ছাত্রদল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ছাত্রদল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

হার্ডিঞ্জ সেতুর পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কা: নদীতে পড়ে ছাত্রদল নেতা নিখোঁজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় হার্ডিঞ্জ সেতুর পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কায় পদ্মা নদীতে পড়ে ছাত্রদলের এক নেতা নিখোঁজ হয়েছেন। আজ শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার রাত নয়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। একই দুর্ঘটনায় নদীতে পড়া অন্য দুজনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজ ব্যক্তির নাম রাকিবুজ্জামান রকি (৩২)। তিনি ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব।

উপজেলা প্রশাসন ও নৌভ্রমণে আসা যাত্রীদের সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের শৈলকুপার কাতলাগাড়ি এলাকা থেকে ১২৩ জনের একটি দল বাল্কহেডে করে নৌভ্রমণে বের হয়। ভেড়ামারার গোলাপনগর এলাকা ঘুরে ফেরার পথে রাত নয়টার দিকে হার্ডিঞ্জ সেতু এলাকায় পৌঁছায় তারা। একপর্যায়ে তীব্র স্রোতে বাল্কহেডটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর চার নম্বর পিলারে ধাক্কা দেয়। এতে তিন যাত্রী নদীর পানিতে পড়ে যান।

পরে অন্য যাত্রীরা লিটন ও ওহাব নামের দুজনকে উদ্ধার করে তীরে তোলেন। তাঁরা সুস্থ আছেন। তবে রাকিবুজ্জামান এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনার পর ঈশ্বরদী ও ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং নৌ পুলিশ উদ্ধারকাজ শুরু করে।

রাকিবুজ্জামানের বন্ধু আনিসুজ্জামান বলেন, রাকিবুজ্জামান যখন নৌকা থেকে পড়ে যান, তখন তাঁকে ধরতে গিয়েও ধরা সম্ভব হয়নি। তিনি সাঁতারে দক্ষ ও শক্তিশালী যুবক। আশা করা হচ্ছে, তিনি ফিরে আসবেন।

রাকিবুজ্জামানকে উদ্ধারে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসসহ বেশ কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে বলে জানান ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান।

রাতে উদ্ধারকাজ কিছুটা কঠিন ছিল জানিয়ে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিরুল আরাফাত প্রথম আলোকে বলেন, রাকিবুজ্জামানকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

ঈশ্বরদীতে ট্রেনবহরে হামলার মামলার কারামুক্ত নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলার মিথ্যা মামলায় কারাভোগের পর কারামুক্তির দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। 

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার জয়নগর বোর্ড অফিস মোড়সংলগ্ন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি সংসদ কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হয়।

সলিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের আয়োজনে এবং ছাত্রদল নেতা আল আমিন হোসেনের সার্বিক সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে দুই বছর আগে কারামুক্ত সলিমপুর ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা জানানো হয়।

সংবর্ধিত ব্যক্তিরা হলেন সলিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মুকুল, বিএনপি নেতা আবুল কাশেম, যুবদল নেতা কামাল পারভেজ চাঁদ, বিএনপি নেতা জামিরুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন ও পলাশ মাহমুদ।

ছাত্রদল নেতা আল আমিন হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সলিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মুকুল, যুবদল নেতা রাসেল হোসেন, ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম হোসেন প্রমুখ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য আসাদুল হক আশা, বিএনপি নেতা সানাউল হক প্রামাণিক, সেলিম রেজা, আফজাল হোসেন, নূর সালাম মন্ডল, হযরত আলী ও ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেনসহ ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

অনুষ্ঠান শেষে কারামুক্তির দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে কেক কাটা হয়। একই সঙ্গে মৃত্যুবরণকারী নেতাকর্মীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতার অস্ত্র হাতে মহড়া, গ্রেপ্তারের পর মুক্তি- কার ইশারায়?


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে মাথা ও শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে এবং লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়া সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পীকে (৩৫) আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে তাঁর ব্যবহৃত লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্রটি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


এদিকে বাপ্পীকে ছেড়ে দেওয়ার প্রতিবাদে থানার সামনে মঙ্গলবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেছেন মেহেদী হাসানের অনুসারীরা। সন্ধ্যায় থানার সামনে বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি, পৌর যুবদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সদস্যসচিব মেহেদী হাসান।

এর আগে সোমবার বিকেলে ঈশ্বরদী পৌর শহরের প্রধান সড়কে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অস্ত্র হাতে মহড়া দেন বাপ্পী। তিনি ছাত্রদলের সাবেক নেতা, ঈশ্বরদী পৌরসভার বকুলের মোড় এলাকার বাসিন্দা এবং পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে মাথা ও শরীরে সাদা কাফনের কাপড় জড়িয়ে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বের হন বাপ্পী। পরে তিনি শহরের বিভিন্ন সড়কে অস্ত্র হাতে ঘোরেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে কয়েকজন অনুসারী ছিলেন। প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বাপ্পী ঈশ্বরদী থানায় গিয়ে অস্ত্রটি জমা দেন বলে দাবি করে পুলিশ। এ সময় তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পাবনা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাপ্পীকে আটকের পর সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ডিবি হেফাজতে দেয় ঈশ্বরদী থানা পুলিশ। দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৪টার দিকে তাঁর কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয় ডিবি পুলিশ।’

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে আটকের তথ্য জানান ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার। তখন তিনি ছেড়ে দেওয়ার তথ্য জানাননি। শুধু বলেছেন, ‘তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাবনা জেলা গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

বিকেলে বাপ্পীর বিষয়ে জানতে চাইলে প্রণব বলেন, ‘মুচলেকা নিয়ে বাপ্পীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অস্ত্রটি জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধান শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাপ্পী কেন প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করেছেন, তাঁর অস্ত্রের লাইসেন্সের কোনো শর্ত ভঙ্গ হয়েছে কি না এবং পুরো ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় জড়িত আছে কি না, সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

তবে বাপ্পীর দাবি, তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে হুমকিদাতাদের পাশাপাশি মাদক ও সুদের কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এবং তাঁদের ওপেন চ্যালেঞ্জ অস্ত্র হাতে রাস্তায় নেমেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে বাপ্পী নিজ বাড়ি থেকে শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে ও হাতে লাইসেন্স করা অস্ত্র নিয়ে মহড়া শুরু করেন। ঈশ্বরদী থানার কাছাকাছি পৌঁছালে অপর একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে পাল্টা মহড়া দেয়। এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে রাতে থানায় গিয়ে বাপ্পী তাঁর লাইসেন্স করা অস্ত্রটি জমা দেন। পরে প্রভাবশালী একজন রাজনৈতিক নেতার তদবিরে তাঁকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। কারণ ওই নেতাই তাঁকে শেল্টার দিচ্ছেন বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন।

এদিকে বাপ্পীর অস্ত্র হাতে মহড়ার প্রতিবাদে বিএনপির অপর পক্ষের নেতাকর্মীরা সোমবার রাতে ঈশ্বরদী থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এই পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু। অন্যদিকে হাবিবুর রহমান ফেসবুক লাইভে এসে বাপ্পীর পক্ষে বক্তব্য দেন।


ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকেরা থানার ফটকের সামনে অবস্থান নেন। তাঁরা বিক্ষোভ ও বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে অস্ত্র হাতে মহড়ার প্রতিবাদ জানান। 

বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন বাপ্পী। প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে তিনি পুরো শহরে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন। প্রতিপক্ষকে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যেই তিনি অস্ত্র প্রদর্শন করেছেন।


বাপ্পীর রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে বলেন, ‘বাপ্পী মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে থানায় অস্ত্র জমা দিতে গিয়েছিল। কিন্তু বিষয়টিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে।’

তবে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মাসুদ খন্দকার বলেন, ‘আইন অনুযায়ী প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের কোনো সুযোগ নেই। আমাদের দলের হলেও আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, তাই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সদস্যসচিব মেহেদী হাসান বলেন, ‘বাপ্পী প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে নিয়ে আমাকে হত্যার জন্য বকুলের মোড় থেকে রেলগেটে এসে আমাকে গালাগালি ও হত্যার হুমকি দিয়েছে। আমি এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তাকে গ্রেপ্তার করে তার অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।’

বাপ্পীকে গ্রেপ্তারের দাবি জামায়াতের


পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব মন্ডল ও পাবনা জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য গোলাম রাব্বানী খান জুবায়েরকে নিয়ে অশালীন বক্তব্য প্রদান এবং ঈশ্বরদী শহরে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগে সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঈশ্বরদী উপজেলা শাখা।

মঙ্গলবার বিকেলে শহরের আলহাজ মোড়ে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এই দাবি জানানো হয়।

ঈশ্বরদীতে যুবদল-ছাত্রদলের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ও বৃক্ষরোপণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘মাদকের অন্ধকার নয়, মাঠের আলোই আমাদের শক্তি। মাদকমুক্ত ঈশ্বরদী গড়াই আমাদের অঙ্গীকার—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে  ঈশ্বরদীতে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঈশ্বরদী পৌর স্টেডিয়ামে জাতীয়তাবাদী যুবদল ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মধ্যে এই ম্যাচ আয়োজন করে ঈশ্বরদী ফুটবল একাডেমি।

খেলা শুরুর আগে পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে অতিথিরা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করেন এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম শাহীন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, তরুণ সমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখা এবং মাদক থেকে দূরে সরিয়ে আনতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। এর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম রবি, পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ কে এম সাজেদুজ্জামান জিতু, যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান, আতিকুর রহমান তারা, লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কামাল আখতারুজ্জামান এবং যুবদল নেতা চয়ন সরদার ও রানা আহমেদ শাহীন উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রদল নেতার মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ঈশ্বরদীতে বিক্ষোভ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা চঞ্চল ইসলাম নিবিরের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা হয়েছে। 

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে পাকশী ইউনিয়নের নতুন রূপপুর কড়ইতলা এলাকা থেকে এই প্রতিবাদ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রূপপুর বিবিসি বাজারে গিয়ে পথসভার মাধ্যমে শেষ হয়।

ছাত্রদল নেতা ইসমাইল হোসেন মোহনের সঞ্চালনায় পথসভায় বক্তব্য দেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য নূরুন নবী, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাবুল হক বিশ্বাস, পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক অনিক হাসান, যুবদল নেতা নয়ন রহমান চঞ্চল এবং ছাত্রদল নেতা ইলিয়াস হোসেন ও নাসিম হোসেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য মেহরাব হোসেন, উপজেলা তাঁতি দলের সদস্য হাজী সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক রুমন আহমেদ, সলিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য আশিক হাসান, উপজেলা প্রজন্ম দলের ক্রীড়া সম্পাদক রাহিল, দপ্তর সম্পাদক হাসান, দাশুড়িয়া কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাব্বি বিশ্বাস, যুবদল নেতা মেহেদী হাসান সজীব ও শামিমুর রহমান শামীমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

কর্মসূচির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানবীর হাসান সুমন। 

ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, কার্যালয় ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ছাত্রশিবিরের একটি মিছিল কলেজ ফটকের সামনে পৌঁছালে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষের সময় কয়েকটি হাতে তৈরি বোমা বা ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের দোকানপাট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় ছাত্রদলের একটি অস্থায়ী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সজীব হাসান দাবি করেন, আগে থেকে ঠিক করা কর্মসূচির জন্য তারা কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের অনুমতি নিয়েছিলেন। মিছিলটি কলেজ ফটকের সামনে পৌঁছালে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর ইট-পাটকেল ছোড়ে। তবে কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে, কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি ইমরান হোসেন খান অভিযোগ করে বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বাইরের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে শতাধিক শিবিরকর্মী ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে হামলা চালায় এবং তাদের অস্থায়ী কার্যালয় ভাঙচুর করে।

ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাস ও আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ রাখা হয়েছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুর রহমান বলেন, ঘটনার পর দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের সিটি কলেজে ছাত্রদলের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. ইমরান হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই পথসভায় বক্তব্য দেন পাবনা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি ও ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন, সাধারণ সম্পাদক রিয়ামুল ইসলাম রিয়াম, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সম্রাট হোসেন এবং উপজেলা ছাত্রদল নেতা আল আমিন হোসেন।

সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি মৃদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শ্রাবণ আহমেদ, প্রচার সম্পাদক মাহমুদ হাসান শান্তসহ ছাত্রনেতা তাওহীদ, শাহরিয়ার শান্ত, মো. আপন ইসলাম ও সিয়াম হাসান মারুফ।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল জামায়াত-শিবিরবিরোধী স্লোগান এবং ছাত্রদলের ঐক্যের ডাক।

বক্তারা অভিযোগ করেন, চট্টগ্রামের সিটি কলেজে ছাত্রদলের ওপর হামলার পেছনে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা জড়িত। তাঁরা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর দেশে এমন সহিংসতার কোনো জায়গা নেই।

বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘাতের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। এ ধরনের ঘটনা বন্ধ না হলে কঠোর রাজনৈতিক প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। একই সঙ্গে তাঁরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা সোহাগ হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, জানাজা সম্পন্ন


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা ও উপজেলা জিয়া সাইবার ফোর্সের সদস্য সচিব ইমরান হোসেন সোহাগকে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করেন বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় সাঁড়াগোপালপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ইমরান হোসেন সোহাগের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেলে পৌর শহরের খায়রুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাজারের এক নম্বর গেটে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল, পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসলাম হোসেন জুয়েল ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি। এ সময় ছাত্রদল নেতা নাজমুল হাসান রিশাদ, মাহমুদুল ইসলাম শাওন ও মোস্তাফিজুর রহমান বিটুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ইমরান তাঁর বন্ধুদের নিয়ে সাঁড়া গোপালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের রেললাইনের পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় মুখে কালো কাপড় বেঁধে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান সোহাগ।

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইমরান হোসেন সোহাগ (২৫) নামের এক ছাত্রদল নেতাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে ঈশ্বরদী শহরের সাঁড়া গোপালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ইমরান ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল মন্নবীপাড়া গ্রামের এনামুল হকের ছেলে। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের প্রস্তাবিত কমিটির সদস্যসচিব এবং জিয়া সাইবার ফোর্সের উপজেলা শাখার সদস্যসচিব ছিলেন। এ ছাড়া তিনি গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুর ছোট ভাই মেহেদী হাসানের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে ইমরান তাঁর বন্ধুদের নিয়ে সাঁড়া গোপালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের পাশের একটি চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে প্রতিপক্ষের একদল সশস্ত্র লোক এসে তাঁর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে তারা ইমরানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় হামলাকারীরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নিহতের মাথার একটি অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে গুলি করার পর কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। কারা, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন