বালু লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বালু লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে বালু মহাল দখল: কাকন বাহিনীর গুলিতে যুবক আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে বালু মহাল দখল নিতে গিয়ে আবারও গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে ‘কাকন বাহিনীর’ বিরুদ্ধে। এতে সোহান হোসেন (২৮) নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শনিবার সকালে উপজেলার সাঁড়াঘাট ও ইসলামপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ সোহান উপেজলার মাজদিয়া চৌধুরীপাড়া গ্রামের সাহাবউদ্দিন মোল্লার ছেলে। তাঁকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

স্থানীয়রা জানান, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, ভেড়ামারা, নাটোরের লালপুর ও ঈশ্বরদী এলাকার বালু মহাল দখলে রাখতে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র প্রভাব বিস্তার করছে পদ্মার চরের কুখ্যাত পান্না বাহিনীর নেতা কাকন আলী ওরফে ইঞ্জিনিয়ারের লোকজন। সাঁড়াঘাট এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে না আসায় সম্প্রতি সেখানে একাধিকবার গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ৫ জুনও একইভাবে গুলি চালানো হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতেই আজ শনিবার সকালে কাকন বাহিনী আবারও স্পিডবোট আর নৌকা নিয়ে এসে গুলি চালায়। 

গুলিবিদ্ধ সোহান বলেন, ‘আমি গরুর জন্য ঘাস কাটছিলাম। হঠাৎ করে একটি স্পিডবোট ও নৌকা থেকে গুলি ছোড়া শুরু হয়। আমি একটু ওপরে উঠে দেখার চেষ্টা করলে গুলি এসে হাতে লাগে।’

এ ঘটনার পর ঘাট এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। একজন যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জেনেছি। তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করে তদন্ত শুরু করেছি।’

সাঁড়াঘাটের ইজারাদার মেহেদী হাসান ও টনি বিশ্বাস বলেন, ‘কাকন বাহিনী নিয়মিত আমাদের কাছে চাঁদা দাবি করে। রাজি না হলে সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে শুধু ব্যবসা নয়, কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অথচ প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে পারছে না।’

কাকন আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

ঈশ্বরদীতে বালুমহাল দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৭


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর বালুমহাল দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন দাশুড়িয়া ইউনিয়নের পূর্ব নওদাপাড়া গ্রামের সেলিম হোসেন (৪৫), পাকশীর রূপপুর বিবিসি বাজার এলাকার চপল সরদার (২৭), চররূপপুরের রেজাউল হক ওরফে লালু, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার শওকত ইসলাম, গোলাপনগর বাঙালপাড়ার রিপন হোসেন ও ফকিরাবাদ গ্রামের মো. সানাউল্লাহ। গুরুতর আহত সেলিম হোসেনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈশ্বরদীর সাঁড়া এলাকার পদ্মা নদীতে বালু ব্যবসার আধিপত্যকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার মো. কাকন ও ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সুলতান আলী টনি বিশ্বাসের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বুধবার উভয়পক্ষ পদ্মার চরে মহড়া দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে কাকনের অনুসারীরা কয়েকটি ট্রলারে করে এসে চরের বালুমহাল দখলের চেষ্টা করলে টনি বিশ্বাসের লোকজন তাদের প্রতিরোধ করে। এরপরই উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

টনি বিশ্বাস বলেন, ‘আমি বৈধভাবে ইজারা নিয়ে বালুর খাজনা আদায় করছি। প্রতিপক্ষ কাকনের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে এতে বাধা দিয়ে আসছে। আজ সকালে তারা হঠাৎ করে ট্রলারে করে এসে হামলা চালায় ও গুলি ছোড়ে। আমার অন্তত ১০-১২ জন লোক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭ জন গুলিবিদ্ধ।’ তিনি জানান, এ ঘটনায় তিনি আইনি পদক্ষেপ নেবেন।

অপরদিকে, কাকনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ পুলিশের ওসি ইমরান মাহমুদ জানান,  ‘এ ঘটনায় ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘মূলত বালুর ইজারা ও খাজনা আদায় নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ থেকে এ সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এখনো কোনো পক্ষ অভিযোগ দেয়নি।’

বালু-মাটি লুটের প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলার চররূপপুর এলাকায় ব্যক্তিগত জমি থেকে জোরপূর্বক বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী খালেক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

শনিবার দুপুরে চররূপপুরের জিসান হৃদ স্কুল সংলগ্ন সড়কে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগী জমির মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, চররূপপুর মৌজার একাধিক ব্যক্তির ব্যক্তিগত জমি থেকে জোর করে বালু ও মাটি তোলা হচ্ছে। এতে একদিকে জমির মালিকেরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে পরিবেশও হুমকির মুখে।

বক্তারা ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ব্যক্তিগত জমি থেকে অবৈধভাবে বালু-মাটি উত্তোলন বন্ধ করা, এ কাজে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনা, লুট করা অর্থ ও সম্পদ উদ্ধার করে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বণ্টন করা, উত্তোলন করা বালু সরকারি বিধি অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বন্দোবস্ত করা ও রাস্তার দুই পাশে ও মসজিদের সামনে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক শাহানুজ্জামান সেনা, আব্দুল মান্নান, জান্নাতুল ফেরদৌসসহ অনেকেই।

এ বিষয়ে অভিযোগের মুখোমুখি খালেক বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি কারও ব্যক্তিগত জমি থেকে জোর করে বালু বা মাটি তুলি না। এলাকার কিছু মানুষ আমার সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে এসব মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে।’

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুবীর কুমার দাশ বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা সরেজমিনে তদন্ত করব। কারো ব্যক্তিগত জমিতে জোর করে বালু বা মাটি উত্তোলন করার কোনো অধিকার নেই। প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন