ছাত্রদল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ছাত্রদল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, কার্যালয় ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ছাত্রশিবিরের একটি মিছিল কলেজ ফটকের সামনে পৌঁছালে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষের সময় কয়েকটি হাতে তৈরি বোমা বা ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের দোকানপাট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় ছাত্রদলের একটি অস্থায়ী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সজীব হাসান দাবি করেন, আগে থেকে ঠিক করা কর্মসূচির জন্য তারা কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের অনুমতি নিয়েছিলেন। মিছিলটি কলেজ ফটকের সামনে পৌঁছালে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর ইট-পাটকেল ছোড়ে। তবে কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে, কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি ইমরান হোসেন খান অভিযোগ করে বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বাইরের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে শতাধিক শিবিরকর্মী ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে হামলা চালায় এবং তাদের অস্থায়ী কার্যালয় ভাঙচুর করে।

ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাস ও আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ রাখা হয়েছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুর রহমান বলেন, ঘটনার পর দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের সিটি কলেজে ছাত্রদলের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. ইমরান হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই পথসভায় বক্তব্য দেন পাবনা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি ও ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন, সাধারণ সম্পাদক রিয়ামুল ইসলাম রিয়াম, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সম্রাট হোসেন এবং উপজেলা ছাত্রদল নেতা আল আমিন হোসেন।

সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি মৃদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শ্রাবণ আহমেদ, প্রচার সম্পাদক মাহমুদ হাসান শান্তসহ ছাত্রনেতা তাওহীদ, শাহরিয়ার শান্ত, মো. আপন ইসলাম ও সিয়াম হাসান মারুফ।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল জামায়াত-শিবিরবিরোধী স্লোগান এবং ছাত্রদলের ঐক্যের ডাক।

বক্তারা অভিযোগ করেন, চট্টগ্রামের সিটি কলেজে ছাত্রদলের ওপর হামলার পেছনে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা জড়িত। তাঁরা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর দেশে এমন সহিংসতার কোনো জায়গা নেই।

বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘাতের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। এ ধরনের ঘটনা বন্ধ না হলে কঠোর রাজনৈতিক প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। একই সঙ্গে তাঁরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা সোহাগ হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, জানাজা সম্পন্ন


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা ও উপজেলা জিয়া সাইবার ফোর্সের সদস্য সচিব ইমরান হোসেন সোহাগকে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করেন বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় সাঁড়াগোপালপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ইমরান হোসেন সোহাগের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেলে পৌর শহরের খায়রুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাজারের এক নম্বর গেটে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল, পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসলাম হোসেন জুয়েল ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি। এ সময় ছাত্রদল নেতা নাজমুল হাসান রিশাদ, মাহমুদুল ইসলাম শাওন ও মোস্তাফিজুর রহমান বিটুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ইমরান তাঁর বন্ধুদের নিয়ে সাঁড়া গোপালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের রেললাইনের পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় মুখে কালো কাপড় বেঁধে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান সোহাগ।

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইমরান হোসেন সোহাগ (২৫) নামের এক ছাত্রদল নেতাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে ঈশ্বরদী শহরের সাঁড়া গোপালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ইমরান ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল মন্নবীপাড়া গ্রামের এনামুল হকের ছেলে। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের প্রস্তাবিত কমিটির সদস্যসচিব এবং জিয়া সাইবার ফোর্সের উপজেলা শাখার সদস্যসচিব ছিলেন। এ ছাড়া তিনি গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুর ছোট ভাই মেহেদী হাসানের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে ইমরান তাঁর বন্ধুদের নিয়ে সাঁড়া গোপালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের পাশের একটি চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে প্রতিপক্ষের একদল সশস্ত্র লোক এসে তাঁর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে তারা ইমরানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় হামলাকারীরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নিহতের মাথার একটি অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে গুলি করার পর কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। কারা, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন