শিক্ষা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শিক্ষা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

এসএসসি ও সমমানে পাসের হার ৬৮.৪৫ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার গড় পাসের হার ৬৮.৪৫ শতাংশ। ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৮৩.০৪ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এ বছর পাসের হার কমেছে ১৪.৯৫ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড একযোগে ফল প্রকাশ করেছে। 

প্রতিবছরের মতো এবার ফল প্রকাশ ঘিরে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা রাখা হয়নি। তবে সার্বিক বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকার সভাকক্ষে মতবিনিময় সভা হয়। সেখানে কথা বলেন বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির।

তিনি জানান, এবার গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৮.৪৫ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী।

গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল এক লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন। গত বছরের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ কমেছে ৪৩ হাজার ৯৭ জন।

এ বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ৭৩ হাজার ৬১৬ জন এবং ছাত্র ৬৫ হাজার ৪১৬ জন।

এবার সর্বোচ্চ পাসের হার রাজশাহী বোর্ডে ৭৭.৬৩ শতাংশ। এরপর রয়েছে যশোর বোর্ডে ৭৩.৬৯ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৭২.০৭ শতাংশ, সিলেট বিভাগে ৬৮.৫৭ শতাংশ, ঢাকা বোর্ডে ৬৭.৫১ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৬৭.০৩ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৬৩.৬০ শতাংশ, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫৮.২২ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম পাসের হার বরিশাল বোর্ডে ৫৬.৩৮ শতাংশ। মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৬৮.০৯ শতাংশ ও কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৭৩.৬৩ শতাংশ।

৯ বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ফল দেখা যাবে যে পদ্ধতিতে

দেশের নয়টি বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার ফল দেখতে শিক্ষার্থীরা www.educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে নিজের ফল দেখতে পারবে।

আবার মোবাইল থেকে ফল জানতে মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে — SSC [বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর] [রোল নম্বর] 2025—এবং পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে (যেমন : SSC Dha 123456 2025)।

মাদ্রাসার ‘দাখিল’ পরীক্ষার ফল দেখা যাবে যেভাবে

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষার পরীক্ষার ফল দেখা যাবে অনলাইন ও এসএমএস— উভয় মাধ্যমেই।

শিক্ষার্থীরা www.bmeb.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘অনলাইন সেবা-১’ কর্নার থেকে ‘দাখিল পরীক্ষা ২০২৫’ অপশনে ক্লিক করে জেলা ও কেন্দ্রভিত্তিক ফল দেখতে পারবে। 

এ ছাড়া www.educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটেও রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ব্যক্তিগত ফল জানা যাবে।

আবার, ফল জানতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা চাইলে মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে প্রি-রেজিস্ট্রেশন করে রাখতে পারবে। এজন্য মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করতে হবে— Dakhil MAD রোল নম্বর 2025— এবং তা পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে। যেমন : Dakhil MAD 123456 2025। প্রি-রেজিস্ট্রেশন করা থাকলে ফল প্রকাশের পর সঙ্গে সঙ্গে ফল মোবাইলে পৌঁছে যাবে।

শুধু শিক্ষার্থী নয়, প্রতিষ্ঠানের ফল জানার জন্যও আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফল জানতে https://eboardresults.com/v2/home ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Institution Result’ সিলেক্ট করে বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন (EIIN) নম্বর ব্যবহার করে পুরো ফল ডাউনলোড করা যাবে।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফল দেখা যাবে যে পদ্ধতিতে

২০২৫ সালের এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফল শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অনলাইনে দেখতে পারবে।

প্রথমত, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে www.bteb.gov.bd প্রবেশ করে ‘Result Corner’-এ ক্লিক করতে হবে। সেখানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি অথবা প্রতিষ্ঠান কোড এন্ট্রি করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলের ফলপত্র (Result Sheet) ডাউনলোড করা যাবে

দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীরা www.bteb.gov.bd অথবা www.educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদান করে নিজের ফলাফলসহ গ্রেড ভিত্তিক ট্রান্সক্রিপ্ট (Grade-based Transcript) ডাউনলোড করতে পারবে।

তৃতীয়ত, মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানার সুযোগও রয়েছে। এ জন্য মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করতে হবে—

SSC TEC <রোল নম্বর> 2025 এবং পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে।

উদাহরণস্বরূপ : SSC TEC 123456 2025 পাঠাতে হবে 16222 নম্বরে

চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ১০ এপ্রিল। পরীক্ষা শেষ হয় ১৩ মে। এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নিয়মিত-অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন। ২০২৪ সালের তুলনায় এবার প্রায় এক লাখ পরীক্ষার্থী কম ছিল। এবার ফল তৈরি হয়েছে ‘বাস্তব মূল্যায়ন’ নীতিতে।

এইচএসসির ফলাফলে এগিয়ে আছে মেয়েরা

এগিয়ে মেয়েরা

 সংবাদ সাতদিন ডেস্ক : চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে আছে মেয়েরা।

৯টি সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এর মধ্যে ছাত্রীদের পাসের হার ৭৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রদের পাসের হার ৭৫ দশমিক ৬১ শতাংশ।

মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও এগিয়ে রয়েছে। ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্রী ৮০ হাজার ৯৩৩ জন আর ছাত্র ৬৪ হাজার ৯৭৮ জন।

এবছর পাসের হার কিছুটা কমেছে। গত বছর ১১টি বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ যা এ বছর ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৯৩ দশমিক ৪০ শতাংশ ও ৮৮ দশমিক  শূন্য ৯ শতাংশ।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১১টায় সব বোর্ডের ওয়েবসাইট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ করা হয়।

পাসের হারের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে আছে সিলেট আর সবচেয়ে পিছিয়ে আছে ময়মনসিংহ।

পাসের হার সিলেট বোর্ডে ৮৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ, বরিশালে ৮১ দশমিক ৮৫ শতাংশ, রাজশাহীতে ৮১ দশমিক ২৪ শতাংশ, ঢাকায় ৭৯ দশমিক ২১ শতাংশ, দিনাজপুরে ৭৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ, কুমিল্লায় ৭১ দশমিক ১৫ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৭০ দশমিক ৩২ শতাংশ, যশোরে ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে ৬৩ দশমিক ২২ শতাংশ।

চলতি বছরে ২ হাজার ৬৯৫টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ১৯৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৩ লাখ ৩১ হাজার ৫৮ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল, যার মধ্যে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৩০৯ জন।

গত ৩০ জুন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথম প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী- ৮ দিন পরীক্ষা হওয়ার পর কোটাসংস্কার আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ১৮ জুলাইয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এরপর তিন দফায় পরীক্ষা স্থগিত করে সরকার

বাতিল পরীক্ষাগুলোতে এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে এইচএসসিতেও একই নম্বর দিয়ে ফল তৈরি করেছে শিক্ষা বোর্ড। তাছাড়া বিভাগ ও বিষয়ে মিল না থাকলে সেক্ষেত্রে সাবজেক্ট ম্যাপিং নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে।

এইচএসসি পরীক্ষার ফল: ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: ২০২৪ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় দেশের ৬৫টি কলেজ থেকে কেউ পাস করতে পারেনি।

গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৪২টি। সেই হিসাবে এবার কেউ পাস করেনি এমন কলেজের সংখ্যা ২৩টি বেড়েছে।

৯টি সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১১টায় সব বোর্ডের ওয়েবসাইট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে এ ফল প্রকাশ করা হয়।

এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন শিক্ষার্থী।

সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৯৩ দশমিক ৪০ শতাংশ ও ৮৮ দশমিক ০৯ শতাংশ।

এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ শিক্ষার্থী যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। গত বছর পেয়েছিল ৯২ হাজার ৫৯৫ জন।

পাসের হারের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে আছে সিলেট আর সবচেয়ে পিছিয়ে আছে ময়মনসিংহ।

পাসের হার সিলেট বোর্ডে ৮৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ, বরিশালে ৮১ দশমিক ৮৫ শতাংশ, রাজশাহীতে ৮১ দশমিক ২৪ শতাংশ, ঢাকায় ৭৯ দশমিক ২১ শতাংশ, দিনাজপুরে ৭৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ, কুমিল্লায় ৭১ দশমিক ১৫ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৭০ দশমিক ৩২ শতাংশ, যশোরে ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে ৬৩ দশমিক ২২ শতাংশ।

চলতি বছরে ২ হাজার ৬৯৫টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ১৯৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৩ লাখ ৩১ হাজার ৫৮ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল, যার মধ্যে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৩০৯ জন।

গত ৩০ জুন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথম প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী- ৮ দিন পরীক্ষা হওয়ার পর কোটাসংস্কার আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ১৮ জুলাইয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এরপর তিন দফায় পরীক্ষা স্থগিত করে সরকার।

বাতিল পরীক্ষাগুলোতে এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে এইচএসসিতেও একই নম্বর দিয়ে ফল তৈরি করেছে শিক্ষা বোর্ড। তাছাড়া বিভাগ ও বিষয়ে মিল না থাকলে সেক্ষেত্রে সাবজেক্ট ম্যাপিং নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে।

শীর্ষে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড, দ্বিতীয় বগুড়া জেলা

 

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে এইচএসসির ফলাফলে পাসের হার ৮১ দশমিক ২৪ শতাংশ। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে শিক্ষাবোর্ডের আটটি জেলার মধ্যে রাজশাহী জেলার পরীক্ষার্থীরা ফলাফল ভালো করেছেন। ফলাফলে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বগুড়া জেলা।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অলিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এসময় তিনি ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেন।

শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী জেলায় পাসের ৮৯ দশমিক ১২ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ হাজার ৬৬৭ জন শিক্ষার্থী। নবাবগঞ্জ জেলায় পাসের হার ৭৭ দশমিক ৩১ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১১৪ জন শিক্ষার্থী।

এছাড়া নাটোর জেলায় পাসের হার ৭৮ দশমিক ৪২ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৪৬৩ জন শিক্ষার্থী। নওগাঁ জেলায় পাসের হার ৭৪ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২২১৬ জন শিক্ষার্থী। পাবনা জেলায় পাসের হার ৮১ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৬৯২ জন শিক্ষার্থী।  

অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জ জেলায় পাসের হার ৭৫ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৭৯২ জন শিক্ষার্থী। বগুড়া জেলায় পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭ হাজার ১০২ জন শিক্ষার্থী। জায়পুরহাট জেলায় পাসের হার ৭৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৫৬ শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অলিউল আলম বলেন, রাজশাহী শিক্ষা নগরী রাজশাহীর শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করেছে। শিক্ষা নগরীর সুনাম ধরে রেখেছে।

এইচএসসিতে পাসের হার ৭৭.৭৮ শতাংশ

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের উল্লাস / ছবি: সংগৃহীত

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলপ্রকাশিত হয়েছে। এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আর এইচএসসি নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। ২০২৩ সালে গড় পাসের হার ৭৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। সে হিসাবে পাসের হার কমেছে দশমিক ৮৬ শতাংশ।

মঙ্গলবার (১৫ অবেক্টাবর) বেলা ১১টায় নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অনলাইনে একযোগে এ ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার ফলাফলের সারসংক্ষেপ সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।

তিনি জানান, এবার এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ৩১ হাজার ৩৭৬ শিক্ষার্থী। আলিম পরীক্ষায় পাসের হার ৯৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে নয় হাজার ৬১৩ পরীক্ষার্থী। ভোকেশনাল/বিএম/ডিপ্লোমা ইন কমার্সে পাসের হার ৮৮ দশমিক ০৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে চার হাজার ৯২২ শিক্ষার্থী।

এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের দুই হাজার ৬৯৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৩ লাখ ৩১ হাজার ৫৮ জন। সেখানে পাস করেছে ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৩০৯ জন শিক্ষার্থী।

ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, ৯টি সাধারণ ও মাদরাসা এবং কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। গত বছর ১১টি বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন। ২০২৩ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৯২ হাজার ৩৬৫ জন শিক্ষার্থী।

ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৭৯ দশমিক ২১ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ৮১ দশমিক ৮৫ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৭০ দশমিক ৩২ শতাংশ, কুমিল্লায় পাসের হার ৭১ দশমিক ১৫ শতাংশ, রাজশাহীতে ৮১ দশমিক ২৪ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৮৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ, দিনাজপুরে ৭৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৬২ দশমিক ৮২ ও যশোরে ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ বলে জানা গেছে।

গত ৩০ জুন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। এতে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৯০ জন। প্রথম প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী—৮ দিন পরীক্ষা হওয়ার পর কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ১৮ জুলাইয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এরপর তিন দফায় পরীক্ষা স্থগিত করে সরকার।

২৩ অক্টোবরের মধ্যেই শেষ করতে হবে হজযাত্রীদের প্রাথমিক নিবন্ধন

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: হজযাত্রীদের প্রাথমিক নিবন্ধন আগামী ২৩ অক্টোবরের মধ্যেই শেষ করতে হবে।

রবিবার (১৩ অক্টোবর) এ সংক্রান্ত বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৩ অক্টোবর থেকে সৌদি সরকারের ঘোষিত রোডম্যাপ অনুসারে মিনা ও আরাফায় তাঁবু নির্ধারণ ও সার্ভিস কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করা শুরু হবে। তাঁবু বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ নীতি অনুসরণ করা হয়ে থাকে। এ কারণে ২৩ অক্টোবরের মধ্যে হজযাত্রী নিবন্ধন শেষ না হলে মিনা ও আরাফায় কাঙ্খিত জোনে তাঁবু বরাদ্দ পাওয়া যাবে না।

তাঁবু নেওয়া ও সার্ভিস কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনে দেরি হলে হজযাত্রীদের জামারাহ হতে অনেক দূরে পাহাড়ি এলাকা কিংবা নিউ মিনা এলাকায় অবস্থান করতে হবে। ফলে হজযাত্রীদের সৌদি আরবে প্রখর রোদ ও গরমের মধ্যে দীর্ঘপথ হাঁটতে হবে যা হজযাত্রীদের জন্য কষ্টকর হবে।

সেকারণে সুষ্ঠ হজ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে আগামী ২৩ অক্টোবরের মধ্যে ৩ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে হজগমনেচ্ছু ব্যক্তিদের প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে বলেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

জার্মানিতে বিদেশিদের চাকরি খুঁজে পেতে অপরচুনিটি কার্ড যেভাবে সুবিধা দেবে

জার্মান অপরচুনিটি কার্ড: বাংলাদেশ থেকে আবেদন পদ্ধতি ও বিস্তারিত

 জার্মান অপরচুনিটি কার্ড: বাংলাদেশ থেকে আবেদন পদ্ধতি ও বিস্তারিত

 ইউরোপের যে রাষ্ট্রগুলো কর্মজীবন ও অবকাশ যাপনের মধ্যে ভারসাম্য রেখে চলেছে, সেগুলোর মধ্যে প্রথম সারির দেশ জার্মানি। দেশটির কর্মজীবীদের ন্যূনতম পারিশ্রমিক হার যে কোনো ইউরোপীয় দেশের তুলনায় যথেষ্ট বেশি। শেনজেনভুক্ত দেশটির কর্মচারীদের সাপ্তাহিক গড় কর্মঘণ্টার সংখ্যা গোটা ইউরোপের গড় কর্মঘণ্টার থেকে কম। সঙ্গত কারণেই ইইউ (ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন) সদস্য রাষ্ট্রটিতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য রয়েছে অপার সম্ভাবনা। সম্প্রতি তাদের অপরচুনিটি কার্ডের প্রণয়ন এই সুযোগকে একটি নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রূপ দিয়েছে। চলুন, জার্মান অপরচুনিটি কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা, সুবিধা ও আবেদন পদ্ধতি বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

জার্মান অপরচুনিটি কার্ড কি

ইইউ, ইইএ (ইউরোপীয়ান ইকোনমিক এরিয়া) কিংবা সুইজারল্যান্ডের বাইরের দেশগুলোর দক্ষ কর্মীদের জন্য চাকরির উদ্দেশ্যে জার্মানিতে প্রবেশের অনুমতি হলো অপরচুনিটি কার্ড। এটি মূলত একটি রেসিডেন্ট পার্মিট, যার মেয়াদ থাকে সর্বোচ্চ ১ বছর এবং এই সময়ের মধ্যেই কার্ডধারীকে চাকরির ব্যবস্থা করতে হয়। স্বভাবতই কার্ডটি সংগ্রহের জন্য প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থানের যোগ্যতা স্বরূপ যথাযথ প্রমাণ পেশ করতে হয়।

ইইউ, ইইএ বা সুইজারল্যান্ডের বাইরের দেশগুলোর প্রধানত দুই ধরনের নাগরিকদের এই কার্ড সরবরাহ করা হয়।

১/ সম্পূর্ণ জার্মানি স্বীকৃত পেশাগত বা শিক্ষাগত যোগ্যতার অধিকারী:

যাদের পেশাগত দক্ষতার প্রমাণ করতে পারে এমন জার্মানি স্বীকৃত কোনো শিক্ষাগত বা পেশাগত সনদ রয়েছে। এই যোগ্যতা অর্জন নিজ দেশে জার্মানি স্বীকৃত কোনো প্রতিষ্ঠান অথবা জার্মানিতে অবস্থিত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে হতে পারে

২/ যারা এখনও নির্দিষ্ট কোনো দক্ষতায় প্রতিষ্ঠিত কর্মী নন, তবে নিম্নোক্ত শর্তগুলো পূরণ করেছেন-

·  জার্মানির কোনো বিশ্ববিদ্যালয় অথবা নিজ দেশে জার্মানি স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাডেমিক ডিগ্রি অর্জন

·  জার্মানির কোনো প্রতিষ্ঠান অথবা নিজ দেশে জার্মানি স্বীকৃত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কমপক্ষে ২ বছরের ভোকেশনাল ট্রেনিং নেওয়া

·  কমন ইউরোপিয়ান ফ্রেমওয়ার্ক অব রেফারেন্স ফর ল্যাঙ্গুয়েজেস বা সিইএফআর অনুসারে কমপক্ষে লেভেল-এ১ জার্মান ভাষা দক্ষতা বা কমপক্ষে লেভেল-বি২ ইংরেজি ভাষা দক্ষতা। আইইএলটিএস স্কোর ৫ দশমিক ৫ থেকে ৬ দশমিক ৫, আর টোফেল আইবিটি-তে ৭২ থেকে ৯৪ সিইএফআর লেভেল বি২ এর সমতুল্য।

২য় ক্যাটাগরির শর্তগুলো সুক্ষ্মভাবে যাচাইয়ের জন্য সেগুলোতে নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্ট আরোপ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে যারা ন্যূনতম ছয় পয়েন্ট অর্জন করতে পারে তাদের কার্ড পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। মানদণ্ডগুলোতে পয়েন্ট বণ্টন পদ্ধতি নিম্নরূপ-
যোগ্যতার সমতা: (৪ পয়েন্ট)

সম্পন্নকৃত ডিগ্রি বা ট্রেনিং আংশিকভাবে সমতুল্য প্রমাণিত হলে ৪ পয়েন্ট যুক্ত হবে। যে দক্ষতাগুলো চূড়ান্তভাবে অনুশীলনের জন্য লাইসেন্স নিতে হয়, সেগুলোর লাইসেন্স হওয়ার আগেও ৪ পয়েন্ট পাওয়া যাবে। তবে রেসিডেন্ট পার্মিটের আগে অবশ্যই লাইসেন্স পরীক্ষা উত্তীর্ণ হতে হবে।
সর্বাধিক চাহিদা সম্পন্ন পেশার যোগ্যতা: (১ পয়েন্ট)

জার্মানির চাকরির বাজারে যে ডিগ্রি বা ভোকেশনাল ট্রেনিংগুলোর সর্বাধিক চাহিদা রয়েছে সেগুলোর জন্য নির্ধারিত ১ পয়েন্ট। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- মাইনিং ম্যানেজার, হেল্থ সার্ভিস ম্যানেজার, কেমিস্ট, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, গ্রাফিক এবং মাল্টিমিডিয়া ডিজাইনার এবং সফটওয়্যার ডেভেলপার।

জার্মানিতে সর্বাধিক চাহিদা সম্পন্ন পেশাগুলোর পূর্ণ তালিকা এই লিংকে পাওয়া যাবে-

https://www.make-it-in-germany.com/fileadmin/1_Rebrush_2022/a_Fachkraefte/PDF-Dateien/3_Visum_u_Aufenthalt/2024_Mangelberufe_EN.pdf
পেশাগত অভিজ্ঞতা: (২ থেকে ৩ পয়েন্ট)

স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর তার প্রাসঙ্গিক পেশায় বিগত সর্বোচ্চ ৫ বছরের মধ্যে কমপক্ষে ২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে প্রার্থী ২ পয়েন্ট পাবেন। আর বিগত সর্বোচ্চ ৭ বছরের মধ্যে কমপক্ষে ৫ বছরের অভিজ্ঞতার জন্য দেওয়া হবে ৩ পয়েন্ট পাবেন।
ভাষা দক্ষতা: (১ থেকে ৪ পয়েন্ট)

জার্মান ভাষা পারদর্শিতার জন্য সিইএফআর অনুযায়ী এ২ লেভেলের জন্য রয়েছে ১ পয়েন্ট। লেভেল বি১-এ ২ এবং লেভেল বি২ বা তার উপরের স্তরের জন্য নির্ধারিত ৩ পয়েন্ট। এর সঙ্গে অতিরিক্ত ১ পয়েন্ট যোগ হবে যদি ইংরেজি ভাষা দক্ষতা লেভেল সি১ বা তার উপরে থাকে, অথবা প্রার্থী যদি নেটিভ স্পিকার হন।
বয়স: (১ থেকে ২ পয়েন্ট)

অনুর্ধ্ব ৩৫ বছর বয়সি প্রার্থীদের জন্য থাকবে ২ পয়েন্ট। ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়সিরা পাবেন ১ পয়েন্ট।
জার্মানিতে বসবাসের রেকর্ড: (১ পয়েন্ট)

বিগত সর্বোচ্চ ৫ বছরের মধ্যে অন্তত ৬ মাস ধরে জার্মানিতে বৈধভাবে বসবাস করলে তার জন্য ১ পয়েন্ট যুক্ত হবে। এই বসবাস বেড়ানো, অধ্যয়ন, কিংবা কাজ যে কোনো উদ্দেশ্যে হতে পারে।
স্বামী বা স্ত্রীর দক্ষ কর্মী হওয়া: (১ পয়েন্ট)

আবেদনকারী দম্পতির যে কোনো একজন অপরচুনিটি কার্ডের শর্ত পূরণ করলে অন্যজন ১ পয়েন্ট পাবেন।

চূড়ান্ত ভাবে আবেদন প্রস্তুতি শুরুর পূর্বে আবেদনের যোগ্যতা নিচের লিংকে যেয়ে যাচাই করে নেওয়া যেতে পারে-

https://www.make-it-in-germany.com/en/visa-residence/self-check-opportunity-card#c52628

এই কার্ডের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ ১ বছরের জন্য জার্মানিতে কাজ খোঁজার অনুমতি দেওয়া হয়। ১ বছর পর জার্মানিতে থাকা অবস্থায় কার্ডের মেয়াদ ২ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য আবেদন করা যায়। এখানে কার্ডধারীরা চাকরি বা স্ব-নিযুক্ত হওয়ার জন্য চেষ্টা করতে পারেন।

এই পার্মিটের মাধ্যমে সপ্তাহে সর্বমোট ২০ ঘণ্টা এক বা একাধিক খণ্ডকালীন চাকরি করা যায়। চাকরি অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে কার্ডধারীরা প্রতি কোম্পানিতে সর্বোচ্চ ২ সপ্তাহের জন্য জব ট্রায়াল করতে পারবেন।

জার্মান অপরচুনিটি কার্ড
ব্র্যান্ডেনবার্গ গেট, বার্লিন, জার্মানি

জার্মান অপরচুনিটি কার্ডের জন্য আবেদন পদ্ধতি

আবেদনের প্রথম পদক্ষেপ হলো অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেমের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় নির্ধারণ। অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের লিংক-

https://app.digital.diplo.de/registration?at=08586dd4-41f3-405d-99b9-61937b8bf271&n=&c=visa_opportunity_card&d-id=71b77432-b1d4-4619-b2f9-8f02b629ca3e

অতঃপর জার্মানির আবেদন পোর্টাল ভিআইডিইএক্স-এ কার্ড ভিসার অনলাইন আবেদন করতে হবে। আবেদন প্ল্যাটফর্মের লিংক-
https://videx.diplo.de/videx/visum-erfassung/videx-langfristiger-aufenthalt

আবেদন সম্পন্ন করার পর তার প্রিন্ট নিয়ে তাতে আবেদনকারীকে নিজে সই করতে হবে।

আরো পড়ুন: ডুওলিঙ্গো ইংলিশ টেস্ট কী? কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন?
প্রয়োজনীয় নথিপত্র

·   সম্পূর্ণভাবে পূরণকৃত ভিআইডিইএক্স আবেদন ফর্ম

·  বৈধ পাসপোর্ট (গত ১০ বছরের মধ্যে ইস্যুকৃত এবং যেখানে ভিসার জন্য কমপক্ষে ২টি খালি পৃষ্ঠা রয়েছে)। ডেটা পৃষ্ঠাসহ পূর্বের কোনো ভিসা থাকলে সেই পৃষ্ঠাগুলোর অনুলিপি সংযুক্তি হিসেবে দিতে হবে।

·  বায়োমেট্রিক স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সদ্য তোলা ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি (৬ মাসের বেশি পুরনো হওয়া যাবে না)

·  সইকৃত সম্মতির ঘোষণাপত্র
(https://dhaka.diplo.de/bd-en/service/visa-einreise/-/2669542)

·  ভোকেশনাল বা একাডেমিক প্রশিক্ষণের শংসাপত্রসহ এগুলোর সমতুল্যতার জন্য জার্মানি কর্তৃক স্বীকৃতি (অনুলিপিসহ মূল কপি)

o এর সমতুল্যতা যাচাইয়ের জন্য https://zab.kmk.org/en/app/zeugnisbewertung-এই লিংকে যেয়ে আবেদন করা যাবে। আবেদনের পূর্বশর্ত বিস্তারিত
https://zab.kmk.org/en/dab-এই লিংকে পাওয়া যাবে। ভোকেশনাল যোগ্যতার একটি স্বীকৃতি পত্রের মূল্য ১৫০ ইউরো বা ১৯ হাজার ৭৬৬ টাকা (১ ইউরো = ১৩১ দশমিক ৭৭ বাংলাদেশি টাকা)।

o বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির জন্য অ্যানাবিন ডাটাবেস
(http://anabin.kmk.org/anabin.html)-এ ডিগ্রি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম অন্তর্ভুক্তির প্রমাণ
অথবা,
জেডএবি (সেন্ট্রাল অফিস ফর ফরেন এডুকেশন) দ্বারা সমতুল্যতার বিবৃতি (অনুলিপিসহ মূল নথি):
https://zab.kmk.org/en/app/pre-check-এই লিংকে সমতুল্যতা অগ্রিম যাচাই করে নেওয়া যাবে।

o লাইসেন্স যোগ্য দক্ষতার ক্ষেত্রে পেশা অনুশীলনের লাইসেন্স থাকলে তার অনুলিপিসহ মূল নথি যুক্ত করতে হবে। যেমন চিকিৎসা সেবা প্রদানের নিমিত্তে মেডিকেল লাইসেন্স

·  পূর্ববর্তী নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে পূর্বের কাজের অভিজ্ঞতা নিশ্চিতকরণ চিঠি

·  মোটিভেশন লেটার বা স্টেটমেন্ট অব পার্পাস, যেখানে নিম্নলিখিত তথ্যাদি থাকতে হবে:

o প্রার্থী জার্মানিতে কী ধরনের কাজ করতে ইচ্ছুক

o জার্মান ভাষা শেখার সময়কাল

o ইইউ দেশগুলোর মধ্যে প্রার্থী কেন জার্মানিকে নির্বাচন করেছেন

o ইতোমধ্যে কোনো কোম্পানিতে চাকরির আবেদন করে থাকলে অথবা ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাক পেয়ে থাকলে সেই কোম্পানির নাম

·  সিভি ও কভার লেটার (ইংরেজির পাশাপাশি জার্মান ভাষাতেও প্রস্তুত রাখা আবশ্যক)

·  আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ স্বরূপ জার্মানিতে একটি ব্লক অ্যাকাউন্ট: প্রতি মাসে কমপক্ষে ১ হাজার ২৭ ইউরো বা ১ বছরে মোট ১২ হাজার ৩২৪ ইউরো (১৬ লাখ ২৩ হাজার ৯৮৩ টাকা) এবং রিটার্ন ফ্লাইটের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল

o অন্য কেউ প্রার্থীর এই ব্যয়ভার বহন করে থাকলে তার পক্ষ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ স্বীকারোক্তি মূলক ঘোষণাপত্র (মূল নথি দিতে হবে)

·  স্বাস্থ্য বীমার প্রমাণ: (ভিসা সংগ্রহের সময় এই নথি সরবরাহ করতে হবে) ন্যূনতম কভারেজ ৩০ হাজার ইউরো (৩৯ লাখ ৫৩ হাজার ২২০ টাকা)
অথবা, একটি পাবলিক জার্মান স্বাস্থ্য বীমার কাগজ: প্রথম ৩ সপ্তাহের জন্য একটি ভ্রমণ স্বাস্থ্য বীমাসহ জার্মান স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর পক্ষ থেকে একটি চিঠি

·  জার্মানিতে বাসস্থানের প্রমাণ: (যে পরিবারের সঙ্গে থাকা হবে তাদের পক্ষ থেকে লিখিত আমন্ত্রণ, অথবা হোটেল বুকিং) পূর্ণ ঠিকানা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে

অপেশাদার অথচ যোগ্যতা সম্পন্নদের জন্য অতিরিক্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

·  জার্মানিতে পূর্বে বৈধভাবে বসবাসের প্রমাণ: বৈধ ভাড়া চুক্তি, কর্মসংস্থানের শর্তাবলী, পরিষেবা চুক্তি, ভিসা ও এন্ট্রি স্ট্যাম্পসহ পাসপোর্ট

·  স্বামী-স্ত্রী একত্রে আবেদন করলে তাদের বিবাহ সনদপত্র দ্বারা জমা দেওয়া সুযোগ কার্ডের আবেদনের প্রমাণ সংযুক্ত করুন।

আরো পড়ুন: জার্মানিতে বিনামূল্যে স্নাতকোত্তর পড়ার জন্য কিভাবে আবেদন করবেন
আবেদন জমা এবং কার্ড ভিসা ফি প্রদান

সফলভাবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং হলে নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানিয়ে প্রার্থীকে একটি নিশ্চিতকরণ ই-মেইল দেওয়া হবে। সেই তারিখে আবেদনপত্রসহ কার্ড ভিসার যাবতীয় কাগজপত্র সঙ্গে করে জার্মান দূতাবাসে যেতে হবে।

ঢাকাস্থ জার্মান দূতাবাসের ঠিকানা: ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানির দূতাবাস, ১১ মাদানী এভিনিউ, বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক ইনক্লেভ, ঢাকা-১২১২।

এই কার্ড ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ ফি ৭৫ ইউরো (৯ হাজার ৮৮৩ টাকা)।
কার্ড ভিসা পেতে কত সময় লাগে

এই অপরচুনিটি কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়াকরণে কয়েক সপ্তাহ থেকে সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। অযাচিত বিলম্ব এড়াতে আগে থেকেই ভালোভাবে আবেদন করা এবং আপ-টু-ডেট নথি জমা দেওয়া আবশ্যক। কার্ড প্রস্তুত হয়ে গেলে জার্মান দূতাবাস থেকে ই-মেইল বা ফোন কলের মাধ্যমে প্রার্থীকে জানানো হবে।


শেষাংশ

বাংলাদেশিদের উন্নত জীবনের জন্য জার্মান অপরচুনিটি কার্ড নিঃসন্দেহে এক দারুণ সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। তবে এই সুযোগ পেতে ইংরেজির পাশাপাশি জার্মান ভাষা শেখা এবং একটি নির্দিষ্ট কাজে পারদর্শিতা থাকা আবশ্যক। শুধু তাই নয়, এই প্রস্তুতিগুলো বাংলাদেশ থেকেই নিশ্চিত করে আসা জরুরি। এতে করে জার্মানিতে পৌঁছে চাকরি খোঁজার জন্য নির্ধারিত ১ বছর মেয়াদ খুব সংকীর্ণ মনে হবে না। বরং কম সময়ের মধ্যেই উপযুক্ত দক্ষতা অনুসারে কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাওয়া সম্ভব হবে।

এইচএসসি ও সমমানে পাসের হার ৭৮.৬৪ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে গড় পাসের হার ৭৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ৯টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের গত বছরের চেয়ে এবার পাসের হার কমেছে ৭ দশমিক ৩১ শতাংশ। গত বছর পাসের গড় হার ছিল ৮৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
২৬ নভেম্বর রোববার বেলা ১১টায় ওয়েবসাইট ও স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফল প্রকাশ করা হয়। এর আগে সকাল ১০টায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেওয়া হয়।

দুপুর ২টায় সংবাদ সম্মেলনে ফলের সার্বিক বিষয় তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাসের হারেও এগিয়ে ছাত্রীরা। ছাত্রীদের পাসের হার ৮০ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ছাত্রদের পাসের হার ৭৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯২ হাজার ৩৬৫ শিক্ষার্থী । গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৮২ জন।

ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৭৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ৮০ দশমিক ৬৫ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৭৩ দশমিক ৮১ শতাংশ, কুমিল্লায় পাসের হার ৭৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ, রাজশাহীতে ৭৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৭১ দশমিক ৬২ শতাংশ, দিনাজপুরে ৭০ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৭০.৪৪ শতাংশ ও যশোরে ৬৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ বলে জানা গেছে।

গত ১৭ আগস্ট শুরু হয়েছিল এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন ১৩ লাখ ৪৪ হাজার ৩৪২ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৮৮৭ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৭০ হাজার ৪৫৫ জন। সারাদেশে মোট কেন্দ্র সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৬৫৮টি এবং মোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৯ হাজার ১৬৯টি। এর আগে ২০২২ সালে সব বোর্ড মিলিয়ে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৩ হাজার ৪০৭ জন। সেই হিসাবে এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে এক লাখ ৫৫ হাজার ৯৩৫ জন ।

বেলা ১১টায় পর স্ব স্ব কলেজ ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে একযোগে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার শিক্ষার্থীরা কলেজে না গিয়ে ঘরে বসেই ফল দেখতে পারবে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফল জানতে শিক্ষার্থীকে প্রথমে www.educationboardresults.gov.bd  এ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।
সেখানে থাকা ফলাফল অপশনে ক্লিক করে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে সাবমিট করলেই শিক্ষার্থী তার রেজাল্ট শিট দেখতে পারবে। ঢাকা বোর্ডের ওয়েবসাইটে www.dhakaeducationboard.gov.bd রেজাল্ট ক্লিক করে প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন এন্ট্রি করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক রেজাল্ট শিট ডাউনলোড করা যাবে।

এছাড়া এসএমএসের মাধ্যমে ফল পেতে মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে ইংরেজি অক্ষরে এইচএসসি (HSC) লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে আবার স্পেস দিয়ে পাসের বছর লিখতে হবে। এরপর ১৬২২২ নম্বরে সেন্ড করতে হবে। ফিরতি ম্যাসেজে ফল পাওয়া যাবে।

ঢাকা বোর্ডের একজন পরীক্ষার্থীকে HSC DHA 123456 2023 লিখে পাঠাতে হবে 16222 নম্বরে। সঙ্গে সঙ্গেই ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০২৩ লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে (যেমন HSC Dha 123456 2022 send to 16222)। ফিরতি এসএমএসেই ফল পাওয়া যাবে।

আলিমের ফল পেতে ALIM লিখে স্পেস দিয়ে Mad লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০২৩ লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। কারিগরি বোর্ডের ক্ষেত্রে HSC লিখে স্পেস দিয়ে Tec লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০২৩ লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠালে ফিরতি এসএমএসে ফল জানানো হবে।

এইচএসসির ফল প্রকাশ রবিবার, জানা যাবে যেভাবে


নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৩ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল রবিবার প্রকাশ করা হবে। এদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফল হস্তান্তর করা হবে। এরপর সারা দেশের শিক্ষার্থীরা একযোগে পরীক্ষার ফলাফল পাবেন।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, রবিবার সকাল ১০টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে দেবেন শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানরা। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বেলা ২টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করবেন। পরে স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে একযোগে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

গত ১৭ আগস্ট শুরু হয়েছিল এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা কিছুদিন পরে শুরু হয়। এবছর মোট ১৩ লাখ ৫৯ হাজার ৩৪২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণ করেছিলেন। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী।

যেভাবে জানা যাবে ফলাফল
শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই নির্ধারিত ওয়েবসাইটে ও এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারবেন। এসএমএসের মাধ্যমে ফল পেতে মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে ইংরেজি অক্ষরে এইচএসসি লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে আবার স্পেস দিয়ে পাসের বছর লিখতে হবে। এরপর ১৬২২২ নম্বরে সেন্ড করতে হবে।

অন্যদিকে, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফলাফল জানতে শিক্ষার্থীকে প্রথমে www.educationboardresults.gov.bd এই ওয়েবসাইটে  প্রবেশ করতে হবে। সেখানে থাকা ফলাফল অপশনে ক্লিক করে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে সাবমিট করলেই শিক্ষার্থীরা তার রেজাল্ট শিট দেখতে পাবেন। খবর বাসস।

সোমবারের ৬ বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষাও স্থগিত

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ উপকূলের দিকে এগিয়ে আসায় ছয় শিক্ষাবোর্ডে আগামী রোববার অনুষ্ঠেয় এসএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। এবার আগামী সোমবারের (১৫ মে) পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।

শনিবার  আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল শিক্ষা বোর্ড, যশোর শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আগামী রোববার ও সোমবার অনুষ্ঠেয় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। অন্যান্য বোর্ডে ওই দিনের পরীক্ষা যথারীতি হবে।

স্থগিত হওয়া পরীক্ষার পরিবর্তিত সময়সূচি পরে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

ঘূর্ণিঝড় মোখা: পাঁচ বোর্ডের রোববারের এসএসসি পরীক্ষা স্থগিত

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র কারণে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে আগামী রোববারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

শুক্রবার ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষাবোর্ডের সমন্বয়ক অধ্যাপক তপন কুমার সরকার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র কারণে চলমান এসএসসি/সমমান পরীক্ষা ২০২৩-এর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন আগামী রোববার অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষাগুলো স্থগিত করা হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অন্যান্য বোর্ডের এই তারিখের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার পরিবর্তিত সময়সূচি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়া হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী রোববার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’। রুটিন অনুযায়ী ওইদিন এসএসসিতে পদার্থ বিজ্ঞান, ইতিহাস ও ফিন্যান্স পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়াও মাদ্রাসা বোর্ডে হাদিস শরীফ ও কারিগরি বোর্ডে পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার আরেক বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষা সংক্রান্ত সব গোপনীয় মালামাল নিরাপদ ও সতর্কতার সাথে সংরক্ষণ করতে নির্দেশনা দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি/সমমান পরীক্ষা ২০২৩ চলমান রয়েছে। এরইমধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ আগামী ২/১ দিনের মধ্যে দেশের উপকূল অঞ্চলসহ সারা দেশে প্রবল বেগে অতিক্রম করতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সতর্কতামূলক সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে।

এমতাবস্থায় বোর্ডগুলোর এসএসসি/সমমান পরীক্ষা চলমান থাকায় বোর্ডগুলোকেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক। এ লক্ষ্যে ট্রেজারি, থানা ও পরীক্ষা কেন্দ্রে রক্ষিত পরীক্ষা সংক্রান্ত সব গোপনীয় মালামাল নিরাপদ ও সতর্কতার সাথে সংরক্ষণ করার জন্য স্ব স্ব বোর্ডের নির্দেশনা দেয়া একান্ত প্রয়োজন।

এবার প্রশ্নফাঁসের সুযোগ নেই: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: এবার প্রশ্ন বিতরণে ভুল-ভ্রান্তি হওয়ার সুযোগ কম। ফলে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসেরও সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

রোববার সকালে রাজধানীর বাড্ডা হাইস্কুল এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনিয়মের ঘটনা শোনা যায়নি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস না হওয়ার জন্য আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। সার্বক্ষণিক এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মনিটরিং করবে। সুতরাং কোনোভাবে প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে ভুল প্রশ্ন বিতরণের ঘটনা বিভিন্ন কেন্দ্রে হয়ে থাকে। যাদের মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সে কারণে এবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য আমরা সজাগ রয়েছি। তবে ভুল তো ভুলই, কেউ ভুল করে করলে সেটি সেই মুহূর্তে ঠেকানো সম্ভব হয় না। যেসব কেন্দ্রে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাবে, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার।

এসএসসি পরীক্ষা ২ ঘণ্টার, শুরু ১১টায়

এসএসসি পরীক্ষা। ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে এ বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের এই পরীক্ষা নেয়া হবে দুই ঘণ্টায়। সাধারণত পাবলিক পরীক্ষাগুলো সকাল ১০টায় শুরু হলেও রাজধানীর যানজট পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার পরীক্ষাগুলো শুরু হবে বেলা ১১টায়।

সোমবার সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এসব তথ্য জানান। আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেবে ২০ লাখ ২১ হাজার ৮৬৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭১১ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৫ শিক্ষার্থী ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

পরীক্ষার নির্দেশনা সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অন্য বছরগুলোতে সকাল ১০টায় শুরু হলেও এ বছর পরীক্ষা বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে দুপুর ১টায়। পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে হবে।

২০২২ সালের সংশোধিত ও পুনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাসে এই পরীক্ষা নেয়া হবে। ৩ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে পরীক্ষা নেয়া হবে ২ ঘণ্টায়। এর মধ্যে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) অংশে ২০ মিনিট ও লিখিত অংশে ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট সময় পাবে শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে ফল প্রকাশিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। পরে ব্যবহারিক পরীক্ষা ১০ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ১৫ অক্টোবর। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ১০ অক্টোবর শুরু হয়ে ১৫ অক্টোবর শেষ হবে। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ১১ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবরের মধ্যে নেয়া হবে।

এ ছাড়াও আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজন করতে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২১ দিন সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে।

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে পিছিয়ে যাওয়া এসএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা এবার ১৯ জুন শুরু করে ৬ জুলাই শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু জুনের মাঝামাঝি সময়ে প্রবল বর্ষণ আর উজানের ঢলে সিলেট অঞ্চল এবং উত্তরের কয়েকটি জেলায় ব্যাপক বন্যা দেখা দিলে সরকার ১৭ জুন পরীক্ষা স্থগিত করে। পরে পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ায় বন্যার্ত এলাকায় নতুন করে বই ও শিক্ষা সামগ্রী দিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরু হচ্ছে।

প্রথম নারী উপাচার্য পেল পাবিপ্রবি

 হাফিজা খাতুন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদন: পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক হাফিজা খাতুন। মঙ্গলবার তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পরে যোগাযোগ করা হলে হাফিজা খাতুনও নিয়োগের চিঠি পাওয়ার কথা জানান।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) সদ্য সাবেক উপাচার্য এম রোস্তম আলীর মেয়াদ শেষ হয়েছিল গত ৬ মার্চ। তবে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এক সপ্তাহ আগেই ক্যাম্পাস ছাড়েন তিনি।

দীর্ঘদিন উপাচার্য না থাকায় সমস্যা হচ্ছিল বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মার্চ মাসের বেতন নিয়েও জটিলতার সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় নতুন উপাচার্য পেল বিশ্ববিদ্যালয়টি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেলেন হাফিজা খাতুন।

মাধ্যমিকের সঙ্গে মিল না রেখে প্রাথমিকের শিক্ষাক্রম

মোশতাক আহমেদ, ঢাকা: নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতার চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ পেয়েছে। মাধ্যমিকের সঙ্গে সমন্বয় না করে এবং পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়নের আগেই প্রাথমিক স্তরের বিস্তারিত শিক্ষাক্রম অনুমোদন দিয়েছে প্রাথমিকের জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)। যেখানে মাধ্যমিক স্তরের শেখানোর প্রক্রিয়ার (শিখন) সঙ্গে প্রাথমিক স্তরে শেখানোর প্রক্রিয়ায় মিল নেই। প্রাথমিকে মূলত আগের (২০১২ সালের) শিক্ষাক্রমকেই পরিমার্জন করা হয়েছে।

মাধ্যমিকের নতুন শিক্ষাক্রমে যেখানে অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখনের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীকে সার্বিকভাবে যোগ্য করে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে; সেখানে প্রাথমিকে অ্যাকটিভ লার্নিংয়ের (সক্রিয় শিখন) ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাকটিভ লার্নিং শিক্ষার্থীকে শিখনের ওপর আত্মনিয়ন্ত্রণ চর্চা করার সুযোগ করে দেয়, যা মূলত অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখন ধারণার একটি মাত্র উপায়। আর অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখনে অনেকগুলো ধাপ ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ অর্জন করে তা বাস্তবে প্রয়োগ করার অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পায়।
বিজ্ঞাপন

প্রাথমিকের এমন সিদ্ধান্তের ফলে সমন্বিতভাবে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেটি কার্যত ভেস্তে গেল।

নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই বলছেন, প্রাথমিকের এমন সিদ্ধান্তে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের মূল স্বপ্ন ও উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। বরং উল্টো কিছু সমস্যার আশঙ্কা আছে। কারণ, শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক স্তরে একভাবে শিখে যখন মাধ্যমিকে পড়তে যাবে, তখন খাপ খাওয়াতে অসুবিধা হবে।

অবশ্য এনসিটিবির চেয়ারম্যানের রুটিন দায়িত্বে থাকা এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) মো. মশিউজ্জামান বলেছেন, প্রাথমিক কর্তৃপক্ষ তাঁদের বলেছে নতুন শিক্ষাক্রমের রূপরেখা অনুযায়ী প্রাথমিকের শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করবে।

দেশের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বড় রকমের পরিবর্তন এনে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত নতুন শিক্ষাক্রম সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় সরকার। যদিও শুরু থেকেই শেখানোর প্রক্রিয়াটি কেমন হবে, তা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশেষ করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শাখার মধ্যে ‘ঠেলাঠেলি’ চলছিল। এর মধ্যেই সিদ্ধান্ত হয়, প্রথম ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে এ বছরের শুরুতে নির্ধারিতসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু হবে। এরপর আগামী বছর থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শ্রেণিতে বাস্তবায়ন শুরু হবে। এভাবে ২০২৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে এ পর্ব শেষ হবে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক স্তরের ৬২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ওপর নতুন শিক্ষাক্রম পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। একই সময় থেকে ১০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথম শ্রেণিতেও পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন শুরুর কথা থাকলেও এখন এনসিটিবির সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে প্রাথমিকে তা শুরুর হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ, এখনো বই লেখা হয়নি।

এ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই গত ২৩ মার্চ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বাধীন এনসিসিসিতে প্রাথমিকের স্তরের বিস্তারিত শিক্ষাক্রম অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অথচ শিক্ষাক্রমের রূপরেখা এখনো আন্তমন্ত্রণালয় সভাতেই অনুমোদন হয়নি। এমনকি নিয়মিত চেয়ারম্যান না থাকায় এনসিটিবির বোর্ড সভাতেও প্রাথমিকের শিক্ষাক্রম অনুমোদন হয়নি।

শিক্ষাক্রম প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভাষ্য, প্রথমত পরীক্ষামূলক শুরুর আগেই বিস্তারিত শিক্ষাক্রম অনুমোদন করা পদ্ধতিগতভাবে সঠিক হয়নি। কারণ, পরীক্ষামূলকভাবে চালুর প্রভাব দেখে তার ভিত্তিতে পরিবর্তন করে শিক্ষাক্রম অনুমোদন করা যৌক্তিক। দ্বিতীয়ত, প্রাথমিকে যেভাবে শিক্ষাক্রম অনুমোদন করা হয়েছে, তা ‘অ্যাকটিভ লার্নিং’কে প্রাধান্য দিচ্ছে, অথচ বিশ্বব্যাপী শিক্ষার্থীর যোগ্যতার পারদর্শিতা অর্জনে অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখন ধারণাকে সর্বাধিক ব্যবহার করা হয়।

কাজেই শিখনের প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা দেবে, যা শিক্ষার্থীর প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরে উন্নয়নের ক্ষেত্রে যোগসূত্র রাখতে সমস্যার সৃষ্টি করবে। তৃতীয়ত, শিক্ষাক্রমের রূপরেখায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার কোনো স্থান নেই। কিন্তু প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।

অবশ্য এনসিটিবির সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক এ কে এম রিয়াজুল হাসান বলেছেন, এনসিসিসি সভায় আলোচনা হয়েছে। পরে যদি সংশোধনের প্রয়োজন হয়, তখন তা করা হবে। আর তাঁরা নতুন করে শিক্ষাক্রম করছেন না। আগের শিক্ষাক্রমকেই পরিমার্জন করেছেন। অ্যাকটিভ লার্নিং হলেও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখনের সুযোগও রাখা হয়েছে। এখন বিস্তারিত শিক্ষাক্রম অনুমোদন দেওয়ার মাধ্যমে বই লেখা হবে। এরপর পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন শুরু হবে।

এনসিটিবির সূত্রমতে, প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি-৪ (পিইডিপি)–এর আলোকে প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসন আগেই প্রাথমিক স্তরের যোগ্যতা নির্ধারণসহ শিক্ষাক্রমের কিছু কাজ ঠিক করে রেখেছিল। মূলত সেটিই এখন এদিক-ওদিক করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রাথমিকের নতুন সিদ্ধান্তের বিষয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও পরিমার্জন কোর কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআরের অধ্যাপক এম তারিক আহসান বলেন, বিদ্যমান অবস্থায় নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তা এখনো ধোঁয়াশার মধ্যেই থাকছে।

রোজায় ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত ক্লাস চলবে স্কুল–কলেজে

করোনার পড়াশোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে রোজার মধ্যে স্কুল–কলেজ খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে  | ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পবিত্র রমজানে ক্লাস চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগামী ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলবে।

আজ সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এক আদেশে সরকারের এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। আদেশে বলা হয়, করোনার কারণে দীর্ঘদিন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান অব্যাহত রাখার অনুরোধ করা হচ্ছে।

আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।  

করোনার কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছিল সরকার। ১৮ মাস পর গত সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হয়। কিন্তু এরপর নতুন করে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২১ জানুয়ারি আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করে সরকার, যা ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছিল। এরপর প্রথমে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া হয়। পরে মার্চের প্রথম সপ্তাহে প্রাথমিক বিদ্যালয়ও খুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রাক্‌–প্রাথমিকের ক্লাসও চলছে।

সাধারণত পবিত্র রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকে। কিন্তু এবার করোনার কারণে অস্বাভাবিক ছুটির জন্য শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হয়েছে, সেটি খানিকটা হলেও পুষিয়ে নিতে কিছুদিন আগে ২০ রমজান পর্যন্ত সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার ঘোষণা দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলার পর রমজান মাসে মাধ্যমিক ও কলেজে ক্লাসের কী হবে, তা নিয়ে কয়েক দিন আগে কলেজের অধ্যক্ষ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মাউশির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা  বলেন, করোনার ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে অন্তত মধ্য রমজান পর্যন্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ খোলার পক্ষে মত দেন অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকেরা। এই প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। তার ভিত্তিতেই এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম চালিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

১৫ মার্চ থেকে সব বিষয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ফাইল ছবি: বাসস

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষামন্ত্রী  দীপু মনি বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব বিষয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান (ক্লাস) শুরু হবে ১৫ মার্চ থেকে। আজ শনিবার রাজধানীর টিকাটুলিতে শেরেবাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ে লীলা নাগ ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ  কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন কারিকুলাম চালু হলে পরীক্ষার সংখ্যা কমবে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ভীতি দূর হবে। পরীক্ষানির্ভর মূল্যায়ন থেকে বের হয়ে আসা যাবে। প্রতিদিনের লেখাপড়া মূল্যায়ন প্রতিদিনই হবে। বছর শেষে সীমিত আকারে পরীক্ষা হবে, তবে সারা বছরের মূল্যায়ন সমন্বয় করে চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা হবে।

করোনার কারণে প্রায় দুই বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। সর্বশেষ গত বছর ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হলেও দুই দফায় ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়।

সর্বশেষ ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হয় সীমিত আকারে। আর ২ মার্চ থেকে প্রাথমিক স্তরের শ্রেণি পাঠদান শুরু হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে মানতে হবে যে ২০ নির্দেশনা

করোনা পরিস্থিতিতে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে মঙ্গলবার। এ বিষয়ে রোববার ২০ দফা নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যবস্থা নিতে মাউশির সব আঞ্চলিক পরিচালক ও উপপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার থেকে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

নির্দেশনাগুলো হলো যেসব শিক্ষার্থী করোনার টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছে, সশরীর শ্রেণি কার্যক্রমে শুধু তাদেরই অংশ নেওয়া; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথসহ অন্যান্য জায়গায় করোনা মহামারি সম্পর্কে সরকারঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে করণীয় বিষয়গুলো ব্যানার বা অন্য কোনো উপায়ে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে সব শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের শরীরের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা; পরিস্থিতি বিবেচনায় অনলাইন বা ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখা; অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম অব্যাহত রাখা; শিক্ষার্থীদের ক্লাসসূচি আগের নির্দেশনা মেনে প্রণয়ন করা; ভিড় এড়াতে প্রতিষ্ঠানের সব প্রবেশ ও প্রস্থানপথ ব্যবহারের ব্যবস্থা করা এবং একটি প্রবেশ বা প্রস্থানের পথ থাকলে সে ক্ষেত্রে একাধিক প্রবেশ ও প্রস্থানের পথের ব্যবস্থা করা; প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন পরিবেশে শ্রেণি কার্যক্রমে স্বাগত জানানোর ব্যবস্থা করা।

নির্দেশনার মধ্যে আরও রয়েছে প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিন শিক্ষার্থীরা কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিষ্ঠানে অবস্থান ও বাসা থেকে আসা–যাওয়া করবে, সে বিষয়ে তাদের অবহিত করা; প্রতিষ্ঠানের একটি কক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ আইসোলেশন কক্ষ হিসেবে প্রস্তুত রাখা; সব ভবনের কক্ষ, বারান্দা, সিঁড়ি, ছাদ ও আঙিনা যথাযথভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা; প্রতিষ্ঠানের সব ‘ওয়াশ রুম’ নিয়মিত সঠিকভাবে পরিষ্কার রাখা ও পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করা; শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী, অভিভাবকসহ অন্য কারও প্রবেশ, অবস্থান ও প্রস্থানের সময় স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে পালন করা; শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারী এবং অন্যদের সঠিকভাবে মাস্ক পরিধান করার বিষয়টি নিশ্চিত করা; প্রতিষ্ঠানে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা; শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বসার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা এবং ৩ ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা করা; খেলার মাঠ, ড্রেন ও বাগান যথাযথভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা; প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সংখ্যা নিরূপণ করা; স্বাস্থ্যবিধি মেনে আনন্দঘন শিখন কার্যক্রমের মাধ্যমে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত করার ব্যবস্থা করা এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি ও অভিভাবকদের সঙ্গে সভা করে এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

করোনা সংক্রমণের কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছিল সরকার। দীর্ঘ ১৮ মাস পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছিল, সেই সময়ও এ ধরনের বেশ কিছু নির্দেশনা মানতে হয়েছিল। নির্দেশনা মেনে ক্লাস চলার মধ্যেই নতুন করে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২১ জানুয়ারি আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করে সরকার; যা সোমবার পর্যন্ত বহাল রয়েছে।

মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ছুটি আর বাড়ছে না। অবশ্য প্রাথমিকের ছুটি ১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানোয় এসব বিদ্যালয় খুলবে আগামী ২ মার্চ।

পরীক্ষামূলকভাবে নতুন শিক্ষাক্রম শুরু ২২ ফেব্রুয়ারি

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন শিক্ষাক্রম আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা হবে বলে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন কারিকুলাম শুরু হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগামী মার্চ মাস থেকে তাঁরা নতুন কারিকুলাম শুরু করবেন। 

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ৬২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং প্রাথমিকের ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন শিক্ষাক্রম শুরু করা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। 

২০২৩ সালে নতুন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হবে। ২০২৫ সাল থেকে সারা দেশে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে শিক্ষামন্ত্রী আগেই জানিয়েছেন। 

নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা হবে না। এই চার ক্লাসে শিক্ষার্থীদের শুধু শিখনকালীন মূল্যায়ন করা হবে। চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ৪০ শতাংশ নম্বরের জন্য পরীক্ষা দেবে, বাকি ৬০ শতাংশ নম্বর আসবে তাদের শিখনকালীন মূল্যায়নের মাধ্যমে। নবম-দশমে ৫০ শতাংশ নম্বরের জন্য পরীক্ষা, বাকি ৫০ শতাংশ নম্বর শিখনকালীন এবং একাদশ-দ্বাদশে ৭০ শতাংশ নম্বরে পরীক্ষা, বাকি ৩০ শতাংশ নম্বর শিখনকালীন মূল্যায়নে দেওয়া হবে। পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে শিখনকালীন মূল্যায়ন যোগ করে মূল ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ২ সপ্তাহ বাড়ছে

ফাইল ছবি

বিশেষ প্রতিবেদক: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসায় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আরও দুই সপ্তাহ বাড়ছে। আজ বুধবার শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এ কথা জানিয়েছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের সাংবাদিকদের শিক্ষামন্ত্রীর এ বক্তব্যের কথা জানান।
বিজ্ঞাপন

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি আরও কিছুদিন দেখার পক্ষে মত দিয়েছেন, যেহেতু করোনার সংক্রমণ এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ। এ জন্য হয়তো ৬ ফেব্রুয়ারির পর আরও এক সপ্তাহ দেখা যেতে পারে। তবে তিনি এ–ও বলেন, ‘আমরা অবস্থা পর্যালোচনা করছি। প্রয়োজনে ভিন্ন সিদ্ধান্তও হতে পারে।’

করোনা সংক্রমণের কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। করোনা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে দীর্ঘ ১৮ মাস পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়। যদিও শ্রেণি কার্যক্রম চলছিল স্বল্প পরিসরে। সব শ্রেণির ক্লাস সব দিন হচ্ছিল না। কিন্তু সম্প্রতি নতুন করে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করে সরকার। গত ২১ জানুয়ারি এই ছুটি শুরু হয়েছে। যা শেষ হওয়ার কথা ৬ ফেব্রুয়ারি। তার আগেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়।  

২১ জানুয়ারি করোনা সংক্রমণ রোধে আগামী দুই সপ্তাহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের জরুরি নির্দেশনা দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, ২১ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকবে। স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ২১ জানুয়ারি বলেন, এখন শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ঘটছে। এটি আগে ছিল না। এটা আমলে নিতে হয়েছে। মাঠের চিত্রের ওপর ভিত্তি করেই বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন