খালেদা জিয়া লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
খালেদা জিয়া লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন রাষ্ট্রপতি

বাসস, ঢাকা: খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা এবং তাঁর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।

আজ শনিবার রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেন এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গণতন্ত্র উত্তরণের এই সন্ধিক্ষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। মহান আল্লাহর নিকট তাঁর সুস্থতা এবং একইসাথে দেশবাসীর কাছে তাঁর জন্য দোয়া প্রার্থনা করি।’

এ ছাড়া রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে তিনি গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেন।

ঈশ্বরদীতে খালেদা জিয়ার জন্মদিনে দোয়া মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীতে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান হয়।

দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ সুলভ মালিথার সভাপতিত্বে এবং সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাচ্চুর পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম তুহিন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মুলাডুলি ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আব্দুর রাজ্জাক, ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল হক শরীফ ও সদস্যসচিব আলী আকবর।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিদুল ইসলাম, সহসভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ডালিকি, সদস্যসচিব বিপুল মোল্লা, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক অনিক খন্দকার, ছাত্রনেতা জীবন মোল্লা, ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মহিদুল ইসলাম, শ্রমিক দলের সভাপতি খলিলুর রহমান, সদস্যসচিব আজিজুল মন্ডল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলাম লাকি এবং উপজেলা তাঁতি দলের সাধারণ সম্পাদক পারভেজ পলাশসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের আরও নেতাকর্মীরা।

দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

খালেদা জিয়ার জন্মদিনে ঈশ্বরদীতে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদন: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় ঈশ্বরদীতে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনগুলো। আয়োজনের নেতৃত্ব দেন ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব শামসুদ্দিন আহমেদ মালিথা। সঞ্চালনায় ছিলেন পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসলাম হোসেন জুয়েল।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি আহসান হাবিব, পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এস এম ফজলুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর দুলাল, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান পাতা, পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র আনোয়ার হোসেন জনি, বিএনপি নেতা বিষ্টু কুমার সরকার ও টুটুল বিশ্বাস, সাবেক ছাত্রনেতা আবু সাঈদ লিটন এবং পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোস্তফা নূরে আলম শ্যামল প্রমুখ।

দোয়া মাহফিলে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণ করা হয়। পাশাপাশি ১৯৯০ সালের গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

১৫৬ দিন পর হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৫৬ দিন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় নিয়ে আসা হয় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে।

খালেদা জিয়ার বাসায় ফেরার খবরে বসুন্ধরা আসাসিক এলাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে ভিড় জমান বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা হাসপাতাল থেকে খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে যুক্ত হয়ে বাসা পর্যন্ত আসেন। বিকেল থেকে খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে ভিড় জমান তারা।

এদিকে খালেদা জিয়ার আসার খবরে তার বাসভবনে আসেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানসহ অন্যান্য নেতারা।

এর আগে বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার বলেন, বিকাল ৫টার দিকে হাসপাতাল থেকে রওনা হয় খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়ি বহর।

তিনি আরও বলেন, মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্তক্রমে শারীরিক কিছু জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দীর্ঘ ১৫৬ দিন চিকিৎসা শেষে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসায় ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

৭৮ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, হার্ট ও চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। তার পেট ও বুকে পানি বৃদ্ধি এবং লিভারে রক্তক্ষরণ বন্ধে ২৬ অক্টোবর ট্রান্সজুগার ইন্ট্রাহেপাটিক পোর্টোসিস্টেমিক শন্ট (টিআইপিএস পদ্ধতি) নামে পরিচিত হেপাটিক পদ্ধতি সম্পন্ন করেন যুক্তরাষ্ট্রের তিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

২০২০ সালে শর্তসাপেক্ষে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল বোর্ডের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে পুরান ঢাকার কারাগারে পাঠানো হয়। পরে একই বছর দুর্নীতির আরেকটি মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যে গুলশানের বাসায় অবস্থান এবং দেশ ত্যাগ না করার শর্তে সরকার ২০২০ সালের ২৫ মার্চ এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে সাময়িকভাবে মুক্তি দেয়। এরপর থেকে একাধিকবার জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

খালেদা জিয়াকে ভোট চুরির অপরাধে বিদায় নিতে হয়েছিল : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খালেদা জিয়াকে ভোট চুরির অপরাধে বিদায় নিতে হয়েছিল। এক বার নয়, দুই বার বিদায় নিতে হয়েছিল।

তিনি বলেন, ২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। আমি বলেছিলাম গ্যাস পাবে না। আল্লাহ-তায়ালাও যখন সম্পদ দেয়, মানুষ বুঝে দেয়। সেই গ্যাস দিতে পারেনি। কূপ খনন করে দেখে গ্যাস নাই। 

১৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগ আয়োজিত ‌স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাত্র তিন বছর সাত মাস সময় পান। এর মধ্যেই দেশটাকে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলেন। স্বল্পোন্নত দেশের স্বীকৃতি জাতিসংঘ কর্তৃক আদায় করেন। এত অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের উন্নতিটা আমাদের স্বাধীনতা বিরোধীরা ভাবতেও পারেনি। যারা বলেছিল বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে কী হবে, এটা তো বটমলেস বাস্কেট হবে, তারা এই উন্নয়নটাকে মেনে নিতে পারেনি। একটা দেশ এত দ্রুত অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাবে, প্রবৃদ্ধি ৯ ভাগের ওপর উঠতে পারে, এটা তাদের ধারণার বাইরে ছিল। চক্রান্ত করে ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া ৯৬ সালে এক ভোটারবিহীন নির্বাচন করে, কর্নেল রশিদ ও হুদাকে ভোট চুরি করে ক্ষমতা বসালো। পার্লামেন্টে বিরোধী দলের নেতার আসন দিলো। ফারুককেও চেষ্টা করেছিল নওগাঁ থেকে জিতিয়ে আনতে, সেটা পারে নাই। তিনি (খালেদা) ঘোষণা দিলেন যে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। বেশি দিন বসতে পারেনি, ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন, ৩০ মার্চ জনগণের রুদ্ররসে খালেদা জিয়াকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। নাকে খত দিয়ে পদত্যাগ করে বিদায় নিয়েছিল।

তিনি বলেন, আজকে মানুষ বিদেশে গেলে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে সম্মান পায়। আর এই সম্মানটা দিতে পারে না আমাদের দেশের কিছু কুলাঙ্গার। ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদা বাহিনীর দোসর যারা ছিল, এরাই তাদের প্রেতাত্মা হয়ে দেশের মানুষের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে হত্যা করে যাচ্ছে। হত্যার পরিকল্পনা করছে।

জনগণের কাছে আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যেখানে বাস আছে, রেললাইন আছে, যেখানে এরকম (রেলপথ তুলে ফেলা) ঘটনা ঘটবে, সাথে সাথে জনগণ যদি মাঠে নামে এরা হালে পানি পাবে না।  এরা ধ্বংস করতে পারে, এরা মানুষের জন্য সৃষ্টি করতে পারে না। এরা মানুষকে খুন করতে পারে, কিন্তু মানুষের জীবনের শান্তি নিরাপত্তা দিতে পারে না। এরা মানুষের সর্বনাশ করতে পারে, মানুষের জীবনটা উন্নত করতে পারে না। কাজে তাদের কাছ থেকে সাবধান। আর কোথাও যদি এই ধরনের রেলের স্লিপ তুলে ফেলে, আগুন দেয়, যখনই করতে যাবে সরাসরি তাদের ধরতে হবে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

রেল লাইন থেকে বগি ফেলে দিয়ে মানুষ হত্যা করবে, এরা আবার গণতন্ত্রের কথা বলে কোন মুখে? হত্যাকারীরা কখনো গণতন্ত্র দিতে পারে না। এটা দেশের মানুষকে বুঝতে হবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, যারা জ্বালাপোড়া করে, রেল লাইনের স্লিপার তুলে ফেলে, এরা তো পরাজিত শক্তির দালাল। পরাজিত শক্তির দোসর। এদের না বলুন। এদের বাংলাদেশের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নাই। খুনি, সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতিবাজদের বাংলাদেশে কোনো স্থান নাই। বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ, বাংলাদেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছে, তারা ভোটের অধিকার প্রয়োগ করবে। শান্তিতে বাস করবে, উন্নত জীবন পাবে— সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী- খালেদাকে বিদেশ যেতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত মানবতাবিরোধী

নিজস্ব প্রতিবেদক:  বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেরই বাস্তবায়ন। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, কয়েকদিন আগে আইনমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তার ৩-৪ দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রী ভয়েস অব আমেরিকায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বেগম জিয়াকে বিদেশে যেতে হলে প্রথমে জেলে গিয়ে আদালতে আবেদন করতে হবে। গতকাল জানা গেল, রোববার আইনমন্ত্রী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। আজ সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত আসল তাকে বিদেশে যেতে দেওয়া হবে না। এমন সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া বক্তব্যেরই বাস্তবায়ন। ফ্যাসিবাদী শাসনে আইনমন্ত্রী যে শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত দোসর হবেন এটাই স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জীবন, বেঁচে থাকা এবং উন্নত চিকিৎসায় সুস্থ হওয়া সব কিছু প্রধানমন্ত্রী আর আইনমন্ত্রীর তামাশার হিংস্র বৃত্তে আটকে গেছে। দেশে এখন চলছে জয়বাংলার আইন। এই আইনে সুশাসন ও ন্যায়বিচার কঙ্কালে পরিণত হয়েছে।

রিজভী বলেন, খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে আটকে রেখে উন্নত চিকিৎসায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে তাকে দুনিয়া থেকে সরানোর নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে সরকার। উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে আজ আইন মন্ত্রণালয়ের নেতিবাচক সিদ্ধান্ত মানবতাবিরোধী ও অবিচারের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। এটি পূর্বপরিকল্পিত এবং একটি গভীর মাস্টারপ্ল্যানের অংশ। এই অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রধান শক্তি জনগণ হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।

বিএনপির এ নেতা বলেন, খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করার পরে বিভিন্ন কায়দায় বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে জনগণ বিশ্বাস করে। চারিদিকে পৈশাচিক প্রবৃত্তির যে ছবি দৃশ্যমান হচ্ছে সেটি বাংলাদেশ থেকে মুছে ফেলতে জনগণ আজ অঙ্গীকারবদ্ধ। শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত আক্রোশে খালেদা জিয়া বন্দি এবং উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

রিজভী আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতেই চলছে বহুমাত্রিক নিষ্ঠুর আয়োজন। আজ আইন মন্ত্রণালয়ের এই বেআইনি সিদ্ধান্ত তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে বাধা দেওয়ারই অংশ। আইন মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। জনগণ এই সিদ্ধান্ত ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি, নেয়া হলো সিসিইউতে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কেবিন থেকে করোনারী কেয়ার ইউনিট-সিসিইউ’তে নেয়া হয়েছে।

গতকাল রোববার দিবাগত রাত দুইটার দিকে তাকে সিসিইউতে নেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবীর খান।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সবশেষ শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করতে গতকাল রাত সাড়ে ১১টায় দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড বৈঠকে বসে। ওই বৈঠকে তাকে সিসিইউতে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার ও হৃদ্‌রোগে ভুগছেন। তার পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ ও লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা।

২০২১ সালের এপ্রিলে কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে কয়েকবার নানা অসুস্থতার কারণে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা হয়। সেদিন থেকে তিনি কারাবন্দী হন। পরে হাইকোর্টে এ সাজা বেড়ে ১০ বছর হয়। এরপর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার আরও সাত বছরের সাজা হয়।

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার খালেদা জিয়ার দণ্ড ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে। সেই থেকে তিনি গুলশানের বাড়িতেই ছিলেন। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়ায় প্রায় এক মাস ধরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন