রাশিয়া লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রাশিয়া লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ শেষ: রোসাটম কর্মকর্তা আন্দ্রে তিমোনভ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের পথে গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ অতিক্রম করল বাংলাদেশ।

রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবার্গে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক যুব উৎসবের ‘মিডিয়া স্ট্রিম’ কর্মসূচির একটি অধিবেশনে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক আন্দ্রে তিমোনভ এই তথ্য জানান।

১৬ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে রাশিয়ার ভাবমূর্তি’ শীর্ষক ওই অধিবেশনে তিনি বলেন, বাংলাদেশি অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে চলতি বছর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে রোসাটম। একই সঙ্গে ইউনিটটির কমিশনিং কার্যক্রমও এ গ্রীষ্মে শুরু হয়েছে।

তিমোনভের ভাষ্য, রূপপুর প্রকল্পকে ঘিরে বাংলাদেশে পারমাণবিক শক্তির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এই প্রকল্প দেশের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে দীর্ঘ কয়েক দশকে যে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হতো, বাংলাদেশ তা তুলনামূলক কম সময়ে এগিয়ে নিতে পারবে।

বাংলাদেশে একাধিকবার সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিমোনভ বলেন, দেশটির মানুষ ও প্রকৃতি তাঁকে আকৃষ্ট করেছে। তাঁর দাবি, এক দশক আগেও বাংলাদেশে পারমাণবিক শক্তি নিয়ে আলোচনা খুব একটা বাস্তবসম্মত ছিল না। এখন রূপপুর প্রকল্পের মাধ্যমে দেশটি পারমাণবিক শক্তির ক্ষেত্রে নতুন অবস্থানে পৌঁছেছে।

রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা অবশ্য নতুন নয় বলে উল্লেখ করেন তিমোনভ। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের সূত্রপাত কয়েক দশক আগে, সোভিয়েত ইউনিয়নের সময়ে। দীর্ঘদিনের সেই পরিকল্পনাই এখন বাস্তব রূপ পেয়েছে।

তাঁর মতে, রূপপুর প্রকল্পের লক্ষ্য শুধু দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ নয়। এর মাধ্যমে এমন কিছু আধুনিক প্রযুক্তি ও সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যেসব ক্ষেত্রে বিশ্বের অনেক দেশের কয়েক দশক সময় লেগেছে।

রূপপুর প্রকল্পকে বাংলাদেশের জাতীয় গর্বের অংশ হিসেবেও উল্লেখ করেন রোসাটমের এই কর্মকর্তা। তাঁর ভাষায়, এখানে শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হয়নি; এর সঙ্গে এমন একটি বৃহৎ স্থাপনা গড়ে উঠেছে, যা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ গর্ব করতে পারে।

রোসাটমের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘ফলো ইওর ড্রিম’ স্লোগান নিয়ে গত ১১ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবার্গে আন্তর্জাতিক যুব উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১ লাখ ১৩ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। শেষ পর্যন্ত ১৯১টি দেশের প্রায় ১০ হাজার প্রতিনিধি উৎসবে অংশ নেন। বাংলাদেশ থেকেও প্রায় ৯০ জন প্রতিনিধি এতে যোগ দেন।

রূপপুর প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের তাগিদ বাংলাদেশ ও রাশিয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ ও রাশিয়া। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৭০তম সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ বিষয়ে একমত পোষণ করে দুই পক্ষ।

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। অন্যদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রূপপুর প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড বজায় রেখে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী। জবাবে রোসাটমের মহাপরিচালক প্রকল্পের নিরবচ্ছিন্ন প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বৈঠক শেষে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে উভয় নেতা শুভেচ্ছা স্মারক বিনিময় করেন।

পাবিপ্রবিতে বাংলাদেশ-রাশিয়া সাংস্কৃতিক চা আড্ডা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) বাংলাদেশ ও রাশিয়ার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘ব্রিজিং বর্ডার্স: বাংলাদেশ ও রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তির চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক চা আড্ডা হয়েছে।

রোববার পাবিপ্রবির কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাশিয়া থেকে আগত ২০ জন শিক্ষার্থীসহ পাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। দুই দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে পাবিপ্রবি এবং ঈশ্বরদীর পারমাণবিক তথ্যকেন্দ্র যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে। মো. আশিক হায়দার ও মো. আহসান হাবিবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথিদের পরিচয় এবং কার্যক্রমের রূপরেখা তুলে ধরা হয়।

প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মো. শামীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান এবং জেএসসি অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রতিনিধি আনাস্তাসিয়া বাজেনোভা। বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শামীম রেজা অনুষ্ঠানে সহসভাপতিত্ব করেন।

বক্তারা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিনিময়, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এরপর ভাষা বিনিময় পর্বে শিক্ষার্থীরা একে অপরের ভাষা ও সংস্কৃতির নানা দিক নিয়ে অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।

আলোচনা পর্বে দুই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, পারমাণবিক শক্তি এবং সংশ্লিষ্ট খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় হয়। চা-চক্রের আড্ডায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের দৈনন্দিন জীবন ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের তরুণদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন