স্বাস্থ্য পরামর্শ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
স্বাস্থ্য পরামর্শ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

অধ্যাপক কামরুল ১৮০০ কিডনি প্রতিস্থাপনের মাইলফলক ছুঁলেন


নিজস্ব প্রতিবেদক: কিডনি চিকিৎসার কথা বললেই যে নামটি সামনে আসে, তিনি হলেন অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম। বিনামূল্যে কিডনি প্রতিস্থাপন করা এই চিকিৎসক ঈশ্বরদীর কৃতি সন্তান এবং সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

শুক্রবার তিনি ১৮০০ কিডনি প্রতিস্থাপনের রেকর্ড গড়েছেন। বিশ্ব কিডনি দিবসে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত এই চিকিৎসক বলেন, ‘বাংলাদেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এর কারণ হলো—দক্ষ জনবলের অভাব, ওষুধের উচ্চমূল্য, আইনি জটিলতা, সরকারি অর্থায়নের অভাব এবং ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্টের (মৃত ব্যক্তির অঙ্গ সংযোজন) প্রতি মানুষের অনাগ্রহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিডনি প্রতিস্থাপনে আমাদের সফলতা আন্তর্জাতিক মানের হলেও, সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় এবং নিয়মিত ওষুধ না পাওয়ায় অনেক রোগী মারা যায়।’

গবেষণায় দেখা যায়, কিডনি প্রতিস্থাপনের এক বছরে ৯৬ শতাংশ রোগী ভালো থাকছে, তিন বছরে পর সুস্থ থাকছে ৮৫ শতাংশ, পাঁচ বছরে ৭৫ এবং ১০ বছরে অর্ধেক রোগী মারা যায় বিভিন্ন সংক্রমণের কারণে। অথচ তাদের কিডনি ঠিকমতো কাজ করছিল। 

ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘কিডনি প্রতিস্থাপনের পর রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কমে যায়। ফলে শিশুর মতো যত্ন না নিলে সামান্য সংক্রমণেও বড় ক্ষতি হতে পারে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কিডনি রোগে ভুগছেন। এর মধ্যে ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবছর অন্তত ১০ হাজার মানুষের কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন, কিন্তু হয়ে থাকে মাত্র ৩৬৫টি, যা প্রয়োজনের মাত্র ৩.৬৫%।

এ পর্যন্ত দেশে সর্বমোট তিন হাজার ৫০০টির কিছু বেশি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিস্থাপনের পর নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধের অভাবে অনেক রোগী পাঁচ বছরের মধ্যেই মারা যান।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশে ক্যাডাভেরিক অঙ্গদান ব্যবস্থা চালু ও জনপ্রিয় করতে ধর্মীয়, আইনি ও সামাজিকভাবে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এছাড়া কিডনি প্রতিস্থাপন পরবর্তী চিকিৎসার খরচ কমানো এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করাও জরুরি।

ভুঁড়ি কমাতে চান? পান করতে হবে এই ৫ জুস


নিজস্ব প্রতিবেদক: ওজন কমানো আর ভুঁড়ি কমানো এক কথা নয়। নানা নিয়ম মানার পরে ওজন কমলেও নাছোড়বান্দা ভুঁড়ি কমতে চায় না সহজে। এটি কেবল আপনার সৌন্দর্যই নষ্ট করে না, নানা শারীরিক সমস্যাও ডেকে আনে। আবার অনেক প্রচেষ্টার পর যদি ভুঁড়ি না কমে তাহলে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া কঠিন মনে হয়। একটুতেই হতাশ লাগে আর হাল ছেড়ে দিতে ইচ্ছা হয়। ভুঁড়ি কমানোর জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করাই যথেষ্ট নয়। সেইসঙ্গে আপনাকে নজর দিতে হবে খাবারের দিকেও। ৫ রকমের জুস আছে, যেগুলো খুব একটা সুস্বাদু নয়, কিন্তু নিয়মিত পান করতে পারলে খুব সহজেই ভুঁড়ি কমানো যাবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক-

১. করলার জুস : করলার তেতো ভাবের জন্য এই সবজি অনেকে খেতে চান না, সেখানে একেবারে করলার জুস! কিন্তু যতই তেতো হোক না কেন, এই জুসের উপকারিতা ভীষণ মিষ্টি। আপনি নাক-চোখ বন্ধ করে কোনোরকম একবার গিলে ফেলতে পারলেই হবে। প্রতিদিন সকালে করলার জুস পান করলে বাড়তি ভুঁড়ি নিয়ে আপনাকে আর দুশ্চিন্তা করতে হবে না। এতে ক্যালোরির পরিমাণ থাকে খুব কম আর থাকে ফ্যাট ঝরানোর নানা গুণ।

২. আমলকির জুস : আমলকির জুস ভীষণ উপকারী। কারণ আমলকীতে থাকা নানা স্বাস্থ্যকর উপাদান। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে আমলকির জুসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে দারুণ উপকার পাবেন। এটি ওজন কমাতেও কার্যকরী। সবচেয়ে বেশি উপকারিতা মিলবে খালি পেটে খেলেই। নিয়মিত খেতে পারলে দেখবেন আপনার ভুঁড়ি কমছে দ্রুতই। এটি আপনাকে সারাদিন সতেজ রাখতেও কাজ করবে।

৩. গাজর-মুলার জুস : আধাকাপ গাজর একদম গ্রেড করে নিন। এবার আধাকাপ মুলাও গ্রেড করে রাখুন। এরপর তার সঙ্গে মেশান দেড় কাপ পানি। এই তিন উপকরণ একটি পরিষ্কার হাঁড়িতে ফুটিয়ে নিন। ৩ থেকে ৪ মিনিট ফুটিয়ে নিলেই যথেষ্ট। এরপর নামিয়ে কিছুটা ঠান্ডা করে সবজিগুলো চিবিয়ে খেয়ে নিন আর পানিটুক পান করুন। এভাবে দিন দশেক প্রতিদিন একবার করে খান। এরপর কয়েকদিন বিরতি দিয়ে আবার দশদিন পান করুন। এই নিয়ম এক মাস পালন করতে পারলেই উপকার পাবেন।

৪. বেদানার রস: বেদানার রয়েছে নানা গুণ। এর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য ওজন কমাতে দারুণ কার্যকরী। নিয়মিত বেদানা খেলে হজমশক্তি ভালো থাকে। বেদানার রস খেলে তা ভুঁড়ি কমাতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। বেদানা দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখতে পারে। ফলে ক্ষুধা কম লাগে। যে কারণে বার বার খাবার খাওয়ার ফলে ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয় থাকে না। নিয়মিত বেদানার জুস পান করুন। এতে ভুঁড়ি তো কমবেই, সুস্থ থাকাও সহজ হবে।

৫. লাউয়ের রস:  লাউ একটি সুস্বাদু সবজি। এটি কেবল রান্না করেই খাওয়া যায় না, কাঁচাও উপকারী। বিশেষ করে লাউয়ের রস আপনার বাড়তি ওজন ও ভুঁড়ি কমাতে দারুণ কার্যকরী। লাউয়ের রস খলে তা ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে। লাউ রান্না করে তো খাবেনই, সেইসঙ্গে প্রতিদিন সকালে লাউয়ের জুস খাবেন। এতে পার্থক্যটা নিজেই দেখতে পাবেন।

সকালে নাস্তা করছেন না? ডেকে আনছেন যেসব বিপদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সকালের নাস্তা না করলে হয়ত ওজন কমানো সম্ভব— এমনটি ভেবে থাকেন অনেকে। তবে এটি একদমই ভুল ধারণা। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বিপাকক্রিয়ার হার বেশি থাকায় যা খাওয়া হয় সবই সহজে হজম হয়। কিন্তু অনেকে ওজন কমাতে বা অন্য কোনো কারণে সকালে নাস্তা করেন না। ফলে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয় শরীরে। এ থেকে ছোট ছোট বিভিন্ন অসুখেরও জন্ম নিয়ে থাকে। 

সকালে নাস্তা না করলে যেসব রোগ হয় তা জেনে নেওয়া যাক-

ওজন বৃদ্ধি: অনাকাঙ্ক্ষিত বেড়ে যাওয়া ওজন যারা কমাতে চান তারা ভুলেও সকালের নাস্তা এড়াবেন না। কেননা, সকালের নাস্তা না করলে ক্ষুধাভাব বাড়বে। সেই সময় সামনে যা পাবেন তাই খাওয়ার ইচ্ছা হবে আপনার। এতে যেমন ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে আবার একইভাবে হজমজনিত অসুখও হতে পারে।

চুলের ক্ষতি: প্রতিদিন সকালে নাস্তা না করলে শরীরে ভয়ঙ্করভাবে প্রোটিনের মাত্রা হ্রাস পায়। এতে ক্যারোটিনের মাত্রায় প্রভাব ফেলে। আর ক্যারোটিন নামক এই উপাদান কমে গেলে চুলের বৃদ্ধি কমে যায়। ফলে চুল পড়তে শুরু করে।

মাইগ্রেনের যন্ত্রণা: যাদের মাইগ্রেনজনিত সমস্যা রয়েছে তারা খাওয়ার ব্যাপারে অনেক সংবেদনশীল। তবে দিনের শুরুতে সকালের নাস্তাই যদি না করা হয় তাহলে তা মাইগ্রেনের জন্য আরও ভয়ের কারণ হতে পারে। কারণ, নাস্তা না করলে শরীরে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়। এতে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে এবং মাইগ্রেনের যন্ত্রণাও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

হৃদরোগ: স্বাস্থ্যকর খাবার দিয়ে সকালের নাস্তা করলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। সেদিক থেকে নাস্তা না করলে হাইপার টেনশন, ওবেসিটি, হাই ব্লাড সুগার ও হাই কোলেস্টেরলে প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। আর এ থেকে হৃদরোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়: নিয়মিত সকালের নাস্তা না করলে দিনের বাকি অংশে অতিরিক্ত ক্যালোরির ওপর চাপ পড়ে। এতে দিনের বাকি অংশে প্রয়োজনের থেকে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করা হয়। যে কারণে ওজন বৃদ্ধি বা স্থূলতার দিকে ধাবিত করে। আর স্থূলতা শরীরকে গুরুতর অসুস্থতার উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রাখে। আর ক্যানসার এই ধরনের একটি ঝুঁকি। এ জন্য ক্যানসারকে দূরে রাখার জন্য নিয়মিত সকালের নাস্তা করা উচিত।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায় কাঁচা ছোলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ছোলায় ভিটামিন, ফাইবার, প্রোটিন – তিনটিই থাকে। ছোলাতে ফ্যাটের পরিমাণ খুব কম। তাই ওজন কমানোর ক্ষেত্রে বেশ উপকারী এটি। তবে সকালে খালি পেটে ভেজানো কাঁচা ছোলা খেলে কী হয় জানেন?

ভেজানো ছোলায় রয়েছে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং ফাইবার। যা হজম প্রক্রিয়া ধীর করে দেয় এবং শরীরে শর্করার শোষণ নিয়ন্ত্রণ করে। খালি পেটে কাঁচা ছোলা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রাও কমায় এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।

প্রোটিন, ফাইবারে পরিপূর্ণ ছোলা! এতে ক্যালোরিও খুব কম। ছোলায় গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও কম থাকে। ফলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। ফলে বেশি খেতে ইচ্ছে করে না! ওজন কমাতে সাহায্য করে!
ঝকঝকে চুল পেতে চাইলে রোজ ভেজানো ছোলা খান। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি৬, জিঙ্ক এবং ম্যাঙ্গানিজ। এই সব উপাদানই চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে।
ছোলায় রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়ামের মতো খনিজ। যা উচ্চ রক্তচাপ এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। ফলে হার্ট সুস্থ থাকে। এ ছাড়াও ছোলায় আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট কোলন যা সত্ন ক্যানসার, ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি একেবারে কমায়।

আয়রন সমৃদ্ধ কাঁচা ছোলা হিমোগ্লোবিনের মাত্রা উন্নত করতে সাহায্য করে। যারা অ্যানিমিয়ায় ভুগছেন, তাদের জন্য খুব উপকারী কাঁচা ছোলা।

বলিরেখা, ফাইন লাইনস কমাতে রোজ কাঁচা ছোলা খান। এতে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, যা বার্ধক্য রোধ করতে সাহায্য করে।

দাঁতের ব‍্যথা থেকে মুক্তি দেবে রসুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঋতু পরিবর্তনের সময়ে সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। তবে রান্নাঘরের একটি মশলাই হয়ে উঠতে পারে ঠান্ডাসহ হরেক সমস‍্যার সমাধান।

প্রত‍্যেক রান্নাঘরেই মজুদ থাকে রসুন। এই একটি মশলার প্রচুর গুণ। চিকিৎসকের মতে, কেবলমাত্র সর্দি কাশিতেই নয়, দাঁতের ব‍্যথার সমস‍্যায়ও এটি বিশেষ উপকারী। শুধু তাই নয়, হার্টের জন‍্যও অত‍্যন্ত উপকারী রসুন।

রসুন শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভালো করে। দেহের টক্সিন দূর করতেও রসুনের ভূমিকা রয়েছে। রসুন ওজন কমাতেও সহায়ক। তবে কাঁচা রসুন অনেকেই খেতে পারেন না। কারণ এর তীব্র গন্ধ। তবে এই গন্ধের মোকাবিলা করতে চাইলে রসুনকে শুকনো খোলায় ভেজে নিতে পারেন। এতে রসুনের তীব্র গন্ধ অনেকটাই চলে যাবে।

এ ছাড়া রসুনে প্রোটিন, চর্বি, কার্বোহাইড্রেট, আয়রন পাওয়া গেলেও এর পাশাপাশি এতে ভিটামিন এ, বি, সি এবং সালফিউরিক অ্যাসিড রয়েছে।

বর্ডারলাইন পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার কী? যা জানা জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্ডারলাইন পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার (বিপিডি) হচ্ছে এক ধরনের মানসিক স্বাস্থ্যজনিত অসুস্থতা যা একজন মানুষের আবেগ নিয়ন্ত্রণের ওপরে তীব্র প্রভাব ফেলতে পারে। লাগামহীন আবেগ মানুষের মাঝে অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি করে। অন্যরা কী ভাবছে তা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তার ফলে নেতিবাচক সম্পর্কের সূত্রপাত হয়। তবে, কার্যকরী চিকিৎসা পদ্ধতি এক্ষেত্রে সমাধান হিসেবে কাজ করে। 

বর্ডারলাইন পার্সোনালিটি ডিজর্ডারে ভুক্তভোগীরা প্রচন্ডরকম মুড সুইং এর শিকার হয়। এতে তাদের রুচি, চাহিদা এবং ব্যক্তিবিশেষের ক্ষেত্রে সম্পর্কের অবনতিও ঘটে থাকে। তবে উল্লেখযোগ্য লক্ষণগুলো হলো-

যেকোনো সম্পর্ক এড়িয়ে চলা কিংবা খুব দ্রুত সম্পর্কের ইতি টানা। পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনের সাথে জটিল কিংবা অস্থিতিশীল সম্পর্কের সূত্রপাত হওয়া।আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা।কখনো কখনো আত্মঘাতী কাজ করা যেমন শরীরের কোনো অঙ্গ কেটে ফেলা।দীর্ঘদিন ধরে একাকিত্ব অনুভব করা।রাগ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা।অন্যদের থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া ইত্যাদি।

গবেষণা থেকে জানা যায় যে, বংশগত, পরিবেশগত এবং সামাজিক ক্ষেত্রগুলোই এই সমস্যার জন্য প্রধানত দায়ী। তবে পরিবারে অন্য কারো যদি বর্ডারলাইন পারসোনালিটি ডিজর্ডার থেকে থাকে, তাহলে বাকি সদস্যদেরও এই সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়। এছাড়া, গবেষণা এটাও বলে যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মস্তিষ্কের রাগ এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে কার্যরত অংশের গাঠনিক পরিবর্তনের কারণে এই সমস্যা দেখা দেয়। অধিকন্তু, জীবনে ঘটে যাওয়া কোনো বিশেষ দুর্ঘটনা যা পরবর্তী সময়ে যা মানসিক ট্রমার কারণ হয়, তার ফলাফলস্বরূপ বর্ডারলাইন পারসোনালিটি ডিজর্ডার দেখা দিতে পারে।

একজন স্বীকৃত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ যেমন একজন সাইকিয়াট্রিস্ট, সাইকোলজিস্ট অথবা ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার বর্ডারলাইন পার্সোনালিটি ডিজর্ডার শনাক্ত করতে পারেন। এক্ষেত্রে, ভুক্তভোগীর আচরণগত মূল্যায়ন, পূর্ব অভিজ্ঞতা অথবা পারিবারিক চিকিৎসা ইতিহাস থেকে নমুনা সংগ্রহ করে সম্ভাব্য লক্ষণগুলো নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়। 

কীভাবে এই বর্ডারলাইন পারসোনালিটি ডিজর্ডার দূর করা যায় তার ওপরে অনেক গবেষণা রয়েছে। কাউন্সেলিং-এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সাইকোথেরাপি যেমন ডায়ালেক্টিক্যাল বিহ্যাভিয়র থেরাপি (ডিবিটি), কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি ( সিবিটি) এসবের মাধ্যমে চিকিৎসা বেশ কার্যকর। এছাড়াও কখনও কখনও মেডিসিন ও দরকার হয়। সেক্ষেত্রে ওষুধ এবং কাউন্সেলিং একসাথে নিতে হয়। এসবের বাইরেও ভালো পারিবারিক ও সামাজিক সহযোগিতা এখন মানসিক রোগীকে দ্রুত ভালো হয়ে উঠতে সাহায্য করে। তবে এসব লক্ষণসমূহ প্রাথমিকভাবে ম্যানেজ করতে সক্ষম না হলে অবশ্যই একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে যেসব কারণে

নিজস্ব প্রতিবেদক: যেকোনো বয়সে যে কারোরই ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে। এক টানা বেশিক্ষণ ল্যাপটপে কাজ বা দীর্ঘক্ষণ মোবাইল দেখাও এ ব্যথার কারণ হতে পারে। ভারী জিনিস তোলার সময়ে অসাবধানতায় ঘাড়ে চোট পেলেও ব্যথা হতে পারে। প্রথম অবস্থায় অগ্রাহ্য করলে ভোগান্তির মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই ফেলে না রেখে ঘাড়ে ব্যথা কেন হচ্ছে, আগে তার উৎস খুঁজে বার করা প্রয়োজন। 

হঠাৎ করে একদিনে বাড়ির সমস্ত কাজ করলেও ঘাড়ের পেশির ওপর চাপ পড়তে পারে। বিরতি না নিয়ে একটানা অনেক ক্ষণ গাড়ি চালালেও কিন্তু ঘাড়ের পেশির উপর চাপ পড়ে। 

যোগাসন, জিমে গিয়ে ভুল শরীরচর্চা কিংবা শোয়ার ভুলেও ঘাড়ে চোট লাগতে পারে। যা থেকে ঘাড়ের ব্যথা দীর্ঘায়িত হয়। দীর্ঘ দিন একই ভাবে কাঁধে ভারী ব্যাগের বোঝা নিলেও কিন্তু ঘাড়ের পেশিতে চোট লাগতে পারে।

এবড়ো খেবড়ো রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময়ে হঠাৎ ঝাঁকুনিতে বা দুর্ঘটনায় ঘাড়ে চোট লেগে থাকলে, সেই ব্যথাই ঘুরে ফিরে আসতে পারে বার বার। সেই দিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।

বাতের নাম শুনলে প্রথম হাঁটু, কোমরের কথাই মাথায় আসে। তবে ঘাড়ের ভার্টিব্রাল অস্থিসন্ধিতেও কিন্তু আর্থ্রাইটিস হতে পারে। সে ক্ষেত্রেও ঘাড়ে কষ্ট হয়।

মানসিক চাপের সঙ্গে মাথা এবং ঘাড়ের সম্পর্ক রয়েছে। চিকিৎসকেরা বলেন, উদ্বেগ, মানসিক চাপ, অবসাদের মতো ঘটনাও কিন্তু ঘাড়ের পেশির উপর চাপ ফেলে। রক্তচাপ বেড়ে গেলেও কাঁধে, ঘাড়ে কষ্ট হতে পারে। তাই মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে ঘাড়ের যন্ত্রণা দীর্ঘায়িত হয়।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন