নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হঠাৎ অভিযান চালিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির সন্ধান পেয়েছে। বুধবার দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন, প্রয়োজনীয় ওষুধের অনিয়ম এবং এক্সরে বিভাগের যন্ত্রপাতি ব্যবস্থাপনায় গোপন দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দুদকের পাবনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাধন সূত্রধরের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। শুরুতে হাসপাতালের বহির্ভাগে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি যাচাই করা হয়। এরপর গুরুতর অনিয়মের তথ্য পেয়ে হাসপাতাল ভবনে অভিযান চালানো হয়।
জানা যায়, রোগীদের খাবারের নিয়মমাফিক তালিকা মেনে খাবার দেওয়া হয় না। প্রয়োজনীয় ওষুধ হাসপাতালে মজুদ থাকলেও তা দেওয়া হয় না, ফলে রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়। তাছাড়া, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসাররাই ওষুধের নির্দেশনা দিচ্ছেন, যা চিকিৎসার নিয়মের বিরুদ্ধে। এক্সরে বিভাগের কাজ দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ থাকলেও সেখানে থাকা যন্ত্রপাতির সঠিক তালিকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দিতে পারেননি। পুরনো যন্ত্রগুলো কোথায় রাখা আছে এবং তাদের অবস্থা কী, সে বিষয়ে কেউ স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেননি।
হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, চিকিৎসা নিতে গিয়ে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে থাকতে হচ্ছে। শৌচাগার ব্যবহারের অযোগ্য ও রোগীদের বাজার থেকে দামি ওষুধ কিনতে হচ্ছে। তারা বলছেন, এখানে সুস্থ হওয়ার বদলে যেন অসুস্থ হয়ে ফেরার ঘটনা ঘটে।
দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র মজুমদার জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে তারা উল্লেখযোগ্য অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছেন। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ব্যবস্থায় দুই দিক থেকেই সমস্যা লক্ষ্য করা গেছে। তাদের অভিযান এখনও চলমান রয়েছে।


