রেলগেট লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রেলগেট লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদী রেলগেট–সংলগ্ন সড়কে বড় বড় গর্ত, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর রেলগেট–সংলগ্ন আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যান চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টিতে গর্তগুলো পানিতে ডুবে থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। দ্রুত সড়কটি মেরামতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকেরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈশ্বরদী–রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়কের রেলগেটের পশ্চিম পাশে বালিকা বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় মোড় থেকে রেলগেট পর্যন্ত ছোট-বড় কয়েকটি গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো ইট ফেলে ভরাটের চেষ্টা করা হলেও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে তা টেকেনি। বর্তমানে গর্তগুলো বৃষ্টির পানিতে ভরে রয়েছে।

চালকেরা জানান, পানিতে ঢেকে থাকায় গর্তের গভীরতা বোঝা যায় না। এতে ঝুঁকি নিয়েই যানবাহন চালাতে হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, না বুঝে পানিভর্তি গর্তে গাড়ি নামানো অনেকটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের মতো। যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বাসচালক মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন, ঈশ্বরদী শহরের প্রবেশপথে এমন ভাঙাচোরা সড়কের কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় গর্তে পড়ে যানবাহনের যান্ত্রিক ক্ষতি হচ্ছে। অনেক টাকা খরচে তৈরি সড়কটি অল্প সময়ের মধ্যেই কেন এমন নষ্ট হয়ে গেল, তা তদন্তেরও দাবি জানান তিনি।

অটোরিকশাচালক মনির বলেন, ব্যস্ততম এই শহরের প্রবেশমুখে সড়কের এমন বেহাল অবস্থা উদ্বেগজনক। ভাঙা রাস্তার কারণে যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেড়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করা এই সড়ক দ্রুত মেরামতের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, উপজেলা এলাকায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর মেরামতের কাজ প্রক্রিয়াধীন। আশা করা হচ্ছে, অল্প সময়ের মধ্যেই মেরামতের কাজ শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, রাজশাহী–ঈশ্বরদী আঞ্চলিক সড়কের নির্মাণকাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফিলতি থাকলে সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

ঈশ্বরদীতে ট্রেনের ধাক্কায় রিকশা ও সিএনজি ক্ষতিগ্রস্ত, আহত চারজন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী পৌর শহরের রেলগেটে শানটিং ট্রেনের (বগি সরানোর ট্রেন) ইঞ্জিনের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি রিকশা দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। এই ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল হালিম জানান, তিনি রেলগেট সংলগ্ন একটি দোকানে বসে ছিলেন। ট্রেনটি শানটিং করার সময় রেলগেট খোলা ছিল। ইঞ্জিন রেলগেটের কাছে আসার পরেও গেটম্যান গেট নামাননি। এ সময় একটি পাওয়ার ট্রলি ইঞ্জিনের সামনে দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর, ইঞ্জিনের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আহতদের মধ্যে রিকশাচালক তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘রেলগেট খোলা দেখে রিকশা নিয়ে পার হচ্ছিলাম। হঠাৎ ইঞ্জিন এসে রিকশায় ধাক্কা দেয়। রিকশাসহ আমি ছিটকে রেললাইনের পাশে পড়ে যাই।’

এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তাধীন। দোষী প্রমাণিত হলে লোকোমাস্টার ও গেটম্যানের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন