চিকিৎসা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
চিকিৎসা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে ল্যাম্পি স্কিনে আড়াই শ গরুর মৃত্যু, টিকার তীব্র সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে গবাদিপশুর ‘ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ’ (এলএসডি)। গত দেড় মাসে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৫০টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। একদিকে দ্রুত সংক্রমণ বৃদ্ধি, অন্যদিকে প্রতিষেধক টিকার তীব্র সংকট—এই দুইয়ে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় খামারি ও প্রান্তিক কৃষকেরা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঈশ্বরদীতে কৃষক ও ছোট-বড় খামার মিলিয়ে মোট গরুর সংখ্যা এক লাখের বেশি। এর মধ্যে চলতি বছরই ২০ থেকে ৩০ হাজার গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। দপ্তরের হিসেবে, আক্রান্ত গরুর প্রায় ৪০ শতাংশ মারা যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো আক্রান্ত বাছুরের ক্ষেত্রে এই মৃত্যুহার প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ, যা খামারিদের নিঃস্ব করে দিচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এ রোগের সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন সকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে আক্রান্ত পশু নিয়ে খামারিদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। তবে সরকারি সরবরাহ না থাকায় চিকিৎসকেরা কেবল প্রেসক্রিপশন ও পরামর্শ দিয়েই দায় সারছেন। পুঁজি হারানোর ভয়ে অনেকে আক্রান্ত বা ঝুঁকিতে থাকা গরু কম দামে বেচে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ড. ফারুক হোসেন জানান, প্রায় প্রতিটি বাড়ি ও খামারেই বাছুরগুলো ল্যাম্পি স্কিনে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক না থাকায় চিকিৎসাসেবা দিয়েও বাছুরগুলোকে বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, বাজারে প্রতিষেধকের দাম বেশি হলেও সরকারিভাবে এর কোনো পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। ঢাকায় একাধিকবার চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও বরাদ্দ মেলেনি। দ্রুত এ সংকট দূর করা না গেলে ডেইরি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

ক্যানসার আক্রান্ত মেধাবী ছাত্র ছাবিদের পাশে বিএনপি নেতা শাহীন


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ক্যানসারে আক্রান্ত ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়া ষষ্ঠ শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী ইবনে ছাবিদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও বিএনপি নেতা রেজাউল করিম শাহীন। গতকাল শুক্রবার রাতে তাঁর পক্ষ থেকে পাঠানো উপহার ও নগদ আর্থিক সহায়তা ছাবিদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রিয়ামুল ইসলাম রিয়ামের তত্ত্বাবধানে এই মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, সলিমপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক সুমন মালিথা, ছাত্রনেতা আব্দুল আহাদ, ওমর ফারুক বিশ্বাস ও আকাশ ইসলাম দেশ।

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে ছাবিদের গুরুতর অসুস্থতা ও বুয়েটে পড়ার স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কার খবর দেখে সহায়তার হাত বাড়ান রেজাউল করিম শাহীন। এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "একটি প্রখর মেধাবী শিশুর সুন্দর শৈশব হাসপাতালের চার দেওয়ালে কাটছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। অর্থের অভাবে ওর স্বপ্ন যেন মাঝপথে থেমে না যায়, সেটাই আমাদের চাওয়া। সেই সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই সাধ্যমতো পাশে দাঁড়িয়েছি।"

শাহীন আরও বলেন, "সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এই শিশুটির সুচিকিৎসায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দোয়ায় ছাবিদ সুস্থ হয়ে আবার পড়াশোনায় ফিরবে বলে আশা করি।"

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ইবনে ছাবিদ ঈশ্বরদীর সাহাপুর ইউনিয়নের দিয়ার সাহাপুর গ্রামের আশরাফুল আলম রোকনের একমাত্র সন্তান। সে বর্তমানে আরএআরএস উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। শৈশব থেকেই পড়ালেখায় অত্যন্ত উজ্জ্বল ছাবিদ পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে আসছিল। গত বছর চর-সাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে সমাপনী শেষ করে চলতি বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করে সে।

কিন্তু এই অর্জনের পরপরই হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে ছাবিদ। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। বর্তমানে রাজধানীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। একমাত্র সন্তানের জীবন বাঁচাতে মধ্যবিত্ত বাবা-মা সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

ঈশ্বরদীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেলেও হাসপাতালের শয্যায় মেধাবী ছাবিদ, ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘আমি বড় হয়ে বুয়েটে প্রকৌশলী হব। তুমি হবে একজন প্রকৌশলীর মা।’—মাকে এমন স্বপ্নের কথাই বলেছিল ইবনে ছাবিদ। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্যানসার। মাত্র ১১-১২ বছর বয়সের ছোট্ট শরীরে বাসা বেঁধেছে এই মরণব্যাধি।

এরই মধ্যে এসেছে একটি সুখবর। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে (মেধাতালিকায়) বৃত্তি পেয়েছে ছাবিদ। তবে সেই সাফল্যের আনন্দ ম্লান করে দিয়েছে তার অসুস্থতা। রাজধানীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের শয্যায় শুয়েই বৃত্তি পাওয়ার খবর শুনেছে সে। আনন্দের বদলে তার চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়েছে অশ্রু।

ছাবিদ ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দিয়ার সাহাপুর গ্রামের আশরাফুল আলম রোকনের একমাত্র ছেলে। সে ঈশ্বরদী আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পরিবার ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিবারই শ্রেণিতে প্রথম হয়েছে ছাবিদ। গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার ক্যানসার ধরা পড়ে।

ছাবিদের বাবা আশরাফুল আলম রোকন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। তিনি বলেন, চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন। এ অবস্থায় সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের।

প্রতিবেশীরা জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত নামাজ আদায় ও কোরআন তিলাওয়াত করত ছাবিদ। শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের এই শিশুর অসুস্থতায় প্রতিবেশীরাও মর্মাহত।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছাবিদের মা লিজা খাতুন বলেন, ‘এই বয়সে বই-খাতা নিয়ে বিদ্যালয়ে থাকার কথা ছিল আমার ছেলের। অথচ সে আজ হাসপাতালের বিছানায়। ওকে এভাবে দেখতে খুব কষ্ট হয়। আল্লাহ যেন আমার ছেলেকে সুস্থ করে দেন।’

ঈশ্বরদী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, ছাবিদের মতো একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে ক্যানসার আক্রান্তদের সহায়তার সুযোগ রয়েছে। পরিবার আবেদন করলে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সহযোগিতা করা হবে।

দেশে চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনে নতুন অধ্যায়, উদ্বোধন হচ্ছে মেগাসান কারখানা

মেগাসান মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ লিমিটেড

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন শিল্পে নতুন সংযোজন হিসেবে ঈশ্বরদীতে যাত্রা শুরু করছে বাংলাদেশ ও তুরস্কের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘মেগাসান মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ লিমিটেড’। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে কারখানাটির উদ্বোধন করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন যৌথভাবে কারখানাটির উদ্বোধন করবেন।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. কবির উদ্দিন আহমেদ, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এটিএম খলিলুর রহমান, স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম, মেগাসান তুরস্কের চেয়ারম্যান আরিফ সিলেকতিন, ভাইস চেয়ারম্যান হায়রেত্তিন সিলেকতিন এবং মেগাসান বাংলাদেশের চেয়ারম্যান নাজিফা বিনতে হাসান।

তুরস্কের চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘মেগাসান মেডিক্যাল সিস্টেমস’-এর কারিগরি অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে ঈশ্বরদীর অরণকোলায় প্রায় ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ১৫০ কোটির বেশি টাকা ব্যয়ে কারখানাটি নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে তুরস্কে উৎপাদিত মেগাসানের বিভিন্ন জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ২০২৫ সালে ঈশ্বরদীতে অত্যাধুনিক এই সংযোজন কারখানার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।

কারখানাটিতে আধুনিক হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন ও সংযোজন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক গ্যাস সরবরাহ ও পাইপলাইন ব্যবস্থা, বহুমুখী সংযোগ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, অক্সিজেন ও ভ্যাকুয়াম প্ল্যান্ট, শয্যাপাশের প্রয়োজনীয় সংযোগ ব্যবস্থা, ঝুলন্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী ইউনিট এবং উন্নত সতর্কসংকেত ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, স্থানীয়ভাবে এসব উচ্চপ্রযুক্তির চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনের ফলে স্বাস্থ্য খাতে আমদানিনির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে দ্রুত কারিগরি সহায়তা ও রক্ষণাবেক্ষণ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

মো. নাজমুল হাসান

মেগাসান মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান বলেন, প্রতিটি চিকিৎসা সরঞ্জামের সঙ্গে মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা জড়িত। তাই আমরা সর্বোচ্চ গুণগত মান, নির্ভরযোগ্যতা ও উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করছি। আমাদের নিজস্ব দক্ষ প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা রয়েছেন। তাঁদের দক্ষতা আরও বাড়াতে ভবিষ্যতে তুরস্কে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে কারখানাটিতে বিনিয়োগ ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে অধিকাংশ যন্ত্রাংশ উৎপাদন করে আন্তর্জাতিক বাজারে ‘বাংলাদেশে তৈরি’ চিকিৎসা প্রযুক্তি রপ্তানির লক্ষ্য রয়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুদকের হঠাৎ অভিযান, দুর্নীতি-অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হঠাৎ অভিযান চালিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির সন্ধান পেয়েছে। বুধবার  দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন, প্রয়োজনীয় ওষুধের অনিয়ম এবং এক্সরে বিভাগের যন্ত্রপাতি ব্যবস্থাপনায় গোপন দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

দুদকের পাবনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাধন সূত্রধরের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। শুরুতে হাসপাতালের বহির্ভাগে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি যাচাই করা হয়। এরপর গুরুতর অনিয়মের তথ্য পেয়ে হাসপাতাল ভবনে অভিযান চালানো হয়।

জানা যায়, রোগীদের খাবারের নিয়মমাফিক তালিকা মেনে খাবার দেওয়া হয় না। প্রয়োজনীয় ওষুধ হাসপাতালে মজুদ থাকলেও তা দেওয়া হয় না, ফলে রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়। তাছাড়া, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসাররাই ওষুধের নির্দেশনা দিচ্ছেন, যা চিকিৎসার নিয়মের বিরুদ্ধে। এক্সরে বিভাগের কাজ দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ থাকলেও সেখানে থাকা যন্ত্রপাতির সঠিক তালিকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দিতে পারেননি। পুরনো যন্ত্রগুলো কোথায় রাখা আছে এবং তাদের অবস্থা কী, সে বিষয়ে কেউ স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেননি।

হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, চিকিৎসা নিতে গিয়ে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে থাকতে হচ্ছে। শৌচাগার ব্যবহারের অযোগ্য ও রোগীদের বাজার থেকে দামি ওষুধ কিনতে হচ্ছে। তারা বলছেন, এখানে সুস্থ হওয়ার বদলে যেন অসুস্থ হয়ে ফেরার ঘটনা ঘটে।

দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র মজুমদার জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে তারা উল্লেখযোগ্য অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছেন। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ব্যবস্থায় দুই দিক থেকেই সমস্যা লক্ষ্য করা গেছে। তাদের অভিযান এখনও চলমান রয়েছে।

মাইক্রোআরএনএ আবিষ্কারের জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন মার্কিন দম্পতি

 মাইক্রোআরএনএ আবিষ্কারের জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন মার্কিন দম্পতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাইক্রোআরএনএ আবিষ্কারের জন্য  চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন মার্কিন নাগরিক ভিক্টর অ্যামব্রোস ও গ্যারি রুভকুন।

জিনের কার্যকলাপ কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় তা নিয়ন্ত্রণকারী একটি মৌলিক নীতির বিষয়টি তাদের আবিষ্কারে উঠে এসেছে।

সোমবার (৭ অক্টোবর) তাদেরকে এই পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়।

নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের এই আবিষ্কার 'জীবের বিকাশ ও কার্যকারিতার জন্য মৌলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রমাণিত হচ্ছে।’

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে করা অ্যামব্রোসের গবেষণাটি নোবেল পুরষ্কার পেয়েছে। তিনি বর্তমানে ম্যাসাচুসেটস মেডিকেল স্কুল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের অধ্যাপক।

নোবেল কমিটির সেক্রেটারি জেনারেল থমাস পার্লম্যান বলেন, জেনেটিক্সের অধ্যাপক রুভকুনের গবেষণাটি ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতাল এবং হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে করা হয়েছিল।

পার্লম্যান বলেন, ঘোষণার কিছুক্ষণ আগে তিনি রুভকুনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।

পার্লম্যান বলেন, ‘ফোনের কাছে আসার আগে এটি দীর্ঘ সময় নিয়েছিল এবং খুব ক্লান্ত লাগছিল, তবে তিনি বেশ দ্রুত, বেশ উত্তেজিত এবং খুশি ছিলেন, যখন তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে এটি কী ছিল।’

গত বছর চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন হাঙ্গেরি-আমেরিকান কাতালিন কারিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ড্রিউ উইজম্যান।

তারা কোভিড-১৯ মহামারি রোধে ভ্যাকসিন এমআরএনএ আবিষ্কার করেছিলেন, যা মহামারি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

পুরস্কারের প্রবর্তক সুইডিশ উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের রেখে যাওয়া উইল থেকে নগদ ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার (১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) দেওয়া হয়।

এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ বছরের নোবেল পুরস্কার দেওয়ার মৌসুম শুরু হলো।

মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞান, বুধবার রসায়ন এবং বৃহস্পতিবার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। এছাড়া শুক্রবার নোবেল শান্তি পুরস্কার এবং ১৪ অক্টোবর অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার ঘোষণা করা হবে।

১০ ডিসেম্বর নোবেলের আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে পুরস্কার গ্রহণের জন্য বিজয়ীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন