কারাদণ্ড লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কারাদণ্ড লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মাদকাসক্ত ছেলেকে পুলিশে দিলেন মা, কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার সাঁথিয়ায় মাদকাসক্ত ছেলের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন এক মা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই যুবককে এক বছর এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রাজ্জাক (৩০) সাঁথিয়া পৌর এলাকার ফকিরপাড়া মহল্লার মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। পরিবার ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত।

পুলিশ জানায়, মাদকের টাকা না পেলে আব্দুর রাজ্জাক প্রায়ই তাঁর মা ও স্ত্রীকে মারধর করতেন এবং পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করতেন। একাধিকবার তিনি মাকে বাড়ি থেকেও বের করে দেন। ছেলের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে মনোয়ারা খাতুন পরিবারের সদস্যদের পরামর্শে সাঁথিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার (৪ জুলাই) রাতে নিজ বাড়ি থেকে আব্দুর রাজ্জাককে আটক করে পুলিশ।

রোববার সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিজু তামান্না ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদক সেবন ও বিক্রির অপরাধে তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে না পারায় আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ফলে তাঁর মোট সাজা হয় এক বছর এক মাস।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আব্দুর রাজ্জাককে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ের পর তাঁকে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে উপজেলার নাগডেমড়া ইউনিয়নের ভিটাপাড়া গ্রামের ইউনুস প্রামাণিকের ছেলে সানাউল্লাহকে মাদক সেবনের দায়ে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে চার মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যৌথ অভিযান: ৯ দালালকে কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে দালালমুক্ত করে সেবার মান নিশ্চিত করতে এক বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।  রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় এ অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)।

অভিযান ও দণ্ড অভিযান চলাকালে রোগী ও স্বজনদের হয়রানি এবং অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগে ৯ জনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান সরকার।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন— নূর মোহাম্মদ নূরু, ইমরান হোসেন, শরিফুল ইসলাম, আয়েশা খাতুন, নূরজাহান বেগম তুলি, শাহানাজ পারভিন, রোজিনা খাতুন ও পারু বেগম।

হয়রানির শিকার রোগীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র হাসপাতাল এলাকায় সক্রিয় ছিল। তারা সাধারণ রোগীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যেত এবং মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত। এতে প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন অসহায় রোগীরা। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজ এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তা আনিচ-উর রহমান বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। হাসপাতাল এলাকায় আমাদের নজরদারি অব্যাহত থাকবে যেন সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চিকিৎসা নিতে পারেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান সরকার জানান, সরকারি এই হাসপাতালটিকে দালালমুক্ত রাখতে আগামীতেও এ ধরনের ঝটিকা অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন