পেঁয়াজ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পেঁয়াজ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ফের পেঁয়াজের দামে সেঞ্চুরি!

নিজস্ব প্রতিবেদক: সপ্তাহ জুড়ে বাজারে নতুন পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা থাকলেও রোববার থেকে হঠাৎ পেঁয়াজের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। খুচরা বাজারে দাম বাড়তে বাড়তে ফের ১০০ টাকায় পৌঁছে গেছে।

সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দাম বৃদ্ধির এ চিত্র দেখা গেছে। বাজারের বেশিরভাগ দোকানেই নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজিতে।
 
রাজধানীর মিরপুর শেওড়াপাড়া বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গত ৪-৫ দিন আগে পেঁয়াজ কিনলাম ৮০ টাকায় আর আজ কিনতে এসে দেখি দাম হয়ে গেছে ১০০ টাকা। ২-১ দিনের মধ্যে হঠাৎ কিভাবে দাম ২০ টাকা বেড়ে যায়? দেশে বাজার মনিটরিং বলে কী কিছু আছে? যারা অসাধু ব্যবসায়ী তারা হঠাৎ সব কিছুর দাম বাড়িয়ে দিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের জিম্মি করে ফেলে।

রাজধানীর গুলশান সংলগ্ন লেকপাড় বাজারে দীর্ঘদিন ধরে পেঁয়াজ বিক্রি করে আসছেন সিরাজুল ইসলাম নামের একজন বিক্রেতা। হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি মূলত পাবনা থেকে পেঁয়াজ কিনে এনে এখানে আমার দোকানে খুচরা বিক্রি করি। এছাড়া মাঝে মাঝে ঢাকার কারওয়ান বাজারসহ পাইকারি বাজারগুলো থেকে পেঁয়াজ আনি। পাবনাতে এখন প্রতি মণ পেঁয়াজ কেনা পড়ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। পরিবহনসহ নানান খরচ মিলিয়ে ঢাকার খুচরা বাজারে সেই পেঁয়াজ আজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা। আমার যে ব্যবসায়ীরা পাবনাতে আছে তারা আমাকে গতকাল জানিয়েছে সেখানে প্রতি মণ ৩২০০ থেকে ৩৪০০ টাকা কেনা পড়ছে। মূলত গতকাল থেকেই এমন দাম বেড়েছে।

তিনি বলেন, মূলত নতুন বা মুড়িকাটা পেঁয়াজ তোলা শেষের দিকে। প্রায় দেড় মাস আগে এই পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছিল, এখন কৃষকের সেই পেঁয়াজ শেষের দিকে। ফলে সরবরাহ কমতে শুরু করেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ না থাকায় হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এখন কৃষকের মূল পেঁয়াজ যেটা বছর জুড়ে পাওয়া যায় সেই পেঁয়াজ উঠতে কিছুদিন সময় লাগবে। সে পর্যন্ত এমন বাড়তি দাম থাকতে পারে।

রাজধানীর মালিবাগ বাজারে বাজার করতে আসা গার্মেন্টস কর্মী রেজাউল করিম বলেন, পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে জানলাম পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এক কেজি পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা তাই আধা কেজি পেঁয়াজ কিনলাম। সব জিনিসের দাম বাজারে অতিরিক্ত বেশি, এরমধ্যে আবার বাড়লে পেঁয়াজের দাম। সব কিছুর দাম এভাবে বাড়তে থাকলে আমাদের মত নিম্ন আয়ের মানুষের সংসার পরিচালনা করাই কঠিন।

পেঁয়াজ পাইকারি কেনা দামই বেশি পড়ছে, তাই খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে জানিয়ে রাজধানীর বাড্ডা এলাকার এক মুদির দোকানি রহমান মিয়া বলেন, আজ সকালে দোকানে বিক্রির জন্য কয়েক পাল্লা পেঁয়াজ কিনে এনেছি। সেখানে প্রতি পাল্লা (৫ কেজিতে এক পাল্লা) দাম পড়েছে ৪৭০ টাকা, মানে প্রতি কেজি পড়েছে ৯৪ টাকা। এরপর আছে রিকশায় করে আনার খরচ। সব মিলিয়ে আজ খুচরা প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছি ১০০ টাকায়। তিন দিন আগেই পাইকারি পেঁয়াজ কিনেছি ৭০ টাকায় তখন বিক্রি করেছি ৮০ টাকা কেজি। কিন্তু গতকাল থেকে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। পাইকারি বাজারে কেনা বেশি তাই খুচরা বাজারেও পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে।

এদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী গতকাল রাজধানীতে প্রতি কেজি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়।

টিসিবির সহকারী পরিচালক (বাজার তথ্য) নাসির উদ্দিন তালুকদার জানান, গতকাল নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়, ঠিক এক দিন আগে এটার দাম ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। সেই সঙ্গে গত মাসে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে গিয়েছিল তাই সে সময়ও নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। তবে গত বছর এই সময় নতুন পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে।

পেঁয়াজ ইস্যুতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হঠাৎ দাম বৃদ্ধির পেছনে দায়ী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি।

১২ ডিসেম্বর সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে আলোচ্য সূচির বাইরে আলাদা করে সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ দেন সরকার প্রধান।

বিকেলে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

সচিব বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে উনি (প্রধানমন্ত্রী) ক্যাবিনেটে না, আলাদাভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন। সেটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বলেছেন। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন- মাঠ পর্যায়ে এখন ক্লোজ মনিটরিং হচ্ছে এবং আজকে তার কিছুটা ইম্প্যাক্ট পাওয়া যাচ্ছে, এটা দেখতে পাচ্ছেন তো আপনারা, পাচ্ছেন না? গতকাল যে ট্রেন্ড ছিল আজকে সে ট্রেন্ড নেই।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সুনির্দিষ্টভাবে কী ছিল— জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে নির্দেশনা হচ্ছে মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো। যারা এসব কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের দিকে নজরদারি বাড়ানো এবং যারা অতিরিক্ত মুনাফা পাওয়ার চেষ্টা করছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা।

নির্দেশনা পাওয়ার পর মাঠপর্যায়ে টিম কাজ করছে বলে জানান সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

প্রসঙ্গত, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের অজুহাতে দেশে অস্থির পেঁয়াজের বাজার। একদিনের ব্যবধানে দাম কেজিপ্রতি দিগুণ বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে ভারতীয় পেঁয়াজ ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির খবরে বেড়ে যায় দেশি পেঁয়াজের দামও। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকায়। হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ এবং দাম বৃদ্ধির কারণে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

বে‌শি দামে পেঁয়াজ বি‌ক্রি, ১৩৩ প্রতিষ্ঠানকে জ‌রিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারত রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় দেশের বাজারে অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের দাম। একদিনের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। এমন পরিস্থিতিতে পেঁয়াজের মূল্য স্থিতিশীল ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীসহ জেলা পর্যায়ে অভিযান চা‌লি‌য়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

৯ ডিসেম্বর শ‌নিবার অধিদপ্তরের ৫৭টি টিম সারা দেশে বাজার অভিযানের মাধ্যমে ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।

ভোক্তা অধিদপ্তরের পক্ষ থে‌কে জানানো হয়, শ‌নিবার ঢাকা মহানগরীতে অধিদপ্তরের চারটি টিম বাজার অভিযান পরিচালনা করে।

এছাড়াও অন্যান্য বিভাগীয় শহরসহ দেশের সর্বমোট ৫৪টি জেলায় একযোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। সবমি‌লি‌য়ে সারা দেশে ৫৭টি টিম কর্তৃক বাজার অভিযানের মাধ্যমে ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভোক্তা অধিকার রক্ষায় এ কার্যক্রম আগামীকালও (রোববার) অব্যাহত থাকবে ব‌লে জানায় অধিদপ্তর।

খোঁজ নি‌য়ে জানা গে‌ছে, শনিবার দেশের অন্যতম বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। অথচ বৃহস্পতিবার পণ্যটির দাম ছিল ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। রাজধানীর বাজা‌রে কেজিপ্রতি ২২০ থে‌কে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখা‌নে বৃহস্পতিবার দাম ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন