কক্সবাজার-চট্টগ্রামের নিম্নাঞ্চলে ১২ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: অতি প্রবল শক্তি নিয়ে দেশের উপকূলের দিকে তেড়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’। ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশ ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮-১২ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

পাশাপাশি উপকূলীয় জেলা ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-৭ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলেও শঙ্কার কথা জানিয়েছে তারা।

শুক্রবার রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১২ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, তবে শনিবার সন্ধ্যা থেকেই কক্সবাজার ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রভাগের প্রভাব শুরু হতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঝড়টির কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। এই অবস্থায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

‘মোখা’র বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ‘মোখা’ উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে ১৪ মে (রোববার) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে কক্সবাজার-উত্তর মিয়ানমার উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের বিজ্ঞপ্তিতে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ শাহীন  বলেন, কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে মহাবিপদ সংকেত ঘোষণা করার নিয়ম আছে। বিপদ সংকেত যত আগে ঘোষণা করা যায়, মানুষ তত বেশি সতর্ক হওয়ার সময় পায়। এখন পর্যন্ত তথ্য বলছে, রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে যেকোনো সময় এই ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম করতে পারে। আগে থেকেই মানুষকে সতর্ক করতে মহাবিপদ সংকেত ঘোষণ করা হয়েছে।

এই আবহাওয়াবিদ আরও বলেন, ১১ ও ১২ নম্বর বুলেটিনের মধ্যে ছয় ঘণ্টার একটি ব্যবধান রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় মোখা যথেষ্ট শক্তি সঞ্চয় করে এগিয়ে আসতে শুরু করেছে। আমাদের সবাইকে যার যার জায়গা থেকে এর প্রভাব মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কাজ করা উচিত।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন