মুলাডুলি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মুলাডুলি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মোবারক হোসেন নামের এক ব্যক্তির শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের রেলগেট এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে শিশুটিকে কৌশলে মুলাডুলি ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের একটি লিচুবাগানে নিয়ে যান মোবারক হোসেন। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টার একপর্যায়ে তার চিৎকার ও কান্নাকাটিতে তিনি তাকে ছেড়ে দেন। পরে শিশুটি বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বিবরণ দেয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, পাঁচ বছর বয়সী একটি শিশুর সঙ্গে এমন ন্যক্কারজনক অপরাধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অপরাধের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়ে বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁকে আইনের আওতায় আনা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন শিশুটির বাবা আমিরুল ইসলাম, স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক ও বিপ্লব হোসেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহনাজ পারভীন মাহফুজা, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মাফরুহা পারভীন চামেলী, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হেদায়াতুল ইসলাম অনিক এবং জেলা কৃষক দলের সহঅর্থ সম্পাদক আবু তালেব জোয়ার্দ্দার।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান বলেন, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। আসামি মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মেলায় যাওয়া নিয়ে ঝগড়া: ঈশ্বরদীতে ঘরের আড়ায় ঝুলছিল গৃহবধূর মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীতে মেলায় ঘুরতে নিয়ে না যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে অভিমান ও দ্বন্দ্বের জেরে তামান্না খাতুন (১৯) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন।

সোমবার ভোররাতে উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের খাঁপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত তামান্না খাতুন ওই এলাকার মৃত করিম খাঁর ছেলে মিরাজুল ইসলাম জয়ের স্ত্রী।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে মুলাডুলি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল কাশেম জানান, গত রোববার ঈশ্বরদীর মুলাডুলিতে বৃক্ষমেলার সমাপনী অনুষ্ঠান ছিল। বিকেলে মেলায় যাওয়ার জন্য স্বামীর কাছে বায়না ধরেন তামান্না। তবে তাঁকে সঙ্গে না নিয়ে একাই মেলায় যান মিরাজুল ইসলাম।

মেলা শেষে রাত দুইটার দিকে বাড়িতে ফেরেন মিরাজুল। এ সময় মেলায় যাওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও দ্বন্দ্ব হয়। পরে মিরাজুল পাশের একটি কক্ষে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।

সকালে ঘুম থেকে উঠে পরিবারের সদস্যরা তামান্নাকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।

ঈশ্বরদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হাই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ উদ্ধার করে থানার হিমাগারে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য তা পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঈশ্বরদীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির প্রকাশ্য বাণিজ্য, অর্ধেকের বেশি হাতবদল

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের আশ্রয়ণ নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ঈশ্বরদীতে গৃহহীনদের জন্য নির্মিত প্রকল্পের ঘর বিক্রির প্রকাশ্য বাণিজ্য চলছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী হস্তান্তর অযোগ্য এসব ঘর নোটারি ও ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে সই নিয়ে লিখিতভাবে কেনাবেচা করছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দকৃত বাড়িগুলোর অর্ধেকের বেশিই হাতবদল হয়ে গেছে।

উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের বহরপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্পের ২০৮টি ঘরের অর্ধেকেরও বেশি বরাদ্দের মূল মালিকেরা সেখানে থাকেন না। গৃহহীনদের জন্য নির্ধারিত এসব ঘর ৪০ থেকে ৮০ হাজার টাকায় কেনাবেচা করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, জামায়াতের এক নেতার নির্দেশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কিছু নেতাকর্মী ও সদস্য এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। প্রকল্পের এক বাসিন্দা জানান, বরাদ্দপ্রাপ্তদের কাছ থেকে কম দামে ঘর কিনে পরে বেশি দামে বিক্রি করে চক্রটি সিংহভাগ টাকা পকেটে পুরেছে। পরিচয় গোপন করে যোগাযোগ করা হলে সিন্ডিকেটের সদস্যরা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে যেকোনো কাউকে ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।

তবে এই বেচাকেনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা দাবি করেন, এক ব্যক্তিকে খালি ঘর ব্যবস্থা করে দেওয়া ছাড়া তিনি কোনো আর্থিক লেনদেনে জড়িত নন এবং তাঁর নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান, উপযুক্ত ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাঁদাপানি জমে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি কর্মসংস্থানহীনতা, মাদকাসক্তদের উপদ্রব ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্তদের অনেকেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেহাব উদ্দিন সরকার জানান, অবহেলার কারণে কিছু জায়গায় কাঁদাপানি জমেছে, যা সংস্কারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নীতিমালা ভঙ্গ করে ঘর কেনাবেচার পূর্ণাঙ্গ তালিকা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় এসব রেজিস্ট্রি বাতিলসহ হাতবদলে জড়িত মধ্যস্থতাকারী ও সিন্ডিকেট সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় বন্দুক উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি একনলা বন্দুক ও একটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র (হাসুয়া) উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার গভীর রাতে উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের প্যারিস রোড এলাকা থেকে অস্ত্র দুটি উদ্ধার করা হয়।

ঈশ্বরদী থানা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ প্যারিস রোড এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় বন্দুক ও হাসুয়াটি পাওয়া যায়। তবে ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, উদ্ধার করা অস্ত্র দুটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এগুলো সেখানে কারা রেখে গেছে কিংবা কোনো অপরাধমূলক কাজের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ওসি।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন