নির্বাচন কমিশনের সংলাপের আহ্বান জানিয়ে দেওয়া চিঠিসহ বিভিন্ন চিঠি। আর প্রতিদিনের মতো আজও দলটির কার্যালয়ে দুই পাশে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী- খালেদাকে বিদেশ যেতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত মানবতাবিরোধী
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেরই বাস্তবায়ন। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, কয়েকদিন আগে আইনমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তার ৩-৪ দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রী ভয়েস অব আমেরিকায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বেগম জিয়াকে বিদেশে যেতে হলে প্রথমে জেলে গিয়ে আদালতে আবেদন করতে হবে। গতকাল জানা গেল, রোববার আইনমন্ত্রী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। আজ সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত আসল তাকে বিদেশে যেতে দেওয়া হবে না। এমন সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া বক্তব্যেরই বাস্তবায়ন। ফ্যাসিবাদী শাসনে আইনমন্ত্রী যে শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত দোসর হবেন এটাই স্বাভাবিক।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জীবন, বেঁচে থাকা এবং উন্নত চিকিৎসায় সুস্থ হওয়া সব কিছু প্রধানমন্ত্রী আর আইনমন্ত্রীর তামাশার হিংস্র বৃত্তে আটকে গেছে। দেশে এখন চলছে জয়বাংলার আইন। এই আইনে সুশাসন ও ন্যায়বিচার কঙ্কালে পরিণত হয়েছে।
রিজভী বলেন, খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে আটকে রেখে উন্নত চিকিৎসায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে তাকে দুনিয়া থেকে সরানোর নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে সরকার। উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে আজ আইন মন্ত্রণালয়ের নেতিবাচক সিদ্ধান্ত মানবতাবিরোধী ও অবিচারের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। এটি পূর্বপরিকল্পিত এবং একটি গভীর মাস্টারপ্ল্যানের অংশ। এই অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রধান শক্তি জনগণ হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।
বিএনপির এ নেতা বলেন, খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করার পরে বিভিন্ন কায়দায় বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে জনগণ বিশ্বাস করে। চারিদিকে পৈশাচিক প্রবৃত্তির যে ছবি দৃশ্যমান হচ্ছে সেটি বাংলাদেশ থেকে মুছে ফেলতে জনগণ আজ অঙ্গীকারবদ্ধ। শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত আক্রোশে খালেদা জিয়া বন্দি এবং উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
রিজভী আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতেই চলছে বহুমাত্রিক নিষ্ঠুর আয়োজন। আজ আইন মন্ত্রণালয়ের এই বেআইনি সিদ্ধান্ত তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে বাধা দেওয়ারই অংশ। আইন মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। জনগণ এই সিদ্ধান্ত ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।



.jpg)



