রোসাটম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রোসাটম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রূপপুর প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনায় ঢাকা-মস্কো আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক কাজ এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।

গত ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর রাশিয়া থেকে আসা একটি প্রতিনিধিদল রূপপুর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে এসব বৈঠকে অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’-এর উপমহাপরিচালক আন্দ্রেই পেত্রোভ। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনও উপস্থিত ছিলেন।

সফরকালে প্রকল্প এলাকায় কয়েক দফায় এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনসহ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের চলমান কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ নিয়ে কথা বলেন কর্মকর্তারা। রোসাটমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনা অনেক সন্তোষজনক হয়েছে।

রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে ২০ নভেম্বরের পর: রোসাটম

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আগামী ২০ নভেম্বর থেকে মাসের শেষ নাগাদ বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটম। একই সঙ্গে বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিধি বাড়ানো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।

আজ রোববার রোসাটমের গণমাধ্যম বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সম্প্রতি রাশিয়া সফরকালে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

লিখাচেভ জানান, রূপপুরে উৎপাদন শুরুর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে এ ধরনের বিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণের আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং এ নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ। রূপপুরের প্রথম ইউনিটে উৎপাদন শুরুর সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, ২০ নভেম্বর থেকে নভেম্বরের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং শুরু করেছিল রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ, যা কেন্দ্রটি চালুর ক্ষেত্রে একটি প্রধান মাইলফলক ছিল। এ ছাড়া আগামী বছর দ্বিতীয় ইউনিট চালুর কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, রোসাটমের অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির প্রতিও বাংলাদেশের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিজ্ঞানমন্ত্রী ছোট আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো সম্ভাব্য অন্যান্য প্রস্তাব সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে স্বাক্ষরিত আন্তঃসরকার চুক্তির আওতায় রোসাটম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। কেন্দ্রটিতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট করে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে।

রূপপুরের বিদ্যুৎ গ্রিডে আনতে দ্রুত কাজ চলছে: রোসাটম

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটম। মস্কোয় স্থানীয় সময় শুক্রবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে এক বৈঠকে এ আশ্বাস দেন রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ।

বৈঠকে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কাজের অগ্রগতি এবং প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সীমা নিয়ে আলোচনা হয়।

রোসাটমের মহাপরিচালক জানান, রূপপুরের প্রথম ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর থেকে খুব দ্রুত জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। দেশের বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১১ শতাংশ পূরণ করবে।

বৈঠকে রোসাটমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী বছর থেকে প্রকল্পটির দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিং ও প্রাথমিক স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরু হবে। এ ছাড়া রূপপুর প্রকল্পের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে দেশের পারমাণবিক খাতের সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

আকাশসীমার বাধা পেরিয়ে রূপপুর প্রকল্পের ইউরেনিয়াম আসছে আজ

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের জটিলতা কাটিয়ে রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউরেনিয়াম আজ শুক্রবার দেশে আসছে। বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে করে ইউরেনিয়াম দুপুরের মধ্যে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। শনিবার কঠোর নিরাপত্তায় তা রূপপুরে নেওয়া হবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার ইউরেনিয়াম আসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে উড়োজাহাজের ফ্লাইট বাতিল করা হয়। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি এবং প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পুনঃভরণের জন্য দুটি—মোট নয়টি চালানে ইউরেনিয়াম দেশে আনা হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো সরবরাহ শেষ করার কথা রয়েছে। সব ঠিক থাকলে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের একমাত্র পারমাণবিক কেন্দ্রটি থেকে প্রাথমিকভাবে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহিদুল হাসান বুধবার রাতে জানান, আগের রাত থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষাটি প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ—উভয় স্থান থেকেই পরিচালনা করা হয়। পরীক্ষার সময় নিয়ন্ত্রণ ভালভগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। এগুলোর কার্যক্রম সন্তোষজনক পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রধান নিরাপত্তা ভালভের কার্যক্রম ও প্রতিক্রিয়াও পরীক্ষা করা হয়।

এ সময় ভালভের প্রতিক্রিয়া, খোলা ও বন্ধ হওয়ার কার্যক্রম, সতর্কসংকেত এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরীক্ষা শুরুর আগে ও চলাকালে যোগাযোগব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা ও বিকিরণ নিরাপত্তাসহ সংশ্লিষ্ট সব নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করা হয়। পরবর্তী ধাপে প্রায় ১৮ মেগাপাসকেল চাপে আরও একটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কমিশনিং দল ধাপে ধাপে এগিয়ে প্রতিটি পর্যায় সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা ভালভের ত্রুটির কারণে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময় পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে ত্রুটি মেরামত বা বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর নির্দিষ্ট সময়সীমা তখন জানানো হয়নি।

রূপপুরের প্রথম ইউনিটের ত্রুটি সারিয়ে নিরাপত্তা ভাল্বের পরীক্ষা সফল



নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমে বড় অগ্রগতি হয়েছে। দীর্ঘদিনের আলোচিত সেফটি ভালভের সমস্যা সমাধানের পর ১৬ মেগাপাসকেল উচ্চচাপে প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভের (পিআরওভি) পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই পরীক্ষার সফলতা প্রথম ইউনিটের কমিশনিং প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। গতকাল বুধবার সকালে এই কাজ সম্পন্ন হয় বলে জানিয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহিদুল হাসান পিআরওভি ভালভের সমস্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই পরীক্ষা গতকাল বুধবার রাত পর্যন্ত চলে। প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ—উভয় স্থান থেকেই পরীক্ষাটি পরিচালনা করা হয়। পরীক্ষায় কন্ট্রোল ভালভগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মেইন সেফটি ভালভের কার্যক্রম ও প্রতিক্রিয়াও যাচাই করা হয়। এ সময় ভালভের প্রতিক্রিয়া, খোলা ও বন্ধ হওয়ার কার্যক্রম, অ্যালার্ম এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত পরামিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।

অনুমোদিত পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা শর্ত কঠোরভাবে অনুসরণ করে পরীক্ষাটি পরিচালনা করা হয়। পরীক্ষা শুরুর আগে ও চলাকালে যোগাযোগব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং বিকিরণ নিরাপত্তাসহ সংশ্লিষ্ট সব নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করা হয়।

ড. জাহিদুল হাসান বলেন, পিআরওভি পরীক্ষার সফল সমাপ্তিকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ, রিঅ্যাক্টরের প্রাইমারি সিস্টেমে নিরাপদ চাপ বজায় রাখার সঙ্গে এই ব্যবস্থাটি সরাসরি সম্পৃক্ত।

তিনি আরও বলেন, কমিশনিং কার্যক্রমের পুরো প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পরীক্ষা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, অনুমোদন, ব্রিফিং এবং নিরাপত্তা শর্ত নিশ্চিত হওয়ার পরই পরিচালনা করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়সূচি ঠিক রাখতে গিয়ে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না।

পরবর্তী ধাপে প্রায় ১৮ মেগাপাসকেল চাপে আরেকটি পরীক্ষা খুব শিগগিরই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কমিশনিং দল ধাপে ধাপে এগোচ্ছে এবং প্রতিটি পর্যায় সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করার পর পরবর্তী ধাপে যাওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। এর আগে সেফটি ভালভের ত্রুটির কারণে রূপপুরের বিদ্যুৎ উৎপাদন অনিশ্চয়তায় পড়েছিল।

রাশিয়ার পরমাণু প্রকৌশল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেএসসি এএসই বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালুর লক্ষ্যে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে একটি পাইলট-অপারেটেড রিলিফ ভালভ প্রথম ইউনিটে স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, সেফটি ভালভে ত্রুটির কারণে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময় পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে কবে ত্রুটি মেরামত হবে বা বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে পারেননি তিনি।

দেশে চলমান বৈদ্যুতিক পরিস্থিতিতে রূপপুরের ভালভের বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে জনসাধারণের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য রাশিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে গত ২২ সেপ্টেম্বর রাশিয়া থেকে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল রূপপুরে আসে। তাঁদের এবং দেশীয় বিশেষজ্ঞদের নিরলস প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত ভালভের সমস্যার সমাধান হয়েছে বলে জানান জাহিদুল হাসান।

এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান আজ বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকারী রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান ‘রোসাটম’ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ চলতি বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। চুক্তি ও প্রকল্পের সময়সূচি অনুযায়ী, একাধিক ফ্লাইটের মাধ্যমে এই জ্বালানি পরিবহন করা হবে।

এনপিসিবিএলের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, সাধারণত জ্বালানিবাহী ফ্লাইট বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশে আসে এবং পরদিন শুক্রবার সকালে বিশেষ নিরাপত্তায় তা প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। সে হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার প্রথম চালান ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে আগামীকাল শুক্রবার সড়কপথে ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য তা পৌঁছানোর কথা রয়েছে। 

রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ শেষ: রোসাটম কর্মকর্তা আন্দ্রে তিমোনভ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের পথে গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ অতিক্রম করল বাংলাদেশ।

রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবার্গে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক যুব উৎসবের ‘মিডিয়া স্ট্রিম’ কর্মসূচির একটি অধিবেশনে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক আন্দ্রে তিমোনভ এই তথ্য জানান।

১৬ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে রাশিয়ার ভাবমূর্তি’ শীর্ষক ওই অধিবেশনে তিনি বলেন, বাংলাদেশি অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে চলতি বছর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে রোসাটম। একই সঙ্গে ইউনিটটির কমিশনিং কার্যক্রমও এ গ্রীষ্মে শুরু হয়েছে।

তিমোনভের ভাষ্য, রূপপুর প্রকল্পকে ঘিরে বাংলাদেশে পারমাণবিক শক্তির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এই প্রকল্প দেশের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে দীর্ঘ কয়েক দশকে যে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হতো, বাংলাদেশ তা তুলনামূলক কম সময়ে এগিয়ে নিতে পারবে।

বাংলাদেশে একাধিকবার সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিমোনভ বলেন, দেশটির মানুষ ও প্রকৃতি তাঁকে আকৃষ্ট করেছে। তাঁর দাবি, এক দশক আগেও বাংলাদেশে পারমাণবিক শক্তি নিয়ে আলোচনা খুব একটা বাস্তবসম্মত ছিল না। এখন রূপপুর প্রকল্পের মাধ্যমে দেশটি পারমাণবিক শক্তির ক্ষেত্রে নতুন অবস্থানে পৌঁছেছে।

রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা অবশ্য নতুন নয় বলে উল্লেখ করেন তিমোনভ। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের সূত্রপাত কয়েক দশক আগে, সোভিয়েত ইউনিয়নের সময়ে। দীর্ঘদিনের সেই পরিকল্পনাই এখন বাস্তব রূপ পেয়েছে।

তাঁর মতে, রূপপুর প্রকল্পের লক্ষ্য শুধু দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ নয়। এর মাধ্যমে এমন কিছু আধুনিক প্রযুক্তি ও সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যেসব ক্ষেত্রে বিশ্বের অনেক দেশের কয়েক দশক সময় লেগেছে।

রূপপুর প্রকল্পকে বাংলাদেশের জাতীয় গর্বের অংশ হিসেবেও উল্লেখ করেন রোসাটমের এই কর্মকর্তা। তাঁর ভাষায়, এখানে শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হয়নি; এর সঙ্গে এমন একটি বৃহৎ স্থাপনা গড়ে উঠেছে, যা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ গর্ব করতে পারে।

রোসাটমের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘ফলো ইওর ড্রিম’ স্লোগান নিয়ে গত ১১ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবার্গে আন্তর্জাতিক যুব উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১ লাখ ১৩ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। শেষ পর্যন্ত ১৯১টি দেশের প্রায় ১০ হাজার প্রতিনিধি উৎসবে অংশ নেন। বাংলাদেশ থেকেও প্রায় ৯০ জন প্রতিনিধি এতে যোগ দেন।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র: ওয়াশিংটনে রোসাটমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দ্রুত জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জ্বালানি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতাসহ নানা বিষয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা রোসাটমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে  ২৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে রোসাটম এনার্জি প্রজেক্টস জয়েন্ট-স্টক কোম্পানির মহাপরিচালক আন্দ্রেই রোজদেস্তভিন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় রূপপুর প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, বাকি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও সমন্বয়মূলক পদক্ষেপের ওপর জোর দেওয়া হয়।

বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পের অবশিষ্ট কার্যক্রম দ্রুত ও সঠিকভাবে শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় রোসাটম প্রতিনিধি আন্দ্রেই রোজদেস্তভিন প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি মন্ত্রীকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার, প্রযুক্তিগত সহায়তা, দক্ষ জনবল তৈরি এবং জ্বালানি খাতের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন