ট্রেন চলাচল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ট্রেন চলাচল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদী জংশনে ট্রেন অবরোধ এলাকাবাসীর মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তনগর চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন চালু রাখা এবং বাতিল করা সুন্দরবন ও বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি পুনরায় চালুর দাবিতে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও ট্রেন অবরোধ করা হয়েছে।

‘ঈশ্বরদীর আপামর ছাত্রজনতা’ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা এবং নানা শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ এতে অংশ নেন।

মানববন্ধনের সময় খুলনা থেকে ঢাকাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছালে তারা ট্রেনটিকে ৩৫ মিনিট আটকে রেখে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। এসময় সাত দিনের মধ্যে চিত্রা এক্সপ্রেসের ঈশ্বরদী স্টেশনে যাত্রাবিরতির জন্য দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানান। অন্যথায় তারা পশ্চিমাঞ্চলের সব ট্রেন চলাচল বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ কিরণ, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফজলুর রহমান, সমকাল প্রতিনিধি সেলিম সরদার, সচেতন নাগরিক ফোরাম নামের একটি সংগঠনের  আহ্বায়ক আ. ফ. ম. রাজিবুল ইসলাম ইভান, পৌর বিএনপি নেতা ইসলাম হোসেন জুয়েল, সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি, মাদকবিরোধী সংগঠন মানাবের সভাপতি মাসুম পারভেজ কল্লোল, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাহিন মেহরাব এবং পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষার্থী তানজিদুল জামান দিহান।

বক্তারা বলেন, গত বছর থেকে ঢাকামুখি সুন্দরবন ও বেনাপোল আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি ঈশ্বরদী স্টেশনে যাত্রাবিরতি বাতিল করে অন্য রুটে চালানো হচ্ছে। এর ফলে এ অঞ্চলের শত শত যাত্রী ঢাকায় যাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছে।

এ অবস্থায়, ঢাকাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঈশ্বরদী স্টেশনে যাত্রাবিরতি বাতিল করে অন্য রুটে চালানোর পরিকল্পনা করছে রেল কর্তৃপক্ষ। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ঈশ্বরদীর মানুষ আরও দুর্ভোগে পড়বে। বক্তারা বলছেন, দ্রুত তাদের দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।

আগুনে পুড়ে অঙ্গার মরদেহগুলো চিনতে পারছেন না স্বজনরা


নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর গোপীবাগে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনের ঘটনায় নিহত চারজনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে আনা হয়েছে। পুড়ে অঙ্গার হওয়া এসব মরদেহ এখন চেনার উপায় নেই। এজন্য ডিএনএ পরীক্ষার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে স্বজনদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, ০৬ জানুয়ারি শনিবার সকাল থেকে মর্গের সামনে ভিড় জমান স্বজনরা। পুলিশ তাদের লিখিত আবেদন জমা নিচ্ছে।

ঢাকা রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেতাফুর রহমান  বলেন, এখানে ৪টি মরদেহ আছে। ৪ জন তাদের স্বজনের সন্ধান চেয়ে আমাদের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। এছাড়া একজন মৌখিকভাবে বলেছেন।

সেতাফুর রহমান জানান, মরদেহগুলোর ডিএনএ পরীক্ষা করা ছাড়া পরিচয় শনাক্ত করা যাবে না। এজন্য ডিএনএ পরীক্ষা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে স্বজনদের।

‘একজন মানুষের উচ্চতা ৩/৪ হাত হলেও সবাই পুড়ে ১/২ হাত হয়ে গেছে’

বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনের ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া ছেলেকে খুঁজতে হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরছেন তার বাবা আবদুল হক। ফরিদপুর থেকে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রা করেছিলেন ছেলে আবু তালহা।

আবদুল হক বলেন, এখানে (মর্গ) প্রথমে আমাকে মরদেহ দেখতে দেওয়া হয়নি। পরে দেখেছি। কিন্তু চিনতে পারছি না। একজন মানুষের উচ্চতা ৩/৪ হাত হলেও সবাই পুড়ে ১/২ হাত হয়ে গেছে।

এসব কথা বলার সময় কাঁদছিলেন আবদুল হক। তিনি বলেন, আমার ছেলে সৈয়দপুরের বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে তৃতীয় বর্ষে পড়ে। তার বয়স ২৪ বছর। আমার বাড়ি রাজবাড়ী জেলার কালুখালিতে। বর্তমানে ফরিদপুরে থাকি।

পেশায় ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করা আবদুল হক বলেন, আমার ছেলেকে ফরিদপুর স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠিয়ে দিয়েছি। সে ঢাকা হয়ে সৈয়দপুরে যাবে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে।

তিনি বলেন, রাতে ট্রেনে আগুন দেওয়ার পরপরই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাচ্ছি। তার বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়েছি, সেখানেও যায়নি। তার শিক্ষকরাও তাকে খুঁজছেন। আমি রাতেই ঢাকা আসি। ঢাকায় এসে প্রথমে যাই মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। সেখানে তাকে খুঁজে পাইনি। এরপর শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে এসেও আমার ছেলের খোঁজ পাইনি। তারপর আসি এখানে (ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ মর্গ)।

তিনি আরও বলেন, জানি না আমার ছেলে বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে। আমি আমার ছেলের সন্ধান চাই।

এলিনা ইয়াসমিনের খোঁজে ফুফা-চাচাতো ভাই

এলিনা ইয়াসমিনের গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীতে। স্বামী সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন এবং পাঁচ মাসের ছেলে সন্তান আরফানকে নিয়ে থাকতেন মিরপুরের ৬০ ফিটে। ১০ দিন আগে মারা যান এলিনার বাবা।

বাবাকে চিরবিদায় জানাতে শিশু সন্তানকে নিয়ে বাড়ি গিয়েছিলেন। বাড়ি থেকে ঢাকায় ফেরার পথে শুক্রবার রাতে রাজধানীর গোপীবাগে তাদের ট্রেনে আগুন লাগে। এরপর থেকেই নিখোঁজ এলিনা ইয়াসমিন।

তার খোঁজে মর্গের সামনে আসেন ফুফা নজরুল ইসলাম এবং চাচাতো ভাই সোহেল রানা।

নজরুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ট্রেনে করে আমাদের পরিবারের মোট ৬ জন সদস্য ঢাকায় আসছিলেন। এর মধ্যে এলিনা ইয়াসমিনের ৬ মাসের বাচ্চা আরফানও ছিল। এলিনা ছাড়া সবাই বেঁচে ফিরলেও এখনো তার খোঁজ পাচ্ছি না আমরা। এ বিষয়ে আমরা রেলওয়ে পুলিশকে অভিযোগ দিয়েছি।

এলিনার চাচাতো ভাই সোহেল রানা ঢাকা পোস্টকে বলেন, এলিনার একটা সমস্যা ছিল। সেটা হলো সে অল্পতেই ঘাবড়ে যেত। সেজন্য সবাই ট্রেন থেকে নেমে যেতে পারলেও এলিনা হয়ত পারেনি।

শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর গোপীবাগে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। পরে ৮টি ইউনিটের চেষ্টায় রাত ১০টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৩২টি ট্রেন চলাচল স্থগিত : মহাপরিচালক


নিজস্ব প্রতিবেদক: রেলপথ ও ট্রেনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই অঞ্চল (পূর্বাঞ্চল-পশ্চিমাঞ্চল) থেকে মোট ৩২টি ট্রেনের দুই দিন (৬ ও ৭ জানুয়ারি) চলাচল স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

শনিবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরের ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পুড়ে যাওয়া বেনাপোল এক্সপ্রেসের কোচ দেখতে এসে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. কামরুল আহসান সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

কামরুল আহসান বলেন, আমরা কিছু লোকাল ট্রেন যেগুলোর দিনের বেলাতে মুভমেন্ট কম থাকে এমন পূর্বাঞ্চলের ২০টি এবং পশ্চিমাঞ্চলের ১২টি ট্রেন এই দুই দিন চালাচ্ছি না। আপাতত আমরা যে কয়েকটি ট্রেন স্থগিত রেখেছি। এগুলো ছাড়া বাকি সবগুলো ট্রেন চলাচল করবে।

কেন স্থগিত করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যাত্রীর মুভমেন্ট কম থাকার কারণে এই ট্রেনগুলো সাসপেন্ড করা হয়েছে। এ ট্রেনে আমাদের যেসব কর্মচারী আছে তারা অন্য ট্রেনগুলোতে কাজ করবে। নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে আমাদের লোকোমোটিভগুলো দিয়ে রেল লাইনের নিরাপত্তা দেখব। পুরো কাজটাই করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সুসংগঠিত করার জন্য।

বেনাপোল এক্সপ্রেসে আগুন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আমাদের পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যরাও দেখছে। আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে এটা নাশকতামূলক কার্যক্রম। এটা এখন ফাইনাল বলা যাবে না। যারা নিহত হয়েছেন, তারা তো পুড়ে গেছে। এটা ডিএনএ ছাড়া শনাক্ত করা সম্ভব না। কমলাপুর জিআরপি থানায় এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

ক্ষতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ট্রেনের দুটি বগি একেবারে পুড়ে গেছে এবং পাওয়ার কার আংশিক পুড়ে গেছে। এটি পরিষ্কার করার পর বুঝতে পারব কতটুকু ক্ষতি হয়েছে। 

তিনি বলেন, রেলওয়ে এখনো সবচেয়ে নিরাপদ বাহন। তবে নাশকতা ঠেকাতে আমরা চেষ্টা করছি। আমরা বিভিন্ন স্টেশন থেকে সিসিটিভি ফুটেজ এবং ট্রেনের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজ নেওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে সিসি ক্যামেরা চালু করেছি, পর্যায়ক্রমে সব কয়টি ট্রেনে সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে।

রাজধানীতে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর গোপীবাগ বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ট্রেনটি বেনাপোল থেকে ঢাকার কমলাপুরে রেলস্টেশনে দিকে আসছিল।

আজ শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, দাউ দাউ করে জ্বলছিল ট্রেনটি। এতে কত যাত্রী ছিলেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সেই আগুনে দগ্ধ হয়ে একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

রেলওয়ে পুলিশের ঢাকা জেল পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ট্রেনের পাওয়ার কার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এটি নাশকতা নাকি গোলযোগ— বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।’

ফায়ার সার্ভিস সূত্র বলছে, ঢাকা এলাকায় দুর্বৃত্তরা বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের চারটি বগিতে আগুন দেয়। খবর পেয়ে খিলগাঁও ও পোস্তগোলা ফায়ার স্টেশনের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করছে।

প্রথম মাসে কক্সবাজার এক্সপ্রেসের আয় ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার: বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরুর প্রথম মাসে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেন পরিচালনা করে ১ কোটি ৩৮ লাখ ২০ হাজার টাকা আয় করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

বুধবার রাত ১২টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন কক্সবাজার আইকনিক রেল স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার গোলাম রাব্বানী।

তিনি জানান, প্রথম মাসে (২৭ দিন) কক্সবাজার এক্সপ্রেসে অনলাইনে ও অপলাইনে এসি ও ননএসির ২৮ হাজার ৬২০টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। এ থেকে আয় হয়েছে ১ কোটি ৩৮ লাখ ২০ হাজার টাকা।

তিনি আরও জানান, প্রতিদিন ২ লাখ মানুষ অনলাইনে টিকিটের জন্য চার্জ করেন। তবে চাহিদার তুলনায় আসন কম। তাই আগামী ১ জানুয়ারি থেকে নতুন আরও দুইটি ট্রেন সংযুক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যাত্রীবাহী ট্রেনের গতিসীমা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। কয়েক দফা পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচলের সফল কার্যক্রম শেষে গত ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার রেল সংযোগ উদ্বোধনের সময় ডিসেম্বর থেকে দুইটি ট্রেন চালুর নির্দেশ দেন।

কক্সবাজার এক্সপ্রেসের নতুন এই ট্রেনে মোট ২০টি কোচ রয়েছে বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে। আসন আছে ১ হাজার ৬০টি। ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত শোভন চেয়ারের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৯৫ টাকা। এসি চেয়ারের ভাড়া ১ হাজার ৩২৫ টাকা ও এসি বার্থের ভাড়া (ঘুমিয়ে যাওয়ার আসন) ২ হাজার ৩৮০ টাকা। 

অন্যদিকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত শোভন চেয়ারের ভাড়া ২০৫ টাকা, স্নিগ্ধা শ্রেণির ভাড়া ৩৮৬ টাকা, এসি সিটের ভাড়া ৪৬৬ ও এসি বার্থের ভাড়া ৬৯৬ টাকা।

সময়ের আগেই স্টেশনে যাত্রীরা, অপেক্ষা প্রথম যাত্রার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বহুল প্রতীক্ষিত কক্সবাজার-ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে আজ। শুক্রবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ছেড়ে আসে। রাত ৯টা ১০ মিনিট নাগাদ কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে এই ট্রেনের।

ট্রেনটি এখান থেকে রাত সাড়ে ১০টায় আবার কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। ননস্টপ ট্রেনটিতে চড়ে প্রথমবারের মতো ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার যাবেন যাত্রীরা। তাই তো ট্রেন ছাড়ার অনেক আগেই প্ল্যাটফর্মে চলে এসেছেন ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেনের যাত্রীরা। স্টেশনে ঘুরে, গল্প করে, ছবি-সেলফি তুলে সময় পার করতে দেখা যায় তাদের।

সরেজমিনে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা এসব যাত্রীর অধিকাংশই পর্যটক। ঢাকা থেকে সরাসরি ট্রেনযোগে কক্সবাজার যাওয়ার মোক্ষম সুযোগ পেয়ে সবার চোখে মুখেই আনন্দের ঝিলিক। ট্রেনের জন্য অপেক্ষমাণ উচ্ছ্বসিত মানুষের ভিড় দ্রুতই বাড়তে দেখা গেছে।

যাত্রীরা বলছেন, প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে কক্সবাজার-ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচলের সাক্ষী হওয়ার বিষয়টি দারুণভাবে পুলকিত করছে তাদের। যাত্রীরা প্রত্যাশা করছেন, ননস্টপ এই ট্রেনে যেমন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন ঘটেছে, তেমনই পর্যটন শিল্পেও ঘটবে বিকাশ। কেননা, এতদিন সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ ছিল না। আগে চট্টগ্রামে ট্রেন থেকে নেমে তারপর বাসে চড়ে কক্সবাজার পৌঁছাতে হতো। এটিকে অনেকেই ঝামেলা মনে করে কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও তা চেপে রেখেছেন। তবে এখন ঢাকা থেকে সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার পৌঁছানো যাবে। এটি সাধারণ যাত্রী এবং পর্যটক সবার জন্যই সুফল বয়ে আনবে।

ওবায়দুল করিম নামের এক যাত্রী বলেন, কক্সবাজার-ঢাকা-কক্সবাজার রেল লাইন যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য নতুন এক মাইলফলক। এটি সাধারণ মানুষের জন্য অনেক সুফল বয়ে আনবে। স্বল্প সময়ে কক্সবাজার পৌঁছে যাওয়া যাবে। তবে ধীরে ধীরে ট্রেন সার্ভিস যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি যাত্রী সেবার মানও ধরে রাখতে হবে। কেননা, মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার ফসল এই রেল লাইন। তাই সাধারণ মানুষকেও যত্নের সঙ্গে এর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

রাসেল আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমার বাড়ি কক্সবাজার। ট্রেন যাত্রার প্রথম দিনেই টিকিট পেয়ে যাব, এমনটি ভাবিনি। খুব খুশি লাগছে। বাড়িতে যাওয়া এবং আসার ব্যাপারটি অনেক সহজ হয়েছে। শুরুতে কম ট্রেন ছাড়লেও পরে যখন আরও ট্রেন বাড়ানো হবে তখন সবাই এর সুফল পাবে।

‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেনের সময়সূচির ব্যাপারে জানা গেছে, শুরুতে কক্সবাজার থেকে ৮১৩ নম্বর ট্রেনটি দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে। চট্টগ্রামে ২০ মিনিট বিরতি দিয়ে বিকেল ৪টায় ছেড়ে বিরতিহীনভাবে ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে পৌঁছাবে রাত সাড়ে ৮টায়। ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে ৩ মিনিট বিরতি দিয়ে রাত ৮টা ৩৩ মিনিটে ছেড়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে রাত ৯টা ১০ মিনিটে।

অন্যদিকে, ৮১৪ নম্বর ট্রেনটি ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ২ অথবা ৩নং প্ল্যাটফর্ম থেকে রাত সাড়ে ১০টায় ছেড়ে বিমানবন্দর স্টেশনে পৌঁছাবে রাত ১০টা ৫৩ মিনিটে। সেখানে ৫ মিনিট বিরতি দিয়ে রাত ১০টা ৫৮ মিনিটে ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে রাত ৩টা ৪০ মিনিটে। সেখানে ২০ মিনিট বিরতি দিয়ে রাত ৪টায় ছেড়ে কক্সবাজার স্টেশনে পৌঁছাবে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে।

আর ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত শোভন চেয়ারের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৯৫ টাকা। এসি চেয়ারের ভাড়া ১ হাজার ৩২৫ টাকা, এসি সিটের ভাড়া ১ হাজার ৫৯০ টাকা এবং এসি বার্থের ভাড়া (ঘুমিয়ে যাওয়ার আসন) ২ হাজার ৩৮০ টাকা। অপরদিকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত শোভন চেয়ারের ভাড়া ২০৫ টাকা, স্নিগ্ধা শ্রেণির ৩৮৬ টাকা, এসি সিটের ৪৬৬ এবং এসি বার্থের ভাড়া ৬৯৬ টাকা।

টাকার বিনিময়ে ঈশ্বরদীতে ট্রেনে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘টাকার বিনিময়ে নাশকতার উদ্দেশ্যে পাবনার ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনের ওয়াশপিটে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে আগুন দিয়েছিলেন বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। আর এ ঘটনার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ট্রেন বহরে হামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি স্থানীয় বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুর আপন দুই ভাই জড়িত।’ 

ঘটনার পর পুলিশের অভিযানে আটক বিএনপি কর্মী সুমন হোসেন (৩২) ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এমন তথ্য জানিয়েছেন পুলিশকে। আগুন দিতে গিয়ে দগ্ধ হন সুমন। বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে পাবনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসী প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সব তথ্য তুলে ধরেন।

বুধবার বিকেলে ঈশ্বরদীর ফতে মোহম্মদপুর রেলওয়ে হাসপাতালের সামনে থেকে বিএনপিকর্মী সুমনকে আটক করে পুলিশ। আটক সুমন ঈশ্বরদী পৌর এলাকার রহিমপুর গার্লস স্কুল মহল্লার তাইজুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসী বলেন, গত ২৭ নভেম্বর রাতে বিএনপি ও জামায়াতের ডাকা অবরোধ চলাকালে ঈশ্বরদী রেল জংশন এলাকার ওয়াশপিটে দাঁড়িয়ে থাকা (সিক্স ডাউন) ট্রেনে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় রেলওয়ে থানায় মামলা দায়েরের পর অভিযানে নামে পুলিশের একাধিক দল।

এ সময় ট্রেনে আগুন দিতে গিয়ে দগ্ধ সুমন বাসা থেকে ওষুধ কিনতে আসলে সেই সূত্র ধরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার সুমনের দেওয়া তথ্য সূত্রে ট্রেনে আগুন দেয়ার রহস্য বেরিয়ে আসে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে ঘটনার সত্যতা সুমন স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

পুলিশ সুপার বলেন, অর্থের বিনিময়ে ট্রেনে আগুন দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ট্রেন বহরে হামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জাকারিয়া পিন্টুর আপন দুই ভাই। তারা হলেন, ঈশ্বরদী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মেহেদী হাসান ও পৌর যুব দলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল।

এই ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তারা হলেন, ঈশ্বরদী পৌর সদরের শৈলপাড়া এলাকার আবুল কালামের ছেলে পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহীন হোসেন, একই এলাকার মৃত ফরিদ হোসেনের ছেলে পৌর যুবদলের সদস্য রুবেল হোসেন, মকলেছ হোসেনের ছেলে মামুন হোসেন ও রহিমপুর এলাকার রাসেল হোসেন। এ সকল আসামিসহ পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। আটক সুমনকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, দুষ্কৃতকারীরা যাতে পুনরায় ট্রেনে আগুন দিতে না পারে, সেজন্য ঈশ্বরদী রেল জংশন এলাকায় অতিরিক্ত আলোর ব্যবস্থা, সিসিটিভি স্থাপন, সাদা ও পোশাকি পুলিশসহ আনসার সদস্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। একইসঙ্গে পুরো জংশন এলাকা নিরাপত্তার মধ্যে আনার জন্য চারপাশে কাটাতার স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

হাজার যাত্রী নিয়ে ছুটল ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’

নিজস্ব প্রতিবেদক: বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। পূর্ব নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী শুক্রবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ যাত্রা শুরু করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন কক্সবাজার আইকনিক রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার গোলাম রব্বানী।

তিনি বলেন, প্রথম ট্রেন দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে কক্সবাজার আইকনিক রেল স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এতে যাত্রী ছিল ১ হাজার ৩০ জন।

ট্রেনটির আজ রাত ৯টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ফিরতি ট্রেন কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন ছাড়বে রাত সাড়ে ১০টায়।

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচলে যাত্রীবাহী ট্রেনের গতিসীমা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। কয়েক দফা পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচলের সফল কার্যক্রম শেষে গত ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার রেল সংযোগ উদ্বোধনের সময় ডিসেম্বর থেকে দুটি ট্রেন চালুর নির্দেশ দেন।

ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত শোভন চেয়ারের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৯৫ টাকা। এসি চেয়ারের ভাড়া ১ হাজার ৩২৫ টাকা, এসি সিটের ভাড়া ১ হাজার ৫৯০ টাকা এবং এসি বার্থের ভাড়া (ঘুমিয়ে যাওয়ার আসন) ২ হাজার ৩৮০ টাকা। অপর দিকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত শোভন চেয়ারের ভাড়া ২০৫ টাকা, স্নিগ্ধা শ্রেণির ৩৮৬ টাকা, এসি সিটের ৪৬৬ এবং এসি বার্থের ভাড়া ৬৯৬ টাকা।

ঈশ্বরদীতে যাত্রাবিরতি ও ট্রেনে আসন বৃদ্ধির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন ষ্টেশনে ঢাকাগামী সকল ট্রেনের যাত্রাবিরতি ও আন্তনগর ট্রেনের আসন বাড়ানোর দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। আজ বুধবার ১১টায় উপজেলা সদরের ষ্টেশন রোড বাজার এলাকায় এই মানববন্ধন হয়।

উপজেলার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ঈশ্বরদী উপজেলায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ বাস করে। উপজেলায় ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা আছে। সারা উপজেলায় পাঁচটি রেলস্টেশন থাকলেও ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন রেলস্টেশন দিয়ে বেশি মানুষ যাতায়াত করে। স্টেশনটিতে বর্তমানে ঢাকা-ঈশ্বরদী-খুলনা পথে চলাচলকারী সুন্দরবন এক্সপ্রেস নিয়মিত পথ থেকে সরিয়ে এনে পদ্মা সেতু দিয়ে চালানো হবে। একইভাবে ঢাকা-বেনাপোল পথে চলাচলকারী বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের পথও পরিবর্তন করা হচ্ছে। ফলে ঈশ্বরদী স্টেশনের যাত্রীরা রেলের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই স্টেশনের যাত্রীদের জন্য ট্রেন দুটির ৩০টি করে আসন বরাদ্দ আছে। অথচ এই রেলস্টেশন দিয়ে প্রতিদিন কয়েক শ মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আসন না পেয়ে ঈশ্বরদী রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠে অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের বেশি সমস্যা হয়। এ কারণে ট্রেনের যাত্রাবিরতি ও আসনসংখ্যা বাড়ানোর দাবিতে স্থানীয় সচেতন নাগরিক, ক্রীড়া সংগঠক ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একশো বছরের পুরোনো ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ঈশ্বরদী রেল জংশন থেকে ঢাকার সঙ্গে আগে থেকে চলাচলকারী সুন্দরবন ও বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের নিয়মিত পথ থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে যাত্রীদের। যাত্রীদের তুলনায় ট্রেন গুলোতে অনেক কম আসন বরাদ্দ করা হয়েছে। এজন্য উপজেলার বাসিন্দারা আন্দোলন করেছেন।

ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য ওহিদুজ্জামান টিপুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ কিরণ, সহসভাপতি খোন্দকার মাহাবুবুল হক দুদু, পৌর কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক, পৌরসভার সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান অঞ্জন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঈশ্বরদী শাখার আহবায়ক মাসুদ রানা ও  সামাজিক ও মাদকবিরোধী সংগঠন মানাবের সভাপতি মাসুম পারভেজ কল্লোল প্রমুখ। 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক বলেন, ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশনে সুন্দরবন ও বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি জানাচ্ছি। যদি আগামী ৭ দিনের মধ্যে আমাদের দাবি আদায় না হয়, তাহলে উপজেলার সব সংগঠনের সঙ্গে কথা বলে ট্রেন চলাচল বন্ধ ও রেলপথ অবরোধের মতো কর্মসূচি আমরা গ্রহণ করব।

মানববন্ধন চলাকালে মোস্তাক আহমেদ কিরণ তাঁর বক্তব্যে বলেন, জনস্বার্থে সুন্দরবন ও বেনাপোল এক্সপ্রেসের রুট বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানায়। ঈশ্বরদী জংশনে যাত্রীর তুলনায় আসনসংখ্যা অত্যন্ত কম। বৃদ্ধ ও নারী যাত্রীদের কথা চিন্তা করে অনতিবিলম্বে আসনসংখ্যা বাড়াতে হবে।

এদিকে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনের দুই নম্বর প্লাটফর্মে রেল ষ্টেশন থেকে কয়েকটি ট্রেন অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন হয়। ‘আমরা ঈশ্বরদীবাসী ও ঈশ্বরদীবাসীর পক্ষে মিলন চৌধুরী’র ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন।

ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি আসাদুর রহমান বীরুর সভাপতিত্বে ও  দৈনিক উত্তর জনতার সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ববি সরদারের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হক মোল্লা, পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল হামিদ, সাঁড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুর রশিদ, লেখক ও কলামিস্ট মোশাররফ হোসেন মুসা, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তৌহিদ আক্তার পান্না, যুবলীগ নেতা  ইমতিয়াজ চৌধুরী মিলন ও উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি মফিকুল ইসলাম মুকুল।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন