অভিযোগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অভিযোগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদী মৎস্য খামারে মালামাল চুরি: পুলিশের হাত থেকে কর্মচারীকে ছাড়ানোর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদন:  ঈশ্বরদী উপজেলা মৎস্য বীজ ও উৎপাদন খামারে সাড়ে চার কোটি টাকার সংস্কারকাজ চলছে। কাজ শুরুর পর থেকেই অনিয়মের নানা অভিযোগ উঠে আসছিল। এবার প্রতিষ্ঠানের সংস্কারকাজের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অর্ধলাখ টাকার মালামাল চুরি করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটিরই পাম্প অপারেটর কেরামত আলীর বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, চুরি করা মালামাল বিক্রির সময় পুলিশ কেরামত আলীকেসহ চারজনকে আটক করে। কিন্তু আটকের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় তাঁরা মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শাম্মী শিরিন ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দীপক কুমারের হস্তক্ষেপে তাঁরা মুক্তি পেয়েছেন। গুরুতর অভিযোগ সত্ত্বেও কেরামত আলীর বিরুদ্ধে একটি কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ ছাড়া কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি স্বপদে বহাল রয়েছেন।

মালামাল হারিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুটি কর্তৃপক্ষকে লিখিত ও মৌখিকভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায়। তবে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় মালামাল ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

খামার সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় গত এপ্রিল মাস থেকে ঈশ্বরদী মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে হ্যাচারি কমপ্লেক্স ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ করছে ‘মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স’ ও ‘এসএ খান করপোরেশন’ নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজের রডসহ অন্যান্য মালামাল দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন কেরামত আলী।

মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে দফায় দফায় রড চুরি হয়। রড বিক্রির সময় পুলিশ পাম্প অপারেটর কেরামত আলী, নির্মাণশ্রমিক ছামাদুল ও ফেরদৌস এবং স্থানীয় ভাঙারি ব্যবসায়ী আব্দুল আলীমকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে এসএ খান করপোরেশনের প্রায় ১৭ হাজার টাকা মূল্যের ১৬ মিলিমিটারের ১২টি এবং মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের আনুমানিক ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ২২টি রড উদ্ধার করা হয়। একটি রড উদ্ধার করা হয় কেরামতের ঘর থেকে। সম্প্রতি আরও প্রায় ৪০ হাজার টাকার ইট হারানোর ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

আটক দুই শ্রমিক ছামাদুল ও ফেরদৌসের ভাষ্য, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চাবি কেরামত আলীর কাছে থাকত। তিনি তাঁদের ডেকে রড কেটে ভাঙারির ভ্যানে তুলতে বলেন। শ্রমিকেরা সে অনুযায়ী কাজ করার সময় পুলিশ এসে সবাইকে আটক করে। পরে কেরামত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জিম্মায় সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মালামাল এখনো থানায় রয়েছে।

ভাঙারি ব্যবসায়ী আব্দুল আলীম জানান, তিনি এগুলো চুরির রড বলে জানতেন না। কেরামত তাঁর কাছে বিক্রি করেছিলেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা তারেক হোসেন ও আবু সাইদ বলেন, চুরির বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও খামার কর্তৃপক্ষ কোনো গুরুত্ব দেয়নি। মালামালও উদ্ধার হয়নি। বাধ্য হয়ে তাঁরা আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা ভাবছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পাম্প অপারেটর কেরামত আলী বলেন, ‘কাজে কড়াকড়ি করায় আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। আমি চুরির সঙ্গে জড়িত নই। মৎস্য কর্মকর্তা শাম্মী শিরিন ও ডিএফও স্যার সুপারিশ করে আমাকে ছাড়িয়ে এনেছেন।’

তবে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোছা. শাম্মী শিরিন সুপারিশ করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ওই খামার তাঁর এখতিয়ারভুক্ত নয় এবং ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। ঈশ্বরদী মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের ব্যবস্থাপক নূরে আলম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

খামারের সদ্য বদলি হওয়া ব্যবস্থাপক রেজাউল ইসলাম বলেন, চুরির ঘটনা সত্যি। তিনি কেরামত আলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না পাওয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পাবনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দীপক কুমার সুপারিশের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি ঘটেনি। সুপারিশের কথা সত্য নয়।’

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, দুই মাস আগে সন্দেহবশত চারজনকে আটক করা হয়েছিল। তবে কর্তৃপক্ষের কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদীতে দোকান থেকে ব্যাটারি চুরি, পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে একটি যৌথ মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ইজিবাইকের ৮১টি ব্যাটারি চুরির ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। ৬ জুলাই, সোমবার রাত ৮টায় উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের বড়ইচারা হাটে অবস্থিত ‘থ্রি স্টার ব্যাটারি হাউজ’ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের তিন মালিক জাকারিয়া সুমন, জামিলুর রহমান সবুজ ও আরিফুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে জামিলুর রহমান সবুজ জানান, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর রাতে থ্রি স্টার ব্যাটারি হাউজের সাটার ভেঙে ইজিবাইকের ৮১টি ব্যাটারি, নগদ টাকা ও সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্কসহ প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়। এ ঘটনায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা করা হয়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মামলার পর দীর্ঘ ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশের কাছ থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা মেলেনি। তদন্ত কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি এবং কোনো আলামতও সংগ্রহ করেননি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়,  ২৮ মে এলাকার ‘জাবির ট্রেডার্স’ নামের আরেকটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। সেখান থেকেও প্রায় দুই লাখ টাকার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরি হয়। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো ঘটনার সঙ্গেই জড়িত কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তা দফায় দফায় বদলি হওয়ার কারণে থ্রি স্টার ব্যাটারি হাউজের চুরির মামলার তদন্তে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ এখন কাজ করছে।

ঈশ্বরদীতে বিদায় অনুষ্ঠানের ঘটনা রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা, বিএনপির প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠান নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর প্রচারণার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দলটির স্থানীয় নেতারা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর এলাকায় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে উপজেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব মইনুল ইসলাম সরদার অভিযোগ করেন, কয়েক দিন আগে উপজেলার ছলিমপুরের জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে ‘দলের বিতর্কিত’ এক ব্যক্তিকে প্রধান অতিথি করায় স্থানীয় মানুষের মনে ক্ষোভ তৈরি হয়। এর জেরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে যায়। কিন্তু এই ঘটনার জন্য একটি পক্ষ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কুৎসা রটাচ্ছে। এমনকি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমেও তাঁর বিরুদ্ধে মানহানিকর প্রচারণা চালানো হয়েছে।

তিনি এই অপপ্রচারের জন্য জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সরদার ও তাঁর অনুসারীদের দায়ী করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, অতীতে ওই নেতা বিএনপিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে ধানের শীষ প্রতীকের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং আওয়ামী লীগের এমপি শামসুর রহমান শরীফ ডিলুকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি ধানের শীষের পরিবর্তে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে অবস্থান নেন। এতে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হন। এরপর থেকেই নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

তাঁরা আরও বলেন, এই পরিস্থিতির মধ্যেই কয়েক দিন আগে জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে সিরাজুল ইসলাম সরদারকে প্রধান অতিথি করা হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকেই সিরাজুল ইসলাম সরদার ও তাঁর অনুসারীরা বিএনপির সিনিয়র নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবকে নিয়ে বিভিন্ন মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য প্রচার করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল আহসান সন্টু সরদার, দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম সুলভ মালিথা, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক মুকুল, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব ওহিদুল ইসলাম, ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আলম প্রামাণিকসহ স্থানীয় নেতারা।

এদিকে বুধবার ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নাম ব্যবহার করে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠান ও বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় বিএনপির সিনিয়র নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবকে দায়ী করে তাঁর বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া হয়। ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন সিরাজুল ইসলাম সরদারের অনুসারী ও বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ফজলুর রহমানসহ স্থানীয় একটি পক্ষ।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম সরদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, সিরাজুল ইসলাম সরদার এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করেন। তবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পরও তাঁকে পাবনা-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কোনো নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা যায়নি। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হন। এরপর থেকেই হাবিবুর রহমান হাবিব ও সিরাজুল ইসলাম সরদারের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়েছে।

ঈশ্বরদীতে কিন্ডারগার্টেনে হামলা, ওড়না পেঁচিয়ে শিক্ষিকাকে মারধর

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে এক শিক্ষার্থীকে শাসন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি কিন্ডারগার্টেনে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় সহকারী শিক্ষক বর্ষা আক্তার সাথীকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় এনে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত ওই শিক্ষককে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর বয়স ২৫ বছর। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও কাউকে আটক করতে পারেনি।

ঘটনাটি বৃহস্পতিবার উপজেলার লক্ষীকুণ্ডা ইউনিয়নের চর কুড়লিয়া গ্রামের ‘সেলিম রেজা আদর্শ বিদ্যানিকেতন’ নামের একটি কিন্ডারগার্টেনে ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মামা উজ্জ্বল মাল ও তাঁর পরিবারের পাঁচ-ছয়জন সদস্য সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে স্কুলে হামলা চালান। উজ্জ্বলের বয়স ৫৫ বছর। এতে সহকারী শিক্ষক বর্ষা আক্তার সাথী ছাড়াও স্কুলের অধ্যক্ষের মা ও বোন আহত হন। তাঁরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্কুলশিক্ষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্কুলে নিয়মিত না আসা ও পড়াশোনায় অমনোযোগী হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধমক দিয়ে শাসন করেন স্কুলের অধ্যক্ষ মো. সেলিম রেজা। এতে ওই শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে যায়।এর কিছুক্ষণ পর বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীর মামা উজ্জ্বল মাল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা স্কুলে এসে অধ্যক্ষকে খুঁজতে থাকেন। তাঁকে না পেয়ে তাঁরা স্কুলের পাশের বাড়িতে থাকা অধ্যক্ষের মা ও বোনকে হুমকি দেন এবং মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে শিক্ষক বর্ষা আক্তার সাথী এগিয়ে এলে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা তাঁর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে রাস্তায় টেনেহিঁচড়ে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন ও অন্য শিক্ষকেরা তাঁকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

স্কুলের অধ্যক্ষ মো. সেলিম রেজা বলেন, স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই উজ্জ্বল মাল বিভিন্নভাবে তাঁদের বিরক্ত করতেন। তাঁর ভাষ্য, ‘ভাগনি নিয়মিত স্কুলে না আসায় আমি তাকে শাসন করে নিয়মিত আসতে বলেছিলাম। কিন্তু বিষয়টি না বুঝেই তাঁরা স্কুলে হামলা চালিয়ে তিনজনকে আহত করেছেন।’ ঘটনার সময় তিনি স্কুলে না থাকায় রক্ষা পেয়েছেন বলেও জানান।

অধ্যক্ষ আরও জানান, আহত শিক্ষক বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। এতে উজ্জ্বল মালসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশাদুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শিক্ষার্থীকে শাসন করাকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।

উজ্জ্বল মালের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

ঈশ্বরদীতে গৃহবধূর গোসলের ভিডিও ধারণ: ব্ল্যাকমেল ও মারধরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীতে এক গৃহবধূর গোসলের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেল, অর্থ আত্মসাৎ ও পরে ওই দম্পতিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের চরমিরকামারী মাথালপাড়া এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত নয়ন মন্ডল ওই এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নয়ন মন্ডল দীর্ঘ দিন ধরে প্রতিবেশী ওই গৃহবধূর গোসলের দৃশ্য গোপনে মোবাইল ফোনে ধারণ করে আসছিলেন। সেসব ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তিনি ওই নারীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন এবং বিভিন্ন সময়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। লোকলজ্জার ভয়ে ওই নারী এতদিন বিষয়টি গোপন রাখলেও মঙ্গলবার বিকেলে নয়ন আবারও ভিডিও করার চেষ্টা করলে দম্পতি তা দেখে ফেলেন।

ভিডিও ধারণের প্রতিবাদ জানাতে ওই গৃহবধূ ও তাঁর স্বামী নয়নের বাড়িতে গেলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, নয়ন ও তাঁর ভাই হৃদয় ওই দম্পতিকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। এই ঘটনার পর লোকচক্ষুর অন্তরালে চরম মানসিক যন্ত্রণায় ভুগে ভুক্তভোগী গৃহবধূ একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

অভিযুক্ত নয়ন মন্ডল স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করলেও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, প্রভাবশালী একটি মহলের রাজনৈতিক চাপে পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে।

সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য হাফিজ খান বলেন, শুরুতে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার কথা ছিল। তবে ঘটনাটি যেহেতু থানা পর্যন্ত গড়িয়েছে, তাই আমরা এখন সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঈশ্বরদীতে মায়ের জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ আইনজীবীর


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে এক আইনজীবীর মায়ের জমি জোরপূর্বক 'সন্ত্রাসী কায়দায়' দখল নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের গোকুলনগরে একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি মো: জামিল আক্তার এলাহী।

সংবাদ সম্মেলনে জামিন আক্তার বলেন, তাঁর বৃদ্ধ মা মোসা: লাইনুন নাহার দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে বিমানবন্দর সড়কের গোকুলনগরের জমি ভোগদখল করে আছেন। সেখানে একটি বাগানবাড়ি করা হয়েছে। এরইমধ্যে স্থানীয় জালজমি জালিয়াতি চক্রের প্ররোচনায় একটি পক্ষ তাঁর মায়ের বাগানবাড়ির সেই জমি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে গত শুক্রবার সকালে তাদের বাগান বাড়ির সীমানা প্রাচীরের তালা ভেঙে সন্ত্রাসী কায়দায় পাঁচ-ছয়জন যুবক লাঠি ও হাসুয়া নিয়ে ভেতরে ঢুকে বাড়ি দখলের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে তিনি সেখানে গেলে ওই যুবকেরা তাকে জীবননাশের হুমকি ও মারবার জন্য তাড়া দিলে তিনি দৌড়ে পালিয়ে জীবন রক্ষা করেন। পরে তিনি তিনি ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা একটি জালিয়াতি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নিরীহ মানুষকে জমিজমা সংক্রান্তে নানা হয়রানি করে আসছেন। চক্রটি মাঝেমধ্যে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের এনে জমির মালিকদের হুমকিধামকি দিচ্ছেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাঁড়ার ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, ইতিপূর্বে বেশ কয়েকজন নিরীহ মানুষ ওই জালিয়াতি চক্রের শিকার হয়েছেন। শহরের বাবুপাড়ার ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, জালিয়াতি চক্রের খপ্পরে পড়ে তাঁর এক আত্মীয় অবর্ননীয় হয়রানির শিকার হয়েছেন। এই চক্রের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার বলেন, ঘটনাটি  জানার পরপরপরই এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে কাউকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তিনি তদন্ত করছেন।
স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন