হার্ডিঞ্জ ব্রিজ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

পাবনা-ঢাকা সরাসরি ট্রেন থামবে ঈশ্বরদী জংশনে, চালু নভেম্বরের শেষে


নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা থেকে সরাসরি ঢাকায় চালু হতে যাওয়া আন্তনগর ট্রেনটি ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে। আগামী নভেম্বরের শেষার্ধে ট্রেনটি চালুর আশা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ ছাড়া পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পাশে আরও একটি রেলসেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

বৃহস্পতিবার রাতে পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা পরিদর্শনকালে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

রেলপথ সচিব বলেন, পাবনা-ঢাকা সরাসরি ট্রেন পাবনার মানুষের একটি আবেগের জায়গা। সম্প্রতি ভারত থেকে আসা ১৮টি কোচ গ্রহণ করা হয়েছে, যা বর্তমানে সৈয়দপুর ক্যারেজ ওয়ার্কশপে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ কিছু প্রক্রিয়া ও ভারতীয় প্রকৌশলীদের প্রাথমিক কাজ শেষ হলে আগামী নভেম্বরের শেষার্ধে এই রুট চালু করা সম্ভব হবে। ঢাকা-পাবনা-ঢাকা রুটে চলাচলকারী এই ট্রেনে ১২টি কোচ থাকবে।

ট্রেনের যাত্রাবিরতি ও গতিপথ নিয়ে তিনি বলেন, ট্রেনটি ঈশ্বরদী স্টেশনে সাময়িকভাবে থামানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। মাঝগ্রাম থেকে ইঞ্জিন ঘুরিয়ে ট্রেন পরিচালনা করার মধ্যে কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে ঈশ্বরদীতে প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা থাকায় সেখান থেকে ইঞ্জিন পরিবর্তন করে পরিচালনা করা সুবিধাজনক হবে। এতে কিছুটা সময় বেশি লাগলেও নিরাপত্তা ও পরিচালনাগত স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ঈশ্বরদী হয়েই ট্রেনটি চালানো হবে।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পাশে নতুন সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে সচিব বলেন, ১৯১৫ সালে নির্মিত হার্ডিঞ্জ ব্রিজের মেয়াদ পার হলেও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের কারণে এটি এখনো সচল রয়েছে। তবে পঞ্চগড় থেকে রাজশাহী হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের যে পরিকল্পনা রয়েছে, তা বাস্তবায়নে বর্তমান সেতুটি পর্যাপ্ত নয়। তাই পাশে আরেকটি রেলসেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে নকশা ও স্থান নির্ধারণের কাজ শেষ হয়েছে; অর্থায়ন নিশ্চিত হলেই নির্মাণকাজ শুরু হবে।

পরিদর্শনকালে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ নাজিব কায়সার এবং বিভাগীয় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট রেজওয়ান উর রহমানসহ রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঈশ্বরদীতে পদ্মার পানি কমলেও বিপৎসীমার কাছাকাছি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ও ভাঙন আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে পদ্মার পানি কমতে শুরু করলেও পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার মাত্র ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা ও ফসলের জমিতে পানি প্রবেশ করায় কৃষক ও গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের রাত কাটছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাকশী ও লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নে প্রায় ৫ হেক্টর করে মুলা ও গাজরের খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া আওতাপাড়া গ্রামের পেঁপে ও কলাবাগানসহ প্রায় ৭৫ হেক্টর জমির ফসলে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

এদিকে উপজেলার সাঁড়া ও পাকশী এলাকায় পদ্মার বাঁধ উপচে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে সাঁড়া ও সাহাপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সাঁড়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরবর্তী ইসলামপাড়া ও সাঁড়া ঘাটসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় উঁচু সড়ক অতিক্রম করে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন তীরবর্তী বাসিন্দারা। কোথাও কোথাও বসতবাড়ির আঙিনাও ভাঙনের কবলে পড়েছে। স্থানীয় লোকজন বাঁশের খুঁটি ও বেড়া দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।

সাঁড়ার আরামবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা জিল্লুর রহমান বলেন, পদ্মার পানি বাড়তে থাকায় আরামবাড়িয়া, কোমরপুর, বাদলীর মোড়, মাজদিয়া ও ইসলামপাড়ার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। নদী কখন বাড়িঘর গ্রাস করে নেয়—এমন আশঙ্কায় অনেকেই নদীর পাড়ে অবস্থান করছেন।

সাহাপুর গ্রামের কৃষক আমিরুল সরদার বলেন, বন্যার পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বর্তমানে পদ্মার পানি কিছুটা কমতে দেখা গেলেও ফসলের ক্ষতি নিয়ে কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল, কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত এবং পদ্মার প্রবল স্রোতের কারণে নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। গত রোববার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে ১৩ দশমিক ০৫ মিটার উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হওয়ার রেকর্ড করা হয়েছে। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমার মাত্রা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার মাত্র ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহমেদ জানান, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে গত বৃহস্পতিবার পানির উচ্চতা ছিল ১২ দশমিক ৮৮ মিটার। শুক্রবার তা বেড়ে ১৩ দশমিক ০২ মিটার, শনিবার ১৩ দশমিক ০৬ মিটার এবং রোববার ১৩ দশমিক ০৫ মিটারে পৌঁছায়।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মমিন বলেন, সাহাপুর, পাকশী, সাঁড়া ও লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের বিভিন্ন ফসলি জমিতে ইতিমধ্যে বন্যার পানি ঢুকেছে। পানি আরও বাড়লে শীতকালীন সবজি, আগাম জাতের শাকসবজি ও বিভিন্ন ফলের আবাদে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেহাব উদ্দিন জানান, ঈশ্বরদীর নিচু এলাকাগুলো ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি ইউনিয়নের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি হালনাগাদ করা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসাম মোহাম্মদ সোয়াইব বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হার্ডিঞ্জ সেতুর পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কা: নদীতে পড়ে ছাত্রদল নেতা নিখোঁজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় হার্ডিঞ্জ সেতুর পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কায় পদ্মা নদীতে পড়ে ছাত্রদলের এক নেতা নিখোঁজ হয়েছেন। আজ শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার রাত নয়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। একই দুর্ঘটনায় নদীতে পড়া অন্য দুজনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজ ব্যক্তির নাম রাকিবুজ্জামান রকি (৩২)। তিনি ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব।

উপজেলা প্রশাসন ও নৌভ্রমণে আসা যাত্রীদের সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের শৈলকুপার কাতলাগাড়ি এলাকা থেকে ১২৩ জনের একটি দল বাল্কহেডে করে নৌভ্রমণে বের হয়। ভেড়ামারার গোলাপনগর এলাকা ঘুরে ফেরার পথে রাত নয়টার দিকে হার্ডিঞ্জ সেতু এলাকায় পৌঁছায় তারা। একপর্যায়ে তীব্র স্রোতে বাল্কহেডটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর চার নম্বর পিলারে ধাক্কা দেয়। এতে তিন যাত্রী নদীর পানিতে পড়ে যান।

পরে অন্য যাত্রীরা লিটন ও ওহাব নামের দুজনকে উদ্ধার করে তীরে তোলেন। তাঁরা সুস্থ আছেন। তবে রাকিবুজ্জামান এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনার পর ঈশ্বরদী ও ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং নৌ পুলিশ উদ্ধারকাজ শুরু করে।

রাকিবুজ্জামানের বন্ধু আনিসুজ্জামান বলেন, রাকিবুজ্জামান যখন নৌকা থেকে পড়ে যান, তখন তাঁকে ধরতে গিয়েও ধরা সম্ভব হয়নি। তিনি সাঁতারে দক্ষ ও শক্তিশালী যুবক। আশা করা হচ্ছে, তিনি ফিরে আসবেন।

রাকিবুজ্জামানকে উদ্ধারে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসসহ বেশ কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে বলে জানান ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান।

রাতে উদ্ধারকাজ কিছুটা কঠিন ছিল জানিয়ে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিরুল আরাফাত প্রথম আলোকে বলেন, রাকিবুজ্জামানকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

পাকশী জোড়া সেতুতে সুরের মূর্ছনায় শরৎ বন্দনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর নদীর ধারে কাশবনের মৃদু দোলা—প্রকৃতিতে এখন শরৎকালের রাজত্ব। যান্ত্রিক ও ব্যস্ত শহরের ভিড় ঠেলে এই স্নিগ্ধ ঋতুকে বরণ করে নিতে ঈশ্বরদীর ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতু (জোড়া সেতু) প্রাঙ্গণে বসেছিল সুরের আসর। সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘কলের গান’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বর্ণিল শরৎ বরণ উৎসব মুগ্ধ করেছে সংস্কৃতিপ্রেমীদের।

চলতি মৌসুমে মেঘ-বৃষ্টির লুকোচুরি শেষ হতেই প্রকৃতি সেজেছে নতুন সাজে। নদীর কিনারায় ও খোলা প্রান্তরজুড়ে উঁকি দিচ্ছে গুচ্ছ গুচ্ছ কাশফুল। এমন মোহনীয় প্রাকৃতিক পরিবেশকে উদ্‌যাপন করতেই ব্যতিক্রমী এই আয়োজন করে ‘কলের গান’।

শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন ‘কলের গান’-এর নিজস্ব শিল্পীরা এবং রাজশাহী বেতার থেকে আমন্ত্রিত বিশেষ শিল্পীবৃন্দ। তাদের কণ্ঠে শরতের গান ও সুরের পসরা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ প্রাঙ্গণের চারপাশকে এক অন্যরকম মায়াবী রূপ দেয়।

অনুষ্ঠানের পেছনের ভাবনা সম্পর্কে ‘কলের গান’-এর পরিচালক ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের কণ্ঠশিল্পী মানিক মণ্ডল বলেন, ‘ব্যস্ত নাগরিক জীবনে আমরা আমাদের উৎসব আর ঋতু বৈচিত্র্যকে হারাতে বসেছি। ‘কলের গান’ সবসময় এ দেশের শেকড় ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে কাজ করে। শরতের এই শুভ্রতা মানুষের মনের সব কালিমা দূর করে পারস্পরিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিক—এটাই আমাদের বড় প্রত্যাশা।’

ঈশ্বরদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজে বেড়াতে গিয়ে মোটরসাইকেল চুরি, থানায় অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর ঐতিহাসিক পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে গিয়ে এক ব্যক্তির মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। 

থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল কলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শামীম হোসেন (৪০) শুক্রবার বিকেলে ব্যক্তিগত কাজে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। কাজ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে স্ত্রী মোছা. বিপাশা খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় ঘুরতে যান। শামীম হোসেন তাঁর ব্যবহৃত নীল রঙের মোটরসাইকেলটি ব্রিজের নিচে রেখে স্ত্রীকে নিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেন। সন্ধ্যা সাতটার দিকে ফিরে এসে দেখেন, সেটি আর সেখানে নেই। ধারণা করা হচ্ছে, ওই অল্প সময়ের মধ্যেই অজ্ঞাত কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্র গাড়িটি চুরি করে নিয়ে গেছে।

ভুক্তভোগী শামীম হোসেন জানান, অল্প সময়ের জন্য মোটরসাইকেলটি রেখে তাঁরা ঘুরতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে সেটি না পেয়ে আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর করেন এবং স্থানীয়দের কাছেও জানতে চান। কিন্তু কোনো সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, চুরির লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের পাশাপাশি এ চক্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদীতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে মিলল অজ্ঞাত লাশ

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ থেকে পড়ে এক অজ্ঞাতনামা নারীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে খুলনা থেকে ঢাকাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ব্রিজ পার হওয়ার সময়। লক্ষীকুণ্ডা নৌ-পুলিশ ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে।

ব্রিজের নিচে থাকা কয়েকজন দোকানদার জানান, ট্রেনটি ব্রিজ অতিক্রম করার সময় হঠাৎ ওই নারী নিচে পড়ে যান। পড়ে গিয়েই তাঁর মৃত্যু হয়। 

স্থানীয়রা জানান, নারীটিকে ভিক্ষুক বা অসহায় বলে মনে হয়েছে।

লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ওসি এমরান মাহমুদ তুহিন বলেন, 'স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছি, ওই নারী হয়তো মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। বোতল কুড়িয়ে এই এলাকায়ই ঘোরাফেরা করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি চুপিচুপি ব্রিজে উঠে পড়েছিলেন। ট্রেনের ধাক্কায় নিচে পড়ে গিয়ে মারা যান।'

তিনি আরও জানায়, 'অজ্ঞাত নারীর বয়স আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ বছর। মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাঁর পরিচয় জানা যায়নি।'

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন