নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প এলাকার আশপাশের দুই শতাধিকেরও বেশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে প্রশাসন।
শনিবার রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশপাশে, ঈশ্বরদী-কুষ্টিয়া মহাসড়কের দুই পাশ ও মঙ্গলবার চরসাহাপুর এলাকার গ্রিনসিটি এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবীর কুমার দাশ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদত হোসেন খান, ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রূপপুর মোড় এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি দখল করে মুদি দোকান, হোটেল, চায়ের দোকান, সেলুন, কাঁচাবাজারসহ অবৈধভাবে ২৬৭ দোকানপাট ও স্থাপনা গড়ে তোলা হয়। রূপপুর প্রকল্পের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় অবৈধ এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ইউএনও সুবীর কুমার দাশ বলেন, ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের একটি মেগা প্রকল্প। এ প্রকল্পের নিরাপত্তায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে রূপপুর প্রকল্পের পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় অবৈধভাবে দোকানপাট বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন স্থানীয় কয়েকজন। সড়ক ও জনপথ বিভাগ একাধিকবার নোটিশ দিলেও ব্যবসায়ীরা দোকান সরিয়ে নেননি। এ কারণে উচ্ছেদ পরিচালনা করা হয়েছে।’
ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কের রূপপুর প্রকল্প এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দুই শতাধিকেরও বেশি দোকানপাটের কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। এতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। দু-দিন আগ থেকে দোকানপাট উচ্ছেদে দোকানিদের সতর্ক করা হয়েছে। এরপর ভেকু দিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
‘উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসন চাই, পরীক্ষার আগে উচ্ছেদ নয়’
নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসন চাই, পরীক্ষার আগে উচ্ছেদ নয়’ এ দাবিতে পাবনার ঈশ্বরদীর বিভাগীয় রেল শহর পাকশীতে পাঁচ শতাধিক ভূমিহীন ও দরিদ্র পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে পাকশীর এম এস কলোনি চত্বরে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে কলোনির বসবাসরত পরিবার, তাদের সন্তান ও এলাকাবাসী উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসন ও তাদের সন্তানদের পরীক্ষার পরে উচ্ছেদের দাবি জানান।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পাকশী রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর আলম। উপস্থিত ছিলেন—কলোনির মনিরুজ্জামান টুটুল সরদার, পাকশী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ফাতেমা আক্তার পলি ও মনোয়ার হোসেন লিটন, কলোনির বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বাবু, মাজহারুর ইসলাম, আনোয়ার হোসেন বুলবুল, হাবিবুর রহমান বাবর প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পাকশীর এসব পুরোনো কোয়ার্টারে তাঁরা দীর্ঘ পঁচিশ বছর ধরে বসবাস করছেন। বর্তমানে কলোনির ৯টি ভবনে ১০৮টি পরিবারের বসবাস। জনসংখ্যা পাঁচ শতাধিক। এখনকার প্রায় দুইশো ছেলে-মেয়ে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে লেখাপড়া করছে। নভেম্বরে স্কুলপর্যায়ে চূড়ান্ত ও আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত হবে উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা। এসব শিক্ষার্থীরা যখন পরীক্ষার জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেই মুহূর্তে পাকশী রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ব্যানারে গত ১৭ জুলাই মাইকিং করা উচ্ছেদের জন্য।
পরবর্তীতে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার তাদের দাবির প্রেক্ষিতে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় বর্ধিত করেন। ইতিমধ্যে ৩১ তারিখ অতিবাহিত হয়েছে। তারা এখন পরিবার পরিজন নিয়ে উচ্ছেদ আতঙ্কে আছেন।
কলোনির বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বাবু জানান, তাঁদের বাসস্থানের কোনো জায়গা নেই। তার দুই ছেলে মেয়ে লেখাপড়া করছে। হঠাৎ উচ্ছেদের চূড়ান্ত নোটিশ পেয়ে তিনি এখন দিশেহারা। কী হবে তার ছেলেমেয়ের লেখাপড়া!
ওই কলোনির আরেক বাসিন্দা সাহাব উদ্দিন লাবলু উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে রেলের পুরোনো এসব কোয়ার্টারে বসবাস করছি। আমাদের কোনো বাড়িঘর নেই। উচ্ছেদ করলে আমরা কোথায় যাব?’
এ বিষয়ে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার শাহ্ সূফি নূর মোহাম্মদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এমএস কলোনির কোয়ার্টারে দখলদারের কোনো বৈধতা নেই। তাদেরকে কোয়ার্টারের বাসাবাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা শুনছেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘রেলওয়েতে নিয়োগ পাওয়া নতুন কর্মচারীদের ওই কোয়ার্টারে রাখা হবে। আমরা মানবিকতা দেখিয়ে এই মুহূর্তে মাত্র দুটি ভবন ছেড়ে দিতে বলেছি। কিন্তু তারা তাও মানতে নারাজ।’
ওই আদেশের প্রেক্ষিতে পাকশী রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা তো বলছি না কোয়ার্টার ছেড়ে দেব না। আমরা শুধু উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসন ও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য সময় চাচ্ছি। এতে আমাদের অপরাধ কোথায় বলুন?’


