ঘূর্ণিঝড় মোখা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ঘূর্ণিঝড় মোখা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মোখা: সচল চট্টগ্রাম বন্দর, সকালে উড়বে বিমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঘূর্ণিঝড় মোখার বিপদ কমায় চট্টগ্রাম বন্দর ও শাহ আমানত বিমানবন্দর কাজ শুরুর প্রস্তুতি নিয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষপর সচিব ওমর ফারুক বলেন, ‘মহাবিপদ সংকেত তুলে নিয়ে সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সেই হিসেবে আমাদের অ্যালার্ট-৪ তুলে নেয়া হয়েছে। ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত অনুযায়ী এখন অ্যালার্ট-১ জারি আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাইনি আমরা। বন্দর তৈরি। এখন কেউ চাইলে আমরা পণ্য ডেলিভারি দেব। তবে কাল জোয়ারের সময় জেটিতে জাহাজ ভিড়বে, তখন জাহাজ থেকে পণ্য খালাস শুরু হবে। এখন অন্যান্য স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা বাংলাদেশ উপকূল পেরিয়ে মিয়ানমারে গিয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। মহাবিপদ সংকেত তুলে নিয়ে জারি করা হয়েছে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত।

মহাবিপদ সংকেত তুলে নেয়ার খবরে সচল হচ্ছে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরও। সোমবার সকাল ৬ টা থেকে শুরু হচ্ছে বিমান ওঠা-নামা।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ব্যবস্থাপক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তাসলিম আহমেদ বলেন, ‘মহাবিপদ সংকেত তুলে নেয়ায় আমাদের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। আগামীকাল সকাল ৬ টা থেকে বিমান ওঠানামা শুরু হবে।’

শনিবার চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের পরিপ্রেক্ষিতে নিজস্ব ‘অ্যালার্ট-৪’ জারি করা হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্ক সংকেত ৮ বা তার বেশি হলেই নিজেদের সর্বোচ্চ এই অ্যালার্ট জারি করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এই এলার্ট জারি হলে বন্দরের সকল কার্যক্রম ক্রমান্বয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়।

শুক্রবার রাতেই ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে পরদিন সকাল ৬ টা থেকে রোববার রাত ১২ টা পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বিমান উঠানামা বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

মোখা দুর্বল, নামল বিপৎসংকেত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঘূর্ণিঝড় মোখা দুর্বল হওয়ায় বিপৎসংকেত নামিয়ে দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

সর্বশেষ বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি এই সংস্থাটি বলছে, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে সন্ধ্যা ৬টায় উপকূল অতিক্রম করেছে এবং দুর্বল হয়ে মিয়ানমারে সিত্তে-তে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি স্থলভাগের অভ্যন্তরে আরো উত্তর-উত্তর দিকে অগ্রসর ও বৃষ্টি ঝরিয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে।

কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে আট নম্বর মহাবিপৎসংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

মোংলা সমুদ্রবন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

অতি প্রবল শক্তি নিয়ে রোববার বিকেলে কক্সবাজার ও মিয়ানমার উপকূলে আঘাত করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’। এতে কক্সবাজারের টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উড়ে গেছে বিপুলসংখ্যক ঘরের চালা। উপড়ে গেছে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছপালা। ভেঙে পড়েছে ঘরবাড়িসহ অসংখ্য স্থাপনা। ঝড়ের তাণ্ডব থামার পর ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে সড়ক থেকে গাছ সরাতে দেখা গেছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে টেকনাফের দ্বীপ সেন্ট মার্টিনেই ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ২০০ ঘরবাড়ির।

বিকেলে ঝড় দুর্বল হয়ে মিয়ানমারের স্থলভাগের দিকে চলে যাওয়ার পর খোঁজ নিয়ে ও সরেজমিনে দেখা গেছে, বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সেন্ট মার্টিন, টেকনাফ সদর, পৌর এলাকা, সাবরাং, ডেইলপাড়া, জাদিমুড়া এলাকায় প্রচুর গাছপালা ভেঙে পড়েছে। এছাড়া কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতি পাড়া, কুতুবদিয়া পাড়া, নাজিরারটেক, মহেশখালীর ধলঘাটা, মাতারবাড়ি ও কুতুবদিয়ার কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিতও হয়েছে।

‘মোখা’য় বিপর্যস্ত কক্সবাজার, ১০ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

ঝড়ে তছনছ একটি বাড়ি। 

নিজস্ব প্রতিবেদক: অতি প্রবল শক্তি নিয়ে রোববার বিকেলে কক্সবাজার ও মিয়ানমার উপকূলে আঘাত করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’। এতে কক্সবাজারের টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উড়ে গেছে বিপুলসংখ্যক ঘরের চালা। উপড়ে গেছে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছপালা। ভেঙে পড়েছে ঘরবাড়িসহ অসংখ্য স্থাপনা। ঝড়ের তাণ্ডব থামার পর ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে সড়ক থেকে গাছ সরাতে দেখা গেছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে টেকনাফের দ্বীপ সেন্ট মার্টিনেই ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ২০০ ঘরবাড়ির।

বিকেলে ঝড় দুর্বল হয়ে মিয়ানমারের স্থলভাগের দিকে চলে যাওয়ার পর খোঁজ নিয়ে ও সরেজমিনে দেখা গেছে, বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সেন্ট মার্টিন, টেকনাফ সদর, পৌর এলাকা, সাবরাং, ডেইলপাড়া, জাদিমুড়া এলাকায় প্রচুর গাছপালা ভেঙে পড়েছে। এছাড়া কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতি পাড়া, কুতুবদিয়া পাড়া, নাজিরারটেক, মহেশখালীর ধলঘাটা, মাতারবাড়ি ও কুতুবদিয়ার কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিতও হয়েছে।

টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়ার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ঝড়ের তাণ্ডবে ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তিনিবলেন, ‘নতুন ঘর করেছি, হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় আঘাত করলো। বাড়ির সব অংশ উড়ে গেছে। এখন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকতে হবে।’

রফিকুলের মতো উপকূলের বাসিন্দা রমিসা বেগমের বাড়িঘরেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ঝড়ের খবর পাওয়ার পর থেকে ভয়ে ছিলাম। এক পর্যায়ে আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যাই। যখন বাতাস থেমে যায়, তখন ঘরে ফিরে দেখি অনেক কিছু উড়ে গেছে। ঘরের চাল নেই।’

ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়েছি। নিজেরা ভালো ছিলাম। ফিরে দেখি ঝড় সব উড়িয়ে নিয়ে গেছে। আসবাবপত্র, মালামালও হাওয়া। চালের টিনও উড়ে গেছে। ভয়াবহ ঝড় ছিল এবার।’

টেকনাফের সাবরাং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) আব্দুস সালাম বলেন, ‘মোখা তাণ্ডব চালিয়েছে আমার এলাকায়। অন্তত দুই শতাধিক বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দোকানপাট, মৎস্যঘেরেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’

কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আক্তার কামাল বলেন, ‘জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার পর থেকে প্রচুর মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছিল। কিছু কিছু এলাকায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান জানান, মোখার তাণ্ডবে কক্সবাজারে ১০ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে টেকনাফের সেন্ট মার্টিনেই ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ২০০ ঘরবাড়ির। এছাড়া অসংখ্য গাছপালা উপড়ে গেছে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘মোখার তাণ্ডব সন্ধ্যা ৭টার পর পুরোদমে শিথিল হয়ে যাওয়ার কথা। বিপদসংকেত নেমে এলে আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা আড়াই লাখ মানুষ ঘরে ফিরতে পারবেন।’

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান বলেন, ‘ঝড়ে ইতোমধ্যে টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পাওয়া গেছে। কিছু এলাকায় গাছগাছালি ও ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। দুই এলাকায় বেশ কয়েকজনের আহত হওয়ার সংবাদ পেয়েছি।’

মোখার চোখরাঙানি মনে করিয়ে দিচ্ছে ভয়াল সেই রাতের কথা

১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে বিপর্যস্ত এলাকার একটি চিত্র। ছবি: ইন্টারনেট

নিজস্ব প্রতিবেদক: অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ কক্সবাজার উপকূলের আরও কাছে চলে এসেছে। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলের মানুষজন ছুটছেন আশ্রয়ের খোঁজে।

মোখার এই চোখরাঙানি মনে করিয়ে দিচ্ছে ১৯৯১ সালের প্রলয়ঙ্করী সেই ঘূর্ণিঝড়ের কথা। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানে হারিকেনের শক্তিসম্পন্ন প্রবল এক ঘূর্ণিঝড়। ভয়াল সেই রাতে সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ। প্রায় ১ কোটি মানুষ তাদের সর্বস্ব হারান। মানুষের পাশাপাশি অগণিত গবাদি পশুও মারা যায়।

প্রলয়ঙ্করী সেই ঘূর্ণিঝড় এবং ঘূর্ণিঝড়ের পরবর্তী বিপর্যয়ের কথা আজও ভুলতে পারেন না ষাটোর্ধ্ব আব্দুল করিম। পাবনার বাসিন্দা হলেও সে সময় কর্মসূত্রে তিনি ছিলেন পতেঙ্গাসংলগ্ন বিমানবন্দর এলাকায়।

সেদিনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালের সেই ২৯ এপ্রিল সকাল থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। দুপুরের দিকে বৃষ্টির তোড় কিছুটা বাড়ে। সঙ্গে শুরু হয় বাতাস। বিকেলে আমি একবার পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু বৃষ্টির কারণে পারিনি। সন্ধ্যার দিকে বৃষ্টির সঙ্গে শুরু হয় দমকা বাতাস। রাত ৮-৯টার দিকে শুরু হয় ভয়াবহ তাণ্ডব। আমি থাকতাম দোতলা একটি ভবনে। প্রবল বাতাসে আমার ঘরের একটি জানালা খুলে যায়। কিন্তু বাতাসের বেগ এতো বেশি ছিল যে ভোরের আগে সেই জানালা আর বন্ধ করতে পারিনি।’

দোতলায় থাকার কারণে সেদিন প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন বলে জানান আব্দুল করিম। তবে বিপদ সংকেত আমলে না নেয়ায় সেদিন প্রাণ হারিয়েছিলেন ওই ভবনের নিচতলার কয়েকজন বাসিন্দা।

সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে আব্দুল করিম জানান, দুয়েকদিন আগে থেকেই ঘূর্ণিঝড়ের কথা প্রচার করা হচ্ছিল রেডিও ও টেলিভিশনে। ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের কথা ঘোষণা দিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছিল। এছাড়া স্থানীয় সরকারি,বেসরকারি সংস্থা, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে মাইকিং করা হচ্ছিল। কিন্তু অনেকেই সেই সতর্কবার্তা আমলে নেননি বলে জানান আব্দুল করিম।

তিনি বলেন, আমি যে ভবনটিতে থাকতাম সেটির নিচতলায় আমার একজন বন্ধু থাকতেন। সন্ধ্যায় আবহাওয়ার পরিস্থিতি দেখে তাকে আমার সঙ্গে দোতলায় এসে থাকার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। ও তেমন পাত্তা না দিয়ে বলেছিল, এমন সতর্ক সংকেত তো আগেও কত দিয়েছে কিছু হবে না। আমি একাই আমার রুমে চলে এলাম। রাতে যখন প্রচণ্ড বাতাস শুরু হলো তখন আর নিচে নামার অবস্থা ছিল না। তখনো জানি না যে ২০/২৫ ফুট উঁচু ঢেউ এসে তছনছ করে দিয়েছে সব। আচমকা আসা ঢেউয়ের তোড় ভাসিয়ে নিয়ে গেছে আমার বন্ধুকে। সেদিন আমাদের ভবনের নিচতলার বাসিন্দারা কেউ আর বাঁচতে পারেনি।

ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী ভয়াবহতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘ভোর ৪/৫টার দিকে ভাটা শুরুর পর ঝড়ের গতিবেগ কিছুটা কমে। জোয়ারের পানিও নেমে যায়। তবে তখনও বৃষ্টি হচ্ছিল। দোতলায় থাকা আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই কোমর পানি ঠেলে নিচে নামি। ভোরের সেই আলোতে সেদিন যে দৃশ্য দেখেছি তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আমাদের পাশ দিয়ে মানুষ আর গরুর মরদেহ ভেসে যেতে দেখেছি।’

ঘূর্ণিঝড়ের পর খাদ্য ও পানির সংকট দেখা দিয়েছিল জানিয়ে আব্দুল করিম আরও বলেন, ‘তিনদিন শুধু সঙ্গে থাকা আম আর চিড়া খেয়ে ছিলাম।’

জলোচ্ছ্বাসের পানি নেমে যাওয়ার পর মানুষ আর গবাদি পশুর মরদেহগুলো পচে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল বলেও স্মৃতি হাতড়ে জানান তিনি। স্মরণ করেন গাছের ডালে মরদেহ আটকে থাকতে দেখার ভয়াবহ স্মৃতি।

১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় নিহতের সংখ্যা বিচারে স্মরণকালের ভয়াবহতম ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে একটি। ওই ঝড়ের সময় জোয়ার মিলে যাওয়ায় তা এতো ভয়ংকর রূপ নেয় বলে বিভিন্ন গবেষণায় বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। এছাড়া ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঘূর্ণিঝড়’ খ্যাত ১৯৭০–এর ঘূর্ণিঝড়ের পর বাংলাদেশে তেমন বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানেনি। তাই উপকূলীয় জনগণ বিপদ সংকেতকে তেমন আমলে নেয়নি। আর সে সময় জোয়ারের কারণে ঢেউয়ের তোড়ে প্রাণহানির ঘটনা বেশি ঘটে। এছাড়া সে সময় উপকূলীয় এলাকার দুর্বল গৃহকাঠামোও ছিল ব্যাপক প্রাণহানির অন্যতম কারণ।

সোমবারের ৬ বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষাও স্থগিত

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ উপকূলের দিকে এগিয়ে আসায় ছয় শিক্ষাবোর্ডে আগামী রোববার অনুষ্ঠেয় এসএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। এবার আগামী সোমবারের (১৫ মে) পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।

শনিবার  আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল শিক্ষা বোর্ড, যশোর শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আগামী রোববার ও সোমবার অনুষ্ঠেয় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। অন্যান্য বোর্ডে ওই দিনের পরীক্ষা যথারীতি হবে।

স্থগিত হওয়া পরীক্ষার পরিবর্তিত সময়সূচি পরে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

কক্সবাজারের আরও কাছে মোখা, বাতাসের গতিবেগ ১৯০ কিমি

নিজস্ব প্রতিবেদক: অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ কক্সবাজার উপকূলের আরও নিকটে চলে এসেছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৭০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।

শনিবার বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১৫ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও আরও ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি শনিবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে কক্সবাজার-উত্তর মিয়ানমার উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

আবহাওয়ার বিশেষ এই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার রাত থেকেই চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় এলাকায় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগের প্রভাব শুরু হতে পারে।

এই অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৭০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আর মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশ ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮-১২ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। একই কারণে ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-০৭ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ভারী (৪৪-২৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৫৮৯ মিলিমিটার) বর্ষণ হতে পারে। অতি ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি চট্টগ্রামের অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

কক্সবাজারে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’। চলমান পরিস্থিতিতে কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদসংকেত জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারাও কিছুক্ষণের মধ্যেই ১০ নম্বর মহাবিপদসংকেতের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে।

প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান শনিবার সচিবালয়ে মোখার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার বন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদসংকেত জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৮ নম্বর মহাবিপদসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। মোংলা সমুদ্রবন্দরে ৪ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত থাকবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরে কর্তব্যরত এক কর্মকর্তা দুপুর দেড়টার দিকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোখা আরও শক্তি সঞ্চয় করে কক্সবাজার বন্দরের দিকে এগিয়ে আসছে। এ অবস্থায় কক্সবাজারের জন্য ১০ নম্বর মহাবিপদসংকেত চূড়ান্ত করা হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।

২২১ কিমি গতিতে উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ‘মোখা’

সেন্টমার্টিন, টেকনাফ, কক্সবাজার সবচেয়ে ঝুঁকিতে, ১২-২০ ফুট জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা

অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে। এরই প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। গতকাল চট্টগ্রামের পতেঙ্গা উপকূলে। ছবি: ফোকাস বাংলা

বিশেষ প্রতিনিধি: শক্তি বাড়ছে ঘূর্ণিঝড় মোখার। শুক্রবার প্রবল থেকে মোখা অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। উপকূল থেকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টি এক হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। গতকাল থেকে এটি ধীরগতিতে এগোচ্ছে, ঝড়ের কেন্দ্রে প্রতিনিয়ত শক্তি বাড়ছে। কাল রোববার দুপুরের দিকে এটি কক্সবাজারের টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। এ সময় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ২২১ কিলোমিটার। কক্সবাজার উপকূলে ২০ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত এবং মোংলা বন্দরকে ৪ নম্বর হুশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এবারের ঘূর্ণিঝড়ে সব থেকে বড় আশঙ্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে জলোচ্ছ্বাস। ইতিমধ্যে ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে গতকাল সাগরে ২৮ ফুট পর্যন্ত ঢেউয়ের ‍সৃষ্টি হয়েছে। প্রবল জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টির সঙ্গে দমকাসহ ঝোড়ো হাওয়া উপকূলবাসীর জীবন আরও নাজুক করে দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঝড়ের মূল কেন্দ্র কক্সবাজারের টেকনাফ দিয়ে অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে, সে কারণে এই উপজেলার সব মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়াটাই ভালো। আজ রোববার দিনের আলো নেভার আগেই এসব কাজ প্রশাসনকে করতে হবে বলেও আবহাওয়াবিদরা মনে করেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখার কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার। এটি দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জয়েন্ট টাইফুন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে গতকাল সকালে সাগরে ২৮ ফুট পর্যন্ত ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান বলেন, অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ বাংলাদেশের দিকেই। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে প্রবল বৃষ্টিপাত, ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রবৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে ভূমিধস হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ১১ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ২ নম্বর সংকেতটি তুলে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেয়। পরে রাতে তিন বন্দর ও ১২ জেলায় ৮ নম্বর বিপদ সংকেত দেয়। এর আগে গতকাল সকালে প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় মোখা গতকাল দুপুর পর্যন্ত চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে।

এদিকে ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগের ১০ নম্বর বুলেটিনে বলা হয়েছে, রোববার দুপুর ১২টার দিকে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়টি খুব সম্ভবত কক্সবাজার ও মিয়ানমারের সিত্তের কাছে কিয়াকপিউ শহরের মাঝ দিয়ে বয়ে যেতে পারে। সে সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকতে পারে ১৫০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার।

বড় জলোচ্ছ্বাসের কবলে উপকূল
ঘূর্ণিঝড়টি কক্সবাজার উপকূল ও মিয়ানমার দিয়ে অতিবাহিত হলেও দেশের সব উপকূলে বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোখা কক্সবাজার ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ওপর দিয়ে আঘাত করলেও পুরো বাংলাদেশের সব উপকূলীয় জেলায় ব্যাপক জলোচ্ছ্বাসের সম্মুখীন হবে ঘূর্ণিঝড়টি যাত্রাপথ ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান ও আকৃতির কারণে। কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ১৫ থেকে ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের প্রবল আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ১০ থেকে ১২ ফুট, বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতে ৮ থেকে ১২ ফুট ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে ৭ থেকে ১০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হওয়ার হুমকির সম্মুখীন।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জয়েন্ট টাইফুন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে সমুদ্রে ২৮ ফুট পর্যন্ত ঢেউ তৈরি হয়েছে।

ঝড়ের গতি বাড়ছে

ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রথম দিকে এগোনোর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪ থেকে ১৫ কিলোমিটার। তবে গতকাল থেকে ঘূর্ণিঝড়টির এগোনো বেশ ধীর হয়ে যায়, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এটি ঘণ্টায় আট কিলোমিটার গতিতে এগোচ্ছিল। মূলত এর মধ্য দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টির শক্তি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। কারণ গত পরশুদিন বৃহস্পতিবার সকালে মোখা ছিল ঘূর্ণিঝড়, পরে এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। আর গতকাল এটি অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। কম গতিতে এগোলে ঘূর্ণিঝড় শক্তি সঞ্চয় বেশি করে।

দেশি ও বিদেশি আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থাগুলো বলছে, নিম্নচাপের সময় এটির কেন্দ্রের ব্যাস ছিল ৪০ কিলোমিটার। গভীর নিম্নচাপের সময় ব্যাস বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮ কিলোমিটার। অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়ার পর এটির বর্তমান ব্যাস ৭৪ কিলোমিটার। ঘূর্ণিঝড়টির এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তের পরিধি প্রায় ৬০০ কিলোমিটার।

ঘূর্ণিঝড়ের সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টাপ্রতি ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার হলে এটি ঘূর্ণিঝড়। গতিবেগ ৮৮ থেকে ১১৭ কিলোমিটারের হলে সেটিকে প্রবল ঘূর্ণিঝড় বলা হয়। বাতাসের গতিবেগ ১১৭ থেকে ২২০ কিলোমিটার হলে সেটি অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। আর এই গতিবেগ যদি ২২০ কিলোমিটারের বেশি হয় তাহলে সেটিকে সুপার সাইক্লোন বলা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইট স্পেস এক্সের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টি কক্সবাজার থেকে প্রায় ৯৫৫ কিলোমিটার দূরে ছিল। এ সময় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ছিল ১৬৫ কিলোমিটার। ঝড়টি ১৫৫ থেকে ১৯৫ কিলোমিটার বেগে কক্সবাজার উপকূলে আঘাত করতে পারে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জয়েন্ট টাইফুন সেন্টারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় মোখার বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২২১ কিলোমিটারের বেশি হতে পারে।

সেন্টমার্টিনে বড় আঘাত হানবে
যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট স্পেস এক্সের তথ্য বলছে, মোখা রোববার দুপুরের আগে সেন্টমার্টিনের ওপর দিয়ে টেকনাফের দিকে এগোবে। সে অর্থে সেন্টমার্টিন দ্বীপেই ঝড়টি প্রথম আঘাত হানতে পারে। এ সময় ১৫ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যে সেন্টমার্টিন থেকে মানুষ টেকনাফের দিকে যাত্রা শুরু করেছে। ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও স্পিডবোটে করে গতকাল সন্ধ্যার আগেই বহু মানুষ সেন্টমার্টিন ছেড়েছে। তবে সরকারিভাবে সেন্টমার্টিন ত্যাগ করার কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।

কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। দ্বীপটি অতিক্রমের সময় ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটারের বেশি থাকতে পারে। ফলে সেন্টমার্টিনে ১৫ থেকে ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। সেন্টমার্টিন দ্বীপ অতিক্রম করতে মোখার প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগবে। এই সময় সেখানে উচ্চ জলোচ্ছ্বাস থাকবে। সে জন্য সেখানকার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়াটাই সবচেয়ে ভালো উদ্যোগ হবে।

কক্সবাজারের লোকসংখ্যা ১১ হাজার। সেন্টমার্টিন দ্বীপে তিনটি সাইক্লোন শেল্টার আছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন সেন্টমার্টিন দ্বীপে সাইক্লোন শেল্টারের পাশাপাশি ৩৭টি হোটেল প্রস্তুত করেছে মানুষকে আশ্রয় দেয়ার জন্য। এসব স্থানে সব মিলিয়ে সাত হাজার মানুষের জায়গা হবে। বাড়তি মানুষকে সেন্টমার্টিনের বাইরে নিতে আজ শনিবার পর্যন্ত সময় পাওয়া যাবে।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোখা থেকে মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে সেন্টমার্টিনে তিনটি সাইক্লোন শেল্টার ও ৩৭টি হোটেল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখানে সাত হাজার মানুষকে রাখা যাবে। মানুষকে সচেতন করতে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। শেল্টারগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে শুকনা খাবার মজুত রাখা হয়েছে।

ঝড়ে ক্ষতি হবে আম ও ধানের
আম ও ধান পাকার সময় এখন। উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রামে ও সাতক্ষীরায় আম পাকতে শুরু করেছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে যে অতিবৃষ্টি হবে তাতে আম ও ধানের ব্যাপক ক্ষতি হবে।

সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বোরো মৌসুমে দেশে ২ কোটি ২০ লাখ টন বোরো ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টন কাটা হয়েছে। তবে কক্সবাজার এলাকায় ধান এখনো কাটার মতো হয়নি।

সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও আবহাওয়া অধিদপ্তর যৌথভাবে এ অবস্থাতেই ধান কাটার নির্দেশনা দিয়েছে। সংস্থা দুটি বলছে, ৮০ শতাংশ পেকে যাওয়া ধান কেটে ফেলতে হবে। কেটে ফেলা ধান নিরাপদ স্থানে পরিবহন করার মতো সময় না থাকলে প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। কিন্তু আমের ক্ষেত্রে কী হবে, সে বিষয়ে কোনো পরামর্শ দেয়া হয়নি।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি
রোববার দুপুরে সর্বোচ্চ ২২১ কিলোমিটার বেড়ে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে মূল অগ্রভাগে আঘাত হানতে পারে। তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার দুই উপকূলেই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়েছে। গতকাল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা মোকাবিলায় কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে ১ হাজার ৬০৬টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ১০ লাখ ৭ হাজার ১০০ জনকে আশ্রয় দেয়া যাবে।

ঘূর্ণিঝড় মোখা: পাঁচ বোর্ডের রোববারের এসএসসি পরীক্ষা স্থগিত

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র কারণে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে আগামী রোববারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

শুক্রবার ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষাবোর্ডের সমন্বয়ক অধ্যাপক তপন কুমার সরকার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র কারণে চলমান এসএসসি/সমমান পরীক্ষা ২০২৩-এর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন আগামী রোববার অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষাগুলো স্থগিত করা হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অন্যান্য বোর্ডের এই তারিখের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার পরিবর্তিত সময়সূচি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়া হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী রোববার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’। রুটিন অনুযায়ী ওইদিন এসএসসিতে পদার্থ বিজ্ঞান, ইতিহাস ও ফিন্যান্স পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়াও মাদ্রাসা বোর্ডে হাদিস শরীফ ও কারিগরি বোর্ডে পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার আরেক বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষা সংক্রান্ত সব গোপনীয় মালামাল নিরাপদ ও সতর্কতার সাথে সংরক্ষণ করতে নির্দেশনা দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি/সমমান পরীক্ষা ২০২৩ চলমান রয়েছে। এরইমধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ আগামী ২/১ দিনের মধ্যে দেশের উপকূল অঞ্চলসহ সারা দেশে প্রবল বেগে অতিক্রম করতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সতর্কতামূলক সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে।

এমতাবস্থায় বোর্ডগুলোর এসএসসি/সমমান পরীক্ষা চলমান থাকায় বোর্ডগুলোকেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক। এ লক্ষ্যে ট্রেজারি, থানা ও পরীক্ষা কেন্দ্রে রক্ষিত পরীক্ষা সংক্রান্ত সব গোপনীয় মালামাল নিরাপদ ও সতর্কতার সাথে সংরক্ষণ করার জন্য স্ব স্ব বোর্ডের নির্দেশনা দেয়া একান্ত প্রয়োজন।

কক্সবাজার-চট্টগ্রামের নিম্নাঞ্চলে ১২ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: অতি প্রবল শক্তি নিয়ে দেশের উপকূলের দিকে তেড়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’। ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশ ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮-১২ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

পাশাপাশি উপকূলীয় জেলা ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-৭ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলেও শঙ্কার কথা জানিয়েছে তারা।

শুক্রবার রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১২ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, তবে শনিবার সন্ধ্যা থেকেই কক্সবাজার ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রভাগের প্রভাব শুরু হতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঝড়টির কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। এই অবস্থায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

‘মোখা’র বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ‘মোখা’ উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে ১৪ মে (রোববার) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে কক্সবাজার-উত্তর মিয়ানমার উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের বিজ্ঞপ্তিতে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ শাহীন  বলেন, কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে মহাবিপদ সংকেত ঘোষণা করার নিয়ম আছে। বিপদ সংকেত যত আগে ঘোষণা করা যায়, মানুষ তত বেশি সতর্ক হওয়ার সময় পায়। এখন পর্যন্ত তথ্য বলছে, রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে যেকোনো সময় এই ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম করতে পারে। আগে থেকেই মানুষকে সতর্ক করতে মহাবিপদ সংকেত ঘোষণ করা হয়েছে।

এই আবহাওয়াবিদ আরও বলেন, ১১ ও ১২ নম্বর বুলেটিনের মধ্যে ছয় ঘণ্টার একটি ব্যবধান রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় মোখা যথেষ্ট শক্তি সঞ্চয় করে এগিয়ে আসতে শুরু করেছে। আমাদের সবাইকে যার যার জায়গা থেকে এর প্রভাব মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কাজ করা উচিত।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন