দুর্নীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দুর্নীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির প্রকাশ্য বাণিজ্য, অর্ধেকের বেশি হাতবদল

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের আশ্রয়ণ নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ঈশ্বরদীতে গৃহহীনদের জন্য নির্মিত প্রকল্পের ঘর বিক্রির প্রকাশ্য বাণিজ্য চলছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী হস্তান্তর অযোগ্য এসব ঘর নোটারি ও ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে সই নিয়ে লিখিতভাবে কেনাবেচা করছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দকৃত বাড়িগুলোর অর্ধেকের বেশিই হাতবদল হয়ে গেছে।

উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের বহরপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্পের ২০৮টি ঘরের অর্ধেকেরও বেশি বরাদ্দের মূল মালিকেরা সেখানে থাকেন না। গৃহহীনদের জন্য নির্ধারিত এসব ঘর ৪০ থেকে ৮০ হাজার টাকায় কেনাবেচা করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, জামায়াতের এক নেতার নির্দেশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কিছু নেতাকর্মী ও সদস্য এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। প্রকল্পের এক বাসিন্দা জানান, বরাদ্দপ্রাপ্তদের কাছ থেকে কম দামে ঘর কিনে পরে বেশি দামে বিক্রি করে চক্রটি সিংহভাগ টাকা পকেটে পুরেছে। পরিচয় গোপন করে যোগাযোগ করা হলে সিন্ডিকেটের সদস্যরা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে যেকোনো কাউকে ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।

তবে এই বেচাকেনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা দাবি করেন, এক ব্যক্তিকে খালি ঘর ব্যবস্থা করে দেওয়া ছাড়া তিনি কোনো আর্থিক লেনদেনে জড়িত নন এবং তাঁর নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান, উপযুক্ত ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাঁদাপানি জমে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি কর্মসংস্থানহীনতা, মাদকাসক্তদের উপদ্রব ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্তদের অনেকেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেহাব উদ্দিন সরকার জানান, অবহেলার কারণে কিছু জায়গায় কাঁদাপানি জমেছে, যা সংস্কারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নীতিমালা ভঙ্গ করে ঘর কেনাবেচার পূর্ণাঙ্গ তালিকা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় এসব রেজিস্ট্রি বাতিলসহ হাতবদলে জড়িত মধ্যস্থতাকারী ও সিন্ডিকেট সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ পরিদর্শক ও তার স্ত্রীর প্রায় ১০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রায় ১০ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ফরিদপুরের সাবেক পুলিশ পরিদর্শক সুভাষ চন্দ্র সাহা (বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত) ও তার স্ত্রী মিসেস রীনা চৌধুরীর বিরুদ্ধে পৃথক দুই মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

৪ ডিসেম্বর সোমবার সংস্থাটির উপপরিচালক মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করেন।

সুভাষ চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে ৫৭ লাখ ৯১ হাজার ৯৯৭ টাকা এবং তার স্ত্রী রীনা চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৯ কোটি ১৪ লাখ ৯ হাজার ৩১৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬ (২) ধারা ও ২৭ (১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলাটি দায়ের করে।

প্রথম মামলায় আসামি করা হয়েছে রীনা চৌধুরীকে। দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তার সম্পদ বিবরণী তলব করলে আসামি রীনা বিবরণীতে ৮৩ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭৪ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেন। এছাড়া তার নামে ৯ কোটি ১৪ রাখ ৯ হাজার ৩১৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া গেছে দুদকের অনুসন্ধানে। আসামি রীনা চৌধুরী একজন গৃহিণী। তার স্বামী অপর আসামি সুভাষ চন্দ্র সাহার অসাধু উপায়ে অর্জিত সম্পদ বৈধ করার অসৎ উদ্দেশ্যে স্ত্রীর নামে আয়কর নথি খুলে তাতে উক্ত সম্পদ প্রদর্শন করেছেন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনে তার স্বামীকে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছেন।

অপরদিকে দ্বিতীয় মামলায় সুভাষ চন্দ্র সাহার নামে ৫৭ লাখ ৯১ হাজার ৯৯৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এজহারে বলা হয় আসামির সঙ্গে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে বা অন্য কোনো সম্পদ পাওয়া গেলে তাও আমলে নেওয়া হবে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন