চাটমোহর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
চাটমোহর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

চাটমোহর পৌরসভার সাড়ে ২০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার চাটমোহর পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় পৌরসভা কার্যালয়ে এই প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেন পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল মাহমুদ।

নতুন অর্থবছরের জন্য ২০ কোটি ৪৬ লাখ ২২ হাজার ৮৮০ টাকার এই বাজেট ঘোষণা করা হয়। এতে ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা রাজস্ব উদ্বৃত্ত ধরে সমপরিমাণ ব্যয় দেখানো হয়েছে।

বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী প্রকৌশলী রাফিউল বারী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) চিকিৎসক হুমায়ুন কবির এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউর রহমান।

এ ছাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি আসাদুজ্জামান আরশেদ, চাটমোহর প্রেসক্লাবের সভাপতি হেলালুর রহমান জুয়েল, সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান টুকুন, সাধারণ সম্পাদক এস এম মাসুদ রানা, ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ জিয়ারুল হক সিন্টু, পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুল আজিজ, লাইসেন্স পরিদর্শক মো. বাকিবিল্লাহ, নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ দুলাল ও হিসাবরক্ষক ইমদাদুল হকসহ স্থানীয় সাংবাদিক এবং পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

চাটমোহরে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার চাটমোহর উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে ইয়াসমিন খাতুন (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের বনগ্রাম চকপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর ছোটবেলা থেকেই ইয়াসমিন তার নানা মতি মণ্ডলের বাড়িতে থাকত। বুধবার বিকেলে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে গোসল করতে যায় সে। গোসল শেষে অন্যরা বাড়ি ফিরে এলেও ইয়াসমিনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় ইয়াসমিনকে উদ্ধার করেন।

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগের দাফন দিল্লিতে হয়ে গেছে : সারজিস আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাটমোহর (পাবনা): জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের দাফন দিল্লিতে হয়ে গেছে। এই দলের পতন ঘটেছে, এখন দেশের মানুষকে বাংলাদেশপন্থী রাজনৈতিক শক্তিকে বেছে নিতে হবে।’

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে পাবনার চাটমোহর উপজেলার বালুচর মাঠে আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সারজিস আলম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে দালালতন্ত্র, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন সরকারি সেবা পেতে রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারস্থ হতে হয়, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

শিক্ষা খাতের সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার জন্য রাজনৈতিক প্রভাবকে দায়ী করে তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতালের খাবারের দরপত্রসহ (টেন্ডার) বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যোগ্য ব্যক্তিদের পরিবর্তে অযোগ্যদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। সমাজ থেকে মাদক, চাঁদাবাজি, অবৈধ ব্যবসা ও ক্ষমতার অপব্যবহার দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির প্রসঙ্গ টেনে সারজিস আলম বলেন, শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা থাকার কারণে কোনো দলের নেতা-কর্মীরা প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন না। তিনি জনগণকে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের রাজনীতি থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে।

এনসিপির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কয়েক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার যে দাবি করা হচ্ছে, তার কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি। এসব অভিযোগ রাজনৈতিক অপপ্রচার।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, তাঁর শাসনামলে প্রশাসনের দলীয়করণ, গুম, গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটেছে। তিনি প্রশাসনকে কোনো দলের হয়ে নয়, দেশের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, পাবনা জেলা আহ্বায়ক আক্তার হোসেন লেবু, দলটির নেতা বরকতুল্লাহ ফাহাদ এবং জুলাই আন্দোলনে নিহত জাহিদুল ইসলামের বাবা দুলাল উদ্দিন মাস্টারসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

চাটমোহরে ভ্যানচালককে গলা কেটে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার চাটমোহর উপজেলায় নাসের আলী (৪৪) নামে এক ভ্যানচালককে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়নের বোয়াইলমারী কবরস্থানের পাশ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। নাসের আলী উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের আগশোইল টলটলিপাড়ার বাসিন্দা। তিনি মৃত খোরশেদ আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোয়াইলমারী কবরস্থানের পাশের একটি ভ্যান থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে সবুজ হাসান বুদুর বাড়ির সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পরে তাঁরা পুলিশে খবর দেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ও স্বজনেরা লাশটি নাসের আলীর বলে চিনে নেন।

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অলিউর রহমান বলেন, রাতে কবরস্থানের পাশে লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা নাসের আলীকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

চাটমোহরে মাদকবিরোধী অভিযানে তিনজন আটক, কারাদণ্ড

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার চাটমোহরে পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে তিন মাদকসেবীকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন হান্ডিয়াল ইউনিয়নের বাঘলবাড়ি গ্রামের বজলুর রশিদের ছেলে ইমন আলী (২১), পার্শ্ববর্তী তাড়াশ উপজেলার মহেশ রুহালী চারালপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে শামীম উদ্দিন (২১) এবং হান্ডিয়াল ইউনিয়নের পাটিয়াতা গ্রামের ইমন আলীর ছেলে সাব্বির হোসেন (২৬)।

পরে তাঁদের চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরীর ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউর রহমান বলেন, ‘জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় চাটমোহরকে মাদক ও জুয়ামুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

নৌকার সমর্থকদের হামলায় জানে বেঁচে আসছি


নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা-৩ আসনের চাটমোহরে নির্বাচনী গণসংযোগ, পথসভা করার সময় ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হামিদ মাস্টারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মকবুল হোসেনের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

৩০ ডিসেম্বর শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় চাটমোহর পৌর সদরের নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় আব্দুল হামিদ বলেন, ‘শুক্রবার রাতে নৌকা সমর্থকদের হামলায় জানে বেঁচে আসছি। হয়ত শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইনি। নাহলে জীবনটাই চলে যেত। এসব ঘটনায় আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

তিনি বলেন, ২৯ ডিসেম্বর শুক্রবার রাতে চাটমোহর উপজেলার কাটাখালি, খৈরাশ, বামনগ্রাম ও কামালপুরে গণসংযোগ ও পথসভা করি। কাটাখালি ও খৈরাশ এলাকায় আমাদের পথসভা ও গণসংযোগে বাধা দেওয়া হয়। ওই সময় ৩০ থেকে ৪০টি মোটরসাইকেলে করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর অনুসারীরা এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের ওপর আক্রমণ চালায়। তখন আমরা জীবন বাঁচাতে দ্রুত অন্য পথ ধরে ওই এলাকা ত্যাগ করি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হামিদ অভিযোগ করেন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং চাটমোহরের সার্কেল অফিসারকে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তারা আমার ফোন ধরেননি। এমনকি আমাকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি। পরে শুনেছি তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিল, কিন্তু আমার সঙ্গে তারা দেখা করেনি।

তিনি আরও বলেন, প্রায় প্রতিদিনই আমিসহ আমার কর্মী-সমর্থক ও অনুসারীরা নানা হুমকি ধামকি এবং জীবনের নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি কোনো অভিযোগ দিলে সেটা গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হচ্ছে না। বালুচর খেলার মাঠে নির্বাচনী সভা করার অনুমতি চাইলেও তারা সে অনুমতি দিতে নানা ধরনের টালবাহানা করছেন।

হামলা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং চাটমোহর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আগাগোড়াই পক্ষপাতমূলক আচরণ করে আসছেন। তারা আমার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিচ্ছেন না। একের পর এক নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর, নেতাকর্মীদেরকে মারধর ও হুমকি ধামকি দেওয়া হলেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না প্রশাসন থেকে।

নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আমার একটাই চাওয়া, রাষ্ট্রযন্ত্র পক্ষপাতমূলক আচরণ না করে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবি করছি। আমার জনপ্রিয়তা ও ভোটের জোয়ারে নৌকার প্রার্থী দিশাহারা হয়ে একের পর এক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে। আমি তার এ ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের জন্য জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক এবং গ্রহণযোগ্য ভোট করতে প্রধানমন্ত্রীর যে নির্দেশনা তা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেদুয়ানুল হালিম বলেন, খবর পেয়ে আমি পুলিশ কর্মকর্তাসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর অভিযোগ সত্য নয়।

চাটমোহর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুল ইসলাম বলেন, তিনি কি কারণে এসব অভিযোগ করছেন জানি না। কোনো পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে না। আমরা প্রার্থীদের অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নিচ্ছি।

মুসলিম ঐতিহ্যের ৪৪২ বছরের নিদর্শন ‘শাহী মসজিদ’

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাটাইয়ের (বাঁশের) ওপর মোহর ঢেলে ভুষালি মালের মতো বিক্রি করা হতো বলে স্থানের নামটি হয়ে গিয়েছিল ‘চাটমোহর।’  শুধু তাই নয়, মোঘল-পাঠান-পর্তুগীজ-আফ্রিকানরাও সেই মোহরের টানে এখানে এসে ঘাঁটি গেড়েছিলেন। এসেছিলেন ইরান থেকে ইসলাম প্রচারে পীর আউলিয়ারাও। ফলে পাবনা জেলার ইতিহাস বাতায়নে সবদিক থেকেই চাটমোহর নামটি সমুজ্জ্বল স্থান দখল করে আছে।

এই চাটমোহরে ৪৪২ বছরের ঐতিহ্য নিয়ে আজও ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে তিন গম্বুজ বিশিষ্ট 'শাহী মসজিদ।’ শাহী মসজিদটি বাংলার মুসলিম স্থাপত্যে একটি নতুন অধ্যায় সংযোজন করেছে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, পাবনার অন্যতম প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র চাটমোহর একদা ছিলো মোঘল-পাঠানদের অবাধ বিচরণ ভূমি। ১৫৮১ খ্রিষ্টাব্দে মোঘল সম্রাট আকবরের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তারই একটি বাহিনীর সেনাপতি মাসুম খাঁ কাবলি মসজিদটি নির্মাণ করেন। বইপত্রে যা এখনো মাসুম খাঁ কাবলির মসজিদ বলেই উল্লেখ আছে। তবে মসজিদটি স্থানীয়দের কাছে ‘শাহী মসজিদ’ নামেই বেশি পরিচিত।

শাহী মসজিদটির ভেতরে দৈর্ঘ্য ৩৪ হাত, প্রস্থ ১৫ হাত, উচ্চতা প্রায় ৩০ হাত। ক্ষুদ্র পাতলা নকশা খচিত লাল জাফরী ইটে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। মসজিদের দেওয়ালটি সাড়ে চার হাত প্রশস্থ। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির সামনে ইদারার গায়ে কলেমা তৈয়বা লিখিত একখণ্ড কালো পাথর এখনো রয়েছে। 

সরেজমিনে শাহী মসজিদে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদটিতে তিনটি প্রবেশপথ রয়েছে। মূল প্রবেশ পথটি ছাড়া অন্য প্রবেশপথ দু’টি একই ধরনের। মসজিদের তিনটি প্রবেশপথের সঙ্গে মিল রেখে পশ্চিম দেওয়ালে রয়েছে মোট তিনটি মিহরাব।  কেন্দ্রীয় মিহরাব থেকে দুই পাশের মিহরাবে রয়েছে বড় সুরঙ্গের মতো অপূর্ব নিদর্শন। ভূমি-নকশালঙ্কারে স্থাপত্য। 

অনুমান করা হয়, সুলতানী-মুঘল স্থাপত্যের রীতিতে মসজিদটি নির্মিত।  মিম্বারের পাশে কষ্টি পাথরের মত কালো রংঙের পাথরটি সৌন্দর্যের আরেকটি অংশ।

মসজিদটির এক পাশে ফার্সি ভাষায় মসজিদটি নির্মাণের ইতিহাস এবং অপর পাশে বিষ্ণু ও শিবের মূর্তি অঙ্কিত একটি প্রস্তর খণ্ড ছিলো।  প্রস্তর খণ্ডটি বর্তমানে রাজশাহী বরেন্দ্র মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮০ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মসজিদটি অধিগ্রহণ করে। মূল কাঠামো অবিকল রেখে অধিদপ্তর থেকে কয়েক দফা সংস্কার করা হয়েছে মসজিদটি। এখন মসজিদটি তার অতীত সৌন্দর্য্য অনেকটাই ফিরে পেয়েছে।

সম্রাট আকবরের পাঁচ হাজার সেনার অধিনায়ক ছিলেন মাসুম খাঁ কাবলি।  তার পূর্ব পুরুষ সুলতান হুসাইন শাহ’র আমলে কাবুল থেকে এদেশে এসে চাটমোহর অঞ্চলে জায়গীর লাভ করেন এবং এখানেই বসবাস শুরু করেন। এখানেই মাসুম খাঁ’র জন্ম হয়। তার পূর্বপুরুষরা কাবুলের খোরাশানের তুরাবতী বংশের কাকশাল গোত্রের সৈয়দ ছিলেন। তার চাচা মির্জা আজিজ কাকশাল সম্রাটের উজির ছিলেন। মাসুম খাঁ মাত্র কুড়ি বছর বয়সে সম্রাট আকবরের সেনাতে যোগ দেন।  

মাসুম খাঁ কাবলি বাংলার বার ভূঁইয়াদের বিদ্রোহকালে তাদের দলে যোগ দেন এবং আকবরের সেনাপতি ও গভর্নর শাহবাজ খানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে করেন। যুদ্ধে পরাস্ত হয়ে শীতলক্ষা তীরের (গাজিপুর) গহীন অরণ্যে আত্মগোপন করেন মাসুম খাঁ। সেখানেই ৪৪ বছর বয়সে তিনি মারা যান।

বর্তমানে শাহী মসজিদ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ মহল। আর পেশ ইমাম হিসাবে হাফেজ কাজী আব্দুস সালাম মাসুদ এবং মুয়াজ্জিন হিসেবে রয়েছেন তরিকুল ইসলাম।  পুরাকৃর্তি ও প্রত্মতত্ব অধিদপ্তরের পক্ষে সাইট পরিচালক হিসেবে আছেন শাহজাহান আলী।  তিনি তিন দশকের বেশি সময় ধরে এই শাহী মসজিদের দেখাশুনা করছেন।

শাহজাহান আলী বলেন, নথিপত্রে চাটমোহর শাহী মসজিদটি মাসুম খাঁনের নাম পাওয়া যায়। তবে স্থানীদের কাছে এটি শাহী মসজিদ বলেই পরিচিত। সারা বছর বহু মানুষ আসেন পাবনার চাটমোহরে এই মসজিদটি দেখতে।  সংস্কারের মাধ্যমে মসজিদটির মূল কাঠামো ও সৌন্দর্য্য ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।

মসজিদের ইমাম হাফেজ কাজী আব্দুস সালাম মাসুদ বলেন, দূর থেকে মসজিদটি বিশাল মনে হলেও এর ভেতরে রয়েছে মাত্র দুই কাতার। দুই কারাতে লোক নামাজে দাঁড়াতে পারেন। পাঁচ ওয়াক্ত ও জুমার নামাজ আদায় হয় এই মসজিদে। এছাড়া মসজিদের বাইরে দু’টি ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় প্রতিদিন অনেকেই আসেন মসজিদটি দেখতে, ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে। 

 

তিনি আরও বলেন, ইতিহাস ঐতিহ্য সমৃদ্ধ এমন একটি মসজিদের ইমাম হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।

যেভাবে যাবেন: ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে আন্তঃনগর ট্রেন সুন্দরবন এক্সপ্রেসে পাবনার ইশ্বরদী রেল রুটের চাটমোহর স্টেশনে আসতে সময় লাগবে সাড়ে ৪ ঘণ্টা।  স্টেশন থেকে ভ্যান বা অটোরিকশায় করে চাটমোহর উপজেলা পরিষদের সামনে যেতেই দেখা মিলবে ঐহিতাহিস শাহী মসজিদের। 

চাটমোহরে ভালো মানের খাবার হোটেল রয়েছে অনেক। দুপুরে ঘুরে বিকেলে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে করে পর্যটকরা চাইলে ঢাকায় ফিরতে পারবেন। এছাড়া রাত্রীযাপন করতে চাইলেও চাটমোহর-পাবনা ঈশ্বরদীতে রয়েছে আধুনিক সব হোটেল-মোটেল।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন