বাণিজ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বাণিজ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৬ দিন বন্ধের পর সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি শুরু


সোনামসজিদ স্থলবন্দর
সোনামসজিদ স্থলবন্দর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। ছবিঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে টানা ছয়দিন বন্ধ থাকার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা আলিমুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত ৯ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত এই বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার সকাল থেকে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যথারীতি বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সকাল থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে ভারতীয় ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করছে বলেও জানান স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা আলিমুজ্জামান।

দুই মাসের প্রশিক্ষণে কর্মসংস্থানে চার হাজারের বেশি তরুণ-তরুণী

নিজস্ব প্রতিবেদক: খুচরা বিক্রয় বিষয়ে মাত্র দুই মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে সাড়ে চার হাজারের বেশি বেকার বা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি চাকরি পেয়েছেন বাটা, অ্যাপেক্স, স্বপ্ন, মীনা বাজার, আর্টিসানসহ নামকরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে।

এ সাফল্যকে উদযাপন করতে বুধবার (২২ নভেম্বর) ব্র্যাকের স্কিলস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এসডিপি) আয়োজন করেছে ‘তরুণদের জন্য খুচরা খাতে (রিটেইল সেক্টর) সফল ক্যারিয়ার’ শীর্ষক অনুষ্ঠান।

বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সম্ভাবনাময় খাতগুলোর মধ্যে খুচরা খাত অন্যতম। দেশের ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ এ খাতে কর্মরত রয়েছেন। এ খাতে তরুণদের দক্ষ করে তুলতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেটে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে ব্র্যাক।

অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ পাওয়া ৭ ব্যক্তি তুলে ধরেন তাদের জীবন বদলে যাওয়ার গল্প। এছাড়া প্রশিক্ষিতদের চাকরি ও শিক্ষানবিশ হিসাবে কাজের সুযোগ দেওয়ার জন্য ১০টি প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননাসূচক ক্রেস্ট দেয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, মিনিসো, মীনা বাজার, আর্টিসান আউটফিটার্স লিমিটেড, বাটা, আমানা বিগ বাজার, ইউনিমার্ট, স্বপ্ন, স্বদেশ পল্লী, মিরর। তবে এ উদ্যোগের সঙ্গে ছিল ১৫০টিরও বেশি বেসরকারি খাতের অংশীদার। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ)-এর চেয়ারপারসন ও অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আবদুস সামাদ, সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আলফাজ হোসেন এবং জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য (সমন্বয় ও অ্যাসেসমেন্ট) ও যুগ্ম সচিব আলিফ রুদাবা।

ব্র্যাকের এডুকেশন, স্কিলস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের পরিচালক সাফি রহমান খানের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এতে সমাপনী বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর তাসমিয়া রহমান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন।

‘প্রোগ্রেসিং দ্যা রিটেইল সেক্টর বাই ইম্প্রুভিং ডিসেন্ট এমপ্লয়মেন্ট’শীর্ষক এ প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে আইকেইএ ফাউন্ডেশন ও ইউবিএস অপ্টিমাস ফাউন্ডেশন। 

এটি বাংলাদেশের প্রথম খুচরা বিক্রয় প্রশিক্ষণ মডিউল, যা সরকারের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এতে গত তিন বছরে প্রশিক্ষণ পেয়েছে ৫,৪০০ জন, যাদের ৬০শতাংশ নারী এবং ৬ শতাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। প্রশিক্ষিতদের ১২০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি লিম্ব সাপোর্টসহ সহায়ক ডিভাইস পেয়েছেন।

রাজনৈতিক সহিংসতা নয়, স্থিতিশীলতা চান ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অর্জন করা কঠিন। অর্থনীতিকে সচল রাখতে সহিংস কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে চলমান ৪৮ ঘণ্টার হরতালের পর আবারও যদি নতুন করে হরতাল-অবরোধ দেওয়া হলে, প্রতিবাদ করবেন বলে জানান ব্যবসায়ী নেতারা ।

১৯ নভেম্বর রোববার রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত এফবিসিসিআই কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ব্যবসায়ী নেতারা।

দেশের বিরাজমান বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জেলা, উইমেন ও মেট্রোপলিটন চেম্বারগুলোর নেতাদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

সংগঠনটির সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দেশের শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, পণ্য উৎপাদন, রপ্তানি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখা কঠিন হবে। অর্থনীতিকে সচল রাখার স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোকে সহিংস কর্মসূচি থেকে বিরত থাকতে হবে। দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় কোন ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা চান না।

মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে হরতাল, অবরোধ, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুরসহ যেকোনো সহিংস রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থানের কথা জানান বিভিন্ন জেলা চেম্বারের নেতৃবৃন্দ।

যেকোনো সহিংস কর্মসূচিতে সবার আগে ক্ষয়-ক্ষতির সম্মুখীন হন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা, এমন দাবি করে সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এবং এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি খায়রুল হুদা চপল বলেন, আমরা হরতাল, অবরোধ চাই না। চলমান ৪৮ ঘণ্টার হরতালের পর আবারও যদি নতুন করে হরতাল বা অবরোধ দেওয়া হলে, এর প্রতিবাদে এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্বে সারাদেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

গাজীপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এবং এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত সরকার বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছু মহল ধ্বংসাত্মক কর্মসূচির পথ বেছে নিয়েছে। যা অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি। সারা দেশের জেলা চেম্বারগুলোকে সঙ্গে নিয়ে এফবিসিসিআইকে এসব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাই।
অতীতে সব সংকটে ব্যবসায়ীরা চ্যালেঞ্জ নিয়ে দেশের অর্থনীতিকে আজ একটি শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করিয়েছেন। এবারও ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে হয়ে চলমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন বলে জানান এফবিসিসিআইয়ের আরেক সহ-সভাপতি মো. মুনির হোসেন।

মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান ও সাবেক পরিচালকবৃন্দ, সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, রংপুর উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, পটুয়াখালী উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ঢাকা উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, জয়পুরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিসহ অন্যান্য চেম্বারের নেতারা।

মামলা আতঙ্কে শ্রমিকরা নিরাপত্তা শঙ্কায় মালিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাভারের আশুলিয়া এলাকার হলিউড পোশাক কারখানায় কাজ করেন মো. শান্ত। শ্রমিক আন্দোলনের জেরে কয়েক দিন ধরেই বন্ধ রয়েছে তার কারখানা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটির দিকে তাকিয়ে রয়েছে তার পরিবারের অন্য সদস্যরা। তবে আয়ের অবলম্বন কারখানাটি এখনো খোলেনি। ১২ নভেম্বর রোববার সকালেও কারখানার সামনে এসে তালা দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে এই শ্রমিককে। তিনি বলেন, ‘দুই দিন ধইরা আইসা নোটিশ দেইখা ফিরে গেছি। আমরা কাজের মানুষ ভাই, বইসা থাকতে পারি না, বইসা থাকলে আমার পরিবাররে খাওয়াইবো কে?’ মধ্যবয়সী এই শ্রমিক আরও বলেন, ‘কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে এভাবে বন্ধ রাখলে সমাধান হবে না, হেলপারদের বেতন আমরা মাইনা নিছি, এখন অপারেটরদের বেতনটা একটু সমাধান করলেই হয়।’

তার মতো কয়েক লাখ শ্রমিক এখন এমন হতাশার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। তাদের কারখানা কবে খুলবে কেউই তা জানে না। যদিও শিল্প পুলিশের তথ্য বলছে, সাভার-আশুলিয়া এলাকায় বন্ধ থাকা ১৩০টি কারখানার মধ্যে খুলে দেয়া হয়েছে ৭০টি। তবে সেসব কারখানায় শ্রমিক উপস্থিতিও সন্তোষজনক নয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

সাধারণ শ্রমিকরা যখন চিন্তিত তাদের পরিবারের জন্য খাবার জোগাতে তখন নতুন দুশ্চিন্তার নাম অজ্ঞাতনামে মামলা। একাধিক শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত না থাকার পরও মামলা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আশুলিয়া এলাকার একজন শ্রমিক জানান, যারা ইউনিয়ন করেন তাদের পাশাপাশি সাধারণ শ্রমিকরাও এখন চরম আতঙ্কে রয়েছেন। ‘অনেক শ্রমিক এহন রুমে থাকতেও ভয় পাচ্ছে’ জানিয়ে তিনি বলেন, নিরীহ শ্রমিকদের কোনোভাবেই হয়রানি করা ঠিক হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ আশুলিয়া থানায় ৭-৮টা মামলা হয়েছে, এসব মামলায় আসামিও অজ্ঞাত, এহন কন কেমনে চিন্তা না কইরা থাকুম।’

আশুলিয়া এলাকার শ্রমিক কিসমত মিয়া জানান, এলাকাটিতে এখন এক প্রকার চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। ‘প্রায় ফ্যাক্টরি বন্ধ রয়েছে, মালিকরা ১৩ ধারায় বন্ধ কইরা দিছে।’ আন্দোলন হলে মালিকরা কীভাবে কারখানা খুলবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যত লোকসান সব ভাই আমাগো, এহন কারখানা বন্ধ থাকলে এই আইনে কোনো বেতন পামু না, তাতে কেমনে আমগো সংসার চলবে সেই চিন্তা করতাছি।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক শ্রমিক জানান, হেলপারদের বেতন বাড়ানোর সঙ্গে মিল নেই অপারেটরদের। এটা নিয়েই অসন্তোষ চলছে। ‘একজন অপারেটর এমনিতেই ১৩-১৪ হাজার টাকা বেতন পায়, এহন কইতেছে হেলপার পাইব সাড়ে ১২ হাজার, তাইলে সেই অনুযায়ী অপারেটরদের বাড়ানো উচিত, হেইডা তো বাড়াইব না। খালি হেলপারদের বেতন বাড়াইয়া একটা আইওয়াশ করতেছে, একটা লাইনে মাত্র দুই-তিনজন হেলপার থাকে।’

এমন পরিস্থিতির মধ্যেও গতকাল খুলেছে সাভার এলাকার বেশ কিছু কারখানা। আশুলিয়া শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার জানান, ৭০টি কারখানা খুলে দেয়া হয়েছে। নিরাপত্তার শঙ্কায় মালিকরা ১১ নভেম্বর শনিবার ১৩০টি কারখানা বন্ধ করেছিলেন বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বন্ধ কারখানাগুলোর সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি বিজিবিসহ অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।’

জামগড়া, বেরন, ছয়তলা ও নরসিংহপুর এলাকায় কারখানাগুলোতে ছিল বন্ধের নোটিশ। এ সময় কর্মস্থলের সামনে এসে অনেক শ্রমিককে বিষণ্ন মনে ফেরত যেতে দেখা যায়। কারখানার সামনে নোটিশে লেখা রয়েছে ‘মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বহিরাগত পোশাকশ্রমিকদের বে-আইনিভাবে কারখানার ভেতর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে কারখানা ভাঙচুর ও কারখানার কাজ বন্ধ রাখাসহ কর্মস্থলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করায় কারখানার উৎপাদন কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এমতাবস্থায় কারখানা কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা মোতাবেক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হলো।’

সাভার প্রতিনিধি ইমতিয়াজ-উল-ইসলাম জানান, সাভার কিংবা আশুলিয়া এলাকায় তেমন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে এখন পর্যন্ত আশুলিয়া থানায় ১২টি মামলা হয়েছে বলে তিনি জানান। মামলায় প্রায় তিন হাজার জনকে আসামি করার পাশাপাশি গেপ্তার হয়েছে মোট পাঁচজন। আর এ জন্যই শ্রমিকরা আতঙ্কে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে গাজীপুরের তুসুকা গ্রুপের কারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা করেছে কর্তৃপক্ষ। ১১ নভেম্বর শনিবার রাতে কোনাবাড়ী থানায় ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে এই মামলায়। কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করেন তুসুকা গ্রুপের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু সাঈদ। গতকাল দুপুরে মামলার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম আশরাফ উদ্দিন।

কোনাবাড়ী এলাকার অধিকাংশ কারখানা বন্ধ থাকলেও সকাল থেকে গাজীপুরের কোথাও শ্রমিক অসন্তোষের খবর পাওয়া যায়নি। কয়েক দিনের তুলনায় পরিবেশও রয়েছে বেশ শান্ত। জানা গেছে, গতকাল সদর উপজেলার গোল্ডেন রিফিউ নামক একটি কারখানায় শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বসে থাকলে বেলা ১১টার দিকে ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। তবে শ্রমিকরা কোনো হট্টগোল না করেই কারখানা থেকে বের হয়ে যান। গাজীপুরেও কঠোর নজরদারি রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

এদিকে আশুলিয়া ছাড়া সাভারের অন্যান্য এলাকায় গতকাল খোলা হয়েছে বেশির ভাগ কারখানা। কালিয়াকৈর, নন্দনপার্ক এলাকার কারখানাগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ওই এলাকার ইন্টারস্টপ অ্যাপারেল কারখানার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের মালিকরা আন্দোলন নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন, তবে কোনোভাবেই যাতে কোনো হট্টগোল না হয়, সেদিকে কঠোর নজর রয়েছে আমাদের।’ তিনি আরও জানান, দুই দিন বন্ধ থাকার পর এখন পুরোদমে চলছে তাদের উৎপাদন। ওই এলাকার ৫০টির অধিক কারখানায় শান্তিপূর্ণভাবে উৎপাদন চলছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত আরেক শ্রমিক মারা গেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার মধ্যরাতে মারা যান তিনি। নিহত শ্রমিকের নাম মো. জালাল উদ্দিন, তার বয়স ৪০ বছর। জানা গেছে, গত বুধবার সকালে কোনাবাড়ী এলাকায় বিক্ষোভরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে পোশাকশ্রমিক আঞ্জুয়ারা খাতুন গুরুতর আহত হন। পরে তিনিও মারা যান।

পুরো পরিস্থিতি নিয়ে শ্রমিক নেতা ও বাংলাদেশ পোশাকশ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ন্যূনতম মজুরি কাঠামো নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে যে অসন্তোষ রয়েছে, তা নিয়ে যা হচ্ছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত। মালিকদের উচিত সব পক্ষের শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে বসে সমাধান বের করা। তবে তা না করে পুলিশ দিয়ে ধরপাকড় করে সমস্যার সমাধান হবে না বলেও মত দেন তিনি এবং বলেন, এখন পর্যন্ত চারজন শ্রমিক অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে মৃত্যুবরণ করেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা শুধু ন্যূনতম মজুরি পুনর্বিবেচনার দাবি করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঘোষণা দেয়ার ১৪ দিন পর্যন্ত টাকার অঙ্ক পরিবর্তন করার বিধান রয়েছে। আমরা এখনো আশাবাদী সরকার শ্রমিকদের দিকে তাকিয়ে কিছুটা হলেও মজুরি বাড়াবেন’।

‘আকাশ ছুঁয়েছে’ সবজির দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: সারা দেশে শরৎকালের শেষের দিকের বৃষ্টিতে ফসলের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাজধানী ঢাকার কাঁচাবাজারগুলোতে সবজির দাম আকাশছোঁয়া। ১৩ অক্টোবর  শুক্রবার প্রতি কেজি সবজির দাম ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। 

ঢাকার সবজি সরবরাহের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী ও পাইকারি বিক্রেতারা জানান, আগাম জাতের শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। তবে সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে সবজি খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এর ফলে ঢাকা, নরসিংদী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, বগুড়া, যশোর ও কুষ্টিয়ার আশপাশের সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থান থেকে রাজধানীতে বেশিরভাগ সবজি সরবরাহ করা হয়। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী শুক্কুর আলী জানান, তার দোকানে সাধারণত ৬ থেকে ৭টি সবজি বোঝাই ট্রাক আসে। সেখান থেকেই প্রতিদিন খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের পর সবজি বোঝাই ট্রাকের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ থেকে ৪টিতে। সরবরাহের এ ঘাটতির কারণে পাইকারি ও খুচরা বাজারে দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ১৩ অক্টোবর শুক্রবার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজি, মাছ, ব্রয়লার মুরগি ও ডিম বেশি বিক্রি হচ্ছে। এ অবস্থায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে এখনও পর্যাপ্ত সবজি আসেনি, যার কারণে দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে এই দাম কমে যাবে। প্রতি কেজি বেগুন ১২০ টাকা, লম্বা বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকায়, শিম প্রতি কেজি ২০০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সরকারের ইলিশ ধরা নিষিদ্ধের খবরে মাছের দাম কেজিতে ৪০ থেকে ৮০ টাকা বেড়েছে। অন্যান্য মাছের মধ্যে- পুটি প্রতি কেজি ৪০০ টাকা, জীবন্ত পুঁটি ৫০০ টাকা কেজি, খলিসা ৪০০ টাকা কেজি, চাপিলা ৫০০ টাকা কেজি, চাষের কই ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি, ফলি চান্দা (রূপচাদা) ১৪০০ টাকা কেজি, চান্দা ছোট ৪০০ টাকা কেজি, শোল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, বাইম ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি, মেনি ৫০০ টাকা কেজি, বোয়াল ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি।

কাইট্টা মাছ ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি, কোরাল মাছ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি, নদীর পাঙ্গাস ৭০০ টাকা কেজি, চাষ করা পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি, রাজপুটি ৪৫০ টাকা কেজি।

তেলাপিয়া কেজি ২৪০ টাকা, রুহিত ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি, মাঝারি সাইজের কার্প (কাতল) প্রতি কেজি ৩০০-৩২০ টাকা, বড় সাইজের কাতল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি, স্থানীয় জাতের শিং মাছ প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, কোরাল ৬০০ টাকা কেজি, গলদা চিংড়ি ৮০০-১০০০ টাকা কেজি এবং চিংড়ি ৫০০-৬০০ টাকা কেজি।

গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা, মাটন ১১৫০ থেকে ১১৮০ টাকায়। মাঝারি আকারের দেশি মোরগ বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং মুরগি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম (ফার্ম) প্রতি ডজন ১৬০ টাকা, ডিম (স্থানীয়) ৭০ টাকা এবং ডিম (হাঁস) ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি জোড়া কবুতর বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়।

সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স এল সেপ্টেম্বরে

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে বড় ধস নেমেছে সদ্যসমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত ৪১ মাসের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন প্রবাসী আয়। দেশের চলমান ডলার সংকটের মধ্যে রেমিট্যান্সের এই ধসকে অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের দুঃসংবাদ ভাবছেন অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, সদ্য শেষ হওয়া মাসে দেশের বাইরে থেকে প্রবাসীরা বৈধ পথে মোট রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, যা তার ঠিক আগের মাস অর্থাৎ আগস্টে ছিল প্রায় ১৬০ কোটি ডলার। এক মাসের ব্যবধানে প্রবাসী আয় কমেছে প্রায় ২৫ কোটি ডলার। এ ছাড়াও আগের বছর অর্থাৎ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে মোট প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছিল ১৫৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের গত ৪১ মাসের তথ্য বলছে, গত মাসেই সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

করোনা মহামারির একেবারে শুরুর দিকে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও কর্মহীনতার কারণে রেমিট্যান্সে তলানিতে নেমে আসে। ২০২০ সালে এপ্রিলে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ১০৯ কোটি ২৯ লাখ ডলার। যদিও ওই মহামারিতে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যু বাড়লেও থেমে থাকেনি রেমিট্যান্স প্রবাহ। তবে বর্তমানে যখন নিত্যপণ্যের দাম বাড়াসহ অর্থনৈতিক সংকটের জন্য ডলার সংকটকে দায়ী করা হচ্ছে ঠিক এমন সময়ে রেমিট্যান্স কমে যাওয়াকে আশঙ্কার চোখে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন রেমিট্যান্স নিয়ে। তিনি বলেছিলেন, রেমিট্যান্স বাড়াতে পারলে চাপ কমবে রিজার্ভে। পাশাপাশি কেটে যাবে অর্থনৈতিক সংকট। তবে সদ্য শেষ হওয়া সেপ্টেম্বর মাসের প্রবাসী আয় তার মুখে হাসি ফোটাতে পারেনি।

অর্থমন্ত্রী অবশ্য সেদিন আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, যে পরিমাণ কর্মী বিদেশে যাচ্ছে সেই হিসাবে রেমিট্যান্স বাড়ছে না বরং কমছে। এ জন্য তিনি দেশের স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদদের কাছে রেমিট্যান্স বাড়াতে পরামর্শও চেয়েছিলেন। কদিন পরেই তার সেই শঙ্কা আরও বাড়ল।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান-বিআইডিএসের সাবেক রিসার্চ ফেলো ওয়াজিদ হাসান শাহর অর্থনীতিবিদ মনে করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলারের দাম বেঁধে দেয়ার ফলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসা কমেছে।

‘আপনি যদি হুন্ডি করে পাঠালে ১২০ টাকা দর পান, তাহলে কেন ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠিয়ে ১০ টাকা কম নেবেন’ প্রশ্ন তোলেন ওয়াজিদ হাসান। এ জন্য তার পরামর্শ- ডলারের দর বাজারের ওপর ছেড়ে দিতে হবে।

তাতে ডলারের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়বে কি না এমন প্রশ্নে তার উত্তর ‘কয়েকদিন হয়তো কিছুটা বাড়বে, তারপর বাজারই ঠিক করবে ডলারের দাম কত হওয়া উচিত।’

এ ছাড়াও রপ্তানির বিপরীতে ডলার ঠিকমতো দেশে আসছে কি না তা নিয়ে তদারকি বাড়ানোর পরামর্শও দেন এই অর্থনীতিবিদ। তবে রেমিট্যান্সে সরকারের দেয়া আড়াই শতাংশ প্রণোদনাকে সাধুবাদ জানান তিনি।

চলতি অর্থবছরের শুরুর মাস জুলাইয়ে অবশ্য রেমিট্যান্স নিয়ে স্বস্তি ছিল। সে মাসে বিশ্বের নানা প্রান্তে থাকা প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন ১৯৭ কোটি ৩১ লাখ ডলার। তবে সে চিত্র পাল্টে যায় পরের মাস থেকেই। আগস্টে রেমিট্যান্স কমে দাঁড়ায় ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। পরের মাস সেপ্টেম্বরে যা আরও কমে দাঁড়াল ১৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলারে।

সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স আনায় শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির মাধ্যমে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩৪ কোটি ১৩ লাখ ডলার। এছাড়া ট্রাস্ট ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১০ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১০ কোটি ৪১ লাখ ডলার।

আর রাষ্ট্র মালিকানাধীন ছয়টি ব্যাংকের মাধ্যমে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১১ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১১৮ কোটি ৪৮ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ কোটি ৫১ লাখ ডলার ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৫০ লাখ ডলার।

তবে সরকারি-বেসরকারি খাতের মোট সাতটি ব্যাংকের মাধ্যমে এ মাসে কোনো রেমিট্যান্স আসতে দেখা যায়নি।

বিশ্ববাজারে এক সপ্তাহে সোনার দাম কমেছে ৮০ ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্ববাজারে সোনার দামে ব্যাপক পতন হয়েছে। এক সপ্তাহেই প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ৮০ ডলার কমে গেছে। বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমার মধ্যে দেশের বাজারেও সোনার দাম কমানো হয়েছে। তবে বিশ্ববাজারে সোনার দাম যে হারে কমেছে, দেশের বাজারে তার তুলনায় খুবই সামান্য পরিমাণ কমেছে।

বিশ্বাবাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে ৭৬ দশমিক ৮০ ডলার। প্রতি ডলার ১১০ টাকা ধরলে বিশ্ববাজারে এক ভরি সোনার দাম কমেছে ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা। বিপরীতে দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমেছে ১ হাজার ২৮৪ টাকা।

অর্থাৎ বিশ্ববাজারে যে হারে দরপতন হয়েছে, দেশের বাজারে তার অর্ধেকও কমানো হয়নি। এতে দেশের বাজারে এবং বিশ্ববাজারের মধ্যে সোনার দামে বড় ধরনের পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববাজারের তুলনায় দেশের বাজারে এক ভরি সোনা ১৬ হাজার টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

দেশের বাজারে সর্বশেষ সোনার দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয় গত ২৮ সেপ্টেম্বর। তার আগে ২৭ সেপ্টেম্বর বৈঠক করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি সোনার দাম নতুন করে নির্ধারণ করে।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ১ হাজার ২৮৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৯ হাজার ৯৬০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ২২৪ টাকা কমিয়ে ৯৫ হাজার ৪১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৯ টাকা কমিয়ে ৮১ হাজার ৭৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ৯৩৩ টাকা কমিয়ে ৬৮ হাজার ১১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে এ দামেই দেশের বাজারে সোনা বিক্রি হচ্ছে।

অবশ্য সোনার গহনা কিনতে ক্রেতাদের এর চেয়ে বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। কারণ বাজুস নির্ধারণ করা দামের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করে সোনার গহনা বিক্রি করা হয়। সেই সঙ্গে ভরিপ্রতি মজুরি ধরা হয় ন্যূনতম ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা। ফলে নতুন দাম অনুযায়ী ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনা কিনতে ক্রেতাদের ১ লাখ ৮ হাজার ৪৫৭ টাকা গুনতে হবে।

বাজুস থেকে যখন দেশের বাজারের জন্য সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়, সে সময় বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ১ হাজার ৯০৩ ডলার। এখন তা কমে ১ হাজার ৮৪৮ ডলারে নেমে গেছে। অর্থাৎ দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর পর বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে ৫৫ ডলার।

বিশ্ববাজারের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসেই সোনার দাম কমেছে। সপ্তাহের শুরুতে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ১ হাজার ৯২৪ দশমিক ৯৯ ডলার। সপ্তাহের ব্যবধানে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ বা ৭৬ দশমিক ৮০ ডলার কমে প্রতি আউন্সের দাম ১ হাজার ৮৪৮ দশমিক ১৯ ডলারে নেমে এসেছে।

হুন্ডি অনলাইন জুয়া- বিকাশ নগদ রকেটের ২২ হাজার অ্যাকাউন্ট বন্ধ

 নিজস্ব প্রতিবেদক:  অনলাইন জুয়া ও হুন্ডির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১ হাজার ৭২৫টি মোবাইল হিসাব (মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস-এমএফএস) বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এ সব হিসাবের বেশির ভাগই বিকাশ, নগদ ও রকেটের। ভবিষ্যতে এ ধরনের লেনদেনে জড়িত না হতে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্কও করা হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।

বিএফআইইউ সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিএফআইইউর পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি বছরের ৯ মাসে ৩৭১টি অনলাইন গেমিং ও বেটিং লেনদেন, অনলাইন ফরেক্স ট্রেডিং সম্পর্কিত ৯১টি লেনদেন ও ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কিত ৪১৩টি লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এ সব তথ্য বিশ্লেষণ করে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর কাছে পাঠানো হচ্ছে।

এ ছাড়া বিএফআইইউ অবৈধ হুন্ডি, গেমিং, বেটিং ও ক্রিপ্টোসংক্রান্ত ৮১৪টি ওয়েবসাইট, ১৫৯টি অ্যাপ ও ৪৪২টি সোশ্যাল মিডিয়া পেজ ও লিংকের তালিকা আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর কাছে পাঠিয়েছে। বিএফআইইউ ২১টি মানি চেঞ্জার এবং তাদের ৩৯টি ব্যাংক হিসাবের তথ্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে পাঠিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মানিলন্ডারিংবিরোধী কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বিএফআইইউ এ সব তথ্য তুলে ধরে। অনুষ্ঠিত সভায় বিএফআইইউ-এর প্রধান কর্মকর্তা মো. মাসুদ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সভায় বিএফআইইউ-এর উপপ্রধান কর্মকর্তা এ এফ এম শাহীনুল ইসলাম, বিএফআইইউ-এর পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম ও মো. আরিফুজ্জামান ও সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান ও উপপ্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণগ্রহণ করে বা নন-ফান্ডেড সুবিধাকে ফান্ডেড সুবিধায় রূপান্তর ও ফোর্সড লোন সৃষ্টি করে বিদেশে অর্থ পাচারসহ বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার, অনলাইন ফরেক্স ট্রেডিং, গেমিং, বেটিং, ডিজিটাল হুন্ডি, ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগসহ বিভিন্ন সমসাময়িক ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়া ওয়েজ আর্নাররা যাতে ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠান সে বিষয়ে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে সচেতনতা বাড়ানোরও তাগিদ দেন।

সভায় বিএফআইইউ-এর প্রধান মাসুদ বিশ্বাস বলেন, দুষ্কৃতকারী ও অর্থ পাচারকারীরা যাতে ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যবহার করে কোনো অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। বিএফআইইউ আর্থিক অপরাধের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাদের পরিপালন ব্যবস্থায় দুর্বলতা পরিলক্ষিত হবে, তাদের বিষয়েই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

‘কেমনে বাইচ্চা আছি, খালি খোদা জানে’

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোর থেকে রিকশা চালিয়ে দুপুরে পরিবারের জন্য বাজার করতে এসেছেন আব্দুর রহিম মিয়া। সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় হাড়ভাঙা পরিশ্রমে তার হাতে এসেছে ৪৩০ টাকা। তা দিয়ে এখন পাঁচজনের সংসারের বাজার করতে হবে। কাঁচাবাজার, পেঁয়াজের বাজারসহ কয়েকটি দোকানে ছোটাছুটি করেও বেশ কিছুক্ষণ কিছু কিনতে পারলেন না। বিষণ্ন মনে জানালেন, ‘এহন কিনতে হইব চাল, আলু, ডাল, ডিম আবার সবজি, আফনেই কন কেমনে কিনি?’ প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে তার জীবনযুদ্ধ শুরু। যদিও সেই কষ্ট ততটা গায়ে লাগে না, যতটা নিত্যপণ্যের দাম শুনলে লাগে।

সংসারে তার স্ত্রী ছাড়াও রয়েছে ছোট দুই মেয়ে আর এক ছেলে। জানালেন, পাঁচজনের সংসারের জন্য খাবার কিনতে বড্ড কষ্ট হয়। তার আক্ষেপ, আগে অন্তত আলু আর ডিম কিনে খাওয়ার উপায় ছিল, এখন তাও নেই। বাসা ভাড়া, খাবার খরচ, বাচ্চাদের পড়াশোনা, চিকিৎসাসহ নানা খরচ কীভাবে সামলান- এমন প্রশ্নে দুশ্চিন্তার সঙ্গে চোখের কোনায় কিছুটা জল তার।

“কেমনে যে বাইচ্চা আছি ভাই, খালি আমার খোদাই জানে’, চাল কিনলে ডাল কেনা যায় না, ডাল কিনলে ডিম কেনা যায় না, এমনে হামাগো বাইচ্চা থাকা, এইডারে জীবন কয় না রে ভাই।”

রহিম মিয়ার কষ্টের কথা শোনার পর বাজারে গিয়ে অতি প্রয়োজনীয় কোনো পণ্যের দাম কমেছে কি না তার খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা গেল সরকারের নানামুখী উদ্যোগ-অভিযান চললেও পরিস্থিতি রয়েছে সেই একই রকম। কয়েক দিন আগে সরকার বাধ্য হয়ে তিনটি পণ্যে দাম নির্ধারণ করে দেয়। যে তিনটি পণ্যই নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য অতি প্রয়োজনীয়। তবে বাজারের ব্যবসায়ীদের কেউই সরকারের বেঁধে দেয়া দামের তোয়াক্কা করছে না। আলুর ক্ষেত্রে সরকারের বেঁধে দেয়া দাম ৩৫ টাকা, রাজধানীর অন্তত পাঁচটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। কোথায় ৪৫ কিংবা ৪৮-এ পাওয়া গেলেও তার মান খানিকটা খারাপ। দেশি পেঁয়াজের ক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ ৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রির কথা বললেও রাজধানীর প্রায় প্রতিটি বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকায়। ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় যেগুলো পাওয়া যায় তা মানসম্মত নয় বলে জানালেন ক্রেতারা।

মহাখালী বাজারে কেনাকাটা করতে এসেছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার তৌহিদুল ইসলাম। বাজার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করতেই ক্ষোভ ঝাড়লেন সরকারের ওপর। ‘কোনো জিনিসের দামে নিয়ন্ত্রণ নাই, সরকার দাম বেঁধে দিয়ে বইসা থাকলে তো দাম কমবে না।’ তিনি জানালেন, ‘মাছ, মাংস, সবজি, ডিম, তেল কোনো কিছুই এখন সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে নেই। একটা সময় গরিব মানুষ পাঙাশ, তেলাপিয়া মাছ কিনতে পারত, এখন এগুলোর দামও অনেক বেশি।’

পেঁয়াজ, আলু কিংবা ডিম কেন সরকারের বেঁধে দেয়া দামে বিক্রি হচ্ছে না- এমন প্রশ্নের উত্তরে মিরপুরের ব্যবসায়ী মো. হানিফ জানালেন, পাইকারি বাজারেই দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। বলেন, ‘আমরা কী করব বলেন। আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, সামান্য লাভে বিক্রি করি, এখন মানুষ খালি আমগোরে কয়, আমরা কই যামু’- এমন অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে তিনি জানালেন আড়তে আলুর সংকটের কথা। আলু স্টোর থেকে বিক্রিও কমে গেছে বলে জানালেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।

এদিকে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে ডিমের দামে, মোটাদাগে নতুন করে উল্লম্ফন নেই। তবে ভারত থেকে আমদানির খবরে কোথাও কোথাও পাইকারি পর্যায়ে কিছুটা কমার খবর এলেও খুচরা বাজারে তার কোনো প্রভাব এখনো দৃশ্যমান নয়। গতকাল বুধবারও কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৫০ কিংবা ৫২ টাকা দরেই বিক্রি হচ্ছে প্রতি হালি ডিম।

পেঁয়াজের ক্ষেত্রে কেন দাম কমছে না জানতে রাজধানীর শীর্ষ পাইকারি বাজার শ্যামবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আমদানীকৃত পেঁয়াজ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে। অন্যদিকে দেশি পেঁয়াজ ৫৭ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যদিও কয়েক কিলোমিটার দূরের মিরপুর, গুলশান, বনানী, মহাখালীতে খুচরা বাজারে এসে তা হয়ে যাচ্ছে ১০০ টাকা কেজি। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলেন, খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত দাম নেয়ায় তাদেরও দোষারোপ করা হচ্ছে। সরকারকে তারা তাগিদ দেন খুচরা পর‌্যায়ে দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের।

এদিকে আলু, পেঁয়াজ ও ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে অভিযান চালাচ্ছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। গতকাল রংপুরের কয়েকটি কোল্ডস্টোরেজে অভিযান চালিয়ে নানা রকমের অনিয়ম পান অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্তারা। এ সময় সংস্থাটির মহাপরিচালক এ এইচ এম শফিকুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, স্টোরে বেশি দিন রাখার ক্ষেত্রে খরচ এক হলেও কিছু ব্যবসায়ী বাড়তি দাম নিচ্ছেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘যারা অসৎ উপায়ে ব্যবসা করতে চাচ্ছেন তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে, ১৭ কোটি মানুষকে জিম্মি করে কাউকে ব্যবসা করতে দেয়া হবে না।’

পরে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে তারা। বলেন, বাজার স্বাভাবিক হওয়া পর‌্যন্ত অভিযান চলতে থাকবে। সরকার বেঁধে দেয়া দর যতদিন পর‌্যন্ত কার্যকর না হবে, ততদিন অভিযান চলবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

খুচরা ব্যবসায়ীরা কারও নিয়ন্ত্রণে নেই: হাজি মো. মাজেদ

পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা কেন সরকারের বেঁধে দেয়া দামের তোয়াক্কা করছেন না- এ প্রশ্নের উত্তরে ঢাকার শীর্ষ পাইকারি শ্যামবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি মো. মাজেদ এ জন্য ছোট থেকে বড় সব ধরনের ব্যবসায়ীদের দায় রয়েছে বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের সমন্বয় বাড়াতে হবে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। মাজেদ মনে করেন, আড়তদার, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে সততা থাকলে সরকারের দাম কার‌্যকর করা সম্ভব। গতকাল শ্যামবাজারে দেশি পেঁয়াজের পাইকারি দাম ছিল ৫৭ থেকে ৬০ টাকা, অন্যদিকে আমদানি করা পেঁয়াজের পাইকারি দাম ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। তিনি জানান, সরকার দাম নির্ধারণ করে দেয়ার পর দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। কেন খুচরা বাজারে প্রভাব নেই?- এমন প্রশ্নে তার উত্তর, তাদের অতিলাভের মাশুল দিতে হচ্ছে সবাইকে। হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশি পেঁয়াজের দাম কোনোভাবেই ১০০ টাকা হওয়ার কথা নয়। এখানে সরকারের এজেন্সিগুলোর তদারকি বাড়াতে হবে।

অনেকেই ইচ্ছা করে আলু বিক্রি করছে না: মোশাররফ হোসেন

মুন্সীগঞ্জসহ কয়েক জায়গায় এ বছর আলু উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে, তবে সেই সুযোগে একটা অসাধু চক্র দাম বাড়াচ্ছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ হিমাগার মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, গত বছর দাম কম ছিল, অনেকেই আলু কিনে লোকসান করেছে, যার প্রভাবে এ বছর বাজার চড়া। তবে পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে যেতে লাভের ব্যবধান অনেক বেশি বলেও  জানান তিনি। সরকারের বেঁধে দেয়া দামকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এতে অতিমুনাফার চিন্তা থেকে বের হয়ে আসবেন ব্যবসায়ীরা। মুন্সীগঞ্জের হিমাগারগুলোতে আলুর সংকট না থাকলেও এখন ভয়ে অনেকেই বিক্রি করছে না বলে জানান তিনি। এসব ব্যবসায়ীর চাপে রাখার পরামর্শ দেন মোশাররফ। বলেন, অনেকে জমি থেকে আলু ওঠার সময় কিনে রাখেন, যারা পরবর্তী সময়ে সুবিধা বুঝে তা বিক্রি করেন। সেই সব মৌসুমি ব্যবসায়ী এবার বেশি লাভ করতে চাইছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তবে ঢালাওভাবে সিন্ডিকেট হচ্ছে তা সত্যি নয় জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে হাজার হাজার ব্যবসায়ী রয়েছেন, সিন্ডিকেট করার উপায় নেই।

তিনি জানান, মুন্সীগঞ্জের হিমাগারগুলোতে সরকার বেঁধে দেয়া দামেই আলু বিক্রি হচ্ছে, তবে খুচরা পর‌্যায়ে গিয়ে তা অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে। প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১২ টাকা কোথায় যাচ্ছে, তা বোধগম্য নয় বলেও তিনি জানান। পরামর্শ দেন, হিমাগার মালিকদের সঙ্গে সরকারের কর্তারা বসে যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সরকার প্রতি কেজি আলুর খুচরা দাম ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও বর্তমানে বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজিদরে।

দুর্গাপূজায় ভারতে ইলিশ যাচ্ছে ৪ হাজার টন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবার বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৪ হাজার টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে রপ্তানির এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, মোট ৭৯টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৩ হাজার ৯৫০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয়া হলো।

মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, শতাধিক আবেদনের যাচাই-বাছাই শেষে তিন হাজার ৯৫০ টন ইলিশ ভারতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত ১ সেপ্টেম্বর কলকাতা ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে আবেদন করে। এতে পাঁচ হাজার টন ইলিশের চাহিদার কথা জানায় কলকাতার ব্যবসায়ীরা। পরে ৪ সেপ্টেম্বর সেই আবেদন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এসে পৌঁছায়।

গত বছর পূজার সময় ২ হাজার ৯০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয়া হয়েছিল। তবে রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৩০০ টন। আগের বছরগুলোতেও একই পরিস্থিতি হয়েছিল। অনুমোদনের তুলনায় রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম।

রপ্তানি শাখার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এবারও ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গতবার যেসব প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে অনেকে নির্ধারিত পরিমাণ মাছ রপ্তানি করতে পারেনি। অনেকে একেবারেই রপ্তানি করতে পারেনি। মাছ রপ্তানির বিষয়টি মূলত কী পরিমাণ মাছ ধরা পড়ল সেটির ওপরও অনেকটা নির্ভর করে। তাই আমরা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা দেখে অনুমতি দিয়েছি।

রপ্তানিতে সাতটি শর্ত দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সেগুলো হলো রপ্তানি নীতি ২০২১-২৪ বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বেশি রপ্তানি করা যাবে না। প্রতিটি পণ্যচালান রপ্তানিকালে শুল্ক কর্তৃপক্ষ অটোমেটিক সিস্টেম ফর কাস্টম ডেটা (এএসওয়াইসিইউডিএ) ওয়ার্ল্ড সিস্টেম পরীক্ষা করে অনুমোদিত পরিমাণের অতিরিক্ত পণ্য রপ্তানি না করার বিষয়টি নিশ্চিত হবেন। এ অনুমতির মেয়াদ আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে সরকার মৎস্য আহরণ ও পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনোরূপ বিধিনিষেধ আরোপ করলে তা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ অনুমতির মেয়াদ শেষ হবে।

সরকার প্রয়োজনে যেকোনো সময় ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করতে পারবে। এ অনুমতি কোনোভাবেই হস্তান্তরযোগ্য না, অনুমোদিত রপ্তানিকারক ছাড়া সাব-কন্ট্রাক্ট রপ্তানি করা যাবে না।

ডিম-পেঁয়াজ-আলুর দাম নির্ধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডিম, পেঁয়াজ ও আলুর দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। এখন থেকে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা, আলু ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা এবং প্রতিটি ডিম সর্বোচ্চ ১২ টাকায় পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

এ ছাড়া সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা কমানো হয়েছে। প্রতি কেজি বোতলজাত সয়াবিন ১৬৯ টাকা, খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পাম তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা কমিয়ে ১২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি নতুন এই মূল্য তালিকা ঘোষণা করেন। বৈঠকে কৃষি সচিব উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ডিম আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে সীমিত আকারে আমদানি করা হবে। ১২ টাকার বেশি দামে বিক্রি হলে, তখন বেশি পরিমাণ আমদানি করা হবে বলে জানান তিনি।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন