ছাত্রদল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ছাত্রদল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

উত্তেজনা-ছাত্রদলের স্মারকলিপির মধ্যেই ঈশ্বরদীতে সম্পন্ন হলো আমির হামজার ওয়াজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে বিপুলসংখ্যক পুলিশের উপস্থিতিতে ঈশ্বরদীতে মুফতি আমির হামজার তাফসিরুল কোরআন মাহফিল হয়েছে। বুধবার রাতে উপজেলার সাহাপুরে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলার সাহাপুরের কদিমপাড়া দারুল কোরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানার উদ্যোগে আয়োজিত এই মাহফিল ঘিরে গত এক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। কদিমপাড়া দারুল কোরআন মাদ্রাসার পরিচালক মাহমুদ হোসেন শাহজাহানের পরিচালনায় মাহফিলে বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন মাওলানা হাফিজুর রহমান জিহাদী ও হাফেজ মাওলানা সোহাইল মাহমুদ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল এবং প্রধান বক্তা হিসেবে ওয়াজ করেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা।

আয়োজকদের ভাষ্য, গত দুই বছর এই মাদ্রাসার উদ্যোগে মুফতি আমির হামজার তাফসির মাহফিল আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও রাজনৈতিক বাধার কারণে তা স্থগিত করা হয়। এ কারণে এবার মাহফিল আয়োজন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়।

এদিকে ওয়াজ মাহফিলে রাজনৈতিক আলোচনা, দলীয় প্রচার ও ব্যক্তিগত আক্রমণ বন্ধের দাবি জানিয়ে মাহফিলের আগে ঈশ্বরদী থানায় একটি স্মারকলিপি দেন স্থানীয় ছাত্রদলের নেতারা। গত ১৭ অক্টোবর দেওয়া ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়, ধর্মীয় আলোচনা ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওয়াজ মাহফিল আয়োজন ইতিবাচক হলেও ধর্মীয় মঞ্চে রাজনৈতিক বক্তব্য বা ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হলে স্থানীয় পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। এ ধরনের বক্তব্য রোধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

মাহফিলের আগে ছাত্রদলের এই স্মারকলিপি প্রদানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ছাত্রদল ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ বলেন, মাহফিল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকায় যেকোনো ধরনের সংঘাত এড়াতে মাঠে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।

মুফতি আমির হামজার ওয়াজে রাজনৈতিক বক্তব্য ও আক্রমণ বন্ধের দাবি ছাত্রদলের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজার ওয়াজ মাহফিলে রাজনৈতিক বক্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণ বন্ধের দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছে স্থানীয় ছাত্রদল। শনিবার বিকেলে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা ইসমাইল হোসেন মহন ঈশ্বরদী থানায় উপস্থিত হয়ে এসংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি জমা দেন। তিনি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জামাল উদ্দিনের হাতে স্মারকলিপিটি তুলে দেন।

আগামী ২১ অক্টোবর উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের কদিমপাড়া দারুল কুরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানার উদ্যোগে বার্ষিক তাফসিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে মুফতি আমির হামজা এবং প্রধান অতিথি হিসেবে পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ধর্মীয় আলোচনা ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন ইতিবাচক হলেও ধর্মীয় মঞ্চ ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য, দলীয় প্রচার বা ব্যক্তিগত আক্রমণ চালানো হলে এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই মাহফিলের বক্তব্য কেবল কোরআন-হাদিসের আলোচনা ও ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে এবং উসকানিমূলক মন্তব্য রোধে প্রশাসনিক নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা ইসমাইল হোসেন মহন বলেন, তাঁরা ওয়াজ মাহফিল বা ধর্মীয় আয়োজনের বিপক্ষে নন, বরং তাঁদের মূল দাবি হলো ধর্মীয় মঞ্চকে রাজনৈতিক প্রচার ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের ঊর্ধ্বে রাখা। অতীতে বিভিন্ন স্থানে ইসলামি মঞ্চে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ঈশ্বরদীর স্বাভাবিক ও শান্ত পরিবেশ বজায় রাখতেই প্রশাসনকে আগেভাগে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ফেসবুকে মন্তব্যের জেরে ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতাকে মারধর, পরে সমঝোতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ফেসবুকে করা মন্তব্যের জেরে মেরিদুল ইসলাম নামের এক ছাত্রদল নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মুঠোফোনের দোকানের মালিক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হলেও পরে সমঝোতার মাধ্যমে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে পৌর শহরের পোস্ট অফিস মোড় এলাকার আরআরপি সেন্টারের তৃতীয় তলায় ‘অ্যাপল জেড’ নামের একটি দোকানে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মেরিদুল ইসলাম ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন অ্যাপল জেডের স্বত্বাধিকারী ইলিয়াস রতন এবং দোকানের কর্মচারী সুবেল ও রাহুল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে ফেসবুকে ওই শোরুমের সেবা নিয়ে একটি মন্তব্য করেছিলেন মেরিদুল ইসলাম। গত মঙ্গলবার তিনি দোকানে মোবাইল কিনতে গেলে বিষয়টি নিয়ে মালিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁরা তাঁকে মারধর করেন। পরে মেরিদুল পুলিশকে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় উভয় পক্ষকে থানায় আনা হয় এবং দোকানের মালিকসহ তিনজনকে হেফাজতে রাখা হয়।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মারধরের অভিযোগে তিনজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পরে দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদীতে জ্বালানি-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির কর্মসূচিতে বাধা!

নিজস্ব প্রতিবেদক: জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ার প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত পথসভা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে বাধা এবং নেতাকর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ঈশ্বরদী বাজারের ১ নম্বর গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এনসিপির ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার নেতাকর্মীরা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার প্রতিবাদে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি হিসেবে তারা শান্তিপূর্ণ পথসভা ও লিফলেট বিতরণ করছিলেন। এ সময় ওমর শেখ শান্ত নামের ছাত্রদলের এক নেতা এসে কর্মসূচিতে বাধা দেন এবং উপস্থিত নেতাকর্মীদের হুমকি দেন। এতে কিছু সময়ের জন্য সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এনসিপির ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সদস্যসচিব সুলতান মাহমুদ বিদ্যুৎ বলেন, ‘জনস্বার্থ ও দেশবাসীর ন্যায্য অধিকারের পক্ষে আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলাম। গণতান্ত্রিক পরিবেশে এই ধরনের বাধা ও হুমকি মেনে নেওয়া যায় না।’ তিনি অবিলম্বে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানান।

অভিযুক্ত ওমর শেখ শান্ত ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি এবং পৌরসভার বকুলের মোড় এলাকার সাইদুল ইসলামের ছেলে। এ বিষয়ে জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহারকারী ওমর শেখ শান্ত বিগত সরকারের সময় ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তৎকালীন সময়ে তাঁর ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার ছবি আমাদের কাছে আছে। বর্তমানে তিনি ঈশ্বরদীতে বিএনপির একটি বলয়ের হয়ে ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে রাজনীতি করছেন।’

অন্যদিকে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু জানান, তিনি ওই কর্মীকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। তবে ধারণা করছেন, তিনি হয়তো সাবেক সভাপতি নয়নের বলয়ের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন।

ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে ছাত্রদলের ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে কলেজ শাখা ছাত্রদল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আমজাদ হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়ামুল ইসলাম রিয়াম, সহসভাপতি ইমরান খান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক মন্ডল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণ আহমেদ ও দপ্তর সম্পাদক রোহান প্রীত।

এ ছাড়া কলেজ ছাত্রদল নেতা ওমর ফারুক বিশ্বাস, আসিফ আলী, মো. সাব্বির হোসেন, মুশফিকুর রহমান, আকাশ ইসলাম, সিয়াম হাসানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

অভিযানে কলেজ ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংসে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।

শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জয়নগরে উপজেলা, কলেজ ও পৌর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এই বিক্ষোভ মিছিল করেন। উপজেলা ছাত্রদল নেতা আল-আমিন হোসেনের নেতৃত্বে মিছিলটি জয়নগর বোর্ডঘর থেকে শুরু হয়ে শিমুলতলা বাজারে গিয়ে পথসভার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা ছাত্রদল নেতা আল-আমিন হোসেন, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি খালিদ বিন পার্থিব, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, পৌর ছাত্রদল নেতা ইঞ্জিনিয়ার আতিকুর রহমান সোহাগ, পাবনা জেলা ছাত্রদলের সদস্য সম্রাট হোসেন, উপজেলা কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর শরীফ হানিফ মহলদার এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ওবাইদুল কাদিম শিশির প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ছাত্রলীগ নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। দলীয় মুখোশ পাল্টে ছাত্রদলের ছদ্মবেশ ধারণ করে কেউ যেন কোনো অপকর্ম করতে না পারে, সেদিকে নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকে প্রতিহত করতে দলীয় নেতা-কর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, গত বৃহস্পতিবার সকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের উপজেলা শাখার সভাপতি মল্লিক মিলন মাহমুদ তন্ময় তাঁর ফেসবুকে একটি ঝটিকা মিছিলের ভিডিও পোস্ট করেন। পুলিশের ধারণা, গত ৫ সেপ্টেম্বর উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মিরকামারী এলাকায় মল্লিক মিলন মাহমুদ তন্ময়ের নেতৃত্বে ওই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।

হার্ডিঞ্জ সেতুর পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কা: নদীতে পড়ে ছাত্রদল নেতা নিখোঁজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় হার্ডিঞ্জ সেতুর পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কায় পদ্মা নদীতে পড়ে ছাত্রদলের এক নেতা নিখোঁজ হয়েছেন। আজ শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার রাত নয়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। একই দুর্ঘটনায় নদীতে পড়া অন্য দুজনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজ ব্যক্তির নাম রাকিবুজ্জামান রকি (৩২)। তিনি ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব।

উপজেলা প্রশাসন ও নৌভ্রমণে আসা যাত্রীদের সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের শৈলকুপার কাতলাগাড়ি এলাকা থেকে ১২৩ জনের একটি দল বাল্কহেডে করে নৌভ্রমণে বের হয়। ভেড়ামারার গোলাপনগর এলাকা ঘুরে ফেরার পথে রাত নয়টার দিকে হার্ডিঞ্জ সেতু এলাকায় পৌঁছায় তারা। একপর্যায়ে তীব্র স্রোতে বাল্কহেডটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর চার নম্বর পিলারে ধাক্কা দেয়। এতে তিন যাত্রী নদীর পানিতে পড়ে যান।

পরে অন্য যাত্রীরা লিটন ও ওহাব নামের দুজনকে উদ্ধার করে তীরে তোলেন। তাঁরা সুস্থ আছেন। তবে রাকিবুজ্জামান এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনার পর ঈশ্বরদী ও ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং নৌ পুলিশ উদ্ধারকাজ শুরু করে।

রাকিবুজ্জামানের বন্ধু আনিসুজ্জামান বলেন, রাকিবুজ্জামান যখন নৌকা থেকে পড়ে যান, তখন তাঁকে ধরতে গিয়েও ধরা সম্ভব হয়নি। তিনি সাঁতারে দক্ষ ও শক্তিশালী যুবক। আশা করা হচ্ছে, তিনি ফিরে আসবেন।

রাকিবুজ্জামানকে উদ্ধারে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসসহ বেশ কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে বলে জানান ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান।

রাতে উদ্ধারকাজ কিছুটা কঠিন ছিল জানিয়ে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিরুল আরাফাত প্রথম আলোকে বলেন, রাকিবুজ্জামানকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

ঈশ্বরদীতে ট্রেনবহরে হামলার মামলার কারামুক্ত নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলার মিথ্যা মামলায় কারাভোগের পর কারামুক্তির দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। 

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার জয়নগর বোর্ড অফিস মোড়সংলগ্ন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি সংসদ কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হয়।

সলিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের আয়োজনে এবং ছাত্রদল নেতা আল আমিন হোসেনের সার্বিক সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে দুই বছর আগে কারামুক্ত সলিমপুর ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা জানানো হয়।

সংবর্ধিত ব্যক্তিরা হলেন সলিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মুকুল, বিএনপি নেতা আবুল কাশেম, যুবদল নেতা কামাল পারভেজ চাঁদ, বিএনপি নেতা জামিরুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন ও পলাশ মাহমুদ।

ছাত্রদল নেতা আল আমিন হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সলিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মুকুল, যুবদল নেতা রাসেল হোসেন, ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম হোসেন প্রমুখ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য আসাদুল হক আশা, বিএনপি নেতা সানাউল হক প্রামাণিক, সেলিম রেজা, আফজাল হোসেন, নূর সালাম মন্ডল, হযরত আলী ও ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেনসহ ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

অনুষ্ঠান শেষে কারামুক্তির দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে কেক কাটা হয়। একই সঙ্গে মৃত্যুবরণকারী নেতাকর্মীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতার অস্ত্র হাতে মহড়া, গ্রেপ্তারের পর মুক্তি- কার ইশারায়?


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে মাথা ও শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে এবং লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়া সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পীকে (৩৫) আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে তাঁর ব্যবহৃত লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্রটি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


এদিকে বাপ্পীকে ছেড়ে দেওয়ার প্রতিবাদে থানার সামনে মঙ্গলবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেছেন মেহেদী হাসানের অনুসারীরা। সন্ধ্যায় থানার সামনে বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি, পৌর যুবদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সদস্যসচিব মেহেদী হাসান।

এর আগে সোমবার বিকেলে ঈশ্বরদী পৌর শহরের প্রধান সড়কে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অস্ত্র হাতে মহড়া দেন বাপ্পী। তিনি ছাত্রদলের সাবেক নেতা, ঈশ্বরদী পৌরসভার বকুলের মোড় এলাকার বাসিন্দা এবং পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে মাথা ও শরীরে সাদা কাফনের কাপড় জড়িয়ে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বের হন বাপ্পী। পরে তিনি শহরের বিভিন্ন সড়কে অস্ত্র হাতে ঘোরেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে কয়েকজন অনুসারী ছিলেন। প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বাপ্পী ঈশ্বরদী থানায় গিয়ে অস্ত্রটি জমা দেন বলে দাবি করে পুলিশ। এ সময় তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পাবনা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাপ্পীকে আটকের পর সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ডিবি হেফাজতে দেয় ঈশ্বরদী থানা পুলিশ। দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৪টার দিকে তাঁর কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয় ডিবি পুলিশ।’

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে আটকের তথ্য জানান ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার। তখন তিনি ছেড়ে দেওয়ার তথ্য জানাননি। শুধু বলেছেন, ‘তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাবনা জেলা গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

বিকেলে বাপ্পীর বিষয়ে জানতে চাইলে প্রণব বলেন, ‘মুচলেকা নিয়ে বাপ্পীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অস্ত্রটি জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধান শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাপ্পী কেন প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করেছেন, তাঁর অস্ত্রের লাইসেন্সের কোনো শর্ত ভঙ্গ হয়েছে কি না এবং পুরো ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় জড়িত আছে কি না, সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

তবে বাপ্পীর দাবি, তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে হুমকিদাতাদের পাশাপাশি মাদক ও সুদের কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এবং তাঁদের ওপেন চ্যালেঞ্জ অস্ত্র হাতে রাস্তায় নেমেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে বাপ্পী নিজ বাড়ি থেকে শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে ও হাতে লাইসেন্স করা অস্ত্র নিয়ে মহড়া শুরু করেন। ঈশ্বরদী থানার কাছাকাছি পৌঁছালে অপর একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে পাল্টা মহড়া দেয়। এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে রাতে থানায় গিয়ে বাপ্পী তাঁর লাইসেন্স করা অস্ত্রটি জমা দেন। পরে প্রভাবশালী একজন রাজনৈতিক নেতার তদবিরে তাঁকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। কারণ ওই নেতাই তাঁকে শেল্টার দিচ্ছেন বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন।

এদিকে বাপ্পীর অস্ত্র হাতে মহড়ার প্রতিবাদে বিএনপির অপর পক্ষের নেতাকর্মীরা সোমবার রাতে ঈশ্বরদী থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এই পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু। অন্যদিকে হাবিবুর রহমান ফেসবুক লাইভে এসে বাপ্পীর পক্ষে বক্তব্য দেন।


ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকেরা থানার ফটকের সামনে অবস্থান নেন। তাঁরা বিক্ষোভ ও বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে অস্ত্র হাতে মহড়ার প্রতিবাদ জানান। 

বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন বাপ্পী। প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে তিনি পুরো শহরে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন। প্রতিপক্ষকে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যেই তিনি অস্ত্র প্রদর্শন করেছেন।


বাপ্পীর রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে বলেন, ‘বাপ্পী মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে থানায় অস্ত্র জমা দিতে গিয়েছিল। কিন্তু বিষয়টিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে।’

তবে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মাসুদ খন্দকার বলেন, ‘আইন অনুযায়ী প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের কোনো সুযোগ নেই। আমাদের দলের হলেও আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, তাই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সদস্যসচিব মেহেদী হাসান বলেন, ‘বাপ্পী প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে নিয়ে আমাকে হত্যার জন্য বকুলের মোড় থেকে রেলগেটে এসে আমাকে গালাগালি ও হত্যার হুমকি দিয়েছে। আমি এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তাকে গ্রেপ্তার করে তার অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।’

বাপ্পীকে গ্রেপ্তারের দাবি জামায়াতের


পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব মন্ডল ও পাবনা জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য গোলাম রাব্বানী খান জুবায়েরকে নিয়ে অশালীন বক্তব্য প্রদান এবং ঈশ্বরদী শহরে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগে সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঈশ্বরদী উপজেলা শাখা।

মঙ্গলবার বিকেলে শহরের আলহাজ মোড়ে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এই দাবি জানানো হয়।

ঈশ্বরদীতে যুবদল-ছাত্রদলের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ও বৃক্ষরোপণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘মাদকের অন্ধকার নয়, মাঠের আলোই আমাদের শক্তি। মাদকমুক্ত ঈশ্বরদী গড়াই আমাদের অঙ্গীকার—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে  ঈশ্বরদীতে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঈশ্বরদী পৌর স্টেডিয়ামে জাতীয়তাবাদী যুবদল ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মধ্যে এই ম্যাচ আয়োজন করে ঈশ্বরদী ফুটবল একাডেমি।

খেলা শুরুর আগে পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে অতিথিরা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করেন এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম শাহীন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, তরুণ সমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখা এবং মাদক থেকে দূরে সরিয়ে আনতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। এর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম রবি, পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ কে এম সাজেদুজ্জামান জিতু, যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান, আতিকুর রহমান তারা, লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কামাল আখতারুজ্জামান এবং যুবদল নেতা চয়ন সরদার ও রানা আহমেদ শাহীন উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রদল নেতার মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ঈশ্বরদীতে বিক্ষোভ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা চঞ্চল ইসলাম নিবিরের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা হয়েছে। 

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে পাকশী ইউনিয়নের নতুন রূপপুর কড়ইতলা এলাকা থেকে এই প্রতিবাদ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রূপপুর বিবিসি বাজারে গিয়ে পথসভার মাধ্যমে শেষ হয়।

ছাত্রদল নেতা ইসমাইল হোসেন মোহনের সঞ্চালনায় পথসভায় বক্তব্য দেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য নূরুন নবী, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাবুল হক বিশ্বাস, পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক অনিক হাসান, যুবদল নেতা নয়ন রহমান চঞ্চল এবং ছাত্রদল নেতা ইলিয়াস হোসেন ও নাসিম হোসেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য মেহরাব হোসেন, উপজেলা তাঁতি দলের সদস্য হাজী সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক রুমন আহমেদ, সলিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য আশিক হাসান, উপজেলা প্রজন্ম দলের ক্রীড়া সম্পাদক রাহিল, দপ্তর সম্পাদক হাসান, দাশুড়িয়া কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাব্বি বিশ্বাস, যুবদল নেতা মেহেদী হাসান সজীব ও শামিমুর রহমান শামীমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

কর্মসূচির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানবীর হাসান সুমন। 

ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, কার্যালয় ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ছাত্রশিবিরের একটি মিছিল কলেজ ফটকের সামনে পৌঁছালে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষের সময় কয়েকটি হাতে তৈরি বোমা বা ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের দোকানপাট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় ছাত্রদলের একটি অস্থায়ী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সজীব হাসান দাবি করেন, আগে থেকে ঠিক করা কর্মসূচির জন্য তারা কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের অনুমতি নিয়েছিলেন। মিছিলটি কলেজ ফটকের সামনে পৌঁছালে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর ইট-পাটকেল ছোড়ে। তবে কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে, কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি ইমরান হোসেন খান অভিযোগ করে বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বাইরের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে শতাধিক শিবিরকর্মী ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে হামলা চালায় এবং তাদের অস্থায়ী কার্যালয় ভাঙচুর করে।

ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাস ও আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ রাখা হয়েছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুর রহমান বলেন, ঘটনার পর দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের সিটি কলেজে ছাত্রদলের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. ইমরান হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই পথসভায় বক্তব্য দেন পাবনা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি ও ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন, সাধারণ সম্পাদক রিয়ামুল ইসলাম রিয়াম, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সম্রাট হোসেন এবং উপজেলা ছাত্রদল নেতা আল আমিন হোসেন।

সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি মৃদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শ্রাবণ আহমেদ, প্রচার সম্পাদক মাহমুদ হাসান শান্তসহ ছাত্রনেতা তাওহীদ, শাহরিয়ার শান্ত, মো. আপন ইসলাম ও সিয়াম হাসান মারুফ।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল জামায়াত-শিবিরবিরোধী স্লোগান এবং ছাত্রদলের ঐক্যের ডাক।

বক্তারা অভিযোগ করেন, চট্টগ্রামের সিটি কলেজে ছাত্রদলের ওপর হামলার পেছনে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা জড়িত। তাঁরা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর দেশে এমন সহিংসতার কোনো জায়গা নেই।

বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘাতের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। এ ধরনের ঘটনা বন্ধ না হলে কঠোর রাজনৈতিক প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। একই সঙ্গে তাঁরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা সোহাগ হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, জানাজা সম্পন্ন


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা ও উপজেলা জিয়া সাইবার ফোর্সের সদস্য সচিব ইমরান হোসেন সোহাগকে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করেন বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় সাঁড়াগোপালপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ইমরান হোসেন সোহাগের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেলে পৌর শহরের খায়রুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাজারের এক নম্বর গেটে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল, পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসলাম হোসেন জুয়েল ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি। এ সময় ছাত্রদল নেতা নাজমুল হাসান রিশাদ, মাহমুদুল ইসলাম শাওন ও মোস্তাফিজুর রহমান বিটুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ইমরান তাঁর বন্ধুদের নিয়ে সাঁড়া গোপালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের রেললাইনের পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় মুখে কালো কাপড় বেঁধে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান সোহাগ।

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইমরান হোসেন সোহাগ (২৫) নামের এক ছাত্রদল নেতাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে ঈশ্বরদী শহরের সাঁড়া গোপালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ইমরান ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল মন্নবীপাড়া গ্রামের এনামুল হকের ছেলে। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের প্রস্তাবিত কমিটির সদস্যসচিব এবং জিয়া সাইবার ফোর্সের উপজেলা শাখার সদস্যসচিব ছিলেন। এ ছাড়া তিনি গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুর ছোট ভাই মেহেদী হাসানের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে ইমরান তাঁর বন্ধুদের নিয়ে সাঁড়া গোপালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের পাশের একটি চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে প্রতিপক্ষের একদল সশস্ত্র লোক এসে তাঁর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে তারা ইমরানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় হামলাকারীরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নিহতের মাথার একটি অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে গুলি করার পর কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। কারা, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন