![]() |
| ঝড়ে তছনছ একটি বাড়ি। |
নিজস্ব প্রতিবেদক: অতি প্রবল শক্তি নিয়ে রোববার বিকেলে কক্সবাজার ও মিয়ানমার উপকূলে আঘাত করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’। এতে কক্সবাজারের টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উড়ে গেছে বিপুলসংখ্যক ঘরের চালা। উপড়ে গেছে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছপালা। ভেঙে পড়েছে ঘরবাড়িসহ অসংখ্য স্থাপনা। ঝড়ের তাণ্ডব থামার পর ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে সড়ক থেকে গাছ সরাতে দেখা গেছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে টেকনাফের দ্বীপ সেন্ট মার্টিনেই ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ২০০ ঘরবাড়ির।
বিকেলে ঝড় দুর্বল হয়ে মিয়ানমারের স্থলভাগের দিকে চলে যাওয়ার পর খোঁজ নিয়ে ও সরেজমিনে দেখা গেছে, বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সেন্ট মার্টিন, টেকনাফ সদর, পৌর এলাকা, সাবরাং, ডেইলপাড়া, জাদিমুড়া এলাকায় প্রচুর গাছপালা ভেঙে পড়েছে। এছাড়া কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতি পাড়া, কুতুবদিয়া পাড়া, নাজিরারটেক, মহেশখালীর ধলঘাটা, মাতারবাড়ি ও কুতুবদিয়ার কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিতও হয়েছে।
রফিকুলের মতো উপকূলের বাসিন্দা রমিসা বেগমের বাড়িঘরেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ঝড়ের খবর পাওয়ার পর থেকে ভয়ে ছিলাম। এক পর্যায়ে আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যাই। যখন বাতাস থেমে যায়, তখন ঘরে ফিরে দেখি অনেক কিছু উড়ে গেছে। ঘরের চাল নেই।’
ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়েছি। নিজেরা ভালো ছিলাম। ফিরে দেখি ঝড় সব উড়িয়ে নিয়ে গেছে। আসবাবপত্র, মালামালও হাওয়া। চালের টিনও উড়ে গেছে। ভয়াবহ ঝড় ছিল এবার।’
টেকনাফের সাবরাং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) আব্দুস সালাম বলেন, ‘মোখা তাণ্ডব চালিয়েছে আমার এলাকায়। অন্তত দুই শতাধিক বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দোকানপাট, মৎস্যঘেরেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’
কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আক্তার কামাল বলেন, ‘জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার পর থেকে প্রচুর মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছিল। কিছু কিছু এলাকায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান জানান, মোখার তাণ্ডবে কক্সবাজারে ১০ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে টেকনাফের সেন্ট মার্টিনেই ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ২০০ ঘরবাড়ির। এছাড়া অসংখ্য গাছপালা উপড়ে গেছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘মোখার তাণ্ডব সন্ধ্যা ৭টার পর পুরোদমে শিথিল হয়ে যাওয়ার কথা। বিপদসংকেত নেমে এলে আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা আড়াই লাখ মানুষ ঘরে ফিরতে পারবেন।’
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান বলেন, ‘ঝড়ে ইতোমধ্যে টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পাওয়া গেছে। কিছু এলাকায় গাছগাছালি ও ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। দুই এলাকায় বেশ কয়েকজনের আহত হওয়ার সংবাদ পেয়েছি।’



