ট্রেন দুর্ঘটনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ট্রেন দুর্ঘটনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবক নিহত


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ট্রেনের ধাক্কায় ইমরান হোসেন (২৪) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার রাজশাহী-পাবনা-ঢালাচর রেলরুটের কালিকাপুরের ভবানীপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ইমরান কালিকাপুর গ্রামের মৃত ইউনুস মন্ডলের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, সকালে তিনি কৃষিজমিতে কাজ করানোর জন্য দিনমজুরদের সঙ্গে মাঠে গিয়েছিলেন। কাজের বিরতিতে রেললাইনের পাশে বসে ইয়ারফোনে গান শুনছিলেন। এ সময় পাবনার ঢালারচর থেকে রাজশাহীগামী ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেন তাকে কেটে চলে যায়।

নিহতের মামা হাবিবুর রহমান জানান, ইমরান বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। তিনি গত বছর পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন।

ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ঈশ্বরদীতে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু


নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে আকাশ বাঁশফোড় (২৬) নামে এক যুবক মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে রেলওয়ে জংশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আকাশ শহরের দরিনারিচা এলাকার রমেশ বাঁশফোড়ের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১টার দিকে রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটছিলেন আকাশ। এ সময় একটি চলন্ত ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার ওসি জিয়াউর রহমান বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হবে।’

ঈশ্বরদীতে ট্রেন লাইনচ্যুত, সাময়িক বরখাস্ত স্টেশন মাস্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে আন্তঃনগর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুতের ঘটনায় ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনের স্টেশন মাস্টার বাবুল রেজাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

শনিবার ভোরে ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনের দক্ষিণ পাশে রেললাইনের ৫১ নম্বর পয়েন্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ট্রেনটির ইঞ্জিন ও মালবাহী একটি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ঢাকা, রাজশাহী, দিনাজপুর ও খুলনার সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

তিন ঘণ্টা উদ্ধার কাজ চালানোর পর সকাল ৭টা ৫ মিনিট থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগের পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) হালিমা খাতুন। তিনি বলেন, 'পয়েন্ট পরিবর্তন না করেই ট্রেন চলাচলের জন্য ক্লিয়ারেন্স দেওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক তদন্তে স্টেশন মাস্টারের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।' 

রেলওয়ে সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ঈশ্বরদী লোকোমোটিভ রানিং শেড থেকে উদ্ধারকারী (রিলিফ) ট্রেন এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। তাদের তিন ঘণ্টার চেষ্টায় লাইনচ্যুত ইঞ্জিন ও ওয়াগন উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

দুর্ঘটনার কারণে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী পদ্মা এক্সপ্রেস এবং ঈশ্বরদী থেকে ছেড়ে যাওয়া রাজশাহীগামী কমিউটার ট্রেন—এই দুটি ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রায় আধা ঘণ্টা দেরি হয়। 

ঈশ্বরদীতে ইফতারের আগে ট্রেন দেখাতে গিয়ে ইঞ্জিনের ধাক্কায় নানা-নাতনির মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নাতনীকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ইঞ্জিনের ধাক্কায় নানা ও নাতনী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার  বিকেলে উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল (দোতলা সাঁকো সংলগ্ন) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

 নিহতরা হলেন উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের উত্তর বাঘইল এলাকার মৃত রহমত সরদারের ছেলে বাবুল সরদার (৫৫) ও চর-মিরকামারী এলাকার ইসমাইল হোসেনের মেয়ে মুনতাহার (৫)। বাবুল ও মুনতাহার সম্পর্কে নানা ও নাতনী।

নিহতের পারিবারিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সুত্রে জানা যায়, ঈদ করার জন্য মুনতাহার নানার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। ইফতারের কিছু সময় আগে বাড়ির নিকটবর্তী রেল লাইন হওয়ায় নাতনীর ট্রেন দেখার আবদার মেটাতে রেল লাইনের উপর নানা ও নাতনি বেড়াতে যান। এসময় ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনের দিক থেকে ট্রেনের ইঞ্জিন আসতে দেখে নাতনী দৌড়ে রেল লাইনের উপর উঠে যায়। এই অবস্থায় নাতনীকে বাঁচাতে গেলে নাতনীর মত নানা বাবুল সরদারও ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে নানা ও নাতনী দুইজনই ছিটকে নিচে পড়ে। মোড়ের লোকজন ছুটে গিয়ে নানাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। গুরুতর আহত নাতনীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। পরে রেলওয়ে থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

এবিষয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) মো. জিয়াউর রহমান জানান, নিহতদের পরিবারের লিখিত আবেদনে মরদেহ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ব্যাপারে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

আগুনে পুড়ে অঙ্গার মরদেহগুলো চিনতে পারছেন না স্বজনরা


নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর গোপীবাগে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনের ঘটনায় নিহত চারজনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে আনা হয়েছে। পুড়ে অঙ্গার হওয়া এসব মরদেহ এখন চেনার উপায় নেই। এজন্য ডিএনএ পরীক্ষার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে স্বজনদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, ০৬ জানুয়ারি শনিবার সকাল থেকে মর্গের সামনে ভিড় জমান স্বজনরা। পুলিশ তাদের লিখিত আবেদন জমা নিচ্ছে।

ঢাকা রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেতাফুর রহমান  বলেন, এখানে ৪টি মরদেহ আছে। ৪ জন তাদের স্বজনের সন্ধান চেয়ে আমাদের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। এছাড়া একজন মৌখিকভাবে বলেছেন।

সেতাফুর রহমান জানান, মরদেহগুলোর ডিএনএ পরীক্ষা করা ছাড়া পরিচয় শনাক্ত করা যাবে না। এজন্য ডিএনএ পরীক্ষা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে স্বজনদের।

‘একজন মানুষের উচ্চতা ৩/৪ হাত হলেও সবাই পুড়ে ১/২ হাত হয়ে গেছে’

বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনের ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া ছেলেকে খুঁজতে হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরছেন তার বাবা আবদুল হক। ফরিদপুর থেকে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রা করেছিলেন ছেলে আবু তালহা।

আবদুল হক বলেন, এখানে (মর্গ) প্রথমে আমাকে মরদেহ দেখতে দেওয়া হয়নি। পরে দেখেছি। কিন্তু চিনতে পারছি না। একজন মানুষের উচ্চতা ৩/৪ হাত হলেও সবাই পুড়ে ১/২ হাত হয়ে গেছে।

এসব কথা বলার সময় কাঁদছিলেন আবদুল হক। তিনি বলেন, আমার ছেলে সৈয়দপুরের বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে তৃতীয় বর্ষে পড়ে। তার বয়স ২৪ বছর। আমার বাড়ি রাজবাড়ী জেলার কালুখালিতে। বর্তমানে ফরিদপুরে থাকি।

পেশায় ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করা আবদুল হক বলেন, আমার ছেলেকে ফরিদপুর স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠিয়ে দিয়েছি। সে ঢাকা হয়ে সৈয়দপুরে যাবে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে।

তিনি বলেন, রাতে ট্রেনে আগুন দেওয়ার পরপরই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাচ্ছি। তার বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়েছি, সেখানেও যায়নি। তার শিক্ষকরাও তাকে খুঁজছেন। আমি রাতেই ঢাকা আসি। ঢাকায় এসে প্রথমে যাই মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। সেখানে তাকে খুঁজে পাইনি। এরপর শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে এসেও আমার ছেলের খোঁজ পাইনি। তারপর আসি এখানে (ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ মর্গ)।

তিনি আরও বলেন, জানি না আমার ছেলে বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে। আমি আমার ছেলের সন্ধান চাই।

এলিনা ইয়াসমিনের খোঁজে ফুফা-চাচাতো ভাই

এলিনা ইয়াসমিনের গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীতে। স্বামী সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন এবং পাঁচ মাসের ছেলে সন্তান আরফানকে নিয়ে থাকতেন মিরপুরের ৬০ ফিটে। ১০ দিন আগে মারা যান এলিনার বাবা।

বাবাকে চিরবিদায় জানাতে শিশু সন্তানকে নিয়ে বাড়ি গিয়েছিলেন। বাড়ি থেকে ঢাকায় ফেরার পথে শুক্রবার রাতে রাজধানীর গোপীবাগে তাদের ট্রেনে আগুন লাগে। এরপর থেকেই নিখোঁজ এলিনা ইয়াসমিন।

তার খোঁজে মর্গের সামনে আসেন ফুফা নজরুল ইসলাম এবং চাচাতো ভাই সোহেল রানা।

নজরুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ট্রেনে করে আমাদের পরিবারের মোট ৬ জন সদস্য ঢাকায় আসছিলেন। এর মধ্যে এলিনা ইয়াসমিনের ৬ মাসের বাচ্চা আরফানও ছিল। এলিনা ছাড়া সবাই বেঁচে ফিরলেও এখনো তার খোঁজ পাচ্ছি না আমরা। এ বিষয়ে আমরা রেলওয়ে পুলিশকে অভিযোগ দিয়েছি।

এলিনার চাচাতো ভাই সোহেল রানা ঢাকা পোস্টকে বলেন, এলিনার একটা সমস্যা ছিল। সেটা হলো সে অল্পতেই ঘাবড়ে যেত। সেজন্য সবাই ট্রেন থেকে নেমে যেতে পারলেও এলিনা হয়ত পারেনি।

শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর গোপীবাগে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। পরে ৮টি ইউনিটের চেষ্টায় রাত ১০টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৩২টি ট্রেন চলাচল স্থগিত : মহাপরিচালক


নিজস্ব প্রতিবেদক: রেলপথ ও ট্রেনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই অঞ্চল (পূর্বাঞ্চল-পশ্চিমাঞ্চল) থেকে মোট ৩২টি ট্রেনের দুই দিন (৬ ও ৭ জানুয়ারি) চলাচল স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

শনিবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরের ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পুড়ে যাওয়া বেনাপোল এক্সপ্রেসের কোচ দেখতে এসে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. কামরুল আহসান সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

কামরুল আহসান বলেন, আমরা কিছু লোকাল ট্রেন যেগুলোর দিনের বেলাতে মুভমেন্ট কম থাকে এমন পূর্বাঞ্চলের ২০টি এবং পশ্চিমাঞ্চলের ১২টি ট্রেন এই দুই দিন চালাচ্ছি না। আপাতত আমরা যে কয়েকটি ট্রেন স্থগিত রেখেছি। এগুলো ছাড়া বাকি সবগুলো ট্রেন চলাচল করবে।

কেন স্থগিত করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যাত্রীর মুভমেন্ট কম থাকার কারণে এই ট্রেনগুলো সাসপেন্ড করা হয়েছে। এ ট্রেনে আমাদের যেসব কর্মচারী আছে তারা অন্য ট্রেনগুলোতে কাজ করবে। নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে আমাদের লোকোমোটিভগুলো দিয়ে রেল লাইনের নিরাপত্তা দেখব। পুরো কাজটাই করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সুসংগঠিত করার জন্য।

বেনাপোল এক্সপ্রেসে আগুন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আমাদের পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যরাও দেখছে। আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে এটা নাশকতামূলক কার্যক্রম। এটা এখন ফাইনাল বলা যাবে না। যারা নিহত হয়েছেন, তারা তো পুড়ে গেছে। এটা ডিএনএ ছাড়া শনাক্ত করা সম্ভব না। কমলাপুর জিআরপি থানায় এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

ক্ষতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ট্রেনের দুটি বগি একেবারে পুড়ে গেছে এবং পাওয়ার কার আংশিক পুড়ে গেছে। এটি পরিষ্কার করার পর বুঝতে পারব কতটুকু ক্ষতি হয়েছে। 

তিনি বলেন, রেলওয়ে এখনো সবচেয়ে নিরাপদ বাহন। তবে নাশকতা ঠেকাতে আমরা চেষ্টা করছি। আমরা বিভিন্ন স্টেশন থেকে সিসিটিভি ফুটেজ এবং ট্রেনের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজ নেওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে সিসি ক্যামেরা চালু করেছি, পর্যায়ক্রমে সব কয়টি ট্রেনে সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে।

ট্রেনে অগ্নিসংযোগে চার ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় মামলা

নাশকতার আগুনে নিহত নাদিরা আক্তার পপি ও তার শিশু সন্তান ইয়াসিন এবং পুড়ে যাওয়া ট্রেন। ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর ডাকা সবশেষ হরতালের দিন মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় দুর্বৃত্তদের ট্রেনে আগুন দেওয়ায় চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকা রেলওয়ে থানায় মামলা করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মঙ্গলবার রাতে মামলাটি করা হয়।

নাশকতার আগুনে পুড়ে মারা যান- নাদিরা আক্তার পপি (৩৫), তার ৩ বছর বয়সি ছেলে ইয়াসিন, রশিদ ঢালী (৬০) ও খোকন মিয়া (৩৫)।

বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি ফেরদৌস আহমেদ বিশ্বাস দৈনিক বাংলাকে বলেন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত আন্তঃনগর মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচালক খালেদ মোশারফ বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মঙ্গলবার রাতে মামলা করেন। ট্রেনে আগুন দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে ট্রেনে আগুন দেওয়ার সঙ্গে জড়িত কাউকে এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়নি।

প্রসঙ্গত, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে সোমবার রাত ১১টার দিকে ছেড়ে আসে যাত্রীবাহী আন্তঃনগর মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন। বিমানবন্দর স্টেশন ছেড়ে আসার পর ট্রেনটিতে মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে নাশকতাকারীরা বনানী এলাকায় আগুন ধরিয়ে দেয়। ট্রেন তেজগাঁও স্টেশনে এসে থামে। ততক্ষণে ট্রেনের তিনটি বগি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এ ঘটনায় ‘জ’ বগিতে থাকা নারী ও শিশুসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিচয় শনাক্তের পর স্বজনদের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

রেললাইনে নাশকতাকারীদের খুঁজে বের করবে পুলিশ: ডিআইজি


নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৩ ডিসেম্বর বুধবার ভোররাত ৪টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের বনখড়িয়া এলাকায় মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের লাইনচ্যুত করেছে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম।

১৩ ডিসেম্বর বুধবার দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের বনখড়িয়া এলাকায় মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি গলমাধ্যমকে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, যারা নাশকতাকারী, যারা এতোবড় একটি দুর্ঘটনার পরিকল্পনা করেছে তাদের সবাইকে খুঁজে বের করবো আমরা। তাদেরকে আইনের আওতায় আনার সঙ্গে সঙ্গে সারাদেশে সবার মাঝেই একটি মেসেজ চলে যাবে। আমাদের দেশে কয়েক হাজার কিলোমিটার রেললাইন আছে। নির্বিঘ্নে চলাচলে এখন আমাদের দেশের মানুষের আস্থার একটি জায়গা ট্রেন।

ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম আরও বলেন, এ ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে আমরা যে ক্লু পাব, তাদের প্ল্যান, প্রিপারেশন, এখানে রেললাইনকে গলিয়ে ফেলা হয়েছে, অক্সিজেন ও ইথেন গ্যাস একসঙ্গে সংযুক্ত করে দেড় দুই হাজার তাপমাত্রা হয়ে যায়, এ ধরনের ম্যাকানিজম যারা দিয়েছে, যারা নেতৃত্ব দিয়েছে তাদেরকে আমরা আইনের আওতায় আনবো। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ট্রেনে আর যেন কেউ নাশকতা চালাতে না পারে সে অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।

প্রসঙ্গত, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের বনখড়িয়া এলাকায় মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হয় ১৩ ডিসেম্বর বুধবার ভোর ৪টার দিকে। ট্রেনটি নেত্রকোনা থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- দুর্বৃত্তরা নাশকতা করতে রেললাইনের অংশ কেটে রাখে। এ ঘটনায় ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রওহা গ্রামের আসলাম হোসেন (৩৫) নামে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০ জনেরও বেশি।

১২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার এবং ১৩ ডিসেম্বর বুধবার বিএনপি ও এর সমমনা দলগুলো ১১তম দফায় অবরোধের ডাক দিয়েছে। যা আজ সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হবে। অবরোধের দ্বিতীয় দিনে রেল লাইনের এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। গত ২৮ অক্টোবরের পর থেকে সরকার পতনের একদফা দাবিতে দফায় দফায় কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে বিএনপি ও এর সমমনা দলগুলো।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন