নিজস্ব প্রতিবেদক: মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, 'ঢাকায় তার স্বাক্ষর থাকা একটি ফাঁকা চেকের মাধ্যমে প্রায় ৩৯ লাখ টাকার জালিয়াতির মামলা দায়ের হয়েছে।'
শনিবার ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তরিকুল জানান, '২০১৩ সালের ৩ মার্চ তিনি ঢাকার মতিঝিলের কারমো ফোম অ্যান্ড অ্যাডহেসিভ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে যোগদান করেন। প্রথমদিকে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কাজ করেন, পরে বিপণন বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পান। ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর কোম্পানির হিসাব পর্যালোচনা করার সময় দেখা যায়, বাজার থেকে কোম্পানির কাছে তার পাওনা ছিল প্রায় তিন লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা। অন্যদিকে, কোম্পানি থেকে তার ব্যক্তিগত পাওনা ছিল পাঁচ লাখের কাছাকাছি।'
তরিকুল অভিযোগ করেন, 'ওইদিন সন্ধ্যায় কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়ন মফিজুর রহমান বাবুল, পরিচালক মো. আওলাদ হোসেন তুহিন, ভ্রাম্যমাণ বিভাগের কর্মকর্তা মো. ওমর চিশতী ও হিসাবরক্ষক ইয়াসিন মাসুদ মিলে তাকে জোরপূর্বক একটি ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর করান এবং একটি চুক্তিপত্রে সই করানো হয়। এরপর থেকে তাকে অফিসে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়, হাজিরা বন্ধ করা হয় এবং বেতনও দেওয়া হয় না। অন্য কোনো স্থানে কাজ করতে চাইলেও ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে ২০১৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকার মতিঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।'
এক বছর পর, ২০১৬ সালে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার স্বাক্ষর থাকা ফাঁকা চেকে ইচ্ছামতো প্রায় ৩৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা লিখে জালিয়াতির মামলা করেন। তরিকুল অভিযোগ করেছেন, এই মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো।
তিনি জানান, আগে থেকেই জোরপূর্বক নেওয়া ওই চেক নিয়ে থানায় জিডি দিয়েছিলেন এবং সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় দলিল আদালতে জমা দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।
তরিকুল আরও বলেন, দীর্ঘ সময় বেকার থাকার কারণে তিনি মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং এই মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

