নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীতে এক গৃহবধূর গোসলের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেল, অর্থ আত্মসাৎ ও পরে ওই দম্পতিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের চরমিরকামারী মাথালপাড়া এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত নয়ন মন্ডল ওই এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নয়ন মন্ডল দীর্ঘ দিন ধরে প্রতিবেশী ওই গৃহবধূর গোসলের দৃশ্য গোপনে মোবাইল ফোনে ধারণ করে আসছিলেন। সেসব ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তিনি ওই নারীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন এবং বিভিন্ন সময়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। লোকলজ্জার ভয়ে ওই নারী এতদিন বিষয়টি গোপন রাখলেও মঙ্গলবার বিকেলে নয়ন আবারও ভিডিও করার চেষ্টা করলে দম্পতি তা দেখে ফেলেন।
ভিডিও ধারণের প্রতিবাদ জানাতে ওই গৃহবধূ ও তাঁর স্বামী নয়নের বাড়িতে গেলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, নয়ন ও তাঁর ভাই হৃদয় ওই দম্পতিকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। এই ঘটনার পর লোকচক্ষুর অন্তরালে চরম মানসিক যন্ত্রণায় ভুগে ভুক্তভোগী গৃহবধূ একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অভিযুক্ত নয়ন মন্ডল স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করলেও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, প্রভাবশালী একটি মহলের রাজনৈতিক চাপে পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে।
সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য হাফিজ খান বলেন, শুরুতে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার কথা ছিল। তবে ঘটনাটি যেহেতু থানা পর্যন্ত গড়িয়েছে, তাই আমরা এখন সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


