ব্যবসা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ব্যবসা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে দোকান থেকে ব্যাটারি চুরি, পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে একটি যৌথ মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ইজিবাইকের ৮১টি ব্যাটারি চুরির ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। ৬ জুলাই, সোমবার রাত ৮টায় উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের বড়ইচারা হাটে অবস্থিত ‘থ্রি স্টার ব্যাটারি হাউজ’ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের তিন মালিক জাকারিয়া সুমন, জামিলুর রহমান সবুজ ও আরিফুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে জামিলুর রহমান সবুজ জানান, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর রাতে থ্রি স্টার ব্যাটারি হাউজের সাটার ভেঙে ইজিবাইকের ৮১টি ব্যাটারি, নগদ টাকা ও সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্কসহ প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়। এ ঘটনায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা করা হয়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মামলার পর দীর্ঘ ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশের কাছ থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা মেলেনি। তদন্ত কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি এবং কোনো আলামতও সংগ্রহ করেননি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়,  ২৮ মে এলাকার ‘জাবির ট্রেডার্স’ নামের আরেকটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। সেখান থেকেও প্রায় দুই লাখ টাকার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরি হয়। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো ঘটনার সঙ্গেই জড়িত কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তা দফায় দফায় বদলি হওয়ার কারণে থ্রি স্টার ব্যাটারি হাউজের চুরির মামলার তদন্তে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ এখন কাজ করছে।

ঈশ্বরদীতে ডিম ভেঙে প্রান্তিক খামারিদের প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডিমের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণসহ পাঁচ দফা দাবিতে ঈশ্বরদীতে মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ ও ডিম ভেঙে অভিনব প্রতিবাদ করেছেন প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারিরা।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে ঈশ্বরদী পোল্ট্রি খামারি অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে উপজেলার মুলাডুলি বাজার এলাকায় ঈশ্বরদী-নাটোর মহাসড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে অর্ধশতাধিক খামারি অংশ নেন। কর্মসূচির একপর্যায়ে তাঁরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সরকারের কাছে তাঁদের দাবি তুলে ধরেন। প্রায় ২০ মিনিট যান চলাচল বন্ধ থাকায় মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া খামারিদের হাতে বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার ছিল। সেগুলোতে ‘ডিমের সঠিক দাম চাই, ন্যায্য অধিকার চাই’, ‘খাদ্যের দাম কমাও, খামারিদের বাঁচাও’ এবং ‘আমদানি নয়, দেশীয় খামার বাঁচাও’—এমন নানা স্লোগান লেখা ছিল।

খামারিদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ডিমের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে প্রান্তিক খামারিদের সহজ শর্তে বা কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা, পোল্ট্রি খাদ্যের দাম কমানো, পশুর ওষুধের ওপর শুল্ক কমিয়ে দাম কমানো এবং করপোরেট কোম্পানিনির্ভর সিন্ডিকেট ভেঙে ক্ষুদ্র খামারিদের স্বার্থ রক্ষা করা।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মুলাডুলি বাজারের বিপ্লব ভেটেরিনারির মালিক মো. বিপ্লব হোসেন বলেন, ‘করপোরেট কোম্পানির সিন্ডিকেটের কারণে প্রান্তিক খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একটি ডিম উৎপাদনে ৯ টাকার বেশি খরচ হলেও তাঁরা বাজারে প্রতিটি ডিম বিক্রি করছেন ৭ টাকা ৮০ পয়সায়। লাভজনকভাবে খামার চালানোর জন্য প্রতিটি ডিমের দাম অন্তত ১০ থেকে ১০ টাকা ৫০ পয়সা হওয়া প্রয়োজন। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় খাদ্যের দাম কমানোর কথা বললেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।’

পোল্ট্রি খামারি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও স্থানীয় খামারি মো. ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘খাদ্য ও ওষুধের দাম কমানো ছাড়াই বারবার ডিমের দাম কমানো হচ্ছে। এতে এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে খামার চালানো ক্ষুদ্র খামারিরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তাই বাধ্য হয়ে তাঁরা সড়কে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।’

স্থানীয় খামারি মফিজউদ্দিন মানিক, আয়েন খাঁ ও মাসুদ গাজী বলেন, ‘২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রতি বস্তা পোল্ট্রি খাদ্যের দাম ছিল ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা। বর্তমানে সেই দাম বেড়ে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। কিন্তু উৎপাদন খরচ বাড়লেও ডিমের দাম সেই অনুযায়ী ঠিক করা হয়নি। ফলে ক্ষুদ্র খামার টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা খাতুন বলেন, ‘কর্মসূচির বিষয়ে তাঁরা আগে থেকে জানতেন না। এ ধরনের কর্মসূচির আগে খামারিদের উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখে খামারিদের সঙ্গে কথা বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’

মৃত পোশাকশ্রমিকের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিল বিজিএমইএ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সম্প্রতি পোশাক শিল্পে মৃত্যুবরণকারী এক শ্রমিকের পরিবারকে সহায়তা করতে আর্থিক অনুদান নিয়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছে। বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান মো. জালালউদ্দিনের পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকার অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন।

বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি, এস এম মান্নান (কচি) এবং সহ-সভাপতি (অর্থ) খন্দকার রফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান, পোশাক শিল্পে লাখ লাখ পোশাকশ্রমিক ভাই-বোনের অমূল্য অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাদের এ অবদান বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে বিশ্বে একটি সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে।

তিনি আরও বলেন, বিজিএমইএ পোশাক শিল্পের শ্রমিক ভাই-বোনদের কল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তাদের জীবনমানের উন্নয়নে অবদান রাখে, এমন উদ্যোগ গ্রহণ সব সময়ে অব্যাহত রাখবে।

‘কেমনে বাইচ্চা আছি, খালি খোদা জানে’

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোর থেকে রিকশা চালিয়ে দুপুরে পরিবারের জন্য বাজার করতে এসেছেন আব্দুর রহিম মিয়া। সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় হাড়ভাঙা পরিশ্রমে তার হাতে এসেছে ৪৩০ টাকা। তা দিয়ে এখন পাঁচজনের সংসারের বাজার করতে হবে। কাঁচাবাজার, পেঁয়াজের বাজারসহ কয়েকটি দোকানে ছোটাছুটি করেও বেশ কিছুক্ষণ কিছু কিনতে পারলেন না। বিষণ্ন মনে জানালেন, ‘এহন কিনতে হইব চাল, আলু, ডাল, ডিম আবার সবজি, আফনেই কন কেমনে কিনি?’ প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে তার জীবনযুদ্ধ শুরু। যদিও সেই কষ্ট ততটা গায়ে লাগে না, যতটা নিত্যপণ্যের দাম শুনলে লাগে।

সংসারে তার স্ত্রী ছাড়াও রয়েছে ছোট দুই মেয়ে আর এক ছেলে। জানালেন, পাঁচজনের সংসারের জন্য খাবার কিনতে বড্ড কষ্ট হয়। তার আক্ষেপ, আগে অন্তত আলু আর ডিম কিনে খাওয়ার উপায় ছিল, এখন তাও নেই। বাসা ভাড়া, খাবার খরচ, বাচ্চাদের পড়াশোনা, চিকিৎসাসহ নানা খরচ কীভাবে সামলান- এমন প্রশ্নে দুশ্চিন্তার সঙ্গে চোখের কোনায় কিছুটা জল তার।

“কেমনে যে বাইচ্চা আছি ভাই, খালি আমার খোদাই জানে’, চাল কিনলে ডাল কেনা যায় না, ডাল কিনলে ডিম কেনা যায় না, এমনে হামাগো বাইচ্চা থাকা, এইডারে জীবন কয় না রে ভাই।”

রহিম মিয়ার কষ্টের কথা শোনার পর বাজারে গিয়ে অতি প্রয়োজনীয় কোনো পণ্যের দাম কমেছে কি না তার খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা গেল সরকারের নানামুখী উদ্যোগ-অভিযান চললেও পরিস্থিতি রয়েছে সেই একই রকম। কয়েক দিন আগে সরকার বাধ্য হয়ে তিনটি পণ্যে দাম নির্ধারণ করে দেয়। যে তিনটি পণ্যই নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য অতি প্রয়োজনীয়। তবে বাজারের ব্যবসায়ীদের কেউই সরকারের বেঁধে দেয়া দামের তোয়াক্কা করছে না। আলুর ক্ষেত্রে সরকারের বেঁধে দেয়া দাম ৩৫ টাকা, রাজধানীর অন্তত পাঁচটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। কোথায় ৪৫ কিংবা ৪৮-এ পাওয়া গেলেও তার মান খানিকটা খারাপ। দেশি পেঁয়াজের ক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ ৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রির কথা বললেও রাজধানীর প্রায় প্রতিটি বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকায়। ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় যেগুলো পাওয়া যায় তা মানসম্মত নয় বলে জানালেন ক্রেতারা।

মহাখালী বাজারে কেনাকাটা করতে এসেছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার তৌহিদুল ইসলাম। বাজার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করতেই ক্ষোভ ঝাড়লেন সরকারের ওপর। ‘কোনো জিনিসের দামে নিয়ন্ত্রণ নাই, সরকার দাম বেঁধে দিয়ে বইসা থাকলে তো দাম কমবে না।’ তিনি জানালেন, ‘মাছ, মাংস, সবজি, ডিম, তেল কোনো কিছুই এখন সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে নেই। একটা সময় গরিব মানুষ পাঙাশ, তেলাপিয়া মাছ কিনতে পারত, এখন এগুলোর দামও অনেক বেশি।’

পেঁয়াজ, আলু কিংবা ডিম কেন সরকারের বেঁধে দেয়া দামে বিক্রি হচ্ছে না- এমন প্রশ্নের উত্তরে মিরপুরের ব্যবসায়ী মো. হানিফ জানালেন, পাইকারি বাজারেই দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। বলেন, ‘আমরা কী করব বলেন। আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, সামান্য লাভে বিক্রি করি, এখন মানুষ খালি আমগোরে কয়, আমরা কই যামু’- এমন অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে তিনি জানালেন আড়তে আলুর সংকটের কথা। আলু স্টোর থেকে বিক্রিও কমে গেছে বলে জানালেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।

এদিকে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে ডিমের দামে, মোটাদাগে নতুন করে উল্লম্ফন নেই। তবে ভারত থেকে আমদানির খবরে কোথাও কোথাও পাইকারি পর্যায়ে কিছুটা কমার খবর এলেও খুচরা বাজারে তার কোনো প্রভাব এখনো দৃশ্যমান নয়। গতকাল বুধবারও কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৫০ কিংবা ৫২ টাকা দরেই বিক্রি হচ্ছে প্রতি হালি ডিম।

পেঁয়াজের ক্ষেত্রে কেন দাম কমছে না জানতে রাজধানীর শীর্ষ পাইকারি বাজার শ্যামবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আমদানীকৃত পেঁয়াজ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে। অন্যদিকে দেশি পেঁয়াজ ৫৭ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যদিও কয়েক কিলোমিটার দূরের মিরপুর, গুলশান, বনানী, মহাখালীতে খুচরা বাজারে এসে তা হয়ে যাচ্ছে ১০০ টাকা কেজি। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলেন, খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত দাম নেয়ায় তাদেরও দোষারোপ করা হচ্ছে। সরকারকে তারা তাগিদ দেন খুচরা পর‌্যায়ে দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের।

এদিকে আলু, পেঁয়াজ ও ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে অভিযান চালাচ্ছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। গতকাল রংপুরের কয়েকটি কোল্ডস্টোরেজে অভিযান চালিয়ে নানা রকমের অনিয়ম পান অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্তারা। এ সময় সংস্থাটির মহাপরিচালক এ এইচ এম শফিকুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, স্টোরে বেশি দিন রাখার ক্ষেত্রে খরচ এক হলেও কিছু ব্যবসায়ী বাড়তি দাম নিচ্ছেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘যারা অসৎ উপায়ে ব্যবসা করতে চাচ্ছেন তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে, ১৭ কোটি মানুষকে জিম্মি করে কাউকে ব্যবসা করতে দেয়া হবে না।’

পরে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে তারা। বলেন, বাজার স্বাভাবিক হওয়া পর‌্যন্ত অভিযান চলতে থাকবে। সরকার বেঁধে দেয়া দর যতদিন পর‌্যন্ত কার্যকর না হবে, ততদিন অভিযান চলবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

খুচরা ব্যবসায়ীরা কারও নিয়ন্ত্রণে নেই: হাজি মো. মাজেদ

পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা কেন সরকারের বেঁধে দেয়া দামের তোয়াক্কা করছেন না- এ প্রশ্নের উত্তরে ঢাকার শীর্ষ পাইকারি শ্যামবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি মো. মাজেদ এ জন্য ছোট থেকে বড় সব ধরনের ব্যবসায়ীদের দায় রয়েছে বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের সমন্বয় বাড়াতে হবে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। মাজেদ মনে করেন, আড়তদার, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে সততা থাকলে সরকারের দাম কার‌্যকর করা সম্ভব। গতকাল শ্যামবাজারে দেশি পেঁয়াজের পাইকারি দাম ছিল ৫৭ থেকে ৬০ টাকা, অন্যদিকে আমদানি করা পেঁয়াজের পাইকারি দাম ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। তিনি জানান, সরকার দাম নির্ধারণ করে দেয়ার পর দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। কেন খুচরা বাজারে প্রভাব নেই?- এমন প্রশ্নে তার উত্তর, তাদের অতিলাভের মাশুল দিতে হচ্ছে সবাইকে। হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশি পেঁয়াজের দাম কোনোভাবেই ১০০ টাকা হওয়ার কথা নয়। এখানে সরকারের এজেন্সিগুলোর তদারকি বাড়াতে হবে।

অনেকেই ইচ্ছা করে আলু বিক্রি করছে না: মোশাররফ হোসেন

মুন্সীগঞ্জসহ কয়েক জায়গায় এ বছর আলু উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে, তবে সেই সুযোগে একটা অসাধু চক্র দাম বাড়াচ্ছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ হিমাগার মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, গত বছর দাম কম ছিল, অনেকেই আলু কিনে লোকসান করেছে, যার প্রভাবে এ বছর বাজার চড়া। তবে পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে যেতে লাভের ব্যবধান অনেক বেশি বলেও  জানান তিনি। সরকারের বেঁধে দেয়া দামকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এতে অতিমুনাফার চিন্তা থেকে বের হয়ে আসবেন ব্যবসায়ীরা। মুন্সীগঞ্জের হিমাগারগুলোতে আলুর সংকট না থাকলেও এখন ভয়ে অনেকেই বিক্রি করছে না বলে জানান তিনি। এসব ব্যবসায়ীর চাপে রাখার পরামর্শ দেন মোশাররফ। বলেন, অনেকে জমি থেকে আলু ওঠার সময় কিনে রাখেন, যারা পরবর্তী সময়ে সুবিধা বুঝে তা বিক্রি করেন। সেই সব মৌসুমি ব্যবসায়ী এবার বেশি লাভ করতে চাইছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তবে ঢালাওভাবে সিন্ডিকেট হচ্ছে তা সত্যি নয় জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে হাজার হাজার ব্যবসায়ী রয়েছেন, সিন্ডিকেট করার উপায় নেই।

তিনি জানান, মুন্সীগঞ্জের হিমাগারগুলোতে সরকার বেঁধে দেয়া দামেই আলু বিক্রি হচ্ছে, তবে খুচরা পর‌্যায়ে গিয়ে তা অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে। প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১২ টাকা কোথায় যাচ্ছে, তা বোধগম্য নয় বলেও তিনি জানান। পরামর্শ দেন, হিমাগার মালিকদের সঙ্গে সরকারের কর্তারা বসে যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সরকার প্রতি কেজি আলুর খুচরা দাম ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও বর্তমানে বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজিদরে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন