সাহিত্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সাহিত্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

পাবনায় আহমদ ছফার জন্মদিন উপলক্ষে সেমিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনায় বিশিষ্ট লেখক ও সমাজচিন্তক আহমদ ছফার জন্মদিন উপলক্ষে সেমিনার হয়েছে। মঙ্গলবার পাবনা আহমদ ছফা রিডিং সোসাইটির উদ্যোগে শহরের আব্দুল হামিদ কমপ্লেক্সের মেমোরিয়াল ক্লাব বুকসে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

পাবনা সরকারি মহিলা কলেজের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. আকতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাংবাদিক আখতারুজ্জামান আখতার এবং পাবনা সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রউফ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন লেখক ও নদী গবেষক ড. মো. মনছুর আলম। এরপর আহমদ ছফার ‘যদ্যপি আমার গুরু’ বইয়ের ওপর প্রবন্ধ পাঠ করেন পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক এবিএম মাহফুজুর রহমান।

আলোচনায় আরও অংশ নেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মাজহারুল ইসলাম, লেখক ও গবেষক জিশু জেমস এবং কবি ও গল্পকার কথা হাসনাত। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও পরিচালনা করেন কবি ও গবেষক সালেক শিবলু।

ঈশ্বরদীতে ‘ভবঘুরে’র স্মরণে দোয়া -শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক: কবি, লেখক, বাংলা একাডেমির ফেলো এবং ঈশ্বরদী সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা মজিবর রহমান বিশ্বাস ‘ভবঘুরে’র ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

বুধবার সকালে ঈশ্বরদী সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাঁর কবর জিয়ারত, দোয়া ও শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সহসভাপতি জাহিদুল আলম সনু, সহসম্পাদক আতাউর রহমান বাবলু, কোষাধ্যক্ষ নূরুল ইসলাম বাবলু, সাংগঠনিক সম্পাদক ওহেদুজ্জামান টিপু, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক পরিতোষ পাল, নির্বাহী সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই চৌধুরী মঞ্জু, আশিকুর রহমান লুলু, সদস্য আব্দুল মতিন এবং সাংবাদিক খোন্দকার মাহাবুবুল হক দুদুসহ অন্যরা।

পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সংগঠনের কার্যালয়ে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

মজিবর রহমান বিশ্বাস ১৯২৫ সালের ৫ মে ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৯ সালের ১ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা লক্ষ্মীকুণ্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে তিনি পাকুড়িয়া মাইনর ইংলিশ স্কুলে (বর্তমান পাকুড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ) এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চন্দ্রপ্রভা বিদ্যাপীঠ, পাকশীতে পড়াশোনা করেন। সেখান থেকে ১৯৪৫ সালে মাধ্যমিক পাস করার পর সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে অধ্যয়ন শেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রখ্যাত কবি শঙ্খ ঘোষও চন্দ্রপ্রভা বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থী ছিলেন।

কৈশোর থেকেই মজিবর রহমান বিশ্বাস সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৩৯ সালে ১৪ বছর বয়সে কৃষক সম্মেলনে অংশ নিয়ে বামপন্থী রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেন। কারাগারে ও মুক্তির পর নানা নির্যাতনের শিকার হন। ১৯৫৩ সালে মুক্তির পর তাঁর লেখায় সেই অভিজ্ঞতার প্রতিফলন দেখা যায়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি কমিউনিস্ট আদর্শে আস্থাশীল ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে কারাভোগ করেছেন। এ ছাড়া কমরেড মুজফ্ফর আহমদ ও জ্যোতি বসুর সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

মজিবর রহমান বিশ্বাসের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে অচেনা মানুষের ইতিকথা, শঠতা জীবন দর্শন নয়, সাতলাঠির কথা, দীপান্বিতা, বোবা কাহিনি যা স্বাধীনতাউত্তরকালের, আমরা ক'জন স্কুল মাস্টার এবং কৃষক শ্রমিক সমস্যা।

ঈশ্বরদীতে নোঙর আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসবে মিলনমেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে শুক্রবার দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘নোঙর আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসব-২০২৫’ সম্পন্ন হয়েছে। দেশের পাশাপাশি ভারত ও নেপালসহ বিভিন্ন দেশের দুই শতাধিক কবি ও সাহিত্যিক এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ঈশ্বরদী আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র ও জাতীয় ডাল গবেষণা কেন্দ্রের চত্বরে।

উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কবি প্রভা ভট্টা রায়।

দিবসব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, রঙিন শোভাযাত্রা, সেমিনার, কবিতা পাঠ, আলোচনা সভা এবং নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি অধ্যাপক আখতার হোসেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আকতার হোসেন সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নোঙরের মুখ্য সমন্বয়ক হাসানুজ্জামান। আলোচনা সভায় বক্তৃতা দেন ভারতের কবি ও গবেষক মানিক পন্ডিত, নেপালের কবি সাম্পাদা ভট্টা রায়, বিভুতি অধিকারী, ঢাকা সিএমএম আদালতের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ সিরাজুল ইসলাম মামুন, ঈশ্বরদী সম্মিলিত নাগরিক জোটের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান পলাশ, সদস্য সচিব আশিকুর রহমান লুলু, সাংবাদিক আজিজুর রহমান শাহীন, খায়রুল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খায়রুল ইসলাম, বগুড়া লেখক চক্রের সভাপতি ইসলাম রফিক, কবি আতাউর রহমান পাতা, সাংবাদিক মাহাবুবুল হক দুদু, মুক্তিযোদ্ধা কবি ই. ম. শহীদুল ইসলাম, আতাউর রহমান বাবলু, ডা. সরোয়ার জাহান ফয়েজ, লুৎফর রহমান, অধ্যাপক সাজিদুল ইসলাম খোকন, আব্দুদ দাইন সরকার, সালেক সিবলু এবং আলমগীরুল নিউটন।

উৎসবে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১২ জন নারী কবি ও লেখককে ‘নোঙর সাহিত্য সম্মাননা’ প্রদান করা হয়।

ঈশ্বরদীর চরনিকেতনে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী সাহিত্য উৎসব শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর চরগড়গড়ি গ্রামের চরনিকেতনে শেষ হলো তিন দিনব্যাপী চরনিকেতন বৈশাখী সাহিত্য উৎসব ১৪৩২। সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার—এই উৎসব চলে উৎসবপ্রেমী কবি, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের অংশগ্রহণে।

চরনিকেতন কাব্যমঞ্চের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হওয়া এই আয়োজন প্রতিবারের মতো এবারও কবিতা, গান, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় জমজমাট হয়ে ওঠে। বর্ষবরণের আনন্দ শোভাযাত্রা, বৈশাখী গান, বাউল সংগীত, দেশাত্মবোধক সঙ্গীত, আবৃত্তি ও কবিতা পাঠে মুখরিত হয়ে ওঠে চরনিকেতন।

উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ ছিল বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে সেমিনার, কবি মজিদ মাহমুদের ৬০তম জন্মদিন উদ্‌যাপন এবং দেশ-বিদেশের শতাধিক কবি-সাহিত্যিকের অংশগ্রহণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাহিত্য উৎসবের সভাপতিত্ব করেন কবি মজিদ মাহমুদ। অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলটির জেলা কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম, কবি শেখ রবিউল হক, সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল আওয়াল, ভারত থেকে আসা কবি অরূপ কুমার ভুঁইয়া ও শিক্ষাবিদ আলহাজ্ব মাহাতাব উদ্দিন বিশ্বাস।

ঢাকা থেকে আসা উল্লেখযোগ্য কবিদের মধ্যে ছিলেন শামসুদ্দিন হীরা, আজিজুল বাশার, ফিরোজ শাহ, রুবিনা আজাদ, মেহেদী হাসান আকাশ, অচিন্ত্য চয়ন, আফতাব আহমেদ মাহবুব, মাকসুদা ইয়াসমিনসহ অনেকে।

ঢাকার বাইরের সাহিত্যিকদের মধ্যে অংশ নিয়েছেন সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক আব্দুদ দাইন সরকার, ড. আব্দুর রউফ, শামীমা সীমা, যাযাবর জিয়া, বঙ্গ রাখাল, সোনিয়া আক্তার, রেহানা সুলতানা শিল্পী, আহমেদ মাসুম, ইউনুস আলী, গোধূলি সেলিম, নজরুল ইসলাম মুকুল প্রমুখ।

কবি মজিদ মাহমুদের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার। এতে অতিথি হিসেবে ছিলেন জেলা প্রশাসক কবি শেখ রবিউল হক, অরূপ কুমার ভুঁইয়া, মাহাতাব উদ্দিন বিশ্বাস এবং কবির পরিবারের সদস্যসহ দেশজুড়ে আগত কবিরা।

সাহিত্য উৎসবের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ওসাকার সহকারী নির্বাহী পরিচালক ডা. সানোয়ারা প্রপা, সিনিয়র পরিচালক মো. মাজহারুল ইসলাম, পরিচালক সাইফুল ইসলাম ও আব্দুল ওয়ারেস। সহযোগিতায় ছিলেন ওসাকার কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা।

ঈশ্বরদী চরনিকেতনে বর্ষাযাপন উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দুই দিনব্যাপী ‘চরনিকেতনে বর্ষাযাপন’ উৎসব অনুষ্ঠান।

এ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার ও গত সোমবার দিনব্যাপী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি গ্রামে বাংলাদেশ ভারতের দুই বাংলার কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অংশগ্রহণে কবিতাপাঠ, আড্ডা, আবৃত্তিসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আজ বিকেলে আবৃত্তি, স্বরচিত কবিতাপাঠ ও লেখক আড্ডার মধ্যদিয়ে এ উৎসবের সমাপ্ত ঘোষণা করেন চরগড়গড়ি চরনিকেতন কাব্যমঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা কবি মজিদ মাহমুদ। এর আগে সোমবার দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের উদ্বোধন করেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সত্তর দশকের অন্যতম প্রধান কবি মৃদুল দাশগুপ্ত।

এসময় তিনি বলেন, "সাহিত্যের জন্য আমাদের প্রকৃতি ও ঋতুর কাছেও ফিরে যেতে হয়। আমরা বাংলাদেশের ঈশ্বরদীর চরগড়গড়িতে এসে বর্যার সেই প্রকৃতিতে মুগ্ধ হয়েছি, এ গ্রাম, এ পরিবেশ আমাদের খুউব ভালো লেগেছে। এমন আয়োজনে আবারও ঈশ্বরদীতে আসতে চাই।"

নজরুল গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কবি মজিদ মাহমুদের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সত্তর দশকের অন্যতম কবি ও নাট্যকার কবি ফরিদ আহমদ দুলাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম চিত্রকর কবি শ্যামল জানা, ওপার বাংলার আশির দশকের কবি রামকিশোর ভট্টাচার্য। দুই বাংলা কবি ও সাহিত্যিক ছাড়াও বর্ষাযাপনে মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় শিল্পী, কলাকূশলী ও শিক্ষার্থীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন