বাজার দর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বাজার দর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে হঠাৎ লাগামহীন পেঁয়াজের বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদী বাজারে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বাড়ায় এখন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাঁচ দিন আগেও মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়। এখন সেই দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। আড়তদার ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় স্থানীয় পেঁয়াজের ওপর চাপ বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

গত ৪ নভেম্বর (মঙ্গলবার) ঈশ্বরদীর বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজের দাম ছিল কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। পরদিন বুধবার পৌর এলাকা ও উপজেলার বাঁশেরবাদা, আওতাপাড়া, আরামবাড়িয়া, বড়ইচারা, জয়নগর, সাহাপুর, দাশুড়িয়া, পাকশী, রূপপুর ও মুলাডুলি বাজারে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। মাঝারি মানের পেঁয়াজের দাম ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে এই মাঝারি মানের পেঁয়াজই বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়।

কৃষক, ব্যবসায়ী ও কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দেশে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় উৎপাদন দিয়েই বাজারের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। কিন্তু মৌসুমের শেষ দিকে মজুদ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পাইকারি পর্যায়ে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭২ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। উৎপাদনকারী জেলা যেমন পাবনাতেও গত দুই দিনে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা।

ঈশ্বরদী পৌরবাজারের বিক্রেতা আবুল হাসেম বলেন, “গত দশ মাস সরবরাহ ভালো থাকায় দাম স্থির ছিল। কিন্তু এখন মোকামগুলোয় সরবরাহ কমে গেছে, তাই দাম বেড়েছে।”

আরামবাড়িয়া বাজারের ব্যবসায়ী মিলন ও খোকন বলেন, “ডিসেম্বরের শেষদিকে বা জানুয়ারির শুরুতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ ওঠার মৌসুম শুরু হবে। ততদিন পর্যন্ত সরবরাহ কম থাকবে, তাই দামও বেশি থাকতে পারে।”

কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রবি মৌসুমের শুরুতে (অক্টোবরের মাঝামাঝি) পেঁয়াজ রোপণ শুরু হলেও বিলম্বিত বৃষ্টি ও পরে অতিবৃষ্টিতে অনেক জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। কৃষকদের আবার নতুন করে রোপণ করতে হচ্ছে, ফলে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে সময় লাগবে, তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমদানি অনুমোদন (আইপি) না দিলে দাম আরও বাড়তে পারে।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে মাচায় মজুদ থাকায় পেঁয়াজ শুকিয়ে ওজন কমে যায়। ফলে ব্যাপারী ও কৃষক পর্যায়ে লাভ ধরে রাখতে দাম বাড়ানো হচ্ছে।

দেশে বছরে দুটি ধাপে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। রবি মৌসুমের শুরুতে ওঠে মুড়িকাটা জাত, যা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় না। এই পেঁয়াজ শেষ হলে কৃষক একই জমিতে বীজ পেঁয়াজ লাগান, যা পরে মাচায় রেখে সংরক্ষণ করা হয়। সরকার দীর্ঘদিন ধরে পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেয়নি, ফলে বাজার পুরোপুরি দেশীয় উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল হয়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন, “অতিবৃষ্টির কারণে আগাম পেঁয়াজ আসেনি, ফলে মজুদ কমেছে। তবে এ বছর কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ভালো দাম পাওয়ায় আগামী মৌসুমে বেশি পরিমাণে চাষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে দেশীয় উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব।”

ঈশ্বরদীতে সবজি–মুরগির বাজারে হঠাৎ আগুন, ভোক্তাদের নাভিশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাত্র এক সপ্তাহে ঈশ্বরদীর বাজারে নিত্যপণ্যের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। ঢ্যাঁড়সের কেজি ৩০ টাকা থেকে লাফ দিয়ে ৬০ টাকায়, পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৭৫, কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। বেগুন, পটোল, করলা, লাউ, চালকুমড়া ও কচুর দামও ৫০–৭০ শতাংশ বেড়েছে।

পোলট্রি বাজারেও একই অবস্থা। সোনালি মুরগি এক সপ্তাহে কেজিপ্রতি ২৪০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা, বয়লার ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং ডিমের দাম প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় পৌঁছেছে।

বিক্রেতারা বলছেন, কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে খেতের উৎপাদন ও বাজারে সরবরাহ—দুটোই কমে গেছে। তবে ক্রেতাদের মতে, বাজারে পণ্যের পরিমাণ ঠিকই আছে, কিন্তু মনিটরিং দুর্বল হওয়ায় কেউ কেউ ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা উজ্জ্বল হোসেন জানান, 'পেঁয়াজ কেন বেড়েছে তা জানি না। তবে বৃষ্টিতে কাঁচামরিচ ও অনেক সবজির দাম বেড়েছে। পটোল, বেগুন, করলাসহ সবকিছুতেই দাম এক সপ্তাহে ২০–৪০ টাকা করে উঠেছে।' 

মুরগি ব্যবসায়ী শামীম হোসেন বলেন, 'সরবরাহ কমায় পাইকারি দামে বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরায়ও দাম বেড়েছে।' 

ক্রেতা রাহেলা খাতুনের ক্ষোভ, 'দেড় মাস দাম স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে বাজারে যারা দিচ্ছে তারাই দাম ঠিক করছে। নজরদারি না থাকলে এই অবস্থা চলতেই থাকবে।' 

বাজার সূত্রে জানা গেছে, আলু, পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, পুঁই ও লালশাকের দাম অপরিবর্তিত। তবে সরবরাহের ঘাটতি ও বৃষ্টিপাতের কারণে শীতকালীন সবজির দাম বেড়েই চলেছে।

ঈশ্বরদীতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ১৫-২০ টাকা

ফাইল ছবি 

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলায় পেঁয়াজের দাম এখন চড়া। পেঁয়াজের ভরা মৌসুমেও গত এক সপ্তাহে বাজারে পেঁয়াজের দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়ে গেছে। 

ব্যবসায়ীরা জানান, আড়তে সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে পাইকারিতে দাম বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে ভালো মানের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।

উপজেলার আরামবাড়িয়া বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, ‘পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে, তাই আমাদেরও দাম বাড়াতে হচ্ছে। পেঁয়াজ বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এজন্য ভালো মানের পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করছি।’ 

অন্যদিকে, আওতা পাড়া বাজারের খুচরা বিক্রেতা বেলাল হোসেন বলেন, ‘এখন পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর কোনো কারণ নেই। কৃষকরা বাজারে পেঁয়াজ ছেড়ে দিয়েছেন, কিন্তু কিছু বড় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছে।’

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার বলেন, ‘কৃষকরা পেঁয়াজ উৎপাদন করে বাজারে ছেড়ে দিয়েছেন, তবে মধ্যস্বত্বভোগী কিছু ব্যবসায়ী মজুদ করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে। আমরা ইতোমধ্যে এ বিষয়ে নজরদারি শুরু করেছি।’ 

এছাড়া, কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা ক্রেতা রফিকুল ইসলাম ও আবেদ আলী বলেন, ‘এটা সত্যিই উদ্বেগের বিষয়। কৃষকরা পেঁয়াজের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না, অন্যদিকে ভোক্তাদের অতিরিক্ত দামে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে। এটি পুরো পরিস্থিতির অবিচলিত প্রতিফলন।’

ঈশ্বরদীতে রমজানের শুরুতেই বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ভোজ্যতেলের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম দিনেই নিত্যপণ্য, ইফতার ও সেহরির সামগ্রীর দাম বেড়ে গেছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কিছু কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেশিরভাগ পণ্যের মূল্য বেড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খেজুরের দাম প্রকারভেদে প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ১,৫০০ টাকা। তরমুজের কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কমলা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, আপেল ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, আঙুর ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে সয়াবিন তেলের (পলি ব্যাগ) লিটার ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা, ছোলা প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পটল ৯০ থেকে ১১০ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, সোনালী মুরগি ২৯০ থেকে ৩২০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, লেবুর হালি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং শসার কেজি ৩০ থেকে ৫০ টাকা হয়েছে।

বাজারে আসা ক্রেতারা জানান, রমজান শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগেই বেশিরভাগ পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে ভোজ্যতেল নিয়ে। ডিলাররা কম বরাদ্দ পাওয়ায় বাজারে তেল মিলছে না। অনেকেই অভিযোগ করছেন, অধিক মুনাফার লোভে ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন।

ক্রেতা আবদুর সবুর বলেন, 'রমজানের ইফতার সামগ্রী কিনতে এসে বিপাকে পড়েছি। কয়েকদিন আগে ৩০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে খেজুর পাওয়া যাচ্ছিল, আজ সেটাই ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বেশি হওয়ায় খেজুর না কিনেই ফিরে গেছি।'

বাজারের নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ মনিটরিং টিম পরিচালনা করছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাহাদত হোসেন খান বলেন, 'বাজার পরিদর্শন করে দেখা গেছে, কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। আমরা নিয়মিত মনিটরিং করছি, অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তেলের কিছুটা সংকট থাকলেও সরবরাহ এখন বাড়ছে।'

দুর্নীতি ও বাজার কারসাজি তদন্তে নতুন কমিটি গঠন

নতুন কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিগত সময়ের অনিয়ম, কারসাজি ও দুর্নীতির বিষয়ে অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রবিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পুঁজিবাজার উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মানের সুশাসন নিশ্চিত করতে পুঁজিবাজার সংস্কারে সুপারিশের জন্য ৫ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছর মেয়াদে পুঁজিবাজারেও অবাধ লুটতরাজ হয়েছে। অসংখ্য দুর্বল ও প্রায় অস্তিত্বহীন কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এসব কোম্পানি পুঁজিবাজারের জন্য আজ বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে এই বাজারে লাগামহীন কারসাজির মাধ্যমে দুর্বল মৌলভিত্তি, জাংক কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ফ্লোরপ্রাইস আরোপ, সার্কিট ব্রেকারের ঊর্ধ্বসীমা ও নিম্নসীমায় নানা কৃত্রিম ব্যবস্থায় বাজারের এ অবস্থা ঢেকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এখন ওই কৃত্রিম চেষ্টা না থাকায় ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকা অনিয়ম, দুর্নীতি, কারসাজির অনিবার্য পরিণতি এখন আগের চেয়েও বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বিএসইসি গঠিত পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্সের কার্যপরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭টি। রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্কের সংস্কার, রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্স ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিতকরণ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন, পুঁজিবাজারে পণ্য ও বাজার উন্নয়নে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ, বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসার ও ব্যাপ্তি বৃদ্ধি, বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, পুঁজিবাজারে কর্মরত পেশাজীবীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার, বাজারের বৈচিত্র্য আনতে নতুন পণ্য আনা, সর্বোপরি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং পুঁজিবাজারের গঠনমূলক ও টেকসই সংস্কার ইত্যাদি সংস্কারমূলক কার্যক্রমে বিএসইসি কাজ করছে।

টাস্কফোর্স কার্যক্রমের বাইরেও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়ন ও সংস্কারে পথনকশা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে বাজারের বিভিন্ন সমস্যা ও করণীয় বিষয়ে নানা সুপারিশ উঠে এসেছে।

পুঁজিবাজার তদারকি ও কারসাজি নিয়ন্ত্রণে সার্ভিলেন্স সিস্টেমের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে বিএসইসি। পুঁজিবাজারে শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর অংশ হিসেবে শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক করছে বিএসইসি।

পুঁজিবাজারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন, তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কোম্পানির ভ্যালুয়েশন, আইপিও অনুমোদন ও তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া সহজ করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছে কমিশন।

দেশের পুঁজিবাজারের আকার বৃদ্ধি ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরির জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

​​আশা করা যায়, উপরোক্ত পদক্ষেপের ফলে বড়, মাঝারি ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা দ্রুত সুফল পাবে। অতীতের দূরবস্থা ও শেয়ার কেলেঙ্কারির মাধ্যমে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সরকার তাদের বিষয়টি বিবেচনা করে সুবিধা দেবে।

পেঁয়াজ ইস্যুতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হঠাৎ দাম বৃদ্ধির পেছনে দায়ী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি।

১২ ডিসেম্বর সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে আলোচ্য সূচির বাইরে আলাদা করে সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ দেন সরকার প্রধান।

বিকেলে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

সচিব বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে উনি (প্রধানমন্ত্রী) ক্যাবিনেটে না, আলাদাভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন। সেটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বলেছেন। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন- মাঠ পর্যায়ে এখন ক্লোজ মনিটরিং হচ্ছে এবং আজকে তার কিছুটা ইম্প্যাক্ট পাওয়া যাচ্ছে, এটা দেখতে পাচ্ছেন তো আপনারা, পাচ্ছেন না? গতকাল যে ট্রেন্ড ছিল আজকে সে ট্রেন্ড নেই।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সুনির্দিষ্টভাবে কী ছিল— জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে নির্দেশনা হচ্ছে মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো। যারা এসব কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের দিকে নজরদারি বাড়ানো এবং যারা অতিরিক্ত মুনাফা পাওয়ার চেষ্টা করছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা।

নির্দেশনা পাওয়ার পর মাঠপর্যায়ে টিম কাজ করছে বলে জানান সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

প্রসঙ্গত, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের অজুহাতে দেশে অস্থির পেঁয়াজের বাজার। একদিনের ব্যবধানে দাম কেজিপ্রতি দিগুণ বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে ভারতীয় পেঁয়াজ ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির খবরে বেড়ে যায় দেশি পেঁয়াজের দামও। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকায়। হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ এবং দাম বৃদ্ধির কারণে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

‘আকাশ ছুঁয়েছে’ সবজির দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: সারা দেশে শরৎকালের শেষের দিকের বৃষ্টিতে ফসলের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাজধানী ঢাকার কাঁচাবাজারগুলোতে সবজির দাম আকাশছোঁয়া। ১৩ অক্টোবর  শুক্রবার প্রতি কেজি সবজির দাম ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। 

ঢাকার সবজি সরবরাহের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী ও পাইকারি বিক্রেতারা জানান, আগাম জাতের শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। তবে সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে সবজি খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এর ফলে ঢাকা, নরসিংদী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, বগুড়া, যশোর ও কুষ্টিয়ার আশপাশের সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থান থেকে রাজধানীতে বেশিরভাগ সবজি সরবরাহ করা হয়। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী শুক্কুর আলী জানান, তার দোকানে সাধারণত ৬ থেকে ৭টি সবজি বোঝাই ট্রাক আসে। সেখান থেকেই প্রতিদিন খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের পর সবজি বোঝাই ট্রাকের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ থেকে ৪টিতে। সরবরাহের এ ঘাটতির কারণে পাইকারি ও খুচরা বাজারে দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ১৩ অক্টোবর শুক্রবার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজি, মাছ, ব্রয়লার মুরগি ও ডিম বেশি বিক্রি হচ্ছে। এ অবস্থায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে এখনও পর্যাপ্ত সবজি আসেনি, যার কারণে দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে এই দাম কমে যাবে। প্রতি কেজি বেগুন ১২০ টাকা, লম্বা বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকায়, শিম প্রতি কেজি ২০০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সরকারের ইলিশ ধরা নিষিদ্ধের খবরে মাছের দাম কেজিতে ৪০ থেকে ৮০ টাকা বেড়েছে। অন্যান্য মাছের মধ্যে- পুটি প্রতি কেজি ৪০০ টাকা, জীবন্ত পুঁটি ৫০০ টাকা কেজি, খলিসা ৪০০ টাকা কেজি, চাপিলা ৫০০ টাকা কেজি, চাষের কই ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি, ফলি চান্দা (রূপচাদা) ১৪০০ টাকা কেজি, চান্দা ছোট ৪০০ টাকা কেজি, শোল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, বাইম ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি, মেনি ৫০০ টাকা কেজি, বোয়াল ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি।

কাইট্টা মাছ ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি, কোরাল মাছ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি, নদীর পাঙ্গাস ৭০০ টাকা কেজি, চাষ করা পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি, রাজপুটি ৪৫০ টাকা কেজি।

তেলাপিয়া কেজি ২৪০ টাকা, রুহিত ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি, মাঝারি সাইজের কার্প (কাতল) প্রতি কেজি ৩০০-৩২০ টাকা, বড় সাইজের কাতল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি, স্থানীয় জাতের শিং মাছ প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, কোরাল ৬০০ টাকা কেজি, গলদা চিংড়ি ৮০০-১০০০ টাকা কেজি এবং চিংড়ি ৫০০-৬০০ টাকা কেজি।

গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা, মাটন ১১৫০ থেকে ১১৮০ টাকায়। মাঝারি আকারের দেশি মোরগ বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং মুরগি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম (ফার্ম) প্রতি ডজন ১৬০ টাকা, ডিম (স্থানীয়) ৭০ টাকা এবং ডিম (হাঁস) ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি জোড়া কবুতর বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন