ঈশ্বরদীতে যাত্রাবিরতি ও ট্রেনে আসন বৃদ্ধির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন ষ্টেশনে ঢাকাগামী সকল ট্রেনের যাত্রাবিরতি ও আন্তনগর ট্রেনের আসন বাড়ানোর দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। আজ বুধবার ১১টায় উপজেলা সদরের ষ্টেশন রোড বাজার এলাকায় এই মানববন্ধন হয়।

উপজেলার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ঈশ্বরদী উপজেলায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ বাস করে। উপজেলায় ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা আছে। সারা উপজেলায় পাঁচটি রেলস্টেশন থাকলেও ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন রেলস্টেশন দিয়ে বেশি মানুষ যাতায়াত করে। স্টেশনটিতে বর্তমানে ঢাকা-ঈশ্বরদী-খুলনা পথে চলাচলকারী সুন্দরবন এক্সপ্রেস নিয়মিত পথ থেকে সরিয়ে এনে পদ্মা সেতু দিয়ে চালানো হবে। একইভাবে ঢাকা-বেনাপোল পথে চলাচলকারী বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের পথও পরিবর্তন করা হচ্ছে। ফলে ঈশ্বরদী স্টেশনের যাত্রীরা রেলের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই স্টেশনের যাত্রীদের জন্য ট্রেন দুটির ৩০টি করে আসন বরাদ্দ আছে। অথচ এই রেলস্টেশন দিয়ে প্রতিদিন কয়েক শ মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আসন না পেয়ে ঈশ্বরদী রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠে অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের বেশি সমস্যা হয়। এ কারণে ট্রেনের যাত্রাবিরতি ও আসনসংখ্যা বাড়ানোর দাবিতে স্থানীয় সচেতন নাগরিক, ক্রীড়া সংগঠক ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একশো বছরের পুরোনো ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ঈশ্বরদী রেল জংশন থেকে ঢাকার সঙ্গে আগে থেকে চলাচলকারী সুন্দরবন ও বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের নিয়মিত পথ থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে যাত্রীদের। যাত্রীদের তুলনায় ট্রেন গুলোতে অনেক কম আসন বরাদ্দ করা হয়েছে। এজন্য উপজেলার বাসিন্দারা আন্দোলন করেছেন।

ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য ওহিদুজ্জামান টিপুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ কিরণ, সহসভাপতি খোন্দকার মাহাবুবুল হক দুদু, পৌর কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক, পৌরসভার সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান অঞ্জন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঈশ্বরদী শাখার আহবায়ক মাসুদ রানা ও  সামাজিক ও মাদকবিরোধী সংগঠন মানাবের সভাপতি মাসুম পারভেজ কল্লোল প্রমুখ। 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক বলেন, ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশনে সুন্দরবন ও বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি জানাচ্ছি। যদি আগামী ৭ দিনের মধ্যে আমাদের দাবি আদায় না হয়, তাহলে উপজেলার সব সংগঠনের সঙ্গে কথা বলে ট্রেন চলাচল বন্ধ ও রেলপথ অবরোধের মতো কর্মসূচি আমরা গ্রহণ করব।

মানববন্ধন চলাকালে মোস্তাক আহমেদ কিরণ তাঁর বক্তব্যে বলেন, জনস্বার্থে সুন্দরবন ও বেনাপোল এক্সপ্রেসের রুট বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানায়। ঈশ্বরদী জংশনে যাত্রীর তুলনায় আসনসংখ্যা অত্যন্ত কম। বৃদ্ধ ও নারী যাত্রীদের কথা চিন্তা করে অনতিবিলম্বে আসনসংখ্যা বাড়াতে হবে।

এদিকে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনের দুই নম্বর প্লাটফর্মে রেল ষ্টেশন থেকে কয়েকটি ট্রেন অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন হয়। ‘আমরা ঈশ্বরদীবাসী ও ঈশ্বরদীবাসীর পক্ষে মিলন চৌধুরী’র ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন।

ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি আসাদুর রহমান বীরুর সভাপতিত্বে ও  দৈনিক উত্তর জনতার সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ববি সরদারের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হক মোল্লা, পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল হামিদ, সাঁড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুর রশিদ, লেখক ও কলামিস্ট মোশাররফ হোসেন মুসা, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তৌহিদ আক্তার পান্না, যুবলীগ নেতা  ইমতিয়াজ চৌধুরী মিলন ও উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি মফিকুল ইসলাম মুকুল।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন