নিজস্ব প্রতিবেদক: সদ্য শেষ হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাত, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব তাঁর বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছিলেন।
গত রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ওই অভিযোগপত্রের অনুলিপি প্রকাশ করেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ঈশ্বরদীতে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম রাতেই ইউএনও মো. আরিফুর রহমান তাঁর কার্যালয়ে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবু তালেব মন্ডলের সঙ্গে দীর্ঘ সময় গোপন বৈঠক করেন। অভিযোগকারীর দাবি, নির্বাচনের আগে এমন বৈঠক সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করেছে।
আবেদনে ইউএনওর পারিবারিক ও রাজনৈতিক পটভূমিও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, তাঁর বাবা নিজ এলাকায় একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাঁর নিকটাত্মীয়রা বিভিন্ন সময় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া ছাত্রজীবনে তিনি একটি বিশেষ ছাত্রসংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া চিঠিতে ইউএনওর ‘বিতর্কিত’ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযোগের কপি প্রকাশ করে হাবিবুর রহমান লিখেছেন, ‘যাঁরা ঈশ্বরদীর ইউএনওর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ দেখতে চেয়েছিলেন, তাঁদের বিবেচনার জন্য এটি প্রকাশ করা হলো।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই ইউএনও কেমন নির্বাচন উপহার দিয়েছেন, তা এখন আপনারাই বুঝে নিন।’
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যদি বিশেষ একটি দলের ‘প্রতিনিধি’ হিসেবে কাজ করেন, তাহলে সেখানে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জনমতের প্রতিফলন সম্ভব নয়। তিনি ওই কর্মকর্তাকে দ্রুত সরিয়ে দিয়ে নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান।
এই নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবু তালেব মন্ডল (দাঁড়িপাল্লা) ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাবিব পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৪ ভোট।
উপজেলা বিএনপির নেতা ও সম্মিলিত নাগরিক জোটের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান পলাশ বলেন, ‘নির্বাচনের সময় আমরা বারবার প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম, কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি। এই অভিযোগপত্র আমাদের দাবির পক্ষে প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে।’
ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলু বলেন, জনগণের রায়কে প্রভাবিত করতে প্রশাসনের একটি অংশ যে ভূমিকা পালন করেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এই বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেন।
তবে এই বিষয়ে ইউএনও মো. আরিফুর রহমানের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

