ঢাকার সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে বিএনপির পাল্টা সংবাদ সম্মেলন


নিজস্ব প্রতিবেদন: ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঈশ্বরদীর বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপি।

রোববার দুপুরে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন আহমেদ মালিথা।

তিনি বলেন, 'ঢাকায় জুবায়ের হোসেন বাপ্পির মাধ্যমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ত্যাগী নেতা মো. জাকারিয়া পিন্টু, মেহেদী হাসান ও তাঁর (মালিথা) বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিশেষ করে জাকারিয়া পিন্টুকে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে—যা চরমভাবে মানহানিকর।' 

সংবাদ সম্মেলনে শামসুদ্দিন মালিথা অভিযোগ করেন, 'এসব অপপ্রচারের নেপথ্যে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলটির জেলা কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। জাকারিয়া পিন্টু যখন পাবনা-৪ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজের নাম ঘোষণা করেন, তখন থেকেই তাকে ঘিরে ষড়যন্ত্র শুরু হয়।; 

পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, 'পদ্মা নদীর পাড়ে বৈধ ইজারাদার ও নেতাকর্মীবান্ধব ব্যক্তি মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র চলছে। তাঁকে ঘিরে ‘কাকন বাহিনী’র পক্ষ নিয়ে অবস্থান নিয়েছেন হাবিবুর রহমান হাবিব। এমনকি সম্প্রতি সেনাবাহিনীর অভিযানে কাকন বাহিনীর সদস্যদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাকে ঘুরিয়ে পিন্টুর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হয়েছে।' 

সংবাদ সম্মেলনে শামসুদ্দিন আহমেদ মালিথাকে 'সন্ত্রাসের গডফাদার'  বলা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ অপমানজনক ও রাজনৈতিকভাবে চরিত্রহননের অপচেষ্টা।

পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকেও ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান জুয়েল।

তিনি আরও বলেন, 'গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জুবায়ের হোসেন বাপ্পি বিএনপির কোনো সাংগঠনিক পদে না থেকেও ত্যাগী নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন। সংবাদ সম্মেলন করে নিজেকে দলের নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন তিনি।' 

এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা ষড়যন্ত্রে জড়িত হাবিবুর রহমান হাবিব, শরীফুল ইসলাম তুহিন ও সুলভ মালিথাসহ সংশ্লিষ্টদের মুখোশ উন্মোচন ও শাস্তির দাবি জানান। সেই সঙ্গে বিএনপির রাজনীতিতে সুষ্ঠু ধারার প্রবাহ বজায় রাখার আহ্বানও জানানো হয়।

পাল্টা এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির প্রবীণ নেতা আহসান হাবিব, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম ফজলুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর দুলাল, বিএনপি নেতা আতাউর রহমান পাতা, আমিনুর রহমান স্বপন, শামসুদ্দোহা পিপ্পু, মো. নান্নু রহমান, ইসলাম হোসেন জুয়েল, কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি, আবু সাঈদ লিটন, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে ঠাকুর জাহাঙ্গীর, সাহাবুদ্দিন সেন্টু, আজিজুর রহমান শাহীন, মামনুর রশিদ নান্টু, মোস্তফা নূরে আলম শ্যামল, মাহমুদ হাসান সোনামনি প্রমুখ।
স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন