নিজস্ব প্রতিবেদক: ঘূর্ণিঝড় মোখা দুর্বল হওয়ায় বিপৎসংকেত নামিয়ে দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
সর্বশেষ বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি এই সংস্থাটি বলছে, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে সন্ধ্যা ৬টায় উপকূল অতিক্রম করেছে এবং দুর্বল হয়ে মিয়ানমারে সিত্তে-তে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি স্থলভাগের অভ্যন্তরে আরো উত্তর-উত্তর দিকে অগ্রসর ও বৃষ্টি ঝরিয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে।
কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে আট নম্বর মহাবিপৎসংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
মোংলা সমুদ্রবন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
অতি প্রবল শক্তি নিয়ে রোববার বিকেলে কক্সবাজার ও মিয়ানমার উপকূলে আঘাত করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’। এতে কক্সবাজারের টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উড়ে গেছে বিপুলসংখ্যক ঘরের চালা। উপড়ে গেছে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছপালা। ভেঙে পড়েছে ঘরবাড়িসহ অসংখ্য স্থাপনা। ঝড়ের তাণ্ডব থামার পর ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে সড়ক থেকে গাছ সরাতে দেখা গেছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে টেকনাফের দ্বীপ সেন্ট মার্টিনেই ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ২০০ ঘরবাড়ির।
বিকেলে ঝড় দুর্বল হয়ে মিয়ানমারের স্থলভাগের দিকে চলে যাওয়ার পর খোঁজ নিয়ে ও সরেজমিনে দেখা গেছে, বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সেন্ট মার্টিন, টেকনাফ সদর, পৌর এলাকা, সাবরাং, ডেইলপাড়া, জাদিমুড়া এলাকায় প্রচুর গাছপালা ভেঙে পড়েছে। এছাড়া কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতি পাড়া, কুতুবদিয়া পাড়া, নাজিরারটেক, মহেশখালীর ধলঘাটা, মাতারবাড়ি ও কুতুবদিয়ার কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিতও হয়েছে।
মোখা দুর্বল, নামল বিপৎসংকেত
এই সময়ে
রবিবার, মে ১৪, ২০২৩

